বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন, ২০১৩

Blow: মাদক সম্রাটের জীবনী

Blowআপনি যদি ১৯৭০-র শেষের দিকে অথবা ১৯৮০-র প্রথমদিকে কোকেইন নিয়ে থাকেন, তবে শতকরা ৮৫ ভাগ সম্ভাবনা ওটা আমাদের কাছ থেকে পেয়েছেন - এই বক্তব্য আমেরিকার ড্রাগস্মাগলার জর্জ জাং এর। ১৯৯৪ সালে গ্রেপ্তার হওয়ার পর জাং-কে ৬০ বছরের জেল শাস্তি দেয়া হয়, তবে নানা কারণে এই শাস্তির পরিমান কমিয়ে আনা হয় এবং আগামী ২০১৪ সালের ২৭ নভেম্বর জাং এর মুক্তি পাওয়ার কথা। কিভাবে বোস্টন শহরের এক সাধারণ পরিবার থেকে এত পরিমান ডলারের মালিক হয়েছিলেন যে টাকা গোনার বদলে ওজন করতে হয়েছিল - ষাট পাউন্ড ওজন হলে তিন মিলিয়ন ডলার আর পঞ্চাশ পাউন্ড ওজন হলে আড়াই মিলিয়ন - তা জানতে হলে আপনাকে পড়তে হবে Blow: How a Small Town Boy Made $100 Million with the Medellín Cocaine Cartel and Lost It All অথবা দেখতে হবে Ted Demme পরিচালিত ও জনি ডেপ অভিনীত সিনেমা - Blow (2001), আমি দ্বিতীয়টি বেছে নিয়েছি।

মঙ্গলবার, ২৫ জুন, ২০১৩

আমাদের চলচ্চিত্র কেন উন্নত হচ্ছে না?

রকিবুল ইসলাম ভাই সিনেমাখোর গ্রুপে একটা পোস্ট দিয়েছেন - যার উদ্দেশ্য বাংলাদেশের চলচ্চিত্র কেন উন্নত হতে পারছে না সেটা আলোচনার মাধ্যমে বের করা। উনি কিছু প্রশ্ন করেছেন সবার উদ্দেশ্যে, সবাই সে প্রশ্নের উত্তরও দেয়ার চেষ্টা করেছেন। এই পোস্টটি মূলত আমার আগে করা অন্যদের মন্তব্যের উপর ভিত্তি করে প্রশ্নের জবাব খোজার চেষ্টা করা। বেশ বড় মন্তব্য লিখেছিলাম, সংরক্ষন করে রাখার প্রয়োজন বোধ থেকে লিখছি।

রকিবুল ইসলাম ভাই প্রশ্ন রেখেছেন -
মাঝেমধ্যেই আমাদের মধ্যে বাংলা চলচ্চিত্র নিয়ে আলোচনা শুরু হলে প্রসঙ্গতই পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের কলকাতা-নির্ভর চলচ্চিত্র, নির্মাতা, কারিগরী দিকের কথাও চলে আসে। বিগত ৫-৬ বছরে কলকাতার সিনেমা বেশ অভাবনীয় উন্নতি করেছে। তা কাহিনীর দিক দিয়েই বলেন, অভিনয় প্রসঙ্গেই বলেন, কিংবা সাউন্ডট্র্যাক/ক্যামেরার প্রসঙ্গেই বলুন না কেন। অনস্বীকার্য যে প্রতিভাবান কিছু পরিচালক তারা পেয়েছেন; সাথে দারুণ কিছু কলাকুশলী কিন্তু সেই দিক থেকে এপার বাংলায় এফডিসি কিংবা ইমপ্রেস টেলিফিল্ম নির্ভর আমাদের চলচ্চিত্র শিল্পের পরিবর্তন কিছুটা হলেও শ্লথ। 

সোমবার, ২৪ জুন, ২০১৩

বাংলাদেশের প্রথম জাকাত ফেয়ার

গত বছর রোজার ঈদের দু-তিনদিন আগে জাকাতের কাপড় সংগ্রহ করতে গিয়ে ফকিরাপুল এলাকায় পায়ের নিচে পড়ে তিনজন মানুষ মারা গিয়েছিল - মনে করতে পারেন? একজন জরিনা বেগম (৩৭), একজন সাফিয়া বেগম (৩০) এবং একজন নাম না জানা বৃদ্ধা মহিলা (৬৫)। মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছিলেন প্রায় বিশজন নারী - তারা আহত হয়েছিলেন, মরে যেতে পারতেন - মরেন নি। মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা এই মহিলাগুলো এ বছরও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জাকাতের কাপড় সংগ্রহ করতে যাবে, কারণ এই মানুষগুলো জানেই না, জাকাত উদ্দেশ্য অনুযায়ী সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বছরে একটা শাড়ি বা একটা লুঙির জন্য ছুটতে হত না, বরং, জীবনটাই পাল্টে যেত, কয়েক বছর বাদে হয়তো নিজেই জাকাত দিতে পারতো।

প্রতিবছরই একটা শাড়ি বা একটা লুঙি দিয়ে ফরজ ইবাদত জাকাত আদায় করেন দেশের প্রচুর ধনী ব্যক্তি। কত কত দোকান রমজান মাসে নতুন করে ব্যানার সাইনবোর্ড টাঙ্গাবে - এখানে জাকাতের শাড়ি/লুঙি পাওয়া যায়। কত শত পরিবার শত শত বছর ধরে জাকাত দিয়েই যাচ্ছেন, দিয়েই যাচ্ছেন - কিন্তু একটি পরিবারকেও জাকাতের অর্থ দিয়ে দারিদ্র্য দূর করতে পারছেন না।

জাকাত আদায় ও বিতরণের এই অবস্থার পেছনে কারণ একটাই - জাকাতের নিয়মাবলী, উদ্দেশ্য ইত্যাদি সম্পর্কে জ্ঞানের অভাব। জাকাত-কে মূলধারায় নিয়ে আসতে পারলে, সঠিক উপায়ে জাকাত আদায় ও বিতরণ করতে পারলে দারিদ্র্য দূর করা অসম্ভব কিছু নয়। জাকাত সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য Center for Zakat Management (CZM) এর উদ্যোগে কিছু প্রতিষ্ঠান একত্রিত হয়ে বাংলাদেশে প্রথমবারের মত আয়োজন করছে Zakat Fair 2013 (https://www.facebook.com/events/401028730012134/#)। গুলশান শ্যূটিং ক্লাবে আগামী ৫ ও ৬ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে এই জাকাত মেলা - জাকাত নিয়ে লেকচার সেশন থাকবে সেখানে, থাকবে জাকাত ক্যালকুলেশন বুথ, থাকবে শরীয়াহ স্কলাররা যারা জাকাত সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেবেন। আরও থাকবে জাকাতের মাধ্যমে দারিদ্র্য দূরীরকরনের কাজে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানসমূহ - তারা দেখাবেন কিভাবে জাকাতের সঠিক ব্যবস্থাপনা একটি পরিবারকে দারিদ্র্যমুক্ত করতে পারে।

কত রকমের মেলাই তো দেখেছেন/গিয়েছেন, জাকাত মেলায় আসবেন না?

সিনেমা দেখতে হবে সিনেমাহলে

'জাগো' দেখে আমি যখন অডিটোরিয়াম থেকে বের হয়েছি তখন আমার গলা খসখসে হয়ে গেছে, রুমাল ভেজা - কারণ সিনেমা দেখতে দেখতে আমি পাগলের মত চিৎকার করে কুমিল্লা একাদশকে সাপোর্ট করেছি - ত্রিপুরা একাদশকে ছিড়ে ফুরে দেয়ার আনন্দে রুমাল কামড়ে ধরে অন্ধকারে বোকার মত কেঁদেছি। কিন্তু আমার বুকটা কেমন যেন ফুলে ছিল - দারুন এক তৃপ্তি।

কদিন আগে 'পোড়ামন' দেখে ফেরার সময়ও বুকটা এরকম তৃপ্তিতে ফুলে ছিল - সাইকেল নিয়ে আমি এক প্রকার উড়ে উড়ে বাসায় পৌছে গেছি - তৃপ্তিতে জাকির হোসেন রাজু-কে আমি 'দারাশিকো অ্যাওয়ার্ডে'র নমিনেশন পর্যন্ত দিয়ে ফেললাম।

শাকিব খান অভিনীত 'দেবদাস'এর শেষ দৃশ্য দেখতে দেখতে আবার চোখে পানি চলে আসল - কি নির্বুদ্ধিতা। দেবদাসের পরিণতি কি হবে সে কে জানে না, শাকিব খান 'খ্যাত' অভিনেতা সেটাও তো মনে আছে - তারপরও চোখ সামলানো যায় না কেন?

সিনেপ্লেক্সে 'লাইফ অব পাই' থ্রিডি দেখার অনেক আগে থেকেই জানি - এটা ইল্যুশন - আসলে সিনেমার পর্দায়ই দেখছি - কিন্তু বৃষ্টির দৃশ্যে হাতটা অটোমেটিক্যালি কিভাবে উঠে গেল বৃষ্টি ধরার জন্য?

এই তৃপ্তি আমি কম্পিউটারের সামনে বসে খু-উ-ব কম পেয়েছি। কম্পিউটারে আমি ঝকঝকে প্রিন্টের ছবি দেখি, হেডফোনে নিখুঁত শব্দ শুনি - কিন্তু অন্তরে তৃপ্তি পাই না। রঙিন দেবদাস দেখার পর পরই সাদাকালো দেবদাস দেখেছি - স্বীকার করেছি, সাদাকালো দেবদাস অনেক বেশী ভালো ছবি, কিন্তু কই চোখে পানি তো আসল না?

লাইফ অব পাই বাদ দেই, জাগো, পোগামন, দেবদাস দেখার সময় ত্রুটিগুলো টুপ টাপ করে চোখের সামনে ধরা পড়ে যায়। 'জাগো' দেখার সময় ফেরদৌসের অভিনয় দেখে পছন্দ হয় নি, পোড়ামন-এ ট্রেনের সিকোয়েন্সের চরম আবেগময় মুহূর্তে আমি বুঝতে পারছি ক্যামেরাম্যান লং-শটে পেছনে বসে থাকা দর্শকদের ফ্রেমে না রেখে যদি ক্লোজ শটে নিত - তাহলে সাইমনের আবেগ আরও অনেক বেশীমাত্রায় ছুয়ে যেত, দেবদাস দেখার সময় বুঝতে পারছিলাম পরিচালক চাষী নজরুল বিশ বছর পর একই ছবি বানাচ্ছেন - নায়ক নায়িকা পাল্টেছে শুধু।

ইউটিউবে বাজে প্রিন্ট আর শব্দে বাংলাদেশী ছবি দেখে সিনেমার গুষ্টি উদ্ধার করা যায় কিন্তু সিনেমাহলে গিয়ে একটা সাধারণ মানের ছবি দেখেও যে তৃপ্তি পাওয়া যায় সেটা কখনো পাওয়া যায় না।

রবিবার, ২৩ জুন, ২০১৩

মামুন খানের কষ্ট



মাহমুদা~বড়~বৈমান~তাই~কষ্টে~আছে­~মামুন~খাঁন

মাহমুদা~বড়~বেইমান~তাই~কষ্টে~আছ­ে~মামুন~খাঁন

mhamoda~boro~beiman~tai~koste~­ase~mamun~khan

pashani~mhamoda~koste~ase~mamu­n~khan


Love Is ছলনা You মোরে ভূলনা This My কামনা

তোমরা দেখছনি কোথায় কেমন আছে আমার মাহমুদা
চোখদুটি তার টানাটনা
দেখতে অনেক সুনদরী ওসে দেখতে অনেক সুনদরী!!
বলেছিলো আপন হবে ছেড়ে কেন গেলে তবে
ওসে প্রেমের চেয়ে ভালো জানে কেমনে করে চাতুরী!!
ভালোবাসি আমি যারে তোমরা যদি পাওগো
তারে একবার জিঙ্গেস করো একটা কথা কেন করে লুকোচরি আমার মাহমুদা!!
ইতি তোমারী দেবদাস মামুন_খাঁন

প্রেম করে কেউ সুখী হইছে আমার জানা নাইরে বনধু আমার জানা নাই
এক জনমের দুঃখ নিয়া হাজার নদীর জলদিয়া চোখ ভরিলাম তাই আমি
শুধুই কেঁদে যাই। সেযে বনধু হইলো শ‌‍ত্রু হইলো একাই দুইজনা আমায়
শানতি দিলো শাছতি দিলো সুখ দিলোনা। আমার মত দুঃখী যারা প্রেমে..
হইলো ঘর ছাড়া বিচছেদের অনলে পোড়া আমি তাদেরই গান গাই......
চোখ দিলো সপ্নদিলো ঘুমদিলোনা আমার সকাল নিলো বিকেল নিলো রাত্রী
নিলোনা হায়রে জীয়নতে মরিয়া আছি মরার পরে আবার বাঁচি ভুলেও
একবারও যদি তার দেখা পাই
ইতি মাহমুদারই দেবদাস
মামুন খাঁন

******
কষ্টে থাকা মামুন খান কিংবা পাষানী মাহমুদা দুজনের কাউকেই আমি চিনি না, তবে মামুন খানের কাজ সম্পর্কৈ কিছুটা জানি। তিন বছর আগে সে ইউটিউবে গান এবং সিনেমা আপলোড করা শুরু করে এখন পর্যন্ত প্রায় ১২০০ ভিডিও আপলোড করেছে। এর মাঝে অল্প কিছু সিনেমা এবং সিনেমার গান ছাড়া বিভিন্ন ব্যক্তির একক ভিডিও গান আছে - এদের বেশীরভাগই মামুন খানের ভাষায় 'হট সং'। প্রিয় গায়ক সম্ভবত মনির খান। প্রিয় চলচ্চিত্র অভিনেতা যে মান্না ভাই সেটা স্পষ্ট শুধু মান্না অভিনীত চলচ্চিত্র আপলোড করা থেকে, এবং, 'যে *গী' মান্নাকে মেরেছে' শিরোনামে টিভি নিউজের ক্লিপ। মামুন খানের সকল ভিডিওতে উপরের বাক্যগুলোর কোনটা লেখা আছে। দেড় যুগ আগে ঢাকার রাস্তায় আইজুদ্দিন তার কষ্টের কথা সবাইকে জানিয়েছিল - মামুন খান এত কষ্ট করে নি - বিনা পয়সায় ইউটিউবের দেয়ালে চিকা মেরে গেছে।

বছর খানেক আগে শেষ পোস্ট করেছে মামুন খান - সম্ভবত তার কষ্ট দূর হয়ে গেছে।


 

বৃহস্পতিবার, ২০ জুন, ২০১৩

ফেসবুকে হ্যাশট্যাগ


ফেসবুকে #হ্যাশট্যাগ ব্যবহার শুরু হয়েছে। এই সার্ভিসটা মূলত টুইটারের, ফেসবুক কপি করল। বাংলাদেশের বেশীরভাগ ফেসবুক ইউজার টুইটার ব্যবহার করে না বলে #হ্যাশট্যাগ ব্যবহারে কেমন গ্যাঞ্জাম লাগায়া ফেলতেছে। #হ্যাশট্যাগ শুধুমাত্র একটা শব্দকে ট্যাগ করতেছে - ফলে সঠিকভাবে এবং ভালো উদ্দেশ্যে #হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করতে হলে শব্দটা যত বড়ই হোক - এক শব্দে নিয়ে আসা উচিত। ইংরেজিতে এটা সহজে করা যায় ক্যাপিটাল লেটার ব্যবহার করে, যেমন #HashTag কিন্তু বাংলায় কি হবে? যেমন আমি লিখলাম #দারাশিকোব্লগ । কিন্তু বাংলা ভাষায় একসাথে লিখলে কিছু ঝামেলায় পড়ে যাওয়ারও সম্ভাবনা থাকে। যেমন - #এখানেপাদিবেননা - বিব্রতকর ট্যাগ, কিন্তু বক্তব্য ভালো। কেউ কেউ আন্ডারস্কোর ব্যবহার করছেন - কিন্তু সবাই মিলে ব্যবহার না করলে এটা আবার কাজে আসবে না। মাত্র শুরু হল, দেখা যাক - হয়তো ব্যবহারে একটা ইউনিটি চলে আসবে।

যথেচ্ছা এবং বিব্রতকর ট্যাগ ব্যবহার না করাটাও এখন শিখে নিতে হবে।

বুধবার, ১৯ জুন, ২০১৩

ভারতীয় বিনোদন অনুষ্ঠানের প্রভাব

আমাদের মা-খালা-বোনরা বাসায় হিন্দী সিরিয়াল দেখে দেখে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, বাচ্চারা ডোমেরন দেখে দেখে বাংলা ভুলে হিন্দী বলে যাচ্ছে - এই অভিযোগ, ইনক্লুডিং মি, খুব কম লোকের না। হিন্দি সিরিয়াল দেখার ব্যবস্থা বন্ধ করা হোক - এই দাবী এখনো সফল না হলেও বাচ্চাদের জন্য ডোমেরন বন্ধ করা গেছে - আমরা অর্ধেক আনন্দিত হয়েছি, পুরোটা হতে সিরিয়ালগুলোও বন্ধের ব্যবস্থা করা দরকার।

বাচ্চারা ডোমেরন দেখে প্রভাবিত হচ্ছে, মা-খালা-বোনেরা সিরিয়াল দেখে, আমরা যারা এই অভিযোগ করছি তারা কি প্রভাবপ্রুভ কোন শিল্ড গায়ে লাগিয়ে রেখেছি? আমাকে ডোমেরন প্রভাবিত করবে না, কারণ আমি ডোমেরনের দর্শক না। আমার মা-খালা-বোনও ডোমেরন দ্বারা প্রভাবিত হয় না, কারণ তারাও এর দর্শক না। তামিল-তেলেগু-হিন্দী-কোলকাতার যে ছবিগুলো আমি দেখি সেগুলা আবার বাচ্চা বা মা-খালাকে প্রভাবিত করে না, কারণ তারাও এর দর্শক না, দর্শক হলাম আমরা, যারা দেখছি। কোন প্রভাবই কি নেই?

বছর কয়েক আগে আমার ছোট ভাই বলেছিল - ভারতীয় দোস্তানা/দস্তানা নামের মুভিটা সমকামিতাকে ডিসেনসিটাইজ করতে সবচে বেশী সাহায্য করেছে, বাংলা চলচ্চিত্রে ঢুকে গেছে আইটেম সং নামে জঘন্য এক বিষয়, সামনে আসবে কিসিং এবং বেডসিন। গত কয়েকমাসে কোন দুটো চলচ্চিত্র আমি আপনি সবচে বেশীবার নিউজ-ফিডে দেখেছি? 'আশিকি ২' এবং 'বোঝেনা সে বোঝে না'। বিদ্রুপ করার জন্য হলেও আমি এই সিনেমাগুলোর নাম নিচ্ছি (আমি নিজেও নিলাম এইমাত্র) - মার্কেটিং এর ছাত্ররা বুঝবেন - লাভটা কিন্তু আদতে সেই ভারতের-ই হচ্ছে।

ডোমেরনের বিকল্প দরকার, সিরিয়ালের বিকল্প দরকার, এবং, তামিল-তেলেগু-হিন্দী-বাংলা ছবির বিকল্প দরকার - এর বাইরে আর কোন সমাধান নেই। কদিন আগে 'মুর্গী কেন মিউট্যান্ট' নামে আমাদের ছেলেদের বানানো একটা অ্যানিমেশন ফিল্ম দেখেছিলাম - অসাধারণ। অল্প কটা ছেলে মিলে কদিন আগে রিভ্যলুশনারী একটা কাজ করে ফেলেছে - DHAKA Comics নামে একটা প্রকাশনী খুলে কার্টুন এঁকে বই বের করা শুরু করেছে। এই ছেলেগুলোকে ডেকে এনে, ঘরে বসিয়ে, খাইয়ে দাইয়ে, মাথায় হাত বুলিয়ে, পকেটে টাকা গুজে দিয়ে অনুরোধ করুন - একশটা ডোমেরন এরাই বানিয়ে দেবে। এক হাজারটা ছেলে-মেয়েকে বাছাই করে ভালো গল্প কিভাবে বলতে হয় শিখিয়ে দিন - আগামী দশ বছরে এরা আপনাকে ত্রিশ হাজার গল্পের নাটক-সিরিয়াল উপহার দেবে। একটি শিল্পের জন্য মাত্র ৫৮/৬৩ কোটি টাকা বরাদ্দ করে সেই টাকা ব্যবহারের অভাবে ফেরত যাওয়অর ব্যব্স্থা করে বছরে ১৮-২০ বার দিল্লী-কোলকাতা গেলে - এই দেশের চলচ্চিত্র কোনদিনই 'বাংলাদেশী' চলচ্চিত্র হবে না - বাংলাদেশে নির্মিত 'ভারতীয়' চলচ্চিত্র হবে।

আমি-আপনি কি করতে পারি সেটা ভেবে নিয়ে কাজ শুরু করার সময় এখনো পেরিয়ে যায় নি বোধহয় - কি বলেন?

কোলকাতার সিনেমা 'বোঝেনা সে বোঝেনা'-র প্রভাব



পাত্র কিছু না জানলেও, পাত্রীর বাবা দেরী করতে রাজী ছিলেন না, সুতরাং তিনি জীবন-বিত্তান্ত হাতে পাওয়ার দুদিন পরই সপ্তাহের প্রথম দিনে পাত্রের অফিসে চলে এলেন। দুর্ভাগ্যজনকভাবে পাত্র সেদিন ছুটিতে। পাত্রীর বাবা পাত্রের বসদের সাথে পাত্রী এবং প্রস্তাব বিষয়ে বিশেষ আলোচনা শেষ করে দুদিন পর পুনরায় আসার ঘোষনা দিয়ে বিদায় নিলেন।

পাত্রীর বাবা যথাসময়ে উপস্থিত হয়ে নানাবিধ বিষয়ে কথা বার্তা বললেন। পাত্রের বিষয়-সম্পত্তি, বেতন-বোনাস ইত্যাদির খোঁজ-দ্যা সার্চ নিলেন, নিজ থেকেই পাত্রীর পরিবার পরিজন নিয়ে বিস্তারিত বললেন। পাত্র-পাত্রী একই ফ্যাকাল্টির শিক্ষার্থী, তবে ডিপার্টমেন্ট আলাদা। আলোচনার শেষ পর্যায়ে পাত্র প্রশ্ন করল - ' ইযে .. উনি কোন ব্যাচ?'

পাত্রীর বাবা উত্তর সরাসরি দিলেন না। 'পাত্রী পড়াশোনায় আপনার থেকে তিন বছরের বড় হলেও বয়সে মাত্র মাস ছয়েক বড় ... ...'

পাত্র স্তম্ভিত! কোলকাতার সিনেমা 'বোঝেনা সে বোঝেনা'-র প্রভাব এতদূর?


 

মঙ্গলবার, ১৮ জুন, ২০১৩

বাবা দিবসে

পুত্র পিতাকে মোবাইলে ফোন করিয়া কহিল, 'বাবা, আজকে বাবা দিবস, জানা আছে কি?'
উত্তরে পিতা বলিল, 'জানি বৈকি। টেলিভিশনে আঁখি আলমগীর তাহার বাবাকে লইয়া অনুষ্ঠান করিল, সাদী মোহাম্মদ তাহার বাবা সম্পর্কে কত কথা বলিল।'
পুত্র কি বলিবে তাহা ভেবে না পাইয়া বলিল -'আমি তো জানিতাম না, প্রত্যুষেই জানিলাম।'
এইবার পিতা বলিলেন, 'তোমরা তোমাদের বাবাকে যেরূপ ভালোবাসো, যেরূপ শ্রদ্ধা কর, যেরূপে তোমরা ভালো মানুষ হইয়াছো, মানুষের মত মানুষ হইয়াছো, তাতে আমি বাবা হইয়া খুবই গর্বিত, আমি খুবই গর্ববোধ করি।'
পুত্রের গলা রুদ্ধ হইয়া আসিয়াছিল, তাই সে কিছু বলিল না। পিতার গলাও কাপিঁয়া উঠিয়াছিল, তাহা লুকানোর জন্যই বোধহয় পিতা বলিলেন, 'তোমার মাতার সহিত কথা বলিবে?'
পুত্রও চোখ মুছিয়া স্বাভাবিক স্বরে বলিল, 'দিন।'
পিতা ও পুত্রের মধ্যকার এই যে হঠাৎ আবেগের উচ্ছ্বাস, তাহা সামলাইয়া লইবার জন্য দুজনেরই কিছু সময়ের প্রয়োজন ছিল। মোবাইল ফোন হস্তান্তর তাহাদের দুজনকেই সেই সুযোগ দিয়া ফেলিল।

রবিবার, ১৬ জুন, ২০১৩

তৃপ্তিদায়ক পোড়ামন

Poramon 1পরিচিত দুই নর-নারীর ভাব-ভালোবাসার বিনিময় পরিণয়ে রূপ নেয় এবং নানা রকম ঘাত প্রতিঘাতের মোকাবেলা করে সেই পরিণয় পৌছায় কোন এক পরিণতিতে। এই পরিণতি সফলতার হতে পারে, ব্যর্থতারও হতে পারে। পৃথিবীতে প্রেমের ঘটনা অগুনতি, কিন্তু তার মধ্য থেকে গুটিকয়েক স্থান পায় ইতিহাসে-সাহিত্যে-চলচ্চিত্রে। এরকমই দুই তরুণ-তরুণীর দুর্বার প্রেম কাহিনী নিয়ে জাকির হোসেন রাজু নির্মান করেছেন 'পোড়ামন'। প্রেমের আগুনে পোড়া মনের গল্প হলেও এই গল্প আলু-পোড়ার মতই সুস্বাদু, উপভোগ্য।

বুধবার, ১২ জুন, ২০১৩

এফডিসি-র নির্মাতাদের জন্য পরামর্শ

সকাল বেলায় এক ছোটভাই জানতে চাইল - ভাই বাজারে কি নতুন কোন ভারতীয় জুস টুস আসবে নাকি? ব্যবসা বাণিজ্য নিয়া আমি অজ্ঞান, উত্তর না দিয়া প্রশ্নের উদ্দেশ্য জানতে চাইলাম। উত্তর আসলো, প্রাণের বোতলে নাকি কি সব পাওয়া যাইতেছে। এইবার বুঝলাম। আমি এত অজ্ঞান না যে জানবো না প্রাণের প্রোডাক্ট ভারতেও বিক্রি হয়।

বেলা আরেকটু বাড়লে জানা গেল বাংলাদেশে ভারতীয় ছবি প্রদর্শনের চেষ্টায় গোপন বৈঠক হয়া গেল। এর আগের নানা ইস্যুতে নানারকম বৈঠক গোপনে হয় নাই ঠিক, তবে দেশ নানা ইস্যু নিয়া বিজি ছিল, পেছন দিয়া হাতি গেছে, টের পায় নাই।

এফডিসির লোকগুলাও বেয়াক্কল। ফিকশন ফিল্ম বানায়া দেশোদ্ধার করতেছে! ব্যাটা বেওকুফ!! সবতে মিলা ডকিউমেন্টারি বানা - বিশ বছর পর অন্তত সেইটা দেখায়া বলতে পারবি - আমাদের সুন্দরবন ছিল, ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি ছিল, গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রি ছিল, পল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রি ছিল, জামদানী ছিল, বেনারসী ছিল, অমুক ছিল, তমুক ছিল - এখন শুধু ডকিউমেন্টারী আছে।

এফডিসি-র ফিল্মমেকারদের তখনকার জেনারেশন 'স্টপ জেনোসাইড' নির্মাতা জহির রায়হানের মত শ্রদ্ধা করবে এই স্ট্যাটাসে লিখা দিলাম - যার বিশ্বাস হয় না সে স্ক্রিনশট রাখুক। বেস্ট অব লাক।

সোমবার, ১০ জুন, ২০১৩

শিল্প ঘোষনার পর বাজেটে চলচ্চিত্রে শিল্পের গুরুত্ব

খবর:
শিল্প ঘোষনার পরের দুটি বাজেটে গুরুত্ব পায়নি চলচ্চিত্র শিল্প


মন্তব্য:
এদেশের বাজেটে গুরুত্বের প্রয়োজন নেই, ওদেশের বাজেটে বেশ গুরুত্ব পাবে।

 

রবিবার, ৯ জুন, ২০১৩

বেড়ালকে মানুষ করা

ছেলে-পেলে মানুষ করার পর আব্বা-আম্মা এবার বেড়ালের বাচ্চা মানুষ করার দায়িত্ব নিয়েছেন।

মাস দেড়েক আগে বাহির থেকে ফেরার পথে দেয়ালের উপর একাকী করুণ স্বরে ডাকছে শুনে আব্বা যখন বাচ্চাটাকে বাসায় নিয়ে এসেছিল তখন বয়স বোধহয় সপ্তাহখানেক। গায়ে সাদা ছাড়া আর কোন রং নেই এবং লোমগুলো খাড়া। হাটতে গেলে টুপ টাপ করে পরে যায়।

এখন দেড় মাস পর এই বিড়াল বাসার মনযোগের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। বাসায় বাথরুম করবে বলে সিড়ি ঘরে বড় প্লাস্টিকের গামলায় লিটার সাজিয়ে টয়লেট বানানো হয়েছে। পানি খাবে বলে বাসার দুই বাথরুমে ছোট ছোট দুটো বাটিতে সবসময় পানি রাখা হয়েছে। ঘুমাবে বলে কাঠের আলনার নিচের তাকে জুতার বাক্স সাজিয়ে রাখা হয়েছে। খাবার দেয়ার জন্য দুটো সিলভারের ছোট বাটি বরাদ্দ করা হয়েছে - একটি দুধ খাবার জন্য, অপরটি ভাতের।

বেড়ালের খাবারের স্টাইলও দারুন। প্রথমে তরকারীর আলু দেয়া হয়। তারপর তরকারীর মাছ বা মাংসের টুকরো, তারপরে হাড্ডি বা কাটা চিবিয়ে নরম করে দেয়া হয়। সবশেষে তরকারীর ঝোল মেখে ভাত। এই ভাত তার সারারাতের খাবার। প্রথম দিকে চিকা এসে খেয়ে গেছে খাবার, এখন তার প্রটেকশন ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। বেড়ালের নাম রাখা হয়েছে মিনি।

পোলাপাইন মানুষ করার চ্যালেঞ্জে আব্বা-আম্মা বিজয়ী, বেড়ালের বাচ্চা মানুষ করা তাদের কাছে দুধভাত!

বুধবার, ৫ জুন, ২০১৩

চাটাই বানিয়ে সাবলম্বী

চট্টগ্রামে বহদ্দারহাট থেকে পুর্বদিকে এগোলে কালুরঘাট ছাড়িয়ে মোহরা। একদিকে কর্ণফুলী, একদিকে হালদা নদী পরিবেষ্টিত এলাকায় বাস করে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর একটু ক্ষুদ্র অংশ। ২০১০ সাল থেকে মাত্র ৪৫০টি পরিবারকে নিয়ে তাদের জীবনমান উন্নয়নের কাজ শুরু করেছে সেন্টার ফর জাকাত ম্যানেজমেন্ট। তাদেরকে একতাবদ্ধ হয়ে জীবনমান উন্নয়নে কাজ করার জন্য উদ্বুদ্ধ করা হয়, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষন প্রদান করা হয় এবং তারপর তাদেরকে আয়বর্ধক কর্মকান্ডে বিনিয়োগের জন্য জাকাত ফান্ড প্রদান করা হয়। ৪৫০টি পরিবারের মধ্যে বেশীরভাগই আয়বর্ধক কর্মকান্ড হিসেবে চাটাই তৈরীকে বেছে নিয়েছে। আঞ্চলিক ভাষায় চাটাইকে বলে 'দারা'। সেন্টারর ফর জাকাত ম্যানেজমেন্ট তাদের সহযোগিতা করার আগেও তারা চাটাই বা দারা বানাতো এবং ব্যবসা করতো, কিন্তু লাভ করতে পারতো খুবই কম। পূজির অভাবে তখন তারা দারা বানানোর সামগ্রী মহাজনের কাছ থেকে বাজার দর থেকে বেশী দামে এবং উচ্চ সুদে কিনতে বাধ্য হতো। এমনকি তাদের কাছে বাজার দর থেকে কম মূল্যে দারা বিক্রি করতে বাধ্য হতো। এমতবস্থায় ২০১১ সালে জুন হতে সিজেডএম থেকে তারা তহবিল পাওয়ার পর মহাজনের হাত থেকে রক্ষা পায় এবং তাদের আয় অনেক বেশী বৃদ্ধি পায়। এখন তারা দারা বানানোর উপকরণ সামগ্রী যেমন বাঁশ ক্রয়ে যেমন দামাদামী করে উপযুক্ত মূল্যে ক্রয় করতে পারে, কোন সুদ তাদের দিতে হয় না, অন্যদিকে ফিনিশড গুডস ( দারা) বেশী দামে বিক্রি করতে পারছে। ফলে তাদের আয় বেশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১১ সালে বেইজলাইন জরিপে তাদের মাসিক গড় আয় ছিল ৩০০০ টাকা । বর্তমানে তা বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ১০-১১ হাজার টাকা। সেন্টার ফর জাকাত ম্যানেজমেন্ট এর উদ্যোগে কামরুল হাসানের ক্যামেরায় চাটাই তৈরীর প্রক্রিয়া তুলে ধরা হল।