চট্টগ্রামে বহদ্দারহাট থেকে পুর্বদিকে এগোলে কালুরঘাট ছাড়িয়ে মোহরা। একদিকে কর্ণফুলী, একদিকে হালদা নদী পরিবেষ্টিত এলাকায় বাস করে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর একটু ক্ষুদ্র অংশ। ২০১০ সাল থেকে মাত্র ৪৫০টি পরিবারকে নিয়ে তাদের জীবনমান উন্নয়নের কাজ শুরু করেছে সেন্টার ফর জাকাত ম্যানেজমেন্ট। তাদেরকে একতাবদ্ধ হয়ে জীবনমান উন্নয়নে কাজ করার জন্য উদ্বুদ্ধ করা হয়, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষন প্রদান করা হয় এবং তারপর তাদেরকে আয়বর্ধক কর্মকান্ডে বিনিয়োগের জন্য জাকাত ফান্ড প্রদান করা হয়। ৪৫০টি পরিবারের মধ্যে বেশীরভাগই আয়বর্ধক কর্মকান্ড হিসেবে চাটাই তৈরীকে বেছে নিয়েছে। আঞ্চলিক ভাষায় চাটাইকে বলে 'দারা'। সেন্টারর ফর জাকাত ম্যানেজমেন্ট তাদের সহযোগিতা করার আগেও তারা চাটাই বা দারা বানাতো এবং ব্যবসা করতো, কিন্তু লাভ করতে পারতো খুবই কম। পূজির অভাবে তখন তারা দারা বানানোর সামগ্রী মহাজনের কাছ থেকে বাজার দর থেকে বেশী দামে এবং উচ্চ সুদে কিনতে বাধ্য হতো। এমনকি তাদের কাছে বাজার দর থেকে কম মূল্যে দারা বিক্রি করতে বাধ্য হতো। এমতবস্থায় ২০১১ সালে জুন হতে সিজেডএম থেকে তারা তহবিল পাওয়ার পর মহাজনের হাত থেকে রক্ষা পায় এবং তাদের আয় অনেক বেশী বৃদ্ধি পায়। এখন তারা দারা বানানোর উপকরণ সামগ্রী যেমন বাঁশ ক্রয়ে যেমন দামাদামী করে উপযুক্ত মূল্যে ক্রয় করতে পারে, কোন সুদ তাদের দিতে হয় না, অন্যদিকে ফিনিশড গুডস ( দারা) বেশী দামে বিক্রি করতে পারছে। ফলে তাদের আয় বেশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১১ সালে বেইজলাইন জরিপে তাদের মাসিক গড় আয় ছিল ৩০০০ টাকা । বর্তমানে তা বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ১০-১১ হাজার টাকা। সেন্টার ফর জাকাত ম্যানেজমেন্ট এর উদ্যোগে কামরুল হাসানের ক্যামেরায় চাটাই তৈরীর প্রক্রিয়া তুলে ধরা হল।