বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০১৪

বেগার খাটা উৎসব

ত্রিশ পঁয়ত্রিশ বছর আগে বেগার খাটা এক প্রকার উৎসব ছিল।

বেগার খাটা বললে লোকে কি বুঝে? বিনা পয়সায় পরিশ্রম করা। অথচ ত্রিশ পঁয়ত্রিশ বছর আগে বেগার খাটা এক প্রকার উৎসব ছিল। কিভাবে?

সোমবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০১৪

অ্যাকুরিয়ামের টাইগার শার্ক

অ্যাকুরিয়ামের টাইগার শার্কআমাদের বাসায় প্রথম একুরিয়াম আসে ইমার হাত ধরে, চৌদ্দ পনেরো বছর আগে। আমার কোন এক জন্মদিনে দুপুর কি সন্ধ্যাবেলা ইমা হাজির যয ছোট্ট একটি জার হাতে, তাতে আমাদের দেশী কাচঁকি মাছ আকৃতির দুটি গাপ্পি টুকটুক করে সাতঁরে বেড়াচ্ছে। ইমা তার সবগুলো ঝকঝকে দাঁত বের করে ছটফট করতে করতে বললো - শুভ জন্মদিন দোস।

রয়েল বেঙ্গল বাঘ

রয়েল বেঙ্গল বাঘ

হাসান জামি হাতঘড়ির দিকে তাকালেন, বারোটা বেজে গেছে।


সময় হয়ে গেছে। একটু পরেই আকাশের কোনায় বিমানটা দেখা যাবে। ল্যান্ড করার পর মিনিট পনেরো লাগবে প্রস্তুত হতে। তারপরই আসবে সেই মহেন্দ্রক্ষণ, সুন্দরবন জঙ্গলের জলজ্যান্ত বাঘ দেখবেন তিনি। সেই বাঘ নিয়ে যাবেন চিড়িয়াখানায়। ঐতিহাসিক মুহুর্ত। এই সৌভাগ্য সবার হয় না।  উঠে দাড়ালেন তিনি, কোটের বোতাম লাগালেন। যেতে হবে।

শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৪

দ্য রেলওয়ে ম্যানঃ নিঠুর বন্ধু রে ...

1386303942880_1386303942880_r 

গত শতকের গোড়ার দিকে ব্রিটিশরা একটি বিশাল রেলওয়ে নির্মানের চিন্তা করেছিল।  রেলওয়েটি নির্মান করা হবে থাইল্যান্ড থেকে বার্মা পর্যন্ত - পাহাড়-জঙ্গল-নদী ডিঙ্গিয়ে। ফলে চীন থেকে ভারত পর্যন্ত রেলওয়ের মাধ্যমেই যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হবে এবং এই থাই-বার্মা রেলওয়ে বিশ্বের সেরা কিছু রেলওয়ে ভ্রমন যেমন ট্রান্স সাইবেরিয়া রেলওয়ে, ওরিয়েন্স এক্সপ্রেস কিংবা কানাডিয়ান প্যাসিফিকের পাশাপাশি আরেকটি নাম হিসেবে যুক্ত হবে। সব হিসেব নিকেশ শেষে ব্রিটিশরা পিছিয়ে এলেও চল্লিশের দশকে জাপানীরা পিছিয়ে এলো না, তারা ঠিক নির্মান করল থাই বার্মা রেলওয়ে।

মান্ধাতা লোকটা কে?

মান্ধাতা লোকটা কে? ছবি: Bongpen.net ছবি: Bongpen.net
কিছুদিন ধরেই মাথায় একটা প্রশ্ন ঘুরছে। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ভ্রমণকাহিনী পায়ের তলায় শর্ষে পড়ছি, সেখানেই কোন এক পাতায় 'মান্ধাতার আমলে' প্রবাদের প্রয়োগ পেলাম। পুরানো কিছু হলেই আমরা বলি মান্ধাতার আমলের জিনিস। হঠাৎই প্রশ্নটা মাথায় এলো - মান্ধাতাটা আসলে কে? তার শাসনামল কোন সময় ছিল?

বুধবার, ২৬ নভেম্বর, ২০১৪

সিলেটের সহযোদ্ধা সুমন

1416847148


"নিজের একজন ভাইয়ের ওপর হামলার কথা শুনে আমি, সুমনসহ ১০-১৫ জন তাৎক্ষণিক ছুটে যাই। গিয়ে সেখানে হতবিহ্বল হয়ে পড়ি। সেখানে আগে থেকে ওত পেতে থাকা হানাদারা বাহিনী বৃষ্টির মতো গুলি চালায়। বৃষ্টির ঘনত্ব একটু কম ছিল, তাই ওদের একটি গুলি আমার সামনে থাকা সুমনের গায়ে লাগে। সে তৎক্ষণাৎ মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।

সোমবার, ২৪ নভেম্বর, ২০১৪

জনসংখ্যা দিয়ে রেকর্ড তৈরী

জনসংখ্যা দিয়ে রেকর্ড তৈরী

গত কয়েক বছরে বাংলাদেশে 'সবচেয়ে বেশী' ধরনের বিশ্বরেকর্ড গড়ার একটা ট্রেন্ড দেখা যাচ্ছে। হালের সংযোজন সবচে বড় সেলফি। এই সকল রেকর্ড গড়ার পেছনে একমাত্র অবদান বাংলাদেশের মহামূল্যবান সম্পদ 'জনসংখ্যা'র। কেউ হয়তো খেয়াল করে নি এখনও - নাহয় বিশ্ব ইজতেমার সময় এক সাথে সবচে বেশী লোকের সবচে বেশী পরিমান হাগা-মোতার রেকর্ডও বইতে তুলে দেয়া সম্ভব।

জনসংখ্যার আধিক্য দিয়ে যে সব রেকর্ড হয় সেগুলো এতটাই ঠুনকো যে বছরখানেকের মধ্যেই সেটা ভেঙ্গে ফেলা সম্ভব এবং জনসংখ্যার আধিক্য দিয়ে যে রেকর্ড হয় সেটা যে ইতিবাচক কিছু নয় - সেটা বোঝার জন্য কেউ কি আয়োজকদের মাথার গু ফেলে দিয়ে ঘিলু ঢোকানোর রেকর্ড করবেন?

বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর, ২০১৪

অন্যরকম, দারুন এবং চমৎকার সিনেমা!

জ্ঞান হওয়ার পর থেকে বাংলাদেশের যত সিনেমার কথা শুনে আসছি - তার সবই 'অন্যরকম' এক গল্প নিয়ে 'দারুন' এবং 'চমৎকার' এক চলচ্চিত্র হওয়ার কথা থাকে। কিন্তু মুক্তি পাওয়ার পরে প্রায় সব সিনেমাই কিভাবে যেন সব বিশেষণ গিয়ে 'একঘেয়ে'র ঘরে জমা হয় :(

মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৪

তিসির তেল

তিসির তেল 

ক্লাস সিক্স থেকে ক্লাস এইট পর্যন্ত আমার সবচে পছন্দের সাবজেক্ট ছিল কৃষি শিক্ষা। অন্য বিষয়ের পড়াশোনা ঠিকমত না হলেও এই বিষয়ে আমি সবসময়ই আপডেটেড থাকতাম। আমার এই কৃষি শিক্ষা প্রীতির কারণে আব্বা প্রায়ই ঘোষনা করতেন - আমার এইম ইন লাইফ নাকি 'মডার্ন' কৃষক হওয়া! এ ধরনের ঘোষনা নিতান্তই অমূলক, কারণ বাসার সাথেই বাগান থাকলেও মশার কামড় সহ্য করে ফুলের বাগান করার তেমন কোন চেষ্টা আমার মধ্যে ছিল না। অবশ্য কৃষি শিক্ষা পড়লেই যে বাগান এবং চাষবাস করতে হবে - আমি তেমনটা বিশ্বাস করি না। অবিশ্বাসের কারণ হল - কৃষি শিক্ষায় আমার সবচে পছন্দের চ্যাপ্টার ছিল গরু এবং মুর্গি পালন!

আ ট্রিপ টু নারিকেল জিঞ্জিরা

Travel-Story_A-trip-to-Nari

আশীর্বাদপুষ্ট যানজট এবং যাত্রা
‘ভাই, বাস তো দশমিনিট পরে ছেড়ে দিবে। আপনি সায়েদাবাদ চলে যান, ফকিরাপুল আসার দরকার নেই’ –মাঝের (মাজহার) ভাই যখন মোবাইলে আমাকে এই পরামর্শ দিচ্ছে আমি তখন রিকশায়, আধাঘন্টা ধরে শাহবাগের ট্র্যাফিক জ্যামে আটক হয়ে অক্ষম রাগে ফুঁসছি। যে রিকশায় বসে আছি সেটা ঢাকার ইঞ্জিনচালিত স্পোর্টস রিকশা নয় এবং আমার পাইলট মাইকেল শুমাখারও নন। সুতরাং দশ মিনিটে শাহবাগ থেকে ফকিরাপুলে পৌছানো আমার পক্ষে কোনভাবেই সম্ভব নয়। অথচ সায়েদাবাদ যেতে হলে শর্টকাটে গেলে ফকিরাপুল হয়েই যেতে হবে। বাস যদি সঠিক সময়ে ফকিরাপুল ছেড়ে যায়, তবে আমি সায়েদাবাদ পৌছানোর আগে বাস সেখান থেকেও ছেড়ে যাবে – যদি না পারভেজ ভাই কাউন্টারে বলে কিছু সময় অপেক্ষা করিয়ে রাখে। অতএব, রিকশায় বসে থেকে মোবাইলে অ্যাংরি বার্ডস খেলে ‘অ্যাঙ্গার’ (রাগ) দমন করা ছাড়া আমার আর কোন উপায় থাকল না – যা হোক হবে!

সোমবার, ১০ নভেম্বর, ২০১৪

সত্য ঘটনা অবলম্বনে

সত্য ঘটনা অবলম্বনে

"ছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন সার্জেন্ট। কোন এক কারনে চাকুরীচ্যুত হন তিনি। লন্ডন প্রবাসী এক নারীকে প্রতারণা করে হাতিয়ে নেন ৬৫ লক্ষ টাকা। কিন্তু পিছু লাগে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ। 'সাবেক' আর্মি অফিসারকে আটক করে 'কারেন্ট' পুলিশ অফিসাররা ঢাকা শহরে ঘুরে বেড়ায়, তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে তুলে নেয় দেড় লক্ষ টাকা, ব্ল্যাংক চেকে সই করিয়ে নেয় কয়েকটি। তারপর ছেড়ে দেয়া হয় সেই আর্মির সার্জেন্টকে। পরদিন পুলিশ দলের একজন একাই খবর দেন আর্মি-কে, বাকী সদস্যদের ঠকিয়ে গুড় খাওয়ার চেষ্টা করেন, কিন্তু বাগড়া বসায় র‌্যাব। হাতে নাতে ধরে সেই পুলিশকে। র‌্যাবের যে টহল দলটি তাদেরকে হাতে নাতে ধরে ... ..."

মঙ্গলবার, ৪ নভেম্বর, ২০১৪

পিঁপড়াবিদ্যাঃ পিপীলিকার মত নয়

পিঁপড়াবিদ্যা Official Poster 

মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর পঞ্চম সিনেমা 'পিঁপড়াবিদ্যা' নানা কারণে গুরুত্বপূর্ন। প্রথমত, এটি তার প্রথম অ-বিতর্কিত চলচ্চিত্র, আগের প্রত্যেকটি চলচ্চিত্রই নানা কারণে সমালোচিত হয়েছিল। দ্বিতীয়ত, এই ছবির প্রচারে তিনি নানাবিধ উপায় অবলম্বন করেছেন। প্রায় পাঁচটি ধাপে ছবির প্রচারনা শেষেই তিনি তার চলচ্চিত্র মুক্তি দিয়েছেন। বাকী চলচ্চিত্রগুলো স্বনির্ভর ছিল, প্রচারণার উপর ভর করে দর্শকের কাছে পৌছুতে হয় নি। তৃতীয়ত, ইমপ্রেসের তৈরী চলচ্চিত্রের বাণিজ্যিক পরিবেশনার ক্ষেত্রে এই চলচ্চিত্র ব্যতিক্রম। সাধারণত ইমপ্রেসের ছবি একটি হলে মুক্তি পায়, কিন্তু এই ছবি প্রথম সপ্তাহেই ২৭টি হলে মুক্তি পেয়েছে। ভিন্ন ধারার চলচ্চিত্রগুলোও এই পথ অবলম্বন করতে সক্ষম হলে চিত্রটা ভিন্নরকম হতো।

মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর, ২০১৪

রাজকন্যাদের বিবাহঃ একাল-সেকাল

রাজকন্যাদের বিবাহ

একটা সময় ছিল।

তখন দেশে রাজকন্যা থাকতো একটা দুটো করে। তাদের যখন বিয়ে হতো তখন সারা রাজ্যে হৈ চৈ পড়ে যেত। মাসব্যাপী উৎসব লেগে যেত, বিশাল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে মহাসমারোহে বিয়ের আয়োজন করা হত। রাজ্যের সকল প্রজা উৎসুক হয়ে থাকতো সেই দিনটির জন্য যেদিন রাজকন্যার বিয়ে হবে, রাজপুত্র আসবে ভিনদেশী কোন এক রাজ্য থেকে, ধবধবে সাদা ঘোড়ায় চড়ে। মহা ধুমধামের মধ্যে সেই বিয়ে হতো, সাতদিন আর সাতরাত ধরে চলতো উৎসব, আর তাতে যোগ দিতে পুরো রাজ্যের সকল প্রজা। বিয়ে হলে গেলে রাজকন্যা আর রাজপুত্র মিলে সুখে শান্তিতে বসবাস করতে থাকতো।

বুধবার, ১৫ অক্টোবর, ২০১৪

বিনাপরাধে হঠাৎ জেল!

হঠাৎ জেলহাসিখুশি ছেলেটাকে হঠাৎ একদিন ধরে জেলে পুরে দেয়া হল।

ছেলেটা বোকাও। কারণ প্রথমে সে বুঝতেও পারে নি যে তাকে জেলে পুরে দেয়া হয়েছে। বুঝে উঠে যখন বার কয়েক সে জিজ্ঞেস করে জানার চেষ্টা করলো কি অপরাধে তাকে জেলে পুরে দেয়া হয়েছে তখন তার সাজা শুরু হয়ে গেছে। সাজা নয়, বন্দীত্বও নয়, বরং তার অপরাধটা যে কি সেটা জানার জন্য ছেলেটা চিন্তার সাগরে ডুব দিল। অতল সে সাগর, ঠাঁই না পেয়ে ছেলেটা যখন ভেসে উঠল তখন তার বুকভর্তি অভিমান। অজানা অপরাধের যে সাজা তা মওকুফের জন্য আবেদন করলেই মুক্তি মিলতো হয়তো বা, কিন্তু অভিমানের বদ্ধ ঘরের দরজাটা কোথায় ছেলেটা ভুলে গিয়ে জেলখানায় কাটিয়ে দিতে লাগল তার রাত আর দিনগুলো।

সোমবার, ৬ অক্টোবর, ২০১৪

ঈদের নামাজে মনির

ঈদের-নামাজে-অতিরিক্ত-ছয়-তাকবীর

ঈদের নামাজে মনির দাড়িয়েছে আমার সামনের কাতারে। প্রায় সাড়ে ছয় ফুট লম্বা আর একশো কেজি ওজনের মনিরের জন্য আমি তার সামনের কাতারের লোকজনকে দেখতেই পাচ্ছি না। সাড়ে পাঁচের আমিই কখনো মনিরের পাশে দাড়াই না অথচ পাঁচ ফুট সাইজের সোলাইমান ভাই তার পাঁচ বছরের ছেলেকে নিয়ে দাড়িয়েছে মনিরের বামপাশে। নামাজ শুরুর আগে যখন মনির আদর করে তার ভাতিজাকে বাবার পাশ থেকে সরিয়ে নিজের ডান পাশে নিয়ে এল, তখন দৃশ্যটা দেখার মতই হল। তবে সেটাই শেষ নয়।

বৃহস্পতিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৪

পাঁচমাসে সন্তানের জন্ম!

styt

ফারজানা ছবি রেকর্ড করেছেন। তিনি পাঁচ মাসেই সন্তানের জন্ম দিতে সক্ষম হয়েছেন। নিঃসন্দেহে প্রেগন্যান্সির টার্নওভার রেট অর্ধেকে নামিয়ে আনার এ ঘটনা মানবজাতিকে অনেকদূর এগিয়ে নিয়ে যাবে। আমরা ফারজানা ছবির এ কৃতিত্বে অভিনন্দন জানাই।

বুধবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৪

ঘাড়ে চড়ে যৌথ প্রযোজনার ছবি

ami_bg_320464617

চলচ্চিত্র পরিচালক অনন্য মামুন একজন পায়োনিয়ার। তিনি 'আমি শুধু চেয়েছি তোমায়' চলচ্চিত্রে যৌথ পরিচালনা করে একটি ভারতীয় চলচ্চিত্রকে যৌথ প্রযোজনার চলচ্চিত্র হিসেবে বাংলাদেশের বাজারে ব্যবসা করার সুযোগ তৈরী করে দিয়েছিলেন - খুব বেশীদিন আগের ঘটনা নয় এটি। সেই সময় অনন্য মামুনের এই ভণ্ডামী কার্যকলাপে প্রতিবাদ করেন নি এমন বাংলাদেশী চলচ্চিত্রপ্রেমী খুব কমই আছে। কিন্তু মাত্র চার মাসের ব্যবধানে ঘটনা অনেক পাল্টে গিয়েছে।

বুধবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৪

বই পড়া - ১

bangla-book-dhaka-city-guide


এই মুহুর্তে ফেসবুকে বইয়ের তালিকা দেয়ার রেওয়াজ চলছে, ব্যাপারটা আমি টের পেয়েছি Jubaead Dweep এবং Monzu Mozumder দ্বারা ট্যাগিত হয়ে। বছর দেড়েক আগে দিপ আমার একটি সাক্ষাতকার নিয়েছিল - সিনেমা এবং ব্লগিং নিয়ে, সেখানে সেরা সিনেমার নাম জানতে চেয়েছিল সে। সুপারলেটিভ ডিগ্রির যে কোন কিছুতেই আমার সবসময়ের দুর্বলতা, তাই সেরা দশটা বইয়ের নাম দেয়া আমার পক্ষে অসম্ভব - এই দুই ভাইয়ের কাছে মাফ চাই। আমি বরং বই পড়া নিয়ে 'চলছে-চলুক' টাইপের কিছু বকবক করি।

মঙ্গলবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৪

পিস্তল সজীব শ্যুটিং ইন্সটিটিউট

ইবি ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সজীবের কাছ থেকে (মাঝে) আগ্নেয়াস্ত্র চালানো শিখছেন জবি শিক্ষক মতিয়ার রহমান, পেছনে সহযোগী ইবি আইন বিভাগের ছাত্র সালাউদ্দিন (ছবি: মানবজমিন) 

ইবি ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সজীবের কাছ থেকে (মাঝে) আগ্নেয়াস্ত্র চালানো শিখছেন জবি শিক্ষক মতিয়ার রহমান, পেছনে সহযোগী ইবি আইন বিভাগের ছাত্র সালাউদ্দিন (ছবি: মানবজমিন)

বৃহস্পতিবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৪

প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে ধর্ষক-ধর্ষিতার বিয়েঃ কিছু প্রশ্ন

ধর্ষক-ধর্ষিতার-বিয়ে


মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে ধর্ষক এবং ধর্ষিতার মধ্যে বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে - এমন একটি সংবাদ বেশ আলোড়ন তুলেছে। সংবাদে প্রকাশ, আসমা নামে এক ভদ্রমহিলাকে তারই গ্রামের আলমগীর উত্যক্ত করেছে বহুদিন। তারপর তাকে ছলনা করে বন্ধুর বাসায় নিয়ে ধর্ষন করেছে প্রায় ছয় মাস, কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিয়ে করতে রাজী না হওয়ায় আসমা বিভিন্ন পর্যায়ে সহায়তা চেয়ে ব্যর্থ হয়ে সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রীর দরবার পর্যন্ত গিয়েছেন এবং সফল হয়েছেন। তার ধর্ষক এখন তার স্বামী।

সোমবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০১৪

সাক্ষাতকারে শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

b3b15df6739406f49ce254a3c3427c49-25


দৈনিক পত্রিকাগুলোতে একটা হাস্যকর মজার ঘটনা ঘটে প্রায়ই। উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে হয়তো কেউ কিছু বলেছেন, পত্রিকায় প্রকাশিত হয়, 'অমুকের সাথে (পত্রিকার নাম) এক সাক্ষাতকারে তিনি এ কথা বলেন'। ভাব দেখে মনে হয়, সাক্ষাতকার যেন শুধু তাকেই দেয়া হয়েছে। আরও মজার ব্যাপার হল - তারা বলেন এক কথা কিন্তু পত্রিকাগুলো সেগুলো নিজের ভাষায় কিছু কাটছাট করে বা বাড়িয়ে লেখার ফলে দুটো পত্রিকায় দুই ধরনের বক্তব্য পাওয়া যায়। এরকম ক্ষেত্রে পাঠকের বাধ্য হয়ে একাধিক পত্রিকা পড়ার কোন বিকল্প থাকে না।

সোমবার, ২৫ আগস্ট, ২০১৪

ট্রাফিক জ্যাম নিয়ে রুহুল্কার পোস্ট

ছবি: বাংলানিউজ 

ছবি: বাংলানিউজ

রুহুল্কার বরাতে জানা গেল - স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির সিনিয়র লেকচারার তানজিলা খান এবং ওয়াটার ডেভলপমেন্ট বোর্ডের অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম বাংলাদেশের ট্র্যাফিক জ্যাম নিয়ে গবেষনা করে দেখিয়েছেন - বছরে ৩.৮ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয় শুধু ট্রাফিক জ্যামের কারণে। দুর্ঘটনাচক্রে আজকে সকালে আমি নিজেও এই ট্র্যাফিক জ্যামের শিকার। সোয়া আটটায় সদরঘাট থেকে বাসে উঠেছিলাম মহাখালীর উদ্দেশ্যে। শান্তিনগর থেকে বড় মগবাজারের মোড়ের একটু আগ পর্যন্ত আসতে পঞ্চাশ মিনিট লেগে গেল বলে শেষ পর্যন্ত বাস থেকে নেমে পৌনে এক কিলো হেটে রিকশায় করে সোয়া একঘন্টা লেটে অফিস পৌছেছি। কপাল ভালো, শুধু লাল দাগ খেয়েছি, ঝাড়ি খেতে হয় নি।

রবিবার, ২৪ আগস্ট, ২০১৪

দারাশিকো হবে বিচারক!

10369901_716113771802730_7065680807332457871_n


সিনেমার ব্লগার হিসেবে আমার অবস্থান যে পড়তির দিকে সেটা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়ার আগে কখনো টের পাইনি। দেখিয়ে দেয়ার এই কাজটি করেছে সরব ।

সোমবার, ১১ আগস্ট, ২০১৪

প্রচুর খারাপ সিনেমা যেখানে হয় সেখানে ভালো ছবি তৈরি হওয়া মুশকিল - অঞ্জন দত্ত

অঞ্জন দত্ত - সিনেমা নির্মাতা


"প্রচুর খারাপ সিনেমা যেখানে হয় সেখানে ভালো ছবি তৈরি হওয়া মুশকিল। আলাদাভাবে একজনের যত মেধা থাকুক, সে ভালো ছবি করতে পারবে না। সত্যজিৎ রায়, মৃণাল সেন, ঋত্বিক ঘটক যখন ছবি বানাতেন, তখন বাণিজ্যিক ছবির পরিচালকদের নাম দেখুন- তপন সিংহ, তরুণ মজুমদার, অজয় কর, অসিত সেন। তাদের যে মাপ আর ছবির ধাপ, তার পাশে দাঁড়িয়ে সত্যজিৎ রায় বানালেন ‘পথের পাঁচালী’। যেখানে তেলেগু সিনেমার রিমেক আর আইটেম নাচ হয় সারাক্ষণ, সেখানে কী করে ভালো ছবি হবে? হবে না। বাণিজ্যিক শিল্প যদি না ভালো ছবি তৈরি করতে পারে, তাহলে বিকল্পধারার ছবিরও উন্নতি হবে না। অসম্ভব, এটা হতে পারে না। ‘পাগলু টু’ আর ‘পথের পাঁচালী’ পাশাপাশি হতেই পারবে না, সম্ভব নয়। "

প্রেত, টিপু কিবরিয়া অথবা রবি

IQBA8792

শিশুসাহিত্যিক মুহাম্মদ জাফর ইকবালের লেখা ভৌতিক গল্প 'প্রেত' নিয়ে অকালপ্রয়াত নির্মাতা আহির আলম তৈরী করেছিলেন হরর সিরিজ 'প্রেত'। মূল বইয়ের তুলনায় নাটকটি বেশী জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। নাটকের দ্বিতীয় ভাগে গল্প হরর থেকে মিস্ট্রিতে রূপ নিয়েছিল। পথশিশুদের লাশ পাওয়া যাচ্ছিল হঠাৎ করেই। অনুসন্ধান শেষ পর্যন্ত একজন প্রতিষ্ঠিত চিত্রশিল্পীর কাছে নিয়ে যায় যে তার শিল্পচর্চার জন্য পথশিশুদের ধরে এনে নির্মমভাবে হত্যা করতো! 

রবিবার, ১০ আগস্ট, ২০১৪

ভারতীয়দের স্বর্ণ বিষয়ক বিকৃত রুচি

Gold_bg_424329111

চার পেশীবহুল বডিগার্ডের মাঝে সোনালী পোশাকে যে ভদ্রলোক তার নাম পঙ্কজ পরখ। এই ছবির বিশেষত্ব হল - পরখের গায়ের শার্টটি ৪ কেজি সোনা দিয়ে নির্মিত। পঙ্কজ ভারতের মহারাষ্ট্রের প্রভাবশালী রাজনীতিক এবং শিল্পপতি।

বুধবার, ৬ আগস্ট, ২০১৪

জ্বলে ওঠার দরকার নেই গুরু

গুরু জেমস আবার আসছেন নতুন গান নিয়ে - অ্যালবাম নয়, এবার বাংলাদেশী চলচ্চিত্রের প্লেব্যাক!

রবিবার, ৩ আগস্ট, ২০১৪

শাকিব খানের নামোচ্চারন

শাকিব খানের নামোচ্চারন

'কুচ কুচ হোতা হ্যায়' সিনেমার নায়কের আসল নাম কি একবার মুখে বলুন তো। সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে 'কিক' নামের যে সিনেমাটি তার নায়কের আসল নামটাও একবার বলুন প্লিজ। বাংলাদেশে একজন সুদর্শন চলচ্চিত্র নায়ক ছিল - যার প্রথম চলচ্চিত্রটির নাম ছিল 'কেয়ামত থেকে কেয়ামত' - তার নামটিও একবার উচ্চারন করতে পারেন। বাংলাদেশের আরেকজন চলচ্চিত্র নায়ক যিনি এখন অভিনয় থেকে দূরে আছেন এবং চিত্রনায়িকা পপির সাথে জুটি বেধে অনেকগুলো চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছিলেন - তার নাম মনে করতে পারেন? সর্বশেষ, বর্তমানে বাংলাদেশী সিনেমার সবচেয়ে জনপ্রিয় নায়কের নাম কি আপনার জানা আছে? থাকলে তার নামও উচ্চারণ করুন প্লিজ। নিরবে নয়, সরবে!

মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই, ২০১৪

ঈদুল ফিতরের স্ট্যাটাস ২০১৪

news_image_2013-08-12_27092

১.
পুরো নাম আবুল কাশেম হলেও সবাই তাকে চেনে শুধু কাশেম হিসাবে, চেনার সুবিধার্থে নামের সাথে অবশ্য দুটো শব্দ যোগ করা হয় - কাশেম অটো ড্রাইভার। অটো গাড়িটা কাশেমের নয়, তার বড় ভাইয়ের - দু'ভাইয়ে মিলে মিশে চালায়। কাশেম অটো ড্রাইভারের আরেকটা পরিচয় হল - সে আমাদের পারিবারিক 'ড্রাইভার'। যত রাতই হোক বা যত ভোর - কাশেমকে মোবাইলে কল দিলেই সে তার গাড়ি নিয়ে চলে আসে আমাদের নিয়ে গন্তব্যে পৌছে দেয়ার জন্য।

বৃহস্পতিবার, ২৪ জুলাই, ২০১৪

সর্বোচ্চ আদালতে জমিলার মামলা

Jakat-cloth

দুইজন মহিলা পায়ের চাপে পিষ্ট হয়ে মারা গেছেন আজ সকালে। তাদের একজন জমিলা খাতুন, বয়স ৬০, অন্যজনের নাম জানা যায় নি, বয়স আনুমানিক ৫৫ বছর। এই দুইজন তাদের মালিকানার সম্পদ বুঝে নেয়ার জন্য জড়ো হয়েছিলেন মানিকগঞ্জ শহরের গার্লস স্কুল রোডের ব্যবসায়ী মাহবুব মোরশেদ রনুর বাসার সামনে। সম্পদের মালিকানা নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা। সম্পদশালী মুসলমানের সম্পদের শতকরা আড়াই ভাগ সেই ব্যক্তির নয়, যাকাতের বিধানের মাধ্যমে সেই সম্পদে কিছু নির্দিষ্ট ব্যক্তির মালিকানার সিদ্ধান্ত দেয়া হয়েছে কমপক্ষে দেড় হাজার বছর আগে।

বুধবার, ২৩ জুলাই, ২০১৪

মসজিদে মহিলাদের নামাজের ব্যবস্থা - ২

মসজিদে মহিলাদের নামাজের ব্যবস্থা থাকা জরুরী

১.
'এই মসজিদে কি মেয়েদের নামাজ পড়ার ব্যবস্থা আছে?' - বছর দুয়েক আগে হুবহু একই প্রশ্ন শুনেছিলাম জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপরীতের মসজিদে শুয়ে থাকার সময়। এবার শুনলাম মিরপুর সুইমিং কমপ্লেক্সের উল্টোদিকের গলির মসজিদে। প্রশ্নকর্তা এক ভদ্রলোক, সাথে তার স্ত্রী।

বৃহস্পতিবার, ১৭ জুলাই, ২০১৪

বিশ্বকাপে হারু-জিতু পার্টির সমর্থকদের উদ্দেশ্যে

bu
প্রিয় হারু পার্টির সমর্থকবৃন্দ,
এইবার বিল্ডিং এর ছাদ থেকে, ঘরের বারান্দা থেকে আপনার সমর্থনের হারু পার্টির জাতীয় পতাকা বাঁশসহ নিজ দায়িত্বে নামায়া নেন।

প্রিয় জিতু পার্টির সমর্থকবৃন্দ,
আপনার সমর্থনের জিতু পার্টি বিশ্বকাপ জিতেছে তাই বলে তার জাতীয় পতাকা কিন্তু একফুট উপরে বান্ধা শুরু করে নাই। সুত্রাং, এইবার নিজ দেশীয় পতাকার সম্মানে ওই পতাকাটা নামায়া নেন।

প্রিয় হারু-জিতু পার্টির সমর্থকসহ সকল সমর্থকবৃন্দ,
দেশপ্রেমের আতিশয্যে বাশেঁর আগায় বাঁন্ধা বাংলাদেশী পতাকাটা রাইখা দিয়েন না। এই দেশের জাতীয় পতাকা ব্যাভারেরও একটা নিয়ম আছে - যতটত্র বাশেঁর আগায় বান্ধা তার মধ্যে পড়ে না।

আশা করি আপ্নেরা ব্যাপারটা বুঝবেন। ধন্যবাদ।

বুধবার, ১৬ জুলাই, ২০১৪

যে যুদ্ধ সত্য ও মিথ্যার!


badar prantor

"হে আল্লাহ! তুমি যে বিজয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছো আমি তার জন্য অপেক্ষা করছি!"

দুই হাত উপরে তুলে তিনি এই দোয়া করলেন। তার স্থির বিশ্বাস - সাত আসমান উপরে আরশে বসে আছেন যিনি, তিনি অবশ্যই তার এই দুয়া কবুল করবেন। ক্ষুদ্র একটি বাহিনী নিয়ে তিনি এসেছেন লড়াই করতে - মাত্র তিনশত তেরো জন প্রায় নিরস্ত্র সাধারণ মানুষ। যুদ্ধ করতে এসেছেন পায়ে হেঁটে। তিনশ লোকের জন্য বাহন বলতে দুটো ঘোড়া আর গোটা সত্তর উট। প্রত্যেকটা উটে পালা করে তিনজন সওয়ারী হচ্ছেন। বাহন নেই, ভালো অস্ত্র-শস্ত্র নেই, পর্যাপ্ত খাবার নেই - কিন্তু তারা একত্রিত হয়েছেন তাঁর নেতৃত্বে, এসেছেন বিজয়ী বেশে ফিরে যাওয়ার জন্য - সেই বিজয় যার প্রতিশ্রুতি মহান রাব্বুল আলামীন দিয়েছেন।

সোমবার, ১৪ জুলাই, ২০১৪

মোটা মানুষের অদ্ভুত সমস্যা

Severe_itching

মনির দুই হাত পেছনের দিকে নিয়ে অদ্ভুত ভঙ্গিতে শরীর মোচড়াচ্ছিল। তাই দেখে এজিএম স্যার বললেন, 'কি মনির, তুমি রমজান মাসে ব্যায়াম করতেছো কেন?'
মনির উত্তর দিল না কিন্তু শরীর মোচড়ানো বন্ধও করল না। 
এজিএম স্যার বের হয়ে গেলে মনির আমাকে ডাকল, 'ভাই একটু এদিকে আসেন তো!'
আমি গেলাম, সে উল্টো হয়ে পিঠ দিয়ে দাড়াল, 'এদিকে একটু হাত দেন'
আমি মনিরের পিঠে হাত রাখলাম।
'এদিকে না, আরেকটু উপরে' - দুই ইঞ্চি উপরে হাত রাখলাম।
'এহ হে বেশী উপরে হয়ে গেছে, আরেকটু নিচে' - আমি ইঞ্চিখানেক নিচে নামালাম।
'এবার একটু ডানে' - ডানে সরালাম।
'আরেকটু' - আরও একটু ডানে সরালাম হাত।
'একটু নিচে' - হাফ ইঞ্চি নিচে নামালাম।
'হ্যা হ্যা এইবার ঠিক হইছে। এইবার ভাই একটু চুলকায়া দেন। জোরে দিয়েন, আমার হাত পৌছায় না ওইখানে।'

আমি সবকটা দাঁত বের করে হাসতে হাসতে 'জোরে' চুলকায়া দিলাম মনিরের পিঠ। মোটা মানুষের কত না আজিব সমস্যা !

রবিবার, ১৩ জুলাই, ২০১৪

বাংলাদেশীদের আবেগসর্বস্বতা

Amzad Hossain


বাংলাদেশীদের আবেগসর্বস্বতা বিভিন্ন সময়ে সংবাদের শিরোনাম হয়েছে - গত কয়েকদিন ধরে এরকমই আরেকটি সংবাদ পত্রিকার পাতায় প্রকাশিত হচ্ছে। ঘটনার জন্ম দিয়েছেন মাগুরার একজন কৃষক, নাম আমজাদ হোসেন।

বৃহস্পতিবার, ২৬ জুন, ২০১৪

শনিবার, ১৪ জুন, ২০১৪

ভালোবাসায় শাস্তি শাস্তি খেলা

7ded18377b51891fce1b1d1d4eda9d05দরজা খুলতেই রিমা বলল, ‘তোর বাসায় আজকের রাতটা থাকবো। সমস্যা থাকলে বলে ফ্যাল, দরজা থেকেই বিদায় নেই’।


রিমা কেন আমার বাসায় রাত থাকতে চায় সে কারণ আমি আন্দাজ করতে পারি তারপরও জিজ্ঞাসা করতে হয়, তাই জানতে চাইলাম – থাকতে চাস, থাকবি! কিন্তু তোর রিকশাওয়ালা জামাই কই? এখনো সদরঘাটে ট্রিপ দিচ্ছে নাকি?

বুধবার, ২১ মে, ২০১৪

পরপারে চলচ্চিত্র প্রদর্শন

সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী ও অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন তার স্বামীর উপন্যাস 'গৌরীপুর জংশন' অবলম্বনে চলচ্চিত্র নির্মান প্রসঙ্গে বলেছেন -
আমি চাই ‘গৌরীপুর জংশন’ উপন্যাসটির শতভাগ সদ্ব্যবহার করতে চলচ্চিত্র মাধ্যমে। চলচ্চিত্রটি দেখে ওপার থেকে যেন তিনি মুগ্ধ হন।  সেই ভাবনা নিয়েই আমি চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করতে চাই।

ইয়ে, এপারের সিনেমা কি আজকাল 'পরপারেও' প্রদর্শিত হচ্চে? ডিস্টিবিউটরটা কে? আমি তাহলে কিছু সিনেমার লিস্টি ধরায়া দিতাম আর্কি!

রবিবার, ১১ মে, ২০১৪

চলচ্চিত্রের বিভিন্ন যুগ

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কার ২০১২ প্রদান অনুষ্ঠানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন -
একসময় চলচ্চিত্রে ছিল নির্বাক যুগ, তারপর সবাক যুগ, এখন ডিজিটাল যুগ।

শব্দের ব্যবহারের উপর ভিত্তি করে চলচ্চিত্রের নির্বাক-সবাক যুগের বিভাজন, এর সাথে প্রযুক্তির ব্যবহার ঢুকে ডিজিটাল যুগ কিভাবে শুরু হল তা বুঝতে পারলাম না। অ্যানালগ যুগের পর ডিজিটাল যুগের শুরু হয়েছে - নির্বাক সবাক যুগের পর যদি কোন যুগ এসেই থাকে তবে সে হচ্ছে চাপাবাজির যুগ। নির্বাগ যুগ-সবাক যুগ-চাপাবাজি যুগ। বাংলাদেশের সিনেমায় যা হয় এবং হচ্ছে - সে নির্মাতাগোষ্ঠী আর সরকারগোষ্ঠী - দুই-ই চাপাবাজি ছাড়া আর কিছু না

বুধবার, ৩০ এপ্রিল, ২০১৪

How good is MY taste in films?

Badge-Film-Blog-001

ব্রিটিশ পত্রিকা দ্য গার্ডিয়ান এর একটা কুইজের লিংক পাওয়া গেল টুইটারে। শিরোনাম: Quiz: How good is your Taste in Films? আগ্রহোদ্দীপক বিষয়। আমি পার্টিসিপেট করলাম। তারা শুরু করেছে এভাবে -

মঙ্গলবার, ২৯ এপ্রিল, ২০১৪

ডিয়ার প্যারেন্টস, আরেকটু আধুনিক হন!

8339016324_76c2f2e576_z_2563


হাতিরঝিল উদ্বোধন হওয়ার পর পর জায়গাটার গুরুত্ব দুই দল মানুষের কাছে ভুস করে বেড়ে গেল! একদল হল টিভি মিডিয়ার সাথে সম্পৃক্ত লোকজন। টেলিভিশনের যত অনুষ্ঠান - নাটক থেকে শুরু করে ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান, টকশো থেকে শুরু করে রান্না-বান্না-রূপচর্চা - সবই হাতিরঝিলের আলো ঝলমলে ঝুলন্ত সেতুর সামনে হতে লাগল। দ্বিতীয় দল হল ঢাকার যত প্রেমিক জুটি - প্রি ম্যারিটাল, ম্যারিটাল এবং এক্সট্রা ম্যারিটাল রিলেশনশিপে এনগেজড কিউপিড দেবীর অনুসারীরা। জাতীয়তাবাদী প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবরস্থানকে ঘিরে যে সৌন্দর্যবর্ধন বিএনপি সরকার করেছিল, আওয়ামী সরকারের কল্যাণে তা এখন প্রায় পরিত্যক্ত ডেটিং স্পট। ফলতঃ হাতিরঝিল উত্তম বিকল্প হিসেবে গ্রহণ করতে প্রেমিক সম্প্রদায়ের আপত্তি হয় নি।

গোপনে বিয়ে এবং বিচ্ছেদ

kazi
'ফেসবুকে নাই, গুম হয়ে গেলেন কিনা' - নিশ্চিত হওয়ার আগ্রহে এক বড় ভাই ফোন দিলেন আজকে। গুম করে নি কেউ - ভাইকে হতাশ করতেই হল! কুশল বিনিময়ের মাঝে জিজ্ঞেস করলাম - ভাবী কেমন আছেন? উত্তরে 'ভালো' বলার পর ভাই যোগ করলেন, 'একটা কথা আছে, আপনাকে বলা যায়, আর কাউকে বলি নাই ...'।

বৃহস্পতিবার, ২৪ এপ্রিল, ২০১৪

আবার চাই - ডে লাইট সেভিং

গত কয়েকদিনে দেশের সবচে বেশী যে ইস্যুতে কথা হয়েছে তা সম্ভবত - গরম এবং তাপমাত্রা। ৪০-৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে। তুলনা হিসেবে সৌদী আরবের তাপমাত্রা এসেছে - বাংলাদেশের তাপমাত্রা কোন কোনদিন রিয়াদের তাপমাত্রাকেও ছাড়িয়েছে। অসহনীয় এই গরমের সাথে আছে তীব্র লোডশেডিং। মাঝরাতে লোডশেডিং হচ্ছে - ফলে গরমের কারণে ঘুমের ব্যাঘাতও ঘটছে। এই সমস্যার সমাধানে ডে-লাইট সেভিং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

সোমবার, ২১ এপ্রিল, ২০১৪

পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়কে অব্যহতি - কেন?




এফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে বিদায় নিয়েছেন পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়। চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ শেষ হয়ে যাওয়ায় (এবং বাংলাদেশে ভারতীয় সিনেমা আমদানী ও প্রতিষ্ঠিত করতে ব্যর্থ হওয়ায়) তাকে এ দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।



নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগের আগ পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তথ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হারুন উর রশিদকে। (ভারতীয় সিনেমা আমদানী করতে সফল হবেন এমন যোগ্যতা সম্পন্ন কাউকে না পাওয়া পর্যন্ত তিনিই আমদানী চেষ্টা চালিয়ে যাবেন)।


 

রবিবার, ২০ এপ্রিল, ২০১৪

ফকিরাপুলে ভোরবেলার ছিনতাইকারীরা

ছবি: বাংলামেইল
গত ফেব্রুয়ারী মাসের ঘটনা। সিলেটের এক বন্ধু তার মা'র চিকিৎসার জন্য ঢাকায় এল। নাইটকোচে ঢাকায় এসে ডাক্তার দেখিয়ে ওইদিনই ফিরে যাবে - এমন পরিকল্পনা। নিরাপদে ঢাকায় ফকিরাপুল পৌছেছেন - ফজরের সময় এমন সংবাদ পেয়ে আবার ঘুমিয়েছি। মিনিট পনেরো বাদেই আবার ফোন - ছিনতাই হয়ে গেছে সব! আম্মার হাতে ব্যাগ ছিল, সেই ব্যাগ ধরে টান দিয়ে নিযে গিয়েছেছে একটা প্রাইভেট কার থেকে। হ্যাচকা টানে তাল সামলাতে না পেরে অসুস্থ্য আম্মা পড়ে গেছেন রিকশা থেকে, শাড়ি ছিড়ে গেছে, চামড়া ছিলে গিয়েছে, ব্যাথা পেয়েছেন কয়েক জায়গায়। সবচে বড় দুর্ঘটনা হল - চৌদ্দ হাজার টাকা ছিল ওই ব্যাগে - এখন রিকশা ভাড়া দেয়া ছাড়া আর কোন টাকাই নেই তাদের কাছে! 

শুক্রবার, ১৮ এপ্রিল, ২০১৪

নার্সিসিজম এবং সোশ্যাল মিডিয়া

নারায়নগঞ্জের স্কুলছাত্র ত্বকী হত্যাকান্ডের পর গল্পটা বলেছিলাম, আরও একবার বলি। 
এক ছেলে কম্পিউটারে মজা করতে গিয়ে কিল বিল কিল বিল কিল বিল লিখে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দিয়েছিল। ছেলেমানুষী কর্মকান্ড, কিন্তু আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থা এই কাজকে প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনকে হত্যা করার নির্দেশনা হিসেবে চিহ্নিত করে সেই ছেলেকে খুজে গ্রেপ্তার করে ফেলেছে। বছর কয়েক পরে, আরেকটা ঘটনা ঘটল - একদম আমার নিজের বাংলাদেশে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ইমেইল করে হত্যার হুমকীয় দিয়ে ফেলল এক তরুণ ছেলে। টক অব দ্য কান্ট্রি! অল্প কদিন পরেই, সম্ভবত তিন দিন, বাংলাদেশের পুলিশ সেই ছেলেটাকে ধরে ফেলল। ঢাকা শহরের কোন এক সাইবার ক্যাফে থেকে সে মেইলটা করেছিল।

মঙ্গলবার, ১৫ এপ্রিল, ২০১৪

বাংলাদেশী চলচ্চিত্রে বাংলা সংস্কৃতি

বাংলা বৎসরের প্রথম দিনে বোধহয় বাংলাদেশী সিনেমায় বাংলাদেশী সংস্কৃতির উপস্থিতি নিয়ে কথা বলা একদিনের বাঙ্গালীপনা হিসেবে গণ্য হবে না - এই ভরসায় প্রশ্ন করি - বাংলাদেশী সিনেমা কতটুকু বাংলাদেশী?

সোমবার, ১৪ এপ্রিল, ২০১৪

নববর্ষের খাবারঃ ঘরে বানানো খই, দেশী মুর্গির ডিম পোচ এবং গুঠিয়ার বিখ্যাত সন্দেশ

ঠেকায় না পড়লে বাংলা নববর্ষের দিনে আমি ঢাকায় থাকি না। নববর্ষের মত বিশেষ দিনগুলোতে শাহবাগে জাহান্নামের পরিবেশ সম্পর্কে প্রাথমিক ধারনা লাভ করা যায়। ব্যক্তিগতভাবে আমি জান্নাত প্রত্যাশী, জাহান্নামের স্বাদ নিতে গিয়ে জাহান্নামের বাসিন্দা হওয়ার বিন্দুমাত্র আগ্রহ বোধ করি না, তাই প্রত্যেক নববর্ষের আগেই আমি ঢাকা থেকে পালাই - গৃহবন্দী হয়ে থাকার চে' পালানো ঢের ভালো।

রবিবার, ১৩ এপ্রিল, ২০১৪

স্কাইফল সিনেমাটোগ্রাফারের ১০ টিপস

_74176195_rogerdeakins_gettyসিনেমাটোগ্রাফার রজার ডেকিন্স তার জীবনে ৬০টির বেশী পুরস্কার পেয়েছেন, এর মাঝে তিনটি বাফটা অ্যাওয়ার্ড। এগারোবার অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডস বা অস্কারের নমিনেশন পেলেও একবারও জিততে পারেন নি। তার ফটোগ্রাফি ডিরেকশনে নির্মিত সিনেমাগুলোর মধ্য খুব বিখ্যাত কিছু সিনেমা হল - দ্য শশাঙ্ক রিডেমশন, নো কান্ট্রি ফর ওল্ড ম্যান, স্কাইফল, ট্রু গ্রিট, আ বিউটিফুল মাইন্ড, দ্য রিডার, রিভ্যলুশ্যনারী রোড ইত্যাদি। গত ১৪ এপ্রিল বিবিসি-তে সিনেমাটোগ্রাফি নিয়ে তার অভিজ্ঞতালব্ধ ১০টি টিপস দিয়েছেন রজার ডেকিন্স - এই লেখাটা মূলত সেই টিপসগুলোরই দারাশিকো-ভার্সন।

শনিবার, ১২ এপ্রিল, ২০১৪

Wyatt Earp: বায়োগ্রাফিক ওয়েস্টার্ণ

wyatt-earp-movie-poster-1994-1020192353নেতিবাচক দিয়ে শুরু করি। ওয়াইট আর্প সিনেমাটি পাঁচটি ক্যাটাগরীতে রেজ্জি অ্যাওয়ার্ড নমিনেশন পেয়েছিল - সবচে বাজে ছবি, সবচে বাজে পরিচালক, সবচে বাজে অভিনেতা, সবচে বাজে রিমেক/সিক্যুয়েল এবং পর্দায় সবচে বাজে জুটি। পাঁচটির মধ্যে দুটি ক্যাটাগরীতে রেজি অ্যাওয়ার্ড জিতে নিয়েছে ছবিটি - সবচে বাজে অভিনেতা এবং সবচে বাজে রিমেক/সিক্যুয়েল। পুরস্কার এবং 'সবচে বাজে' শব্দগুলো নিয়ে যারা কনফিউজড তাদের জ্ঞাতার্থে জানিয়ে রাখি - রেজ্জি অ্যাওয়ার্ড হল গোল্ডের রাস্পবেরি অ্যাওয়ার্ড (Golden Raspberry Award) এর ডাক নাম। ১৯৮০ সাল থেকে অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ড বা অস্কারের পরের দিন সিনেমার সবচে খারাপ দিকের জন্য এই পুরস্কার দেয়া হয়। বলা বাহুল্য, অস্কার যেমন সকলের আরাধ্য, তেমনি রেজ্জি সকলের কাছে ঘৃনার্হ।


রেজ্জি অ্যাওয়ার্ড পাওয়া সিনেমা নিয়ে কেন লিখছি? সিনেমা দেখার আগে জানা ছিল না। একটু পড়াশোনা করে নিলে হয়তো এই ছবিটা দেখা হত না। দেখার আগ্রহ মূলত ছবির প্রধান চরিত্র ওয়াইট আর্প রূপী কেভিন কস্টনার।

শুক্রবার, ১১ এপ্রিল, ২০১৪

ফেসবুক বন্ধের দুই সপ্তাহ

ছবি কৃতজ্ঞতা: www.tothepc.com
ফেসবুক ডিঅ্যাকটিভেট করেছি দুই সপ্তাহ হল। গত ২৮ মার্চ শুক্রবার ফেসবুক থেকে বিদায় নিয়েছি, সাময়িক এবং অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য। সাময়িক, কারণ প্রয়োজনে আবারও ফিরবো, অনির্দিষ্ট - কারণ কবে ফিরবো এখনো জানি না। ছোট ছোট কিছু ফাইন্ডিংস আছে ফেসবুক ডিঅ্যাকটিভেশনের - 
১. ফেসবুকে আমি নেই - এটা আবিস্কার করার পর আমাকে ফোন /এসএমএস / মেইল করে কারণ জানতে চাবে, এমন আশা আমি করিনি কখনো। কারণ আমার বিশ্বাস - বেশীরভাগ মানুষই সহসা খেয়াল করবে না তার ফ্রেন্ডলিস্ট থেকে একজনের অ্যাকাউন্ট ডিঅ্যাকটিভেটেড। যদি নিয়মিত অ্যাকটিভিটি থাকে এমন কেউ হয়, তবেও সেটা নজরে পড়তে পড়তে সপ্তাহখানেক লেগে যাওয়ার কথা। এখন পর্যন্ত এই বিশ্বাসে অটল আছি - আমার ধারনা অল্প কিছু মানুষ ছাড়া কেউ-ই এখনো বুঝতে পারে নি যে দারাশিকো'র ফেসবুক প্রোফাইল বন্ধ! ব্যাপারটা তৃপ্তিদায়ক - অনেক মানুষের মধ্য থেকে টুপ করে ডুব দেয়ার একটা মজা আছে - সেই মজা পাচ্ছি এখন।

২. ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ডিঅ্যাকটিভেট করে দিয়েছি - এই খবর শোনার পর বেশীরভাগ মানুষই ধারনা করে কোন 'একজনের' জন্য অ্যাকাউন্ট বন্ধ করেছি, কিছু 'একটার' জন্য নয়। ছোটভাইবন্ধু একজন তো সরাসরি জিজ্ঞেস করে ফেলল - ভাবী চলে গেছে নাকি? ভাবী কালচারে যে আমার আগ্রহ নাই - অন্যরা সেটা জানে না বা বিশ্বাস করে না। 

৩. ফেসবুক বন্ধ করার পরে টুইটারে অনেক বেশী অ্যাকটিভ হয়েছি। তবে টুইটারে ফেসবুকের মত সারাদিন বসে থেকে সময় নষ্ট করার সুযোগ তুলনামূলকভাবে কম, অন্ততঃ এখন পর্যন্ত। আগে ফেসবুকের স্ট্যাটাস ইত্যাদি লেখাগুলো দারাশিকো'র সিন্দুক ব্লগস্পটে সংরক্ষন করে রাখা হত, এখন ব্লগস্পটের জন্যই লেখা হচ্ছে। মাঝ থেকে সারাদিন ফেসবুকে বসে থাকার, কিছুক্ষন পর পর লাইক/কমেন্ট নোটিফিকেশন চেক করার গ্যাঞ্জাম নেই। পাঠক কম, এবং ব্লগস্পটে বেশী লোক আসে না সুতরাং গ্যাঞ্জাম তৈরীর সুযোগও কম।

৪. নিজের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেয়ার কারণে আমার পরিচালিত দুটো পেজ কিভাবে আপডেট করা হবে সে চিন্তায় ছিলাম প্রথম দুইদিন, সে ব্যবস্থা হয়ে গেছে। তবে, ফেসবুকের মাধ্যমে মেইল কমিউনিকেশনের এখন পর্যন্ত কোন বিকল্প পাওয়া যায় নি। এই সমস্যার সমাধান জরুরী।

৫. ফেসবুক বন্ধ করার পর কেমন আছি? অনেক পরিচিত, ভালোলাগার, আগ্রহের মানুষের ছবি, পোস্ট ইত্যাদি থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। বঞ্চিত হওয়ার পর উপলব্ধি করেছি - এই বঞ্চনা আসলে খুব বেশী প্রভাব ফেলছে না। প্রি-ফেসবুক যুগে তো এত মানুষের এত এত কর্মকান্ড সম্পর্কে জানতাম না, এখনও জানছি না - খুব ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে বলে মনেও হচ্ছে না। ফেসবুক বন্ধ করার ফলে অপছন্দনীয়, কষ্টদায়ক, অস্বস্তিদায়ক, লোভনীয় অনেক ব্যাপার থেকে দূরে থাকা যাচ্ছে - এটাও একটি ভালো দিক। 

সব দিক বিবেচনা করে মনে হচ্ছে বেশ ভালো আছি, তৃপ্তিতে আছি। তবে এটা কি নিজেকে নিজে বুঝ দেয়ার ভন্ডামি কিনা - সে সিদ্ধান্তে পৌছাতে আরেকটু সময় লাগবে। ততদিন পর্যন্ত নাহয় টুইটিং আর ব্লগিংই চলুক!

বৃহস্পতিবার, ১০ এপ্রিল, ২০১৪

মাহিয়া মাহির রূপের গোপন রহস্য!



আর অল্প ক'দিন অপেক্ষা! তারপরই টিভিপর্দায় চলচ্চিত্র নায়িকা মাহিয়া মাহি এসে জানাবেন - তার সাদা চামড়ার পেছনে রহস্য হল ফেয়ার অ্যান্ড লাভলী। তিনি দিনে মাখতেন, রাতেও মাখতেন। সকালে পাউরুটিতে জেলীর পরিবর্তে ফেয়ার অ্যান্ড লাভলী মাখিয়ে ও দুপরে গম ভাতের সাথে ঘি-এর পরিবর্তে দু চামচ সুস্বাদু ফেয়ার অ্যান্ড লাভলী খেতেন। শ্যুটিং এ ফাস্ট ফুডে চিজ এর পরিবর্তে পাতলা ফেয়ার অ্যান্ড লাভলীর খান প্রতিদিন, গোসলের আগে গোলাপজলের পরিবর্তে পানিতে আধা টেবিল চামচ লিকুইড ফেয়ার অ্যান্ড লাভলী মিশিয়ে নিতেও ভুলেন না। এছাড়া, রুমে এয়ার ফ্রেশনার হিসেবে তিনি ব্যবহার করেন ফেয়ার অ্যান্ড লাভলী স্প্রে। সারাদিন ফেয়ার অ্যান্ড লাভলীর সাথে থাকেন বলেই তিনি এত লাভলী। সুতরাং আপনিও সারাদিন ফেয়ার অ্যান্ড লাভলীর সাথেই থাকুন!


খবর: চলচ্চিত্র নায়িকা মাহিয়া মাহি ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেডের পণ্য ‘ফেয়ার অ্যান্ড লাভলী’র ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন। (মানবজমিন)

 

সোনার খনি বাংলাদেশ



রবিঠাকুরের সোনার বাংলাদেশের স্বপ্ন পূরণ হয়ে গেছে, বাংলাদেশ হয়ে গেছে সোনার খনি। এখানে ওখানে সোনা পাওয়া যাচ্ছে, তবে আদ্যিকালের বালুমাটিমিশ্রিত সোনা নয়, একেবারে প্রসেসড সোনার বিস্কুট। যার একেকটি বারের দাম কয়েক লাখ টাকা।


কোথায় পাওয়া যাচ্ছে না সোনা? গাড়িতে। টয়লেটে। জুতায়। স্যুটকেসে। মুম্বাইয়ে তো এক ভদ্রমহিলার পড়নে থাকা ছয়টি অন্তর্বাসের মধ্যেও পাওয়া গেল। এদেশে এখনো ওই খবর পাওয়া যায় নি, তবে সার্চ করলে পাওয়া যে যাবে না তার নিশ্চয়তাও দেয়া যাচ্ছে না। বিমানবন্দরে বেল্টে, বারান্দায় যত্রটত্র সোনা পাওয়া যাচ্ছে।

সোনা দিয়া বান্ধায়াছি বিমান বন্দর - ও মনরে ..

এত এত সোনা যাচ্ছে যে কোথায় সে নিয়ে অবশ্য প্রশ্ন দেখা যাচ্ছে। সোনার বাম্পার ফলন হলেও, জায়গামত সোনার ঘাটতিও দেখা যাচ্ছে। বিদেশীদের মুক্তিযুদ্ধের সম্মাননা ক্রেস্টে যেমন কম পাওয়া গেল। ক্রেস্টে সোনা থাকার কথা ছিল ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম, সেখানে পাওয়া গেছে ২ দশমিক ৩৬৩ গ্রাম। বাকীটা? বোধহয় ওগুলোই গাড়িতে-টয়লেটে পড়ে আছে। (সৈয়দ আবুল মকসুদের এই লেখাটা পড়ে দেখা যেতে পারে)


যে সোনা ফলেছে রাস্তা-ঘাটে তা যাচ্ছে কোথায়? উত্তরটা সহজ। এই সোনা বাংলাদেশে আসছে না, যাচ্ছে ভারতে। বাংলাদেশ হল সোনার চালানের রুট। এদিক ওদিক থেকে দুয়েক বস্তা মাটিতে পড়ে যাচ্ছে আর তাই নিয়েই মাতামাতি।




ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে পাওয়া গেল -
ভারতের বিশাল স্বর্ণের চাহিদা মেটাতে বাংলাদেশকে সোনা চোরাচালানের স্বর্গরাজ্য বানানো হয়েছে। যে পরিমান স্বর্ণ চোরাচালান হচ্ছে তার সিকিভাগও চাহিদা নেই বাংলাদেশে। আর যেগুলো ধরা পড়ছে তা আইওয়াশ ছাড়া কিছুই না। কারন এরছেয়ে কয়েকগুণ সোনা নিয়মিত বিমানবন্দর দিয়ে বিনা শুল্কে প্রবেশ করাচ্ছে অসাধু কিছু কর্মকর্তা। ভারতের বিমানবন্দর সম্পুর্ণ ডিজিটাল হওয়ায় সেখানে চোরাচালান সম্ভব না হওয়ায় বাংলাদেশকে ট্রানজিট পয়েন্ট বানানো হয়েছে।


 



সোনা চোরাচালানের সমস্যাটা কি? কালেরকন্ঠের সম্পাদকীয়তে উত্তর পাওয়া যাবে - 
এই চোরাচালানের সঙ্গে ভারতের ৩০টি এবং বাংলাদেশের ৪০টি গ্রুপ জড়িত। সাধারণত সোনা চোরাচালানের অর্থ পরিশোধ করা হয় হুন্ডির মাধ্যমে। আবার দেশে চোরাচালান হয়ে আসা অস্ত্রের দাম মেটানো হয় চোরাচালানের সোনা দিয়ে। ফলে এর সঙ্গে অস্ত্র চোরাচালানেরও একটি ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। আন্তর্জাতিক মাদক চোরাচালানের ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবেও বাংলাদেশ যথেষ্ট পরিচিতি লাভ করেছে। এই চোরাচালানি গ্রুপগুলো যে মাদক চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত নয়, তা কে বলবে। আবার রাজনীতিবিদ ও প্রভাবশালী যেসব ব্যক্তি এই চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত, তাদের পক্ষে অবৈধ অর্থ উপার্জনের জন্য যেকোনো ধরনের অপরাধকর্মে যুক্ত হওয়া অবাস্তব কিছু নয়। ফলে দেশ দ্রুত হত্যা, গুমসহ নানা ধরনের অপরাধের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হবে। পাশাপাশি দেশের অর্থনীতি, রাজনীতি, সমাজ ও শৃঙ্খলার জন্যও অচিরেই তা হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। কাজেই এমন একটি জঘন্য অপরাধকে অঙ্কুরেই বিনষ্ট করা না গেলে তা একসময় দেশের স্থিতিশীলতা, এমনকি সার্বভৌমত্বের ওপরও আঘাত হানতে পারে।


 

সোনার বাম্পার ফলনে চাষীর তেমন কোন সমস্যা হয় না, যা হওয়ার আলূ-চাষীর হয়। সোনার এই ফলনে আলুচাষীরা সোনা-চাষে অগ্রসর হয় কিনা তা দেখার জন্য অপেক্ষা করছি, আপনিও যোগ দিতে পারেন।


ছবি কৃতজ্ঞতা: বাংলানিউজ২৪ডটকম

বুধবার, ৯ এপ্রিল, ২০১৪

গল্প: মধ্যরাতের পরে


 

রাত ৩.৩৫। মোবাইলের ভাইব্রেশনে ধ্রুবর ঘুম ভাঙল। চোখ না খুলেই অ্যালার্ম বন্ধ করে দিল সে। তারপর ডানদিকে হাত বাড়িয়ে দিল। ফাঁকা। রূপা নেই!


চোখ খুলে মোবাইল সময় দেখল ধ্রুব। তিনটে বিশে অ্যালার্ম বাজার কথা। সময়মত বন্ধ না করলে একটু পর পর বাজতে থাকবে অ্যালার্ম। ঘুমের ঘোরে ভাইব্রেশন মোডে রাখা অ্যালার্ম শুনতে পায় নি, দেরী হয়ে গেছে পনেরো মিনিট। রূপা ফেরেনি বিছানায়, সুতরাং ধ্রুব উঠল।


ছোট্ট দুই রুমের এই ফ্ল্যাটে তাদের দুজনের সংসারের বয়স সতেরো দিন। এ মাসেরই চোদ্দ তারিখ শুক্রবারে পারিবারিক আয়োজনে বিয়ে। বিয়ের আগেই বাসা নেয়া হয়েছিল। সুতরাং বিয়ের তিনদিনের মাথায়ই রূপাকে নিয়ে নতুন বাসায় সংসার শুরু। দশদিন বাদেই রূপার বিসিএস রিটেন পরীক্ষা, তাই দেরী করার উপায় ছিল না। পরীক্ষার পরেই বিয়ে হোক - এমনটি ধ্রুবরা চেয়েছিল, কিন্তু রূপাদের আগ্রহে বিয়ে হয়ে গেল। তেরো তারিখ সকালে বাড়ি পৌছে চৌদ্দ তারিখে বিয়ে, পনেরোতে বৌভাত, ষোল রাতে রওয়ানা করে সতেরোতে নিজেদের সংসার। সংসার বলতে ডাবল খাটের এক কোনায় জড়াজড়ি করে থাকা আর পরস্পরের খোঁজখবর নেয়া-ভালোবাসা ইত্যাদি। পরীক্ষা বলে রূপাকে রান্নাবান্নার ঝামেলায় জড়াতে দেয় নি ধ্রুবর ছোট খালা, দুটো গলি পরেই থাকেন তিনি। নিজে এসে বা বড় মেয়েকে দিয়ে একদিনের খাবার রান্না করে পাঠিয়ে দিচ্ছেন শুরু থেকেই, গরম করে খাওয়ার কাজটা রূপা-ধ্রুব মিলে মিশে করে নিচ্ছে।


পাশের রুমে ঢুকল ধ্রুব। যা ভেবেছিল তাই। বাতি জ্বলছে, ফ্যান ঘুরছে এবং খোলা বইয়ের উপর বাম হাতের মাথা রেখে ঘুমাচ্ছে রূপা। খোলা চুল বাতাসে উড়ে গাল-মুখ ঢেকে রেখেছে। রূপার পড়ার টেবিল আর ধ্রুবর কম্পিউটার টেবিল একটাই। কম্পিউটারের খোলা স্ক্রিনে ডায়লগ বক্স বলছে ধ্রুবর কমান্ড দেয়া সিনেমা ডাউনলোড কম্প্লিট। হাতের উপর দুটো মশা রক্ত খেয়ে ফুলে আছে, কপালে আরেকটা। হাত এবং মাথার টানে খোলা বইয়ের পাতা ছিড়ে যাচ্ছে প্রায় কিন্তু রূপা ঘুমাচ্ছে!


রাত তিনটে পর্যন্ত পড়ে তারপর ঘুমুতে যাবে - এই শর্তে সাড়ে বারোটার দিকে ধ্রুব শুয়ে পড়েছিল। এখন বাজছে প্রায় পৌনে চারটা, তারমানে রূপা আজও তিনটেয় পড়া শেষ করে নি। অবশ্য গত ক'দিনে একদিন মাত্র সময়মত শুয়েছে সে, পরদিন পরীক্ষা ছিল না বলে। ছটায় আবার অ্যালার্ম বাজবে, কিন্তু ঘুম থেকে উঠতে পারবে না সেই অ্যালার্মে। তাই ধ্রুব মোবাইলেও অ্যালার্ম সেট করা ছ'টায়। সেই ডেকে তোলে রূপাকে - রাতে রূপার ঘুম সব মিলিয়ে মাত্র তিন ঘন্টা।


কম্পিউটারটা বন্ধ করে দিল ধ্রুব। মাথার নিচ থেকে বইটা টেনে বের করে বন্ধ করল সেটাও। 'চলো, বিছানায় ঘুমাবে' - আস্তে করে রূপাকে বলল সে। উত্তরের অপেক্ষা না করে পাঁজাকোলে তুলে নিল রূপাকে, টের পেয়ে আধা-জাগ্রত রূপা ধ্রুবর গলা জড়িয়ে ধরল। রূপার হালকা শরীরটাকে তুলে নিয়ে বিছানায় শুইয়ে দিল ধ্রুব।


তারপর ফিরে এল আবার। লাইট-ফ্যান বন্ধ করে দিল। রূপার মোবাইলে স্ক্রিন লক খুলে অ্যালার্মটা বন্ধ করে দিল। তারপর নিজের মোবাইলে অ্যালার্ম সেট করল - সাড়ে ছ'টা!  আধাঘন্টা বেশী ঘুমাক!


ছবি কৃতজ্ঞতা: www.123rf.com

সোমবার, ৭ এপ্রিল, ২০১৪

বিষয়ঃ ফেসবুকে পোস্টের লিমিটেড অর্গানিক রিচ


ফেসবুকে আমার পরিচালনায় দুটো ফ্যান পেইজ আছে। প্রথমটি আমার ব্যক্তিগত ব্লগ দারাশিকো ডট কম এর পেইজ - দারাশিকো ব্লগ। দ্বিতীয়টি বাংলা মুভি ডেটাবেজ এর অফিসিয়াল পেজ। গত ২৫/২৬ মার্চ থেকে পেজ থেকে শেয়ার করা স্ট্যাটাস, লিংক ইত্যাদির রিচ (ইউজারের ওয়াল পর্যন্ত পৌছানো) হঠাৎ কমে গেল। আগে গড়ে কোন পোস্ট যেখানে দুই থেকে তিনশ লোক পর্যন্ত পৌছাতো, সেগুলো নেমে গিয়ে বিশ থেকে পঞ্চাশে দাড়ালো এবং কোন পোস্টই একশ পর্যন্ত পৌছালো না। 

যে কোন ফেসবুক পেজের জন্যই ব্যাপারটা দুশ্চিন্তা উৎপাদনকারী। ওয়েবসাইটদুটোকে আরও বেশী লোকের কাছে পৌছে দেয়ার জন্যই ফেসবুক পেজ, কিন্তু তার রিচ যদি কমে যায় এভাবে, তাহলে ফেসবুক পেজের ভূমিকা কি থাকতে পারে সেটা প্রশ্নসাপেক্ষ। রুহুল্কার কাছ থেকে জানা গেল - বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে আরও আয় করার উদ্দেশ্যে পেজ মালিকরা যেন বিজ্ঞাপনের দিকে ঝুঁকতে বাধ্য হন, তাই ফেসবুক নতুন এই পলিসি গ্রহণ করেছে। আরও বিস্তারিত জানার জন্য গুগল করতে হল। সত্যতা পাওয়া গেল। 

ঘাঁটতে গিয়ে Eat24.com এর একটি লেখার খোঁজ পাওয়া গেল। ফেসবুককে উদ্দেশ্য করে তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে একটি ব্লগ প্রকাশ করা হয়েছে - শিরোনামটি খুবই চমৎকার - A breakup letter to Facebook from Eat24। সুপাঠ্য পোস্ট। প্রায় ৭০,০০০ ফলোয়ার থাকার পরেও ইট২৪ কেন ফেসবুক পেজটি বন্ধ করে দিতে যাচ্ছে এবং ফেসবুকের নতুন এলগরিদম কেন ব্রেকআপের কারণ হয়ে দাড়িয়েছে - পোস্টে তার ব্যাখ্যা করা হয়েছে। ফেসবুক থেকে সরে গিয়ে তারা টুইটার, পিন্টারেস্ট বা ইউটিউবে বেশী সময় দেয়ার ঘোষনাও দিয়েছে। 

গত ২৮ মার্চ ২০১৪ তারিখ থেকে আমার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি ডিঅ্যাকটিভেট করা আছে, ফলে, এই দুই সাইটের প্রমোশনের জন্য ফেসবুক পেজ ছাড়া অন্য কোন রাস্তা খোলা নেই। ফেসবুকের নতুন নীতিমালা যেভাবে পথ আগলে দাঁড়িয়েছে তাতে ইট২৪ একা কেন হয়তো আরও অনেককেই পেজের উপর ডিপেন্ডেন্সি কমাতে হবে। তবে, ইট২৪ এর মত সরবে বিদায় নেবে হয়তো খুব কম সংখ্যক পেজ। আপাততঃ পোস্টের অর্গানিক রিচ বাড়ানোর কোন উপায় পাওয়া যাচ্ছে না, ব্যক্তিগত প্রোফাইল ছাড়া অন্য কোন ভালো উপায়ও নেই। অপেক্ষা করছি - ফেসবুক তার সিদ্ধান্ত পাল্টাবে, অথবা, নতুন কোন উপায়ে আবারও বিনামূল্যে প্রমোশন করা যাবে। 


অটোচালক শরিফুল ইসলামের রাজনীতি ভাবনা

জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার ফুটানীবাজার ঘাটে বেশীরভাগ যাত্রী আসে যমুনা নদীর ওইপারে গাইবান্ধা জেলার বালাসী ঘাট থেকে। দিনে তিন তিন ছয় ট্রিপে ছয়-সাতশ লোকের আসা যাওয়া। মোঃ শরীফুল ইসলাম তার অটো চালান ফুটানীবাজার ঘাট থেকে রেলস্টেশন, বা রেলস্টেশন থেকে ইসলামপুরে। অথবা নিজের ইচ্ছেয় কাছে দূরের অন্য কোন রুটে। বিদ্যুতের মূল্য বাড়ানো নিয়ে তার অভিযোগ শুনতে হল।
(জামালপুরের আঞ্চলিক ভাষায়) আগে মাসে বিল দিতাম ৭০০/৮০০ টাকা, এখন দিবো ১৫০০/১৬০০ টাকা। আগে তিনশ (ইউনিট) হলে বাণিজ্য লাইন ছিল, এখন একশ পার হলেই বাণিজ্য। বিদ্যুতের দাম বাড়ছে, কিন্তু অটোর ভাড়া বাড়ে নাই। ঢাকা শহরে অটো ড্রাইভাররা আন্দোলন করছে, কিন্তু লাভ হয় নাই, ভাড়া বাড়ে নাই। ভাড়া না বাড়লে আমাদের চলবে কিভাবে? বাজার সদাই করা লাগবে না আমাদের?
শরীফুল ইসলাম যে অটো চালায় সেটা তার নিজের কেনা। বছর তিনেক আগে কিনেছিল, দাম উঠে গেছে বেশ আগেই। তখন দাম একটু বাড়তি ছিল - দেড়লাখ টাকায় কিনেছিল অটো। পরে দাম কমেছে, কিন্তু ডিমান্ড বাড়ার কারণে অটোর দাম আবার বেড়ে গিয়ে প্রায় একলাখ ষাট হাজার টাকা। কিন্তু সেগুলোর মান ভালো না, ওগুলোর ব্যাটারী পাল্টাতে হয় ছয় মাসে, আর সে তিন বছরে তিনবার পাল্টেছে ব্যাটারী - প্রতিবারে বারো তেরো হাজার টাকা খরচ। 

অটো নিয়ে তার ক্ষোভ গিয়ে  সরকারী দল আও'মিলীগ পর্যন্ত গড়ালো। অটোর সরকারী কোন রেজিস্ট্রেশন নাই, কিন্তু এলাকায় রেজিষ্ট্রেশন আছে, টাকা পয়সা নিয়ে যে লাইসেন্স দেয় সেটা ভুয়া। প্রতি রুটে আসা যাওয়ায় দশটাকা করে চাঁদা দিতে হয়। ঝুঁকি - অন্যথা হলে কোন অটো থাকবে না, শুধু আও'মিলীগের অটো থাকবে। চাঁদাবাজি আর দূর্নীতি করে তারা টাকাওয়ালা হচ্ছে।
আগে যে বিড়ি অর্ধেক খেয়ে বাকীটা কানে গুঁজে রাখতো পরে খাবে বলে, সে এখন বেনসন সিগারেট খায়, বিড়ি না। আগে যার ঘরের অবস্থা ছিল এমন যে খাওয়ার ঘর আর পায়খানার ঘর একসাথে, তার পায়খানায় এখন টাইলস লাগানো। 
উপজেলা নির্বাচন হয়েছে কিনা প্রশ্নের উত্তর সরাসরি পাওয়া গেল না। 
সকালে বিএনপি আগায়া ছিল পাঁচহাজার ভোটে, বিকেলে আওমিলীগ জিতেছে বারোহাজার ভোটে। বেলা দু'টোর দিকে ফোন করে জানিয়ে দিয়েছে - কষ্ট করে ভোটকেন্দ্রে আসার দরকার নাই, আমার ভোট তারা দিয়ে দিয়েছে। কষ্ট করে লোকে সিল দিবে এইজন্য আগের রাতে ব্যালট বাসায় নিয়ে গেছে, সিল মেরে সকালে দিয়ে গেছে। তাহলে কেমন হল ইলেকশন? এটা ইলেকশন নাকি সিলেকশন?
রাজনীতি আমার আগ্রহের বিষয় না, পারতপক্ষে রাজনীতির প্রসঙ্গে কথা বলি না। কিন্তু শরীফুল ইসলামের বোধহয় বেশ আগ্রহ, বিদ্যুতের দাম থেকে শুরু করে উপজেলা নির্বাচন এবং শেষ পর্যন্ত সরকারে থাকা আওয়ামী লীগের নিন্দা - তার অপছন্দ নয়। বর্তমান সময় সম্পর্কে একজন অটো চালকের ভাবনা কি তা ধরে রাখার আগ্রহে লিখলাম।

মঙ্গলবার, ১ এপ্রিল, ২০১৪

গোলাপী বিভারের মেন্টাল বয়স ৩১


সক্কালবেলা ঘুম থেকে উঠেই দেখি 'হোয়াট ইজ ইয়োর ট্রু কালার' প্রশ্ন নিয়ে বন্ধু দাড়িয়ে আছে। সব মিলিয়ে বোধহয় দশটা প্রশ্ন - উত্তর দেয়ার পরে তার উপর ভিত্তি করে আমার ট্রু কালার (রং) এবং সে অনুযায়ী বৈশিষ্ট্য জানিয়ে দেবে। এই ধরনের টেস্টে কখনোই আগ্রহ পাই না, বোধহয় সক্কালবেলা বলেই পার্টিসিপেট করে ফেললাম। উত্তর পাওয়া গেল - পিংক। আমি বেয়াক্কল হয়ে গেলাম - মহিলাদের রং আমার ট্রু কালার হয় কেমনে? 
Your true color is Pink. Your motto is Go, Go, Go! But you also know how to relax and recharge your batteries for the next big thing. You like to work hard, play hard, and nap
মন ভালো করে দেয়ার মত কথা। ফলে আরও দুটো টেস্টে পার্টিসিপেট করে ফেললাম। হোয়াট ইজ ইয়োর মেন্টাল এজ এবং হোয়াট এনিমেল আর ইউ। মেন্টাল এজ পাওয়া গেল ৩১। শরীরের বয়স এতটুকু হয় নাই, কিন্তু এটা ভালো হল না মন্দ হল - সেটা ঠিক বুঝতে পারলাম না।

আমি কি ধরনের জন্তু তার প্রশ্নের উত্তরে পাওয়া গেল বিভার। এই জন্তুটা বাস্তবে দেখেছি কিনা মনে পড়ে না, চিড়িয়াখানায় দেখে থাকলেও মনে করতে পারছি না। তবে বিভার কিরকম দেখতে সেটা জানি। হাইস্কুলে থাকতে স্কুলের গেটে পকেট ক্যালেন্ডার, স্টিকার ইত্যাদি নিয়ে বসত এক ফেরীওয়ালা। সবাই রেসলিং আর ক্রিকেটারদের ছবি সহ পকেট ক্যালেন্ডার কিনতো, একটু বখাটেরা কিনতো নগ্ন মেয়ের ছবি - এক টাকা ও দুই টাকা দরে। অনেক দেখে শুনে সেখান থেকে আমি মাত্র দুটো পকেট ক্যালেন্ডার কিনেছিলাম - একটি বিড়াল এবং একটি বিভার। সুতরাং বিভার কি জিনিস আমার ভোলার কথা নয়। বিভারের বৈশিষ্ট্যে ভালো ভালো কথা লেখা আছে। 
You are Beaver You are creative, practical and well-organized. If there is someone in need, you will not hesitate to offer a helping hand. Lucky those who have you as a friend, life partner or parent.
পড়ে আত্মতৃপ্তিতে ভোগা সহজতর হয়ে গেল। টেস্টগুলোর সব প্রশ্নের উত্তর দেয়া যেতে পারে না, কিন্তু তিনটে অপশনের মধ্যে সবচে কাছেরটি বেছে নেয়া যেতে পারে। যেমন আমাকে প্রশ্ন করেছে - জীবনের লক্ষ্য কি। কার-ক্যারিয়ার-মানি, নাকি আলটিমেট ফূর্তি, নাকি ফ্যামিলি-হোম-রেস্ট? তিনটের একটিও আমার জন্য খাটে না, কিন্তু প্রথম দুটোর তুলনায় তৃতীয়টি বেশী খাটে - সুতরাং উত্তর তাই দিলাম। 

সব মিলিয়ে পাওয়া গেল - গোলাপী বিভারের মেন্টাল বয়স ৩১।  আরও কিছু প্রশ্ন আছে - আগ্রহীরা চেষ্টা করে দেখতে পারেন। কুইজোনি ডট কম

সোমবার, ৩১ মার্চ, ২০১৪

ক্রিকেটের গঠনমূলক সমালোচনা

টিভিতে ক্রিকেট খেলা দেখা হয় না। ওয়েবে বা রেডিও-তেও যে খুব ফলো করা হয়, তাও না। তবে খেলা চলাকালীন সময়ে ফেসবুক কিংবা টুইটারের হোমপেজ ঘুরে ঘুরে ক্রিকেট খেলা পড়া হয়। বিশেষ করে, টুইটারে ক্রিকেটের ধারাভাষ্য খুবই চমৎকার হয় - ধুর!, াল, মাইর! ইত্যাদি। পাশাপাশি - ফেসবুক এবং টুইটার - দুই জায়গাতেই এক্সপার্ট মন্তব্য পাওয়া যায় দর্শকদের কাছ থেকে। 

ওরে নিছে ক্যান আজকে?
অমুকরে বোলিং দিছে, এইবার ৩৬ রান দিবে!
তমুকরে দল থেকে বাদ দেয়া উচিত!
এই শালা খেলতে পারে না, লবিং এ দলে টিকে আছে 
ব্যাটিং অর্ডারে অমুককে তমুকের আগে নামালে আজকের ম্যাচটা ঠিকই জিততো।
ব্যাপারটা অস্বাভাবিক না। এইসব মন্তব্যের পেছনে ক্রিকেট দলের প্রতি প্রত্যাশা-ভালোবাসা ইত্যাদি টের পাওয়া যায়। তাসত্ত্বেও - এই মন্তব্যগুলো কেবলই মন্তব্য, গঠনমূলক কিছু নয়। একটু ভিন্নরকম কিছু চিন্তা করা যায়?

উপরের মন্তব্যগুলো রিঅ্যাকটিভ, ঘটনা ঘটে যাওয়ার পরে তারপর মন্তব্য করা হচ্ছে। যদি সেরকম না ঘটতো, তবে? মন্তব্যগুলো উল্টে যেতে পারে সেক্ষেত্রে। যেমন - 
অমুকরে আবারও বল দেয়া উচিত, সেই পারবে আরও দুইটা উইকেট ফেলতে। 
তমুককে আগামী ম্যাচেও ফিক্স করে ফেলা উচিত।
এই ব্যাটিং অর্ডারটাই ঠিক আছে, আগেরটা ভুল ছিল
প্রোঅ্যাকটিভ মন্তব্য কি করা যায়? খেলা শুরুর আগেই একজন ভালো দর্শক হিসেবে আমার চিন্তাভাবনাটা শেয়ার করতে পারি। আমি বলতে পারি - 
যে মাঠে খেলা হচ্ছে সেই মাঠের জন্য কিরকম বোলিং-কে গুরুত্ব দেয়া উচিত এবং কেন  
টিম সিলেকশন করার ক্ষেত্রে কোন কোন প্লেয়ারকে রাখা উচিত এবং উচিত না, এবং কেন
আজকের খেলা কতটা গুরুত্বপূর্ণ তার বিবেচনায় বোলিং-ব্যাটিং-ফিল্ডিং স্টাইল কিরকম হতে পারে এবং কেন
একটা কমন প্লাটফর্ম - যেমন কমিউনিটি ব্লগ, এমনকি সেটা বিসিবি-র ওয়েবসাইটেও হতে পারে - তৈরী করে সেখানে যদি এ ধরনের আলোচনা শুরু করা যায়, তবে একসময়, সেটা হয়তো খুব শীঘ্রই নয়, ক্রিকেটের নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষন করবে। কে বলবে না, সিদ্ধান্ত গ্রহণে এই ধরনের গঠনমূলক বক্তব্যগুলোও অনেক বেশী সহায়তা করবে।

এই লেখাটাও একটি রিঅ্যাকশনারী লেখা, জানি, তারপরও বলছি - শুরু করলেই এক সময় বড় কিছু হয়ে উঠার সম্ভাবনা তৈরী হয়। আমাদের ক্রিকেটের জন্য আমরা তো এরকম কিছু করতেই পারি, নাকি?

রবিবার, ৩০ মার্চ, ২০১৪

রাইজ অব ভেনজেন্স

ছুরি দিয়ে বুক ফেড়ে দেখি ওর কলিজা কত বড়, সাহস কত। ও আমার মতো মেয়ের সঙ্গে টিজ করে কোন সাহসে। 

 
সিনেমার সংলাপ নয়, বাস্তব ঘটনা। সংলাপ রচয়িতার নাম ফাতেমা আক্তার, বয়স ১৭। বলেছেন সাংবাদিক এবং পুলিশের উদ্দেশ্যে। ছুরি দিয়ে বুক ফেড়েছেন যে যুবকের তার নাম এমদাদুল হক শিপন, বয়স ২২। শিপন খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লিফটম্যান, পাশাপাশি খানজাহান আলী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মহাবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। ফাতেমার বক্তব্যানুযায়ী - তার মা খুলনা মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় শিপন তাকে টিজ করতো। পরে সে শিপনের সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলে এবং তাকে ঘুমের ঔষধের সাহায্যে ঘুম পাড়িয়ে হত্যা করে, ছুরি দিয়ে বুক চিড়ে কলিজা বের করে ফেলে। (মানবজমিন)











পুলিশের প্রহরায় ফাতেমা আক্তার

ইভটিজিং এর ঘটনা নতুন নয়। কিন্তু ইভটিজিং এর ঘটনায় হত্যাকান্ডের ঘটনা বেশ কম, বিশেষ করে ভিকটিম নিজেই যেখানে হত্যাকারী। শিপন হত্যাকান্ডের পেছনের ঘটনা কি ফাতেমা যা বলছে তাই, নাকি ভিন্ন কিছু সে সময়ের সাথে সাথে পরিস্কার হবে। ফাতেমার হুমকী - আমি বের হলে কোন ছেলে যদি এ ধরনের কাজ করে তাকেও খুন করবো  তার মানসিক সুস্থ্যতা সম্পর্কে প্রশ্ন তোলে। 

 

ঘটনার দিক থেকে চোখ সরালে নৃশংসতার দিকটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে। একটা সতেরো বছরের মেয়ে কিভাবে হত্যাকান্ড শুধু নয়, বুকে ছুরি চালিয়ে কলিজা বের করে নিয়ে আসার মত ঘটনা ঘটাতে সক্ষম হয় সেটা ভেবে দেখার প্রয়োজন আছে। সমাজে বিদ্যমান অস্থিরতা এবং আইন-শৃঙ্খলার বেহাল দশা এ ধরনের ঘটনার পেছনে কিছু ভূমিকা পালন করে। এছাড়া, সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ও স্পষ্ট হয়ে উঠে এ ধরনের ঘটনায়। ইভটিজিং এর ঘটনা এবং হত্যাকান্ডের মাধ্যমে প্রতিশোধ - দুটোই সামাজিক শিক্ষা এবং তার প্রয়োগের অভাবকে চিহ্নিত করে। 

 

কিছুদিন পূর্বেই একজন মা তার সন্তানকে ইভটিজারের হাত থেকে রক্ষার উদ্দেশ্যে হাসুয়া দিয়ে কুপিয়ে টিজারকে হত্যা করার ঘটনায় বেশ আলোড়ন তৈরী হয়। উক্ত ঘটনার সাথে ফাতেমার হত্যাকান্ডের একটি দিক খুবই ভালোভাবে মিলে যায় - দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে প্রতিহিংসাপরায়নতার ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। এ ধরনের ঘটনা যেন না ঘটে তার জন্য প্রতিকারমূলক সমাধানের চেয়ে প্রতিরোধমূলক সমাধান শ্রেয়।