সেন্টমার্টিনে জেলেরা মাছ ধরার জন্য ভিন্ন এক ধরনের পদ্ধতি অবলম্বন করে। তারা জাল নিয়ে সমুদ্রে ডুব দেয়। তারপর সেই জাল পুঁতে রেখে আসে প্রবাল-শৈবাল সমৃদ্ধ পাথুরে তলদেশে। পাথুরে দ্বীপ সেন্টমার্টিন্সের তলদেশে রয়েছে ছোট-বড় প্রচুর গুহা-গর্ত। এইসব গর্ত-গুহায় মাছেরা লুকায়, লুকায় সামুদ্রিক কচ্ছপসহ আরও বিভিন্ন প্রাণী। জালগুলো এমনভাবে বিছানো হয় যে, গর্তে-গুহায় লুকিয়ে থাকা মাছগুলো বের হয়ে আসার চেষ্টা করলেই জালে আটকা পড়ে। দ্বীপের উত্তর, উত্তর-পশ্চিম, পূর্ব ও পূর্ব-দক্ষিন দিকের প্রবালসমৃদ্ধ এলাকায় এভাবে জাল ফেলা হয়। বলাবাহুল্য, এসব জালে শুধু মাছ না, সামুদ্রিক কচ্ছপসহ নানা রকম সামুদ্রিক প্রাণীও ধরা পড়ে। 

কয়েকদিন পরের কথা। আগেরদিনের পুঁতে রাখা জাল টেনে তুলতে শুরু করলো জেলের দল। কিন্তু জালটা কোথাও যেন আটকে গিয়েছে, সবাই মিলে টানলেও কিছু করা যাচ্ছিল না। প্রথমদিকে বড় আকৃতির কোন কচ্ছপ মনে করেছিল জেলেরা, কিন্তু এত টানাটানির পরও যখন কিছু করা গেল না, তখন আরও বড় আকৃতির কোন মাছ সন্দেহ হল তাদের। পাশের জেলে নৌকাগুলোকে ডাকল হাত উচিয়ে, চেঁচিয়ে। একটি নৌকা এগিয়ে এল, কিন্তু জাল টেনে সরানো গেল না। এবার সাহায্যে এলো আরও একটি নৌকা, তারপর আরও একটি - জাল ছিড়ে যাওয়ার উপক্রম, কিন্তু টেনে তোলা যাচ্ছে না। শেষে বাধ্য হয়ে একজন ডাইভ দেবে বলে সিদ্ধান্ত নিল। লুঙ্গি কাছা মেরে যখন নামতে যাবে তখনই জাল একটু ঢিলে হল মনে হল। নতুন উদ্যমে জাল টানাটানি শুরু করতেই হাত দশেক দূরে ভুস করে একটি মাথা ভেসে উঠল, কেমন চায়নিজ চেহারার মুখ। নির্ঘাত কোন রাখাইন! সে কি করে ওখানে!!

জেলেরা যখন '*নির পুত' গালি দিতে যাবে তখনই ভুস করে ভেসে ওঠা মাথাটা কথা বলল - ভাইরে, এইবার ক্ষ্যামা দেন! সক্কালবেলা মাত্র বরিশাল থেকে পালিয়ে এদিক আসলাম - এমনে টানলে তিস্তার হাটুপানিতে বিমানটা ডোবানোর চেষ্টা ছাড়া আর উপায় থাকবে না - সেটাও কি বুচ্চেন না?