সোমবার, ২৯ এপ্রিল, ২০১৩

সুন্দরবন রক্ষার্থে

রানা প্লাজা পনেরো মিনিটে ধ্বসে পড়েছে - সুন্দরবন কিন্তু পনেরো মিনিটে ধ্বংস হবে না - সুন্দরবন ধ্বংস হবে চোখের সামনে, মোবাইল ক্যামেরায় কেউ সেটা ধারণ করতে পারবে না। সুন্দরবনের জন্য কোন সোহেল রানা-কে দায়ী করা যাবে না, সুন্দরবনকে রক্ষা করার জন্য আমজনতা দিনরাত তাদের সাধ্যানুযায়ী সব কিছু নিয়ে ছুটে যাবে না কারণ - তিলে তিলে, ধুঁকে ধুকে যে মরে তার খবর কাছের লোক ছাড়া কেউ জানে না।

সাভার ঘটনায় কাধে কাধ মিলিয়ে হাতে হাত ধরে যারা এগিয়েছে - সুন্দরবন রক্ষার আগে সেই হাত যেন ছুটে না যায়!

শনিবার, ২৭ এপ্রিল, ২০১৩

নকিং অন হ্যাভেন্স ডোর


নক নক। নক নক নক। নক নক। স্বর্গের দরজায় খুব দ্রুত নক করছিল কেউ। 


স্বর্গের প্রহরী দরজায় একটা ছোট খুপরী জানালা আছে, সেটা খুলে বাহিরের দিকে তাকাল। একদল নারী-পুরুষ দাড়িয়ে।'আসসালামু আলাইকুম' - চোখে প্রশ্নের চিহ্ন একেঁ বলল প্রহরী।


'ঢুকতে দাও'- ডান দিক থেকে মেয়েটা বলল। প্রহরী তার দিকে তাকাল। ধূলোয় একাকার ছোট্ট একটি মুখ। মাথাভর্তি চুল। বাম হাত দিয়ে কপালের এলো চুলের গোছাটাকে পেছনে পাঠিয়ে দিল সে। ধূলোয় সাদা হয়ে যাওয়া হাতে লাল মেহেদীর নকশা। কদিন আগে বিয়ে হয়েছে মেয়েটির?


'আমরা এসে গেছি!' এবারে বলল একটি যুবক ছেলে - সে পরম মমতায় আগলে রেখেছে এক নারীকে। নারীটির মুখ দেখা যাচ্ছে না, কিন্তু সে যে তার নির্ভরতার জায়গা পেয়ে গেছে সেটা স্পষ্ট।


'এখন কারও আসার কথা না' - প্রহরী জবাব দিল।


'তুমি জানো না, প্রহরী! আমাদের অনুমতি দেয়া হয়েছে' - সামনের দিকে দাড়ানো একটা মেয়ে বলল। প্রহরী আপাদমস্তক দেখল মেয়েটিকে - মেয়েটির খালি পা, এক পায়ে নূপুর। অন্য পায়ে নূপুর পড়ে নি কেন সে?


'তালিকায় তোমাদের সম্পর্কে বলা নেই' - প্রহরী মেয়েটাকে বলল।


'আরেকবার দেখে নাও' - কথাটা ভীড়ের মাঝ থেকে কে বলল প্রহরী দেখতে পারল না। সে খুপরী জানালাটা বন্ধ করে দিল। সাথে সাথেই নক শুরু হল। প্রহরী জানালা খুলে উকি দিল।


'একটা কলম হবে? আব্বা-আম্মাকে বলে আসতে পারি নি। ভাইটাকেও বলতে হবে যেন আব্বা-আম্মার দিকে খেয়াল রাখে। আমার কাছে কাগজ আছে।' -  হাত তুলে  দেখালো মেয়েটি। প্রহরী তার হাতের স্বর্গের কলমটি বাড়িয়ে দিল, মেয়েটা সেই কলম নিয়ে লিখতে বসে গেল।


প্রহরী জানালাটা বন্ধ করে দিল আবার। তার সামনে রাখা তালিকাটায় নতুন নতুন নাম যুক্ত হচ্ছে। সবগুলো নাম যুক্ত হয়ে গেলেই স্বর্গের দরজা খুলে দেয়া হবে। কিন্তু দরজায় দাড়িয়ে থাকা মানুষগুলোর বড় তাড়াহুড়া। ডাক পেয়েই তারা ছুটে এসেছে। তাদের পায়ের জুতো হারিয়ে গেছে, তাদের শরীরে, পোষাকে, মুখে ধুলোবালি - তাদের চোখে প্রশান্তি, তৃপ্তি। এই ধূলোমাখা শরীরে ধুলোমাখা পোষাক থাকবে না, তাদের পড়ানো হবে সুন্দরতম পোষাক, তাদের জন্য থাকবে অফুরন্ত সুখ-শান্তির ব্যবস্থা। কিন্তু দরজার বাহিরের মানুষগুলো অপেক্ষা করতে পারছে না যেন - তারা দরজায় করাঘাত করেই যাচ্ছে।


নক নক। নক নক নক। নক নক নক। নক নক। নক নক।

 

বুধবার, ২৪ এপ্রিল, ২০১৩

বাইসাইকেলে সিঙ্গেল ইঞ্জিন

সাইকেল চালিয়ে অফিসে যাচ্ছি, হঠাৎ একটা রিকশা পাশ দিয়ে 'সাঁৎ' করে রেরিয়ে গেল।

আমি দুবলা পাতলা মানুষ, চালাই 'ফনিক্স' সাইকেল। প্রতিদিন একাই অফিস যাই আসি, আজকে সকালে আমার সাথে যোগ হয়েছে আমার রুমমেট মনির। সে মোটামুটি বর্গাকৃতির মানুষ - দৈর্ঘ্য-প্রস্থ্যে সামান্য বেশ-কম। সাড়ে দশটায় গুলশানে তার কি যেন কাজ, হরতালে বাসে চড়ার চেয়ে আমার সাইকেলের ক্যারিয়ারে বসে নিকেতন পর্যন্ত পৌছে সেখান থেকে গুলশান চলে যাওয়া তার জন্য 'বেটার অপশন'। এদিকে সাতরাস্তার মোড় পর্যন্ত আসতে আসতেই আমি ঘামে ভিজে একাকার। সাতরাস্তা পার হয়ে ডানদিকে তেজগাঁও-এর দিকে ঢুকে পড়তেই রিকশাটা ওভারটেক করল, পেছন থেকে মনির বলল - 'মোটর রিক্সা। ব্যাপার না!'

রিকশার পেছনে মোটর লাগিয়ে কিছু রিকশা চলছে রাস্তায়, এদের গতি দারুন। প্রত্যেক ড্রাইভার একেকজন মাইকেল সুমাখার। রিকশার ঝাঁকের মধ্য দিয়ে কিভাবে বাঁক নিয়ে এগিয়ে যেতে হয় - সে বিষয়ে তাদের দক্ষতা অসাধারণ। মোটরে আওয়াজ কম হয় বলে - এরা পাশ কাটায়ে যায় 'সাঁৎ' করে।

বিটাক মোড়ের একটু আগে আরেকটা রিকশা টের পাওয়ার আগেই 'সাৎ' করে বেরিয়ে গেল। মোটরের গুঞ্জন শুনতে পাইনি বলে রিকশার চেইনের দিকে তাকালাম - ইঞ্জিন নেই! তাহলে? রিকশার যাত্রী একজন মেয়ে। মনির পেছন থেকে বলল - 'সিঙ্গল ইঞ্জিন, ব্যাপার না, তুই চালা!'

অপমানজনক ব্যাপার স্যাপার। নটায় অফিস, আমি ঘুম থেকে উঠেছি পৌনে নটায়, সোয়া নটার পর অফিসে ঢুকলে 'লেট' মার্ক এবং দশটা পার হলে 'অ্যাবসেন্ট মার্ক পরে, ক্যারি করার কারনে দ্রুতও চলতে পারছি না। আবার, তিনচাকার রিকশা সাইকেলের চেয়ে ভারী, পাইলট ছাড়া একজন যাত্রী - তারপরও সাইকেলের পাশ দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে, এবং, পেছনে মনির গান গাচ্ছে 'রিকশা কেন আস্তে চলে না ও ভাইরে রিক্সা কেন আস্তে চলে না? - আমার কান গরম হয়ে গেল।

কান ঠান্ডা হওয়ার আগেই আরেকটা রিকশা 'সাৎ' করে বেরিয়ে গেল। আমি ঝট করে প্রথমে চেন তারপর হুডের দিকে তাকালাম। মোটর নেই এবং রিকশায় দুজন যাত্রী - মহিলা। মনির গান থামিয়ে বলল, 'ডাবল ইঞ্জিন! আরও শক্তিশালী।'

আহসানউল্লাহ ইউনিভার্সিটির সামনে আসতেই দেখলাম রিক্তা দাড়িয়ে আছে। রিক্তা আমার ক্লাসমেট, এখন ব্র্যাক ব্যাংকের হেড অফিসে চাকরী করছে। আমি 'ঘ্যাচ' করে রিক্তার সামনে দাড়িয়ে পড়লাম। 'কি অবস্থা রিক্তা? কই যাস?'

রিক্তা আমার সাইকেলটা ভালোভাবে দেখে হাসল - 'দশটায় অফিস, খালি রিকশা পাচ্ছি না। তোমার গাড়িতে জায়গা আছে?' রিক্তার চোখে কৌতুক।

'মনির?'
'কি?'
'তুই নাম তো!'
'ক্যান?' বলতে বলতে মনির সাইকেলের ক্যারিয়ার থেকে নেমে দাড়াল।

'তুই একটা রিক্সা নিয়ে গুলশান চলে যা। আমার দেরী হয়ে যাচ্ছে। দশটা বাজতে দশমিনিট বাকী মাত্র। রিক্তা, তুই পেছনে শক্ত হয়ে বস।'

হতভম্ব মনিরকে পেছনে রেখে আমি একটা 'সিঙ্গল ইঞ্জিন' লাগিয়ে 'সাৎ' করে অফিসে চলে এলাম।

শনিবার, ১৩ এপ্রিল, ২০১৩

দেহরক্ষী

Poster 1মাইয়া মানুষ যদি দেখাইতে চায় তাইলে পুরুষ মানুষ কি না তাকাইয়া পারে?

হেফাজতে ইসলামের তের দফার এক দফা নিয়ে দেশে যখন আলোচনা-সমালোচনার ঝড় চলছে, তখন এরকম সংলাপের কারণে ক্রসফায়ারে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তীব্র, তাই শুরুতেই স্বীকার করে নেয়া ভালো - এই সংলাপটি ইফতেখার চৌধুরী পরিচালিত দ্বিতীয় সিনেমা 'দেহরক্ষী' থেকে নেয়া। সিনেমার একমাত্র সংলাপ যা দেয়ার সাথে হলভর্তি দর্শক উল্লাস করেছেন, আনন্দে সিটি বাজিয়েছেন। এই সংলাপকে মূলমন্ত্র ধরেই যে ছবিটি ব্যবসা করতে চায় তার ছাপ ছবির পোস্টার থেকে শুরু করে সম্পূর্ণ ছবিতে স্পষ্ট। সবগুলো পোস্টারেই নায়িকার দেহসর্বস্ব ছবি, ঢাকা পড়ে গেছে ছবির প্রধাণ দুই নায়ক, তাদের একজন সিনেমায় অপেক্ষাকৃত নতুন - ফলে পোস্টারে আরেকটু গুরুত্ব পাওয়ার দাবীদার। অন্যদিকে পুরো ছবি জুড়েই কারণে অকারণে নায়িকার দেহ গুরুত্বপূর্ণভাবে উপস্থিত হয়েছে। 'দেহরক্ষী' ছবির নামকরণ এদিক থেকে স্বার্থক।

সোমবার, ৮ এপ্রিল, ২০১৩

নারী সাংবাদিক পেটানোর ছবি বনাম দাড়ি-টুপিওয়ালা বৃদ্ধ পেটানোর ছবি

গতকাল থেকে শুরু করে দুটো ছবি বারবার ঘুরে ফিরে আমার নিউজফিডে আসছে। ছবি দুটো কি সেটা সবাই-ই জানেন। গতকাল হেফাজতে ইসলামের লংমার্চে একুশে টেলিভিশনের একজন নারী সাংবাদিককে পিটিয়েছে লংমার্চে আগত কিছু লোক। দ্বিতীয় ছবিটিতে লংমার্চ থেকে ফেরার সময় একজন বৃদ্ধকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করেছে শাহবাগ আন্দোলনকে সমর্থনকারী কিছু যুবক। নারী সাংবাদিককে পেটানোর ছবি খুব বেশী পাওয়া যায় না কিন্তু বৃদ্ধকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করার ঘটনার প্রায় পাঁচ থেকে ছ'টি ছবি শেয়ার করা হচ্ছে।

শনিবার, ৬ এপ্রিল, ২০১৩

চলে গেছেন বিখ্যাত ফিল্ম ক্রিটিক রজার এবার্ট!

bildeশিকাগো সানটাইমস পত্রিকার জন্য তিনি সিনেমার রিভিউ লিখেছেন একটানা ৪৬ বছর, টেলিভিশনে সিনেমার অনুষ্ঠান করেছেন ৩১ বছর, প্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিটিক জিন সিসকেল সাথে মিলে সিনেমাকে রেটিং করেছেন - থাম্বস ডাউন, থাম্বস আপ, টু থাম্বস আপ; বই লিখেছেন ২০টিরও বেশী, সিনেমার ক্রিটিক হিসেবে প্রথম জিতে নিয়েছেন পুলিৎজার পুরস্কার - তিনি বিশ্বখ্যাত ফিল্ম ক্রিটিক রজার এবার্ট। গতকাল ৪ এপ্রিল ২০১৩ তারিখে শিকাগোর হাসপাতালে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন - তার জীবন-ছবির শেষ ফ্রেম 'দি এন্ড' উঠে গেছে, আর কোন সিনেমার রিভিউ লিখবেন না রজার এবার্ট।

শুক্রবার, ৫ এপ্রিল, ২০১৩

ঘটকালী

- ভাই, বিয়ে খাবো কবে?
= হঠাৎ বিয়ে খেতে চান কেন?
- বিয়ে নিয়ে এত তালতামাশা করছেন ক্যান? বিয়ে করবেন কিনা বলে ফেলেন।
= করবো না একবারও বলছি?
- করতেছেন এ ক্যান? আপনার আগে আপনার কোন বড় ভাই আছে যিনি বিয়ে করেন নাই?
= নাই।
- বোন আছে?
= নাই।
- লাইন ক্লিয়ার?
= হুম


- তাইলে আর দেরি ক্যান? পাত্রি নাই?
= নাই।
- আমাদের কেই নামতে হবে। মেয়ের বয়স লিমিট কেমন হতে হবে?
= আমার চে বয়সে ছোট হইতে হবে।
- বাল্যবিবাহ? চলবে?
= আমার আপত্তি নাই। কন্যার বাবার আপত্তি আছে কিনা দেখেন।
- আচ্ছা, পালবেন কাকে, বউ কে নাকি একটা বাচ্চা মেয়ে কে?
= দুইটাই পাললাম। সমেস্যা আছে? বেশী ছোট হইলে তাকে পালার জন্য না হয় আরেকটা বিয়া করলাম।
- আচ্ছা, এইবার আসছেন আসল লাইনে। আমারও অনেক গুলা বিয়ে করার ইচ্ছা আপনার মতো। একটা কে করবো, দেন অইটাকে ঠিক রাখার জন্য আরেকটা।
= গুড। এখন পর্যন্ত কয়জনকে রাজী করাইছেন?
- আছে কয়েকটা। গোটা চারেক তো হবেই।
= এইবার বুঝলেন কেন আমার বিয়া হয় না?
- না ভাই। ক্যান হয় না?
= আপনার মতই লোকে আমার বিয়ার দায়িত্ব নিতে এসে নিজের বিয়ার চিন্তায় অস্থির হয়।

বৃহস্পতিবার, ৪ এপ্রিল, ২০১৩

লুঙ্গি বিষয়ক



২০০২/০৩ সালে আমাদের বাসায় একজন সুইস ভদ্রলোক বেড়াতে এলেন, নাম ফেলিক্স স্টিকেল। তিনি বাংলাদেশ ঘুরতে এসেছিলেন তার বাংলাদেশী বন্ধুর সাথে (নাম ভুলে গেছি)। সেই বন্ধুটি তাকে লুঙ্গি পড়া শিখিয়ে দিয়েছিলেন। স্টিকেলের দৃষ্টিতে লুঙ্গি হল অদ্ভুদতম পোষাক। বেল্ট নাই, বোতাম নাই - সেই পোশাক গায়ে থাকে কেমনে? বলা বাহুল্য, তার গায়েও থাকতো না, একটু পর পর উঠে দাড়িয়ে তাকে লুঙ্গি ঠিক করতে হত। আন্ডারওয়্যারের কারনে তেমন কোন বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরী হয় নি।

সাম্প্রতিক সময়ে লুঙ্গির একটা বিজ্ঞাপন সবার নজরে চলে এসেছে। বাংলাদেশের জাতীয় পোশাক, একমাত্র এয়ারকন্ডিশনড পোশাক লুঙ্গি পড়ে একদল লোক মার্চ করে যাচ্ছে। বিনোদনমূলক আইডিয়া। উপমহাদেশে লুঙ্গি পুরুষের পোশাক হলেও শ্রীলঙ্কায় নামি মেয়েদেরও পোশাক, তবে পুরুষের লুঙ্গির সাথে তার পার্থক্য আছে। কদিন আগে ফেসবুকের কল্যাণে তামিল বা তেলেগু দুজন নারী পুরুষ মডেলের ছবি দেখলাম। দুজনেই লুঙ্গি পড়া, অবশ্য লুঙ্গি নারীর পেট ঢাকতে ব্যর্থ। ক্যাপশনে লেখা - প্যান্ট নিছে, শার্ট নিছে, এইবার লুঙ্গি নিয়া টানাটানি।

বেশ কয়েক বছর আগে, ফরহাদ মজহার বেশ আলোচনায় চলে এসেছিলেন। ঢাকা ক্লাবের এক প্রোগ্রামে তিনি লুঙ্গি পড়ে এসেছিলেন। তাকে ঢুকতে দেয়া হয় নি - ফেরত যেতে হয়েছিল। লুঙ্গির পক্ষে এবং বিপক্ষে তখন বিশাল ঝড় উঠেছিল মিডিয়ায়।

আজকের ডেইলি স্টারে ছাপা হয়েছে নিচের ছবিটি। এখানেও লুঙ্গি ফ্যাক্টর। বারিধারা বাড়ি মালিক সমিতির সিদ্ধান্তে সেখানে লুঙ্গি পড়ে বাইরে বেরুনো নিষেধ।

কতই রঙ্গ দেখি দুনিয়ায়
আমি যেদিকে তাকাই
দেখে অবাক হয়ে যাই
আমি অর্থ কোনো খুঁজে নাহি পাই ...

৫২ বছরের বাংলাদেশী চলচ্চিত্রের পোস্টার

প্রিন্সেস টিনা খান সিনেমার পোস্টারে লেখা - একটি ডেয়ারিং চলচ্চিত্র!


পোস্টারে এই সংলাপ ছাপা হয়েছিল ১৯৮৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমায়। ছবির পরিচালকের নাম আখতারুজ্জামান, যিনি পরবর্তীতে 'পোকামাকড়ের ঘরবসতি' চলচ্চিত্র নির্মান করে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জিতে নিয়েছিলেন। ১৯৮৪ সালের চলচ্চিত্রের পোস্টাররের সাথে যদি ষাটের দশকের পোস্টার কিংবা সাম্প্রতিক সময়ে মুক্তিপ্রাপ্ত পোস্টারের তুলনা করা হয় তাহলে ধারনা পাওয়া সম্ভব - বাংলাদেশী সিনেমার পোস্টারের পরিবর্তনটা কিভাবে হচ্ছে। এই ধারনা লাভের জন্য আপনাকে দেখতে হবে বিভিন্ন সময়ের চলচ্চিত্রের পোস্টার আর এ জন্য আপনাকে যেতে হবে বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ এবং বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন এর যৌথ উদ্যোগে জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের জয়নুল গ্যালারীতে অনুষ্ঠিত - বাংলাদেশী চলচ্চিত্রের পোস্টার প্রদর্শনীতে।

মঙ্গলবার, ২ এপ্রিল, ২০১৩

Secret: পিয়ানোয় প্রেম

220px-Secret-Bunengshuodemimi2

জে চো (Jay Chou) বহু প্রতিভাধর ব্যক্তি। সে একই সাথে মিউজিশিয়ান, গায়ক, গীতিকার, মাল্টি ইন্সট্রুমেন্টালিস্ট, সিনেমা প্রযোজক, অভিনেতা এবং পরিচালক। ২০০০ সাল থেকে শুরু করে একটি বছর বাদে প্রত্যেক বছরে একটি করে অ্যালবাম বের করেছে চো, বিক্রি হয়েছে মিলিয়ন মিলিয়ন কপি। নিজ দেশ তাইওয়ান ছাড়িয়ে তার ভক্ত তৈরী হয়েছে চীন, জাপান, হংকং, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ভারতসহ অন্যান্য দেশেও। ২০০৫ সালে প্রথম সিনেমায় অভিনয় করেই পুরস্কার জিতে নিয়েছেন সেরা নিউকামার হিসেবে। এই বহু প্রতিভাবান লোকটি যদি সিনেমা নির্মানের উদ্যোগ নেয় তবে তার গল্প কি হবে? অবশ্যই মিউজিক। সিক্রেট মিউজিক এবং প্রেম-কেন্দ্রিক একটি তাইওয়ানিজ মুভি।

সোমবার, ১ এপ্রিল, ২০১৩

অপরাধ, পুলিশ, তদন্ত

বাচ্চাবেলায়, যখন আমি কম্পিউটার ইন্টারনেটের সাথে পরিচিত হই নি, তখন আমার আব্বার কাছ থেকে এক গল্প শুনেছিলাম। তিনি শুনে এসেছিলেন তার অফিসের কলিগদের কাছ থেকে। বলে নেই, আমার আব্বা বর্তমানে কম্পিউটারের সাথে সামান্য পরিচিত হলেও ইন্টারনেটের সাথে নন এবং সেই সময়ে তিনি আর আমি একই স্টেজে - মানে তিনিও কম্পিউটার-ইন্টারনেটের সাথে পরিচিত ছিলেন না। গল্পটা এরকম, এক ছেলে নাকি কম্পিউটারে মজা করতে গিয়ে কিল বিল কিল বিল কিল বিল লিখে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। ছেলেমানুষী কর্মকান্ড, কিন্তু আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থা এই কাজকে প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনকে হত্যা করার নির্দেশনা হিসেবে চিহ্নিত করেছে এবং সেই ছেলেকে খুজে গ্রেপ্তার করে ফেলেছে। এখন সেই ছেলের কি হবে সেটা নিয়ে অফিসে গসিপ চলছে। অন্ধের কাছে ইন্টারনেটের কোন সীমা পরিসীমা নাই, সেই ইন্টারনেট থেকে কিভাবে ছেলেটাকে খুজে বের করে ফেলল গোয়েন্দা সংস্থা - আমেরিকার প্রতি আমার ধারনা আরও একটু উচু হয়ে গেল।