রবিবার, ৩১ মার্চ, ২০১৩

শাড়ি পড়া বলতে কি বোঝায়?


আমার এক কাকাকে আমার ফুপাতো ভাই দৈনিক প্রথম আলো এগিয়ে দিয়ে বলল, মামা নেন পত্রিকা পড়েন। কাকা পত্রিকা খুলে লুঙ্গির মত কোমড়ে পেচিয়ে পড়া শুরু করলেন!

কাকা নির্বোধ বা পাগল নন। তার ভাগ্নেদের নির্মল আনন্দ দানের উদ্দেশ্যেই এই কর্ম। এখন পর্যন্ত বেশ কিছু পিচ্চিকে দেখার সুযোগ হয়েছে - বছর আড়াই থেকে তিন বছর। বড় ওড়না ধরিয়ে দিয়ে বলুন - শাড়ি পড়তো! দেখবেন কাপড় পেচিয়ে মাথায় তুলে দিয়েই শাড়ি পড়া শেষ। 

আর সেই কৌতুকটার কথা তো বলতেই হয়। বৃষ্টি পড়ে ইংরেজি কি? Bristy Falls নাকি It is Raining? বৃষ্টি যদি পড়েই, তবে কোথা থেকে পড়ছে, কোথায় পড়ছে, কিভাবে পড়ছে? গুরুত্বপূর্ণ সব প্রশ্ন।

আড়ং এর এই ছবিটা দেখার পর এই প্রশ্নগুলোই মাথায় ঘুরছে। শাড়ি পড়া বলতে আসলে কি বোঝায়?

(বি:দ্র: কেউ কি ছবির ভদ্রমহিলাকে ট্যাগাইতে পারবেন? উত্তরটা জরুরী)

শনিবার, ৩০ মার্চ, ২০১৩

চিঠি লেখা

১৯২৮ সালে একজন বাবা তার দশ বছর বয়সী কন্যাকে ত্রিশটি চিঠি লিখেছিলেন, পৃথিবী সম্পর্কে ধারনা দিয়ে। অনেক বছর বাদে সেই চিঠিগুলো নিয়ে একটি বই প্রকাশিত হয়েছিল, নাম Letters from a Father to His Daughter। চিঠিগুলো লিখেছিলেন জওহরলাল নেহেরু, প্রাপকের নাম ইন্দিরা গান্ধী।

চিঠি সাধারণভাবে ব্যক্তিগত বিষয় হলেও বিখ্যাতদের চিঠি সাহিত্যিক মর্যাদা লাভ করেছে সব সময়ে। ঈদ সংখ্যা, পূজা সংখ্যা বিখ্যাত সাহিত্যিকদের লেখা অপ্রকাশিত চিঠি প্রকাশিত হয়। সেই সব চিঠির পরতে পরতে ব্যক্তিগত আবেগ অনুভূতির পরিচয় পাওয়া যায়, কিন্তু সব কিছু ছাপিয়ে যায় লেখকের সাহিত্যিক প্রতিভা। ফলে, চিঠি সবসময়ই সাহিত্য কর্ম হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

বর্তমান সময়ে যারা লিখছেন, বিশ বছর পরে যারা বিখ্যাত হয়ে যাবেন তাদের কোন অপ্রকাশিত চিঠি কি পাওয়া যাবে? মোবাইল-ইন্টারনেটের এই যুগে চিঠি কি চালাচালি হয়? নাকি সেসময় অমুকের অপ্রকাশিত এসএমএস/ফেসবুক স্ট্যাটাস তখন গুরুত্ব নিয়ে প্রকাশিত হবে?

হতেও পারে - এমন অনেক কিছুই হবে যা কেউ দেখেনি আগে।

শুক্রবার, ২৯ মার্চ, ২০১৩

সালাম

মসজিদের ইমাম সাহেব জোহর নামাজের পরে এলাকার বাচ্চাদের ঘন্টাখানেক আরবী পড়ান।আলিফ বা তা ছা। আলিফ লাম মিম, যা লিকাল ক্বিতাবু লারাইবা ফি'হি হুদাল্লিল মুত্তাকিন। দোয়া কুনূত, অযু গোছলের ফরজ ইত্যাদি। একদিন শেখালেন সালাম আদান প্রদানের গুরুত্ব। দিনে কমপক্ষে চল্লিশ সালাম। বড়দের সালাম, ছোটদের সালাম। বন্ধুদের সালাম, আব্বা আম্মাকে সালাম। হুজুরের বাসা থেকে তৌহিদ কামাল বাঁধনের বাসা কয়েক হাত দুরত্বে। হুজুর নির্দেশ দিলেন - বাসায় গিয়ে আব্বা আম্মাকে সালাম দিবি যেন আমি বাসা থেকে শুনতে পাই। আমরা হাসি - আব্বা আম্মাকে কেউ সালাম দেয়? বাঁধনের কপাল খারাপ - বাসাটা হুজুরের বাসার পাশে। পড়ি তখন প্রাইমারী স্কুলে, বাঁধন আমাদের বন্ধু। হুজুরের ভয়, নাকি বাঁদরামি জানি না - বাঁধন বাসায় ঢুকেই সর্ব্বোচ্চ শক্তিতে "আব্বা আসসালামু আলাইকুম, আম্মা আসসালামু আলাইকুম" বলা শুরু করল। সেই যে শুরু আর শেষ হল না, এর মাঝে আমরা প্রাইমারী থেকে হাই, হাই থেকে কলেজ, কলেজ শেষ করে ছিন্ন বিচ্ছিন্ন অবস্থা, মক্তবে পড়া বন্ধ করেছি সেও পনেরো ষোল বছর - কিন্তু বাঁধনের "আব্বা আসসালামু আলাইকুম, আম্মা আসসালামু আলাইকুম" বন্ধ হয় নাই। শুনেছি, বাঁধন বিয়ে করে সংসারী, জানি না সেই অভ্যাস এখনো আছে কিনা।

ক্লাস এইট বা নাইনে থাকতে বন্ধু নিও হঠাৎ একদিন দেখা হওয়ামাত্রই 'আসসালামু আলাইকুম' বলল। সে কি আগের দিন সালামের গুরুত্ব সম্পর্কে কোন ওয়াজ নসিহত শুনে এসেছে কিনা জানি না, তবে ক্লাসমেট বন্ধুদেরকে যে সালাম দিলে দারুন মজার পরিবেশ তৈরী হয় সেটা বুঝতে মুহুর্ত সময়ও লাগল না। শুরু হয়ে গেল - কে আগে সালাম দিতে পারে! সালামের স্পিরিট বহু দূরে, সাময়িক আনন্দের উদ্দেশ্যে শুরু করা সালামের প্রচলন আর বন্ধ হয় নাই। গত তিনদিন নিও'র বাসায় ছিলাম - সাময়িক সেই আনন্দ বিদায় নিয়েছে, সালামের প্র্যাকটিস এখনো চলছে।

২০০৯ সালের শেষের দিকে সদ্যস্থাপিত এক স্কুলের প্রিন্সিপালের সাথে দেখা করতে গেলাম। স্কুলের ডকিউমেন্টারী তৈরীর দায়িত্ব নিয়েছিলাম, এডিটিং শেষে প্রথম কপি দেখাবো। তিনি আমার সামনেই তার স্কুলের এক ম্যাডামকে ফোন দিলেন - 'আসসালামু আলাইকুম' বলে কথা বলা শুরু করলেন। প্রথমে বুঝতে পারি নি, কিন্তু পরে বুঝলাম, অপরপ্রান্তের ভদ্রমহিলা আর কেউ নন, তারই স্ত্রী। তাদের কয়েক বছরের দাম্পত্য জীবন - এখন কর্মজীবনও একত্রে। বউকে কেউ সালাম দেয় বা দিতে পারে - আমার জীবনে সে এক আশ্চর্যময় ঘটনা।

চ্যাটিং শুরু করেছি বিশ্ববিদ্যালয় শুরু করার পর। চ্যাটিং ল্যাঙ্গুয়েজ দৈনন্দিন ল্যাঙ্গুয়েজ থেকে একটু আলাদা - এখানে কথা শুরু করতে হয় 'হাই' বলে, রিপ্লাইয়ে বলতে হয় 'হ্যালো'; আমি পাল্টে দিলাম নিয়ম, শুরু করতে হবে 'সালাম' দিয়ে। সালাম, আসসালাম অথবা আসসালামু আলাইকুম। মানুষ এত অধার্মিক হয়ে যায় নি যে সালামের জবাবে 'সালাম', ওয়াসসালাম কিংবা ওয়ালাইকুম আসসালাম বলবে না। বলেও না। কেউ 'হাই' বলে নক করলে জবাবটা যদি 'সালাম' হয়, রিপ্লাইটাও সালাম পাওয়া যায়। মানুষ প্রভাবিত হয়, আমার আগেই সালাম দেয়ার প্রতিযোগিতা আমার বন্ধু তালিকার বেশ কয়েকজনই করেছে। বাম ঘরানার কিছু বন্ধু আছে, এদের কেউ কেউ সালামের জবাবে সালাম দেয় না, শুভেচ্ছা, সুপ্রভাত বা হাসিমুখের ইমো পাঠায় - সালামের জবাব কেন দেয় না সেই ব্যাখ্যা তাদের কাছে, আমি সালাম দেয়া বন্ধ করি নাই। ফলাফল হল, অন্তত: দুইজন পরবর্তীতে আমাকে 'আসসালামু আলাইকুম' বলে নক করেছে।

সালাম শুধু সম্ভাষন নয়, সালাম একটা দোয়া, হাই-হ্যালো-হাসিমুখ সেই দোয়া বহন করে না, সালামের মধ্যে শান্তির জন্য যে শুভকামনা তাও বহন করে না। একটি হাদীস এবং একটি কোরআনের আয়াত দিয়ে শেষ করি।
"আমি কি তোমাদেরকে এমন কথা বলবো না যা তোমাদের পরস্পরের মধ্যে ভালোবাসা সৃষ্টি করবে? তোমরা নিজেদের মধ্যে সালামের ব্যাপক প্রচলন কর। (সহীহ মুসলিম)

'যে দিন তারা আল্লাহর সঙ্গে মিলিত হবেন সে দিনও তাদের অভিবাদন হবে সালাম।' (সূরা আহজাব: ৪৪)

বুধবার, ২৭ মার্চ, ২০১৩

শনিবার, ২৩ মার্চ, ২০১৩

বিটিআরসি'র তালিকায় দারাশিকো

বিটিআরসি যে ৬ জন ব্লগারের হাড়িঁর খবর খুজতাছে না, তাতে ১ নং এ ব্লগার দারাশিকো আছেন বলে জানা গেছে!

শুক্রবার, ২২ মার্চ, ২০১৩

চারিত্রিক অধঃপতন


চরিত্র খারাপ হয়ে যাচ্ছে !

কোরিয়ান সিনেমায় নাক বোচা সুন্দর সুন্দর নায়িকাগুলোকে একবার দেখেই প্রেমে পড়ে যাচ্ছি। সর্বশেষ পড়লাম 'চিলিং রোমান্স' বা 'স্পেলবাউন্ড' সিনেমার নায়িকা Son Ye-jin এর প্রেমে। ওয়েবসাইটে ঘেটে ঘুটে দেখলাম বছর দেড়েক আগে 'আ মোমেন্ট টু রিমেম্বার' দেখে একই নায়িকার প্রেমে আরও একবার পড়েছিলাম।

একই নায়িকার প্রেমে দুইবার পড়তে হল - চরিত্র নিয়ে সন্দেহ বাড়ছে - বিব্রতকর অবস্থা :/

বুধবার, ২০ মার্চ, ২০১৩

প্রতিরোধক এবং প্রতিশোধক

আমার দোস্তরা একে একে বিবাহ করতেছে। শুক্রবার পার হয়া সপ্তাহ শুরু হইলেই দেখি নতুন কেউ ঝুলে পড়েছে। প্রথমে রিলেশনশিপ স্ট্যাটাসে অমুক ম্যারিড টু তমুক, তারপর ছবি। আমি ছবি দেখি, স্ট্যাটাস দেখি, একটা লাইক দিয়া কর্ম শেষ করতে চাই, আরও একটু আগাইতে চাইলে কনগ্রেটস লিখা বিদায়। বেশী সময় থাকলে বুকে ব্যাথা শুরু হয়।
ঝামেলা শুরু হয় তারপর থেকে। একটু পর পর নোটিফিকেশন আসে। অমুক কমেন্টেড তমুক'স ফটো। আমি নোটিফিকেশনে ক্লিক কৈরা সেই ছবিতে যাই, তারপর বুকে ব্যাথা নিয়া ফেরত আসি। বুকের ব্যাথ্যার কোন প্রতিশেধক নাই, প্রতিরোধক হিসেবে কমেন্ট দেয়ার পর পরই 'আনফলো'তে ক্লিক দিয়া আসি। তাতেও লাভ হয় না, অন্যান্য বন্ধুরা সবাই মিলা লাইক কমেন্ট দিয়া সেই ছবিকে বারবার জীবিত করে, তারপর আমার নিউজফিডে পাঠায়া দেয়, বুকের ব্যাথা আবার চিনচিন করে :(

দিন পাঁচেক আগে এক বন্ধু রিলেশনশীপ স্ট্যাটাস চেঞ্জ করছে - অমুক গট এনগেজড টু তমুক। স্কাইপে তাকে নগদে অভিনন্দন জানিয়ে দিয়েছি। কিন্তু ডানদিকে টিকারের পাশে একটা লাল রং এর কলিজা সহ সে এবং তার 'সে' - জ্বলজ্বল করছে। ব্যাথা না শুরু হয়ে যায় - এই শঙ্কায় গত তিনদিনে অন্তত পনেরোবার ডিলিট দেয়ার চেষ্টা করছি, যায় না - নোটিশ ধরায়া দেয় - Something went wrong. We're working on getting it fixed as soon as we can.

জ্বালা! প্রতিরোধকে কাজ হচ্ছে না, প্রতিশেধক চাই :/

সোমবার, ১৮ মার্চ, ২০১৩

আস্তিক নাস্তিক বিতর্ক

নাস্তিক-আস্তিক নিয়া বিশাল ক্যাচাল চলতেছে দেশে। যা ক্যাচাল তার চেয়ে বেশী ব্যাঙ্গ-বিদ্রুপ, বেশীরভাগেরই টার্গেট খালেদা জিয়া, পাশে শাহবাগ বিরোধী মোল্লা-মৌলভীরাও আছে। বিষয়টা সম্পূর্ণই অনর্থক।
ব্যাকরণের সংজ্ঞানুযায়ী - যিনি বিশ্বাস করেন ঈশ্বর আছেন তিনি আস্তিক, যিনি বিশ্বাস করেন ঈশ্বর নাই তিনি নাস্তিক - এর বেশী কিছু নাই। ঈশ্বরে বিশ্বাস করেন কিন্তু কোন ধর্মে বিশ্বাস করেন না এরকম মানুষ আছে - এদের কি বলা হবে? অধর্মী আস্তিক? ঈশ্বরের সাথে ধর্মের সম্পর্ক বেশ শক্তিশালী। যেখানে ধর্মেই বিশ্বাস নাই সেখানে ঈশ্বরে বিশ্বাস থাকা না থাকায় প্রভাব কতটুকু? (বিতর্কে আগ্রহী নই)
ঈশ্বরে বিশ্বাসী, ধর্মেও বিশ্বাসী এরকম মানুষ প্রচুর, কিন্তু এদের কতজন ধর্মীয় কর্মে বিশ্বাসী সেটা নিয়ে একটা গবেষণাকর্ম হতে পারে। ঈশ্বরে বিশ্বাস করি, ধর্ম হল ইসলাম কিন্তু শুক্রবার ছাড়া মসজিদে যাই না, রাত সাড়ে তিনটা চারটা পর্যন্ত কম্পিউটার গুতাই, পড়াশোনা করি বৈলা ফজরের নামাজ পড়তে পারি না মাসের পর মাস, রমজান মাসে সবগুলা রোজা রাখাও কষ্ট, পরীক্ষা থাকে, সেহরীতে উঠতে পারি না - এইরকম মানুষ কত? রেগুলার নামাজ-কালাম পড়ি কিন্তু উঠতে বসতে যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ গালি দেই, কোরআন হাদীসে কি বলা আছে সেইটা পুরোটা না জেনেই নিজের মতকে ইসলামের মত হিসেবে জানায়া দেই - সেইরকম মানুষ কত?

সেইরকম মানুষ কত সেইটা গুরুত্বপূর্ণ কিছুই না, গুরুত্বপূর্ণ হল নিজে কি করতেছি সেইটা। আস্তিক-নাস্তিক দুই ভাগ কৈরা কোন লাভ নাই, লাভ যদি কিছু হয় তাহলে প্র্যাকটিসিং এবং নন প্র্যাকটিসিং - এই দুইভাগে ভাগ করা যাইতে পারে। নিজের ধর্মটা ভালো করে জানলে এবং মানলে - আস্তিক নাস্তিকের ঝগড়ায় যাওয়ার দরকার হয় না, খালেদা জিয়া বলেন আর মোল্লা মৌলভী বলেন - তাদের দেয়া সংজ্ঞায়ও কিছু আসে যায় না।

শুক্রবার, ১৫ মার্চ, ২০১৩

Trade: হিউম্যান ট্র্যাফিকিঙ, সেক্স স্লেভারি ও অন্যান্য

trade_ver8_xlgমেক্সিকোর অপরাধপ্রবণতা নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্রগুলো বেশ বাজার পায়। ডেসপারেডো, ওয়ান্স আপন আ টাইম ইন মেক্সিকো, অ্যামেরোস পের্রোস, চায়না টাউন, নো কান্ট্রি ফর ওল্ড ম্যান- এই ধরনের অনেকগুলো ক্রাইম ধারার ছবি পাওয়া যাবে যেগুলো মেক্সিকো কেন্দ্রিক। ছবিগুলো থেকে ক্রাইমের পেছনে প্রধাণ যে কারণ পাওয়া যায় তা হল দারিদ্র্য। দারিদ্র্য পীড়িত জনগোষ্ঠীর লোকেরা দারিদ্র্য থেকে মুক্তির জন্য নানারকম অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ে, এবং, অনেকক্ষেত্রে দরিদ্র্যরাই সেই অপরাধের ভিক্টিমে পরিণত হয়। 'ট্রেড' নামের ছবিতেও একই বিষয় ফুটে উঠেছে। এই ছবিতে অপরাধের ধরনটি একটু সংবেদনশীল - হিউম্যান ট্র্যাফিকিং এবং সেক্স স্লেভারি।


কাক

প্রকৃতির ঝাড়ুদার কাক বেশ পরিশ্রমী। কাকের এই পরিশ্রমী মনোভাব বোঝা যায় তাদের বাসা তৈরীর চেষ্টা থেকে।
ছোটবেলায় গাছ ছাটাই করলেই দুই একটা কাকের বাসার পতন হতো। সুন্দর বাসা বলে বাবুই পাখির বাসা বেশ খ্যাত, সে তুলনায় কাকের বাসা ক্ষ্যাত। স্থায়ীত্ত্বের কথা ভাবলে অবশ্য কাকের বাসাকে বেস্ট বলতে হবে। ভেঙ্গে ফেলা বাসার ভেতর থেকে বের হত দুনিয়ার সব জঞ্জাল, আর বিভিন্ন সময় হারিয়ে যাওয়া জিনিসপত্র - গোলাপী লাক্স সাবান কিংবা চুলের ফিতা পর্যন্ত। এগুলো সৌন্দর্য বৃদ্ধির উপকরণ। আর বাসাকে মজবুত করার জন্য পাওয়া যেতে সুতা, বড় সরু পাতা/খড়ের টুকরা এবং বিভিন্ন মাপের তার - তামার তার, সিলভারের তার ইত্যাদি (আমরা বলতাম গুণা)। বিশাল বিশাল এই তারগুলো জোগাড় করা এবং পেচিয়ে পেচিয়ে বাসা তৈরী নিঃসন্দেহে পরিশ্রমসাধ্য কাজ।

এখন যেখানে থাকি, তার পাশের বিল্ডিংটা আমার ফ্ল্যাটের থেকে একতলা ছোট, অসম্পূর্ণ বিল্ডিং। সিড়িঘরে ছাদ তৈরী হয়েছে টিন দিয়ে, সেখানে নানারকম অদ্ভুত জিনিসপত্রের সাথে আছে মোটা তারের টুকরা, এক ইঞ্চি পুরুত্বের দুটো রড। গত দেড়মাস ধরে আমার সকালে ঘুম ভাঙ্গে এই টিনের চালে আওয়াজে। প্রতিদিনই দেখি, একটা কাক সেই মোটা তারের টুকরা ধরে টানাটানি করে, লম্বায় একটু বড় বলে একবারে নিয়ে যেতে পারে না, কিন্তু টিনের চালে তারের সংঘর্ষে শব্দও কম হয় না। বিরক্তিকর অবস্থা।

এই অবস্থা চলেছে প্রায় দেড়মাস। তিনটুকরা তার এই দেড়মাস সময়ের ব্যবধানে নিয়ে যেতে পেরেছে কাক। কোন গাছে বাসা বানাচ্ছে জানি না, জানতেও চাই না, উৎপাত বন্ধ হয়েছে এই শান্তি। সপ্তাখানেক বন্ধ ছিল। আজকে সকালে আবারও টিনের চালে শব্দ শুনে উঠলাম - আবার কি পেল?

শয়তানটা এবার রড ধরে টানাটানি করছে :(

বুধবার, ১৩ মার্চ, ২০১৩

হেলিকপ্টার!

সেই বাচ্চাকালে হেলিকপ্টারের আওয়াজ শুনে দেখার জন্য আগ্রহী হযনি এমন মানুষের সংখ্যা বোধহয় খুব নগন্য। গুড় গুড় শব্দ করে যখন হেলিকপ্টার মাথার উপর দিয়ে ছুটে যেত তখন তাকিয়ে থাকতাম অনেক আগ্রহ নিয়ে, না জানি কেমনে উড়ে... যদি পড়ে যায়?

আমি জন্মেছি চট্টগ্রামে, বড় হয়েছি সেখানেই। কলোনীতে থাকতাম। একতলা বাসা। যখন হেলিকপ্টার আসার আওয়াজ পেতাম, দুড়দাড় করে ছুটে বেরোতাম, বাসার জানালা দিয়ে দেখা যেত না বলে। মাথার উপর দিয়ে হেলিকপ্টারটা চলে যেত, তারপর বাসার ছাদের উপর দিয়ে আর তারপর রুবেলদের বিল্ডিং এর ছাদের উপর দিয়ে... কোথায় যে যেত তা জানা ছিল না। কিন্তু দৈনিক একবার দুবার যখনই যেত কখনোই দেখার ইচ্ছেটা মরে যেত না। মনে আছে এরকম অনেকদিন হয়েছে, খেলার মাঠে ক্রিকেট ব্যাট নিয়ে দাড়িয়ে আছি, হঠাৎ হেলিকপ্টার এল, ব্যাটিং বাদ দিয়ে হা করে আকাশে তাকিয়ে আছি দেখার জন্য। রোদের দিকে কি তাকিয়ে থাকা যায়, হেলিকপ্টার যেতে যেতে তিন চারটে হাচি দেয়া শেষ, কিন্তু দেখা বাদ যায়নি।

হেলিকপ্টার নিয়ে এই আগ্রহটা সবারই থাকে, বিশেষ করে ছোটবেলায়। আমারও ছিল... ... এখনও আছে। হেলিকপ্টার গেলে এখনোও সব বাদ দিয়ে তাকিয়ে থাকি, মনে থাকে না কোথায় আছি।

হেলিকপ্টার যে অনেক বিশাল জিনিস সে ব্যাপারে আমার কোন ধারনা ছিল না, যেহেতু সামনা সামনি কখনোও দেখিনি। দেখার সুযোগটা হয়ে গেল একদিন। '৯১র বন্যার পর ত্রান নিয়ে হেলিকপ্টারের আনাগোনা বেড়ে গেল অনেক। সেই সময় একদিন দেখলাম, হেলিকপ্টারটা প্রায় আমাদের ছাদ ছুয়ে চলে গেল, যদিও আমার ভাইয়া বলেছিল ছাদ ছুয়ে নয় বরং প্রায় ছ' সাত তলা উচু দিয়ে উড়ে গিয়েছিল, আমার বিশ্বাস হয়নি।

তারপর একদিন বিশাল এক ঘটনা ঘটে গেল। আমাদের কলোনীর পাশে এক বিশাল মাঠ আছে, এরশাদের আমলে সেখানে একবার স্কাউট জাম্বুরী হয়েছিল, তাই তার নাম জাম্বুরী মাঠ। সেই মাঠে এক বিশাল হেলিকপ্টার নামল। আর্মির পোশাক পড়া কয়েকজন লোকও বেরোল সেখান থেকে। আমরা দৌড়ে দৌড়ে জাম্বুরী মাঠে গেলাম হেলিকপ্টার দেখার জন্য। বেশীক্ষন ছিল না অবশ্য, আধাঘন্টা বাদেই তারা উড়ে যায়। কোন প্রয়োজনে জরুরী অবতরনের ঘটনা ছিল সেটা।

থ্রিলার বইয়ের সাথে পরিচিত হয়েছি তখন। কাজী আনোয়ার হোসেনের কুয়াশা সিরিজের পাগল ভক্ত। এক বইয়ে একটি চরিত্র পাওয়া গেল যে নাকি দুটো ম্যাচ বক্সের উপর একটা হেলিকপ্টার নামাতে পারে। কি অসম্ভব ঘটনা! তার পর থেকে আমি গবেষনায় মেতে গেলাম কোথায় কোথায় হেলিকপ্টার নামানো সম্ভব। জানতে পারলাম বিল্ডিংএর ছাদে, খোলা মাঠে সবজায়গায় হেলিকপ্টার নামানো যায়। বাপরে! যদি তাই হয় তবে আমাদের ছাদে কেন একদিন নামে না। জানি না।

এই প্রশ্নটা আবারও জেগে উঠেছিল যখন জানলাম, কোন কোন বিল্ডিংএর ছাদে হেলিপ্যাড থাকে, হেলিকপ্টার নামার জন্য। বিশেষ করে সিটি সেন্টার গড়ে উঠছে যেখানে নাকি হেলিপ্যাড থাকবে! কি আশ্চর্য, হেলিকপ্টার যেখানে সেখানে নামতে পাড়লে আবার হেলিপ্যাড দরকার হয় নাকি?

তারপর একদিন জানলাম, লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি নামের বিখ্যাত চিত্রশিল্পি হেলিকপ্টারে ড্রইং করেছিলেন, অথচ হেলিকপ্টার তৈরী হয়েছে তারও কয়েক শত বছর পরে। বড় অদ্ভুত সে ঘটনা, এ কখনোও হয় নাকি?

তখন যথেষ্ট বড় হয়েছি, বাসায় অাব্বা কম্পিউটার কিনে দিলেন। সেখানে পেলাম হেলিকপ্টার গেমস। সারাদিন পাগলের মত ডুবে থাকলাম গেমসে। হেলিকপ্টার চালানোর এই আনন্দ তো আর পাওয়া যাবেনা। একদিন এই মোহ কাটল।

এবার ধরল সিনেমার মোহ। হলিউডের মুভি দেখতে লাগলাম ধুমসে। প্রায় মুভিতেই হেলিকপ্টার। একটা দুটো না, আরও বেশী, প্রয়োজনে দু তিনটি ধ্বংস করতেও তাদের কোন আপত্তি নেই। সে তুলনায় বাংলা সিনেমা বড় বেশী নিরস, কোন হেলিকপ্টারই নেই। ভিয়েতনাম যুদ্ধের উপর হলিউডের মুভি গুলো তো আমাকে নতুন স্বপ্ন দেখালো । পাহাড়ের নিচ থেকে যখন হেলিকপ্টারগুলো সার বেধে উড়ে আসে, তখন তাদেরকে কি ভয়ংকর সুন্দর দেখায়। বাংলাদেশী সিনেমায় অবশ্যই এরকম দৃশ্য থাকা উচিত, তবেই না মানুষ দেখতে যাবে - এই ধরনের চিন্তা আমার মাথা থেকে দূর করা সম্ভব হয়নি।

একদিন খবর পেলাম বাংলা সিনেমায় হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হয়েছে। ছুটলাম। দেখার আগেই হতাশ হয়েছি। এ যে ছোট্ট প্রাইভেট হেলিকপ্টার, এ দিয়ে আর কি হবে? সুতরাং আগ্রহ মারা গেল।

বাসায় একজন টিউটর ছিল, তখন ক্লাস এইটে পড়ি। তার সাথে তো একদিন আমার বিশাল তর্ক। হেলিকপ্টার দু প্রকার - একটা সরাসরি নামতে পারে, তার চাকা নাই, আর অন্যটার চাকা আছে, সরাসরি নামতে পারেনা । আমার স্যার যতই বোঝাতে চেষ্টা করেন না কেন, আমি হারিনি। এখন হাসি পায়।

একসময় ঢাকায় চলে এলাম। এখানে দেখি এলাহি কারবার, আকাশে সারাদিনই হেলিকপ্টার যাওয়া আসা করে, চক্কর দেয়। দিনে দেয়, রাতেও দেয়। সারাদিন গুড় গুড় শব্দ। ডান থেকে বামে, উত্তর থেকে পশ্চিমে। আমিও খুজে বেড়াই, যতক্ষন দেখা যায় তাকিয়ে থাকি। বুঝতে চেষ্টা করি এটাই আগের দেখা সেই হেলিকপ্টারটা কিনা!

সেদিন এক লজ্জার সিচুয়েশনে পড়ে গেলাম। খাওয়া শেষে ফিরছি, হঠাৎ হেলিকপ্টারের আওয়াজ, মনে হচ্ছে অনেক নিচ দিয়ে যাচ্ছে। আমি সব ভুলে দাড়িয়ে পড়লাম, অনুসন্ধানী দৃষ্টি দিয়ে খুজলাম, কিন্তু পাওয়া গেল না। হতাশায় ঠোট উল্টে নিচে তাকিয়ে দেখি, যে বয়টি প্রতিদিন আমাকে নাস্তা এনে দেয় সে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। ভীষন লজ্জা লাগল, তাড়াহুড়ো করে সরে এলাম।

হেলিকপ্টার নিয়ে কেন যে এত প্রীতি সেটা আমার জানা নেই, একদিন সত্যিকারের হেলিকপ্টারে চড়ে দেখার ইচ্ছে আছে, হয়তো একদিন পূরন হয়ে যাবে অন্য সব ইচ্ছে গুলোর মতই। সেই দিনের অপেক্ষায় আছি।

এখানেই শেষ... .... আরেকটি হেলিকপ্টারের আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছে ... ... ...

মঙ্গলবার, ১২ মার্চ, ২০১৩

শ্রীলঙ্কা ভ্রমণ সিদ্ধান্ত

বাংলাদেশের সবগুলো জেলা ঘোরার প্ল্যান এবং 'দারাশিকো'র বঙ্গভ্রমণ' সিরিজ শুরু করার পর এক ছোটভাই নিজ আগ্রহে দুটো বই ধরিয়ে দিয়ে গেল দিন কয়েক আগে। প্রথমটা হুমায়ূন আহমেদ এর - 'রাবণের দেশে আমি এবং আমরা', অন্যটি, আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের 'ওড়াউড়ির দিন'।

সোমবার, ১১ মার্চ, ২০১৩

মোটু ফিরে এসেছে!


মোটু ফিরে এসেছে!
মোটু হল পৃথিবীর সবচে অলস বেড়াল, বছর চারেক হল সে আমাদের ফ্যামিলি মেম্বার, থাকে আমাদের বাসায়ই।

বেড়াল নিয়ে আমাদের কখনোই কোন আহলাদ ছিল না। বরং বেড়াল ছিল আমাদের দুই ভাইয়ের টার্গেট প্র্যাকটিসের বস্তু। অস্ত্র হল স্যান্ডেল। দুই পদ্ধতিতে এই অস্ত্র নিক্ষেপ করা হত। শরীরের কোন নড়াচড়া না করে পায়ের স্যান্ডেলকে হাতে নেয়া এবং হাতকে পেছনে নিয় হঠাৎ নিচু করে বেড়ালের দিকে ছুড়ে মারতে হতো। খেয়াল রাখতে হত, স্যান্ডেল যেন বেড়াল পর্যন্ত উড়ে গিয়ে বেড়ালের হাতখানেকের মধ্যে মাটিতে ঠোকর খায়। দুটো উদ্দেশ্য, স্যান্ডেলের আগমন টের পেয়ে বেড়াল যেদিকেই সরুক না কেন ছুটন্ত স্যান্ডেলের রেঞ্জের মধ্যে থেকে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশী এবং, স্যান্ডেলের বাড়ি খেলে তুলনামূলক কম আঘাত পাবে, তাতে নেক্সট টাইম একই বেড়ালকে টার্গেটের সুযোগ থেকে যায়। মরে টরে গেলে বেড়াল একটা কমে যাবে - এই চেতন আমাদের মধ্যে ছিল।

অস্ত্রের দ্বিতীয় ব্যবহার হত যখন লোড করার সুযোগ থাকতো না। রাস্তা দিয়ে বেড়ালটা হেটে যাচ্ছে, অথবা তাকিয়ে আছে আমাদের দিকে। স্যান্ডেল হাতে নিতে নিতে পালিয়ে যেতে পারে, কিন্তু চোখের আড়াল, তখন আর হাতে নেয়া যাবে না, পা-কেই এমনভাবে ঝাড়ি দিতে হবে যেন স্যান্ডেল পা থেকে ছুটে গিয়ে বেড়াল পর্যন্ত পৌছে যায়। এটা একটু রিস্কি। কোনভাবে ছুড়তে ভুল হলে দেখা যেত স্যান্ডেল উপরের দিকে উঠে গেছে, অথবা, বিড়ালের পাশের ড্রেনে গিয়ে পড়েছে। বাকী পথ তখন ভেজা স্যান্ডেল-কে লাথি দিয়ে দিয়ে বাসা পর্যন্ত নেয়া লাগত।

টার্গেট প্র্যাকটিসের কারণেই সম্ভবত এলাকার কোন বেড়াল আমাদের বাড়িতে আশ্রয় নিতে আসে নি, তবে বাচ্চা ডেলিভারীর উদ্দেশ্যে এসেছে অনেকবার। সফল ডেলিভারীর দিন সাতেকের মধ্যেই বাচ্চাসহ নতুন কোথাও আশ্রয় নিয়েছে - তাদের জন্য আমাদের আলাদা কোন মায়া-মমতা বা শত্রুতা ছিল না। দুধভাত বেড়ালের সাথে আবার কি?

অথচ, আব্বার রিটায়ারমেন্টের পর পুরানো বাসস্থান ছেড়ে আব্বা-আম্মা যখন নতুন বাসায় একাকী থাকা শুরু করল তখন কিভাবে যেন একটা বেড়াল আমাদের ঘরে চলে এল। প্রথম দিকে সে শুধু খাওয়ার সময় আসতে থাকলো, তারপর বাসাতেই থাকতে শুরু করল। বেশ পোটকা শরীর আর অলস স্বভাবের কারণে তার নাম হয়ে গেল মোটু। ২৪ ঘন্টা দিনে-রাতে সে ঘুমায় প্রায় বিশ ঘন্টা, এক জায়গায় নয়, ঘুরে ঘুরে সাত আট জায়গায়। পৃথিবীর কোন কিছুতেই মোটুর কোন আগ্রহ নেই - মুর্গীর বাচ্চা যে বিড়ালের খাদ্য হতে পারে, ইদুরের সাথে যে বেড়ালের চিরশত্রুতা - তার কোনটাই বোধহয় মোটুর জানা নেই।

বলা যায় এ কারনেই মোটু পরিবারের সদস্য হয়ে গেল। খাতির যত্ন যা করার আব্বাই করে। দুপুর রাতের মেনু কি হবে সেটা ঠিক করা হয় মোটুর কথা চিন্তা করে, বয়স্ক মোটু সব গরুর হাড্ডি খেতে পারে না, মুর্গী বা মাছ তার প্রিয়। ফলে কোন বেলায় মাছ-মুর্গী না থাকলেও মোটুর কথা চিন্তা করে আগের বেলায় মাছ/মুর্গীর টুকরো রেখে দেয়া হয়।

গত পরশুদিন হঠাৎ খবর এল মোটু নাকি দুদিন ধরে বাসায় নেই। মোটুর বয়স হয়েছে, পাড়ার তরুন-যুবা বেড়ালগুলোর সাথে মোটু পেড়ে উঠে না, কদিন পরপরই যখম নিয়ে ঘরে ফিরে, যখন তখন মরে যেতে পারে। ফলে, দুদিন ধরে নিখোঁজ থাকার ফলে ধরেই নেয়া হচ্ছিল মোটু বোধহয় মারাই গেছে। আব্বার মন খারাপ, আম্মারও। তাদের মন খারাপ দেখে আমাদেরও খারাপ লাগে। একদম একাকী আব্বা-আম্মার সাথে অন্তত: একটা বেড়াল ছিল, মোটু মারা গেলে কি হবে? আবার আরেকটা বেড়াল? মোটুর কোন অলটারনেটিভ হয়?

হয় না! এবারের মত মোটু ফিরে এসেছে। কথা বলতে পারে না বলে এ কদিন কোথায় ছিল সেটা ঠিক জানা যায় নি, জানার প্রয়োজনও নেই। মোটু ফিরে এসেছে, সেটাই বড় কথা। মোটুকে নিয়ে আমার রিটায়ার্ড আব্বা আবারও একটু সময় ব্যস্ত থাকবে, খাবার সময় মোটুকে ডাকাডাকি করবে, একাকীত্বের সঙ্গী হবে মোটু।

কখনো কখনো একটা বেড়ালও একটা মানুষের মত ভূমিকা পালন করে। মোটু তুই ভালো থাক্।

রবিবার, ১০ মার্চ, ২০১৩

বাংলাদেশে কোলকাতার চলচ্চিত্র: চলচ্চিত্র শিল্প-বিধ্বংসী পদক্ষেপ

image_1021_158522বাংলাদেশের সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি গত এক দশকেরও বেশী সময়ে বেশ দূর্যোগপূর্ণ সময়ের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে। গতানুগতিক গল্প, মানহীন অভিনয়, দুর্বল পরিচালনা, দুর্বল কারিগরী মান, দর্শক চাহিদাকে উপেক্ষা করে এক শ্রেনীর দর্শকের জন্য সিনেমা বানানো ইত্যাদি সহ আরও নানা কারনে সিনেমাহলে দর্শক কমতে শুরু করে। একই সময়ে, অশ্লীল ছবির জোয়ার শুরু হয় যা সাধারণ দর্শককে আরও হলবিমুখ করে। প্রকৃতপক্ষে, কারণগুলো একে অপরকে প্রভাবিত করে পতনকে তরান্বিত করেছিল, ফলাফল, বাংলা সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি শুধু দর্শকই হারায় নি, সারা দেশে ভালো ব্যবসার অভাবে প্রচুর সিনেমাহল বন্ধ হয়ে গিয়েছে, যেগুলো টিকে রয়েছে সেগুলোও যত্ন পরিচর্যার অভাবে দর্শকের আগ্রহ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বলাবাহুল্য, তৎকালীন সরকারসমূহ এই পতনকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করেছিলেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আবরণে সেনা শাসনে এই পতন ঠেকানো সম্ভব হয়, অশ্লীল ছবির নির্মান বন্ধ হয়ে আবারও ভালো সিনেমা তৈরী শুরু হয়। ২০১১ সাল পর্যন্ত সিনেমা নির্মান সংখ্যা নিম্নমুখী হলেও ২০১২ সালে আবার উর্দ্ধমুখী হয়। বর্তমান সরকারের শাসনামালে সিনেমার উন্নয়নে বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহন করা হয় যা সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির প্রতি সরকারের সুদৃষ্টির ইঙ্গিতবাহী, কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ের ঘটনাপ্রবাহ সেই সকল পদক্ষেপকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। গৃহীত পদক্ষেপসমূহ বাংলাদেশের সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির উন্নয়নের স্বার্থে গৃহীত নাকি পাশ্ববর্তী দেশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির উন্নয়ন- সেটাই প্রশ্ন হয়ে দাড়িয়েছে।

সোমবার, ৪ মার্চ, ২০১৩

হোয়াই সাইক্লিঙ



আমার একটা সাইকেল আছে।
সাইকেলের ডাক নাম ফনিক্স সাইকেল, ভালো নাম ফিনিক্স সাইকেল। আসলে এটা সাইকেলের নাম না, সাইকেলের পদবী বলা যায়। এই সাইকেলকে আমি বলি গাড়ি, আর রুহুলকা বলে ঘোড়া।

ফিনিক্স পদবীতে 'ঘোড়ার' নানা রকম আছে, আমি যেটা চালাই সেটা আদি ডিজাইন। বুচ ক্যাসাডি অ্যান্ড দ্য সান্ডেন্স কিড ছবিতে বুচ ক্যাসাডি সুন্দরী এটা-কে যে ধরনের সাইকেলের সামনে বসিয়ে চালিয়েছিল - সেরকম একটা সাইকেল।

এই বয়সে এই ধরনের মান্ধাতার আমলের সাইকেল চালাই বলে আমার কোন কষ্ট হয় না, আশে পাশের লোকজন আপত্তি করে। আহসানউল্লাহ ইউনিভার্সিটির এক ছোটভাই একদিন বলে - "ভাই! আগে ফিটফাট অবস্থায় সাইকেল চালাইতে দেখলে মনে করত সেলসম্যান ..."। বেচারা! প্রশংসা করতে গিয়ে গুবলেট পাকায়া ফেলছে।

সিইও-রা এখনো সাইকেল চালায় না, কিন্তু যদি চালানো শুরু করে তাহলে কি হবে বলেন তো? যেদিন সারা ঢাকা শহর রাস্তায় দাড়ায়া থাকে সেদিন আমি রাস্তার রাজা (বাঁশবাগানে শেয়ালই বাঘ ;) )। আগে অফিসে যেতে কোনদিন লাগত ৪০ মিনিট কোনদিন দেড়ঘন্টা। এখন প্রতিদিনই ৪০ মিনিট লাগে।

সবচে বড় কথা, নিচের ছবিটা দেখুন, গাড়িওয়ালারা ট্রাফিক জ্যামে পড়ে না, তারা ট্রাফিক জ্যাম লাগায় - সাইক্লিস্টরা সেটা কখনোই করে না। আম্মা, বউ আর বান্ধবী (যদি থাকে)-কে একটু বুঝিয়ে সাহস করে নেমে পড়ুন। দুই সপ্তাহ পরে আপনিও বাঁশ বাগানের বাঘ হয়ে যাবেন :)

হ্যাপী সাইক্লিং।