বৃহস্পতিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০১৩

সার্জিও লিওনির টাইম ট্রিলজি

রেলস্টেশনে কাঠের তৈরী প্লাটফর্ম। অলস বসে তিনটা লোক। একটা মাছি ভন ভন করে গায়ে এসে বসছে বারবার। ছাদ চুয়ে ফোটায় ফোটায় পানি পড়ছে একজনের মাথার হ্যাটে। ঘরঘর করে একটা উইন্ডকল ক্যাচ ক্যাচ করে একঘেয়ে শব্দ করে যাচ্ছে। ভনভন করা মাছিটাকে পিস্তলের নলে চেপে ধরল লোকটা। ভোঁ হুইসেল দিয়ে একটা ট্রেন এসে দাড়ালো প্লাটফর্মে। নড়ে উঠল লোক তিনটে। পিস্তলের নলে আটকে রাখা মাছিটাকে ছেড়ে দিল সে। মাথার হ্যাটে ফোটায় ফোটায় পানি পড়ে যতটুকু জমেছিল এক চুমুকে খেয়ে নিল অন্যজন। অন্যজন হাতটাকে কোমড়ে ঝোলানো হোলস্টারের কাছে নিয়ে গেল। প্রস্তুত তিনজন।

সোমবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০১৩

পতাকার অবমাননা ও নিয়মাবলী

সাম্প্রতিক সময়ে পতাকার অবমাননা বেশ গুরুত্বপূর্ণ টপিক। পতাকার অবমাননা কিভাবে হয় অথবা পতাকা ব্যবহারের নিয়মাবলী কি সেটা জানার আগ্রহে কিছু ঘাটাঘাটি করলাম, পড়লাম। সঠিক নিয়মাবলী না জানার কারণে অজান্তেই আমরা পতাকার অবমাননা করছি বিভিন্ন সময়ে, যেমন শাহবাগে পতাকা মাটিতে বিছিয়ে তার চারদিকে মোমবাতি প্রজ্বলন। এটাও পতাকার অবমাননা যদিও পতাকা ব্যবহারকারীদের এ সংক্রান্ত কোন উদ্দেশ্যই ছিল না এবং অজ্ঞতাই এর প্রধান কারণ। তবে হ্যা, অজ্ঞতার কারণে কিন্তু শাস্তি মওকুফ হয় না। সামনে কখনো যেন অজ্ঞতাবশতঃ এই ভুল না হয় তার জন্য অজ্ঞতা দূর করা দরকার। অজ্ঞতা দূরীকরণে PEOPLE’S REPUBLIC OF BANGLADESH FLAG RULES, 1972 (Revised up to May, 2010) অনুযায়ী পতাকা ব্যবহারের নিয়মাবলী জেনে নিন। ধন্যবাদ।

(১) সর্বদা পতাকার প্রতি যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা প্রদর্শন করিতে হইবে।
(২) পতাকা দ্বারা মোটরযান, রেলগাড়ি অথবা নৌযানের খোল, সম্মুখভাগ অথবা পশ্চাদ্ভাগ কোন অবস্থাতেই আচ্ছাদিত করা যাইবে না।
(৩) যেক্ষেত্রে অন্যান্য দেশের পতাকা অথবা রঙিন পতাকার সহিত ‘বাংলাদেশের পতাকা’ উত্তোলন করা হয়, সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের পতাকাকে সম্মান প্রদর্শনের জন্য স্থান সংরক্ষিত থাকিবে।
(৪) যেক্ষেত্রে কেবলমাত্র দুইটি পতাকা অথবা রঙিন পতাকা উত্তোলন করা হয়, সেক্ষেত্রে ‘বাংলাদেশের পতাকা’ ভবনের ডানদিকে উত্তোলন করা হইবে।
(৫) যেক্ষেত্রে পতাকার সংখ্যা দুইয়ের অধিক হয়, সেক্ষেত্রে অযুগ্ম সংখ্যক পতাকার ক্ষেত্রে ‘বাংলাদেশের পতাকা’ মধ্যখানে এবং যুগ্ম সংখ্যক পতাকার ক্ষেত্রে ‘বাংলাদেশের পতাকা’ মধ্যভাগের ডানদিকে উত্তোলন করা হইবে।
(৬) যেক্ষেত্রে ‘বাংলাদেশের পতাকা’ অন্য পতাকার সহিত আড়াআড়িভাবে কোন দণ্ডে দেয়ালের বিপরীতে উত্তোলন করা হয়, সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের পতাকা অন্য পতাকার ডানদিকে আড়াআড়িভাবে থাকিবে (আড়াআড়িভাবে যুক্ত পতাকা দুইটির দিকে মুখ করিয়া দণ্ডায়মান ব্যক্তির বামদিকে) এবং পতাকা দণ্ডটি অন্য পতাকা দণ্ডের সম্মুখভাগে স্থাপিত হইবে।
(৭) ‘বাংলাদেশের পতাকা’র উপরে অন্য কোন পতাকা বা রঙিন পতাকা উত্তোলন করা যাইবে না।
(৮) ‘বাংলাদেশের পতাকা’ শোভাযাত্রার মধ্যভাগে বহন করা হইবে অথবা সৈন্য দলের অগ্রগমন পথে (Line of March) শোভাযাত্রার ডানদিকে বহন করা হইবে।
(৯) মর্যাদার প্রতীক সম্বলিত ঢালে (escutcheons) অযুগ্ম সংখ্যক পতাকার ক্ষেত্রে ‘বাংলাদেশের পতাকা’ মধ্যভাগে এবং সর্বোচ্চ কেন্দ্রে থাকিবে এবং যুগ্ম সংখ্যক পতাকার ক্ষেত্রে ঢালের ডানদিকে শীর্ষে (ঢালের দিকে মুখ করিয়া দণ্ডায়মান ব্যক্তির বামদিকে) বাংলাদেশের পতাকা স্থাপন করা হইবে।
(১০) যেক্ষেত্রে অন্য কোন দেশের সহিত ‘বাংলাদেশের পতাকা’ একত্রে উত্তোলন করা হয়, সেক্ষেত্রে ‘বাংলাদেশের পতাকা’ প্রথমে উত্তোলন করিতে হইবে এবং নামাইবার সময় সর্বশেষে নামাইতে হইবে।
(১১) যেক্ষেত্রে দুই বা ততোধিক দেশের পতাকা প্রদর্শিত হয়, সেক্ষেত্রে প্রতিটি পতাকা পৃথক পৃথক দণ্ডে উত্তোলন করা হইবে এবং পতাকাসমূহ প্রায় সমান আয়তনের হইবে।
(১২) যেক্ষেত্রে ‘বাংলাদেশের পতাকা’ অর্ধনমিত থাকে, সেক্ষেত্রে প্রথমে সর্বোচ্চ চূড়া পর্যন্ত উত্তোলন করা হইবে এবং অতঃপর নামাইয়া অর্ধনমিত অবস্থায় আনা হইবে। ঐ দিবসে নামাইবার সময় পুনরায় উপরিভাগ পর্যন্ত উত্তোলন করা হইবে, অতঃপর নামাইতে হইবে।
(১৩) যেক্ষেত্রে দণ্ডের উপর ব্যতীত অন্যভাবে কোন দেয়ালের উপর ‘পতাকা’ প্রদর্শিত হয়, সেক্ষেত্রে উহা দেয়ালের সমতলে প্রদর্শিত হইবে। কোন পাবলিক অডিটোরিয়াম বা সভায় ‘পতাকা’ প্রদর্শন করিতে হইলে উহা বক্তার পশ্চাতে উপরের দিকে প্রদর্শিত হইবে। যেক্ষেত্রে রাস্তার মধ্যখানে পতাকা প্রদর্শিত হয়, সেক্ষেত্রে উহা খাড়াভাবে প্রদর্শিত হইবে।
(১৪) কবরস্থানে ‘জাতীয় পতাকা’ নিচু করা যাইবে না বা ভূমি স্পর্শ করান যাইবে না।
(১৫) ‘পতাকা’ কোন ব্যক্তি বা জড় বস্ত্তর দিকে নিম্নমুখী করা যাইবে না।
(১৬) ‘পতাকা’ কখনই উহার নিচের কোন বস্ত্ত যেমন: মেঝে, পানি বা পণ্যদ্রব্য স্পর্শ করিবে না।
(১৭) ‘পতাকা’ কখনই আনুভূমিকভাবে বা সমতলে বহন করা যাইবে না, সর্বদাই । ঊর্ধ্বে এবং মুক্তভাবে থাকিবে।
(১৮) ‘বাংলাদেশের পতাকা’ কোন কিছুর আচ্ছাদন হিসাবে ব্যবহার করা যাইবে না, তবে শর্ত থাকে যে, কোন বিশিষ্ট ব্যক্তি যাঁহাকে পূর্ণ সামরিক মর্যাদা বা পূর্ণ আনুষ্ঠানিকতাসহ সমাধিস্থ করা হয়, তাঁহার শবযানে পতাকা আচ্ছাদনের অনুমোদন প্রদান করা যাইতে পারে।
(১৯) ‘পতাকা’ এমনভাবে উত্তোলন, প্রদর্শন, ব্যবহার বা সংরক্ষণ করা যাইবে না, যাহাতে উহা সহজেই ছিঁড়িয়া যাইতে পারে বা যে কোনভাবে ময়লা বা নষ্ট হইতে পারে।
(২০) কোন কিছু গ্রহণ, ধারণ, বহন বা বিলি করিবার নিমিত্ত ‘পতাকা’ ব্যবহার করা যাইবে না।
(২১) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক আরোপিত কোন শর্তাবলী (যদি থাকে) এবং লিখিত অনুমোদন ব্যতীত, কোন ধরনের ব্যবসা-বাণিজ্য, সম্বোধন, পেশা বা অন্য যে কোন উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের ‘পতাকা’ কোন ট্রেড মার্ক, ডিজাইন, শিরোনাম অথবা কোন প্যাটেন্ট হিসাবে ব্যবহার করা যাইবে না।
(২২) যেক্ষেত্রে ‘পতাকা’র অবস্থা এমন হয় যে, উহা আর ব্যবহার করা না যায়, সেক্ষেত্রে উহা মর্যাদা পূর্ণভাবে, বিশেষ করিয়া সমাধিস্থ করিয়া, নিষ্পত্তি করিতে হইবে।
(২৩) ‘পতাকা’ দ্রুততার সহিত উত্তোলন করিতে হইবে এবং সসম্মানে নামাইতে হইবে।
(২৪) ‘পতাকা’ উত্তোলন ও নামাইবার সময় এবং প্যারেড পরিক্রমণ ও পরিদর্শনের সময় উপস্থিত সকলে ‘পতাকা’র দিকে মুখ করিয়া সোজা হইয়া দাঁড়াইবেন।
(২৫) যেক্ষেত্রে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘পতাকা’ উত্তোলন করা হয়, সেক্ষেত্রে একই সাথে জাতীয় সঙ্গীত গাইতে হইবে। যখন জাতীয় সঙ্গীত বাজানো হয় এবং ‘জাতীয় পতাকা’ প্রদর্শিত হয়, তখন উপস্থিত সকলে ‘পতাকা’র দিকে মুখ করিয়া দাঁড়াইবেন। ইউনিফর্ম-ধারীরা স্যালুট-রত থাকিবেন। ‘পতাকা’ প্রদর্শন না করা হইলে, উপস্থিত সকলে বাদ্য যন্ত্রের দিকে মুখ করিয়া দাঁড়াইবেন, ইউনিফর্ম-ধারীরা জাতীয় সঙ্গীতের শুরু হইতে শেষ পর্যন্ত স্যালুট-রত থাকিবেন।
(২৬) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অনুমতি ব্যতীত, ‘জাতীয় পতাকা’ অর্ধনমিত করা যাইবে না, তবে শর্ত থাকে যে, বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশনের প্রধান (যে দেশের নিকট তিনি আস্থাভাজন) ইচ্ছা করিলে ঐ সকল দিবসে ‘পতাকা’ অর্ধনমিত রাখিতে পারিবেন, যে সকল দিবসে উক্ত দেশে, সরকারীভাবে ‘পতাকা’ অর্ধনমিত রাখা হয়।

পতাকা উত্তোলনের ক্ষেত্রে কিছু সাধারণ নির্দেশনাবলি রয়েছে আইনে,
(১) মোটর গাড়ী, নৌযান এবং উড়োজাহাজ ব্যতীত অন্যান্য ক্ষেত্রে শুধুমাত্র সূর্যোদয় হইতে সূর্যাস্ত পর্যন্ত ‘পতাকা’ উত্তোলিত থাকিবে, তবে শর্ত থাকে যে, বিশেষ কারণে ভবনসমূহে রাত্রে ‘পতাকা’ উত্তোলিত রাখা যাইতে পারে, যেমন- সংসদের রাত্রের অধিবেশন চলাকালীন অথবা রাষ্ট্রপতি, অথবা মন্ত্রীগণের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান চলাকালীন সময়।
(২) যেক্ষেত্রে মোটর গাড়ীতে ‘পতাকা’ প্রদর্শন করা হয়, সেইক্ষেত্রে গাড়ীর চেসিস অথবা রেডিয়েটর ক্যাপের ক্ল্যাম্পের সহিত পতাকা দন্ড দৃঢ়ভাবে আটকাইতে হইবে।
(৩) ‘পতাকা’র উপর কোন কিছু লিপিবদ্ধ করা যাইবে না বা ছাপান যাইবে না। কোন অনুষ্ঠান বা অন্য কোন উপলক্ষে ‘পতাকা’র উপর কোন কিছু লিপিবদ্ধ করা যাইবে না।
(৪) উপরে বর্ণিত এবং সময়ে সময়ে পরিবর্তিত উক্ত বিধিসমূহের অনুসরণ ব্যতীত, অন্য কোনভাবে ‘পতাকা’ ব্যবহার করা যাইবে না।
(৫) সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী কর্তৃক ‘পতাকা’র ব্যবহার এতদুদ্দেশ্যে প্রণীত বিশেষ বিধিমালা দ্বারা পরিচালিত হইবে।
বিশ্বকাপের সময় অনেক ক্রীড়া প্রেমী তাঁদের পছন্দের দেশের পতাকা উত্তোলন করে থাকেন। তাঁদের জন্য নির্দেশনা হচ্ছে,
(১) বাংলাদেশে অবস্থিত কূটনৈতিক মিশনসমূহের চ্যান্সারী ভবন এবং কনস্যুলার অফিসসমূহে বিদেশের ‘জাতীয় পতাকা’ উত্তোলন করা যাইতে পারে। অধিকন্তু, কূটনৈতিক মিশনসমূহের প্রধানগণ তাঁহাদের সরকারী ভবন এবং মোটর গাড়ীতে তাঁহাদের ‘জাতীয় পতাকা’ উত্তোলন করিতে পারিবেন।
(২) বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় ভ্রমণকালীন সময়ে নিম্নবর্ণিত শ্রেণীর সম্মানিত বিদেশী ব্যক্তিগণ তাঁহাদের নিজস্ব পতাকা (Personal Standards) অথবা নিজস্ব পতাকা না থাকিলে তাঁহাদের দেশের জাতীয় পতাকা তাঁহাদের অফিসিয়াল বাসভবনে এবং মোটর গাড়ীতে উত্তোলন করিতে পারিবেন:
(ক) রাষ্ট্রপ্রধান;
(খ) ভ্রমণরত প্রধানমন্ত্রী;
(গ) বিদেশী সরকারের মন্ত্রীবর্গ।
(৩) বাংলাদেশে অবস্থিত কূটনৈতিক মিশনসমূহ কোন উপলক্ষে, যেমন-জাতীয় দিবসসমূহে কূটনৈতিক মিশন প্রধানের বাসভবন বা চ্যান্সারী ব্যতীত, যে স্থানে সামাজিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হইবে, সেইস্থানে তাঁহাদের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করিতে পারিবে, তবে শর্ত থাকে যে, সেইক্ষেত্রে বাংলাদেশের ‘পতাকা’ও সম্মানজনক স্থানে পাশাপাশি উত্তোলন করিতে হইবে।
নোটঃ উপরিউক্ত বিধিতে উল্লিখিত সুবিধাদি কেবলমাত্র সেই সকল দেশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে যাহারা পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশকেও অনুরূপ সুবিধা প্রদান করিবে।
(৪) উপরিউক্ত বিধিসমূহের বর্ণনা ব্যতীত, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সুনির্দিষ্ট অনুমোদন ব্যতীত, বিদেশী রাষ্ট্রের পতাকা কোন গাড়ীতে বা ভবনে উত্তোলন করা যাইবে না।
পৃথক পৃথক স্থানে পতাকা উত্তোলনের জন্য কিছু নির্ধারিত নীতিমালা হয়েছে। যেমন,
• ভবনে ব্যবহারের জন্য পতাকার বিভিন্ন মাপ হলো—১০ ফুট* ৬ ফুট, ৫ ফুট *৩ ফুট, ২.৫ ফুট /১.৫ ফুট।
• মোটরগাড়িতে ব্যবহারের জন্য পতাকার বিভিন্ন মাপ হলো—১৫ ইঞ্চি* ৯ ইঞ্চি, ১০ ইঞ্চি *৬ ইঞ্চি।
• আন্তর্জাতিক ও দ্বিপাক্ষিক অনুষ্ঠানে ব্যবহারের জন্য টেবিল পতাকার মাপ হল—১০ ইঞ্চি *৬ ইঞ্চি।
এখানে উল্লেখ্য, সরকার ভবনের আয়তন অনুযায়ী এবং প্রয়োজনে দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের অনুপাত ঠিক রেখে বড় আয়তনের পতাকা প্রদর্শনের অনুমতি প্রদান করতে পারবে।
কিছু বিশেষ দিনে সারা দেশের সরকারী-বেসরকারী সবধরনের অফিসে জাতীয় পতাকা উড়ানোর নির্দেশনা আছে আইনে। দিবসগুলো হলো, ১। মহানবীর জন্মদিন(ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী), ২। স্বাধীনতা দিবস (২৬শে মার্চ), ৩। বিজয় দিবস (১৬ই ডিসেম্বর) এবং ৪। সরকার কর্তৃক ঘোষিত অন্য যেকোন দিন। এছাড়া ১। শহীদ দিবস (২১শে ফেব্রুয়ারী) এবং ২। সরকার কর্তৃক ঘোষিত অন্য যেকোন দিন জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার জন্যে আইনে বলা আছে।

বুধবার, ২০ ফেব্রুয়ারী, ২০১৩

সাদা-কালো-রঙিন দেবদাস

Devdas_posterখুব কম পরিচালকের ভাগ্যে একই ছবি দুবার বানানোর সুযোগ ঘটে। চাষী নজরুল ইসলাম সেদিক থেকে সৌভাগ্যবান। ১৯৮২ সালে বুলবুল আহমেদ, কবরী, আনোয়ারা এবং রহমানকে নিয়ে বানিয়েছিলেন সাদাকালোর দেবদাস। ইমপ্রেস টেলিফিল্মের প্রযোজনায় এবার বানিয়েছেন রঙিন দেবদাস। বুলবুল আহমেদের স্থানে এসেছেন বর্তমান সময়ের সবচে জনপ্রিয় নায়ক শাকিব খান, কবরী ও আনোয়ারার জায়গায় অপু বিশ্বাসমৌসুমী এবং রহমানের স্থলে শহীদুজ্জামান সেলিম। সাদা-কালোর জায়গায় শুধু রং-ই আসেনি, ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বেড়েছে। রং আর অভিনেতা-অভিনেত্রী পাল্টিয়েই ভালো সিনেমা নির্মান সম্ভব নয়, কারণ, ত্রিশ বছরে দর্শক পাল্টে গিয়েছে অনেক। বর্তমান সময়ের বেশীর ভাগ দর্শক দেবদাস বলতে ত্রিশ বছর আগের বুলবুল আহমেদকে বোঝেন না, তারা বোঝেন শতকোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত হিন্দী সিনেমা দেবদাসের শাহরুখ খানকে। সুতরাং, ত্রিশ বছর বাদে হিন্দী দেবদাসকে সামনে রেখে আবারও দেবদাস বানানোর ঝুঁকি মোটেই ছোট নয়, তবে আশার দিকও তো রয়েছে। ত্রিশ বছরে পরিচালকটিও তো বসে নেই, আরও ছবি বানিয়ে পরিপক্ক হয়েছেন , ফলে শুধু সাদাকালো দেবদাস নয়, নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ারও চ্যালেঞ্জ রয়েছে। কতটুকু সফল হলেন সে বিবেচনার জন্য সাদাকালো-রঙিন দু দেবদাসেরই প্রয়োজন।

রবিবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০১৩

নাস্তিকের জানাজা

মুফতি আমিনী ইন্তেকাল করলে আমরা বলি আলহামদুলিল্লাহ আর রাসূলুল্লাহ (স) কে নোংরা ভাষায় গালি দেয়া ভদ্রলোকের জানাজা পড়তে যাই অর্ধলক্ষ মানুষ। লিবারেল ইসলামের উদাহরণ এর চেয়ে ভালো আর কি হতে পারে। ফেসবুকের মুসলমানদের ইসলাম বোধের কাছে ওই সকল মোল্লাদের জ্ঞান-গরিমা তুচ্ছ - আরেকবার প্রমানিত হল। ধন্যি!

এর পরে যে বলবে বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িকতা আছে, তার পাছায় আগুন লাগায়া দেয়া উচিত।

শনিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০১৩

থাবাবাবার মৃত্যুর পর

১.
ব্লগার থাবা বাবাকে যারা হত্যা করেছে তারা ইসলামকে ভালোবেসে হত্যা করেছে এমন সিদ্ধান্তে আসার মত কোন ঘটনা বোধহয় ঘটে নি এখনো। সমগোত্রীয় বা ভিন্ন কোন ঘটনার কারণে আক্রমনের শিকার হওয়ার সম্ভাবনাও কম নয় যেহেতু ছবির হাটে ব্লগার আসিফ মহিউদ্দিনের উপর আক্রমনের ঘটনাও জানা আছে এবং তাকে কোপানোর ঘটনার জন্য কাউকে চিহ্নিত করা সম্ভব হয় নি।

ইসলাম বিদ্বেষীর সাথে শত্রুতা শুধু ইসলাম প্রেমিকের নয়। মানুষ হিসেবেও তার শত্রু থাকার সম্ভাবনা কম নয়!

২.
বাংলাদেশের পুলিশ বিভিন্ন সময়ে গুরুত্বপূর্ণ অপরাধী গ্রেফতারের মাধ্যমে তাদের যোগ্যতার পরিচয় দিয়েছে। থাবা বাবা হত্যার ঘটনায় তারা সাগর-রুনি হত্যার ঘটনার মত গোজামিলের আশ্রয় না নিয়ে এবং বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্য না দিয়ে সুস্পষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করে যোগ্যতার পরিচয় দিবে সেই কামনা করছি। থাবা বাবা হত্যার ঘটনায় জামাত-শিবিরের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণ শুধু যুদ্ধাপরাধীদের ফাসীর দাবীকেই নয়, জামাত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করার দাবীকে আরও জোরালো করবে। এই ইস্যুতে জনগন যেভাবে একত্রিত, সাগর-রুনি হত্যা সহ আর কোন ইস্যুতেই তেমন ছিল না। এই দাবী উপেক্ষা করা বোকামী হবে।

৩.
দৃষ্টি আকর্ষন করছি শাহবাগ আন্দোলনের লিডারশিপের প্রতিও। ব্লগার থাবা বাবার হত্যাকান্ডের বিরোধিতা করে শাহবাগের আন্দোলন জোরদার হবে, কিন্তু ব্লগার থাবা বাবার মৃতদেহকে শাহবাগে নিয়ে আসলে বা তাকে কেন্দ্র করে আন্দোলনকে জোরদার করার চেষ্টা করলে আন্দোলনকারীরা বিভক্ত হবে নিশ্চিত। রাসূল (স) এবং ইসলামকে ভালোবাসে এমন অনেকেই আন্দোলনে যোগদান করেছে। ব্লগার থাবা বাবার উপস্থিতির কারণে আন্দোলনে অংশগ্রহনকারীর সংখ্যা কমানোর মত কাজ বুদ্ধিমানের কাজ হবে না।

৪.
শাহবাগের অহিংস আন্দোলন সহিংসতার দিকে এবং নির্দলীয় আন্দোলন সর্বদলীয় আন্দোলনের দিকে টার্ন করছে। মনে রাখা প্রয়োজন - এদেশের বেশীরভাগ মানুষ সহিংসতা এবং পলিটিক্স পছন্দ করে না। আন্দোলনে সহিংসতার স্লোগান সম্পর্কে লেখক সাহিত্যিক আনিসুল হকের স্ট্যাটাসের সাথে একাত্মতা ঘোষনা করছি।

রবিবার, ৩ ফেব্রুয়ারী, ২০১৩

লেখালিখির অতীত ও বর্তমান


দশ বছর আগেও লেখা প্রকাশ করা বেশ কঠিন কাজ ছিল। লেখা প্রকাশ বলতে তখন দৈনিক-সাপ্তাহিক-মাসিক পত্রিকা, বিভিন্ন সাময়িকী, লিটল ম্যাগ-দেয়াল পত্রিকা ইত্যাদিতে সীমাবদ্ধ ছিল। লেখকের চেয়ে প্রকাশকের সংখ্যা কম হওয়ায় লেখা প্রকাশ হওয়া এবং করা -দুটোই খুব গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার ছিল। লেখা প্রকাশ করার দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিরা লেখার গুনগত মান বজায় রাখার ব্যাপারে মনযোগী হতেন, আবার লিখিয়েরাও লেখার সময় প্রকাশের শর্তাবলী মাথায় রেখেই ভালো লেখার চেষ্টা করতেন। যারা এই দুটোর কোনটাই করতে পারতেন না, তারা যা লিখতেন সেটা তাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখতেন। অবশ্য গাঁটের টাকা খরচ করে বই প্রকাশের চেষ্টা এখনকার মত তখনকার সময়েও ছিল।





এই পদ্ধতিতে লেখা তৈরী ও প্রকাশের বাইরে কারও কথা থাকতো না তা হতে পারে না। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই সব মানুষ যাদের পেটভর্তি কথা বুদবুদ ফোটায় তারা তাদের কথা প্রকাশের জন্য বেছে নিতেন 'টি-স্টল' বা 'চা-স্টল'। সাহিত্য বাদে বাকী বিষয়াদি বিশেষত সমকালীন রাজনৈতিক-আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে বিজ্ঞ মতামত প্রদর্শনের একটা চেষ্টা সকল চা-স্টলের সকল আড্ডার কারও না কারও মধ্যে থাকত। এই আড্ডার প্রধাণ আলোচক হয়তো সেই আড্ডার প্রধাণ শ্রোতা অথবা অমুক পত্রিকার তমুক কলামের নিয়মিত পাঠক - দুজনের মিশ্রিত মতামতের প্রকাশ আড্ডার অন্যান্য আলোচক-শ্রোতাদের মুগ্ধ করতো, আলোচকের জ্ঞান-গরিমার প্রতি শ্রদ্ধায় নত হতে উৎসাহিত করত। এ ধরনের আলোচনায় ফলাফল কতটুকু হত সেটা ভিন্ন প্রসঙ্গ, কিন্তু এই সকল মতামতের বেশীরভাগই যে প্রাসঙ্গিক তথ্য-প্রমাণবিহীন সেটা বলা যায়। স্বল্পজ্ঞানোৎসারিত এ সকল বক্তব্য একদিক থেকে ভয়ংকর, কারণ তা শ্রোতাকে বিভ্রান্ত করে।





দশ বছর পরে লেখা প্রকাশের সুযোগ সীমাহীন। ওয়েবজগতে ব্লগ আর অনলাইন পত্রিকা লেখা প্রকাশের বিশাল সুযোগ করে দিয়েছে। আমার লেখা কেউ ছাপায় না দেখে আমিই আমার ব্লগে ছাইপাশ ছাপাই - দশ বছর আগে এ জন্য আমাকে গাঁটের টাকা খরচ করে বই ছাপাতে হত - সেদিক থেকে রক্ষা। আবার, কেউ ভালো লিখতে পারলেও খ্যাত ব্যক্তিত্ব না হওয়ার কারণে যথোপযুক্ত জায়গায় লেখা প্রকাশ করতে পারছেন না - এরকম লেখকের সংখ্যাও কম নয়। এ ধরনের লেখকদের জন্য ফেসবুক-ব্লগ বেশ গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করছে। তা সত্ত্বেও, সে যুগের চা-স্টল এখনও চালু আছে, কিন্তু টেকনলজির কল্যাণে তা ঢুকে গেছে হাতের মোবাইল বা টেবিলের কম্পিউটারে। ফলে 'ওপিনিয়ন প্রোভাইডার'এর সংখ্যা এখন বেড়ে গেছে অনেক বেশী পরিমানে। পর্যাপ্ত জ্ঞান ও চিন্তা-ভাবনার অভাবে সৃষ্ট বিভিন্ন মন্তব্য স্ট্যাটাস হিসেবে ছড়িয়ে পড়ছে শত শত মানুষের মাঝে। এটা ভয়ংকর, দশ বছর আগেরকার চা-স্টলের মন্তব্যের তুলনায়ও বেশী ভয়ংকর।





পড়াশোনা আর চিন্তা-ভাবনার কোন বিকল্প নাই।


শুক্রবার, ১ ফেব্রুয়ারী, ২০১৩

পিপড়াক্রমণ

ফ্রেন্ডলিস্টের বন্ধুগন, বিপদে আছি, সাহায্য করুন।
গত তিনদিন ধরে রাজ্যের যত পিপড়া সারি ধরে কিবোর্ডের তার বেয়ে ঢুকে পড়ছে কিবোর্ডের ভেতরে। ভেতরে কি কোন বার্ষিক সম্মেলন হচ্ছে কিনা বুঝতে পারছি না। আমি আমার পুলিশ বাহিনী দিয়ে নির্বিচারে পিপড়া-হত্যা করেছি, বায়ূ-কামান দিয়ে উড়িয়ে দিয়েছি তারও বেশী - কিন্তু এদের থামানো যাচ্ছে না কোনভাবেই। মাঝে মধ্যে দুএকটা উছৃঙ্খল পিপড়া যে চোরাগোপ্তা আক্রমণ করছে না তা নয়, তবে তা উপেক্ষা করলেও এই গনজমায়েতকে উপেক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না। এরা কি হবে দারাশিকো-র পতনের জন্য সমাবেশ করছে? থামিয়ে দিতে চায় তার কিবোর্ড? আপনাদের 'বৈদেশিক হস্তক্ষেপ' ছাড়া কোন সমাধান পাচ্ছি না - অবিলম্বে বুদ্ধি-পরামর্শ দিয়ে সাহায্য করুন।
আমি অসহায় :( :(