সোমবার, ২৬ জানুয়ারী, ২০১৫

শর্টফিল্ম 'চ্যাট স্টোরি: পথচলার গল্প'র পেছনের গল্প

১.
বছর দুই তিন আগে AZ এর সাথে কথা বলতে বলতে একটা গল্প তৈরী করে ফেলেছিলাম। বাচ্চা কালো হলেও মা'র চোখে সেই সুদর্শন, আমার লেখা গল্পের ক্ষেত্রেও তাই। আমার গল্প আমি পড়ি আর অবাক হই - এই গল্প আমি কিভাবে লিখলাম!! তারও বছর খানেক পরে, মারুফ তখন কাজ টাজ করে হাত পাকাচ্ছে, কথাপ্রসঙ্গে তাকে বললাম, 'একটা শর্টফিল্ম বানাবা নাকি এই স্টোরিতে?' হাত আরও পাকানোর জন্য মারুফের যে কোন একটা স্টোরি দরকার ছিল, আমার কথায় না করল না সে। তারপর দিন কয়েক মারুফ আর শামীমের সাথে আমি বসলাম, যদি কিছু করা যায় এই আশায়। স্টোরি কাটছাট হল, ক্যারেক্টারের টাইপ ফাইনাল করা হল, আর দিন কয়েকের পরিশ্রমে কাজ নেমে যাবে, কিন্তু কাজ নামল না। শামীম ভয়ানক ব্যস্ত হয়ে গেল, শামীমের সাহায্য ছাড়া কাজ নামানো অসম্ভব এই চিন্তায় আমিও কেটে পড়লাম। তারও বছরখানেক পরে একটি মারুফ নক করল -" '...' শব্দটা পাল্টায়ে দিলাম।" আমি পড়লাম আকাশ থেকে - মারুফ এখনো সেই কাজ ধরে রেখেছে? শামীমের কাজ মারুফ একাই করেছে, বন্ধুকে নিয়ে অরিজিনাল স্কোর তৈরী করেছে, কাজ শেষ করে তারপর আমাকে ডেকেছে - 'দেখে যান'।

শনিবার, ১৭ জানুয়ারী, ২০১৫

সিনেমার নামে আদমপাচার

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশী চলচ্চিত্রের অন্যতম আলোচিত ঘটনা হল শ্যুটিং এর নামে আদম পাচার। মিশন আফ্রিকা নামের ছবির শ্যুটিং করতে গিয়ে কুংফু নায়ক রুবেল, ইমন, নায়িকা অমৃতা এবং কৌতুক অভিনেতা সিদ্দিকসহ বড় একটা দল দক্ষিন আফ্রিকার বিমান বন্দরে আটকা পড়েন। এ বিষয়ে দুই ধরনের রিপোর্ট পাওয়া যায় - এক রিপোর্টে বলা হচ্ছে, শ্যুটিং শেষে ফেরার সময় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ আটকে দিয়েছেন, কারণ ত্রিশজনের দল গেলেও ফিরে আসছিলেন দশ জন। অন্য রিপোর্টে বলা হচ্ছে, ঢুকতেই দেয়া হয় নি তাদের, কারণ শ্যুটিং এর অনুমতি ছিল না। এখন ইমন-অমৃতা জানাচ্ছেন, তারা জানতেনই না যে আদম পাচার করা হচ্ছে।

বুধবার, ১৪ জানুয়ারী, ২০১৫

সংসার - ১

গুলশানের রাস্তায় মাঝে মধ্যে এক লোকের সাথে দেখা হয়ে যায়। লোকটার হাতে কাপড়ের বেল্টের এক প্রান্ত প্যাচানো, অন্য প্রান্তের মাথায় একটা চামড়ার বেল্ট, সেই বেল্ট একটা কুৎসিত দর্শন কুকুরের গলায় বাঁধা। নাক মুখ বোঁচা, উচ্চতায় বেশ খাটো শখের পোষা কুকুর। একই উচ্চতার বিলাতি কুকুর পোষে অনেকে, সেটা দেখতে সুন্দর, দেখলে পুষতে বা আদর করতে আগ্রহ হয়, কিন্তু এই কুকুর পোষে কেন লোকে?

কুকুর নিয়ে বেড়াতে বের হয় লোকটা, কিন্তু কুকুরটা যায় আগে আগে, লোকটা পেছনে পেছনে। দেখে মনে হয়, লোকটি নয়, কুকুরটিই লোকটিকে নিয়ে বেড়াতে বের হয়েছে। মনে হয়, লোকটার হাতে দড়ি থাকলেও নিয়ন্ত্রণ কুকুরের হাতে। দড়ি হাতে বলে লোকটি বারবার কুৎসিতদর্শন কুকুরটিকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়, কিন্তু শেষ পর্যন্ত কুকুরটির ইচ্ছানুযায়ীই ছুটতে হচ্ছে। বেড়ানো শেষে হয়তো লোকটিই জিতবে, কুকুরটিকে নিয়ে ঘরে ফিরবে কিন্তু এই ফেরার মধ্যে ডিগনিটির অভাব প্রচন্ড বলে মনে হয়। কুকুর নিয়ে বেড়াতে যাওয়া বেশিরভাগ লোকই বোধহয় খেয়ালই করে না বা খেয়াল করলেও উপেক্ষা করে-সে নয়, কুকুরটিই তাকে ঘুড়িয়ে এনেছে।

এই যে কুকুরকে নিয়ে বেড়াতে যাওয়া, এটাই সংসার যেখানে ব্যক্তি নয় সংসারই ব্যক্তিকে নাচিয়ে বেড়ায়।

মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী, ২০১৫

বিকাশ ব্যবহার করে প্রতারণা

ফাহমিদা জানাল, অচেনা এক বাংলালিংক ও রবি নাম্বার থেকে কল করে চাকরী পাইয়ে দেয়ার নিশ্চয়তা দিয়ে পাঁচশ পঞ্চাশ/পঁচাত্তর টাকা বিকাশ করতে বলা হয়েছে। ফাহমিদা সচেতন বলে সে কিছুই করেনি, কিন্তু লাখ লাখ বেকার-অর্ধ বেকার যুবক যুবতীর মধ্যে কতজন এই সামান্য টাকা ব্যায়ে চাকরী প্রাপ্তির লোভনীয় প্রস্তাব উপেক্ষা করতে পারবে? অধিক দরিদ্র মানুষের এই বাংলাদেশে শর্টকাটে ধনী হবার বাসনা পোষনকারী মানুষের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার প্রায় কাছাকাছি। ফলে দেড়লক্ষ টাকার পুরষ্কার পাওয়ার লোভে হাজার দশেক টাকা ধার দেনা করে হলেও বিকাশ করার লোক কম নয় এবং প্রতিনিয়তই এ ঘটনা ঘটছে। প্রশ্ন হল, সকল প্রতারকই বিকাশ নাম্বার ব্যাবহার করছে কেন?

শুক্রবার, ২ জানুয়ারী, ২০১৫

পাল্টে যাওয়া

you-ve-changed-man--source'এই নাজমুল ভাই আপনি না ইদানিং পাল্টে যাচ্ছেন', খালেদা আপা আমাকে বলে। উনার চোখে কেমন এক উদ্বেগ দেখা যায়।

খালেদা আপা সদা হাস্যময়ী বিপ্লবী নারী। পৃথিবীর কোন কাজকেই তিনি না বলেন না। সাভার থেকে গুলশান এসে গিয়ে অফিস করেন, অফিসের কাজে সারাদিনই বাহিরে থাকেন, রাজ্যের যত লোকের অদ্ভুত আর জটিল সব স্বাস্থ্য সমস্যা আর দুর্যোগের সমাধানের জন্য তিনি শহরের এমাথা ওমাথা ছুটেন কিন্তু হাসিমুখ বন্ধ হয় না কখনো। খালেদা আপার অনুযোগ শুনে আমি হাসি, 'কি রকম?'

বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী, ২০১৫

স্বশিক্ষাই সুশিক্ষা

স্বশিক্ষাই এখন সুশিক্ষা অর্জনের প্রধান উপায়একটা ট্রে-তে সাজানো কতগুলো পিরিচ, আর পিরিচে সাজানো লাল-সাদা মিষ্টি, দুটো-তিনটে-চারটে। এই ট্রে নিয়ে আমি দরজায় দরজায় যাচ্ছি, দরজা খোলার পর আম্মার নির্দেশিত দু-তিন কিংবা চার মিষ্টির পিরিচ বাড়িয়ে দিয়ে বলছি - ভাইয়ার মিস্টি। ফার্স্ট ডিভিশন তিনটা লেটার। এত বছর আগের ঘটনা যে আমি মনেই করতে পারছি না ওইসময় কি আমি একা ছিলাম নাকি আমার ভাইদের কেউ আমার সাথে ছিল, কিন্তু এতটুকু মনে আছে - কেউ কেউ আগ্রহী হয়ে হাসিমুখে জিজ্ঞেস করেছে - কোন বিষয়ে লেটার, আমি বলছি তিন সাবজেক্টের কথা, অথচ লেটার বলতে ঠিক কি বোঝায় সেটাও আমার জানা নেই।