ফেসবুকে আমার পরিচালনায় দুটো ফ্যান পেইজ আছে। প্রথমটি আমার ব্যক্তিগত ব্লগ দারাশিকো ডট কম এর পেইজ - দারাশিকো ব্লগ। দ্বিতীয়টি বাংলা মুভি ডেটাবেজ এর অফিসিয়াল পেজ। গত ২৫/২৬ মার্চ থেকে পেজ থেকে শেয়ার করা স্ট্যাটাস, লিংক ইত্যাদির রিচ (ইউজারের ওয়াল পর্যন্ত পৌছানো) হঠাৎ কমে গেল। আগে গড়ে কোন পোস্ট যেখানে দুই থেকে তিনশ লোক পর্যন্ত পৌছাতো, সেগুলো নেমে গিয়ে বিশ থেকে পঞ্চাশে দাড়ালো এবং কোন পোস্টই একশ পর্যন্ত পৌছালো না। 

যে কোন ফেসবুক পেজের জন্যই ব্যাপারটা দুশ্চিন্তা উৎপাদনকারী। ওয়েবসাইটদুটোকে আরও বেশী লোকের কাছে পৌছে দেয়ার জন্যই ফেসবুক পেজ, কিন্তু তার রিচ যদি কমে যায় এভাবে, তাহলে ফেসবুক পেজের ভূমিকা কি থাকতে পারে সেটা প্রশ্নসাপেক্ষ। রুহুল্কার কাছ থেকে জানা গেল - বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে আরও আয় করার উদ্দেশ্যে পেজ মালিকরা যেন বিজ্ঞাপনের দিকে ঝুঁকতে বাধ্য হন, তাই ফেসবুক নতুন এই পলিসি গ্রহণ করেছে। আরও বিস্তারিত জানার জন্য গুগল করতে হল। সত্যতা পাওয়া গেল। 

ঘাঁটতে গিয়ে Eat24.com এর একটি লেখার খোঁজ পাওয়া গেল। ফেসবুককে উদ্দেশ্য করে তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে একটি ব্লগ প্রকাশ করা হয়েছে - শিরোনামটি খুবই চমৎকার - A breakup letter to Facebook from Eat24। সুপাঠ্য পোস্ট। প্রায় ৭০,০০০ ফলোয়ার থাকার পরেও ইট২৪ কেন ফেসবুক পেজটি বন্ধ করে দিতে যাচ্ছে এবং ফেসবুকের নতুন এলগরিদম কেন ব্রেকআপের কারণ হয়ে দাড়িয়েছে - পোস্টে তার ব্যাখ্যা করা হয়েছে। ফেসবুক থেকে সরে গিয়ে তারা টুইটার, পিন্টারেস্ট বা ইউটিউবে বেশী সময় দেয়ার ঘোষনাও দিয়েছে। 

গত ২৮ মার্চ ২০১৪ তারিখ থেকে আমার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি ডিঅ্যাকটিভেট করা আছে, ফলে, এই দুই সাইটের প্রমোশনের জন্য ফেসবুক পেজ ছাড়া অন্য কোন রাস্তা খোলা নেই। ফেসবুকের নতুন নীতিমালা যেভাবে পথ আগলে দাঁড়িয়েছে তাতে ইট২৪ একা কেন হয়তো আরও অনেককেই পেজের উপর ডিপেন্ডেন্সি কমাতে হবে। তবে, ইট২৪ এর মত সরবে বিদায় নেবে হয়তো খুব কম সংখ্যক পেজ। আপাততঃ পোস্টের অর্গানিক রিচ বাড়ানোর কোন উপায় পাওয়া যাচ্ছে না, ব্যক্তিগত প্রোফাইল ছাড়া অন্য কোন ভালো উপায়ও নেই। অপেক্ষা করছি - ফেসবুক তার সিদ্ধান্ত পাল্টাবে, অথবা, নতুন কোন উপায়ে আবারও বিনামূল্যে প্রমোশন করা যাবে।