news_image_2013-08-12_27092

১.
পুরো নাম আবুল কাশেম হলেও সবাই তাকে চেনে শুধু কাশেম হিসাবে, চেনার সুবিধার্থে নামের সাথে অবশ্য দুটো শব্দ যোগ করা হয় - কাশেম অটো ড্রাইভার। অটো গাড়িটা কাশেমের নয়, তার বড় ভাইয়ের - দু'ভাইয়ে মিলে মিশে চালায়। কাশেম অটো ড্রাইভারের আরেকটা পরিচয় হল - সে আমাদের পারিবারিক 'ড্রাইভার'। যত রাতই হোক বা যত ভোর - কাশেমকে মোবাইলে কল দিলেই সে তার গাড়ি নিয়ে চলে আসে আমাদের নিয়ে গন্তব্যে পৌছে দেয়ার জন্য।

সেই আবুল কাশেম গতকাল আসরের নামাজের আগে থেকে আব্বার সাথে সাথে ঘুরতেছে। আব্বা এতেক্বাফে বসেছিলেন, মাগরিবের সময় তার বিছানার গাট্টি বাসায় পৌছে দিয়ে গেল কাশেম, কিন্তু আব্বার পিছুও ছাড়লো না। সন্ধ্যার পর আবুল কাশেম বাসায় এসে হাজির। ঈদের দিন দুপুরে সে আব্বাসহ পুরো পরিবারকে তার বাসায় দাওয়াত দিতে চায় - কোনভাবেই এতে না করা যাবে না!

না করা যায় নি, তবে দুপুরকে রাতে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়েছে। আজ রাতে কাশেম অটো ড্রাইভারের বাসায় দাওয়াত। রাব্বুল আলামীন তার আন্তরিকতাকে কবুল করুক!

২.
ঈদের নামাজে দাড়িয়েছি। দুই পাশে দুই পিচ্চি। ডানদিকের জন লাল পাঞ্জাবী, বামদিকের জন অপেক্ষাকৃত বাচ্চা, গায়ে নীল পাঞ্জাবী। নামাজের নিয়্যত করার পরই নীল পাঞ্জাবীর মনে পড়ে গেল বড় ভাই লাল পাঞ্জাবীর কাছ থেকে পাঁচ টাকা নেয়ার কথা। সুতরাং - আমার পেছন থেকে হেটে গিয়ে আমার আর লাল পাঞ্জাবীর মাঝে ঢুকে গেল সে। তারপর -
- আমার পাঁচ টাকা দে
- নামাজের পরে নিস
- না আমারে এখন দে। আমি খাবো।
- পরে নিস।
- না এখন।
- নামাজের পরে।

পুরো দুইরাকাত এই চলল দুই ভাইয়ের মাঝে। এর মাঝেই রুকু সিজদাও হল। শেষ সিজদায় বড় ভাইয়ের সিদ্ধান্ত পাল্টালো, সে সিজদায় থেকেই পকেট থেকে পাঁচ টাকার একটা নোট বের করে দিল -'নে'। নীল পাঞ্জাবী টাকা পাওয়ার আনন্দে আমার সামনে দিয়েই তার জায়গায় ফেরত চলে গেল!

৩.
একসময় ঈদ বলতে বুঝতাম - ঈদের নামাজ শেষে যাদের সাথে প্রতিদিন বিকেলে-সন্ধ্যায় খেলি আর সকালে স্কুলে যাই, তাদের বাসাতেই ঘুরে ঘুরে ঝাল-মিষ্টি খাওয়া। এইসময়ে ঈদ বলতে বুঝি - কাশেম অটো ড্রাইভারের আন্তরিকতা, লাল-নীল পাঞ্জাবীর টাকা ভাগাভাগি আর ফেসবুকময় দিন।

ঈদ মোবারক ফেসবুকবাসী!