বুধবার, ৩০ অক্টোবর, ২০১৩

চেতন ভগত - প্রেম বিষয়ক

চেতন ভগত ভাইয়ার দুইটা বই পড়ার সুযোগ হয়েছে, একখানা সিনেমাও। আজকে আবার তার দেয়া নিচের বাণীটুকুও পড়ার সুযোগ হল - মাথা কেমন ঝিমঝিম করতেছে। কোনটা ফেক অ্যাকাউন্ট? রাইটার? নাকি এই কোটেশন প্রোভাইডার?

I see guys spending weeks, months trying to make a girl happy. I see girls waiting endlessly for their guys to call. Is that all your life is about? For your lover to validate you? Or to make a relationship work? Instead, why not focus on yourself - working on your goals, learning something, being a more positive person and helping others. That will boost your self-esteem far more than any lover ever could. Next time that guy or girl treats you badly, say thank you.Say thank you for reminding me that I need to make myself the focus of my life, not you.

মঙ্গলবার, ২৯ অক্টোবর, ২০১৩

ওয়েস্টার্ণ স্ট্যাটাস!

সেভেন রোডস এলাকায় একটা মাইনিং কোম্পানি কাজ শুরু করেছে কিছুদিন আগে। বিশাল বিশাল যন্ত্রপাতি আর গাইতি-কোদাল হাতে শ্রমিক দিয়ে জায়গাটা পরিপূর্ণ। দিন নেই রাত নেই, বিরামহীনভাবে মহাকর্মযজ্ঞ চলছে। এই যজ্ঞকে পাশ কাটিয়ে আমার বিশাল কালো স্ট্যালিয়নটা দুলকি চালে ডানদিকে তেজগা ভ্যালির দিকে ঢুকে পড়ল।


গতকাল সন্ধ্যায় স্ট্যালিয়নটাকে আস্তবলে দিয়েছিলাম। ভালোমত দলাই মালাই করা হয়েছে, পেট ভর্তি করে দানাপানিও দেয়া হয়েছে। স্ট্যালিয়নটা এখন তরতাজা আর প্রাণবন্ত - পেটে গুতো দিলেই ছুটছে। আমি যাবো নিকেতন টাউনে। তাড়া নেই, এক সময় পৌছুলেই হবে। পথ চেনে স্ট্যালিয়নটা - সুতরাং আমি স্যাডলে বসে ঝিমাতে লাগলাম, স্ট্যালিয়ন চলল নিজের গতিতে।

বেগুনবাড়ি বেসিন থেকে হঠাৎ একটা ছোট্ট নেটিভ ইন্ডিয়ান ছোড়া তীরবেগে ছুটে বেরিয়ে এল। ছোড়াটার বয়স নয় কি দশ, উদোম গা, লুঙ্গি পেচিয়ে নেংটি বাধা কোমরে। একটা ছোট্ট হাড় জিরজিরে টাট্টু ঘোড়ার পিঠে সওয়ারী সে। স্যাডল নেই, কোনমতে রেকাবের মাঝে পা জড়িয়ে আছে। অবস্থা ইন্ডিয়ানটাকে চলে যাওয়ার সুযোগ করে দেয়ার জন্য লাগাম টেনে স্ট্যালিয়নটার গতি কমালাম। ছোড়াটাও একটু সামনে এগিয়ে থামল। আমি কাছাকাছি পৌছাতেই 'আপনার আগে যামু' বলে তার ঘোড়াটার পেটে সজোরে গুতা দিল সে - কিছু বুঝে উঠার আগেই সেটা ছুটতে শুরু করল। আমি স্ট্যালিয়নটার পেটে হালকা গুতা দিলাম - ইঙ্গিত বুঝল সে - ছুটলো। 

ধরে ফেলছি প্রায় এমন সময় হঠাৎ ইন্ডিয়ান ছোড়াটার ডান পায়ের রেকাব ছিড়ে গেল। তাল সামলাতে না পেরে ছেলেটা প্রায় ছিটকে পড়তে পড়তে বেঁচে গেল। ছেড়া রেকাবটা ফেলে রেখেই কিছুদূর গিয়ে থেমে গেল সে। আমি গতি কমালাম - তারপর টিং টিং করে বেল বাজাতে বাজাতে পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বললাম - 'এইবার আমি আগে যাই' ;)

লড়াইয়ে হেরে যাওয়ার পর

কোন লড়াইয়ে হেরে যাওয়ার পর পালিয়ে গিয়ে হারিয়ে যাওয়ার যে চেষ্টা সেটাও একটা লড়াই, সেই লড়াইয়েও যদি হেরে যেতে হয় তবে দ্বিতীয় আরেকটি উপায়ই থাকে - 'প্রে ফর মি' বলে জীবনবাজি রেখে পুনরায় লড়াইয়ে ফিরে আসা। 

জুন মাসে জন্ম বলে বাবা-মা উনার নাম রেখেছিলেন জুন। ২০১২ সালের জুন মাস আসার দুমাস আগে এপ্রিলেই লড়াইয়ে হেরে গিয়ে পালিয়ে গিয়ে হারিয়ে গেলেন জুনভাই। জ্যাক রিচার সম্পর্কে তার ধারনা ছিল না, এখনো নেই - কিন্তু হারিয়ে যাওয়ার জন্য ইন্সটিংক্টই যথেষ্ট। জুনভাই প্রথমে চাকরী ছেড়ে দিলেন, তারপর হারিয়ে গেলেন। দুটো সেল নাম্বারের একটিও খোলা পাওয়া গেল না, পাঠানো মেসেজগুলো দুই দিন বাতাসে ঘোরাফেরা করে ফেরত আসতে লাগল। ফেসবুক আইডি ডিঅ্যাকটিভেট হয়ে গেল, টুইটারে অ্যাকাউন্ট ছিলই না, জিমেইলে মেইলের রিপ্লাই আসা বন্ধ হয়ে গেল। জুনভাইয়ের পরিচিত সব জায়গায় নক করেও ৩০শে এপ্রিলের পরের কোন খোঁজ পাওয়া গেল না। 

সর্বশেষ প্রচেষ্টা হিসেবে একদিন সকাল নটায় আমি জুনভাইয়ের বাসা খুঁজে বের করে বন্ধ কলাপসিবল গেটের সামনে দাড়িয়ে থাকলাম। মিনিট বিশেক দাড়িয়ে থেকে ডাকাডাকি করেও দরজা খোলা গেল না, ফিরে আসবো এমন সময় বিল্ডিং এর অন্য কোন বাসিন্দার বদান্যতায় কলাপসিবল গেটের ভেতরে ঢোকার সুযোগ পেয়ে গেলাম। কিন্তু জুন ভাইয়ের বাসায় কোন লোক ছিল না, দরজায় বড় বড় দুটো তালা। ভিজিটিং কার্ডের পেছনে ছোট্ট চিঠি লিখে তালার মাঝে গুজে রেখে ফেরত এলাম, কিন্তু কেউ যোগাযোগ করল না।

মাসখানেক পর এক ছুটির দিনে আবারও গেলাম। এবারও ডাকাডাকির কোন ফল পাওয়া গেল না, তবে কোন এক বাসার কাজের বুয়ার কারণে ঢুকে পড়তে পারলাম। দরজা খুলল জুনভাইয়ের রুমমেট জন। জুনভাই সংক্রান্ত কোন খবরই তার কাছ থেকে পাওয়া গেল না, তবে জুনভাইয়ের ছোট ভাইকে পাওয়া গেল জুনভাইয়ে বিছানায় ঘুমন্ত অবস্থায়। আমার সকল ধরনের প্রশ্নের উত্তরে তিনি শুধু একটা কথাই বললেন - ভাইয়াকে বলবো আপনাকে ফোন করতে। জুনভাই আমাকে আর ফোন করেন নি।

২০১৩ সালের জুন পেরিয়ে অক্টোবরের এক সন্ধ্যায় নতুন এক নাম্বার থেকে ফোন এল - হ্যালো, আমি জুন! সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে দেশ থেকে পালিয়ে গিয়ে হারিয়ে যাওয়ার লড়াইয়ে হেরে গিয়েছেন জুনভাই। পুরাতন লড়াইয়ে ফিরে আসা ছাড়া তার কোন বিকল্প ছিল না - পুরানো প্রতিদ্বন্দ্বীরাও প্রস্তুতি নিয়ে বসে আছে - দেড় বছর বাদে জুনভাইকে ফিরতে দেখে জুনভাইয়ের সামনেই অন্যদের জানিয়ে দিয়েছে - জুন এসেছে অক্টোবরে, এবার ক্যু হবে!<

লড়াইয়ে প্রত্যাবর্তনে স্বাগতম জুনভাই। ফাইট জুনভাই! ফাইট টু উইন!! বেস্ট অব লাক!!!

সোমবার, ২১ অক্টোবর, ২০১৩

যদি লড়াইয়ে হেরে যাই

কোন লড়াইয়ে যদি হেরে যান আপনি, কি করবেন?


রবার্ট ব্রুস হার স্বীকার করেন নি। বার বার লড়াইয়ে ফিরে এসেছেন। ষষ্ঠতম বারে তিনি আর হারেন নি, জিতেছেন এবং লড়াইয়ের সমাপ্তি নিশ্চিত করেছেন।দারাশিকোর পূর্বপুরুষ মোঘল সম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা জহিরউদ্দিন মুহাম্মদ বাবরও হারতে রাজী ছিলেন না। তার জীবন কেটেছে লড়াইয়ের ময়দানে - হেরেছেন, ফিরে এসেছেন, জিতেছেন, আবার হেরেছেন, আবার ফিরেছেন, জিতেছেন - তার এই লড়াইয়ের আবর্তন শেষ পর্যন্ত তাকে বিজয়ী করেছে, মুঘল সম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠা করে তিনি লড়াই থেকে বিশ্রাম নিয়েছিলেন। কিন্তু তার বংশধর মুঘল সম্রাজ্যের সন্তান দারাশিকো লড়াইয়ে হেরে যাওয়ার পর ফিরতে পারেন নি। প্রতিপক্ষের তুলনায় তিনি জনপ্রিয় ছিলেন, কিন্তু যোগ্য ছিলেন না। লড়াইয়ে ফেরার স্বপ্ন নিয়ে তিনি পালিয়ে গিয়েছিলেন, কিন্তু লড়াইয়ে ফেরার আগেই তার মুন্ডু চলে গিয়েছিল প্রতিপক্ষের কাছে।


লড়াইয়ে হেরে গেলে সেই হার সহ্য করতে না পেরে দড়িতে ঝুলে পড়ে অনেকে। কেউ কেউ নিয়ম ভেঙ্গে প্রতিপক্ষকেই মেরে ফেলে - তাতে অবশ্য লড়াইয়ে জেতা হয় না, লড়াইয়ের মাত্রা পরিবর্তন হয় কেবল।


আমার যে লড়াই, তাতে হেরে গেলে আমি কি করবো?


প্রথমে পালিয়ে যাবো, তারপর হারিয়ে যাবো।


বর্তমানের ইন্টারকানেক্টেড এই দুনিয়ায় কিভাবে হারিয়ে যেতে হয় সেটা শেখা যাবে জ্যাক রিচারের কাছ থেকে - বই পড়ে অথবা সিনেমা দেখে। জ্যাক রিচার ইউএস এর বৈধ পাসপোর্ট নিয়ে দেশ থেকে বের হন, তারপর অবৈধ পাসপোর্ট নিয়ে আবার দেশে প্রবেশ করেন। জ্যাক রিচারের কোন ইমেইল নেই, কোন ফেসবুক বা টুইটার আইডি নেই। জ্যাক রিচারের কোন মোবাইল ফোন নেই, ট্যাক্স আইডেন্টিফাইং নাম্বার নেই, ইউটিলিটি বিল রেজিস্ট্রেশন নেই। তার কোন গাড়ি নেই - সে হিচহাইকিং বা পাবলিক বাসে ভ্রমণ করে। তার সাথে থাকে টাকা পয়সা, ভাঁজ করা যায় এমন টুথব্রাশ, এটিএম ডেবিট কার্ড এবং একটি এক্সপায়ার্ড পাসপোর্ট। জ্যাক রিচারকে কেউ খুঁজে পায় না, বরং প্রয়োজন হলে জ্যাক রিচারই খুঁজে নেয়। হারিয়ে যাওয়া খুব কঠিন কিছু না। দেশের মধ্যেই পালিয়ে যেতে হলে হিল ট্র্যাক্টস আদর্শ জায়গা। মুহাম্মদ জাফর ইকবালের 'আকাশ বাড়িয়ে দাও' উপন্যাস পড়ে আমি প্রথম ধারনা পেয়েছিলাম পালিয়ে থাকার এই জায়গা সম্পর্কে। হিল ট্র্যাক্টস ঘুরে এসে নিশ্চিত হয়েছি। দেশের বাইরে? কানাডা, আমেরিকা, জার্মানি, ফ্রান্স, শ্রীলংকা, নিদেনপক্ষে ভারতের কোলকাতা অথবা মহারাষ্ট্রের আওরঙ্গবাদ জেলায় অজন্তা গুহার আশে পাশে। আমেরিকায় গ্রান্ড ক্যানিয়নে ঘুরে বেড়ানোর সময় আবদুল্লাহ আবু সাইয়ীদের 'ওড়াউড়ির দিন'কে মনে করব। শ্রীলংকায় যাবো জেফরি বাওয়ার আর্কিটেকচারাল কাজকর্ম দেখতে, এবং আর্কিওলজিক্যাল সাইটস। হুমায়ূন আহমেদের 'রাবনের দেশে আমি ও আমরা' বইতে তার সাথে ছিল স্ত্রী শাওন - আমার সাথে কে থাকবে? কোলকাতায় বা মহারাষ্ট্রে ফেলুদা ছিল তোপসের সাথে, ফেলুদাকে বাদ দিয়ে অজন্তা গুহা, কিংবা কোলকাতার সেমিট্রি আমার ভালো লাগবে? বোধহয় এ কারণেই ফ্রান্সে আমার যাওয়া হবে না। কারণ সেখানে মিউজিয়াম আর 'শ্যাতো' দেখতে হলে আমার অবশ্যই চাই একজন মার্গারেট, সুনীলের যেমন ছিল 'ছবির দেশে কবিতার দেশে' বইতে। মার্গারেট হবার প্রতিশ্রুতি দিলে আমি হেরে যাওয়ার পর ঠিক ফ্রান্সে চলে যেতাম, তারপর জ্যাক রিচারের মত পরিচয় গোপন করে মার্গারেটের সাথে ঘুরে বেড়াতাম - মিউজিয়ামে, আর শ্যাতো-সাইটগুলোতে।


হেরে যাওয়ার পর পালিয়ে গিয়ে হারিয়ে যাওয়ার যে চেষ্টা সেটাও একটা লড়াই, সেই লড়াইয়েও যদি হেরে যাই, তখন কি হবে?

রবিবার, ২০ অক্টোবর, ২০১৩

আর্থিক ও মানসিক দারিদ্র্য

১. মরুপথ। দূরের রাস্তা। দুজন মানুষ। বাহন একটিমাত্র উট। পালা করে চলছিলেন দুজনে। গন্তব্যে যখন পৌছে গেলেন তখন ভৃত্য উপরে - উটের পিঠে আর মনিব নিচে - উটের দড়ি ধরে। লোকেরা উটের উপরে বসে থাকা ভৃত্যকেই বরণ করে নিতে চাইলে বাধা দেন ভৃত্য। ভুল শুধরে জানিয়ে দেন, উপরের নয়, নিচে দড়ি হাতে দাড়ানো লোকটিই আমেরুল মুমিনীন অর্ধেক পৃথিবীর খলিফা হযরত উমার ইবনুল খাত্তাব (রা)। 

২. বিআরটিসি-র এসি বাসে ফিরছি। আড়াই ঘন্টার যাত্রা। পাশের সিটে দম্পত্তির কোল দেড় দু-বছরের একটি বাচ্চা। বাচ্চার দেখাশোনায় সাহায্য করার জন্য বছর দশেকের ছেলে মামুন। আড়াই ঘন্টার রাস্তায় দেড় ঘন্টা সে করিডোরে দাড়িয়েই ছিল। দুজনের সিটে তিনজন - স্বস্তিদায়ক নয়। 

৩. হযরত উমার (রা) এর ঘটনার পরে মামুনের ঘটনার প্রকাশে দম্পত্তি দোষী হয়। কিন্তু আড়াই ঘন্টার যাত্রায় তিনশ টাকা দিয়ে আরও একটি টিকিট কাটা কি সবার পক্ষে সম্ভব - আর্থিক সঙ্গতি কিংবা মানসিকতায়? বোধহয় সম্ভব না। আমার খালা পেরেছেন। চাকুরীজীবি খালা-খালুর একমাত্র মেয়েকে সঙ্গ দেয়ার জন্য বিভিন্ন সময়ে যে সকল মেয়ে তাদের পরিবারে এসেছে তার পোশাক দেখে অন্তত কখনো মনে হয় নি সে কাজিনের বোন নয়।

৪. বাহন হিসেবে উট চলে না এখন, গাড়ি চলে - সেখানে কমে চারজন বসা যায়। রিকশাও চলে, সেখানে কমে দুইজন বসে। গাড়ির সামনের সিটে ড্রাইভারের পাশে কিংবা রিকশার পেছনে যাত্রীর পায়ের কাছে যদি কেউ বসে তবে সেটা অবশ্যই দারিদ্র্যের কারণে। যিনি সামনে অথবা নিচে বসেন, তিনি অর্থনৈতিক দারিদ্র্যের শিকার, পেছনের বা উপরের জন মানসিক। 

৫. রাব্বুল আলামীন সকলকে স্বচ্ছলতা দিক - অর্থনৈতিক এবং মানসিক। আমিন।

বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১৩

একটি সাদা শুভ্র স্ট্যাটাস!


ফাল্গুনের দুই তারিখ শীতের সকালে সাদা চাদর জড়িয়ে আমি ওদের বাসার সামনে উপস্থিত হলাম। আমার হাতে চৌদ্দটি সাদা গোলাপ। সাদা বাড়িটার একতলায় ওদের বাসা। দরজা বন্ধ ছিল, তাই নক না করে সামনের বারান্দায় বসে রইলাম। একসময় দরজা খুলে দাদু বেরিয়ে এলেন। তার ধবধবে সাদা দাড়ি ও পাঞ্জাবীতে পানের পিক ফিকে বর্ণ ধারণ করেছে। দাদু আমাএ দেখে আমার খুব প্রিয় বইয়ের নামে আমাকে ডাকলেন, 'এই শুভ্র! এই' আমি চমকে হাতের চৌদ্দটি সাদা গোলাপ আমার সাদা চাদরের নিচে লুকিয়ে ফেললাম। জ্ঞানী দাদুকে প্রশ্ন করলাম, 'ও সাদা বুড়ো, তুমি কি বলতে পারো শুভ্র সকাল কেন বলে?' সাদা দাঁতে হাসলেন দাদু। 'অবশ্যই। শুভ্র মানে সাদা, সাদা মানে যেখানে কোন রং নেই। আর সাদা মানে পবিত্র, সাদা মানে সুন্দর, সাদা মানেই শান্তির প্রতীক। তাই সুন্র সকাল মানেই শুভ্র সকাল।'





ভেতরে এসে বসলাম। কাঁচবাক্সে সাদা কিসিং গ্রুমি এই সক্কাল বেলাতেও ঘুরে ঘুরে কিস করে যাচ্ছে। ক্লাস টু-তে পড়ুয়া রুমি সাদা স্কুল ড্রেসে হাজির হল। আমি তাকে দেখেই বললাম, 'সাদা সাদা আরও সাদা'. রুমি তার যে দাঁতটি সেদিন ফেলে দেয়া হল সেটিকে চেপে হাসল।





ওকে ডেকে পাঠালাম। সে আসল না। আমি সাদা কাগজে কালো আর লাল কালিতে গুটি গুটি করে লেখা চিঠিটা আর চৌদ্দটা সাদা গোলাপ টেবিলে রেখে বেরিয়ে এলাম।





একদিন দুপুরে ছাদে দাড়িয়ে দেখেছিলাম - দূরে ধবল বক উড়ে যায়। গুলতিতে সাদা মার্বেল মেরে একটি ধরেছিলাম, ভালোও বেসেছিলাম। কিন্তু ধবল বক আমার হয় নি।সাদা বক হারিয়ে গেল একদিন। আমি জেনে গেলাম শুভ্র রং এর বক কখনো আমার নয়।





চাদরকে কাঁধে ফেলে আমি শূন্য রাস্তায় হেটে চললাম। আমার চোখে যে শুভ্র রং আর শুভ্র ছাড়া কিছুই নেই।


শনিবার, ১২ অক্টোবর, ২০১৩

ফু!

চাচ্চু! মশা কামড়াইছে। ফু দাও।
ফু!
ওকে দাও (সিলিং ফ্যান)
ফু!
ওকে দাও (জানালা)
ফু!
ওকে দাও (ল্যাপটপ)
ফু!
ওকে দাও (শো-কেস)
ফু!
ওকে দাও (ছোট চাচ্চু)
ফু!
ওকে দাও (... ...)
আমার ফু শেষ হয়ে গেছে চাচ্চু!

আড়াই বছরের ভাতিজির কল্যাণে বিজিয়েস্ট টাইম যাচ্ছে। কাজের ধরণ উপরে বলা আছে।

শুক্রবার, ১১ অক্টোবর, ২০১৩

The Hunt: শিশু নির্যাতন, ভিন্ন বাস্তবতা

images (1)

২০০৭ সালের একটা ঘটনা শেয়ার করি। ঘনিষ্ঠ বন্ধুর খালাতো বোনটা তখন নার্সারিতে পড়ে। বন্ধু বেড়াতে গেলেই প্রচুর দুষ্টামি হত। একদিন এই দুষ্টামির মাঝখানে হঠাৎ সে ‘এই তুমি আমার গায়ে হাত দিলা ক্যান?’ বলেই খেলা থামিয়ে সোজা তার মায়ের কাছে বিচার দিয়ে এল – ‘আম্মা, ভাইয়া আমার গায়ে হাত দিছে’। বিচার দেয়া শেষে ফিরে আবার দুষ্টামি শুরু করেছে বন্ধুর সাথে, কিন্তু বন্ধু বজ্রাহত হয়ে বসে ছিল, সারাদিনই তার এভাবেই কেটেছে। রাতে আমাকে বলেছিল – যদি তার খালা এই কথাটাকে গুরুত্ব দিত, তাহলে কি হত? ঘটনাটা যদি খালাতো বোনের সাথে না ঘটে অন্য কোন পিচ্চির সাথে ঘটতো – তাহলে কি হত?

শুক্রবার, ৪ অক্টোবর, ২০১৩

জিরাফ হোটেল

Nazmul Hasan Darashiko's photo.

Nazmul Hasan Darashiko's photo.

Nazmul Hasan Darashiko's photo.









সকাল বেলা ব্রেকফাস্ট করতে বসেছেন। পাউরুটিতে জেলি মাখিয়ে মুখে পুরতে যাবেন আর তখনই আপনার পেছন থেকে মাথা বাড়িয়ে দিল বিশালকায় এক জিরাফ - জেলি মাখা পাউরুটি খাওয়ার লোভে - কেমন লাগবে ভাবুনতো!
কেনিয়ার নাইরোবিতে অবস্থিত জিরাফ ম্যানর নামের হোটেলে ঠিক এই অভিজ্ঞতাই পাওয়া সম্ভব। ১২ একর জায়গায় অবস্থিত এই হোটেলটি আভিজাত্যপূর্ণ ডিজাইন আর আসবাপত্রে ভর্তি। হোটেলের সাথেই ১৪০ একর জায়গার রয়েছে জিরাফের অভয়ারণ্য। বিপন্নপ্রায় জিরাফকের প্রজননের জন্য এই অভয়ারণ্যটি ব্যবহৃত হয়। হোটেল হিসেবে ব্যবহৃত বাড়িটি ১৯৩২ সালে স্যার ডেভিড ডানকান তৈরী করেছিলেন। নানাভাবে হাত বদল হয়ে বর্তমানে এটি হোটেল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। যদি কেউ এই হোটেলে থাকার আগ্রহ বোধ করেন তাহলে তাদের ওয়েবসাইট (www.giraffemanor.com/) থেকে বিস্তারিত জেনে নিতে পারেন। বাকীরা এই ছবিগুলো দেখে আফসোস করতে পারেন। শুভকামনা

বৃহস্পতিবার, ৩ অক্টোবর, ২০১৩

খালার গল্প!

আমাদের ফ্ল্যাটে রান্না বান্না করে আমাদের খাওয়ান যে বুয়া তাকে আমরা খালা ডাকি। বয়স্ক মহিলা। রান্না কেমন করেন সেটা নিয়ে মতভেদ আছে, তবে প্রায় আড়াই বছর ধরে আমাদেরকে রান্না করে খাওয়াচ্ছেন তিনি।

আমি অফিসে আসার সময় বাসা থেকে খাবার নিয়ে আসি। তাই সকালবেলা এসে তিনি ভাত-তরকারী রান্না করে দেন। খাবার নিয়ে আসা শুরু করেছি বেশীদিন হয় নি, কিন্তু শুরু করার পরপরই আবিষ্কার করলাম - খালা দারুন রান্না করেন! দুপুরে অফিসে বসে খাওয়ার জন্য তিনি যে স্টাইলে রান্না করেন তা গত আড়াই বছরে বাসার সবার জন্য রেগুলার রান্নায় একটিদিনের জন্যও পাই নি। বিশেষ করে, আলু দিয়ে মুর্গির তরকারী রান্না এত চমৎকার হয় যে - ওই রান্না খাওয়ার জন্য অফিসে আসতেও আমার আপত্তি নেই।

গতকালকের ঘটনা। সকালে তৈরী হচ্ছি, খালা জানিয়ে গেলেন - খাবার তৈরী, না নিয়ে যেন অফিস চলে না যাই। একটু অবাক হওয়ার ঘটনা। কারণ গত পরশুদিন নানা কারণে বাসায় বাজার হয় নি, রান্নাবান্নাও হয় নি। সুতরাং, গতকাল সকালে খাবার নিয়ে আসতে পারবো না এমনটিই স্বাভাবিক, আমিও মানসিক ভাবে প্রস্তুত ছিলাম। খাবার তৈরী জেনে খালাকে ধরলাম - কোত্থেকে আসলো খাবার? জবাব শুনে আমি অবাক। অফিসে খাবো বলে খালা নিজের বাসা থেকে এক পিস ইলিশ মাছ এবং আনুষঙ্গিক তরকারী নিয়ে এসেছেন, সকালে সেগুলো রান্না করে লাঞ্চবক্স সাজিয়ে দিয়েছেন। লাঞ্চটাইমে মজা করে ইলিশ মাছ এবং ডাল-আলুর চচ্চড়ি দিয়ে ভাত খেলাম।

খালার এই যে খাতির, সেটা স্পেশালী আমার জন্যই। আরও কিছু উদাহরণ দেই। গেল সপ্তাহেই সকালে গোসল শেষ করে রুমে ঢুকে দেখি টেবিলের উপর একটি কলা রাখা। কে দিয়েছে সেটা সহজেই অনুমেয় - খেয়ে নিলাম। এর আগে পেয়েছি সে তালিকায় আছে আম, আমড়া, কলা, আনার, আনারস, মিষ্টি ইত্যাদি ইত্যাদি। এছাড়া অন্যান্য আরও কিছু সুবিধা তো পাওয়া যাচ্ছেই - সেগুলো আর না বলি (ফ্রেন্ডলিস্টে বাসার অন্যান্য সদস্যরা আছেন)।

আমার প্রতি খালার এই স্পেশাল খাতিরের কারণ কি সেটা আমি জানি, সেটা আরেকদিন বলা যাবে। ততদিন অপেক্ষা করতে না চাইলে খালার ফেসবুক প্রোফাইল ঘুরে আসতে পারেন।