বৃহস্পতিবার, ৩০ জানুয়ারী, ২০১৪

সোনাযাদু ফিনিক্স পাখির জন্য এলিজি

প্রিয় সোনাযাদু ফিনিক্স পাখি,
"আজকে রাতে তুমি অন্যের হবে, 
ভাবতেই জলে চোখ ভিজে যায়' 
তোমার সাথে আমার শেষ রাইডের শুরুতেই মোবাইল প্লেয়ারের শাফলড লিস্টে এই গান কেন বেজে উঠবে, বলতো? তুমি কি বুঝে গিয়েছিলে আজই তোমার সাথে আমার শেষ রাইড? প্লেয়ারের শাফলড লিস্ট কি তোমার নিয়ন্ত্রণে ফিনিক্স পাখি?

গত ক'দিনেই দ্বিতীয় পক্ষ 'লাক্স কম্ব্যাট'র পিঠে চড়ে উড়ে উড়ে অভ্যাস খারাপ হয়ে গিয়েছে, আজ তোমার পিঠে চড়েই উড়তে ইচ্ছে হল - এভাবে সারা দেবে ভাবি নি। তোমার বয়স্ক, ভারী শরীরে আমাকে নিয়ে যেভাবে তুমি উড়লে - তোমাকে বিদেয় করার সিদ্ধান্ত কি ভুল হয়ে যাচ্ছে কিনা আরেকবার ভেবে দেখতে ইচ্ছে হয়েছিল। লাক্স কম্ব্যাটের প্রতি ভালোবাসায় তোমাকে ছেড়ে যাচ্ছি - এমনটা নয় কিন্তু - তোমার সাথে আসলে তার তুলনাই চলে না। মারজুক ভাই সেদিন কি বলেছিল মনে নেই? 'সব বিষয়ের হিসেবে তোমার বউ অবশ্যই ফার্স্ট, কোন এক বিষয়ে সে যদি হায়েস্ট নাম্বার নাও পায়।' লাক্সের তুলনায় তোমার শরীর ভারী, তোমার চেহারা বদখত, সেকেলে, কিন্তু তোমার ভাব বনেদি! গত ষোল মাস তোমার পিঠে চড়ে উড়ে বেড়াচ্ছি, কোনদিন সমস্যা হয় নি, অথচ দ্বিতীয় দিনেই চপলা লাক্সের শরীরে দুটো কুক্কুর স্বভাবের মোটরবাইক নাক শুঁকল! একইদিনে! তোমার পিঠে চড়েছি বলে সুমাইরা আমাকে রিকশাওয়ালা, মুনিম হেমিন সেলসম্যান বলতে পারে - বলুক, কিন্তু সব কিছুর তুলনায় তুমিই সেরা - এই আমি সেই স্বীকৃতি দিলাম ফিনিক্স পাখি!

ক্যাঙ্গারুমাতার মত সামনের ঝুড়িতে আজও আমার শীতের কাপড় রাখলে, পাহাড়ী মাতার মত পেছনের ক্যারিয়ারে কত গুরুত্বপূর্ন জিনিসের নিরাপত্তা দিয়েছো সেতো আমি জানি ফিনিক্স পাখি। তোমাতে চড়ে উড়ে বেড়াতে বেড়াতে অন্ততঃ তিনটে গল্প তৈরী হয়েছে মাথায়, এমনকি আজকের এই এলিজি-টিও, চপলা চঞ্চলা লাক্স আমায় সেই সুযোগ কোনদিন দেবে কিনা সন্দেহ আছে। একটা শখ অপূর্ণ রেখেই তোমাকে বিদায় বলতে হচ্ছে ফিনিক্স পাখি - ইচ্ছে ছিল - বিয়ে করা বউকে সাথে নিয়ে তোমার পিঠে চড়ে উড়ে বেড়াবো - সে সুযোগ আর হল না - হঠাৎ হঠাৎ তোমাকে অ-নে-ক মিস করবো পাখি!

দারাশিকো'র দরিদ্র সংসারে তোমার যত্ন-আত্তি কম হয়েছে মানি, তবে তুমিও জানো, তোমার প্রতি ভালোবাসার কমতি ছিল না কোন। যার সংসারে যাচ্ছো, সেই আবদুর রশীদও দরিদ্র, তবে সে তার সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে যত্ন-আত্তি করবে - এই নিশ্চয়তা দিতে পারি তোমায়। আবদুর রশীদের প্রতি একটু খেয়াল রেখো। বেশী কিছু না - তোমার সামনের পাখার লাগামটা যেন ঠিকমত কাজ করে সেটা নিশ্চিত করার চেষ্টা করো - তাহলেই হবে।

পথ শেষ হয়ে এল ফিনিক্স পাখি। যা ভেবেছিলাম তাই - শাফলড লিস্ট অবশ্যই তোমার নিয়ন্ত্রণে - নাহয় রাইডের শেষ গান কেন হবে - 
ওই চাঁদ মুখে যেন লাগে না গ্রহণ
জোছনায় ভেসে যাক সারাটি জীবন।।
আবদুর রশীদের সংসারে সুখী হয়ো ফিনিক্স পাখি। আই উইল ডেফিনিটলি মিস ইউ!

উইথ 
দারাশিকো

মঙ্গলবার, ২৮ জানুয়ারী, ২০১৪

সাইকেল স্টোরি: আমেনা বনাম টুনি

আমি যদি হই মকবুল বুড়ো, তবে ফিনিক্স হল আমার প্রথম পক্ষ আমেনা। গায়ের রং কালো, ভারী শরীর। গায়ে শক্তি আছে, ইচ্ছেমত খাটানো যায়। ফিনিক্স দেখতে কালো আর মোটা হলে কি হবে, বংশমর্যাদা ভালো, ময়-মুরুব্বীদের প্রথম পছন্দ। আমার সংসারে আছে গত ষোল মাস। এক আমেনায় মকবুল বুড়োর চলে নি, আমারও চলল না।

নতুন বউ ঘরে আনার জন্য শুক্রবার ভালো দিন। দ্বিতীয়পক্ষের নাম লাক্স। টুনির মত অল্প বয়সী, গায়ের রং কালো, দোহারা গড়ন। কিশোরীর চঞ্চলতা তার মধ্যে পুরোমাত্রায় বিরাজমান। দুরন্ত! ছটফটে!

যা হয় আরকি, দ্বিতীয় পক্ষ লাক্সের ভালোবাসায় দীর্ঘদিনের সঙ্গী প্রথম পক্ষকে ভুলতে বসেছি। আমেনা-ফাতেমার তালাক হয়ে গিয়েছিল, থেকে গিয়েছিল টুনি। ফিনিক্সও যাবে, থাকবে লাক্স কমব্যাট।

রবিবার, ২৬ জানুয়ারী, ২০১৪

মাঝরাতে

কোন কোন রাতে বারবার ঘুম ভেঙে যায় - আর আমি বুভুক্ষের মত অন্ধকার হাতড়ে মোবাইল বের করি - আলো জ্বালাই। কোন মেসেজ আসে নি, মিসডকলও না। আমি তখন টেলিপ্যাথির সিগনাল পাঠাতে পাঠাতে আবার ঘুমিয়ে যাই - সিগন্যাল পৌছে না, কারণ কিছুক্ষন পর আবারও ঘুম ভেঙে পুনরাবৃত্তি - এক সময় ফজর হয়ে যায়। নামাজের পর আমি সর্বশেষ কিস্তির ঘুমে ডুব দেই!

শনিবার, ২৫ জানুয়ারী, ২০১৪

টু ইউ!

সুজন ভাইয়ের সাথে দেখা করবো বলে মতিঝিল পৌছে গিয়েছি সাইকেল নিয়ে, সুজন ভাই অফিসের নিচে দাড়িয়ে ছিলেন। তিনি ক্ষুধার্ত। মুর্গি ভাজা খেতে চান! শনিবার - তার উপর প্রায় আটটা বাজে - মুর্গির দোকান বন্ধ পাওয়া গেল। বাধ্য হয়ে ফুটপাথের দোকান থেকে অলটাইম বাটারবন, কিন্তু তাতেও পেটপূর্তি না হওয়ায় চললাম পিঠার দোকানে। মোড়ে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের ঠিক বিপরীতে দুটো মহিলা চিতই পিঠা বানাচ্ছে - নানা রকম ভর্তা সহযোগে সেই পিঠা খাচ্ছে লোকের দল। চিতই পিঠা আমার পছন্দের না, ভর্তা সহযোগে আরও অপছন্দ। ফলে সুজন ভাই একাই অর্ডার দিলেন।

পাশাপাশি দুই মহিলা - একজন একটু বয়স্ক। কিন্তু পাশের মহিলাটিকে দেখেই দপ করে আপনার কথা মনে পড়ে গেল! মনে হচ্ছিল - আপনার একটু বয়স্ক ভার্সন বসে বসে পিঠা বানাচ্ছেন! ঠান্ডার এই সময়ে তার নাকের গোড়ায় বিন্দু বিন্দু ঘাম - চুলার লাল আগুনে সেখানে লালচে আভা! সুজন ভাই পিঠা খায় ফু দিয়ে, ভর্তায় ভিজিয়ে - আমি আড়াল থেকে সেই মহিলাকে দেখি। আসলে দেখি না, মিলাই - আপনার সাথে তার মিল কোথায় কোথায়। নাকে, আর কপালে! আর বোধহয় মাথা নিচু রেখে কাজে ডুবে যাওয়ার মধ্যে। ওইদিন তো আপনাকে দেখতে পারি নাই - মুখোমুখি বসার সময় আপনি ডুবে গিয়েছিলেন ঘোমটায়, ব্যস্ত ছিলেন নখ খুটায়! (নাকি পরোটায়?)। পাশে বসে আর কতটুকু দেখা যায়?

আপনাকে একটা গল্প বলার জন্য মুখিয়ে আছি - সেই গল্পে একটা সংলাপ এরকম - 'তার নামটা কি হবে বলেন তো? একটু ভাবলেই পারবেন নিশ্চিত!' কবে বলবো জানি না - গল্প শেষ হোক আগে, তারপর বলার দিনক্ষণ সম্পর্কে ভাবা যাবে। গল্পের শেষটা অনিশ্চয়তায় পরিপূর্ণ - কবে শেষ হবে তা জানা নেই!

শুক্রবার, ২৪ জানুয়ারী, ২০১৪

প্রসঙ্গ: নিকাহনামা

image_44450_0

১. 
নিকাহনামা বা কাবিননামার ৫ নং পয়েন্টে প্রশ্ন করা হয়েছে - কন্যা কুমারী, বিধবা অথবা তালাকপ্রাপ্তা নারী কিনা? পাশে শূন্যস্থান পূরনের জন্য ফাঁকা জায়গা। ইংরেজি ফরমে কুমারীর ইংরেজি আছে Maiden, তাকে বাংলায় ট্রান্সলেট করে করা হয়েছে 'কুমারী'। মেইডেন বলতে অবিবাহিত নারীকে বোঝায়, কুমারী বলতেও তাই বোঝাতো যখন ট্রান্সলেট করা হয়েছিল। একালে অবশ্য ভিন্ন অর্থ। ফরম পূরণে গোলমাল লেগে না গেলে হয়।
২.
বরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট হল ১৩ এবং ১৭। ১৩ তে দেনমোহরের পরিমান এবং ১৭তে বিশেষ শর্তাদি প্রসঙ্গে বলা আছে। আমার হাতে যে কাবিননামার ফটোকপি, সেখানে স্ত্রীর খোরপোষ সম্পর্কে বলা হয়েছে - সময় অনুপাতে হবে এবং ভদ্রোচিতভাবে আদায়যোগ্য!
৩.
১৮ নম্বর পয়েন্টে স্বামী স্ত্রীকে তালাক দেয়ার ক্ষমতা প্রদান করেছে কিনা সে প্রসঙ্গে বলতে হবে। যদি প্রদান করে, তবে কি কি শর্তে সেটাও উল্লেখ করার জন্য কয়েক লাইন ফাঁকা জায়গা। এখানে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হল - স্বামী স্ত্রীকে তালাক দেয়ার ক্ষমতা প্রদান করুক বা না করুক - রেজিস্ট্রার সেখানে অবশ্যই 'হ্যা, করিয়াছেন' লিখে দেবে। অফ দ্য রেকর্ডে হয়তো বলেও দেবে - এই কথা না লিখলে তার রেজিস্ট্রেশনই বাতিল হয়ে যাবে - সরকারের কড়া নির্দেশ!
৪.
চাইকি বিয়ের পরে নির্দিষ্ট ফি দিয়ে একখানা সার্টিফিকেটও সংগ্রহ করে নিতে পারেন। সেখানে লেখা থাকবে -
দিস ইজ টু সার্টিফাই দ্যাট (বরের নাম) সান অব (বরের পিতা ও মাতার নাম) অ্যাড্রেস (বর্তমান ঠিকানা) ডেট অব বার্থ (জন্ম তারিখ) ম্যারিড টু (কনের নাম) ডটার অব (কনের পিতা ও মাতার নাম) অ্যাড্রেস (কনের বর্তমান ঠিকানা) ডেট অব বার্থ (কনের জন্ম তারিখ)। দি ম্যারিজ ওয়াজ সোলেমাইজড অন (তারিখ) অ্যান্ড রেজিস্টার্ড ইন মাই অফিস অন (তারিখ) বিইং রেজি. নং (নম্বর), ভলিউম নং (নম্বর), পেজ নং (নম্বর)।
৫.
বিয়ের আগে কাবিননামা বা নিকাহনামায় কি লেখা থাকে সেটা পড়ার সময়ই করতে পারেন না বেশীরভাগ - ব্যাটা কাজি যা খুশি লেখে সেখানে। দায়িত্ব হল - আগেই পড়ে নেয়া। এখন পরে ফেললেন - এবার বিয়েটা করে ফেলুন। শুভকামনা 

মঙ্গলবার, ২১ জানুয়ারী, ২০১৪

বাচ্চাবেলার নোটবুক!

বাচ্চাবেলার একটা ছোট্ট নোটবুক খুঁজছি ইদানিং। 

সেই নোটবুকে কিছু মানুষের নাম তালিকা করে লিখেছিলাম। তালিকার মানুষগুলো আমার শত্রু। চিরজীবনের শত্রু। যখন বড় হব এবং অনেক 'পাওয়ার' হবে তখন তালিকার এই মানুষগুলোকে একে একে 'কঠিন শাস্তি' দেবো, শাস্তি দেয়ার পর তালিকা থেকে নামগুলো লাল কালিতে কেটে দেবো - বড় হতে হতে যেন নাম ভুলে না যাই, তাই নোটবুকে লিখে রাখা। শাস্তি এমনভাবে দিতে হবে যেন কে-উ টের না পায়, কোন পুলিশও আমাকে ধরতে না পারে। তালিকায় আমার বন্ধু বান্ধব খেলার সাথী থেকে শুরু করে মুরুব্বী আংকেল, আত্মীয় স্বজনও ছিল - কিন্তু পবলেম হল - এত বছর বাদে সেই নোটবুকটা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে তো না-ই, নামগুলোও মনে পড়ছে না। অথচ, এদিকে চোখের সামনে শাস্তি দেয়ার সুবর্ণ সুযোগ পার হয়ে যাচ্ছে। খুব গোপনে শাস্তি দেয়া কঠিন ব্যাপার, বরং চোখের সামনেই তুলে নিয়ে মেরে ফেলে লাশ কোন ক্ষেতে বা ডোবায় ফেলে রাখলেই হবে। যে হারে লাশ পড়ছে দেশে, তাতে আমার তালিকার সেই লোকগুলোরও 'রাজনৈতিক' পরিচয় বের হয়ে যাবে নিশ্চিত! ড়্যাব-পুলিশ নিজেরাই মারার কাজে যেভাবে ব্যস্ত, আমাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা যে করবে না, সে সম্পর্কেও নাইন্টি নাইন পার্সেন্ট নিশ্চিত!

সুতরাং? আমার বাচ্চাবেলার বন্ধু-বান্ধব-খেলার সাথী এবং আত্মীয়-স্বজন - যারা আমার সাথে কোন না কোন সময় অন্যায়-বেয়াদবী করেছো/করেছেন, সতর্ক হয়ে যান - আমি কিন্তু সেই নোটবুকটার খোঁজ শুরু করেছি!

সোমবার, ২০ জানুয়ারী, ২০১৪

গোলচক্করের রং চা!

মিরপুর ১০ এর গোলচক্কর পার হয়ে এগারোর দিকে যেতে বামদিকে 'বে লিফ' নামে একটা রেস্টুরেন্ট আছে। মিরপুরের প্রথম 'বুফে' রেস্টুরেন্ট - এমন দাবী সম্বলিত সাইনবোর্ড আছে রেস্টুরেন্টের গায়ে - সত্যি মিথ্যা মিরপুরবাসী জানেন। হোটেলের সাথেই একটা মাঝারি সাইজের নায়াগ্রা ড্রেন - বিপুল স্রোত বয়ে যাচ্ছে সেই ড্রেন দিয়ে। রেস্টুরেন্টের সামনের দিকে ফুটপাথে তিন চারটে ভ্যানগাড়িতে চা বিক্রি হয় - বিভিন্ন ধরনের চা। ধরন এবং দাম দোকানের গায়ে লাগানো আছে।

শনিবার, ১৮ জানুয়ারী, ২০১৪

দারিদ্র্য আর সীমাবদ্ধতার উপলব্ধি

১.
বছর কয়েক আগে সুন্দরবনে বেড়াতে যাওয়ার আগ্রহে পাগলামীতে পেয়ে বসেছিল। কোরবানীর ঈদের পরের দিনই ট্রলারে করে সুন্দরবনের ভেতরে দিন পাঁচেকের ট্যুরের প্ল্যান প্রোগ্রাম করে সব ঠিক ঠাক করে ফেলেছিলাম। ঈদের পরেই রাসমেলা শুরু। ট্রলারের পাইলট আল-আমিন সাহেব যাত্রার দিন কয়েক আগে বেঁকে বসলেন। আমাদের বাছাইকৃত দুটো স্পট তিনি চিনেন না - এই অজুহাতে তিনি আমাদের নিয়ে যেতে চাইলেন না, বরং রাসমেলা পর্যন্ত ঘুরে আসার প্রস্তাব দিলেন। মেলার সময় ট্রলার পাইলটদের পোয়াবারো অবস্থা। লং ট্রিপের তুলনায় কয়েকগুন বেশী টাকা কামানো যায় শর্ট ট্রিপে - এই কারণে বেঁকে যাওয়াই স্বাভাবিক। ট্রলার ট্যুর ক্যান্সেল হলেও আমি খুলনা চলে গেলাম - লঞ্চ যাবে, যদি পারি তো উঠে পড়বো। পরেরদিন সকালে সর্বশেষ লঞ্চটা ভ্রমনপিপাসীদের নিয়ে যাত্রা শুরু করবে। ছাদের ডেকে একজনের জায়গা হয়ে যাবে - খরচ পড়বে সাত হাজার টাকা। অথচ আমার হাতে তখন সব মিলিয়েই মাত্র সাত হাজার টাকা। যাত্রা শুরুর আগে কোথাও রাতটি কাটাতে হবে, দুই বেলা খেতে হবে এবং যাত্রা শেষে আবার ঢাকা ফিরতে হবে - ট্যুরে গেলে এর কোনটাই করা সম্ভব না। সীমাবদ্ধতার কষ্ট পাওয়া ছাড়া আর কোন উপায় ছিল না - সারাদিন খুলনা শহরে ঘুরে ফিরে তারপর বাসায় ফিরে গেলাম।

২.
শীতকালে ব্রক্ষ্মপুত্রের টলটলে স্বচ্ছ পানি ঠান্ডা আর নিস্তরঙ্গ। নদীতে বৈঠার শব্দ ছাড়া আর কোন শব্দ নেই। নৌকায় বসে আমরা তিনজন। আধাঘন্টার সেই অসাধারণ ভ্রমণে আমরা আমাদের অতীতের দারিদ্র্য নিয়ে কথা বললাম, আমরা আমাদের সীমাবদ্ধতার কথা স্মরণ করলাম, আমাদের স্বপ্নগুলোর কথা বললাম, ভবিষ্যতের কথা বললাম। আমরা নতুন ভাবে আবিস্কার করলাম - আমাদের অতীতের সীমাবদ্ধতাগুলো কেটে গিয়েছে বা কেটে যাচ্ছে, কিন্তু নতুন নতুন সীমাবদ্ধতা আমাদের চারপাশের ফাঁকা জায়গাটুকু পূর্ণ করে দিচ্ছে। বর্তমানের সীমাবদ্ধতা আমাদের কুটকুট করে কাটে, যন্ত্রনা বাড়ায়, কিন্তু অতীতের সীমাবদ্ধতাগুলো আমাদের এক ধরনের তৃপ্তি দেয়!

৩.
সীমাবদ্ধতা যন্ত্রনাদায়ক, কিন্তু সীমাবদ্ধতা-পরবর্তী সময়ে সেটা মুখরোচক-তৃপ্তিদায়ক - এই ভরসায় পথ চলা।

বৃহস্পতিবার, ১৬ জানুয়ারী, ২০১৪

এলোমেলো কথোপকথন

: আপনি কিন্তু আমার সম্পর্কে কিছু জানতে চাইলেন না
: আমি তো এখনো ফোন নাম্বার পাই নি
: এখন বলেন!
: আরেকদিন - যেদিন আকাশে চাঁদ থাকবে, হালকা বাতাসে ফুলে ফুলে উঠবে শাড়ির আঁচল!
: আমার বান্ধবীকে বিয়ে করবেন? সে অনেক সুন্দর, আপনার পছন্দ হবে!
: হু।
: কেন করবেন?
: সে অনেক সুন্দর, তাই।
: আমার বান্ধবীকে বিয়ে করলে আমি আপনাকে মেরেই ফেলবো!
: বান্ধবীর সাথে কারা বিয়ে দিতে চায় জানেন তো?
: আমি যাই - আপনার গল্প আগাচ্ছে না।
: কি করবেন?
: পড়তে যাই - পরীক্ষা।
: ফোন নাম্বার?
: পরীক্ষার পরে পাবেন।
: ওকে।
: আপনি আমার সব কিছু মেনে নেন কেন? কেন জোর করেন না?
: পড়তে বসুন।
: বসতে না, পড়তে যেতে বলেন।
: না।
: প্লিজ?
: না।
: যাই?

রবিবার, ১২ জানুয়ারী, ২০১৪

শাস্তি!

পার্মানেন্ট গার্লফ্রেন্ড না থাকার কৃত্রিম আফসোস প্রকাশ করে অপরপ্রান্তের মেয়েটিকে পটানোর চেষ্টারত ছেলেটির কন্ঠস্বরে যখন ঘুম ভাংল তখন রাত দেড়টা বাজে। পাঁচ ঘন্টার ঝটিকা বরিশাল ট্যুর শেষ করে পারাবত লঞ্চের সোফায় ঘুমিয়ে ঢাকা ফিরছি। পাশাপাশি দুটো সোফা, আমি যে প্রান্তে মাথা দিয়েছি, সেই একই প্রান্তে সেই ছেলেরও মাথা। মেয়ে পটানোর চেষ্টায় সেই ছেলে এতই উত্তেজিত যে রাত দেড়টায় এত উচ্চস্বরকে সে গোনায় ধরছে না। আমি বার তিনেক আওয়াজ করলাম - আস্তে! এইযে আস্তে কথা বলেন!! হ্যালো!!! - পাত্তা পাওয়া গেল না। ছেলের অনেক ডিমান্ড, ইনবক্সে বিশ পঁচিশটা মেয়ে ফোন নাম্বার চেয়ে মেসেজ দেয়, নাম্বার দিলে ফোনও করে - আরও কি কি বলে/করে সেই ফিরিস্তি দিচ্ছে সেই মেয়েকে - অথচ এদিকে লেপ মুড়ি দিয়েও কানে ফিরিস্তির প্রবেশ বন্ধ করতে পারছি না। বাধ্য হয়ে উঠতে হল।

মাথার বালিশ পায়ের দিকে নিয়ে উল্টে শুয়ে পড়লাম - এবার আমার পা সেই ছেলের মাথার দিকে। লাভের মধ্যে যা হল - সম্পূর্ণ বাক্য শুনতে পারছি না কিন্তু কথার আওয়াজও বন্ধ করা যাচ্ছে না। ছেলেটাকেও উল্টে দিতে পারলে বোধহয় পুরোপুরি নিঃশব্দ হওয়া যেত - কিন্তু তাকে সেটা বলাটাও সম্ভব না। প্রেম পিরিতির এই যুগে আমি সেকেলে বুড়ো - বুড়োদের মতই চোখ নিচু করে পথ চলা ছাড়া উপায় নেই, অথচ এদিকে ঘুমটাও জরুরী। তখনই কুবুদ্ধির আইডিয়া! ১০০ পাওয়ারের বাল্ব দপ করে জ্বলে উঠল।

লেপের নিচ থেকে সারাদিন পড়ে থাকা মোজাসহ পা-টা বের করে দিলাম, তারপর নাচাতে শুরু করলাম। ক্ষীণ আশা - শীতকালে মোজায় যে দুর্গন্ধ হয় তা বাতাসে ভেসে ভেসে পৌছে যাবে ভদ্রলোকের নাকে - সহ্য করতে না পেরে হয়তো সেও উল্টে শুয়ে পড়বে - বেঁচে যাবো আমি!

আইডিয়া কতটা কাজ করেছে জানা গেল না, পা নাচাতে নাচাতে নিজেই ঘুমিয়ে গেলাম

রবিবার, ৫ জানুয়ারী, ২০১৪

পার্ভাট আর ফ্যানের মধ্যে পার্থক্য

ঢালিউড তারকাদের মধ্যে গুগল সার্চে সবার চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন চিত্রনায়িকা পপি। সাম্প্রতিক এক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, শাবনূর, পূর্ণিমা, অপু বিশ্বাসকে ছাড়িয়ে গুগল সার্চের তালিকায় নাম্বার ওয়ানে রয়েছেন পপি।


উল্লেখ্য গুগলে তাকে ৭০ ভাগেরও বেশি ভক্ত খোঁজেন ‘হট পপি’ হিসেবে।

মন্তব্য: পার্ভার্ট আর ফ্যানের মধ্যেকার পার্থক্য কি নাই হয়ে গেল?

দশম নির্বাচনী স্ট্যাটাস



১.
প্রতি বছরে একবার করে বাংলা নতুন বছর, ইংরেজি নতুন বছর আসে - আমরা শুভ নববর্ষ বা হ্যাপী নিউ ইয়ার বলি। বছরে দুইবার আসে ঈদ - তখনও ঈদ মোবারক বলি - প্রতি পাঁচবছরে এবং কখনো কখনো সাত বছর বা তিন মাস বা ছোট বড় মেয়াদে নির্বাচন আসলে কেন হ্যাপি ইলেকশন বা নির্বাচন মোবারক বলি না?

২.
নির্বাচনের ছুটি মাত্র একদিন কেন? ভোট দিতে ভোটার এলাকায় গমন এবং প্রত্যাবর্তনের জন্য আগে পিছে আরও একদিন করে মোট দুইদিন ছুটি দেয়া উচিত না? নিদেনপক্ষে বিজয়ী দল আনন্দ উদযাপনের জন্য আরও দুই একটা দিন ছুটি দিতে পারে না?

৩.
টেলিভিশনগুলো মাত্র একদিনব্যাপী ইলেকশন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে কেন? ছয় থেকে দশদিন ব্যাপী অনুষ্ঠান আয়োজনের দাবী জানাচ্ছি।

৪.
কাউকে না কাউকে শুরু করতেই হবে - আমি একটা শুরু করলাম, বাকীরা ফলো এবং নতুন কিছু শুরু করতে পারেন - সব্বাইকে হ্যাপী ইলেকশন মোবারক


 

শুক্রবার, ৩ জানুয়ারী, ২০১৪

শৈশবের শীতকাল

সেই সময়ে শীতকালটা প্রায় ছুটিতেই কাটতো। বাচ্চাকালে আমরা এখনকার মত জানুয়ারীর এক তারিখেই বই পেতাম না। ডিসেম্বরে পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর থেকে শুরু করে জানুয়ারীর মাঝামাঝি সময়ে নতুন বই পাওয়ার পরে পুরোদমে ক্লাস শুরু হতে হতে ফেব্রুয়ারী মাস চলে আসতো - ফলে অফিসিয়ালি এক মাস উইন্টার ভ্যাকেশন থাকলেও সব মিলিয়ে দুই মাস পাওয়া যেত। শীতের এই সময়টা বছরের অন্যান্য সময় থেকে আলাদা ছিল।

শীতের সকালে সূর্য উঠতো দেরী করে, ঠিক যেমন আমরা বিছানা ছাড়তাম দেরী করে। ঘুম ভাঙ্গার পরেও লেপের নিচে লুকিয়ে থাকা আর কুয়াশার নিচে সূর্যের লুকিয়ে থাকার মধ্যে তফাৎ কই? কুয়াশার নিচ থেকে সূর্য বের না হলে অবশ্য আমাদের মাঠে যাওয়া হত না। কারণ রোদ উঠলেই মাঠের ভেজা ঘাস শুকোবে, তারপর সেখানে খেলা হবে ক্রিকেট। বেলা আরও বাড়লে এবং কোন কারণে ক্রিকেট না খেলা হলে ব্যাডমিন্টনের কোর্টে দাড়িয়াবান্ধা! দাঁড়ি কাটতে হলে মাটিতে শুয়ে পড়ার অনুমতি ছিল - কিন্তু ভেজা ঘাসে শোয়ার অনুমতি ছিল না বাসা থেকে। রোদ উঠলে একজন একজন করে বন্ধুদের ঘুম ভাঙতো, এক এক করে মাঠে অনলাইন হত। একজন অনলাইন হয়ে আরেকজনকে নক করতো, দুজনে মিলে আরেকজনকে - সবার ঘুম ভেঙে মাঠে আসতে আধাঘন্টা। তারপর খেলা। মাঝে মাঝে বড়রা ক্রিকেট খেলতে নামতো। সে সময় ক্রিকেট পিচ তৈরী হত মাঠের আড়াআড়ি - তাদের ছক্কার দৌড় বেশী! ওই দিনগুলো স্পেশাল ছিল - সকাল থেকেই কেমন উৎসব উৎসব আমেজ থাকতো।

এখনো শীতকালে সকাল হয়, ফেসবুকের মাঠে এক এক করে ভার্চুয়াল বন্ধুরা অনলাইন হয়, ক্রিমিনাল কেস খেলার জন্য বন্ধুদের আহবান জানায়।

শীতকাল পাল্টায় নি, মানুষ পাল্টে গেছে!

বুধবার, ১ জানুয়ারী, ২০১৪

স্মরণীয় বাণী ২০১৩

১.
আমার একটা রাজপুত্র ছিল। আমি ভাবার চেষ্টা করতাম সে আমার সাথে থাকে অলওয়েজ। আজ আপনি তাকেও মেরে ফেললেন, আমার তো আর কিচ্ছু থাকলো না! থ্যাংকস।
২.
আপনার এত ভাব কেন? ভাবের ঠেলায় গাছে উঠে বসে আছেন! আপনি কি বান্দর? গাছ থেকে নামেন, তারপর কথা বলেন।

ফাহমিদার উদ্দেশ্যে

'লেখক-হবো' বাতিকের এক বড় সমস্যা হল নিয়মিতভাবে কিছু না কিছু লিখতে হয়। লিখতে না পারার যে সমস্যা তার নাম 'রাইটার্স ব্লক' - প্রায় সকলেই জানে কিন্তু লিখতে না পারার যে যন্ত্রনা সে সকলে জানে না। গেল বছরে নানা ব্যস্ততার কারণে লিখালিখি কমেছে, কিন্তু আগ্রহ থাকার পরও লিখতে না পারার ঘটনা পুরো বছরে দুবার - বছরের শুরুর দিকে প্রায় মাস খানেক এবং শেষের দিকে এসে প্রায় মাসখানেক। ফেসবুক স্ট্যাটাস নয়, একটা দুটো ব্লগ নয়, ডায়রী-তো নয়ই - জিরো জিরো জিরো। শেষে সেই আদিম পন্থায় ফিরতে হল - চিঠি। এ যুগে কে চিঠি লিখে আর কেই বা চিঠি পাওয়ার আশা করে?

চারদিকের জীবনের সমুদ্র সফেনে ক্লান্ত জীবনানন্দকে দু-দন্ড শান্তি দিয়েছিল নাটোরের বনলতা সেন। গেল বছরে আমাকে দু'চারটে চিঠি লিখার সুযোগ করে দিয়ে শান্তি দিয়েছিল মৌলভীবাজারের ফাহমিদা।