বুধবার, ৩০ এপ্রিল, ২০১৪

How good is MY taste in films?

Badge-Film-Blog-001

ব্রিটিশ পত্রিকা দ্য গার্ডিয়ান এর একটা কুইজের লিংক পাওয়া গেল টুইটারে। শিরোনাম: Quiz: How good is your Taste in Films? আগ্রহোদ্দীপক বিষয়। আমি পার্টিসিপেট করলাম। তারা শুরু করেছে এভাবে -

মঙ্গলবার, ২৯ এপ্রিল, ২০১৪

ডিয়ার প্যারেন্টস, আরেকটু আধুনিক হন!

8339016324_76c2f2e576_z_2563


হাতিরঝিল উদ্বোধন হওয়ার পর পর জায়গাটার গুরুত্ব দুই দল মানুষের কাছে ভুস করে বেড়ে গেল! একদল হল টিভি মিডিয়ার সাথে সম্পৃক্ত লোকজন। টেলিভিশনের যত অনুষ্ঠান - নাটক থেকে শুরু করে ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান, টকশো থেকে শুরু করে রান্না-বান্না-রূপচর্চা - সবই হাতিরঝিলের আলো ঝলমলে ঝুলন্ত সেতুর সামনে হতে লাগল। দ্বিতীয় দল হল ঢাকার যত প্রেমিক জুটি - প্রি ম্যারিটাল, ম্যারিটাল এবং এক্সট্রা ম্যারিটাল রিলেশনশিপে এনগেজড কিউপিড দেবীর অনুসারীরা। জাতীয়তাবাদী প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবরস্থানকে ঘিরে যে সৌন্দর্যবর্ধন বিএনপি সরকার করেছিল, আওয়ামী সরকারের কল্যাণে তা এখন প্রায় পরিত্যক্ত ডেটিং স্পট। ফলতঃ হাতিরঝিল উত্তম বিকল্প হিসেবে গ্রহণ করতে প্রেমিক সম্প্রদায়ের আপত্তি হয় নি।

গোপনে বিয়ে এবং বিচ্ছেদ

kazi
'ফেসবুকে নাই, গুম হয়ে গেলেন কিনা' - নিশ্চিত হওয়ার আগ্রহে এক বড় ভাই ফোন দিলেন আজকে। গুম করে নি কেউ - ভাইকে হতাশ করতেই হল! কুশল বিনিময়ের মাঝে জিজ্ঞেস করলাম - ভাবী কেমন আছেন? উত্তরে 'ভালো' বলার পর ভাই যোগ করলেন, 'একটা কথা আছে, আপনাকে বলা যায়, আর কাউকে বলি নাই ...'।

বৃহস্পতিবার, ২৪ এপ্রিল, ২০১৪

আবার চাই - ডে লাইট সেভিং

গত কয়েকদিনে দেশের সবচে বেশী যে ইস্যুতে কথা হয়েছে তা সম্ভবত - গরম এবং তাপমাত্রা। ৪০-৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে। তুলনা হিসেবে সৌদী আরবের তাপমাত্রা এসেছে - বাংলাদেশের তাপমাত্রা কোন কোনদিন রিয়াদের তাপমাত্রাকেও ছাড়িয়েছে। অসহনীয় এই গরমের সাথে আছে তীব্র লোডশেডিং। মাঝরাতে লোডশেডিং হচ্ছে - ফলে গরমের কারণে ঘুমের ব্যাঘাতও ঘটছে। এই সমস্যার সমাধানে ডে-লাইট সেভিং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

সোমবার, ২১ এপ্রিল, ২০১৪

পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়কে অব্যহতি - কেন?




এফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে বিদায় নিয়েছেন পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়। চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ শেষ হয়ে যাওয়ায় (এবং বাংলাদেশে ভারতীয় সিনেমা আমদানী ও প্রতিষ্ঠিত করতে ব্যর্থ হওয়ায়) তাকে এ দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।



নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগের আগ পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তথ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হারুন উর রশিদকে। (ভারতীয় সিনেমা আমদানী করতে সফল হবেন এমন যোগ্যতা সম্পন্ন কাউকে না পাওয়া পর্যন্ত তিনিই আমদানী চেষ্টা চালিয়ে যাবেন)।


 

রবিবার, ২০ এপ্রিল, ২০১৪

ফকিরাপুলে ভোরবেলার ছিনতাইকারীরা

ছবি: বাংলামেইল
গত ফেব্রুয়ারী মাসের ঘটনা। সিলেটের এক বন্ধু তার মা'র চিকিৎসার জন্য ঢাকায় এল। নাইটকোচে ঢাকায় এসে ডাক্তার দেখিয়ে ওইদিনই ফিরে যাবে - এমন পরিকল্পনা। নিরাপদে ঢাকায় ফকিরাপুল পৌছেছেন - ফজরের সময় এমন সংবাদ পেয়ে আবার ঘুমিয়েছি। মিনিট পনেরো বাদেই আবার ফোন - ছিনতাই হয়ে গেছে সব! আম্মার হাতে ব্যাগ ছিল, সেই ব্যাগ ধরে টান দিয়ে নিযে গিয়েছেছে একটা প্রাইভেট কার থেকে। হ্যাচকা টানে তাল সামলাতে না পেরে অসুস্থ্য আম্মা পড়ে গেছেন রিকশা থেকে, শাড়ি ছিড়ে গেছে, চামড়া ছিলে গিয়েছে, ব্যাথা পেয়েছেন কয়েক জায়গায়। সবচে বড় দুর্ঘটনা হল - চৌদ্দ হাজার টাকা ছিল ওই ব্যাগে - এখন রিকশা ভাড়া দেয়া ছাড়া আর কোন টাকাই নেই তাদের কাছে! 

শুক্রবার, ১৮ এপ্রিল, ২০১৪

নার্সিসিজম এবং সোশ্যাল মিডিয়া

নারায়নগঞ্জের স্কুলছাত্র ত্বকী হত্যাকান্ডের পর গল্পটা বলেছিলাম, আরও একবার বলি। 
এক ছেলে কম্পিউটারে মজা করতে গিয়ে কিল বিল কিল বিল কিল বিল লিখে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দিয়েছিল। ছেলেমানুষী কর্মকান্ড, কিন্তু আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থা এই কাজকে প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনকে হত্যা করার নির্দেশনা হিসেবে চিহ্নিত করে সেই ছেলেকে খুজে গ্রেপ্তার করে ফেলেছে। বছর কয়েক পরে, আরেকটা ঘটনা ঘটল - একদম আমার নিজের বাংলাদেশে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ইমেইল করে হত্যার হুমকীয় দিয়ে ফেলল এক তরুণ ছেলে। টক অব দ্য কান্ট্রি! অল্প কদিন পরেই, সম্ভবত তিন দিন, বাংলাদেশের পুলিশ সেই ছেলেটাকে ধরে ফেলল। ঢাকা শহরের কোন এক সাইবার ক্যাফে থেকে সে মেইলটা করেছিল।

মঙ্গলবার, ১৫ এপ্রিল, ২০১৪

বাংলাদেশী চলচ্চিত্রে বাংলা সংস্কৃতি

বাংলা বৎসরের প্রথম দিনে বোধহয় বাংলাদেশী সিনেমায় বাংলাদেশী সংস্কৃতির উপস্থিতি নিয়ে কথা বলা একদিনের বাঙ্গালীপনা হিসেবে গণ্য হবে না - এই ভরসায় প্রশ্ন করি - বাংলাদেশী সিনেমা কতটুকু বাংলাদেশী?

সোমবার, ১৪ এপ্রিল, ২০১৪

নববর্ষের খাবারঃ ঘরে বানানো খই, দেশী মুর্গির ডিম পোচ এবং গুঠিয়ার বিখ্যাত সন্দেশ

ঠেকায় না পড়লে বাংলা নববর্ষের দিনে আমি ঢাকায় থাকি না। নববর্ষের মত বিশেষ দিনগুলোতে শাহবাগে জাহান্নামের পরিবেশ সম্পর্কে প্রাথমিক ধারনা লাভ করা যায়। ব্যক্তিগতভাবে আমি জান্নাত প্রত্যাশী, জাহান্নামের স্বাদ নিতে গিয়ে জাহান্নামের বাসিন্দা হওয়ার বিন্দুমাত্র আগ্রহ বোধ করি না, তাই প্রত্যেক নববর্ষের আগেই আমি ঢাকা থেকে পালাই - গৃহবন্দী হয়ে থাকার চে' পালানো ঢের ভালো।

রবিবার, ১৩ এপ্রিল, ২০১৪

স্কাইফল সিনেমাটোগ্রাফারের ১০ টিপস

_74176195_rogerdeakins_gettyসিনেমাটোগ্রাফার রজার ডেকিন্স তার জীবনে ৬০টির বেশী পুরস্কার পেয়েছেন, এর মাঝে তিনটি বাফটা অ্যাওয়ার্ড। এগারোবার অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডস বা অস্কারের নমিনেশন পেলেও একবারও জিততে পারেন নি। তার ফটোগ্রাফি ডিরেকশনে নির্মিত সিনেমাগুলোর মধ্য খুব বিখ্যাত কিছু সিনেমা হল - দ্য শশাঙ্ক রিডেমশন, নো কান্ট্রি ফর ওল্ড ম্যান, স্কাইফল, ট্রু গ্রিট, আ বিউটিফুল মাইন্ড, দ্য রিডার, রিভ্যলুশ্যনারী রোড ইত্যাদি। গত ১৪ এপ্রিল বিবিসি-তে সিনেমাটোগ্রাফি নিয়ে তার অভিজ্ঞতালব্ধ ১০টি টিপস দিয়েছেন রজার ডেকিন্স - এই লেখাটা মূলত সেই টিপসগুলোরই দারাশিকো-ভার্সন।

শনিবার, ১২ এপ্রিল, ২০১৪

Wyatt Earp: বায়োগ্রাফিক ওয়েস্টার্ণ

wyatt-earp-movie-poster-1994-1020192353নেতিবাচক দিয়ে শুরু করি। ওয়াইট আর্প সিনেমাটি পাঁচটি ক্যাটাগরীতে রেজ্জি অ্যাওয়ার্ড নমিনেশন পেয়েছিল - সবচে বাজে ছবি, সবচে বাজে পরিচালক, সবচে বাজে অভিনেতা, সবচে বাজে রিমেক/সিক্যুয়েল এবং পর্দায় সবচে বাজে জুটি। পাঁচটির মধ্যে দুটি ক্যাটাগরীতে রেজি অ্যাওয়ার্ড জিতে নিয়েছে ছবিটি - সবচে বাজে অভিনেতা এবং সবচে বাজে রিমেক/সিক্যুয়েল। পুরস্কার এবং 'সবচে বাজে' শব্দগুলো নিয়ে যারা কনফিউজড তাদের জ্ঞাতার্থে জানিয়ে রাখি - রেজ্জি অ্যাওয়ার্ড হল গোল্ডের রাস্পবেরি অ্যাওয়ার্ড (Golden Raspberry Award) এর ডাক নাম। ১৯৮০ সাল থেকে অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ড বা অস্কারের পরের দিন সিনেমার সবচে খারাপ দিকের জন্য এই পুরস্কার দেয়া হয়। বলা বাহুল্য, অস্কার যেমন সকলের আরাধ্য, তেমনি রেজ্জি সকলের কাছে ঘৃনার্হ।


রেজ্জি অ্যাওয়ার্ড পাওয়া সিনেমা নিয়ে কেন লিখছি? সিনেমা দেখার আগে জানা ছিল না। একটু পড়াশোনা করে নিলে হয়তো এই ছবিটা দেখা হত না। দেখার আগ্রহ মূলত ছবির প্রধান চরিত্র ওয়াইট আর্প রূপী কেভিন কস্টনার।

শুক্রবার, ১১ এপ্রিল, ২০১৪

ফেসবুক বন্ধের দুই সপ্তাহ

ছবি কৃতজ্ঞতা: www.tothepc.com
ফেসবুক ডিঅ্যাকটিভেট করেছি দুই সপ্তাহ হল। গত ২৮ মার্চ শুক্রবার ফেসবুক থেকে বিদায় নিয়েছি, সাময়িক এবং অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য। সাময়িক, কারণ প্রয়োজনে আবারও ফিরবো, অনির্দিষ্ট - কারণ কবে ফিরবো এখনো জানি না। ছোট ছোট কিছু ফাইন্ডিংস আছে ফেসবুক ডিঅ্যাকটিভেশনের - 
১. ফেসবুকে আমি নেই - এটা আবিস্কার করার পর আমাকে ফোন /এসএমএস / মেইল করে কারণ জানতে চাবে, এমন আশা আমি করিনি কখনো। কারণ আমার বিশ্বাস - বেশীরভাগ মানুষই সহসা খেয়াল করবে না তার ফ্রেন্ডলিস্ট থেকে একজনের অ্যাকাউন্ট ডিঅ্যাকটিভেটেড। যদি নিয়মিত অ্যাকটিভিটি থাকে এমন কেউ হয়, তবেও সেটা নজরে পড়তে পড়তে সপ্তাহখানেক লেগে যাওয়ার কথা। এখন পর্যন্ত এই বিশ্বাসে অটল আছি - আমার ধারনা অল্প কিছু মানুষ ছাড়া কেউ-ই এখনো বুঝতে পারে নি যে দারাশিকো'র ফেসবুক প্রোফাইল বন্ধ! ব্যাপারটা তৃপ্তিদায়ক - অনেক মানুষের মধ্য থেকে টুপ করে ডুব দেয়ার একটা মজা আছে - সেই মজা পাচ্ছি এখন।

২. ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ডিঅ্যাকটিভেট করে দিয়েছি - এই খবর শোনার পর বেশীরভাগ মানুষই ধারনা করে কোন 'একজনের' জন্য অ্যাকাউন্ট বন্ধ করেছি, কিছু 'একটার' জন্য নয়। ছোটভাইবন্ধু একজন তো সরাসরি জিজ্ঞেস করে ফেলল - ভাবী চলে গেছে নাকি? ভাবী কালচারে যে আমার আগ্রহ নাই - অন্যরা সেটা জানে না বা বিশ্বাস করে না। 

৩. ফেসবুক বন্ধ করার পরে টুইটারে অনেক বেশী অ্যাকটিভ হয়েছি। তবে টুইটারে ফেসবুকের মত সারাদিন বসে থেকে সময় নষ্ট করার সুযোগ তুলনামূলকভাবে কম, অন্ততঃ এখন পর্যন্ত। আগে ফেসবুকের স্ট্যাটাস ইত্যাদি লেখাগুলো দারাশিকো'র সিন্দুক ব্লগস্পটে সংরক্ষন করে রাখা হত, এখন ব্লগস্পটের জন্যই লেখা হচ্ছে। মাঝ থেকে সারাদিন ফেসবুকে বসে থাকার, কিছুক্ষন পর পর লাইক/কমেন্ট নোটিফিকেশন চেক করার গ্যাঞ্জাম নেই। পাঠক কম, এবং ব্লগস্পটে বেশী লোক আসে না সুতরাং গ্যাঞ্জাম তৈরীর সুযোগও কম।

৪. নিজের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেয়ার কারণে আমার পরিচালিত দুটো পেজ কিভাবে আপডেট করা হবে সে চিন্তায় ছিলাম প্রথম দুইদিন, সে ব্যবস্থা হয়ে গেছে। তবে, ফেসবুকের মাধ্যমে মেইল কমিউনিকেশনের এখন পর্যন্ত কোন বিকল্প পাওয়া যায় নি। এই সমস্যার সমাধান জরুরী।

৫. ফেসবুক বন্ধ করার পর কেমন আছি? অনেক পরিচিত, ভালোলাগার, আগ্রহের মানুষের ছবি, পোস্ট ইত্যাদি থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। বঞ্চিত হওয়ার পর উপলব্ধি করেছি - এই বঞ্চনা আসলে খুব বেশী প্রভাব ফেলছে না। প্রি-ফেসবুক যুগে তো এত মানুষের এত এত কর্মকান্ড সম্পর্কে জানতাম না, এখনও জানছি না - খুব ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে বলে মনেও হচ্ছে না। ফেসবুক বন্ধ করার ফলে অপছন্দনীয়, কষ্টদায়ক, অস্বস্তিদায়ক, লোভনীয় অনেক ব্যাপার থেকে দূরে থাকা যাচ্ছে - এটাও একটি ভালো দিক। 

সব দিক বিবেচনা করে মনে হচ্ছে বেশ ভালো আছি, তৃপ্তিতে আছি। তবে এটা কি নিজেকে নিজে বুঝ দেয়ার ভন্ডামি কিনা - সে সিদ্ধান্তে পৌছাতে আরেকটু সময় লাগবে। ততদিন পর্যন্ত নাহয় টুইটিং আর ব্লগিংই চলুক!

বৃহস্পতিবার, ১০ এপ্রিল, ২০১৪

মাহিয়া মাহির রূপের গোপন রহস্য!



আর অল্প ক'দিন অপেক্ষা! তারপরই টিভিপর্দায় চলচ্চিত্র নায়িকা মাহিয়া মাহি এসে জানাবেন - তার সাদা চামড়ার পেছনে রহস্য হল ফেয়ার অ্যান্ড লাভলী। তিনি দিনে মাখতেন, রাতেও মাখতেন। সকালে পাউরুটিতে জেলীর পরিবর্তে ফেয়ার অ্যান্ড লাভলী মাখিয়ে ও দুপরে গম ভাতের সাথে ঘি-এর পরিবর্তে দু চামচ সুস্বাদু ফেয়ার অ্যান্ড লাভলী খেতেন। শ্যুটিং এ ফাস্ট ফুডে চিজ এর পরিবর্তে পাতলা ফেয়ার অ্যান্ড লাভলীর খান প্রতিদিন, গোসলের আগে গোলাপজলের পরিবর্তে পানিতে আধা টেবিল চামচ লিকুইড ফেয়ার অ্যান্ড লাভলী মিশিয়ে নিতেও ভুলেন না। এছাড়া, রুমে এয়ার ফ্রেশনার হিসেবে তিনি ব্যবহার করেন ফেয়ার অ্যান্ড লাভলী স্প্রে। সারাদিন ফেয়ার অ্যান্ড লাভলীর সাথে থাকেন বলেই তিনি এত লাভলী। সুতরাং আপনিও সারাদিন ফেয়ার অ্যান্ড লাভলীর সাথেই থাকুন!


খবর: চলচ্চিত্র নায়িকা মাহিয়া মাহি ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেডের পণ্য ‘ফেয়ার অ্যান্ড লাভলী’র ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন। (মানবজমিন)

 

সোনার খনি বাংলাদেশ



রবিঠাকুরের সোনার বাংলাদেশের স্বপ্ন পূরণ হয়ে গেছে, বাংলাদেশ হয়ে গেছে সোনার খনি। এখানে ওখানে সোনা পাওয়া যাচ্ছে, তবে আদ্যিকালের বালুমাটিমিশ্রিত সোনা নয়, একেবারে প্রসেসড সোনার বিস্কুট। যার একেকটি বারের দাম কয়েক লাখ টাকা।


কোথায় পাওয়া যাচ্ছে না সোনা? গাড়িতে। টয়লেটে। জুতায়। স্যুটকেসে। মুম্বাইয়ে তো এক ভদ্রমহিলার পড়নে থাকা ছয়টি অন্তর্বাসের মধ্যেও পাওয়া গেল। এদেশে এখনো ওই খবর পাওয়া যায় নি, তবে সার্চ করলে পাওয়া যে যাবে না তার নিশ্চয়তাও দেয়া যাচ্ছে না। বিমানবন্দরে বেল্টে, বারান্দায় যত্রটত্র সোনা পাওয়া যাচ্ছে।

সোনা দিয়া বান্ধায়াছি বিমান বন্দর - ও মনরে ..

এত এত সোনা যাচ্ছে যে কোথায় সে নিয়ে অবশ্য প্রশ্ন দেখা যাচ্ছে। সোনার বাম্পার ফলন হলেও, জায়গামত সোনার ঘাটতিও দেখা যাচ্ছে। বিদেশীদের মুক্তিযুদ্ধের সম্মাননা ক্রেস্টে যেমন কম পাওয়া গেল। ক্রেস্টে সোনা থাকার কথা ছিল ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম, সেখানে পাওয়া গেছে ২ দশমিক ৩৬৩ গ্রাম। বাকীটা? বোধহয় ওগুলোই গাড়িতে-টয়লেটে পড়ে আছে। (সৈয়দ আবুল মকসুদের এই লেখাটা পড়ে দেখা যেতে পারে)


যে সোনা ফলেছে রাস্তা-ঘাটে তা যাচ্ছে কোথায়? উত্তরটা সহজ। এই সোনা বাংলাদেশে আসছে না, যাচ্ছে ভারতে। বাংলাদেশ হল সোনার চালানের রুট। এদিক ওদিক থেকে দুয়েক বস্তা মাটিতে পড়ে যাচ্ছে আর তাই নিয়েই মাতামাতি।




ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে পাওয়া গেল -
ভারতের বিশাল স্বর্ণের চাহিদা মেটাতে বাংলাদেশকে সোনা চোরাচালানের স্বর্গরাজ্য বানানো হয়েছে। যে পরিমান স্বর্ণ চোরাচালান হচ্ছে তার সিকিভাগও চাহিদা নেই বাংলাদেশে। আর যেগুলো ধরা পড়ছে তা আইওয়াশ ছাড়া কিছুই না। কারন এরছেয়ে কয়েকগুণ সোনা নিয়মিত বিমানবন্দর দিয়ে বিনা শুল্কে প্রবেশ করাচ্ছে অসাধু কিছু কর্মকর্তা। ভারতের বিমানবন্দর সম্পুর্ণ ডিজিটাল হওয়ায় সেখানে চোরাচালান সম্ভব না হওয়ায় বাংলাদেশকে ট্রানজিট পয়েন্ট বানানো হয়েছে।


 



সোনা চোরাচালানের সমস্যাটা কি? কালেরকন্ঠের সম্পাদকীয়তে উত্তর পাওয়া যাবে - 
এই চোরাচালানের সঙ্গে ভারতের ৩০টি এবং বাংলাদেশের ৪০টি গ্রুপ জড়িত। সাধারণত সোনা চোরাচালানের অর্থ পরিশোধ করা হয় হুন্ডির মাধ্যমে। আবার দেশে চোরাচালান হয়ে আসা অস্ত্রের দাম মেটানো হয় চোরাচালানের সোনা দিয়ে। ফলে এর সঙ্গে অস্ত্র চোরাচালানেরও একটি ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। আন্তর্জাতিক মাদক চোরাচালানের ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবেও বাংলাদেশ যথেষ্ট পরিচিতি লাভ করেছে। এই চোরাচালানি গ্রুপগুলো যে মাদক চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত নয়, তা কে বলবে। আবার রাজনীতিবিদ ও প্রভাবশালী যেসব ব্যক্তি এই চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত, তাদের পক্ষে অবৈধ অর্থ উপার্জনের জন্য যেকোনো ধরনের অপরাধকর্মে যুক্ত হওয়া অবাস্তব কিছু নয়। ফলে দেশ দ্রুত হত্যা, গুমসহ নানা ধরনের অপরাধের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হবে। পাশাপাশি দেশের অর্থনীতি, রাজনীতি, সমাজ ও শৃঙ্খলার জন্যও অচিরেই তা হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। কাজেই এমন একটি জঘন্য অপরাধকে অঙ্কুরেই বিনষ্ট করা না গেলে তা একসময় দেশের স্থিতিশীলতা, এমনকি সার্বভৌমত্বের ওপরও আঘাত হানতে পারে।


 

সোনার বাম্পার ফলনে চাষীর তেমন কোন সমস্যা হয় না, যা হওয়ার আলূ-চাষীর হয়। সোনার এই ফলনে আলুচাষীরা সোনা-চাষে অগ্রসর হয় কিনা তা দেখার জন্য অপেক্ষা করছি, আপনিও যোগ দিতে পারেন।


ছবি কৃতজ্ঞতা: বাংলানিউজ২৪ডটকম

বুধবার, ৯ এপ্রিল, ২০১৪

গল্প: মধ্যরাতের পরে


 

রাত ৩.৩৫। মোবাইলের ভাইব্রেশনে ধ্রুবর ঘুম ভাঙল। চোখ না খুলেই অ্যালার্ম বন্ধ করে দিল সে। তারপর ডানদিকে হাত বাড়িয়ে দিল। ফাঁকা। রূপা নেই!


চোখ খুলে মোবাইল সময় দেখল ধ্রুব। তিনটে বিশে অ্যালার্ম বাজার কথা। সময়মত বন্ধ না করলে একটু পর পর বাজতে থাকবে অ্যালার্ম। ঘুমের ঘোরে ভাইব্রেশন মোডে রাখা অ্যালার্ম শুনতে পায় নি, দেরী হয়ে গেছে পনেরো মিনিট। রূপা ফেরেনি বিছানায়, সুতরাং ধ্রুব উঠল।


ছোট্ট দুই রুমের এই ফ্ল্যাটে তাদের দুজনের সংসারের বয়স সতেরো দিন। এ মাসেরই চোদ্দ তারিখ শুক্রবারে পারিবারিক আয়োজনে বিয়ে। বিয়ের আগেই বাসা নেয়া হয়েছিল। সুতরাং বিয়ের তিনদিনের মাথায়ই রূপাকে নিয়ে নতুন বাসায় সংসার শুরু। দশদিন বাদেই রূপার বিসিএস রিটেন পরীক্ষা, তাই দেরী করার উপায় ছিল না। পরীক্ষার পরেই বিয়ে হোক - এমনটি ধ্রুবরা চেয়েছিল, কিন্তু রূপাদের আগ্রহে বিয়ে হয়ে গেল। তেরো তারিখ সকালে বাড়ি পৌছে চৌদ্দ তারিখে বিয়ে, পনেরোতে বৌভাত, ষোল রাতে রওয়ানা করে সতেরোতে নিজেদের সংসার। সংসার বলতে ডাবল খাটের এক কোনায় জড়াজড়ি করে থাকা আর পরস্পরের খোঁজখবর নেয়া-ভালোবাসা ইত্যাদি। পরীক্ষা বলে রূপাকে রান্নাবান্নার ঝামেলায় জড়াতে দেয় নি ধ্রুবর ছোট খালা, দুটো গলি পরেই থাকেন তিনি। নিজে এসে বা বড় মেয়েকে দিয়ে একদিনের খাবার রান্না করে পাঠিয়ে দিচ্ছেন শুরু থেকেই, গরম করে খাওয়ার কাজটা রূপা-ধ্রুব মিলে মিশে করে নিচ্ছে।


পাশের রুমে ঢুকল ধ্রুব। যা ভেবেছিল তাই। বাতি জ্বলছে, ফ্যান ঘুরছে এবং খোলা বইয়ের উপর বাম হাতের মাথা রেখে ঘুমাচ্ছে রূপা। খোলা চুল বাতাসে উড়ে গাল-মুখ ঢেকে রেখেছে। রূপার পড়ার টেবিল আর ধ্রুবর কম্পিউটার টেবিল একটাই। কম্পিউটারের খোলা স্ক্রিনে ডায়লগ বক্স বলছে ধ্রুবর কমান্ড দেয়া সিনেমা ডাউনলোড কম্প্লিট। হাতের উপর দুটো মশা রক্ত খেয়ে ফুলে আছে, কপালে আরেকটা। হাত এবং মাথার টানে খোলা বইয়ের পাতা ছিড়ে যাচ্ছে প্রায় কিন্তু রূপা ঘুমাচ্ছে!


রাত তিনটে পর্যন্ত পড়ে তারপর ঘুমুতে যাবে - এই শর্তে সাড়ে বারোটার দিকে ধ্রুব শুয়ে পড়েছিল। এখন বাজছে প্রায় পৌনে চারটা, তারমানে রূপা আজও তিনটেয় পড়া শেষ করে নি। অবশ্য গত ক'দিনে একদিন মাত্র সময়মত শুয়েছে সে, পরদিন পরীক্ষা ছিল না বলে। ছটায় আবার অ্যালার্ম বাজবে, কিন্তু ঘুম থেকে উঠতে পারবে না সেই অ্যালার্মে। তাই ধ্রুব মোবাইলেও অ্যালার্ম সেট করা ছ'টায়। সেই ডেকে তোলে রূপাকে - রাতে রূপার ঘুম সব মিলিয়ে মাত্র তিন ঘন্টা।


কম্পিউটারটা বন্ধ করে দিল ধ্রুব। মাথার নিচ থেকে বইটা টেনে বের করে বন্ধ করল সেটাও। 'চলো, বিছানায় ঘুমাবে' - আস্তে করে রূপাকে বলল সে। উত্তরের অপেক্ষা না করে পাঁজাকোলে তুলে নিল রূপাকে, টের পেয়ে আধা-জাগ্রত রূপা ধ্রুবর গলা জড়িয়ে ধরল। রূপার হালকা শরীরটাকে তুলে নিয়ে বিছানায় শুইয়ে দিল ধ্রুব।


তারপর ফিরে এল আবার। লাইট-ফ্যান বন্ধ করে দিল। রূপার মোবাইলে স্ক্রিন লক খুলে অ্যালার্মটা বন্ধ করে দিল। তারপর নিজের মোবাইলে অ্যালার্ম সেট করল - সাড়ে ছ'টা!  আধাঘন্টা বেশী ঘুমাক!


ছবি কৃতজ্ঞতা: www.123rf.com

সোমবার, ৭ এপ্রিল, ২০১৪

বিষয়ঃ ফেসবুকে পোস্টের লিমিটেড অর্গানিক রিচ


ফেসবুকে আমার পরিচালনায় দুটো ফ্যান পেইজ আছে। প্রথমটি আমার ব্যক্তিগত ব্লগ দারাশিকো ডট কম এর পেইজ - দারাশিকো ব্লগ। দ্বিতীয়টি বাংলা মুভি ডেটাবেজ এর অফিসিয়াল পেজ। গত ২৫/২৬ মার্চ থেকে পেজ থেকে শেয়ার করা স্ট্যাটাস, লিংক ইত্যাদির রিচ (ইউজারের ওয়াল পর্যন্ত পৌছানো) হঠাৎ কমে গেল। আগে গড়ে কোন পোস্ট যেখানে দুই থেকে তিনশ লোক পর্যন্ত পৌছাতো, সেগুলো নেমে গিয়ে বিশ থেকে পঞ্চাশে দাড়ালো এবং কোন পোস্টই একশ পর্যন্ত পৌছালো না। 

যে কোন ফেসবুক পেজের জন্যই ব্যাপারটা দুশ্চিন্তা উৎপাদনকারী। ওয়েবসাইটদুটোকে আরও বেশী লোকের কাছে পৌছে দেয়ার জন্যই ফেসবুক পেজ, কিন্তু তার রিচ যদি কমে যায় এভাবে, তাহলে ফেসবুক পেজের ভূমিকা কি থাকতে পারে সেটা প্রশ্নসাপেক্ষ। রুহুল্কার কাছ থেকে জানা গেল - বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে আরও আয় করার উদ্দেশ্যে পেজ মালিকরা যেন বিজ্ঞাপনের দিকে ঝুঁকতে বাধ্য হন, তাই ফেসবুক নতুন এই পলিসি গ্রহণ করেছে। আরও বিস্তারিত জানার জন্য গুগল করতে হল। সত্যতা পাওয়া গেল। 

ঘাঁটতে গিয়ে Eat24.com এর একটি লেখার খোঁজ পাওয়া গেল। ফেসবুককে উদ্দেশ্য করে তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে একটি ব্লগ প্রকাশ করা হয়েছে - শিরোনামটি খুবই চমৎকার - A breakup letter to Facebook from Eat24। সুপাঠ্য পোস্ট। প্রায় ৭০,০০০ ফলোয়ার থাকার পরেও ইট২৪ কেন ফেসবুক পেজটি বন্ধ করে দিতে যাচ্ছে এবং ফেসবুকের নতুন এলগরিদম কেন ব্রেকআপের কারণ হয়ে দাড়িয়েছে - পোস্টে তার ব্যাখ্যা করা হয়েছে। ফেসবুক থেকে সরে গিয়ে তারা টুইটার, পিন্টারেস্ট বা ইউটিউবে বেশী সময় দেয়ার ঘোষনাও দিয়েছে। 

গত ২৮ মার্চ ২০১৪ তারিখ থেকে আমার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি ডিঅ্যাকটিভেট করা আছে, ফলে, এই দুই সাইটের প্রমোশনের জন্য ফেসবুক পেজ ছাড়া অন্য কোন রাস্তা খোলা নেই। ফেসবুকের নতুন নীতিমালা যেভাবে পথ আগলে দাঁড়িয়েছে তাতে ইট২৪ একা কেন হয়তো আরও অনেককেই পেজের উপর ডিপেন্ডেন্সি কমাতে হবে। তবে, ইট২৪ এর মত সরবে বিদায় নেবে হয়তো খুব কম সংখ্যক পেজ। আপাততঃ পোস্টের অর্গানিক রিচ বাড়ানোর কোন উপায় পাওয়া যাচ্ছে না, ব্যক্তিগত প্রোফাইল ছাড়া অন্য কোন ভালো উপায়ও নেই। অপেক্ষা করছি - ফেসবুক তার সিদ্ধান্ত পাল্টাবে, অথবা, নতুন কোন উপায়ে আবারও বিনামূল্যে প্রমোশন করা যাবে। 


অটোচালক শরিফুল ইসলামের রাজনীতি ভাবনা

জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার ফুটানীবাজার ঘাটে বেশীরভাগ যাত্রী আসে যমুনা নদীর ওইপারে গাইবান্ধা জেলার বালাসী ঘাট থেকে। দিনে তিন তিন ছয় ট্রিপে ছয়-সাতশ লোকের আসা যাওয়া। মোঃ শরীফুল ইসলাম তার অটো চালান ফুটানীবাজার ঘাট থেকে রেলস্টেশন, বা রেলস্টেশন থেকে ইসলামপুরে। অথবা নিজের ইচ্ছেয় কাছে দূরের অন্য কোন রুটে। বিদ্যুতের মূল্য বাড়ানো নিয়ে তার অভিযোগ শুনতে হল।
(জামালপুরের আঞ্চলিক ভাষায়) আগে মাসে বিল দিতাম ৭০০/৮০০ টাকা, এখন দিবো ১৫০০/১৬০০ টাকা। আগে তিনশ (ইউনিট) হলে বাণিজ্য লাইন ছিল, এখন একশ পার হলেই বাণিজ্য। বিদ্যুতের দাম বাড়ছে, কিন্তু অটোর ভাড়া বাড়ে নাই। ঢাকা শহরে অটো ড্রাইভাররা আন্দোলন করছে, কিন্তু লাভ হয় নাই, ভাড়া বাড়ে নাই। ভাড়া না বাড়লে আমাদের চলবে কিভাবে? বাজার সদাই করা লাগবে না আমাদের?
শরীফুল ইসলাম যে অটো চালায় সেটা তার নিজের কেনা। বছর তিনেক আগে কিনেছিল, দাম উঠে গেছে বেশ আগেই। তখন দাম একটু বাড়তি ছিল - দেড়লাখ টাকায় কিনেছিল অটো। পরে দাম কমেছে, কিন্তু ডিমান্ড বাড়ার কারণে অটোর দাম আবার বেড়ে গিয়ে প্রায় একলাখ ষাট হাজার টাকা। কিন্তু সেগুলোর মান ভালো না, ওগুলোর ব্যাটারী পাল্টাতে হয় ছয় মাসে, আর সে তিন বছরে তিনবার পাল্টেছে ব্যাটারী - প্রতিবারে বারো তেরো হাজার টাকা খরচ। 

অটো নিয়ে তার ক্ষোভ গিয়ে  সরকারী দল আও'মিলীগ পর্যন্ত গড়ালো। অটোর সরকারী কোন রেজিস্ট্রেশন নাই, কিন্তু এলাকায় রেজিষ্ট্রেশন আছে, টাকা পয়সা নিয়ে যে লাইসেন্স দেয় সেটা ভুয়া। প্রতি রুটে আসা যাওয়ায় দশটাকা করে চাঁদা দিতে হয়। ঝুঁকি - অন্যথা হলে কোন অটো থাকবে না, শুধু আও'মিলীগের অটো থাকবে। চাঁদাবাজি আর দূর্নীতি করে তারা টাকাওয়ালা হচ্ছে।
আগে যে বিড়ি অর্ধেক খেয়ে বাকীটা কানে গুঁজে রাখতো পরে খাবে বলে, সে এখন বেনসন সিগারেট খায়, বিড়ি না। আগে যার ঘরের অবস্থা ছিল এমন যে খাওয়ার ঘর আর পায়খানার ঘর একসাথে, তার পায়খানায় এখন টাইলস লাগানো। 
উপজেলা নির্বাচন হয়েছে কিনা প্রশ্নের উত্তর সরাসরি পাওয়া গেল না। 
সকালে বিএনপি আগায়া ছিল পাঁচহাজার ভোটে, বিকেলে আওমিলীগ জিতেছে বারোহাজার ভোটে। বেলা দু'টোর দিকে ফোন করে জানিয়ে দিয়েছে - কষ্ট করে ভোটকেন্দ্রে আসার দরকার নাই, আমার ভোট তারা দিয়ে দিয়েছে। কষ্ট করে লোকে সিল দিবে এইজন্য আগের রাতে ব্যালট বাসায় নিয়ে গেছে, সিল মেরে সকালে দিয়ে গেছে। তাহলে কেমন হল ইলেকশন? এটা ইলেকশন নাকি সিলেকশন?
রাজনীতি আমার আগ্রহের বিষয় না, পারতপক্ষে রাজনীতির প্রসঙ্গে কথা বলি না। কিন্তু শরীফুল ইসলামের বোধহয় বেশ আগ্রহ, বিদ্যুতের দাম থেকে শুরু করে উপজেলা নির্বাচন এবং শেষ পর্যন্ত সরকারে থাকা আওয়ামী লীগের নিন্দা - তার অপছন্দ নয়। বর্তমান সময় সম্পর্কে একজন অটো চালকের ভাবনা কি তা ধরে রাখার আগ্রহে লিখলাম।

মঙ্গলবার, ১ এপ্রিল, ২০১৪

গোলাপী বিভারের মেন্টাল বয়স ৩১


সক্কালবেলা ঘুম থেকে উঠেই দেখি 'হোয়াট ইজ ইয়োর ট্রু কালার' প্রশ্ন নিয়ে বন্ধু দাড়িয়ে আছে। সব মিলিয়ে বোধহয় দশটা প্রশ্ন - উত্তর দেয়ার পরে তার উপর ভিত্তি করে আমার ট্রু কালার (রং) এবং সে অনুযায়ী বৈশিষ্ট্য জানিয়ে দেবে। এই ধরনের টেস্টে কখনোই আগ্রহ পাই না, বোধহয় সক্কালবেলা বলেই পার্টিসিপেট করে ফেললাম। উত্তর পাওয়া গেল - পিংক। আমি বেয়াক্কল হয়ে গেলাম - মহিলাদের রং আমার ট্রু কালার হয় কেমনে? 
Your true color is Pink. Your motto is Go, Go, Go! But you also know how to relax and recharge your batteries for the next big thing. You like to work hard, play hard, and nap
মন ভালো করে দেয়ার মত কথা। ফলে আরও দুটো টেস্টে পার্টিসিপেট করে ফেললাম। হোয়াট ইজ ইয়োর মেন্টাল এজ এবং হোয়াট এনিমেল আর ইউ। মেন্টাল এজ পাওয়া গেল ৩১। শরীরের বয়স এতটুকু হয় নাই, কিন্তু এটা ভালো হল না মন্দ হল - সেটা ঠিক বুঝতে পারলাম না।

আমি কি ধরনের জন্তু তার প্রশ্নের উত্তরে পাওয়া গেল বিভার। এই জন্তুটা বাস্তবে দেখেছি কিনা মনে পড়ে না, চিড়িয়াখানায় দেখে থাকলেও মনে করতে পারছি না। তবে বিভার কিরকম দেখতে সেটা জানি। হাইস্কুলে থাকতে স্কুলের গেটে পকেট ক্যালেন্ডার, স্টিকার ইত্যাদি নিয়ে বসত এক ফেরীওয়ালা। সবাই রেসলিং আর ক্রিকেটারদের ছবি সহ পকেট ক্যালেন্ডার কিনতো, একটু বখাটেরা কিনতো নগ্ন মেয়ের ছবি - এক টাকা ও দুই টাকা দরে। অনেক দেখে শুনে সেখান থেকে আমি মাত্র দুটো পকেট ক্যালেন্ডার কিনেছিলাম - একটি বিড়াল এবং একটি বিভার। সুতরাং বিভার কি জিনিস আমার ভোলার কথা নয়। বিভারের বৈশিষ্ট্যে ভালো ভালো কথা লেখা আছে। 
You are Beaver You are creative, practical and well-organized. If there is someone in need, you will not hesitate to offer a helping hand. Lucky those who have you as a friend, life partner or parent.
পড়ে আত্মতৃপ্তিতে ভোগা সহজতর হয়ে গেল। টেস্টগুলোর সব প্রশ্নের উত্তর দেয়া যেতে পারে না, কিন্তু তিনটে অপশনের মধ্যে সবচে কাছেরটি বেছে নেয়া যেতে পারে। যেমন আমাকে প্রশ্ন করেছে - জীবনের লক্ষ্য কি। কার-ক্যারিয়ার-মানি, নাকি আলটিমেট ফূর্তি, নাকি ফ্যামিলি-হোম-রেস্ট? তিনটের একটিও আমার জন্য খাটে না, কিন্তু প্রথম দুটোর তুলনায় তৃতীয়টি বেশী খাটে - সুতরাং উত্তর তাই দিলাম। 

সব মিলিয়ে পাওয়া গেল - গোলাপী বিভারের মেন্টাল বয়স ৩১।  আরও কিছু প্রশ্ন আছে - আগ্রহীরা চেষ্টা করে দেখতে পারেন। কুইজোনি ডট কম