মঙ্গলবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৩

মৃত্যুপথযাত্রী সুচিত্রা সেন

"আকাশ থেকে নেমে এল ছোট্ট একটি প্লেন
সেই প্লেনে বসা ছিল ছোট্ট একটি মেম
সেই মেমকে জিজ্ঞেস করলাম হোয়াট ইজ ইওর নেম?
মেম আমাকে উত্তর দিলো, মাই নেম ইজ সুচিত্রা সেন।"

এই ছড়াটি আমি বা আমাদের জেনারেশন তৈরী করেনি, তৈরী করেছিল তারা যারা সুচিত্রা সেনকে তাদের নিজেদের নায়িকা বানিয়ে নিয়েছিল। ছোট্ট মেম সুচিত্রা সেন এখন মৃত্যুশয্যায়। অবশ্য চিত্রনায়িকা সুচিত্রা সেনের মৃত্যু হয়েছে অনেক আগেই, যখন থেকে তিনি লোকচক্ষুর অন্তরালে চলে গিয়েছিলেন। এখনো আছেন অন্তরালে - যে হাসপাতালে চিকিৎসা হচ্ছে তার রেজিস্ট্রারে নাম পর্যন্ত নেই, ভালো মন্দের খবর পাওয়া যাচ্ছে অনিয়মিতভাবে। কিন্তু বেঁচে আছেন ব্যক্তি সুচিত্রা সেন, চিত্রনায়িকা সুচিত্রার চেহারা নিয়ে যিনি বারবার সংবাদপত্রের শিরোনাম হন। ব্যক্তি সুচিত্রা সেনের জন্য শুভকামনা - সুস্থ্য হয়ে উঠুন কিংবা শান্তিতে ফিরে যান। ছোট্ট মেম চিত্রনায়িকা সুচিত্রা সেন হয়ে বেঁচে থাকুন আমাদের প্রত্যেকের মৃত্যু পর্যন্ত।

রবিবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০১৩

বিয়ে প্রসঙ্গে আব্বার সাথে

আব্বার সাথে আমার ফোনে কথোপকথন।
আমি: বাসায় আম্মা একদম একা। কেউ একজন আম্মার সাথে থাকলে ভালো হত। আপনি কাউকে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন না!
আব্বা: হ্যা.. ঢাকা থেকে একটা বউ আনতে পারলে তো কিছুদিন তোমার আম্মার সাথে থাকতে পারতো।
আমি: কিন্তু এই বয়সে আপনার বিয়া করা কি ঠিক হবে

টিভি সিরিয়াল

টিভি সিরিয়াল দেখা আমার কাছে 'সিরিয়াস-পেইন' হিসেবে গন্য।

মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর টিভি সিরিয়াল '৪২০' এর সবগুলো পর্ব, সম্ভবত ৩৫টি' তিনদিনে দেখেছিলাম। অবস্থা এতটাই খারাপ হয়েছিল যে রাতে ঘুমের মধ্যেও কয়েকটা এপিসোড দেখেছি - উল্টা পাল্টা অবস্থায়। চিন্তা-ভাবনা সব কিছু গ্রাস করে ফেলেছিল ওই টিভি সিরিজ।

প্রিজন ব্রেক দেখিনি শুনে আমার জীবন যে কতবার 'ষোলআনাই বৃথা' হয়েছে - গুনতে চেষ্টা করিনি। ঘ্যানঘ্যানানি বন্ধ করতে প্রিজন ব্রেকের প্রথম সিজন দেখে ফেললাম - টানটানে উত্তেজনার ছবি কিন্তু রবারের মত ইলাস্টিক - অনর্থক ৬/৭টা পর্ব বাড়িয়ে লম্বা করা হয়েছে। বিরক্ত হয়ে সিজন ওয়ান শেষ করার পরপরই উইকিপিডিয়ায় গিয়ে সিজন টু আর থ্রি-র স্টোরি পড়ে ফেললাম - ব্যাস, প্রিজন ব্রেক দেখার পেইন আর নিতে হবে না।

ব্রেকিং ব্যাড নিয়ে হোমপেজ আর কান ভর্তি হয়ে থাকলেও মগজ পর্যন্ত পৌছাতে দেই নি সেদিন পর্যন্ত যেদিন নাফিস ভাই রিকমেন্ড করলেন। সেই রাতেই ডাউনলোড করে দেখা শুরু করলাম। বিরাট ভুল ডিসিশান! সব টিভি সিরিজ এক সিজনে একটা গল্প বলে - আর ব্রেকিং ব্যাড পাঁচ সিজন মিলিয়ে একটা গল্প!! গত দেড়মাস ধরে যেখানেই সময় পেয়েছি - অফিসে, গাড়িতে, ফুটপাথে, টয়লেটে, ঘুমাতে যাওয়ার আগে, ঘুম থেকে উঠার পরে - মোবাইলে এই সিরিজ দেখেছি। শেষ করতে না পারলে অন্য কিছু করাও যাচ্ছিল না।

এই সিরিজের মুন্সিয়ানা হল এর গল্পে। এত দারুনভাবে গিট্টু লাগিয়ে আবার খুলেছেন লেখকরা - স্যালুট! পুরো গল্পে একটা মাত্র ত্রুটি চোখে পড়ল - জেন চরিত্রের সমাপ্তি। লেখকরা ওই একটি জায়গায় গিট্টু খুলতে ব্যার্থ হয়েছিলেন - ফলে জোর করে তাকে ওই সমাপ্তিতে পৌছে দিয়েছেন। আর প্রধান দুই নারী চরিত্র - স্কাইলার এবং মেরি - এই দুই চরিত্র না থাকলে কি লেখকরা এত জটিল গল্প তৈরী করতে পারতেন? কিউরিয়াস মাইন্ড ওয়ান্টস টু নো - এ দুইজন নারীচরিত্রের চিত্রায়ন দেখে নারীবাদীরা কিছু বলেন নি?

গতকাল সকালে ব্রেকিং ব্যাড এর পূর্ণ সমাপ্তি ঘটল। আই অ্যাম আ ফ্রি বার্ড নাউ - উড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছি! নতুন কোন টিভি সিরিয়াল দেখার সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে একশবার চিন্তা করতে হবে - পেইনমুক্ত জীবন নিশ্চিত করার দায়িত্ব আমারই। কানে গুঁজলাম তুলো - ছোট্ট ফাঁকা থাকবে, সেখান দিয়ে সামান্য শব্দ প্রবেশ করতে পারবে। কারণ 'শার্লক' এর পরের সিজন নাকি খুব শীঘ্রই মুক্তি পাচ্ছে।

এই একটা টিভি সিরিজের জন্য বছরখানেক অপেক্ষা করা কোন ব্যাপারই না। ওয়েল্কাম্ব্যাক শার্লক!

শনিবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০১৩

নির্বুদ্ধিতার উদাহরণ

প্রশ্ন: নির্বুদ্ধিতার উদাহরণ দাও।
উত্তর: যার সাথে কথা বলার জন্য মোবাইলে একশ টাকা রিচার্জ করার কথা তার মোবাইলেই একশ টাকা রিচার্জ করে দেয়া এবং তারপর শূন্য ব্যালান্স নিয়ে টেলিপ্যাথির উপর পূর্ণ ঈমান সহযোগে অপেক্ষা করা 

পুলিশ রেড পরবর্তী স্ট্যাটাস

এইমাত্র পুলিশ রেড হয়ে গেল বাসায়। গত দুই বছরে এই নিয়ে মোট চারবার।


ভদ্রলোককে সব প্রশ্নের উত্তর দুবার করে দেয়া লাগল। টেবিলের উপর খোলা বই দেখেই বোধহয় বিশ্বাস করতে চাননি - আমি সত্যিই সার্ভিস হোল্ডার। বই উল্টে পাল্টে দেখেছেন - সূর্য দীঘল বাড়ি সিনেমার সমালোচনা পাতা খোলা ছিল - দুই লাইন শুনিয়েও দিয়েছি।

ফ্রেন্ডলিস্টের বন্ধুরা যারা মেস বা বন্ধুবান্ধবের সাথে ফ্ল্যাটে থাকেন, তারা আইডি কার্ড সাথে রাখুন, স্পষ্ট ভাষায় কথা বলুন। বাসায় কোন ধরনের গেস্ট থাকলে পরিচয় স্পষ্ট করে শুরুতেই স্বীকার করুন। সম্ভব হলে অন্য কোথাও রাত কাটাবার ব্যবস্থা করুন।

এই সময়ে পুলিশ ধরলে কমে এক লাখ টাকা, সাথে দুই একটা মামলা - খিয়াল কৈরা কিন্তু

 

সোমবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০১৩

ধনীর বাড়ির ধোয়াপাল্লা

আমার ডেস্ক থেকে মাত্র কয়েক হাত দূরে যে বিল্ডিংটা সেটার মালিক এবং অধিবাসীরা যে বাড়াবাড়ি রকমের বড়লোক সেটা আমি ডেস্কে বসেই টের পাই। সাড়ে তিনতলা বিল্ডিং এর দুটো ছাদ - সেই ছাদ ভর্তি গাছ - আম, পেয়ারা, লেবু, জাম্বুরা, ডালিম, বকুল, হাসনাহেনা, গোলাপ, গাঁদাসহ নানা প্রজাতির পাতাবাহার গাছ। এই বাগান দেখাশোনা করার জন্য দুজন মালি, মাঝে মাঝে তাদের সাথে আরও একজন যোগ দেয় - সম্ভবত সে ড্রাইভার বা অন্য কিছু। মালিকপক্ষের পরিবারে কতজন সদস্য নিশ্চিত জানি না, আমি সব মিলিয়ে দুইজনকে দেখেছি - কিন্তু তাদের কাপড় ধোয়ার জন্য দুইজন মহিলা আছে, সম্ভবত ঘরের অন্যান্য কাজের জন্য আরও তিনজন। প্রতিদিনের কাপড় ধোয়ার জন্য ছাদেই আলাদা ব্যবস্থা করা আছে - জেট গুড়া পাউডার ব্যবহার করে সেখানে সারাদিন ধোয়াপাল্লার কাজ চলে।

আজকে বোধহয় ধোয়ার জন্য কাপড় কম পড়ে গিয়েছে - এই মাত্র প্রায় বারো-পনেরো জোড়া স্যান্ডেল নিয়ে আসা হয়েছে ধোয়ার জন্য।

শনিবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০১৩

মৃত্যুর পরে

'আপনি যেখানেই থাকুন না কেন, ভালো থাকুন' - সেলিব্রেটিরা মারা যাওয়ার পরে অনেক স্ট্যাটাসে এই কথা লেখা হয়। এই বাক্যের মধ্যে এক ধরনের কাব্য আছে, অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত আছে, শুনতে ভালো লাগে। কিন্তু এই বাক্যের মধ্যে কি সততা আছে?

মৃত্যুর পরে গন্তব্য কোথায়, কি হবে - ধর্মমাত্রেই এর ব্যাখ্যা আছে (ব্যতিক্রম ধর্ম থাকতে পারে, আমার জানা নেই)। কোন ধর্ম পুনর্জন্মে বিশ্বাস করে, কোন ধর্ম করে না। কোন ব্যক্তি ধর্মে বিশ্বাসী হলে তার ধর্মমত অনুযায়ী মৃত্যুর পরে কি হবে, গন্তব্য কোথায় সেটা জানা থাকা উচিত। যদি ধর্মে বিশ্বাসী না হয়, নাস্তিক হয়, তবে তারও একটা বিশ্বাস আছে - মৃত্যুর পর শরীর পঁচে গলে মাটির সাথে মিশে যাবে। যেখানে আমি জানি - মৃত্যুর পরে কি হবে সেখানে 'যেখানেই থাকুন' বলি কেন? আমি যা জানি তা কি বিশ্বাস করছি না?

মৃত্যুর পরে কি হবে যদি না জানি বা অল্প পরিমান জানি, তবে বিস্তারিত জেনে নেয়া উচিত। নচেৎ মৃত্যুর পরের এই অবস্থার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করি কিভাবে?

শুক্রবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০১৩

বাংলা চলচ্চিত্রের সালতামামি ২০১৩

বাংলাদেশে নির্বাচনের বছর সবসময়ই গোলযোগপূর্ণ, ২০১৩-ও তার ব্যতিক্রম নয়। তবে রাজনৈতিক গোলযোগের পাশাপাশি বাংলা চলচ্চিত্রের আকাশে ভারতীয় চলচ্চিত্রের আমদানী উদ্যোগ দুর্যোগের মেঘ হিসেবে সবসময় উপস্থিত থেকেছে। এই দুর্যোগপূর্ণ বছরের শেষ মাসে কোন চলচ্চিত্র মুক্তি পায় নি এবং মুক্তির নির্দিষ্ট তারিখ থেকে পিছিয়ে আগামী বছরে নির্বাচন পরবর্তী শান্ত সময়ে ছবি মুক্তির উদ্যোগ নিয়েছে নির্মাতাগোষ্ঠী। এ বছরে আর কোন ছবি মুক্তি পাবে না ধরে নিয়ে মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রসমূহের দিকে ফিরে তাকালে গোটা বছরের একটা চিত্র ফুটে উঠে, এবং, রাজনৈতিক গোলযোগের মাঝেও এই চিত্রের দিকে পূর্ণদৃষ্টিতে তাকানো উচিত। বলা বাহুল্য, এক দশক আগের অবহেলা আর দূর্ণীতির কারণে সৃষ্ট পতিত অবস্থা থেকে উন্নয়নের দিকে বাংলা চলচ্চিত্রের যাত্রাকে শিখর পর্যন্ত পৌছানো নিশ্চিত করতে হলে মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রসমূহের বিচার বিশ্লেষন আবশ্যক; বাংলা চলচ্চিত্রের সালতামামি ২০১৩ এক্ষেত্রে কিছুটা সহায়তা করতে পারে।

বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০১৩

মৃত্যুপথযাত্রী খালেদ খান

'ছি ছি ছি ছি ছি তুমি এত খারা-প' - আপনি যদি এই সংলাপটি মনে করতে পারেন তাহলে '৯০ এর দশকে আপনি বিটিভির নিয়মিত দর্শক ছিলেন এবং ইমদাদুল হক মিলনের রচনায় রূপনগর নাটকের চরিত্র 'হেলাল'কেও আপনি মনে করতে পারবেন। পাড়ার মাস্তান চরিত্রে অভিনয় করে এই সংলাপকে অমর করেছেন যে অভিনেতা তিনি খালেদ খান - এখন বারডেম হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে আছেন।

খালেদ খান অভিনীত আরেকটা টিভি নাটকের কথা মনে পড়ে - মোহাম্মদ হোসেন জেমীর পরিচালনায় ক্রাইম থ্রিলার - লোহার চুড়ি। ব্যাংক ডাকাত কোহিনূরকে গ্রেপ্তার করার জন্য গোয়েন্দা খালেদ খানের দুর্দান্ত অভিনয়। শেষ দৃশ্যে কোহিনূরকে হাতকড়া পড়িয়ে সদরঘাটের একটা লঞ্চের ক্রেনে ঝুলিয়ে দিয়েছিলেন তিনি - বিদেশী সিনেমা দেখে অভ্যস্ত হইনি তখনো - তৃপ্তি শিখরে পৌছেছিল সেই নাটক দেখে। কোহিনূর চরিত্রে একজন ব্যান্ড পারফর্মার অভিনয় করেছিলেন - নাম মনে করতে পারি না।

খালেদ খানের একটি সিনেমার কথাও মনে পড়ে। আখতারুজ্জামানের পরিচালনায় 'পোকা মাকড়ের ঘরবসতি' চলচ্চিত্রে চট্টগ্রাম অঞ্চলের সমুদ্রের জেলের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন তিনি। একটা হাঙর শিকার করে নৌকায় তুলেছেন আর হঠাৎ সেই হাঙর বিশাল হা-য়ে তার পা কামড়ে ধরে।

তিনি অসুস্থ্য বেশ কয়েক বছর ধরে - মোটর নিউরন ব্যাধিতে আক্রান্ত - চলাফেরা করছেন হুইলচেয়ারে। ইউল্যাবের টিচার।

সুস্থ্য হয়ে ফিরে আসুন প্রিয় খালেদ খান।

উধাও পরিচালকের উদ্দেশ্যে

ব্রাদার অমিত আশরাফ,

উধাও চলচ্চিত্রে কাহিনী, চিত্রনাট্য এবং পরিচালনার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ, আন্তরিক অভিনন্দন, দোয়া কিন্তু এট্টা রিকোয়েস্ট। সিনেমায় একটা দৃশ্য দেখিয়েছেন - আকবর দ্য গ্রেট ২টাকা মিনিটে ল্যান্ডফোন থেকে ফোন করে যখন তার বউয়ের সাথে কথা বলছিল তখন বাবু একটা গাছ দিয়া তার মাথায় বাড়ি দিছিল - মনে আছে? ওই গাছটা কি আপনার কাছে এখনো আছে? না থাকলে - গভীর রাতে যে বাঁশগুলা দিয়ে ভ্যানের ভেতরে বসে থাকা আকবর মিয়াকে খোঁচা দিছিল - সেই বাঁশগুলার একটাও কি আছে? কাইন্ডলি জোগাড় করার চেষ্টা করবেন। তারপর সেই গাছ/বাঁশ নিয়ে বলাকা সিনেমাহলের মালিকের মাথায় সেইরকম কৈরা একটা বাড়ি দিবেন, পারবেন না?

একশ টাকার টিকিটে আপনার সিনেমার ছবি দেখছি শুধু, ডায়লগ শুনতে পাই নাই, মিউজিক তো টেরই পাই নাই। সাবটাইটেল না থাকলে গল্পও বুঝতে পারতাম না - কসম বলতেছি - শেষের দিকে সেই সাবটাইটেলও ঝাপসা ঝাপসা দেখছি। আপনি অতিসত্বর - মালিকের মাথায় একটা বাড়ি দিবেন - এইটা এট্টা রিকোয়েস্ট।
ইতি, দারাশিকো।

বিঃদ্রঃ যদি গাছ/বাঁশ পাওয়া না যায়, তবে ৩৫ মিমি. ফিল্মভর্তি ক্যান দিয়া বাড়ি দিলেও চলবে। আফটার অল - সিনেমা ব্যবসায়ীর মাথায় সিনেমা রিলেটেড কিছু দিয়াই বাড়ি দেয়া উচিত - তাদেরও ইজ্জত আছে।

বৃহস্পতিবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০১৩

লিপু খন্দকারের গার্লফ্রেন্ড চাহিয়া পোস্ট

সাংবাদিক লিপু খন্দকার 'গার্লফ্রেন্ড চাহিয়া' একখানা পোস্ট দিয়াছেন।


গার্লফ্রেন্ডের যেই সকল যোগ্যতা থাকা আবশ্যক তাহাও উল্লেখ করিয়া দিয়াছেন লিপু খন্দকার। গার্লফ্রেন্ড হইতে আগ্রহী নারীকে প্রথমত খুবই সুন্দরী হইতে হইবে এবং দ্বিতীয়ত, তাহাকে অবশ্যই হৃদয়বান হইতে হইবে। হৃদয়বান হইবার কারণ দুইটি। প্রথমত: ভালোবাসিয়া লিপু খন্দকারকে হৃদয় দান করিতে হইবে, দ্বিতীয়ত, লিপু খন্দকারের চেহারা দেখিয়া তাহাকে পসন্দ করিয়া হৃদয় দান করিবার হৃদয়হীন সিদ্ধান্ত নিতে হইবে। অতি সুন্দরী এবং হৃদয়বান নারীর সিদ্ধান্তগ্রহণে সহায়তা করিবার উদ্দেশ্যে লিপু খন্দকার তাহার একখানা থ্রি-আর আকৃতির পোট্রেট ছবি যুক্ত করিয়াছেন।


আগ্রহী নারীগণের দৃষ্টি আকর্ষন করিতেছি। বিস্তারিত লিংকে


 

মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৩

লার্ণিং ফেসবুক - ১

পাবলিকে স্যরি, লাভিউ বা হেটিউ বলার একটা ইমপ্যাক্ট আছে - এটা ম্যক্সিমাইজ হয়ে যায়। ফেসবুকে জনগণের সামনে দেয়া এ ধরনের ব্যক্তিগত স্ট্যাটাসের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। বলা বাহুল্য, এ ধরনের স্ট্যাটাস নির্দিষ্ট এক বা একাধিক ব্যক্তির উদ্দেশ্যে দেয়া হয়, আমজনতার জন্য না। কিন্তু কখনো কখনো পাবলিকে দেয়া ব্যক্তিগত স্ট্যাটাসে পাবলিকের উড়াধুরা কমেন্ট সেই নির্দিষ্ট একজন মানুষটিকেও বিব্রতকর অবস্থায় ফেলতে পারে।

ফেসবুক ইয়ার এন্ডিং রিভিউ

ফেসবুক ২০১৩ এর শেষকে উদযাপন করার উদ্দেশ্যে নতুন এক ফিচার চালু করেছে - ইয়ার ইন রিভিউ। পুরো বছরের কার্যক্রমকে এক পাতায় নিয়ে এসেছে। ফলে এই বছরে ফেসবুকে ঠিক কি কি কাজ করা হয়েছে তার একটা চিত্র পাওয়া যাচ্ছে। আমার কাজের রিভিউ ফেসবুক কিভাবে করবে - কতটা সফলভাবে করবে সেটা যাচাই করার জন্য নিজের ইয়ার-রিভিউ করে দেখলাম। যা ভেবেছিলাম তাই, ফিফটি পার্সেন্ট সফল হয়েছে ফেসবুক।

১. ২০১৩ তে লেখা স্ট্যাটাসগুলোর মধ্যে অপেক্ষাকৃত জনপ্রিয় স্ট্যাটাসগুলোকে স্থান দেয়া হয়েছে - সম্ভবত লাইক এবং কমেন্টের ভিত্তিতে এদের নির্বাচন করা হয়েছে। অগুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্ট্যাটাসও নির্বাচিতের তালিকায় ঢুকে পড়েছে।

২. ফেসবুক নোট স্থান পেয়েছে। নোটস ফাকা থাকবে - এই বিবেচনায় বোধহয় যা লিখেছিলাম সবগুলাই ঢুকে পড়েছে। বলা বাহুল্য - ওগুলো নির্বাচন করার পরীক্ষায় ফেসবুক ফেল।

৩. ছবি - পুরোটাই হাস্যকর। এমন এমন সব ছবিকে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করেছে - আরো একবার ছবিতে ট্যাগ করার স্বাধীনতা কেড়ে নেয়ার সুযোগ না থাকার জন্য আফসোস করতে হচ্ছে।

৪. যারা ফেসবুককে আরও ডাইভার্সলি ব্যবহার করেন তাদের ইয়ার-রিভিউটা আরও চমৎকার হবে। স্ট্যাটাস-নোটস-ফটোস-রিলেশনশিপ স্ট্যাটাস-ইম্পরট্যান্ট ইভেন্টস - সব মিলিয়ে জমজমাট হবে আই গেস।

৫. আস্ক ডট এফএম এর যন্ত্রনা শুরু হয়েছিল কিছুদিন আগে, এখনো চলছে কিনা জানি না, কারণ নিউজফেড থেকে হাইড করে দিয়েছি। আগামী ক'দিন ইয়ার রিভিউ যন্ত্রনা সহ্য করতে হবে ঢের বুঝতে পারছি, আপনারা বুঝতে না পারলে এই স্ট্যাটাস পড়ে সতর্ক হোন।

৬. এই বছরে এটাই শেষ স্ট্যাটাস নয়, সুতরাং, নতুন স্ট্যাটাস প্রসবের আগ পর্যন্ত প্রসূত স্ট্যাটাসগুলোর প্রতি আদর যত্ন প্রদর্শন করতে পারেন

 

রবিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৩

গ্র্যান্ডমাস্টার ড. ম্যাক ইউরি

একটি স্ট্যান্ডার্ড বেসবল ব্যাট যার মোটা অংশের পুরুত্ব ৮ ইঞ্চি এবং হাতল অংশ ২.৭৫ ইঞ্চি ভাঙতে ৭৪০ পাউন্ডস শক্তি লাগে - গবেষনা করে এই তথ্য জানিয়েছেন ওয়েন ইউনিভার্সিটি আমেরিকা। এরকম তিনটি স্ট্যান্ডার্ড বেসবল ব্যাট এক লাথিতে ভেঙ্গে ফেলে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছেন যিনি তার নাম ড. ম্যাক ইউরি। ঘটনা ২০১১ সালের ৭ মে। 


রিপ্লি'র বিলিভ ইট অর নট-এর কমিক বিভাগে সুপার হিউম্যান হিসেবে তাকে পরিচিত করে দিয়ে বলা হয়েছে - মার্শাল আর্ট মাস্টার ম্যাক ইউরি ক্যান স্ন্যাপ থ্রি স্ট্যান্ডার্ড বেসবল ব্যাটস উইথ আ কিক ফ্রম হিজ বেয়ার শিন!


ম্যাক ইউরি-কে ডিসকভারি চ্যানেল সুপার হিউম্যান হিসেবে অ্যাখ্যায়িত করেছে। তারা ইউরির শরীরের নানা পরীক্ষা- নিরীক্ষার পর জানায়, তার পায়ের ৯৬ শতাংশ মাংশপেশী এক সাথে কাজ করতে সক্ষম। এর আগে কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে এমন ঘটনা ঘটেনি। পরে ম্যাক ইউরিকে নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র তৈরী করেছে ডিসকভারি। যা পর্যায়ক্রমে বিশ্বের ২১০টি দেশে ৬৪টি ভাষায় প্রদর্শিত হয়েছে ।

এই ম্যাক ইউরি একজন বাংলাদেশী। ঢাকার আজিমপুরে জন্মগ্রহণ করেন ইউরি। তার বাবা ছিলেন ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার। বাবার চাকরির সুবাদে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঘুরেছেন ইউরি। খুলনায় ইংলিশ মিশনারি স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনের পর মিলিটারি বোর্ডিং স্কুলের কঠোর অনুশাসন ও নিয়মানুবর্তিতার মধ্য দিয়ে ক্যাডেট জীবন পার করেন। পরে ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজে পড়েন তিনি।

এ ছাড়া মিলিটারি সাইন্স, ফিজিক্যাল ট্রেনিং, অবস্টাকল কোর্স, আন-আর্মড কমব্যাট, মিলিটারি ড্রিলস প্যারেডের মতো বিষয় সমূহে কৃতিত্ব অর্জন করেছেন তিনি। একই সাথে ইউরি ভারতের কাঞ্চিপুরম ও চীনের শাওলিন টেম্পল সম্পর্কিত অনুসন্ধানী গবেষণার মাধ্যমে ভারতীয় মার্শাল আর্টের লুপ্তপ্রায় ইতিহাস ও ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের মতো কাজও করেছেন। ম্যাক ইউরি 'ন্যাশনাল সিকিউরিটি একাডেমি' আমেরিকা থেকে কমিশন অফিসার্স কোর্স সমাপ্ত করেন। অর্জন করেন ব্রিটিশ হোম অফিসের অধীনস্থ সিকিউরিটি ইন্ডাস্ট্রিজ অথরিটি ভিআইপি প্রটেকশনের ওপর সর্বোচ্চ প্রফেশনাল ডিগ্রিও। এছাড়া ফায়ার ট্রেনিং একাডেমি ইংল্যান্ড থেকে ফায়ার মার্শাল কোর্সও সম্পন্ন করেন তিনি। (সূত্র: পরিবর্তন ডট কম)

এই ভদ্রলোক সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে তার ওয়েবসাইট (http://www.yureeonline.com/) থেকে। বেসবল ব্যাট ভাঙ্গার ভিডিও পাওয়া যাবে ইউটিউবে (http://www.youtube.com/watch?feature=player_embedded&v=YYJAXnlczGc)
Photo: একটি স্ট্যান্ডার্ড বেসবল ব্যাট যার মোটা অংশের পুরুত্ব ৮ ইঞ্চি এবং হাতল অংশ ২.৭৫ ইঞ্চি ভাঙতে ৭৪০ পাউন্ডস শক্তি লাগে - গবেষনা করে এই তথ্য জানিয়েছেন ওয়েন ইউনিভার্সিটি আমেরিকা। এরকম তিনটি স্ট্যান্ডার্ড বেসবল ব্যাট এক লাথিতে ভেঙ্গে ফেলে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছেন যিনি তার নাম ড. ম্যাক ইউরি। ঘটনা ২০১১ সালের ৭ মে।   রিপ্লি'র বিলিভ ইট অর নট-এর কমিক বিভাগে সুপার হিউম্যান হিসেবে তাকে পরিচিত করে দিয়ে বলা হয়েছে - মার্শাল আর্ট মাস্টার ম্যাক ইউরি ক্যান স্ন্যাপ থ্রি স্ট্যান্ডার্ড বেসবল ব্যাটস উইথ আ কিক ফ্রম হিজ বেয়ার শিন!  ম্যাক ইউরি-কে ডিসকভারি চ্যানেল সুপার হিউম্যান হিসেবে অ্যাখ্যায়িত করেছে। তারা ইউরির শরীরের নানা পরীক্ষা- নিরীক্ষার পর জানায়, তার পায়ের ৯৬ শতাংশ মাংশপেশী এক সাথে কাজ করতে সক্ষম। এর আগে কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে এমন ঘটনা ঘটেনি। পরে ম্যাক ইউরিকে নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র তৈরী করেছে ডিসকভারি। যা পর্যায়ক্রমে বিশ্বের ২১০টি দেশে ৬৪টি ভাষায় প্রদর্শিত হয়েছে ।  এই ম্যাক ইউরি একজন বাংলাদেশী। ঢাকার আজিমপুরে জন্মগ্রহণ করেন ইউরি। তার বাবা ছিলেন ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার। বাবার চাকরির সুবাদে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঘুরেছেন ইউরি। খুলনায় ইংলিশ মিশনারি স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনের পর মিলিটারি বোর্ডিং স্কুলের কঠোর অনুশাসন ও নিয়মানুবর্তিতার মধ্য দিয়ে ক্যাডেট জীবন পার করেন। পরে ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজে পড়েন তিনি।  এ ছাড়া  মিলিটারি সাইন্স, ফিজিক্যাল ট্রেনিং, অবস্টাকল কোর্স, আন-আর্মড কমব্যাট, মিলিটারি ড্রিলস প্যারেডের মতো বিষয় সমূহে কৃতিত্ব অর্জন করেছেন তিনি। একই সাথে ইউরি ভারতের কাঞ্চিপুরম ও চীনের শাওলিন টেম্পল সম্পর্কিত অনুসন্ধানী গবেষণার মাধ্যমে ভারতীয় মার্শাল আর্টের লুপ্তপ্রায় ইতিহাস ও ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের মতো কাজও করেছেন। ম্যাক ইউরি 'ন্যাশনাল সিকিউরিটি একাডেমি' আমেরিকা থেকে কমিশন অফিসার্স কোর্স সমাপ্ত করেন। অর্জন করেন ব্রিটিশ হোম অফিসের অধীনস্থ সিকিউরিটি ইন্ডাস্ট্রিজ অথরিটি ভিআইপি প্রটেকশনের ওপর সর্বোচ্চ প্রফেশনাল ডিগ্রিও। এছাড়া ফায়ার ট্রেনিং একাডেমি ইংল্যান্ড থেকে ফায়ার মার্শাল কোর্সও সম্পন্ন করেন তিনি। (সূত্র: পরিবর্তন ডট কম)  এই ভদ্রলোক সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে তার ওয়েবসাইট (http://www.yureeonline.com/) থেকে। বেসবল ব্যাট ভাঙ্গার ভিডিও পাওয়া যাবে ইউটিউবে (http://www.youtube.com/watch?feature=player_embedded&v=YYJAXnlczGc)

শুক্রবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৩

দোলনায় দারাশিকো

সিনেমায় 'সময়' অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন একটি বিষয়। দুই বা আড়াই ঘন্টায় কতসময়ের গল্প বলা হচ্ছে তার উপর নির্ভর করে সময়কে নিয়ে খেলে নির্মাতা। পাঁচ সেকেন্ডে পঞ্চাশ বছর এগিয়ে নেয়া যেতে পারে, আবার টাইম বোমা ডিঅ্যাকটিভেশন দৃশ্যে পঁচিশ সেকেন্ডকে পাঁচ মিনিট পর্যন্ত টেনে নেয়া হয়।

সময়কে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য পরিচালকরা কত অদ্ভুতরকমের ট্রিটমেন্ট যে করেন তার ইয়ত্তা নেই। দৌড়াতে দৌড়াতে ছোট থেকে বড় হয়ে যাওয়া, দড়ি লাফাতে লাফাতে কিংবা দোলনায় দুলতে দুলতে অথবা হাত ধরাধরি করে এক গান গাওয়া শেষ হওয়ার আগেই কৈশোর থেকে যৌবনে পদার্পন করার দৃশ্য বাংলাদেশের সিনেমায় মোটামুটি প্রচলিত।

এই ছবিতে ক্যারেক্টার দুলতে দুলতে বড় হয়ে গেছে, কিন্তু দোলনা সেই অনুপাতে বাড়ে নি - ফলে একটু বেখাপ্পা হয়ে গেছে। ক্যারেক্টারের দোষ না, পরিচালক অদূরদর্শী 
Photo: সিনেমায় 'সময়' অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন একটি বিষয়। দুই বা আড়াই ঘন্টায় কতসময়ের গল্প বলা হচ্ছে তার উপর নির্ভর করে সময়কে নিয়ে খেলে নির্মাতা। পাঁচ সেকেন্ডে পঞ্চাশ বছর এগিয়ে নেয়া যেতে পারে, আবার টাইম বোমা ডিঅ্যাকটিভেশন দৃশ্যে পঁচিশ সেকেন্ডকে পাঁচ মিনিট পর্যন্ত টেনে নেয়া হয়।  সময়কে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য পরিচালকরা কত অদ্ভুতরকমের ট্রিটমেন্ট যে করেন তার ইয়ত্তা নেই। দৌড়াতে দৌড়াতে ছোট থেকে বড় হয়ে যাওয়া, দড়ি লাফাতে লাফাতে কিংবা দোলনায় দুলতে দুলতে অথবা হাত ধরাধরি করে এক গান গাওয়া শেষ হওয়ার আগেই কৈশোর থেকে যৌবনে পদার্পন করার দৃশ্য বাংলাদেশের সিনেমায় মোটামুটি প্রচলিত।   এই ছবিতে ক্যারেক্টার দুলতে দুলতে বড় হয়ে গেছে, কিন্তু দোলনা সেই অনুপাতে বাড়ে নি - ফলে একটু বেখাপ্পা হয়ে গেছে। ক্যারেক্টারের দোষ না, পরিচালক অদূরদর্শী :P

সোমবার, ২ ডিসেম্বর, ২০১৩

I Love You

I Love You.

মাত্র এই তিনটা শব্দই লেখা ছিল এসএমএস-এ। অন্ততঃ কমপক্ষে এই তিনটা শব্দ যে লেখা ছিল সেটা নিশ্চিত। কিন্তু কপালের ফের, সেই কবে কবি নজরুল আমার এই অবস্থা দিব্যদৃষ্টিতে দেখতে পেয়ে লিখেছিলেন - 'পড়বি তো পর মালির ঘাড়েই', এসএমএস যখন এল মোবাইল তখন আমার হাতে নেই।

নো ওরিস! প্যারেন্টস এর হাতে পড়েনি। ক্লাস ফোরে পড়ুয়া ছোটবোন ফুল ভলিউমে বাংলা সিনেমার গান শুনতে শুনতে গভীর মনযোগের সাথে অ্যাংরি বার্ডস খেলছে, মেসেজের শব্দে তার গান এবং খেলায় বিশাল বাধার সৃষ্টি হয়েছিল। তাই মেসেজ ওপেন করে পড়ে ফেলেছে সে। গতরাতের ঘটনা।

এই খবর জেনেছি আজ দুপুরে, তাও বড়বোনের মুখে - ভাইয়া প্রেম করে বেড়াচ্ছে এবং মেসেজে লেখা আইলাভিউ - এই নিয়ে মুখ টিপে হাসাহাসি, তারপর তরল-কঠিন জেরা, তারপর বিভিন্নখাতে প্রবাহিত করার প্রচেষ্টা থেকে নিবৃত্ত করে, সবশেষে হাত থেকে মোবাইল কেড়ে নেয়ার পরেও সেই মেসেজ পড়া গেল না!

কে মেসেজ দিয়েছে. নাম লেখা ছিল? না।
নাম্বার সেভ করা আছে মোবাইলে? না।
কি লেখা ছিল? আই লাভ ইউ।
আর কিছু লেখা ছিল না? না।
নাম টাম কিছু না? না।
কি নাম্বার? বাংলালিংক।
বাংলালিংক, শিওর? হু।
বাংলালিংক কিভাবে বুঝলে? জিরো ওয়ান নাইন দিয়ে শুরু।
নাম ছিল না? না।
নাম্বার সেভ করা নাই? না।
ডিলিট করছো ক্যান? (চুপ)
মেসেজ ডিলিট করছো ক্যান? .... তোমারে আই লাভ ইউ বলছে ক্যান??? তাই ডিলিট করে দিছি।

 



গান:

প্রেম একবার এসেছিল সরবে
আমার মোবাইল প্রান্তে ... 
 

 

রবিবার, ১ ডিসেম্বর, ২০১৩

ম্যাড-কিলিং নিয়ে চলচ্চিত্র

ইউনিভার্সিটির ক্লাসরুমে তখন ক্লাস চলছে। দরজা খুলে ছেলেটি ঢুকে পড়ল, তার হাতে গুলিভর্তি অটোমেটিক রাইফেল। প্রথমে ছেলে এবং মেয়েদের আলাদা করল, তারপর ছেলেদেরকে ক্লাসরুম থেকে বের করে দিল এবং অটোমেটিক রাইফেল তাক করে গুলি চালিয়ে দিল দাড়িয়ে থাকা মেয়েদের উপর। ক্লাসরুম থেকে বেরিয়ে করিডোর, ক্যাফেটেরিয়া এবং অন্যান্য ক্লাসরুমে গুলি চালালো সে। সব মিলিয়ে বিশ মিনিট। এর মাঝে গুলিতে মারা গেল চৌদ্দজন, বেশীরভাগই মেয়ে, আহত হল আরও চৌদ্দজন। ঘটনার সমাপ্তি ঘটল যখন ছেলেটি নিজের কপালে বন্দুক ঠেকিয়ে গুলি করল। ঘটনাস্থল কানাডার কুইবেকে মন্ট্রিলে অবস্থিত ইকোল পলিটেকনিক, সময় ১৯৮৯ সালের ৬ ডিসেম্বর। মন্ট্রিল ম্যাসাকার নামে পরিচিত এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে চলচ্চিত্রটি নির্মিত হয়েছে ২০০৯ সালে তার নাম 'পলিটেকনিক'।