শনিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০১৩

পুরানো প্রেমিকার সাথে কথোপকথন

একবছর পর। ক্রিস তার গাড়ির দরজা খুলতে যাচ্ছিল এমন সময় 'হাই' শুনে ফিরে তাকালো। অ্যান! এক বছর আগে এই অ্যানের প্রতি তার তীব্র ভালোবাসা ছিল, সেই ভালোবাসার দরুণ এই একবছরে কত ঘটনা ঘটে গেল!

ক্রিস: হ্যালো অ্যান।

অ্যান: অনেক দিন পর ..

ক্রিস: হুম।

অ্যান: আমার কাছে এখনো চাবিটা আছে, তোমাকে ফেরত দেয়া উচিত।

ক্রিস: ঐ চাবিতে তালা খুলবে না আর। 

অ্যান: তোমার ভাইয়ের কি খবর?

ক্রিস: পরের শুনানী আগামী মাসে।

অ্যান: আচ্ছা। আর তোমার? সব কিছু ঠিকঠাক?

ক্রিস: হুম। বেশীরভাগই ঠিকঠাক।

অ্যান: বেশীরভাগ ... তোমার জন্য কঠিন করে ফেলেছিলাম সব কিছু, আমি দুঃখিত ... আন্তরিকভাবে দুঃখিত।

ক্রিস: You can only be hurt by people you love - তোমার কাছ থেকেই শিখেছি।

অ্যান: ওটায় আমি এখনো বিশ্বাস করি কিনা সন্দেহ।

ক্রিস: You miss out on a lot if you do.

অ্যান: আমি অনেক পাল্টে গেছি।

ক্রিস: তুমি চাকরী পাল্টেছো সেটা জেনেছি।

অ্যান: তারমানে তুমি এখনো আমার ব্যাপারে খোঁজ রাখো, সামান্য হলেও।

ক্রিস: কিছুটা রাখি।

অ্যান: চল কোথাও বসে কফি খাই।

ক্রিস: আমিও পাল্টে গেছি অ্যান।

অ্যান ঘুরল। নিজের গাড়ির দিকে চলল সে। 

ক্রিস: কিন্তু ...

অ্যান থামলো, ফিরে তাকালো।

ক্রিস: আমি এখনো কফি পছন্দ করি।

 

সিনেমার নাম: Loft (2008)

রেটিং: ৫/৫




শুক্রবার, ২৯ নভেম্বর, ২০১৩

দুর্নীতিগ্রস্থ দেশের তালিকায়

খবর:
বিশ্বের সবচেয়ে দূর্নীতিগ্রস্থ দশ দেশের তালিকায় নেই বাংলাদেশ। 

মন্তব্য:
কত টাকা ঘুষ দেয়া হয়েছে তালিকা থেকে বাদ দেয়ার জন্য? 

বৃহস্পতিবার, ২৮ নভেম্বর, ২০১৩

নগ্নতা বিষয়ে হুমায়ূন আহমেদ এবং দারাশিকো বলেন

হুমায়ূন আহমেদ:
নগ্নতা তো কোনো লজ্জার বিষয় হতে পারে না। লজ্জার বিষয় হলে প্রকৃতি আমাদের কাপড় পরিয়ে পৃথিবীতে পাঠাত। আমরা নগ্ন হয়ে পৃথিবীতে এসেছি। নগ্নতার জন্যে লজ্জিত হবার বা অস্বস্তি বোধ করার আমি কোনো কারণ দেখি না। (বই: সে ও নর্তকী)

দারাশিকো:
নগ্নতা যদি লজ্জার বিষয় না হইত তাহলে প্রকৃতি পাঠানোর সময় বড় কৈরাই পাঠাইতো। এক দিনের বাচ্চারে ন্যাংটা দেইখা কেউ মজা নেয় না 

বাউনিয়াবাঁধ বস্তিতে

মিরপুরে বাউনিয়াবাঁধ বস্তির কথা অনেকবার শুনতে হয়েছে - বাংলাদেশের সবচে বড় বস্তি নাকি এটাই। গত মে মাসে প্রথমবার এই বস্তিতে যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল।

Center for Zakat Management (CZM) এর ডকিউমেন্টারি শ্যুট করার জন্য গিয়েছি। বস্তি এলাকায় প্রিয় ত্রিশটি সেন্টার আছে - গুলবাগিচা সেন্টার নামে পরিচিত। স্কুলে ভর্তি হওয়ার আগের এক বছর বস্তির বাচ্চাদের এই স্কুলের মাধ্যমে ভর্তির উপযোগি করে তোলা হয় যেন পরবর্তীতে ভালো কোন সরকারী স্কুলে ভর্তি হয়ে এইসব বাচ্চা পড়াশোনা শুরু করতে পারে। পড়াশোনার পাশাপাশি পুষ্টিকর খাবার - সব মিলিয়ে এক বছরে একটা বাচ্চার জন্য খরচ হয় ৬০০০ টাকা। 

ছোট্ট একটা ঘরে বাচ্চাদের পড়ার দৃশ্য ইত্যাদি শ্যুট করা মোটামুটি কষ্টের কাজ। ক্যামেরাম্যান একাই যা করার করলেন। শেষ দৃশ্যটি ছিল এরকম - ছুটি হয়ে গেছে, বাচ্চারা দলবেধে বের হয়ে ছুটে বের হয়ে যাচ্ছে। একবারেই যেন টেক করা যায় সেজন্য বারবার বাচ্চাদের বুঝিয়ে আমি বাইরের দিকে এক কোনায় এসে দাড়িয়েছি - বাচ্চারা দৌড়ে আমার কাছ পর্যন্ত এলেই ফ্রেম-আউট হবে, তারপরেই তাদের ছুটি। সব ঠিকঠাক করে ছুটি দিয়ে দেয়া হল - বাচ্চারাও হুড়মুড় করে বেরিয়ে দৌড়। প্রায় ২৫-৩০টা বাচ্চা। ছুটতে ছুটতে আমার কাছে হাজির। আমি ভাবলাম 'ওকে' হয়ে গেছে - ক্যামেরাম্যান দূর থেকে ইঙ্গিত করল বাচ্চাদের পায়ের দিকে - উত্তেজনায় সব বাচ্চাই স্যান্ডেল স্কুলে রেখেই চলে এসেছে!

বাচ্চাদের একত্রিত করে দ্বিতীয় টেকের জন্য উজ্জীবিত করছি - এই ছবিটা সেসময় তুলেছেন আহমেদ ভাই।
Photo: মিরপুরে বাউনিয়াবাঁধ বস্তির কথা অনেকবার শুনতে হয়েছে - বাংলাদেশের সবচে বড় বস্তি নাকি এটাই। গত মে মাসে প্রথমবার এই বস্তিতে যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল।  Center for Zakat Management (CZM) এর ডকিউমেন্টারি শ্যুট করার জন্য গিয়েছি। বস্তি এলাকায় প্রিয় ত্রিশটি সেন্টার আছে - গুলবাগিচা সেন্টার নামে পরিচিত। স্কুলে ভর্তি হওয়ার আগের এক বছর বস্তির বাচ্চাদের এই স্কুলের মাধ্যমে ভর্তির উপযোগি করে তোলা হয় যেন পরবর্তীতে ভালো কোন সরকারী স্কুলে ভর্তি হয়ে এইসব বাচ্চা পড়াশোনা শুরু করতে পারে। পড়াশোনার পাশাপাশি পুষ্টিকর খাবার - সব মিলিয়ে এক বছরে একটা বাচ্চার জন্য খরচ হয় ৬০০০ টাকা।   ছোট্ট একটা ঘরে বাচ্চাদের পড়ার দৃশ্য ইত্যাদি শ্যুট করা মোটামুটি কষ্টের কাজ। ক্যামেরাম্যান একাই যা করার করলেন। শেষ দৃশ্যটি ছিল এরকম - ছুটি হয়ে গেছে, বাচ্চারা দলবেধে বের হয়ে ছুটে বের হয়ে যাচ্ছে। একবারেই যেন টেক করা যায় সেজন্য বারবার বাচ্চাদের বুঝিয়ে আমি বাইরের দিকে এক কোনায় এসে দাড়িয়েছি - বাচ্চারা দৌড়ে আমার কাছ পর্যন্ত এলেই ফ্রেম-আউট হবে, তারপরেই তাদের ছুটি। সব ঠিকঠাক করে ছুটি দিয়ে দেয়া হল - বাচ্চারাও হুড়মুড় করে বেরিয়ে দৌড়। প্রায় ২৫-৩০টা বাচ্চা। ছুটতে ছুটতে আমার কাছে হাজির। আমি ভাবলাম 'ওকে' হয়ে গেছে - ক্যামেরাম্যান দূর থেকে ইঙ্গিত করল বাচ্চাদের পায়ের দিকে - উত্তেজনায় সব বাচ্চাই স্যান্ডেল স্কুলে রেখেই চলে এসেছে!  বাচ্চাদের একত্রিত করে দ্বিতীয় টেকের জন্য উজ্জীবিত করছি - এই ছবিটা সেসময় তুলেছেন আহমেদ ভাই।

রবিবার, ২৪ নভেম্বর, ২০১৩

পূর্ণদৈর্ঘ্য (পারিবারিক) প্রেম কাহিনী

বার্ধক্যে উপনীত হওয়া ধনী প্রভাবশালী ব্যক্তি সামাদ শিকদার তার ছেলের ঘরের নাতি জয় শিকদারের সাথে মেয়ের ঘরের নাতনী মিতুর বিবাহের আয়োজনমুহুর্তে স্ট্রোক করেন। জানা যায়, বিশ বছর আগে তার কন্যা শাহানা শিকদার তাদের লজিং মাস্টারকে ভালোবেসেছিলেন যা মেনে নেন নি সামাদ শিকদার, ফলে মেয়ে-মেয়ে জামাই দুজনেই ঘর ছেড়ে যান। গত বিশবছর ধরে তাদেরকে খোঁজ করলেও বের করতে পারেন নি সামাদ শিকদার, ফলে চাপা মানসিক কষ্ট বয়ে বেড়াচ্ছেন তখন থেকেই। দাদুর মানসিক সন্তুষ্টি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নাতি-নাতনী ফেসবুকে খুঁজে বের করে বর্তমানে মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত শাহানা শিকদারকে। অতঃপর, কোন ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট না পাঠিয়ে মালয়েশিয়ার রাস্তায়-হোটেলে-অফিসে ফুপু শাহানা শিকদারকে খুঁজে বের করার জন্য জয়ের যে চেষ্টা তা-ই একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রকে পূর্ণদৈর্ঘ্য পারিবারিক প্রেম কাহিনীতে রূপান্তর করে।

সোমবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৩

মসজিদে মহিলাদের নামাজের ব্যবস্থা

১.
'এই মসজিদে কি মেয়েদের নামাজের ব্যবস্থা আছে?' - বাম দিক থেকে নারীকন্ঠে এই প্রশ্ন শুনতে পেয়ে আমি চোখ খুলে পাশে তাকালাম, কিন্তু ভদ্রমহিলাকে দেখতে পেলাম না। কেউ উত্তর দেয় নি, তাই মহিলা আবারও প্রশ্ন করলেন - 'এই মসজিদে কি মেয়েদের নামাজের ব্যবস্থা আছে? আমার জোহরের নামাজ পড়া হয় নি'। এবারও কেউ উত্তর দিল না। আসলে মসজিদে তখন আমার মত অল্প কিছু মানুষ শুয়ে বসে ঝিমাচ্ছে বা আসরের নামাজের অপেক্ষা করছে। ছোটভাই পরীক্ষা দিচ্ছে, শেষ হওয়া পর্যন্ত আমার কাজ নেই - তাই আমি মসজিদে শুয়ে মোবাইল ঘাটছি। মসজিদের খাদেম আসরের নামাজের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, মেঝে পরিস্কার করছেন, কিন্তু মহিলার কন্ঠস্বর তার কাছে পৌছায় নি।

মিনিট খানেক পরেই মহিলার একই প্রশ্ন শুনতে পেলাম - এবার ডানদিকে, শব্দের উৎসমুখে ভদ্রমহিলাকে দেখেও ফেললাম - পয়তাল্লিশ পঞ্চাশ বা তার বেশী বয়সের এক মোটাসোটা বোরকা পড়া মহিলা - সম্ভবত তারও কেউ পরীক্ষা দিচ্ছেন। এইবার খাদেম প্রশ্ন শুনতে পেলেন - জানিয়ে দিলেন, মহিলাদের নামাজের কোন ব্যবস্থা নেই মসজিদে। ভদ্রমহিলা হতাশ হয়ে সামনের দিকে এগোলেন - ওদিকে কোন মসজিদ আছে কিনা কে জানে!

বছর দুয়েক আগের ঘটনা। জগন্নাথ ইউনিভার্সিটির সামনের মসজিদে।

২.
মহিলার বয়স বছর ত্রিশেক হবে সম্ভবত, কারণ তার সাথের মেয়েটির বয়স ৪/৫ এর বেশী নয়। চোখ ছাড়া পুরো শরীর কালো বোরকা, হাতমোজায় ঢাকা। মসজিদের কাছে একটি গাছের আড়ালে দাড়ালেন। তারপর নামাজের নিয়ত করলেন। রুকু, সিজদার জায়গায় ইশারায় নামাজ পড়লেন। মসজিদটা বিশাল - দোতালা। মাগরিবের সময় দোতালায় মানুষ হয় না। কিন্তু ভদ্রমহিলার নামাজের জায়গাও হল না।

আজকের ঘটনা। ধানমন্ডি লেকের পাশে যে মসজিদটা, সেখানে।

৩.
কেন হবে, কেন হবে না, কিভাবে হবে, কে করবে - আমি জানি না। এইটুকু বুঝি - বর্তমান সময়ে যেহেতু নারীরা দিনের একটা বড় অংশ বিভিন্ন প্রয়োজনে বাসার বাহিরে কাটান, তাই তার নামাজের জায়গাটুকুও নিশ্চিত করা দরকার, পড়বেন কি পড়বেন না - সেটা তার ব্যাপার!

এ বিষয়ে আরেকটি পোস্ট পড়ুন

শনিবার, ১৬ নভেম্বর, ২০১৩

রোমেনা আফাজের সমাধিতে

ঠনঠনিয়া বাসস্ট্যান্ডে পৌছে দেখি ঢাকায় ফেরার গাড়ি থাকলেও টিকিট নেই। সবশেষে ছাড়বে যে বাসটা সেটা সদ্য রং করা হয়েছে, বডি থেকে রং এর গন্ধ পাওয়া যায়, ছাড়ার আগে সেখানে একটা ছোট মিলাদ হবে, অর্থ্যাৎ সাতটার আগে ছাড়বে না। ফলে নাইটকোচ ধরা ছাড়া উপায় থাকলো না আমাদের। শহর ঘুরতে শুরু করতে না করতেই দেখি বিশাল গোরস্থান, সেখানে শুয়ে আছেন রোমেনা আফাজ - দস্যু বনহুরের স্রষ্টা। 

রোমেনা আফাজ ১৯২৬ সালের ২৭ ডিসেম্বর বগুড়ার শেরপুরে এক মুসলিম সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা কাজেম উদ্দিন ছিলেন পুলিশ ইন্সপেক্টর, মা আছিয়া খাতুন সাহিত্য অনুরাগী। শাজাহানপুর উপজেলার ফুলকোট গ্রামে ডা. আফাজ উল্লাহ সরকারের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। রোমেনা মাত্র ৯ বছর বয়স থেকে লেখালেখি শুরু করেন। তার প্রথম লেখা ছড়ার নাম ছিল বাংলার চাষী। তৎকালে এ ছড়াটি কলকাতার মোহাম্মদী পত্রিকায় প্রকাশ পেয়েছিল। এরপর তিনি ছোট গল্প, কবিতা, কিশোর উপন্যাস, সামাজিক উপন্যাস, গোয়েন্দা ও রহস্য সিরিজ লেখেন। তার লিখিত বইয়ের সংখ্যা ২৫০টি। 

সাহিত্যকর্মের তালিকা:
দেশের মেয়ে: সামাজিক ও পারিবারিক
জানি তুমি আসবে: প্রণয়মূলক উপন্যাস
বনহুর: রহস্য সিরিজ
রক্তে আঁকা মাপ: দুঃসাহসিক অভিযান
মান্দিগোর বাড়ি: কিশোর উপন্যাস

অসামান্য প্রতিভার অধিকারী এই সাহিত্যিক ১২ জুন, ২০০৩ সালে মৃত্যুবরণ করেন৷
Photo: ঠনঠনিয়া বাসস্ট্যান্ডে পৌছে দেখি ঢাকায় ফেরার গাড়ি থাকলেও টিকিট নেই। সবশেষে ছাড়বে যে বাসটা সেটা সদ্য রং করা হয়েছে, বডি থেকে রং এর গন্ধ পাওয়া যায়, ছাড়ার আগে সেখানে একটা ছোট মিলাদ হবে, অর্থ্যাৎ সাতটার আগে ছাড়বে না। ফলে নাইটকোচ ধরা ছাড়া উপায় থাকলো না আমাদের। শহর ঘুরতে শুরু করতে না করতেই দেখি বিশাল গোরস্থান, সেখানে শুয়ে আছেন রোমেনা আফাজ - দস্যু বনহুরের স্রষ্টা।   রোমেনা আফাজ ১৯২৬ সালের ২৭ ডিসেম্বর বগুড়ার শেরপুরে এক মুসলিম সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা কাজেম উদ্দিন ছিলেন পুলিশ ইন্সপেক্টর, মা আছিয়া খাতুন সাহিত্য অনুরাগী। শাজাহানপুর উপজেলার ফুলকোট গ্রামে ডা. আফাজ উল্লাহ সরকারের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। রোমেনা মাত্র ৯ বছর বয়স থেকে লেখালেখি শুরু করেন। তার প্রথম লেখা ছড়ার নাম ছিল বাংলার চাষী। তৎকালে এ ছড়াটি কলকাতার মোহাম্মদী পত্রিকায় প্রকাশ পেয়েছিল। এরপর তিনি ছোট গল্প, কবিতা, কিশোর উপন্যাস, সামাজিক উপন্যাস, গোয়েন্দা ও রহস্য সিরিজ লেখেন। তার লিখিত বইয়ের সংখ্যা ২৫০টি।   সাহিত্যকর্মের তালিকা: দেশের মেয়ে: সামাজিক ও পারিবারিক জানি তুমি আসবে: প্রণয়মূলক উপন্যাস বনহুর: রহস্য সিরিজ রক্তে আঁকা মাপ: দুঃসাহসিক অভিযান মান্দিগোর বাড়ি: কিশোর উপন্যাস  অসামান্য প্রতিভার অধিকারী এই সাহিত্যিক ১২ জুন, ২০০৩ সালে মৃত্যুবরণ করেন৷

শনিবার, ৯ নভেম্বর, ২০১৩

ছ্যাচড়া রোগ

ঠান্ডা সর্দি হল ছ্যাচড়া রোগ - জ্বর হইলেও লোকে জিজ্ঞেস করে - কবে হল, কেন হল। জ্বর আছে কিনা জানার জন্য কপালে হাত দেয়, সেটা কিন্তু দারুন লোভনীয় এবং উপভোগ্য, কিন্তু সর্দি হলে কেউ নাকে হাত দেয় না, কিভাবে হল সেটাও কেউ কেউ জিজ্ঞাসা করে না, সরাসরি পরামর্শ দেয় - হিসটাসিন খেয়ো।

অলস সাহিত্য

মাঝে মাঝে কিছু সময় আসে যখন আপনি অনেক মানুষের মাঝে থেকেও অনেক একা। 


সে সময় আপনি স্থির বসে থাকবেন হয়তো কোন কার্পেট বিছানো মেঝেতে, অথবা গাছপালা ভর্তি বারান্দার কোন এক কোনে, কিংবা হয়তো বিছানায় শুয়ে সিলিং এর দিকে শূন্য চেয়ে থাকবেন, আপনার আশে পাশে পৃথিবীর শত ব্যস্ততা - ছোট বোনটা তার ইচ্ছেমত কথা বলে যাচ্ছে, প্রশ্ন করে যাচ্ছে, অথবা আপনার হাত নিয়ে খেলছে, কিংবা মোবাইল, অথবা অন্য কিছু অথচ আপনি ঠিক এই দুনিয়াতে নেই। কারণ আপনার মোবাইলে, অথবা ল্যাপটপে, অথবা এ দুজায়গার কোনটিতেই নয়, আপনার মাথায় সেট করা বিশাল স্টেরিও সেটে বেজে যাচ্ছে এমন কোন এক অসাধারণ রোমান্টিক গান, যা আপনি মন দিয়ে না শুনলেও হারিয়ে যাচ্ছেন গানের সুরে। 

বুক ভরা ভালোবাসা
রেখেছি তোমারই জন্য
ও প্রিয় আমার, আমি যে তোমার
তুমি শুধু আমারই জন্য।

সে সময়গুলো অনেক অদ্ভুত, কারণ আপনি তখন পৃথিবীতে থেকেও পৃথিবীর বাইরের কেউ, সম্ভবত স্বর্গে যাত্রী, অথবা অন্য কিছু। ওই সময়টায় আপনার মনে জাগতিক কোন দুশ্চিন্তা থাকবে না, জীবনের ছোট-বড় টার্গেটগুলো অ্যাচিভ করার তাড়া থাকবে না। হয়তো সে সময় আপনি হাতড়ে হাতড়ে জীবনের অসংখ্য ঘটনার মধ্য থেকে কোন সুখের ঘটনা খুজে বের করবেন, অথবা তৃপ্তিদায়ক কোন মুহুর্ত, তারপর সেগুলো রোমন্থন করবেন, ঠান্ডা কোমল আইসক্রিম মুখের ভেতর নিয়ে গলে যাওয়া পর্যন্ত যে অনুভূতি, অপার্থিব আবেশ - সেটা পাবেন ওই সময়ে। অতীতের কোন ঘটনা বাদ দিয়ে অনাগত ভবিষ্যতের কোন দৃশ্যকাব্য রচনাও হতে পারে সেই সময়ে। যেহেতু গানের কথাগুলো রোমান্টিক, আশেপাশের পরিবেশটা শান্ত, এবং আপনি বসে আছেন কার্পেট বিছানো কোন মেঝেতে, তখন স্বাভাবিকভাবে ভবিষ্যত সেই দৃশ্যকল্পগুলোয় নানা ধরনের রং ভেসে বেড়াবে পেঁজা পেঁজা তুলোর মত, অল্প অল্প বাতাসে মেয়েদের চুল উড়বে, ছেলেদের হাফ শার্ট ফুলে ফুলে উঠবে, ভবিষ্যতের ঘটনা কিন্তু তৃপ্তির ছোঁয়া পাওয়া যাবে এমন সময়েই। 

এরকম কোন সময়ে অল্প কিছু মানুষ মেঝেতে বিছানো কার্পেটে বসে অলসভাবে স্মৃতি রোমন্থন করে না, করে না কোন ভবিষ্যত স্বপ্ন রচনা, তারা লিখে। লিখতে লিখতেই যদি লম্বা চুলের ছোট বোনটা গোসল করে আসার পর খোঁপা থেকে ভেজা টাওয়েল খুলে বলে - ভাইয়া, আমার চুল আচঁড়ে দিবা? আর ভাইয়াটাও যদি অনভ্যস্ত হাতে চুলে চিরুনী চালানোর সময মনে মনে হিসেব করে - পনেরো বছর, অথবা ষোল, কিংবা সতেরো বছর পরে, তার আম্মার চুলে চিরুনী চালানোর পরে আজ আবারও কোন লম্বা চুলে চিরুনী চালাচ্ছে - তখন কেমন অনুভূতি হয় বলেন তো?

খুব সুখ না, তবে খুব অসুখও নয়, বরং এলোমেলো হলেও কিছু যে লেখা হচ্ছে তার যে তৃপ্তি সেই তৃপ্তি নিয়ে লিখছি - কেমন আছেন আজ?

শুক্রবার, ৮ নভেম্বর, ২০১৩

মানসিক সমস্যা - ৩

ফাহমিদ-উর-রহমান সাহেব ভদ্রজন। সিডেটিভ দেন নাই। তবে বিস্তর আলোচনা করেছেন। তার পড়াশোনার দৌড় শুধু ডাক্তারি বিদ্যা বা গল্প উপন্যাসে সীমাবদ্ধ না, সেটাও জানা গেল। সাইকোলজিক্যাল সমস্যার খুব ভালো দুটো সমাধান তিনি দিয়েছেন।

১. বেশী চিন্তা করবেন না। চিন্তা না করলেই ভালো থাকবেন, চিন্তা করতে গেলেই বিপদ বাড়বে। সুতরাং - নো চিন্তা! চিন্তা থেকে বাঁচার জন্য ব্যস্ত থাকা যেতে পারে, তবে ব্যস্ততা আসলে খুব বেশী সাপোর্ট দিবে না আমার ক্ষেত্রে, কারণ এ কয়দিন সাপোর্ট দেয় নাই।

২. দ্বিতীয় এবং সবচে কার্যকরী সমাধান হল - একা থাকা যাবে না। একা থাকলেই এক নম্বর সমাধান কাজে লাগানো সম্ভব হবে না। কমপক্ষে দোকা থাকতে হবে এবং অ্যাকটিভ থাকতে হবে।

যে কোন ধরনেরই মানসিক চাপ/সমস্যা কাটিয়ে উঠার জন্য এ দুটো পদ্ধতিই বেশ কার্যকর। আপনারা যারা আছেন ফ্রেন্ডলিস্টে - একটু যাচাই করে জানায়েন তো - আসলেই কার্যকর কিনা।

আমি একটু আসি, কম্পিউটারের সামনে বসলে একাই থাকা হয়। বরং আজকে রাতের মত কোথাও পালাই।

বৃহস্পতিবার, ৭ নভেম্বর, ২০১৩

গুডবাই টু ইউ মাই ট্রাস্টেড ফ্রেন্ড

ওয়েস্টলাইফ ব্যান্ডের সাথে পরিচয় সম্ভবত ইমার মাধ্যমে, স্কুলে থাকতে। ইংরেজি গানের প্রতি আমার আগ্রহ কোনকালেই ছিল না, ইমা শুনতো। তার বাসায় কিছু টেপ ছিল, সেগুলোই শুনতে শুনতে মুখস্ত করে ফেলেছিল। সেই গানের লিরিক বলে আমার মাঝে আগ্রহও তৈরী করার চেষ্টা ছিল সম্ভবত। ফলে ওয়েস্টলাইফের গানের সাথে পরিচয় হয়। পরে অবশ্য, ভাইয়ের কল্যাণে ওয়েস্টলাইফের একটা পুরো অ্যালবামই কয়েকশত বার শোনা হয়েছিল।

বহুদিন পরে আজকে আবার ওয়েস্টলাইফ শুনলাম। কৈশোরে ওই গানের টাইটেল ছিল 'গুড বাই টু ইউ মাই ট্রাস্টেড ফ্রেন্ড', এখন সেটা হয়েছে 'সিজনস ইন দ্য সান'. লিরিক কিছুটা বুঝতাম, বাকীটা উ-উ-উ-উ করে পাস করতে হতো। গান শুনতে শুনতে আজ সেই গানের লিরিকও বের করে ফেললাম।


Goodbye my friend, it's hard to die,

when all the birds are singing in the sky,

Now that the spring is in the air.

We had joy, we had fun, we had seasons in the sun.

But the hills that we climbed

were just seasons out of time.

ইটস কম্প্লিকেটেড

'এ' যখন স্কুল পেরিয়ে কলেজে ঢুকল, তখনো সে সিঙ্গল এবং যখন তার আশে পাশের কম্প্লিকেটেড বা ইন আ রিলেশনশিপের বন্ধুরা তাকে তাচ্ছিল্য অথবা করুণা করতে শুরু করল, তখন সহ্য করতে না পেরে একদিন এ তারই ক্লাসমেট 'বি' কে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে ফেলল। সিঙ্গল থাকতে থাকতে 'বি'-ও অসহ্য হয়ে পড়েছিল, তাই 'এ' ঠিক রাইট চয়েস না হওয়া সত্ত্বেও 'বি' রাজী হয়ে গেল এবং দুজনেই সিঙ্গল থেকে ইন আ রিলেশনশিপে প্রমোটেড হল।



ভালোই চলছিল। 'এ' এর ফ্রেন্ড 'সি'র সাথে সম্পর্ক ছিল 'ডি' নামের একজনের, কিন্তু কি এক কারণে তাদের রিলেশনশীপ কম্প্লিকেটেড হয়ে গেল। কম্প্লিকেটেড রিলেশনশীপটা অসহ্য। এতদিনের অভ্যাসকে মানিয়ে নেয়া কষ্ট হচ্ছিল, তাই 'সি' সাহায্য চাইল 'এ'র। বেশী কিছু নয়, সামলে উঠা পর্যন্ত একটু পাশে থাকলেই চলবে। বন্ধু 'সি'র জন্য এতটুকু করতে 'এ'র আপত্তি ছিল না। কিন্তু 'ডি'কে ভুলে থাকতেই যেন 'সি' একসময় 'এ'তে ডুব দিল। 'বি'কে বাদ দিয়ে 'সি'র সাথে সম্পর্কে জড়ানোর কোন ইচ্ছা ছিল না কিন্তু একদিন 'বি'র সাথে তার ঝগড়া হল এবং ব্রেকআপ হয়ে গেল। 'বি'কে ভুলে যাওয়ার জন্য 'সি'র সাথে ইন আ রিলেশনশীপে গেল 'এ', অন্যদিকে 'এ'র সাথে ব্রেকআপ হয়ে যাওয়ায় সিঙ্গল 'বি' অল্প কদিনেই 'এফ' এর সাথে রিলেশনশিপে শিফট করল। এদিকে 'সি'র মনে হচ্ছিল 'এ'র তুলনায় 'ডি'ই হয়তো বেটার কিন্তু 'ডি' ততদিনে 'ই'র সাথে ইন আ রিলেশনশীপ। 'ই'র সাথে রিলেশনশিপ হয়ে গেলেও 'সি' 'ডি'র সাথে শুধু ফ্রেন্ড হয়ে থাকতে চাইল। 'ডি'র কোন আপত্তি ছিল না, কারণ সি'ও তো একজন 'এ'র সাথে ইন আ রিলেশনশিপ, কিন্তু 'ই'র জন্য ব্যাপারটা সহজ ছিল না। সে বুঝতে পারছিল এভাবে চললে শেষ পর্যন্ত 'ডি'র সাথে 'সি'র সম্পর্ক ইন আ রিলেশনশিপ হলেও হতে পারে কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার সাথে কম্প্লিকেটেডই থেকে যাবে। ফলে 'ই' চাচ্ছিল একজন 'জি'কে খুঁজে নিতে যে কিনা শেষ পর্যন্ত তারই মত হবে। একজন 'জি'কে সে পেয়েও গেল, কিন্তু 'জি' কিছুদিন 'ই'র সাথে ইন আ রিলেশনশিপ থাকার পর বুঝতে পারল 'ই' ইজ নট দ্য রাইট চয়েজ। ফলে সে 'এইচ' এর দিকে ঝুকতে শুরু করল। 'ই' ভেবেছিল, এই শেষ, সে সারাজীবন সিঙ্গলই থেকে যাবে, কিন্তু একদিন 'আই' তাকে প্রপোজ করে ফেলল। 'আই' এর আছে এমন এক ইতিহাস যেখানে বি, সি, এইচ কিংবা অন্যান্য আরও অনেকের নাম আছে। এমন একজন 'আই' এর প্রপোজাল গ্রহণ করার ব্যাপারে 'ই'র আপত্তি ছিল অনেক, কিন্তু একটু ভাবতে গিয়ে সে টের পেল 'আই' এর তুলনায় সে ভালো অবস্থানে থাকলেও তার ইতিহাসেও আছে 'ডি' কিংবা 'জি'র মত মানুষেরা।


'ই' বুঝতে পারছিল এই তালিকায় আরও নাম যুক্ত হবে, যুক্ত হবে 'আই'এর তালিকায়ও, কিন্তু সে বুঝতে পারছিল না এ, বি, সি, ডি, ই, এফ, জি, এইচ, আই এবং তারপরে জে, কে, এল, এম, এন, অথবা ও, পি, কিউ, আর, এস, টি বা ডব্লিউ, এক্স, ওয়াই, জেড মিলে জটিল যে জাল তৈরী হচ্ছে তার সমাপ্তি আসলে কোথায়?

বুধবার, ৬ নভেম্বর, ২০১৩

মানসিক সমস্যা - ২

ডঃ ফাহমিদ-উর-রহমান
এমবিবিএস, এমফিল, এফসিপিএস
প্রাক্তন রেজিষ্ট্রার, সানসাইন হসপিটাল মেলবোর্ন, অস্ট্রেলিয়া
সহকারী অধ্যাপক
মনোরোগ, অনিদ্রা, টেনশন, মাথাব্যাথা ও মাদকাসক্তি রোগ বিশেষজ্ঞ
জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট, শের-ই-বাংলা নগর, ঢাকা।

গতকাল থেকে ব্যাপক খোঁজাখুজির পর এই ভদ্রলোকের সন্ধান পাওয়া গেছে। বাকীরা প্রধান ক্রাইটেরিয়াই পূরণ করতে পারে নি, ইনি পেরেছেন। যার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে তিনি এও জানিয়েছেন - ভদ্রলোক হাফ পাগলা, তবে কামড় বা খামচি দেয় না। মোটামুটি নিশ্চিন্ত হয়ে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়েছি সকালে, সিরিয়াল নাম্বার সিক্স।

পুরোপুরি নিশ্চিন্ত হতে পারি নি, কারণ ছোট্ট একটা ভুল হয়ে গেছে। আমি খুঁজেছিলাম সাইকোলজিস্ট, কিন্তু এসে পড়েছি সাইক্রিয়াটিস্টের কাছে। সম্ভবত ইনি সিডেটিভ টাইপ কিছু দিয়ে দিবেন। বড় আপা অবশ্য বলে দিয়েছেন - ডাক্তারকে যেন আগেই বলে দেই সিডেটিভ না দেয়ার জন্য - ঘুমের সমস্যা নেই। 

অ্যাটেন্ডেন্সের কাছে ৫০০ টাকা ভিজিট দিয়ে অপেক্ষা করা শুরু করলাম। একমাসের মধ্যে আরেকবার আসলে হাফ ভিজিট, একমাসের পরে আসলে ফুল। ডাক্তার ভদ্রলোক গড়ে দৈনিক ছয়জন রোগী দেখেন, দেড় ঘন্টা সময়ে। তারমানে রোগী ঢুকলে গতানুগতিক সমস্যা মনে করে প্রেসক্রিপশন লিখে দেবেন -হয়তো তিনি খুব দ্রুতই বুঝে ফেলবেন সমস্যাটা, কিন্তু রোগীর সমস্যাটাই তো মনে - সে যদি কনভিন্সড না হয়? স্ট্রাইকিং কিছু একটা বলতে হবে - যা শুনলে রোগীতে আগ্রহ পাবেন ডাক্তার। কি বলা যায়? কি বলা উচিত?

রোগীদের সাথে বসে টিভিতে নিউজ দেখতে লাগলাম। জাপানে বিশ্বাস করা হয় বাচ্চারা কাঁদলে নাকি স্বাস্থ্য ভালো থাকে। তাই এক দেড় বছরের বাচ্চাদের নানা কসরতের মাধ্যমে কাঁদানো হচ্ছে। প্রায় ন্যাংটা দুজন সুমো কুস্তিগীর দুটো বাচ্চাকে আলগে ধরে মুখোমুখি করাচ্ছে আর অদ্ভুত দর্শন এক লোক, তার হাতে একটা হাতপাখা টাইপ কিছু, ইয়াআআআআ বলে চিৎকার করে বাচ্চাদের ভয় দেখাচ্ছে। বাচ্চারা কাঁদছে চিৎকার করে, বাচ্চার মা হাসিমুখে বলছে - আমার ছেলে কেঁদেছে, আমি খুশী। ওইরকম কুস্তিগীর আমাকে ধরলেই আমি আকাশ বাতাস কাপিয়ে কাঁদতে শুরু করতাম, এই বাচ্চাগুলো সে তুলনায় অনেক সাহসী!

কাছেই কোথায় যেন বোমা ফাটল একটা। পটকা বা গোলাগুলির আওয়াজও পাওয়া গেল। রুগীর দর্শনার্থীরা জানালায় ভিড় করেছে। আমি অপেক্ষা করছি ভেতর থেকে মেহরীন বের হয়ে আসার জন্য। মেহরীন গতকালকেও সিরিয়াল নিয়েছিল, মিস করেছে। আজ আবার নিয়েছে। 

দরজা খুলল। প্রথমে যিনি বের হলেন তিনি মেহরীন হতে পারেন না, বয়স্ক এক ভদ্রলোক। তারপর যিনি বের হলেন - তিনিও না, মধ্যবয়স্ক ভদ্রলোক। তারপরের জন হতেও পারেন, বয়স্ক মহিলা। কিন্তু তিনি নন। সবশেষে যিনি বের হলেন তিনিই মেহরীন - চমৎকার সুন্দরী তরুণী। এই আকর্ষণীয় মহিলা মনরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে কেন? মাদকাসক্তি? নাকি অনিদ্রা? অথবা মাথাব্যাথা?

চিন্তায় ছেদ পড়ল অ্যাটেন্ডেন্সের ডাকে - নাজমুল হাসান? 
ইয়াপ্প!
আসেন।

শনিবার, ২ নভেম্বর, ২০১৩

ঢাকা থেকে পালিয়ে

১.
'আপনি বাস থেকে নামবেন কিনা বলেন!' - বাস ছাড়ার আধাঘন্টার মাঝেই এই হুমকী শুনতে হল। ভয়েই ছিলাম - শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ঢাকা থেকে পালিয়েছি, শান্তির গুষ্ঠিতে মড়ক লাগলো না তো!

২.
আড়াইশ টাকার হোটেল রুমে অ্যাটাচড টয়লেটের দরজা আটকায় না। ঠেসে লাগালে কোনভাবে আটকে থাকে। সেভাবেই আটকে দিয়ে চিন্তা করতে বসলাম। হঠাৎ দেখি দরজা আস্তে আস্তে খুলে যাচ্ছে। কোন পেত্নীর অতৃপ্ত প্রেতাত্মা ঢুকে পড়বে কিনা সেই চিন্তা না, বরং খোলা দরজা দিয়ে ইজ্জত বের হয়ে যায় কিনা এই ভয়ে খাঁচা থেকে আত্মাটাই বের হয়ে যাচ্ছিল প্রায়!

৩.
সারা বাংলাদেশে এত এত মসজিদ না থাকলে শুধু টয়লেট ব্যবহারের জন্যই হোটেল ভাড়া দিয়ে ফকির হয়ে যেতাম - আমাদের মত ভ্রমণকারীদের জন্য মসজিদ একটা বড় ব্লেসিংস!

৪.
দুই দিনে চার জেলা - প্রায় ১০০০ কিলো - মাত্র ১৫৯১ টাকায়!

৫.


ম্যাপের সাদা অংশগুলো পূরণ করতে আরও তিন থেকে চারবার ঢাকা থেকে পালাতে হবে। বেস্ট অব লাক টু ইউ দারাশিকো!