image_44450_0

১. 
নিকাহনামা বা কাবিননামার ৫ নং পয়েন্টে প্রশ্ন করা হয়েছে - কন্যা কুমারী, বিধবা অথবা তালাকপ্রাপ্তা নারী কিনা? পাশে শূন্যস্থান পূরনের জন্য ফাঁকা জায়গা। ইংরেজি ফরমে কুমারীর ইংরেজি আছে Maiden, তাকে বাংলায় ট্রান্সলেট করে করা হয়েছে 'কুমারী'। মেইডেন বলতে অবিবাহিত নারীকে বোঝায়, কুমারী বলতেও তাই বোঝাতো যখন ট্রান্সলেট করা হয়েছিল। একালে অবশ্য ভিন্ন অর্থ। ফরম পূরণে গোলমাল লেগে না গেলে হয়।
২.
বরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট হল ১৩ এবং ১৭। ১৩ তে দেনমোহরের পরিমান এবং ১৭তে বিশেষ শর্তাদি প্রসঙ্গে বলা আছে। আমার হাতে যে কাবিননামার ফটোকপি, সেখানে স্ত্রীর খোরপোষ সম্পর্কে বলা হয়েছে - সময় অনুপাতে হবে এবং ভদ্রোচিতভাবে আদায়যোগ্য!
৩.
১৮ নম্বর পয়েন্টে স্বামী স্ত্রীকে তালাক দেয়ার ক্ষমতা প্রদান করেছে কিনা সে প্রসঙ্গে বলতে হবে। যদি প্রদান করে, তবে কি কি শর্তে সেটাও উল্লেখ করার জন্য কয়েক লাইন ফাঁকা জায়গা। এখানে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হল - স্বামী স্ত্রীকে তালাক দেয়ার ক্ষমতা প্রদান করুক বা না করুক - রেজিস্ট্রার সেখানে অবশ্যই 'হ্যা, করিয়াছেন' লিখে দেবে। অফ দ্য রেকর্ডে হয়তো বলেও দেবে - এই কথা না লিখলে তার রেজিস্ট্রেশনই বাতিল হয়ে যাবে - সরকারের কড়া নির্দেশ!
৪.
চাইকি বিয়ের পরে নির্দিষ্ট ফি দিয়ে একখানা সার্টিফিকেটও সংগ্রহ করে নিতে পারেন। সেখানে লেখা থাকবে -
দিস ইজ টু সার্টিফাই দ্যাট (বরের নাম) সান অব (বরের পিতা ও মাতার নাম) অ্যাড্রেস (বর্তমান ঠিকানা) ডেট অব বার্থ (জন্ম তারিখ) ম্যারিড টু (কনের নাম) ডটার অব (কনের পিতা ও মাতার নাম) অ্যাড্রেস (কনের বর্তমান ঠিকানা) ডেট অব বার্থ (কনের জন্ম তারিখ)। দি ম্যারিজ ওয়াজ সোলেমাইজড অন (তারিখ) অ্যান্ড রেজিস্টার্ড ইন মাই অফিস অন (তারিখ) বিইং রেজি. নং (নম্বর), ভলিউম নং (নম্বর), পেজ নং (নম্বর)।
৫.
বিয়ের আগে কাবিননামা বা নিকাহনামায় কি লেখা থাকে সেটা পড়ার সময়ই করতে পারেন না বেশীরভাগ - ব্যাটা কাজি যা খুশি লেখে সেখানে। দায়িত্ব হল - আগেই পড়ে নেয়া। এখন পরে ফেললেন - এবার বিয়েটা করে ফেলুন। শুভকামনা