শুক্রবার, ৩১ মে, ২০১৩

ছাদ দেখা

ডেস্কটপে বসলে পাশের বিল্ডিং-গুলোর ছাদ দেখা যায়, সেই ছাদের গল্প কয়েকবার বলেছি। আজ আরেকটা বলি।
ছাদের সিড়িঘরে একজন বয়স্ক বুয়া থাকেন। সারাদিন কোন এক বাসায় কাজ করেন, দুপুরে আসেন বিশ্রাম নিতে আর রাতে। ভোর বেলায় দেখলাম বুড়ি নেই, সেখানে আরেকটু কম বয়স্ক এক মহিলা। তার একটি ছেলে, বছর দশ বারো বয়স। সাতটা থেকে ডেস্কে বসে আছি, ছেলেটার মা-ও কাজে বেরিয়েছে তখন। ছোট করে ছাটা চুলের ছেলেটি তারপর থেকে একা।
কখনো সে ছাদে উঠছে, খালি পায়ে এদিক থেকে ওদিকে হাটঁছে। কখনো সিড়ির জানালা দিয়ে মুখ বাড়িয়ে আশ-পাশ-উপর-নিচ দেখছে।
ছাদের কাপড় শুকানোর দড়িগুলো নিয়ে কিছু সময় টানাটানি করল।
লাল রং এর ড্রামের উপর বসে থাকল কিছুক্ষন।
সিড়িঘরে তার কাপড়গুলি গুছিয়ে রাখল।
ছাদে একটুকরা লাঠি খুজে বের করল এবার। ডাংগুলি খেলল কিছুক্ষন, অথচ তার গুলি নেই, শুধু ডান্ডা।
এবার একটুকরা সুতো বের করেছে কোন জায়গা থেকে।
সেই সুতোটা বেধেছে হাতের ছোট ডান্ডার সাথে, সুতোর অন্য মাথায় বেধেছে ছোট একটি পাথর।
ডান্ডা ধরে সুতোয় বাধা পাথর ঘুরাচ্ছে বন বন করে - ঘোড়ায় চড়ে যুদ্ধযাত্রা যেন!

একাকীত্বের আর অপেক্ষার সময় বড় যন্ত্রনার, এ সময় কাটে না!

বৃহস্পতিবার, ৩০ মে, ২০১৩

দৈনিক পত্রিকার বিনোদন পাতা

পাশের দেশ যদি ভারত না হয়ে মায়ানমার বা পাকিস্তান হত, বাংলাদেশের পত্রিকাগুলোর বিনোদন পাতার যে কি হাল হত ভেবে কূল পাচ্ছি না। প্রতিদিন প্রথম আলো, কালেরকন্ঠ, সমকাল, ইত্তেফাক এবং মানবজমিনের বিনোদন পাতা দেখি। মানবজমিন বাদে বাকী সবগুলার ষাট ভাগ বা তার বেশী খবর আসে ভারত থেকে। বিশ্বাস না হলে আজকের প্রথম আলো দেখুন - আশি ভাগ খবর ভারতের।


বাংলাদেশে খবর নাই? মানবজমিন দেখুন।


 

বুধবার, ২৯ মে, ২০১৩

সব শিশুরা ভালোভাবে বেড়ে উঠুক

কাকরাইল মসজিদ পার হয়ে একটু সামনের দিকে এগোলে একটা চক্কর আছে, সেখানে একটা গোলাকার বিশ্ব, তার উপর পাখি উড়ছে। চক্করটা পার হয়ে সাইকেলে কাকরাইলের দিকে এগোচ্ছিলাম, হঠাৎ নজর পড়ল ফুটপাতে বসে থাকা এক ভিখারী মা আকুল হয়ে সামনের দিকে হাত বাড়িয়ে ধরতে চেষ্টা করছেন তার ছেলেটিকে। মা'টি-কে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বলে মনে হয়। ছেলেটির খালি গা, বয়স দেড় বছরের বেশী না, ঢুলে ঢুলে সামনের দিকে হাটছিল। ফুটপাত থেকে পড়ে গেলে মাথা ফাটবে নির্ঘাৎ। বসে থাকা মা-টি যে তাকে ধরতে পারবে না সেটা বোঝা যাচ্ছিল। কি ঘটবে বুঝতে পেরে বুকের ভেতরটা ঠান্ডা হয়ে গেল।

ফুটপাতের বাইরে রাস্তায় দাড়িয়ে একটি লোক, বাচ্চাটা তার হাত থেকে দুটাকার একটি নোট নিয়ে হাসিমুখে আবার ফিরতি পথ ধরল। সব মিলিয়ে তিন/চার সেকেন্ডের ঘটনা। দেড় বছর বয়সী বাচ্চাটা হাসিমুখে যে টাকাটা হাত বাড়িয়ে নিল সে কবে এই ভিক্ষার অভিশাপ থেকে মুক্তি পাবে জানি না, কিন্তু আমার দু বছর বয়সী ভাতিজির কথা মনে পড়ে গেল।

সব শিশুরা ভালোভাবে বেড়ে উঠুক।

মঙ্গলবার, ২৮ মে, ২০১৩

কিউরিয়াস মাইন্ড ওয়ান্টস টু নো

কুষ্টিয়ার বিখ্যাত রসিক মিয়ার কুলফি মালাই বিক্রি হচ্ছে এফডিসি-র সামনে। নরমাল ১০ টাকা। স্পেশাল ২০ টাকা।

সকল ধরনের ব্যাথা উপশমকারী বিখ্যাত 'পান্ডার মলম' কোম্পানীর প্রচারের উদ্দেশ্যে বিনামূল্যে বিতরন করা হচ্ছে নাসির টাওয়ার (সময় টিভি) এর সামনে। যদি প্রয়োজন থাকে তবে আজই সংগ্রহ করুন।

জমিজমার আইনকানুন নিয়ে মাত্র দশটাকায় একটি করে বই বিক্রি হচ্ছে সাতরাস্তার মোড়ে। উকিলের কাছে লক্ষ লক্ষ টাকা দেয়ার চেয়ে একটি বই পড়ে নিজেই জেনে নিন জমি জমার সকল আইনকানুন।

সিনেমার বিজ্ঞাপনে 'আসিতেছে' খ্যাত কন্ঠ হল গাজী মাজহারুল আনোয়ার, ফুটবল ক্রিকেটে ধারাভাষ্যদানকারী বিখ্যাত কন্ঠ হল চৌধুরী জাফরুল্লাহ শরাফাত। কিন্তু প্রতিদিন রাস্তায় ক্যানভাসারদের বাজানো ক্যাসেটের এই 'বিখ্যাত' কন্ঠটি কার?

কিউরিয়াস মাইন্ড ওয়ান্টস টু নো - প্লিজ হেল্প!

রবিবার, ২৬ মে, ২০১৩

এইতো ভালোবাসা

35032_624522420895139_1182518223_nসিনেমার মধ্যাহ্নে বিরতির ঠিক আগের দৃশ্যে রাণীর বাবার কাছে একটা ফোন এল, কথা বলতে বলতে তিনি চমকে উঠলেন, তার সাথে সাথে দর্শকের উৎকন্ঠাও বাড়ল - কারণ, রাণীর বাবার কথোপকথনের কিছুই দর্শক শুনতে পায় নি। ফোন রাখার সাথে সাথেই পর্দায় লেখা উঠল - বিরতি। বিরতির পরে কাহিনী কোন দিকে কড়া বাঁক নিতে পারে তা নিয়ে যখন ভাবছি - তখন শিমুল কানে কানে জিজ্ঞেস করল - ভাই, ট্রেলার দেখেই শেষে কি হবে বুঝে ফেলেছি, আপনাকে বলবো? ছবির ট্রেলার আমি দেখি নি, কিন্তু শিমুলের কাছ থেকেও শুনে সিনেমার মজা নষ্ট করতে চাই নি বলে জিজ্ঞেস করা হয় নি, কিন্তু আমি নিশ্চিত শিমুল সিনেমার শেষটা সম্পর্কে সঠিক ধারনা করতে পারে নি। শাহীন কবির টুটুল পরিচালিত প্রথম সিনেমা 'এইতো ভালোবাসা'র সমাপ্তি এতটা অযৌক্তিক এবং সামঞ্জস্যহীন যে কোন দর্শক আগে থেকে তা ভেবে রাখতে পারবে না।

শুক্রবার, ২৪ মে, ২০১৩

বিসিএস পরীক্ষার্থীদের জন্য

আগামীকালকের বিসিএস পরীক্ষায় যারা কোটায় আবেদন করেছেন তারা ব্যতীত সকলের জন্য শুভকামনা ও দোয়া।
অনেস্ট আমলা হয়েন।

বৃহস্পতিবার, ২৩ মে, ২০১৩

কারওয়ানবাজারে বেড়ানো

কোন কোন দিন অফিস থেকে ফেরার সময় যদি মন ফুরফুরে থাকে সেদিন আমার ফনিক্স সাইকেলের মুখ ঘুরিয়ে টুপ করে কারওয়ানবাজারে ঢুকে পড়ি। 

কারওয়ানবাজার আমার কাছে এক বিশাল আশ্চর্যময় জগৎ। কত পদের পণ্য, মানুষ আর দোকান - অবাক লাগে। কারওয়ানবাজারকে আগে শুধু মাছ বাজার বলে জানতাম। বছর ছয়েক আগে থেকে কাঁচা ও পাকা বাজার হিসেবেও চিনলাম। প্রায় এক বছর এই বাজার থেকে কেনাকাটাও করা হয়েছে। যেদিন কারওয়ানবাজারে বেড়াতে যাই সেদিন বুঝতে পারি কারওয়ানবাজার শুধু মাছ -কাঁচা-পাকা বাজার নয়, কারওয়ানবাজার একটা ফলপট্টি, কারওয়ানবাজার একটা কাঠপট্টি, কারওয়ানবাজার একটা আসবাববাজার, একটা কাপড়ের বাজার, আরও নানাপদের বাজার। এর আগে যতবার বেড়াতে গিয়েছি তখন শেষ বিকেল ছিল, আজ বেড়ালাম রাতের কারওয়ানবাজারে।

তেজগাঁও রেলগেট পার হয়ে ডানদিকে ওয়েল্ডিং এর দোকানগুলো পার হয়ে বামদিকে মোড় নেয়ার বদলে সোজা ঢুকলেই ফলপট্টি শুরু হয়ে গেল। মৌসুমী ফলের দোকান সব, এখন বেশীরভাগই আম। নানা আকৃতির সবুজ রঙা আম। আছে লিচু। আর আছে তাল। তিনআটির একটা তাল দশটাকা। তাল বিক্রি করছিল যে লোকটা তার বাড়ি ফরিদপুর।

আম-তালের পরই সুপারির দোকানের সারি। সুপারিকে কি ফল বলা যাবে কিনা সেটা ভাবা শেষ হওয়ার আগেই চালের আড়ৎ শুরু। চালের বস্তার দেয়াল তুলে মাঝে ছোট একটি টেবিলের উপর ছোট ছোট আট-দশটি সিলভারের বাটি, সেখানে চালের স্যাম্পল। চালের বস্তায় রঙ্গীন অক্ষরে লেখা - হুক লাগাবেন না।

চালের পর শুটকির বাজার। কারওয়ানবাজার নাকি কুয়াকাটার শুটকি পল্লী? শুটকী কিন্তু বেশ দামী। শুটকির পরে ফার্নিচার বানানেওয়ালাদের দোকান। আর ডানদিকে কামারের তৈরী পণ্য। কোদাল। কুড়াল। হাতুরি। ছেনী। লোহার তৈরী জিনিসপত্রের দোকান শেষ হতেই কারওয়ানবাজার থেকে বাহির হওয়ার রাস্তা, কিন্তু আমি সাইকেল ঘুরিয়ে আবার ভেতরের দিকে ঢুকে পড়ি।

এই গলিতে কাপড়ের দোকান। একদিকে ছেলেদের, অন্যদিকে মেয়েদের। বাচ্চাদের পোশাক দুদিকেই। ডানদিকের তিনতলা মার্কেটের প্রায় পুরোটাই কাপড়ের দোকান। ডানদিকের বিল্ডিং এ পাকা বাজার। দুই বিল্ডিং এর মাঝে দাড়িয়ে একটা ছেলে কাচা আম মাখিয়ে বিক্রি করছে। সাইকেল ঘুরিয়ে বের হওয়ার রাস্তায় উঠলাম। এবার শুরু হল কাঠপট্টি। একটা গলিতে বিক্রি করে সস্তার চৌকি, চেয়ার, টেবিল।

সর্দারনী টাইপের কিছু মহিলা সবসময় দেখা যায়। আজ কাউকে পাওয়া গেল না। পাশের গার্মেন্টসটার ছুটি হয়েছে। ঝাকে ঝাকে গার্মেন্টস কন্যারা বের হচ্ছে। ফুরফুরে মন বলেই বোধহয় আজকে গার্মেন্টস কন্যারা চিন্তার ভেতর ঢুকে গেল। হাসতে হাসতে বের হয়ে আসছে মেয়েরা। এত হাসে কিভাবে এরা? দৈনিক কয়েক কিলো রাস্তা হেটে এরা অফিসে আছে, কয়েক ঘন্টা দাড়িয়ে থেকে অফিস করে, তারপর আবার কয়েক কিলো হেটে ঘরে ফিরে। কয়েকমুঠো খেয়ে, কয়েকঘন্টা ঘুমিয়ে আবার কয়েক কিলো হেটে অফিস। আমার মনটা কেমন দুখু দুখু হয়ে গেল। দুঃখবিলাস।

কারওয়ানবাজার ভ্রমণ সব মিলিয়ে পনেরো মিনিটের, দুঃখবিলাস কয়েক মিনিটের। সাদা জামা পড়া একটা মেয়ের পিছু পিছু চলতে চলতে বাজার থেকে বের হয়ে এলাম। ভ্রমণ শেষ। প্যাডেলে চাপ বাড়ল।

কারওয়ানবাজারের এই যজ্ঞে আপনার আমন্ত্রন - যে কোন দিন, যে কোন সময়ে।

মঙ্গলবার, ২১ মে, ২০১৩

মেমরেবল কাস্টমার এক্সপেরিয়েন্স

এয়ারকন্ডিশনড বাসের ব্যাপার স্যাপারই আলাদা। গরম আর ধুলাবালি থেকে বেঁচে থেকে ভ্রমণের জন্য এসি বাসে উঠে, তারপর ঠান্ডা থেকে বাঁচার জন্য ব্ল্যাঙ্কেট (কম্বল না কিন্তু) গায়ে দেয়!

শুক্রবার, ১৭ মে, ২০১৩

বারোতলার মানুষগুলোকে হিংসা হয়

Chilডেস্কটপে বসে বামের খোলা দরজা-জানালা দিয়ে তাকালে একটা বিশাল উচু বিল্ডিং দেখা যায়।
বারো তলা ভবন।
বারোতম তলায় জানালা বন্ধ থাকে।
বন্ধ জানালার বাহিরে একটা সাদা এয়ারকন্ডিশনার।
পাশের স্লাইডিং গ্লাসের জানালাটা আবার খোলা।
সাদা এয়ারকন্ডিশনারে একটা শঙ্খ চিল প্রায়ই উড়ে এসে বসে।
বিশ্রাম নেয়।
কখনো কখনো খোলা জানালায় বসে ভিতরে তাকায়, দেখে।
শঙ্খ চিলের শরীরটা খয়েরী।
গলাটা সাদা।
বারোতলার মানুষগুলোকে হিংসা হয় - ওদের জানালায় শঙ্খচিল বসে।

ছবি: ইন্টারনেট

বৃহস্পতিবার, ১৬ মে, ২০১৩

দুবাইফেরত আজিজভাইয়ের বিয়েতে


সোহাগ কমিউনিটি সেন্টারে দুবাই ফেরত আজিজ ভাইয়ের বিয়ে হচ্ছে আর আমি বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে পালিয়ে থাকার জন্য আমি মোবাইল ফোন সাইলেন্ট মোডে নিয়ে অফিস থেকে মতিঝিলে মনির ভাইয়ের অফিসে গিয়ে বসে থাকলাম।

আজিজ ভাই হল আমার বন্ধু মাহাবুবের ইমিডিয়েট বড় ভাই, মাঝে মাঝেই মাহাবুবের বাসায় গিয়ে রাত থাকার সুবাদে তার সাথে খাতির হয়ে গিয়েছিল। উনার সাথে পরিচয়ের বছর দেড়েক পরে তিনি দুবাই চলে যান, সেখানে বছর দুয়েক চাকরী করে কিছুদিন আগে দেশে ফিরে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দুবাই ফিরে যাবেন না। বিলেত থেকে ফিরলে যদি বিলেতফেরত হতে পারেন, দুবাই থেকে ফিরলে তবে কেন দুবাইফেরত হবেন না - আমাদের এই কারণ দর্শানো নোটিশের সন্তোষজনক জবাব দেয়ার আগেই আজিজ ভাইয়ের নাম হয়ে গেল 'দুবাইফেরত আজিজভাই', আজ উনার বিয়ে।

দুবাইফেরত আজিজভাই যে আমার গার্লফ্রেন্ডকে বিয়ে করছেন তা না, বিয়ের অনুষ্ঠান আমার কাছে কেমন গ্যাঞ্জাম গ্যাঞ্জাম লাগে।বহুদিন দেখা সাক্ষাত হয় না এমন মানুষজনের সাথে দেখা হয়ে যায় - আমার কেমন অস্বস্তি লাগে। প্রায় সব বিয়ের অনুষ্ঠানের দিনই আমার হয় শরীর খারাপ করে, নাহয় পরেরদিন পরীক্ষা বা অ্যাসাইনমেন্ট সাবমিশন টাইপের জরুরী কাজ পড়ে যেত স্টুডেন্ট লাইফে, এখন অফিসে কাজের চাপ বেড়ে যায়, নয়তো বসের সাথে মিটিং করা লাগে। আজকে বসের সাথে মিটিং।

মনির ভাই আমাকে তাদের ক্যান্টিনে চা খাওয়াতে নিয়ে গেল। ক্যান্টিনটা তাদের পাচঁতলা বিল্ডিং এর টপ ফ্লোরে। সম্ভবত ক্যান্টিনের ইজারাদারের আজকেই প্রথমদিন, ব্যারাছ্যাড়া অবস্থা। বারো তেরো বছরের কিশোর ছেলেটা চা দিয়ে গেল। চা বলতে গরম পানিতে একটা টিব্যাগ ডুবানো, নিজে নেড়ে চেড়ে লিকার ঠিক করে নিতে হবে। টিব্যাগের মাথা ধরে বেশী নাড়াচাড়া করছিলাম সম্ভবত, হঠাৎ ব্যাগটা খুলে চায়ের কাপে পড়ে গেল। কি মুশকিল। ছেলেটাকে ডেকে বললাম, 'ব্যাগটা ভেতরে পরে গেছে, একটা চামচ দাও' - সে হাতে করে চামচের বদলে আরেকটা টি-ব্যাগ নিয়ে এল। নতুন টিব্যাগটা রেখে তাকে বুঝিয়ে বলতে হল - তারপর সে চামচ নিয়ে এল। আমি চায়ে ডুবিয়ে পরোটা খেতে শুরু করলাম।

মনিরভাই এতক্ষন চায়ে চুমুক দেয় নি, আমি চায়ে পরোটা ডুবাতে তিনিও মুখে দিলেন। 'অ্যাক! একফোটা চিনিও দেয় নাই' - ছেলেটাকে আবার ডাকা হল - 'চায়ে চিনি কই?'

ছেলেটা সরল হেসে চায়ের কাপ নিয়ে গেল। চিনি দিয়ে ফেরত দিয়ে দাড়িয়ে থাকল। মনির ভাই চুমুক দিয়েই কাপ নামিয়ে রাখল - 'এইবার শরবত বানায়া ফেলছস' - ছেলেটা এইবারও দাঁত দেখিয়ে হাসল। 'আজকে পরথম বানাইলাম' - প্রথমদিনের তুলনায় তার স্ট্যাটাস ভালো, চায়ে টি-ব্যাগ দিতে ভুলে নাই!

চা খেতে খেতে মনিরভাই আমার মোবাইল নিয়ে দেখছিল। হঠাৎ 'ইরে, রিসিভ করে ফেলছি' বলে ফোনটা বাড়িয়ে দিল। আমি হাতে নিয়ে দেখি দুবাইফেরত আজিজভাইয়ের কল, উনি হ্যালো হ্যালো করছেন।

আমি মোবাইল কানে নিয়ে ফিসফিস করে বললাম, 'আজিজভাই, আমি মিটিং এ, বসের সাথে! আপনারে পরে ফোন দিতেছি।'

'দাঁড়া খারাশিকো' - মোবাইলে আজিজভাইয়ের চিৎকার শুনলাম। 'তোর বস ডঃ আইয়ূব না? সে আমার শ্বশুরের সাথে কথা বলতেছে, তোরে দেখি না ক্যান? তোর বসরে জিগামু?'

আমি কেশে গলা পরিস্কার করে নিলাম - 'আরে কি যে বলেন, আমি আইসা পড়লাম প্রায়, একটু মজা নিতেছিলাম আরকি!'

সোহাগ কমিউনিটি সেন্টারে পৌছাতে মিনিট বিশেক লাগল, by বাইসাইকেল। পাগড়ি পড়া দুবাইফেরত আজিজ ভাইয়ের সাথে কোলাকুলি করার সময় তিনি আমার ডান কান টেনে ধরে বাম কানে বললেন - 'তোর গায়ে চাপাতির গন্ধ ক্যান? মনে হচ্ছে কফিন থেকে উঠে আসছস।' সর্বনাশ! মনিরভাইয়ের ক্যান্টিনে ছেলেটা যে টি-ব্যাগটা দিয়েছিল সেটা কখন যেন শার্টের পকেটে ঢুকিয়ে ফেলেছিলাম - এখন ভুর ভুর করে গন্ধ বের হচ্ছে!

'চাপাতি না, সেন্ট। দার্জিলিং থেকে আনছে, আজকে প্রথম ইউজ করলাম। আপনার পাগড়িটা দেন তো, একটা ছবি তুলি' - দুবাইফেরত আজিজভাইয়ের পাগড়িটা মাথায় দিয়ে কয়েকটা ছবি তুললাম, সিঙ্গল একটা, আর মাহাবুব সহ অন্যান্য বন্ধুবান্ধব সহ কয়েকটা।

রাত দেড়টার দিকে দুবাইফেরত আজিজভাই'র ফোনে আমার ঘুম ভাংল - হারামজাদা তুই আমার পাগড়ির মধ্যে টি ব্যাগ রাখছস ক্যান! আমি তাড়াতাড়ি মোবাইলটা বালিশের নিচে ঢুকিয়ে ফেললাম!

(পাগড়ি পরা ছবিটা হারায়া ফেলছি। দুবাইফেরত আজিজভাইয়ের প্রি-বিবাহ অনুষ্ঠানের একটা ছবির লিংক দিলাম, উনার গলায় মালার সাথে ডানদিকে যে হাতটা ওইটা আমি
  )

Photo: সোহাগ কমিউনিটি সেন্টারে দুবাই ফেরত আজিজ ভাইয়ের বিয়ে হচ্ছে আর আমি বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে পালিয়ে থাকার জন্য আমি মোবাইল ফোন সাইলেন্ট মোডে নিয়ে অফিস থেকে মতিঝিলে মনির ভাইয়ের অফিসে গিয়ে বসে থাকলাম।   আজিজ ভাই হল আমার বন্ধু মাহাবুবের ইমিডিয়েট বড় ভাই, মাঝে মাঝেই মাহাবুবের বাসায় গিয়ে রাত থাকার সুবাদে তার সাথে খাতির হয়ে গিয়েছিল। উনার সাথে পরিচয়ের বছর দেড়েক পরে তিনি দুবাই চলে যান, সেখানে বছর দুয়েক চাকরী করে কিছুদিন আগে দেশে ফিরে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দুবাই ফিরে যাবেন না। বিলেত থেকে ফিরলে যদি বিলেতফেরত হতে পারেন, দুবাই থেকে ফিরলে তবে কেন দুবাইফেরত হবেন না - আমাদের এই কারণ দর্শানো নোটিশের সন্তোষজনক জবাব দেয়ার আগেই আজিজ ভাইয়ের নাম হয়ে গেল 'দুবাইফেরত আজিজভাই', আজ উনার বিয়ে।  দুবাইফেরত আজিজভাই যে আমার গার্লফ্রেন্ডকে বিয়ে করছেন তা না, বিয়ের অনুষ্ঠান আমার কাছে কেমন গ্যাঞ্জাম গ্যাঞ্জাম লাগে।বহুদিন দেখা সাক্ষাত হয় না এমন মানুষজনের সাথে দেখা হয়ে যায় - আমার কেমন অস্বস্তি লাগে। প্রায় সব বিয়ের অনুষ্ঠানের দিনই আমার হয় শরীর খারাপ করে, নাহয় পরেরদিন পরীক্ষা বা অ্যাসাইনমেন্ট সাবমিশন টাইপের জরুরী কাজ পড়ে যেত স্টুডেন্ট লাইফে, এখন অফিসে কাজের চাপ বেড়ে যায়, নয়তো বসের সাথে মিটিং করা লাগে। আজকে বসের সাথে মিটিং।   মনির ভাই আমাকে তাদের ক্যান্টিনে চা খাওয়াতে নিয়ে গেল। ক্যান্টিনটা তাদের পাচঁতলা বিল্ডিং এর টপ ফ্লোরে। সম্ভবত ক্যান্টিনের ইজারাদারের আজকেই প্রথমদিন, ব্যারাছ্যাড়া অবস্থা। বারো তেরো বছরের কিশোর ছেলেটা চা দিয়ে গেল। চা বলতে গরম পানিতে একটা টিব্যাগ ডুবানো, নিজে নেড়ে চেড়ে লিকার ঠিক করে নিতে হবে। টিব্যাগের মাথা ধরে বেশী নাড়াচাড়া করছিলাম সম্ভবত, হঠাৎ ব্যাগটা খুলে চায়ের কাপে পড়ে গেল। কি মুশকিল। ছেলেটাকে ডেকে বললাম, 'ব্যাগটা ভেতরে পরে গেছে, একটা চামচ দাও' - সে হাতে করে চামচের বদলে আরেকটা টি-ব্যাগ নিয়ে এল। নতুন টিব্যাগটা রেখে তাকে বুঝিয়ে বলতে হল - তারপর সে চামচ নিয়ে এল। আমি চায়ে ডুবিয়ে পরোটা খেতে শুরু করলাম।  মনিরভাই এতক্ষন চায়ে চুমুক দেয় নি, আমি চায়ে পরোটা ডুবাতে তিনিও মুখে দিলেন। 'অ্যাক! একফোটা চিনিও দেয় নাই' - ছেলেটাকে আবার ডাকা হল - 'চায়ে চিনি কই?'  ছেলেটা সরল হেসে চায়ের কাপ নিয়ে গেল। চিনি দিয়ে ফেরত দিয়ে দাড়িয়ে থাকল। মনির ভাই চুমুক দিয়েই কাপ নামিয়ে রাখল - 'এইবার শরবত বানায়া ফেলছস' - ছেলেটা এইবারও দাঁত দেখিয়ে হাসল। 'আজকে পরথম বানাইলাম' - প্রথমদিনের তুলনায় তার স্ট্যাটাস ভালো, চায়ে টি-ব্যাগ দিতে ভুলে নাই!  চা খেতে খেতে মনিরভাই আমার মোবাইল নিয়ে দেখছিল। হঠাৎ 'ইরে, রিসিভ করে ফেলছি'  বলে ফোনটা বাড়িয়ে দিল। আমি হাতে নিয়ে দেখি দুবাইফেরত আজিজভাইয়ের কল, উনি হ্যালো হ্যালো করছেন।   আমি মোবাইল কানে নিয়ে ফিসফিস করে বললাম, 'আজিজভাই, আমি মিটিং এ, বসের সাথে! আপনারে পরে ফোন দিতেছি।'  'দাঁড়া খারাশিকো' - মোবাইলে আজিজভাইয়ের চিৎকার শুনলাম। 'তোর বস ডঃ আইয়ূব না? সে আমার শ্বশুরের সাথে কথা বলতেছে, তোরে দেখি না ক্যান? তোর বসরে জিগামু?'  আমি কেশে গলা পরিস্কার করে নিলাম - 'আরে কি যে বলেন, আমি আইসা পড়লাম প্রায়, একটু মজা নিতেছিলাম আরকি!'  সোহাগ কমিউনিটি সেন্টারে পৌছাতে মিনিট বিশেক লাগল, by বাইসাইকেল। পাগড়ি পড়া দুবাইফেরত আজিজ ভাইয়ের সাথে কোলাকুলি করার সময় তিনি আমার ডান কান টেনে ধরে বাম কানে বললেন - 'তোর গায়ে চাপাতির গন্ধ ক্যান? মনে হচ্ছে কফিন থেকে উঠে আসছস।' সর্বনাশ! মনিরভাইয়ের ক্যান্টিনে ছেলেটা যে টি-ব্যাগটা দিয়েছিল সেটা কখন যেন শার্টের পকেটে ঢুকিয়ে ফেলেছিলাম - এখন ভুর ভুর করে গন্ধ বের হচ্ছে!   'চাপাতি না, সেন্ট। দার্জিলিং থেকে আনছে, আজকে প্রথম ইউজ করলাম। আপনার পাগড়িটা দেন তো, একটা ছবি তুলি' - দুবাইফেরত আজিজভাইয়ের পাগড়িটা মাথায় দিয়ে কয়েকটা ছবি তুললাম, সিঙ্গল একটা, আর মাহাবুব সহ অন্যান্য বন্ধুবান্ধব সহ কয়েকটা।   রাত দেড়টার দিকে দুবাইফেরত আজিজভাই'র ফোনে আমার ঘুম ভাংল - হারামজাদা তুই আমার পাগড়ির মধ্যে টি ব্যাগ রাখছস ক্যান! আমি তাড়াতাড়ি মোবাইলটা বালিশের নিচে ঢুকিয়ে ফেললাম!   (পাগড়ি পরা ছবিটা হারায়া ফেলছি। দুবাইফেরত আজিজভাইয়ের প্রি-বিবাহ অনুষ্ঠানের একটা ছবির লিংক দিলাম, উনার গলায় মালার সাথে যে হাতটা ওইটা আমি ;) )

বুধবার, ১৫ মে, ২০১৩

জজ ব্যারিস্টার পুলিশ কমিশনার

941516_379793875469524_668389344_nরাজ্জাক-সোহেল রানা-আলমগীর - বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের তিন শক্তিমান অভিনেতা। প্রত্যেকের অভিনয়ের অভিজ্ঞতা তিন থেকে চার দশকের। এই তিন গুনী শিল্পীকে একত্রিত করেছিলেন পরিচালক দিলীপ বিশ্বাস তার 'জিঞ্জির' চলচ্চিত্রে, ১৯৭৮ সালে। ৩৫ বছর পরে ২০১৩ সালে এফ আই মানিক পরিচালিত 'জজ ব্যারিস্টার পুলিশ কমিশনার' চলচ্চিত্রে আবার একত্রিত হলেন এই তিন গুনী শিল্পী। চলচ্চিত্রে এই তিনজন ব্যতীত বর্ষীয়ান শিল্পীদের তালিকায় আছে সুচরিতা, প্রবীর মিত্র, সাদেক বাচ্চু, আহমেদ শরীফ, আমির সিরাজী, রেহানা জলি এবং এই যুগের শিল্পীদের অন্যান্যদের  মধ্যে মিশা সওদাগর, শাকিব খান এবং পূর্ণিমা। স্বাভাবিকভাবেই - মুক্তির আগেই এই ছবি প্রত্যাশা তৈরী করেছে অনেক, ফার্মগেটের আনন্দ সিনেমায় সন্ধ্যা ছটার শো-তে হলভর্তি দর্শক তারই প্রমাণ দেয়।

শনিবার, ১১ মে, ২০১৩

ওয়েস্টার্ন সিনেমা: Open Range

6712একটা সিনেমা দেখার পর একটু সময় নিয়ে চিন্তা করতে হয়। চিন্তার গতি প্রকৃতি বিভিন্ন রকম হতে পারে। এর মাঝে - নির্মাতা কেন এরকম একটি চলচ্চিত্র নির্মান করেছেন - সেই ভাবনাটা একটু বেশী গুরুত্ব পায় আমার কাছে। সব চলচ্চিত্র নিয়ে ভাবতে হয় না - কিছু চলচ্চিত্রে ভাবনার কোন বিষয়ই থাকে না; কিছু চলচ্চিত্র নির্মাতার উদ্দেশ্য স্পষ্ট করে ফুটিয়ে তোলে, নির্মাতার উদ্দিষ্ট বিষয়বস্তু নিয়ে চিন্তা ভাবনা করা যেতে পারে সেক্ষেত্রে। ওপেন রেঞ্জ সিনেমায় নির্মাতার উদ্দেশ্য মোটাদাগে খুব স্পষ্ট নয়, ফলে সিনেমা সম্পর্কে সামান্য চিন্তা ভাবনা করার অবকাশ পাওয়া যায়। সে ভাবনা থেকে সিদ্ধান্তে আসা গেল - কতগুলো মানুষের আদর্শগত সিদ্ধান্ত ও অবস্থানকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ওপেন রেঞ্জ সিনেমায়। হয়তো দুইশত বছর আগের সময়কে তুলে ধরে বর্তমান সময়ের মানুষকে কিছু বলা নির্মাতা কেভিন কস্টনারের উদ্দেশ্য ছিল।

বৃহস্পতিবার, ৯ মে, ২০১৩

বিশ বছর পরে বাংলাদেশের রাজনীতি

বিশ বছর পরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে যারা থাকবেন তারা কিরকম হবেন? - এই প্রশ্নটা মাঝে মাঝে ভাবি। 

ভাবলে কিছু বিষয় পাওয়া যায়। আশা করা যায়, স্বল্প শিক্ষিত লোকজন এমপি নির্বাচনে দাড়াবেন না। তবে, ভুয়া সার্টিফিকেট এবং পড়াশোনা না করে পাওয়া সার্টিফিকেটধারী লোকজন নির্বাচনে দাড়াবেন না তা বলা যায় না। নির্বাচনে জিতে যাওয়া এবং হেরে যাওয়া লোকগুলো কেমন হবেন? তারা কি উল্টা পাল্টা কথা বলবেন? তারা কি তাদের মতকে বিশ্বাস করানোর জন্য অসম্ভব মিথ্যার প্রচার করবেন? দেশের জন্য মঙ্গলজনক নয় - কিন্তু দলের জন্য মঙ্গলজনক, কিংবা দলের প্রধান সিদ্ধান্ত দিয়েছেন - তাই দেশের অমঙ্গলজনক কাজকেও সাপোর্ট দিয়ে যাবেন তারা? 'মানবতা' নিয়ে তারা কি ব্যবসা করবেন?

আরও অনেক প্রশ্ন ঘুরে ফিরে আসে। একের পর এক। উত্তর চিন্তা করলে পাওয়া যায় না, কারণ চিন্তা করার সময় মন বিশেষ রকম প্রভাব ফেলে - অনেক আশা জোগায়, বিশ বছরে এই দেশটা পাল্টে যাবে সেই স্বপ্ন দেখায়।

কিন্তু এই আশা-স্বপ্ন ধুলীস্যাত হয় ফেসবুকে আসামাত্র। বিশ বছর পরে যে লোকগুলো নেতৃত্বে যাবে সেই লোকগুলোই এখন ফেসবুক চালায়। সুতরাং, ভবিষ্যত দেখা যায় ফেসবুকেই।

রবিবার, ৫ মে, ২০১৩

মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়, আসুন আমরা একটা খেলা খেলি!

মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়,


আসুন আমরা একটা খেলা খেলি। খেলাটা খুব সহজ - আমি আপনাকে কিছু করতে বলবো, আপনি সেগুলা করে যাবেন একের পর এক। খুব বেশী সময় লাগবে না এই খেলাটা খেলতে - সর্ব্বোচ্চ দশ মিনিট। খেলাটা শেষ হয়ে যাওয়ার পর আপনি এমন একটা বিষয় জানতে পারবেন যা না খেললে আপনি কোনদিনও জানতে পারবেন না। আগ্রহ বোধ করছেন? আসুন খেলি।

আপনার বিছানায় চিত হয়ে শুয়ে পড়ুন মাননীয় মন্ত্রী। চোখ বন্ধ করুন। এবার গভীরভাবে দম নিন, ধরে রাখুন, এবার ধীরে ধীরে দম ছাড়ুন। আবার দম নিন, ছেড়ে দিন। ফ্রেশ লাগছে না?

এবার দ্বিতীয় পর্যায়ে যাচ্ছি আমরা। গভীর করে দম নিন। ধরে রাখুন। মনে করুন আপনার বুকের উপর বিশাল এক পাথর চেপে বসে আছে। বিশাল পাথর। এতই ওজনদার সেই পাথর যে আপনার দম ছাড়তে কষ্ট হয়ে যাচ্ছে। চিন্তা করতে পারছেন? দমটা ছাড়ুন এবার মাননীয় মন্ত্রী। ছাড়তে কষ্ট হচ্ছে? আবার দম নিতে চেষ্টা করুন তো এবার। কষ্ট হচ্ছে দম নিতে? অন্ধকারটা গভীর মনে হচ্ছে আরও?

এবার ভাবুন আপনি দূর থেকে কিছু লোকের কথা শুনতে পাচ্ছেন। তারা কি বলছে সেটা আপনি বুঝতে পারছেন না, কিন্তু তারা যে চিৎকার করে ডাকছে সেটা আপনি শুনতে পাচ্ছেন। আপনার উচিত তাদের ডাকে সাড়া দেয়া। কিন্তু আপনার বুকের উপর না বিশাল একটা পাথর চাপা পড়ে আছে? আপনার না দম নিতেই কষ্ট হচ্ছে? আপনি সাড়া দেবেন কিভাবে মাননীয় মন্ত্রী?

ধরে নিন, এভাবেই কেটে গেল দুই তিন দিন। দুই তিন দিন কিন্তু মাননীয় মন্ত্রী। এক জায়গায় বুকের উপর পাথর চাপা নিয়ে আপনি চিত হয়ে শুয়ে আছেন। একদিনে আপনি কয়বার বাথরুমে যান ভাবুন তো। শুয়ে শুয়ে আপনার কাপড়ে বাথরুম করতে হচ্ছে - এমনটা ভাবতে পারছেন?

খটাং- শব্দটা কানে এসেছে আপনার? একটুকরা আলো চোখের উপর পড়েছে? অনেক দূরে যে মানুষগুলো কথা বলছিল তাদের কন্ঠস্বর শুনতে পাচ্ছেন? মনে করুন তাদের একজন আপনার সাথে কথা বলছে - আপনার নাম জিজ্ঞেস করছে - আপনাকে জুস খেতে দিচ্ছে একটু একটু করে। কতদিন পরে খেতে পাচ্ছেন বলুন তো? তিনদিন পার হয়ে গেছে কিন্তু এর মাঝে। তিনদিন পরে ক' ফোটা জুস মাত্র?

খেলাটার আরেকটু বাকী মাত্র মাননীয় মন্ত্রী। চিন্তা করতে থাকুন- এইমাত্র যে লোকটি আপনার সাথে কথা বলছিল সে জানালো, আপনার বুকের উপর থেকে ভারী পাথরটা তারা সরিয়ে নিবে, তবে সে জন্য আপনাকে বিবস্ত্র করতে হবে। আপনার কি লজ্জা লাগছে? এতগুলো মানুষ আপনাকে বিবস্ত্র অবস্থায় দেখবে - সেটা কি আপনি কল্পনায়ও কখনো ভেবেছিলেন? কিন্তু পাথরচাপা থেকে উদ্ধার পেতে আপনি কি এতটুকু করতে পারবেন না?

চোখ বন্ধ রাখুন মন্ত্রী মহোদয়। আমি জানি আপনার কষ্ট হচ্ছে। খেলার একদম শেষ দান এখন। আপনার বুকের উপরের পাথরটি সরিয়ে নেয়া হবে এখনই। কিন্তু একি! আগুন জ্বলে উঠল কিভাবে আপনার আশে পাশে? যে লোকগুলো আপনার বুকের পাথরটি সরিয়ে নেয়ার জন্য এতদূর এসেছিল, আপনাকে তিনদিন পরে একটু একটু করে জুস খাইয়েছিল সেই মানুষগুলো আগুন থেকে বাচাঁর জন্য দূরে সরে যাচ্ছে। আপনার চিৎকার তাদের কানে পৌছাচ্ছে না - আগুনের তাপ বাড়ছে- আপনার দম আটকে আসছে- পাথরের চাপ বাড়ছে, বাড়ছে আগুনের তাপ ... তেতে উঠেছে সবটুকু - সহ্য করতে পারছেন আগুনের তাপ?

চোখ খুলে ফেললেন? এইটুকুও সহ্য করতে পারলেন না মন্ত্রী মহোদয়? আরেকবার চেষ্টা করুন। একবার খেললেই হবে। একবার পুরোটা খেললেই বুঝে যাবেন - কত কষ্ট নিয়ে একেকজন মানুষ মারা গেছেন। কত কষ্ট, জীবনের জন্য অপেক্ষা করতে করতে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাওয়া - আমি নিশ্চিত মাননীয় মন্ত্রী, একবার পুরো খেলাটা খেলতে পারলে আপনি বাকী জীবনে আর কোনদিন ঘুমাতে পারবেন না, বাকী জীবনে আপনি আর কোনদিনই বলবেন না - সাভারের ঘটনা 'তেমন বড় কিছু নয়'।

একবার পুরোটা খেলে দেখুন না মাননীয় মন্ত্রী!

শনিবার, ৪ মে, ২০১৩

মুরাদ জং কিস

২০০২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত স্পাইডারম্যান সিনেমায় স্পাইডারম্যানরূপী টবি ম্যাগুই মেরী জেনরূপী ক্রিস্টেন ডানস্টকে অদ্ভুত পন্থায় চুমু খান। তুমুল বৃষ্টির মধ্যে স্পাইডারম্যান উপর থেকে উল্টা হয়ে ঝুলে থেকে মেরী জেনকে কিস করার এই 'আপসাইড ডাউন কিস' এর নাম পাল্টে গিয়ে "স্পাইডারম্যান কিস" হয়ে যায়। 

প্রায় এক দশক পরে এই বঙ্গদেশে নতুন এক ধরনের কিস বা চুমুর সন্ধান পাওয়া যায়। এর নাম "মুরাদ জং কিস"। সংক্ষেপে একে আপনি এমজে কিস-ও বলতে পারেন। 'মুরাদ জং কিস' করতে হলে আপনার সঙ্গীর কানসহ মাথা ঠেসে ধরে নিজের কাছে আনতে হবে, এবং কপালের উপরের দিকে চুলের কাছাকাছি ঠোট ল্যাপ্টায়া লাগাতে হবে। এ সময় দৃষ্টি থাকবে সদূরে। চোখে সানগ্লাস দেয়া থাকলে বেশী ভালো হয়। তবে এই কিসের স্থায়ীত্ব কতটুকু হবে সেটা স্টিল ছবি থেকে জানা যায় নি, ভিডিও প্রকাশ হলে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।

বিস্তারিত ছবিতে।
Photo
Photo