আইবিবি ও ব্যাংকিং ডিপ্লোমার হালচাল


সারা বিশ্বেই বিভিন্ন ধরণের পেশাজীবিদের জন্য কিছু স্পেশালাইজড সার্টিফিকেট কোর্স রয়েছে। মূলত নির্দিষ্ট পেশা সম্পর্কিত সাধারণ ও মৌলিক বিষয়াবলী সবাই যেন জানে তা নিশ্চিত করা এবং এর মাধ্যমে সকলের দক্ষতা বৃদ্ধি করা এ ধরণের কোর্সগুলোর উদ্দেশ্য। কিছু ক্ষেত্রে এ ধরণের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার আগে প্র‍্যাকটিস শুরু করা সম্ভব হয় না, বাকীগুলো পেশাজীবিদের জন্য ঐচ্ছিক হলেও এর উপর তাদের কর্মজীবনের গুরুত্বপুর্ণ অনেক সিদ্ধান্ত নির্ভর করে বিধায় সকলেই অংশগ্রহণ করে। বাংলাদেশেও এ ধরণের অনেক কোর্স রয়েছে। ব্যাংকারদের জন্য পরিচালিত এ ধরণের একটি সার্টিফিকেট কোর্স হলো ব্যাংকিং ডিপ্লোমা। ব্যাংকিং ডিপ্লোমা পরীক্ষা আয়োজন করে দি ইন্সটিটিউট অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ বা আইবিবি


১৯৭৩ সালের ০৬ ফেব্রুয়ারী তারিখে আইবিবি প্রতিষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশে কর্মরত সকল ব্যাংক এর সদস্য। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্ণর পদাধিকারবলে এর চেয়ারম্যান। এছাড়া বিভিন্ন ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ পদধারী ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে আইবিবি'র পরিচালনা পর্ষদ রয়েছে। আইবিবি'র ওয়েবসাইটে প্রদত্ত তথ্যানুযায়ী, আইবিবি বছরে দুইবার ব্যাংকিং ডিপ্লোমা পরীক্ষা আয়োজন করে। উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদেরকে আইবিবি-র পক্ষ থেকে সার্টিফিকেট এবং সম্মানী প্রদান করা হয়। এছাড়া ভালো ফলাফলের জন্য স্বর্ণপদক, রৌপ্যপদক সহ বিষয়ভিত্তিক নানা প্রকারের পুরষ্কার দেয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। আইবিবি'র আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম হলো প্রতি ছয়মাসে একটি করে জার্নাল প্রকাশ করা। ব্যাংকিং বিষয়ক গবেষণামূলক লেখা প্রকাশের মাধ্যমে ব্যাংকিং সেক্টরের সমস্যা চিহ্নিত করা, সমাধানের উপায় বাতলে দেয়াসহ বিভিন্ন ধরনের দিকনির্দেশনা প্রদান করার মাধ্যমে ব্যাংকিং জগতের সমৃদ্ধিতে ভূমিকা পালন করা এর উদ্দেশ্য।  

ব্যাংকারদেরকে সকাল-সন্ধ্যা, ক্ষেত্রবিশেষে প্রায় মধ্যরাত পর্যন্ত, অফিসেই কাটাতে হয় বলে ব্যাংকিং ডিপ্লোমার জন্য আলাদাভাবে ক্লাসের ব্যবস্থা নেই। পরীক্ষার সিলেবাস নির্দিষ্ট৷ ব্যাংকাররা ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় প্রস্তুতি গ্রহণ করে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। প্রতি বছরে দুইবার যথাক্রমে গ্রীষ্মকালীন ও শীতকালীন ব্যাংকিং ডিপ্লোমা পরীক্ষা আয়োজন করা হয়। ব্যাংকিং ডিপ্লোমা দুই ভাগে বিভক্ত - জুনিয়র অ্যাসোসিয়েট অব দ্য ইনস্টিটিউট অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (জেএআইবিবি) এবং ডিপ্লোম্যাড অ্যাসোসিয়েট অব দ্য ইনস্টিটিউট অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (ডিএআইবিবি)। দুই ভাগে ছ'টি করে মোট বারোটি বিষয়ে পরীক্ষা হয়। দেশের বিদ্যমান ব্যাংকিং ও বৈদেশিক মুদ্রা সংক্রান্ত বিভিন্ন আইন ও নীতিমালা, সাধারণ হিসাববিজ্ঞান, কেন্দ্রীয় ব্যাংকিং, ইসলামী ব্যাংকিং, ব্যাংক ব্যবস্থাপনা, বিপনন ইত্যাদি সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা প্রদানের উদ্দেশ্য থেকে এই কোর্সগুলোর সিলেবাস প্রস্তুত করা হয়। বিভিন্ন ডিসিপ্লিন থেকে ব্যাংকের চাকরীতে যোগদানকৃত সকল ব্যাংকারের ফাউন্ডেশন তৈরির জন্য এই ডিপ্লোমা অতুলনীয়। তাছাড়া স্ব স্ব ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী ব্যাংকারদের প্রমোশন, বেতন বৃদ্ধি, স্থায়ীকরণ ইত্যাদি নির্ভর করে ব্যাংকিং ডিপ্লোমা পরীক্ষায় পাশ করার উপর।


ব্যাংকিং ডিপ্লোমা পরীক্ষার উদ্দেশ্য মহৎ হলেও এর কার্যকারিতা নিয়ে সংশয় রয়েছে। প্রস্তুতি ব্যতিরেকে কোন পরীক্ষাই উত্তীর্ণ হওয়া সম্ভব নয়। দিন রাত ব্যাংকে চাকরী করে শুধুমাত্র সাপ্তাহিক ছুটির দিনে পড়াশোনা করে প্রস্তুতি নেয়া সকলের পক্ষে সম্ভব হয় না। বিশেষ করে যারা ব্যবসায় শিক্ষা ভিন্ন অন্য কোন বিভাগের শিক্ষার্থী তাদের জন্য প্রস্তুতি নেয়াটা বেশ চ্যালেঞ্জিং। তবে এই সমস্যার কথা বিবেচনা রেখেই সম্ভবত আইবিবি ধাপে ধাপে ব্যাংকিং ডিপ্লোমা পরীক্ষায়  পাশ করার সুযোগ রেখেছে। ফলে, ধীরে ধীরে একেকটি বিষয়ে প্রস্তুতি নিয়ে পাশ করাও অসম্ভব নয়। 

ব্যাংকিং ডিপ্লোমা পরীক্ষার কার্যকারিতার সবচেয়ে বাধা হলো পরীক্ষার্থীদের মধ্যকার নকল প্রবণতা। কোন ব্যাংকার যখন প্রথমবারের মতো এর কথা জানতে পারে তখনই তার অভিজ্ঞ সহকর্মীরা জানিয়ে দেন, 'এই পরীক্ষার প্রস্তুতি হলো বড় স্ক্রিনের মোবাইল ফোন এবং ফোর-জি স্পিডে কয়েক গিগাবাইট ডেটা '। ফলে পরীক্ষার প্রস্তুতি না নিয়ে সিংহভাগ ব্যাংকার নকলের প্রস্তুতি নেয়। ব্যাংকিং ডিপ্লোমা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে এমন যে কোন ব্যাংকারের ঝুলিতেই এই নকল সংক্রান্ত একাধিক অভিজ্ঞতা পাওয়া যাবে। নকল নিয়ে ব্যাংকার কমিউনিটিতে হাজারো গল্পও প্রচলিত রয়েছে। এসব গল্পে কোন সময়ে কিভাবে নকল চলেছে, কিভাবে প্রশ্ন বিক্রি হয়েছে, কিভাবে একজনের পরীক্ষা আরেকজন দিয়েছে এবং বর্তমানে কিভাবে মোবাইলেই অংকের সমাধান পৌঁছে যায় তার প্রমাণ পাওয়া যায়।

ব্যাংকিং ডিপ্লোমা পরীক্ষায় নকলের এ ঘটনা সাম্প্রতিককালের নয়। দীর্ঘ ব্যাংকিং জীবন শেষে অবসর গ্রহণ করেছেন এমন ব্যক্তিদের কাছ থেকে তাদের সময়কার দুর্নীতির গল্প পাওয়া যায়। অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড এর সাবেক উপমহাব্যবস্থাপক জনাব জালাল উদদীন মাহমুদ তার 'রঙ্গে ভরা আমার ব্যাংকিং জীবন (১ম খন্ড)' (প্রকাশ-২০১৯) এ ব্যাংকিং ডিপ্লোমা পরীক্ষায় হাঁটুতে গাইড বই বেঁধে পরীক্ষার হলে প্রবেশের রসালো স্মৃতিচারণ করে লিখেছেন, 'নকল করে পাশ করার যুগ এখনও চলছেই। বদলেছে শুধু নকলের কৌশল। আজকাল নকল করতে লেখা বা কাগজের কোন দরকার হয় না।'

ব্যাংকাররা কেন পরীক্ষার প্রস্তুতি না নিয়ে নকলের প্রস্তুতি নেন তার ব্যাখ্যাও বহুল প্রচলিত। 'ব্যাংকিং ডিপ্লোমা পরীক্ষার খাতা দেখা হয় না। ভালো লিখেও অনেকে ফেল করে, ভালো না লিখেও অনেকে পাশ করে।' এই ধারণার সত্যতা কতটুকু তা কেবল আইবিবি কর্তৃপক্ষই জানেন, তবে মার্কেটিং বা একাউন্টিং থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর অনেক ব্যাংকারই ব্যাংকিং ডিপ্লোমা পরীক্ষায় এই দুই বিষয়ে প্রথমবারে পাশ করতে পারেন না বলে প্রচলিত রয়েছে। প্রত্যেক বছর ফলাফল প্রকাশের পর বিপুল সংখ্যক ব্যাংকার ফলাফল রিভিউ করার জন্য আবেদন করেন৷ কিন্তু ফলাফল পরিবর্তন হয় এমন ব্যক্তির সংখ্যা খুবই নগন্য।


ব্যাংকিং ডিপ্লোমার আয়োজক আইবিবি-র অন্যান্য কার্যক্রমও সন্তোষজনক নয়। বছরে দুইবার ব্যাংকিং ডিপ্লোমা পরীক্ষার আয়োজন করা এবং প্রতি ষান্মাসিকে জার্নাল প্রকাশ ছাড়া তাদের আর কোন উল্লেখযোগ্য কর্মসূচীও নেই। অবশ্য আইবিবি-র 'অবজেক্টিভস'-এ এই পরীক্ষা আয়োজন করা ছাড়া আর একটি কাজের কথাও জানা যায় এবং সেটি হলো লেকচার, সভা, সেমিনার ইত্যাদি আয়োজনের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান বিতরণ করা। কিন্তু আইবিবি'র ওয়েবসাইট থেকে এ ধরণের কোন সভা-সেমিনার আদৌ কখনও আয়োজন করা হয়েছে কিনা জানা যায় না।


বর্তমান ডিজিটালাইজেশনের যুগে যে কোন প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট-ই তাদের মুখপাত্র হিসেবে ভূমিকা পালন করে। আইবিবি'র ওয়েবসাইট মুখপাত্র নয়, বরং নোটিশ বোর্ডের ভূমিকা পালন করে চলছে। ওয়েবসাইটের পুরো হোমপেজ জুড়ে কেবল নোটিশবোর্ড। আইবিবি সম্পর্কে সামান্য কিছু তথ্য পাওয়া যায় বটে, তার সিংহভাগই পিডিএফ ফরম্যাটে। প্রতি ছয়মাসে একটি করে জার্নাল প্রকাশ করে আইবিবি - এই তথ্য ওয়েবসাইট থেকে পাওয়া গেলেও ২০১৫ সালের পর থেকে আর কোন জার্নাল প্রকাশিত হয়েছে কিনা জানা যায় না।

ব্যাংকিং সেক্টরের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান আইবিবি কতটুকু কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারছে তা বোঝার জন্য উপমহাদেশের আরও কয়েকটি ইন্সটিটিউটের দিকে দিকে তাকানো যেতে পারে। আইবিবি-র পূর্বসূরি দি ইন্সটিটিউট অব ব্যাংকার্স, পাকিস্তান (আইবিপি) এর ওয়েবসাইট থেকে এর বিভিন্নমুখী কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।


শুধুমাত্র ব্যাংকিং ডিপ্লোমা আয়োজনের উদ্দেশ্যে ১৯৫৩ সালে প্রতিষ্ঠিত আইবিপি প্রতিষ্ঠিত হলেও বর্তমানে এর কার্যক্রম অনেক বিস্তৃত। ব্যাংকিং ডিপ্লোমা পরীক্ষায় উন্নয়ন ও পরিবর্তন করে এর নাম রাখা হয়েছে আইবিপি সুপিরিয়র কোয়ালিফিকেশন (আইএসকিউ) সার্টিফিকেশন। এর পাশাপাশি আইবিপি মাইক্রোফাইন্যান্স ডিপ্লোমা এবং প্রফেশনাল ব্যাংকার্স নামে আইবিপি-র দুই ধরনের এডুকেশন প্রোগ্রাম রয়েছে। এছাড়াও আইবিপি নিয়মিতভাবে বিভিন্ন প্রকার সার্টিফিকেট কোর্স ও প্রশিক্ষণের আয়োজন করে এবং ব্যাংকের জন্য নিয়োগ সংক্রান্ত কাজে সহায়তা প্রদান করে।

ব্যাংকিং সংক্রান্ত বিষয়ে ইউকে, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া প্রভৃতি দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের  সাথেও আইবিপি-র কর্মসূচী রয়েছে। প্রতি ত্রৈমাসে গবেষনাধর্মী জার্নাল এবং প্রতি সপ্তাহে নিউজলেটার প্রকাশ করে আইবিপি। ওয়েবসাইটে সর্বশেষ এপ্রিল-জুন ২০১৯ এর জার্নাল পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমান বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে আইবিপি ই-ইলম নামে একটি প্রকল্প চালু করেছে যেখানে ব্যাংকিং বিষয়ে অনলাইনে কোর্স করা সম্ভব। অবশ্য এর জন্য শিক্ষার্থীকে নির্দিষ্ট পরিমাণ ফি পরিশোধ করতে হয়। পাকিস্তানের ব্যাংকগুলোর ভালো কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ আইবিপি ব্যাংকিং এ্যাওয়ার্ড দেয়া হচ্ছে ২০১৬ সাল থেকে। মোটকথা শুধুমাত্র ব্যাংকিং ডিপ্লোমা পরীক্ষা আয়োজনের মাধ্যমে নিজেদের কার্যক্রমকে সীমাবদ্ধ রাখেনি আইবিপি।

শ্রীলঙ্কায় এই ধরনের কাজ করে ইনস্টিটিউটি অব ব্যাংকার্স, শ্রীলঙ্কা বা আইবিএসএল। ১৯৬৪ সালে ব্যাংকার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (বিটিআই) নামে প্রতিষ্ঠিত হলেও ১৯৭৯ সালে পার্লামেন্টে আইন পাশের মাধ্যমে আইবিএসএল প্রতিষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন ধরনের কোর্স এবং প্রশিক্ষণ আয়োজনের জন্য কলেজ অব ব্যাংকিং এন্ড ফাইন্যান্স (সিওবিএএফ) প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এখানেও দুই ধরনের পরীক্ষা - ইন্টারমিডিয়েট ইন অ্যাপ্লাইড ব্যাংকিং এন্ড ফাইন্যান্স (আইএবিএফ) এবং ডিপ্লোমা ইন ব্যাংকিং এন্ড ফাইন্যান্স (ডিএবিএফ) - আয়োজন করা হয়। আইবিএসএল আয়োজিত পরীক্ষাগুলোতে অংশগ্রহণ করতে হলে এর স্টুডেন্ট সদস্য হতে হয়। মজার ব্যাপার হলো - শুধু ব্যাংকাররাই নন, নন ব্যাংকার, এমনকি স্নাতক শেষ করা শিক্ষার্থীরাও এর স্টুডেন্ট সদস্য হতে পারেন। আইএবিএফ এবং ডিএবিএফ ছাড়াও একটি পোস্টগ্রাজুয়েট ডিপ্লোমা, বারোটি ডিপ্লোমা এবং বারোটি সার্টিফিকেট কোর্সের আয়োজন করা হয় সিওবিএএফ-এর মাধ্যমে। আইবিএসএল জার্নাল প্রকাশ করলেও ওয়েবসাইটে কেবলমাত্র ২০১৪ সালের একটি জার্নাল পাওয়া যায়। সম্প্রতি আইবিএসএল এর সাথে থাইল্যান্ডের এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এআইটি)-র সমঝোতা সম্পন্ন হয়েছে যার ভিত্তিতে আইবিএসএল এর শিক্ষার্থীরা এআইটি-তে প্রফেশনাল মাস্টার্স ইন ব্যাংকিং এন্ড ফাইন্যান্স -এ অংশগ্রহণ করতে পারবে। 

ভারতের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ব্যাংকিং এন্ড ফাইন্যান্স (আইআইবিএফ) হলো এক্ষেত্রে উপমহাদেশের সবচেয়ে পুরনো, রিসোর্সফুল এবং সর্বাধিক অগ্রসর প্রতিষ্ঠান। ১৯২৮ সালে আইআইবিএফ প্রতিষ্ঠিত হয়। এই দীর্ঘ সময়ে প্রতিষ্ঠানটি ব্যাংকিং ও ফাইন্যান্সিং সেক্টরের চাকুরিরত এবং আগ্রহী লাখো শিক্ষার্থীকে অর্থনীতির বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান দান করেছে। তাদের ফ্ল্যাগশিপ কোর্স হলো জুনিয়র এসোসিয়েট অব আইআইবিএফ (জেএআইআইবি) এবং সার্টিফায়েড এসোসিয়েট অব আআইবিএফ (সিএআইআইবি)। এছাড়া তাদের রয়েছে ব্যাংকিং এন্ড ফাইন্যান্স, ব্যাংকিং টেকনোলজি, ট্রেজারি ইনভেস্টমেন্ট এন্ড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট, ইন্টারন্যাশনাল ব্যাংকিং, হোম লোন অ্যাডভাইজিং, রিটেইল ব্যাংকিং, কোঅপারেটিভ ব্যাংকিং ইত্যিাদি বিষয়ে ডিপ্লোমা এবং বিশটিরও অধিক বিষয়ে সার্টিফিকেট কোর্স। আইআইবিএফ তাদের ওয়েবসাইটকে ডিসট্যান্ট লার্নিং সেন্টার হিসেবে তৈরি করেছে। ফলে এখানে বিভিন্ন কোর্সের লেকচার ম্যাটারিয়াল, ভিডিও লেকচার, ই-বুক ইত্যাদি রয়েছে। রয়েছে ই-লার্নিং এর সুবিধা যার ফলে বাসায় বসে যে কেউ অনলাইনে অনেকগুলো কোর্সে অংশগ্রহণ করতে পারে। ব্যাংকিং এবং আর্থিক বিষয়ে নিয়মিত গবেষণা চালু রাখার জন্য আইআইবিএফ প্রতি বছর রিসার্চ ফেলোশিপ প্রদান করে। এছাড়া বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নিয়মিতভাবে প্রশিক্ষণ, সভা-সেমিনার ইত্যাদির আয়োজন চলছেই। আইআইবিএফ এর সদস্যপদ কয়েক ধরণের। এই বিভিন্ন ধরণের সদস্যদেরকে প্রতিদিন ই-নিউজলেটার, মাসিক বুলেটিন, ত্রৈমাসিক জার্নাল ইত্যাদি প্রেরণ করা হয়। এক কথায়, এই ধরণের একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য আইআইবিএফ একটি আদর্শ মডেল।

আইবিপি, আইবিএসএল কিংবা আইআইবিএফ-র ব্যাংকিং ডিপ্লোমা পরীক্ষাগুলোতে কোন অসদুপায় অবলম্বন করা হয়না - এমন দাবী করা এই নিবন্ধের উদ্দেশ্য নয়। কিন্তু একটি প্রতিষ্ঠান যখন তার কর্মকান্ডের বিস্তৃতি ঘটিয়ে নিজেকে একটি গ্রহণযোগ্য ও মানসম্মত অবস্থানে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়, তখন স্বাভাবিকভাবেই দুর্নীতির কিছু পথ বন্ধ হয়। আমাদের দেশের শিক্ষাব্যবস্থার মান নিয়ে সকলের মধ্যেই অসন্তোষ বিরাজমান, ব্যাংকিং সেক্টরের টালমাতাল অবস্থা দেখে ভবিষ্যত অর্থনীতির দুশ্চিন্তায় সকলে শঙ্কিত। এই অবস্থার উত্তোরণে অন্যদের পাশাপাশি আইবিবি-কেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। এজন্য ব্যাংকিং ডিপ্লোমা পরীক্ষায় যেমন অসদুপায়ের পথ বন্ধ করতে হবে, তেমনি এর কার্যক্রমকে ঢেলে সাজাতে হবে। অন্যথায়, দেশের ব্যাংকিং সেক্টরের দুরাবস্থার দায় আইবিবি-কেও নিতে হবে।

'আইবিবি ও ব্যাংকিং ডিপ্লোমা' শিরোনামে ২৩ ডিসেম্বর ২০১৯ তারিখে দৈনিক দেশ রূপান্তর পত্রিকায় প্রকাশিত


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য