সোমবার, ৩১ মার্চ, ২০১৪

ক্রিকেটের গঠনমূলক সমালোচনা

টিভিতে ক্রিকেট খেলা দেখা হয় না। ওয়েবে বা রেডিও-তেও যে খুব ফলো করা হয়, তাও না। তবে খেলা চলাকালীন সময়ে ফেসবুক কিংবা টুইটারের হোমপেজ ঘুরে ঘুরে ক্রিকেট খেলা পড়া হয়। বিশেষ করে, টুইটারে ক্রিকেটের ধারাভাষ্য খুবই চমৎকার হয় - ধুর!, াল, মাইর! ইত্যাদি। পাশাপাশি - ফেসবুক এবং টুইটার - দুই জায়গাতেই এক্সপার্ট মন্তব্য পাওয়া যায় দর্শকদের কাছ থেকে। 

ওরে নিছে ক্যান আজকে?
অমুকরে বোলিং দিছে, এইবার ৩৬ রান দিবে!
তমুকরে দল থেকে বাদ দেয়া উচিত!
এই শালা খেলতে পারে না, লবিং এ দলে টিকে আছে 
ব্যাটিং অর্ডারে অমুককে তমুকের আগে নামালে আজকের ম্যাচটা ঠিকই জিততো।
ব্যাপারটা অস্বাভাবিক না। এইসব মন্তব্যের পেছনে ক্রিকেট দলের প্রতি প্রত্যাশা-ভালোবাসা ইত্যাদি টের পাওয়া যায়। তাসত্ত্বেও - এই মন্তব্যগুলো কেবলই মন্তব্য, গঠনমূলক কিছু নয়। একটু ভিন্নরকম কিছু চিন্তা করা যায়?

উপরের মন্তব্যগুলো রিঅ্যাকটিভ, ঘটনা ঘটে যাওয়ার পরে তারপর মন্তব্য করা হচ্ছে। যদি সেরকম না ঘটতো, তবে? মন্তব্যগুলো উল্টে যেতে পারে সেক্ষেত্রে। যেমন - 
অমুকরে আবারও বল দেয়া উচিত, সেই পারবে আরও দুইটা উইকেট ফেলতে। 
তমুককে আগামী ম্যাচেও ফিক্স করে ফেলা উচিত।
এই ব্যাটিং অর্ডারটাই ঠিক আছে, আগেরটা ভুল ছিল
প্রোঅ্যাকটিভ মন্তব্য কি করা যায়? খেলা শুরুর আগেই একজন ভালো দর্শক হিসেবে আমার চিন্তাভাবনাটা শেয়ার করতে পারি। আমি বলতে পারি - 
যে মাঠে খেলা হচ্ছে সেই মাঠের জন্য কিরকম বোলিং-কে গুরুত্ব দেয়া উচিত এবং কেন  
টিম সিলেকশন করার ক্ষেত্রে কোন কোন প্লেয়ারকে রাখা উচিত এবং উচিত না, এবং কেন
আজকের খেলা কতটা গুরুত্বপূর্ণ তার বিবেচনায় বোলিং-ব্যাটিং-ফিল্ডিং স্টাইল কিরকম হতে পারে এবং কেন
একটা কমন প্লাটফর্ম - যেমন কমিউনিটি ব্লগ, এমনকি সেটা বিসিবি-র ওয়েবসাইটেও হতে পারে - তৈরী করে সেখানে যদি এ ধরনের আলোচনা শুরু করা যায়, তবে একসময়, সেটা হয়তো খুব শীঘ্রই নয়, ক্রিকেটের নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষন করবে। কে বলবে না, সিদ্ধান্ত গ্রহণে এই ধরনের গঠনমূলক বক্তব্যগুলোও অনেক বেশী সহায়তা করবে।

এই লেখাটাও একটি রিঅ্যাকশনারী লেখা, জানি, তারপরও বলছি - শুরু করলেই এক সময় বড় কিছু হয়ে উঠার সম্ভাবনা তৈরী হয়। আমাদের ক্রিকেটের জন্য আমরা তো এরকম কিছু করতেই পারি, নাকি?

রবিবার, ৩০ মার্চ, ২০১৪

রাইজ অব ভেনজেন্স

ছুরি দিয়ে বুক ফেড়ে দেখি ওর কলিজা কত বড়, সাহস কত। ও আমার মতো মেয়ের সঙ্গে টিজ করে কোন সাহসে। 

 
সিনেমার সংলাপ নয়, বাস্তব ঘটনা। সংলাপ রচয়িতার নাম ফাতেমা আক্তার, বয়স ১৭। বলেছেন সাংবাদিক এবং পুলিশের উদ্দেশ্যে। ছুরি দিয়ে বুক ফেড়েছেন যে যুবকের তার নাম এমদাদুল হক শিপন, বয়স ২২। শিপন খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লিফটম্যান, পাশাপাশি খানজাহান আলী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মহাবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। ফাতেমার বক্তব্যানুযায়ী - তার মা খুলনা মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় শিপন তাকে টিজ করতো। পরে সে শিপনের সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলে এবং তাকে ঘুমের ঔষধের সাহায্যে ঘুম পাড়িয়ে হত্যা করে, ছুরি দিয়ে বুক চিড়ে কলিজা বের করে ফেলে। (মানবজমিন)











পুলিশের প্রহরায় ফাতেমা আক্তার

ইভটিজিং এর ঘটনা নতুন নয়। কিন্তু ইভটিজিং এর ঘটনায় হত্যাকান্ডের ঘটনা বেশ কম, বিশেষ করে ভিকটিম নিজেই যেখানে হত্যাকারী। শিপন হত্যাকান্ডের পেছনের ঘটনা কি ফাতেমা যা বলছে তাই, নাকি ভিন্ন কিছু সে সময়ের সাথে সাথে পরিস্কার হবে। ফাতেমার হুমকী - আমি বের হলে কোন ছেলে যদি এ ধরনের কাজ করে তাকেও খুন করবো  তার মানসিক সুস্থ্যতা সম্পর্কে প্রশ্ন তোলে। 

 

ঘটনার দিক থেকে চোখ সরালে নৃশংসতার দিকটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে। একটা সতেরো বছরের মেয়ে কিভাবে হত্যাকান্ড শুধু নয়, বুকে ছুরি চালিয়ে কলিজা বের করে নিয়ে আসার মত ঘটনা ঘটাতে সক্ষম হয় সেটা ভেবে দেখার প্রয়োজন আছে। সমাজে বিদ্যমান অস্থিরতা এবং আইন-শৃঙ্খলার বেহাল দশা এ ধরনের ঘটনার পেছনে কিছু ভূমিকা পালন করে। এছাড়া, সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ও স্পষ্ট হয়ে উঠে এ ধরনের ঘটনায়। ইভটিজিং এর ঘটনা এবং হত্যাকান্ডের মাধ্যমে প্রতিশোধ - দুটোই সামাজিক শিক্ষা এবং তার প্রয়োগের অভাবকে চিহ্নিত করে। 

 

কিছুদিন পূর্বেই একজন মা তার সন্তানকে ইভটিজারের হাত থেকে রক্ষার উদ্দেশ্যে হাসুয়া দিয়ে কুপিয়ে টিজারকে হত্যা করার ঘটনায় বেশ আলোড়ন তৈরী হয়। উক্ত ঘটনার সাথে ফাতেমার হত্যাকান্ডের একটি দিক খুবই ভালোভাবে মিলে যায় - দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে প্রতিহিংসাপরায়নতার ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। এ ধরনের ঘটনা যেন না ঘটে তার জন্য প্রতিকারমূলক সমাধানের চেয়ে প্রতিরোধমূলক সমাধান শ্রেয়। 

শনিবার, ২৯ মার্চ, ২০১৪

সৈকতের শিশু!


এই দুই শিশুর ছবি তোলার মূল্য হিসেবে দশটি টাকা ব্যয় করতে হয়েছে! 

তারা বসে ছিল সৈকতে একটি পরিত্যক্ত যাত্রী-নৌকার উপর, হাতে ক্রিম-বিস্কুট। এই দুই শিশু নয়, বরং পুরানো ভাঙ্গা নৌকাটাই ছবি তোলার বিষয় হিসেবে পছন্দনীয় ছিল। কিন্তু খেয়াল করলাম - আমি ছবি তোলার জন্য ক্যামেরা তাক করলেই এই দুই শিশু মাথা লুকায় - বিনামূল্যে তারা মডেল হতে আগ্রহী নয়। 

ফলে ভাব জমানোর চেষ্টার ফাঁকে ফাঁকে ক্যামেরা চোখে না রেখেই ছবি তোলা হল বেশ কিছু - এই ছবিটি সবচেয়ে স্পষ্ট!

শুক্রবার, ২৮ মার্চ, ২০১৪

বিস্কুটখেকো!


'দুইটা টাকা দিবেন?' - যে কোন জনপ্রিয় ট্যুরিস্ট স্পটে এই প্রশ্ন খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার, সুতরাং সেন্ট মার্টিন্স দ্বীপে এই প্রশ্ন শুনে আমার মধ্যে কোন ভাবান্তর হল না। আমি ছেলেটির দিকে তাকালাম, বছর চার পাঁচের বেশী না বয়স। 
'কি করবা টাকা দিয়ে?'
'বিস্কুট খাবো' - উত্তর শুনে আমি মোটামুটি ভিমড়ি খেলাম। এর আগে প্রায় সবাই হয় ভাত নয়তো রুটির কথা বলেছে - এই ছেলের ক্ষুধা বিস্কুটের। কেন? আল্লাহ মালুম! কথা বলার মুডে ছিলাম না, ফলে প্রশ্ন করা হয় নি। প্রথম দিনের ঘটনা।

তৃতীয় দিনে দল থেকে ছুট হয়ে একাকী সৈকতে বসে ছিলাম ঘন্টা তিনেক। সমুদ্র নয়, মানুষ দেখেছি - ক্লান্তিহীন। হঠাৎ 'দুইটা টাকা দিবেন, বিস্কুট খামু' শুনে তাকিয়ে দেখলাম সেই ছেলেটি। দীর্ঘ সময় ধরে মানুষ দেখে দেখে আমার মন তখন ফুরফুরে - আমি হেসে ফেললাম। 
'ওই, তুমি কি শুধু বিস্কুট খাও? পরশুদিনও তো বিস্কুট খাওয়ার জন্য দুইটাকা চাইছিলা - বিকেলে, বিচে! মনে আছে? আমি কিন্তু তোমারে চিনছি!'
ছেলেটা যতটা না অবাক হল তার চেয়ে বেশী লজ্জা পেয়ে গেল। সেন্টামার্টিন্সে কেউ যদি থাকে তো বড়জোর দুই দিন, এক রাত। দুই রাত শেষে তৃতীয় দিনে একই লোকের কাছে বিস্কুট চেয়ে ফেলেছে - এই লজ্জায় সে কুন্ঠিত হয়ে ছোট্ট হাসল, কিন্তু উত্তর দিল না। মিনিট দশেক আমি তার সাথে নানারকম মজা করার চেষ্টা করলাম - সে পুরো সময়ই নৈর্ব্যক্তিক আচরন করে গেল।

সেন্টমার্টিন্সে এই একটা বিষয় আমি ঠিক মিলাতে পারি নি। দ্বীপে টাকা রীতিমত উড়ছে। পর্যটকরা আসছে, সাধারণ সব জিনিস উচ্চমূল্যে কিনছে - কিন্তু এই দ্বীপে প্রচুর দরিদ্র মানুষ এবং প্রচুর শিশু ভিক্ষা করছে। উড়ন্ত টাকাগুলো যারা ধরছে তারা দ্বীপে রাখছে না, ফলে দ্বীপের এই অবস্থারও পরিবর্তন হচ্ছে না।

আরও ঘন্টা দুয়েক পরে। শিপে উঠবো বলে টিম থেকে একটু দূরে দাড়িয়ে আছি। হঠাৎ হাতে স্পর্শ পেয়ে তাকিয়ে দেখি - সেই ছেলেটা যার কেবল বিস্কুটের ক্ষুধা! সেন্টমার্টিন্সের মত ছোট্ট দ্বীপে আবারও দেখা হয়ে যাওয়া মোটেই অবাক হওয়ার মত ঘটনা নয়, কিন্তু সে আমাকে পরিচিতের মত হাত আচরণ করবে তেমনটা আশা করি নি। হেসে দিলাম তাকে দেখে? 'কি! দুই টাকা লাগবে বিস্কুটের জন্য?' সে হাসে, কিন্তু কথা বলে না। আমি পকেট থেকে যে দুইটাকার নোটটা দিলাম তার এক কোনা কলমের কালিতে কালো হয়ে আছে। অচল নোট বলে সে নোট ফিরিয়ে দিতে চায়। আমি তাকে বোঝাই - দুইটাকার নোটে কোন অচল নাই, কিন্তু সে ঝুঁকি নিতেও রাজী না। আমি একটি দশটাকার নোটের সাথে দুইটাকা মিলিয়ে বারোটাকা দিতে চাই, কিন্তু তাতেও সে দুইটাকা নিতে চায় না - বড় অদ্ভুত ছেলে!

টিমের বাকী সবাই শিপে উঠতে শুরু করেছে, এই ছেলের একটা ছবি ক্যামেরায় নিয়ে নেয়া প্রয়োজন। পকেটে হাত দিয়ে ক্যামেরা বের করতে করতে জিজ্ঞেস করলাম - 'নাম কি তোমার?'

এই প্রথম ছেলেটা প্রশ্নের উত্তর দিল - 'নাজমুল'! উত্তর শুনে আমি পকেট থেকে হাত বের করে ফেললাম, এই ছবিটা বাদ থাকুক!
(ছবি: ইন্টারনেট)

বৃহস্পতিবার, ২৭ মার্চ, ২০১৪

টিভির সামনে ছয়মাস!


জার্মানীর পুলিশ ৬৬ বছর বয়সী এক নারীকে উদ্ধার করেছে সম্প্রতি। ওই নারী গত ছয় মাস ধরে টেলিভিশন সেটের সামনে বসে ছিলেন - নট নড়ন চড়ন অবস্থায়। টিভিও চলেছে ছয়মাস ধরে। 



কিভাবে সম্ভব? কারণ ভদ্রমহিলা ছয় মাস আগে সোফায় বসেই মৃত্যুবরণ করেছেন। থাকতেন একাকী। তাই টিভি বন্ধ করার কেউ ছিল না। প্রতিবেশীদের নাকে অপ্রীতিকর গন্ধ গিয়েছে বটে, কিন্তু তারা গুরুত্ব দেন নি। গুরুত্ব দিয়েছেন বাড়িওয়ালা - কারণ মৃত ভদ্রমহিলার চিঠির বাক্স ভর্তি হয়ে গিয়েছিল! 



পুলিশ ভদ্রমহিলার পরিচয় গোপন রাখলেও দ্রমহিলার প্রায় 'মমি' হয়ে যাওয়া ছবি প্রকাশ করেছে। 

মা, তোর বদনখানি মলিন হলে

মা,
তোর বদনখানি মলিন হলে
আমরা নয়ন জলে ভাসি।

কিন্তু 
সবার নয়ন জলে 
যে তোর বদন মলিন করে
সে ভেসে যায় না।

আমরা
নয়নজলে ভেসে গেলেও
একতাবদ্ধ হই না
প্রতিবাদে মুখর হই না
তোর বদনখানি
পরেরবার মলিন হওয়ার জন্য
হাসিমুখে অপেক্ষা করি।

মা,
তুই আমাদের মত হতে পারিস না?
তোর বদনখানি মলিন হয় কেন?
আমাদেরও তবে
মিথ্যে নয়নজলে ভাসতে হয় না!

মঙ্গলবার, ২৫ মার্চ, ২০১৪

ভ্রমণব্লগ: হাতের মুঠোয় মেঘদল



গত রাতে ঘুমাতে গিয়েছি তৃপ্ত মন নিয়ে। 


২০১১ সালের সেপ্টেম্বরের দিকে বান্দরবান-কেওক্রাডং গিয়েছিলাম - আটজনে পাঁচদিনের ট্যুরে। ফিরে এসে চতুর্মাত্রিকে একটি সিরিজ ব্লগ লিখেছিলাম - 'হাতের মুঠোয় মেঘদল' শিরোনামে। গতকাল গুগল সার্চ করতে গিয়ে আবিষ্কার করলাম - ৬০ বছরের পুরোনা 'দৈনিক সংবাদ' আমার বিনানুমতিতে ওই সিরিজটা প্রকাশ করেছিল ২০১২ সালের ডিসেম্বরে - পরপর দুই সপ্তাহে, শুক্রবারের বিশেষ আয়োজনে। আলহামদুলিল্লাহ!

সিরিজ ভ্রমনব্লগ নিয়ে এতই উত্তেজিত ছিলাম যে পরে সবগুলো একত্র করে একটা ই-বুকও বানিয়ে ফেললাম।  গতকাল জ্যাকের অনুরোধে সেটা তাকে মেইল করে পাঠানো হল। সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি আমাকে ট্যাগ করে তার স্ট্যাটাস - তার পড়া অন্যতম সেরা ট্রাভেল এক্সপেরিয়েন্স (সে সব মিলিয়ে কতগুলো পড়েছে তা অবশ্য বলে নি!)

সক্কালবেলা মন ভালো।

 ই-বুকটা ডাউনলোড করতে চাইলে ক্লিক করুন এখানে

সোমবার, ২৪ মার্চ, ২০১৪

আম্মা!


আমি (মনে মনে) ছবির এই আম্মা'র কপালে একটি চুমু খেয়েছি। আম্মার নাম খাদিজা বেগম (৪৫), বাড়ি যশোর। গত কয়েকদিন ধরে তিনি পত্রিকার পাতায় ঘুরে ফিরে আসছেন। কারণ, তিনি একটি বড় দা (হাসুয়া) দিয়ে কুপিয়ে মফিজুর রহমান মফি নামের এক কুত্তার বাচ্চাকে খুন করে ফেলেছেন। খুন করা ছাড়া তার আর কোন উপায় ছিল না। তার ক্লাস এইটে পড়া মেয়েকে উত্যক্ত করে আসছিল মফি; থানায় জিডি, এলাকার মেম্বার, রাজনৈতিক নেতার কাছে সাহায্য চেয়েও আম্মা কোন সাহায্য পান নি। 


'মফি আমার বোনের ননদের মেয়েকে প্রথম বিয়ে করে। ঐ ঘরে তার চার মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। বড় মেয়ে কলেজে পড়ে। তারপরও সে কোটচাঁদপুরে গিয়ে আমার বোনের মেয়ে রুনাকে উত্ত্যক্ত করত। সেখান থেকে রুনার বাবা-মা রুনাকে আমার কাছে পাঠিয়ে দেয়। আমার বাড়িতে এসেও মফি তাকে বিরক্ত করত। একটা সময় রুনা বাধ্য হয়ে মফিকে বিয়ে করে। এরপর মফি আমার অষ্টম শ্রেণি পড়ুয়া মেয়েকে উত্ত্যক্ত করা শুরু করে। সে সাঙ্গপাঙ্গদের সঙ্গে নিয়ে মাঝেমধ্যেই বাড়িতে এসে শাসাত এবং বিয়ের জন্য চাপ দিত। এ অবস্থায় মাসখানেক আগে মেয়েকে আমার মেজ ছেলের ( রাজমিস্ত্রী) কাছে ঢাকায় পাঠিয়ে দেই। ঘটনার দিন মাগরিবের নামাজের পর কোরআন শরীফ পড়ছিলাম। এ সময় মফি ঘরে ঢুকে আমার মেয়ে কোথায় তা জানতে চায় এবং এখনই মেয়েকে তার হাতে তুলে দিতে বলে। এ সময় কৌশল করে রান্নাঘর থেকে বেটে রাখা মরিচ এনে মফির চোখে লাগিয়ে দেই। এরপর হাসুয়া (বড় দা) দিয়ে কুপিয়ে তাকে হত্যা করি।' - সাংবাদিকদের সাথে আম্মা বলেছেন এই কথা।

আম্মার শেষ কথাটা দামী - 'ইজ্জতের মালিক আল্লাহ। আল্লাই রক্ষা করবে। খুন করে আমি কোনো ভুল করিনি। আমার কষ্টটা আমার মত মায়েরাই একমাত্র বুঝতে পারবেন।'


আপডেট:
গত ২৩ মার্চ তারিখে লেখা পোস্ট এটি। আজ ১৩ এপ্রিল তারিখে আপডেট নিউজ পাওয়া গেল বাংলামেইল-এ। পড়ার সুবিধার্থে কপি-পেস্ট করছি।

একমাস কারাভোগের পর অবশেষে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন যশোরের আলোচিত মা খাদিজা বেগম। রোববার যশোরের জেলা ও দায়রা জজ ড. গোলাম মোর্তজা মজুমদার জামিন মঞ্জুর করলে সন্ধ্যায় কারাগার থেকে মুক্তি পান খাদিজা। 
গত ১২ মার্চ রাতে মেয়ের সম্ভ্রমরক্ষায় উত্যক্তকারীকে খুনের ঘটনায় তিনি আটক হয়েছিলেন। আদালতে খাদিজার পক্ষে মানবাধিকার সংস্থা ব্লাস্টের হয়ে শুনানিতে অংশ নেন বিশিষ্ট আইনজীবী কাজী আব্দুস শহীদ লাল এবং সংস্থাটির আইন কর্মকর্তা মোস্তফা হুমায়ুন কবীর।

রাষ্ট্রপক্ষে পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুল কাদের জামিনের বিরোধিতা করলে আসামি পক্ষের আইনজীবী মোস্তফা হুমায়ুন কবীর আদালতকে বলেন, ‘রাষ্ট্রের দায়িত্ব শুধু আসামির জামিনে বাধা দেয়া নয়। মেয়ের সম্ভ্রম রক্ষাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব।’ এক পর্যায়ে আদালত ১০ হাজার টাকা জামিনে অ্যাড. কাজী আব্দুস শহীদ লাল ও অ্যাড. মোস্তফা হুমায়ুন কবীরের জিম্মায় জামিন মঞ্জুর করেন। এর আগে বেলা ১১ টার দিকে খাদিজার মুক্তির দাবিতে শহরতলীর ভেকুটিয়ার মানুষ বিক্ষোভ মিছিল শেষে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে স্মারকলিপি দেন।

গ্রামবাসীর দাবি, শুধু খাদিজা নয়, মেয়ের সম্ভ্রম বাঁচাতে গোটা গ্রামবাসীই পিটিয়ে মেরেছে মফিজুরকে। তাই আটক করতে হলে সবাইকেই আটক করা হোক।

রবিবার, ২৩ মার্চ, ২০১৪

ভোঁদর দিয়ে মাছ ধরা




মাছ ধরার ছোট্ট নৌকাটায় সব মিলয়ে জেলের সংখ্যা চারজন। নৌকার উপর বাঁশের তৈরী একটি খাঁচা। খাঁচার ভেতরের চার পাঁচটে ভোঁদর। নদীর তীরের দিকে জঙ্গলমত এলাকা, নৌকাটা সেদিকেই ভিড়ল। তারপর বড় বাঁশের সাথে লাগানো বড় জালটি নদীতে বিছিয়ে দেয়া হল। জালের অন্যপ্রান্ত নৌকাতে। 
ভোদরগুলোকে ছেড়ে দেয়া হল এবার। ঝাপ দিয়ে পানিতে পড়ল কুচকুচে কালো শরীরের বিভিন্ন আকৃতির পাঁচটে ভোঁদর। তাদের পেটে পাটের রশি বাঁধা। সেই রশির অন্য প্রান্ত দুটো লম্বা বাশের আগায় বাঁধা, বাঁশ দুটো দুজন জেলের হাতে, তারা নৌকার দু'প্রান্তে দাড়িয়ে। প্রশিক্ষিত ভোঁদরগুলো ডুব দিয়ে নদীর মাছগুলোকে তাড়িয়ে জালের দিকে নিয়ে আসতে লাগল। কিছু সময় পরে জাল বাঁধা বাঁশ টেনে নৌকায় জালটি তুলতেই দেখা গেল ভেতরে নানা ধরনের মাছ, চিংড়ি, কাকঁড়া। 
ভোঁদর দিয়ে মাছ ধরার এই পদ্ধতি পুরোনো কিন্তু অপ্রচলিত পদ্ধতি। একসময় এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এই পদ্ধতিতে মাছ ধরা হলেও - প্রায় সব দেশ থেকেই হারিয়ে গিয়েছে ভোঁদর দিয়ে মাছ ধরার এই অভিনব পদ্ধতিটি। বাংলাদেশের দক্ষিনাঞ্চলে বিশেষ করে সুন্দরবন এলাকায় এই পদ্ধতিতে এখনো মাছ ধরা হয়। তবে, দিনকে দিন এদের সংখ্যা কমছে। 
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যার অধ্যাপক মোহাম্মদ মোস্তফা ফিরোজ গত প্রায় ২৫ বছর ধরে ভোঁদরের সাহায্যে মাছ ধরা বিষয়ে গবেষনা করছেন। বর্তমানে মাত্র শ-দেড়েক পরিবার ভোঁদরের সাহায্যে মাছ ধরছে বলে জানিয়েছেন তিনি। নদীতে মাছের প্রাকৃতিক উৎপাদন কমে যাওয়া এর অন্যতম প্রধান কারণ। পাশাপাশি - বংশপরম্পরায় জেলে পেশার প্রতি উৎসাহিত না হওয়াটাও কারণ হিসেবে বড় ভূমিকা পালন করছে। 
ভোঁদরের সাহায্যে মাছ ধরার এই ছবিগুলো তুলেছেন এএফপির ফটোগ্রাফার মনিরুজ্জামান। গত কয়েকদিনের বিভিন্ন ইন্ট্যারন্যাশনাল ডেইলিতে নড়াইল থেকে গত ১১ মার্চ ২০১৪ তারিখে তোলা ছবিগুলো সহ ভোঁদরের সাহায্যে মাছ ধরার বিলুপ্তপ্রায় পদ্ধতি নিয়ে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে - এই স্ট্যাটাসটি সেই রিপোর্টেরই সারসংক্ষেপ।

শুক্রবার, ২১ মার্চ, ২০১৪

নিম্নবিত্তের স্বপ্ন-পূরণ!

এই ব্যক্তির নাম জাবেদ। সে একজন পাওয়ারফুল লোক হতে চায় যে কিনা সমাজের দূর্ণীতিগ্রস্থ লোকদের শাস্তি দিবে।

মটরবাইকে হেনা, পেছনে কামরুল। বোধহয় বলিউড-টলিউডের কোন ছবির দৃশ্য তাদের পছন্দ ছিল।

টিপুর বয়স সতেরো, বাংলাদেশী সিনেমার ভক্ত। সিনেমার কোন এক নায়িকাকে চুমু খাওয়ার শখ পূরণ করছে সে।

ফটোগ্রাফার হেলাল চুমকিকে বলেছিল ব্যাকড্রপের সামনে এমন কোন পোজ দিতে যা তার অপূরণীয় স্বপ্নকে কিছুটা হলেও পূরণ করবে। চুমকি তার বিমানে করে বিশ্বভ্রমণের পোজ দিয়েছে।

Zonoiko Arafat ভাইয়ের কল্যাণে সিএনএন এর এক ফটোগ্যালারীতে ঢোকার সুযোগ হল। সামশুল আলম হেলাল নামের একজন ফ্রিল্যান্স ফটোগ্রাফার ছবিগুলো তুলেছেন। তিনি থাকেন ঢাকার জুরাইনে। তার আশেপাশে যে লোকগুলো থাকে তারা দরিদ্র-শ্রেণীর, জীবন-সংগ্রামে রত। মানুষগুলোর জীবনে কিছু শখ আছে, কিন্তু সংগ্রাম থেকে ছুটি নিয়ে সেই শখ পূরণ করার ক্ষমতা তাদের নেই। জুরাইনে একটি প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়া স্টুডিওর মালিকের সাথে কথা বলে ফটোগ্রাফার হেলাল সেই মানুষগুলোর শখ পূরণ করার চেষ্টা করেছেন। তিনি চিত্রশিল্পী দিয়ে নানা ধরনের ছবি আঁকিয়েছেন, তারপর সেগুলোকে ব্যকড্রপ হিসেবে ব্যবহার করে ছবি তুলেছেন। মোট চৌদ্দটি ছবি আছে গ্যালারীতে। প্রত্যেকটা ছবির জন্য আছে একটি করে গল্প। সেই গল্প জানতে হলে সিএনএন এর মূল লিংকে যাওয়া ছাড়া উপায় নেই। লিংক মন্তব্যের ঘরে।

টুইটারে খেলা দেখা!

বাচ্চাকালে রেডিওতে ক্রিকেট খেলা শুনেছি। 

আরেকটু বড় হওয়ার পর, যখন ডিশ অ্যান্টেনা আসল, তখন থেকে টিভিতে খেলা দেখা শুরু। 

বছর কয়েক ধরে চব্বিশ ঘন্টা ইন্টারনেটের সাথে কানেক্টেড হওয়ার পর ক্রিকিনফোতে ক্রিকেট খেলা পড়েছি।

ফেসবুকে ক্রিকেট দেখা এবং পড়া শুরু প্রায় একই সময়ে। 

আজ থেকে টুইটারে ক্রিকেট খেলা পড়া শুরু করলাম। মন্দ না!

সোমবার, ১৭ মার্চ, ২০১৪

মালয়েশিয়ার বিমান সেন্টমার্টিন্সে!



সেন্টমার্টিনে জেলেরা মাছ ধরার জন্য ভিন্ন এক ধরনের পদ্ধতি অবলম্বন করে। তারা জাল নিয়ে সমুদ্রে ডুব দেয়। তারপর সেই জাল পুঁতে রেখে আসে প্রবাল-শৈবাল সমৃদ্ধ পাথুরে তলদেশে। পাথুরে দ্বীপ সেন্টমার্টিন্সের তলদেশে রয়েছে ছোট-বড় প্রচুর গুহা-গর্ত। এইসব গর্ত-গুহায় মাছেরা লুকায়, লুকায় সামুদ্রিক কচ্ছপসহ আরও বিভিন্ন প্রাণী। জালগুলো এমনভাবে বিছানো হয় যে, গর্তে-গুহায় লুকিয়ে থাকা মাছগুলো বের হয়ে আসার চেষ্টা করলেই জালে আটকা পড়ে। দ্বীপের উত্তর, উত্তর-পশ্চিম, পূর্ব ও পূর্ব-দক্ষিন দিকের প্রবালসমৃদ্ধ এলাকায় এভাবে জাল ফেলা হয়। বলাবাহুল্য, এসব জালে শুধু মাছ না, সামুদ্রিক কচ্ছপসহ নানা রকম সামুদ্রিক প্রাণীও ধরা পড়ে। 

কয়েকদিন পরের কথা। আগেরদিনের পুঁতে রাখা জাল টেনে তুলতে শুরু করলো জেলের দল। কিন্তু জালটা কোথাও যেন আটকে গিয়েছে, সবাই মিলে টানলেও কিছু করা যাচ্ছিল না। প্রথমদিকে বড় আকৃতির কোন কচ্ছপ মনে করেছিল জেলেরা, কিন্তু এত টানাটানির পরও যখন কিছু করা গেল না, তখন আরও বড় আকৃতির কোন মাছ সন্দেহ হল তাদের। পাশের জেলে নৌকাগুলোকে ডাকল হাত উচিয়ে, চেঁচিয়ে। একটি নৌকা এগিয়ে এল, কিন্তু জাল টেনে সরানো গেল না। এবার সাহায্যে এলো আরও একটি নৌকা, তারপর আরও একটি - জাল ছিড়ে যাওয়ার উপক্রম, কিন্তু টেনে তোলা যাচ্ছে না। শেষে বাধ্য হয়ে একজন ডাইভ দেবে বলে সিদ্ধান্ত নিল। লুঙ্গি কাছা মেরে যখন নামতে যাবে তখনই জাল একটু ঢিলে হল মনে হল। নতুন উদ্যমে জাল টানাটানি শুরু করতেই হাত দশেক দূরে ভুস করে একটি মাথা ভেসে উঠল, কেমন চায়নিজ চেহারার মুখ। নির্ঘাত কোন রাখাইন! সে কি করে ওখানে!!

জেলেরা যখন '*নির পুত' গালি দিতে যাবে তখনই ভুস করে ভেসে ওঠা মাথাটা কথা বলল - ভাইরে, এইবার ক্ষ্যামা দেন! সক্কালবেলা মাত্র বরিশাল থেকে পালিয়ে এদিক আসলাম - এমনে টানলে তিস্তার হাটুপানিতে বিমানটা ডোবানোর চেষ্টা ছাড়া আর উপায় থাকবে না - সেটাও কি বুচ্চেন না?

একজন সৈয়দ সালাউদ্দিন জাকী

[caption id="attachment_2101" align="alignleft" width="580"]zaki_bg_125279977 ঘুড্ডি নামের রোমান্টিক সিনেমার পরিচালক তিনি। বিটিভির সাবেক মহাপরিচালক এবং এসএ টিভির বর্তমান সিইও - তিনি সৈয়দ সালাউদ্দিন জাকী। (ছবি: বাংলানিউজ)[/caption]

বাংলাদেশের সেরা রোমান্টিক চলচ্চিত্রগুলোর তালিকা তৈরী করুন - ১৯৮০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র 'ঘুড্ডি'কে তালিকা থেকে বাদ দিতে পারবেন না। 'ঘুড্ডি' চলচ্চিত্র যদি চিনতে না পারেন তবে ঘুড্ডি সিনেমার একটি গানকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই - লাকী আখন্দের সুরে, হ্যাপী আখন্দের কন্ঠে মুখ মিলিয়ে উদোম গায়ে শশ্রুমন্ডিত এক যুবক তার প্রেমিকাকে নিয়ে সমুদ্র সৈকতে নেচে নেচে গায় -



আবার এলো যে সন্ধ্যা, শুধু দু’জনে
চলো না ঘুরে আসি অজানাতে
যেখানে নদী এসে থেমে গেছে।।

শনিবার, ১৫ মার্চ, ২০১৪

নদীর মৃত্যুতে ফলাফল

এক মাস আগেও নন্দকূঁজা নদীতে পানি ছিল। জেলেরা নৌকায় মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।এখন পানি না থাকায় জেলেদের জীবিকার বাহন নৌকা ও খড়া জাল শুকনায় পড়ে রয়েছে। ছবিটি বৃহস্পতিবার শুরুদাসপুর পৌরসভার কাচারিপাড়া থেকে তোলা : নয়া দিগন্ত
নন্দকুঁজা, গুমানী, গুড়, বড়াল, তুলসী চেঁচিয়া, ভাদাই, চিকনাই, বানগঙ্গা - এই শব্দগুলো কিসের পরিচায়ক বলতে পারেন? এগুলো নদীর নাম, বাংলাদেশের বিলুপ্তপ্রায় নদীগুলোর কয়েকটি। এই নদীগুলো চলনবিল এলাকায় অবস্থিত। বিলুপ্তপ্রায় এই নদীগুলোর সাথে আরও দুটো নদীর নাম আছে - ওগুলো অপেক্ষাকৃত বেশী পরিচিত - আত্রাই এবং করতোয়া! এই নদীগুলো সহ মোট ১৬টি নদীতে নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়েছে। নৌযানের অভাবে বন্ধ হয়েছে ছোট বড় অনেকগুলো নৌবন্দর - গুরুদাসপুরের চাঁচকৈড়, নাজিরপুর, সিংড়ার, বড়াইগ্রামের আহম্মেদপুর, তাড়াশের ধামাইচ, নাদোসৈয়দপুর, চাটমোহরের ছাইকোলা, অষ্টমণিষা, মির্জাপুর ভাঙ্গুড়া ইত্যাদি।
একটা নদী মরে গেলে সাথে সাথে আরও কতকিছু মরে যায় - খাল, নদীবন্দর, নৌকা, মাঝি, নৌকাবাইচ, বেদেবহর আরও কত কি। আর মারা যায় গান - মাঝি বাইয়া যাও রে ....
নদীর গান মরে গেলে সেখানে ভ্যাকুয়াম তৈরী হয় - সেই খালি জায়গায় বাজে আকনের 'ছাম্মোক ছালো', 'আই ওয়ানা ফাক ইউ!'

শুক্রবার, ১৪ মার্চ, ২০১৪

ফোকাস


 
আমি চশমা পড়ি না। যারা চশমা ব্যবহার করেন চশমা ছাড়া তাদের কেমন লাগে তা জানার ব্যাপারে আমার বিস্তর আগ্রহ ছিল। ২০০৫ এর আগে আমি বহু মানুষকে জিজ্ঞেস করেছি - চশমা ছাড়া কিরকম দেখতে পান? দু'ধরনের উত্তর পেয়েছি। কেউ কাছের জিনিস দেখতে পান না, কিন্তু দূরের জিনিস দেখতে পান, বাকীরা উল্টো। পুরো ব্যাপারটাই আমার কাছে খুবই বিস্ময়কর। একই ব্যক্তি কিভাবে কাছের জিনিস দেখতে পান না অথচ দূরের জিনিস দেখতে পান? ২০০৫ সালে রাব্বুল আলামীন আমাকে এই অবস্থা থেকে মুক্তি দেন। আমার 'চোখ উঠে'।

চোখ উঠা রোগে সুস্থ্য হতে ওষুধ খেলে সাতদিন আর না খেলে একসপ্তাহ লাগে - আমার  তিন সপ্তাহ পরেও চোখ ঠিক হল না। এবার চোখের ডাক্তারের কাছে গেলাম - অ্যাটেন্ডেন্ট ভদ্রমহিলা আমার চোখে চশমা পড়িয়ে এক চোখ ঢেকে দিয়ে দূরে রাখা চার্ট পড়তে দিলেন - আমি পৃথিবী সমান বিস্ময় নিয়ে আবিস্কার করলাম - চার/পাঁচ সারি বিভিন্ন আকৃতির বর্ণমালার দেড় সারি পর্যন্ত আমি দেখতে পারি, বাকীটা ঝাপসা! চোখে আলসার হয়ে গিয়েছিল - আরও তিন সপ্তাহ মলম ও ট্যাবলেট সেবন শেষে আমি বোর্ডের সব অক্ষর স্পষ্টভাবে দেখতে শুরু করেছিলাম। লাল চোখ ঘষতে গিয়ে আমার চোখের ফোকাসিং রিংটা উলট পালট হয়ে কিছু অংশ আউট-অব-ফোকাসে চলে গিয়েছিল, ডাক্তারের সহায়তায় আবার ফোকাস ঠিক করা গেল।

ফোকাস করার এই ব্যাপারটা ২০০৭ এ পুরোপুরি স্পষ্ট হয়ে যায় - ক্যামেরার প্র্যাকটিক্যাল ক্লাস করতে গিয়ে। ফ্রেমের নির্দিষ্ট অংশের প্রতি দর্শকের মনযোগ আকর্ষনের জন্য 'ফোকাস' খুব ভালো একটি উপায়। ফ্রেমের পুরোটা ব্লার থেকে যাবে, কিন্তু পরিচালকের পরিকল্পনানুযায়ী একটি নির্দিষ্ট অংশ স্পষ্ট থাকবে - দর্শকও সেদিকেই তাকিয়ে থাকবে - পরিচালকের উদ্দেশ্য সফল হবে। ক্যামেরার এই 'ফোকাস' এর ব্যবহার জীবনের ক্ষেত্রেও বহুল ব্যবহৃত।

জীবনের লক্ষ্য কি হবে, কি করতে চাই, কি হতে চাই - ইত্যাদি মিলিয়ে জীবনের ফোকাস। ঠিক এইম ইন লাইফ নয়, কারণ রচনায় এইম ইন লাইফের নানাবিধ উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করা হলেও বাস্তবে বেশীরভাগ, প্রায় সবারই,  এইম ইন লাইফ হল - এটিএম মেশিন হওয়া, খোঁচা দিলেই যেন টাকা পড়ে। ফোকাস ব্যাপারটা আরেকটু ভিন্ন কিছু। এটিএম মেশিন হতে হলে কি করতে হবে, এটিএম মেশিন হওয়ার পরে কি করা হবে, কেন করা হবে ইত্যাদি মিলিয়ে জীবনের ফোকাস, এটিএম মেশিন ওই ফোকাস নিখুঁত করার একটি উপায় হতে পারে।

একটি প্রেম করা, কিংবা একটি সরকারী চাকরী পাওয়া জীবনের ফোকাস হতে পারে না। তেমনি একটি প্রেম করা, একটি সরকারী চাকরি পাওয়া, একটি বাড়ি করা, একটি কোম্পানির ডিরেক্টর হওয়া - ইত্যাদিও ফোকাস হতে পারে না। এর সাথে বরং অ্যামেচার ফিল্মমেকারদের ডিএসএলআর ক্যামেরায় ইচ্ছেমত ফোকাস-ব্লার করার সাথে মিলে যায়। একটু ভেবে নেয়া উচিত - সেট ইয়োর ফোকাস, দেন রান ইয়োর ফিল্ম।

ফোকাস ঠিক করার পরও নানা কারণে ফোকাস রিং নড়েচড়ে যেতে পারে, সেট করা ফোকাস ব্লারড হয়ে যেতে পারে। জীবনের সেই সময়টা খুব কঠিন, অসহ্য। কিভাবে সামলে উঠে রি-ফোকাস করতে হবে জানি না এখনো, ফলে ডি-ফোকাসড হয়ে হাতড়ে ঘুরছি আপাতত। ফোকাসড হতে পারলে জানিয়ে দেবো।

হাঁটা বাবার মৃত্যু ও ভবিষ্যত

তার আসল নাম হায়দার, মোহাম্মদ জুলফিকার হায়দার। অবশ্য এই নামে তাকে চেনার কথা না, 'হাঁটা বাবা' বললে অনেকে চিনে থাকবেন। ঢাকার ধানমন্ডির আশেপাশের রাস্তায় দাড়ি-গোঁফের জঙ্গল নিয়ে অত্যন্ত ময়লা পোশাকে খাটো করে যে লোকটাকে পেছনে মানুষের দীর্ঘ সারি নিয়ে ধীরপদে চলতে দেখেছেন - উনিই 'হাঁটা বাবা'। কত বছর ধরে হাঁটছেন জানি না, তবে ভক্ত আমিনুল তার পেছনে হেঁটেছেন প্রায় ষোল বছর। হাঁটা বাবার পেছনে সারি বেঁধে হাটার এই সুযোগ ফুরিয়েছে আমিনুলের - গতকালকে। জাতীয় হৃদরোগ হাসপাতালে মারা গেছেন 'হাঁটা বাবা', বয়স হয়েছিল ৯৪/৯৫ বছর।

'হাঁটা বাবা'র মৃত্যুতে বড় এক সমস্যা তৈরী হয়েছে। যেই বাবা হাঁটতেন, তিনি মৃত্যুতে স্থির হয়েছেন - সুতরাং পেছনে যে ভক্তকূল হাঁটতেন, তাদেরও স্থিরতার প্রয়োজন, সে কারণে একটি মাজারও প্রয়োজন। 'হাঁটা বাবা'র কবর অবশ্য গাড়িতে হওয়াই যুক্তিযুক্ত, কিন্তু ভক্তবৃন্দ সে চিন্তা করেন নি বোধহয়। ফলে মোহাম্মদপুরে কবরের স্থান নির্ধারনের জন্য শেষ পর্যন্ত র‌্যাব-দাঙ্গাপুলিশ-প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন হয়েছে। মাঠের মাঝখানে কবর হবে, নাকি দেয়ালের দিকে - এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ - কারণ পরবর্তীতে মাজার কত বড় হবে - সেই সিদ্ধান্ত এখনই নেয়া প্রয়োজন।

অন্যথায়, গুলিস্তানের মাজার যেমন মাইনকার চিপায় পড়েছে, 'হাঁটা বাবা'র মাজারও সেই চিপায় পড়তে পারে। তবে আশার কথা হচ্ছে - সরকার যেভাবে গুলিস্তানের মাজারকে সম্প্রসারণের সুযোগ করে দিয়েছে, হাঁটা বাবার কবর মাঠের মাঝে হোক বা চিপায়, সম্প্রসারণের জন্য সরকারের উপর নির্ভর করাই ভালো হবে।

যারা 'হাঁটা বাবা'র ভক্ত হতে চান, তারা এখনই উদ্যোগ নিন। এমনিতেই আমিনুলের চেয়ে ষোল বছর পিছিয়ে আছেন, আরও দেরী করলে কত লক্ষ লোকের চেয়ে পিছিয়ে থাকবেন কে জানে!

(ছবি: বাংলানিউজ২৪)

বৃহস্পতিবার, ১৩ মার্চ, ২০১৪

জমজদের নিয়ে অলস খেলা


ভদ্রমহিলার দুটো মেয়ে। দুটোই জমজ। তাদের একজনের নাম নিতু, অন্যজন মিতু। প্রিথিবীর বেশিরভাগ জমজ সন্তানের মতো তাদের পোশাক একই - কালো কামিজ, সাথে লাল সেলোয়ার। তাদের দুজনেরই চুল বেণী করা। দুজনেই বেণী বাম দিক থেকে ঘুরিয়ে সামনে নিয়ে এসেছে। তাদের দুজনের চোখে কালো ফ্রেমের চশমা। কানে টপ, ঝিকমিক পাথর। এরা মনের আনন্দে খোলা জায়গায় ঘুরে ফিরে বেড়াচ্ছে। তাদের অগোচরে আমি একাকী একটি খেলা খেলছি - নিতু - মিতুকে আলাদা করার খেলা। 

খেলার নিয়ম সহজ। অন্যদিকে তাকিয়ে থাকতে হবে কিছুক্ষণ, তারপর তাদের দিকে তাকিয়েই মনে মনে বলতে হবে কে নিতু! উত্তরের জন্য একটু সময় অপেক্ষা করতে হবে। ছোট বোন মিতু, সে একটু পর পর 'আপু' বলে ডাক দেয়ামাত্র উত্তর যাচাই। সঠিক উত্তরের জন্যে একটা করে কলা, ভুল উত্তরের জন্য কলা ফেরত। 

আমার কাছে আছে এক হালি কলা। যোগ বিয়োগ শেষে সেগুলো আটটি কলায় দাড়িয়েছে। সত্যিকারের সঙ্খা বাড়েনি, তবে তাতে আমার খেলতে সমস্যা হচ্ছে না। কলার সঙ্খা এগারো হতেই ঝামেলা হয়ে গেলো। মিতু ব্যাগ থেকে একটা মেহেদির টিউব বের করেছে, সেই টিউব থেকে সরু মেহেদির রেখা নিতুর বাম হাতে আল্পনা আঁকছে। আমি খেলায় বিরতি নিলাম। একটু পর মিতুর হাতেও আল্পনা আকা হবে, তখন আবার খেলা শুরু করা যাবে। আপাতত অন্য কোনো খেলা খুজেঁ বের করতে হবে।

বুধবার, ১২ মার্চ, ২০১৪

সেন্টমার্টিন্সের মৃত কচ্ছপ



ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক চ্যানেল ছাড়া এত বড় কচ্ছপ এর আগে দেখেছি বায়েজিদ বোস্তামীর মাজারে। ওগুলো পোষা - ভক্তদের পাউরুটির উপর নির্ভর করে বেঁচে আছে। ছবির এই কচ্ছপ সামুদ্রিক। মৃত। সেন্টমার্টিনে দুই দিনে আমি দেখেছি দুটো মৃত কচ্ছপ।Mohammad Arju বলেন, দ্বীপটি ঘিরে গভীর সাগর জলের তলদেশে প্রাণ ও প্রকৃতির বিপন্ন অবস্থা। অনেকদিন সৈকতে আমাদের দেখতে হয়েছে বিপন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক কচ্ছপ ও ডলফিনের মৃতদেহ। যারা জীবিত আসে সৈকতে, ডিম পাড়তে তাদেরও নিস্তার নেই। দ্বীপে এমন পরিবেশ বিধ্বংসী পর্যটন গড়ে উঠেছে, নানা কৃত্রিম কাঠামো, অনেক বেশি আলো, ডিজেল জেনারেটরের শব্দ ও লাউড স্পিকারের কান ফাটানো আওয়াজে ডিম পাড়তে আসা কচ্ছপের পরিমাণ কমে যাচ্ছে। অনেক হোটেল মালিক নিজেদের সুবিধার জন্য সাগর থেকে পাথর তুলে এনে নিচু দেয়ালের মতো গড়ছে সৈকতে, যার কারণে বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে কচ্ছপরা।

ছেড়াদ্বীপে যাওয়ার পথে চোখে পড়ল টার্টল হ্যাচারী। বেশ বড় জায়গার উপর চমৎকার জঙ্গলের ভিতরে এক-দুই তলা লাল ইটের বাড়ি। কচ্ছপ রাখার জন্য একটা খাঁচাও চোখে পড়ল, কচ্ছপ পাওয়া গেল না। মানুষজনও না। জায়গাটা পরিত্যাক্ত। আরজু ভাই যদি এ বিষয়ে কিছু বলতে পারে।


সৈকতে কাঁকড়া ভক্ষণ

বুফে-তে খেতে গেলে যে আইটেমের খোঁজ করি এবং খাই সেটা হল কাঁকড়া। ভালো ভাজা কাঁকড়া বিস্কুটের মত মড়মড় শব্দ তোলে - স্বাদটা যে আসলে কিরকম ঠিক স্পষ্ট করে বোঝাতে পারবো না। সমুদ্রের তীরে সবসময়ই কাঁকড়া ভেজে বিক্রি করতে দেখি, কিন্তু কখনো খাওয়া হয় নি।

শুক্রবার, ৭ মার্চ, ২০১৪

পিটুনি খাওয়ার পর


বাচ্চাকালের কথা।
মনিরকে পিটুনি দিছে তার মা। মনির হাত পা ছিটিয়ে কান্নাকাটি করছে এমন সময় তার বাবা বাসায় ফিরলেন। কান্নারত মনিরকে জিজ্ঞেস করলেন - কি হয়েছে বাবা?
মনির বলল - তোমার বউয়ের সাথে থাকা সম্ভব না, নিজের একটা দরকার!

বুধবার, ৫ মার্চ, ২০১৪

টুইটারে দেখা গেল


ইদানিং একটা বদঅভ্যাস হয়েছে। পেটের ভিতর গুড় গুড় করলে টুইটারে গিয়ে একটা টুইট করে আসি - গুড় গুড় বন্ধ হয়। মাঝে মাঝে গুড় গুড় গুড় করলে বাংলাদেশ ট্রেন্ড-এ ক্লিক করে একটু ঢু মেরে আসি। আজকেও গুড় গুড় গুড়, তাই বাংলাদেশ ট্রেন্ডে গেলাম। পাকিস্তানি আর ইন্ডিয়ানরা ধুমায়া টুইট করছে - কারণ স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ আর পাকিস্তানের খেলা চলছে। টুইটগুলো পড়ে কিছু সাধারণ ব্যাপার লক্ষ্য করা গেল। 

১. বাংলাদেশীদের প্রতি পাকিস্তানিদেরও ঘৃণা আছে। বেশ কিছু টুইটে ভারতের পাশাপাশি বাংলাদেশকে ঘৃণা করা হয়েছে। এক ভদ্রমহিলা বাংলায় টুইট করেছে - 'বাংলাদেশ তোমাকে যৌনসঙ্গম'। স্পষ্ট বোঝা যায় - ফাক ইউ বাংলাদেশ-কে ট্রান্সলেটর ব্যবহার করে এই টুইটের জন্ম। 


২. ভারতীয়দের মধ্যে 'বড়ভাই' সুলভ মনোভাব ভালোমাত্রায় কাজ করে। এদের বেশীরভাগেরই বিশ্বাস - ১৯৭১ সালে তারা পাকিস্তানের হাত থেকে আমাদের রক্ষা করেছে এবং আমাদের উচিত এর প্রতিদান দেয়া, এমনকি বাংলাদেশ-পাকিস্তানের খেলায় পাকিস্তানকে হারিয়ে ভারতের উপকার করে হলেও। 

আনফরচুনেটলি - এইসব টুইটের বিপরীতে ঘৃণা-বিদ্বেষের প্রকাশ না করে প্রতিবাদ করা এবং বাংলাদেশকে রিপ্রেজেন্ট করা টুইট কম।