বাংলাদেশের প্রথম জাকাত ফেয়ার

গত বছর রোজার ঈদের দু-তিনদিন আগে জাকাতের কাপড় সংগ্রহ করতে গিয়ে ফকিরাপুল এলাকায় পায়ের নিচে পড়ে তিনজন মানুষ মারা গিয়েছিল - মনে করতে পারেন? একজন জরিনা বেগম (৩৭), একজন সাফিয়া বেগম (৩০) এবং একজন নাম না জানা বৃদ্ধা মহিলা (৬৫)। মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছিলেন প্রায় বিশজন নারী - তারা আহত হয়েছিলেন, মরে যেতে পারতেন - মরেন নি। মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা এই মহিলাগুলো এ বছরও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জাকাতের কাপড় সংগ্রহ করতে যাবে, কারণ এই মানুষগুলো জানেই না, জাকাত উদ্দেশ্য অনুযায়ী সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বছরে একটা শাড়ি বা একটা লুঙির জন্য ছুটতে হত না, বরং, জীবনটাই পাল্টে যেত, কয়েক বছর বাদে হয়তো নিজেই জাকাত দিতে পারতো।

প্রতিবছরই একটা শাড়ি বা একটা লুঙি দিয়ে ফরজ ইবাদত জাকাত আদায় করেন দেশের প্রচুর ধনী ব্যক্তি। কত কত দোকান রমজান মাসে নতুন করে ব্যানার সাইনবোর্ড টাঙ্গাবে - এখানে জাকাতের শাড়ি/লুঙি পাওয়া যায়। কত শত পরিবার শত শত বছর ধরে জাকাত দিয়েই যাচ্ছেন, দিয়েই যাচ্ছেন - কিন্তু একটি পরিবারকেও জাকাতের অর্থ দিয়ে দারিদ্র্য দূর করতে পারছেন না।

জাকাত আদায় ও বিতরণের এই অবস্থার পেছনে কারণ একটাই - জাকাতের নিয়মাবলী, উদ্দেশ্য ইত্যাদি সম্পর্কে জ্ঞানের অভাব। জাকাত-কে মূলধারায় নিয়ে আসতে পারলে, সঠিক উপায়ে জাকাত আদায় ও বিতরণ করতে পারলে দারিদ্র্য দূর করা অসম্ভব কিছু নয়। জাকাত সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য Center for Zakat Management (CZM) এর উদ্যোগে কিছু প্রতিষ্ঠান একত্রিত হয়ে বাংলাদেশে প্রথমবারের মত আয়োজন করছে Zakat Fair 2013 (https://www.facebook.com/events/401028730012134/#)। গুলশান শ্যূটিং ক্লাবে আগামী ৫ ও ৬ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে এই জাকাত মেলা - জাকাত নিয়ে লেকচার সেশন থাকবে সেখানে, থাকবে জাকাত ক্যালকুলেশন বুথ, থাকবে শরীয়াহ স্কলাররা যারা জাকাত সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেবেন। আরও থাকবে জাকাতের মাধ্যমে দারিদ্র্য দূরীরকরনের কাজে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানসমূহ - তারা দেখাবেন কিভাবে জাকাতের সঠিক ব্যবস্থাপনা একটি পরিবারকে দারিদ্র্যমুক্ত করতে পারে।

কত রকমের মেলাই তো দেখেছেন/গিয়েছেন, জাকাত মেলায় আসবেন না?

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ