কোরিয়ান সিনেমা টাম্বলউইড থেকে আয়নাবাজি কতটুকু নকল করেছে কোরিয়ান সিনেমা টাম্বলউইড থেকে আয়নাবাজি কতটুকু নকল করেছে? (ছবি: ফেসবুক হতে সংগৃহীত)

জনপ্রিয় বিজ্ঞাপন নির্মাতা অমিতাভ রেজার প্রথম চলচ্চিত্র আয়নাবাজি মুক্তি পেয়েছে দুই সপ্তাহ হল। মুক্তির আগে থেকেই আয়নাবাজি নিয়ে দর্শকদের মধ্যে প্রবল আগ্রহ তৈরী করতে সক্ষম হয়েছিলেন অমিতাভ রেজা এবং তার দল। ফলাফল হল - মুক্তির পর থেকে টানা তৃতীয় সপ্তাহে চলা আয়নাবাজি চলচ্চিত্রের বেশিরভাগ শো-ই হাউসফুল, দর্শকরা যে আগ্রহ নিয়ে আয়নাবাজি দেখতে যাচ্ছেন তার চেয়ে বেশি তৃপ্তি নিয়ে ফিরছেন (যা বাংলা চলচ্চিত্রে দুষ্প্রাপ্য!) এবং আয়নাবাজির যাত্রা আরও কয়েক সপ্তাহ অব্যাহত থাকার লক্ষণ সুস্পষ্টভাবে প্রতিভাত হয়েছে। গিয়াসউদ্দিন সেলিম নির্মিত একমাত্র চলচ্চিত্র মনপুরা'র পর সম্ভবত আয়নাবাজি-ই দ্বিতীয় যা (প্রায়) সর্বস্তরের দর্শকদের ভালোবাসা পেয়েছে। প্রচুর প্রসংশার পাশাপাশি অনেক অভিযোগও আছে আয়নাবাজি-র বিরুদ্ধে, এখন পর্যন্ত সবচে বড় অভিযোগ হল - এই ছবিটি কোরিয়ান Tumbleweed ছবির নকল। টাম্বলউইড এর নামই জানা ছিল, অভিযোগের প্রেক্ষিতে দেখা এবং আয়নাবাজি টাম্বলউইড থেকে কতটুকু নকল - তা এই পোস্টের আলোচ্য বিষয়।



টাম্বলউইড এর কাহিনী (স্পয়লার অ্যালার্ট) দুই-তিন বাক্যে বলি। চাং সু দুম করে এক চমৎকার সুন্দরী মেয়ের প্রেমে পড়ে গেল। মেয়েটি সম্প্রতি তার স্থানীয় মাফিয়ার সেকেন্ড বস বয়ফ্রেন্ডের সাথে ব্রেক-আপ করেছে। একদিন দুম করে মেয়েটি খুন হয়ে গেলে চাং সু পালায়। কিন্তু এক্স বয়ফ্রেন্ডই তাকে খুঁজে বের করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। জেল খেটে বের হয়ে এসে চাং সু প্রতিশোধ নেয় - প্রেমিকা হত্যার এবং বিনা অপরাধে পাওয়া শাস্তির!

ছবিতে চাং সু'র পেশা হল টাকার বিনিময়ে অন্যের জন্য জেল খেটে দেয়া। জেল খেটে বের হয়ে এসে চাং সু সেই মাফিয়া লিডারের কাছে পাওনা টাকাও চেয়েছিল। প্রকৃত খুনি মাফিয়া লিডারের পরিবর্তে সে জেল খেটেছে, সুতরাং তার মূল্য সে চাইতেই পারে। কিন্তু প্রিয় পাঠক, বলুন তো, চাং সু'র পেশা যদি জেল খেটে দেয়া না হয়ে রেলস্টেশনের কুলিগিরি হতো কিংবা কোন হোটেলের বয়, তাহলে কি গল্পটা আটকে যেত? যদি না আটকায়, তাহলে আয়নাবাজি-র আয়না'র পেশার সাথে চাং সু-র পেশা মিলে গেলেই কি ছবি নকল হবে?

https://www.youtube.com/watch?v=QyoTp6Jg5EQ

কেউ কেউ বলছেন, টাম্বলউইড ছবির থিম নকল করে আয়নাবাজি নির্মিত হয়েছে। এদেরকে কিছু বলা সম্ভব নয়। কারণ তারা থিম বলতে কি বোঝায় তা সম্পর্কে জ্ঞান রাখেন না। টাম্বলউইড চলচ্চিত্রের থিম কোনভাবেই টাকার বিনিময়ে জেল খাটা নয়, এটি একটি রিভেঞ্জ (প্রতিশোধ) থিমের থ্রিলার গল্প, আয়নাবাজি-তে রিভেঞ্জটা কই বলুন তো?

আয়নাবাজি'র বিরুদ্ধে নকলের যে অভিযোগ উঠেছে তার সাথে মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর টেলিভিশনের সাথে তুর্কী সিনেমা ভিজন-টেলে ছবির মিল নিয়ে তোলা অভিযোগের ভালো মিল রয়েছে। আয়নাবাজি'র কাহিনীকার ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্র আয়না-কে কোথা থেকে ধার করেছেন, টাম্বলউইড চলচ্চিত্র থেকে নাকি অন্য কোথাও, সেটা স্পষ্ট করেন নি। টাম্বলউইড ছবি থেকে তারা আইডিয়া নিতেই পারেন, সেটা গোপন করে যাওয়ার চেয়ে প্রকাশ করার মধ্যেই মহাত্ম - তারা সেটা বুঝেন বলেই বিশ্বাস করি।

আয়নাবাজি শতভাগ মৌলিক চলচ্চিত্র কিনা জানি না, অন্ততঃ এতটুকু জানি, এটি টাম্বলউইডের নকল নয়। তবে, আয়নাবাজি চলচ্চিত্রটি ত্রুটিমুক্ত নয় এবং যৌক্তিকভাবে এ সকল ত্রুটি নিয়ে আলোচনা চলা উচিত। আনফরচুনেটলি, খুব অল্প মানুষই ত্রুটিগুলো নিয়ে কথা বলছে, হয়তো সামনে পাওয়া যাবে। ভালো ছবির দুর্বলতা নিয়ে আলোচনা আরও সবল ছবির নির্মান নিশ্চিত করে। অযৌক্তিক মিথ্যা অভিযোগ চাপিয়ে বাংলাদেশীদের 'টেনে নিচে নামানোর প্রচেষ্টা'র অভিযোগই স্পষ্ট হয়, ছবি কিন্তু নিচে নামে না - আশা করি যারা অভিযোগ করেন তারা বিষয়টা বুঝবেন।

মত কিংবা ভিন্নমত - অলওয়েজ ওয়েলকাম!