শুক্রবার, ২৫ জানুয়ারী, ২০১৩

টেলিভিশন: কল্পনার ঘোড়দৌড়

220px-Television_Film_Posterসাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের সবচে আলোচিত চলচ্চিত্রের নাম 'টেলিভিশন'। মোস্তফা সরোয়ার ফারুকীর পরিচালনায় নির্মিত এই চলচ্চিত্র বাংলাদেশে মুক্তির আগেই বারবার আলোচনায় এসেছে - বিশেষ করে চিত্রনাট্য তৈরী এবং সম্পাদনার জন্য 'এশিয়ান সিনেমা ফান্ড' প্রাপ্তি এবং এশিয়ার সেরা 'পুসান চলচ্চিত্র উৎসব'-এর সমাপনী দিনে 'টেলিভিশন' সিনেমার প্রদর্শনী বাংলাদেশকে বিশ্বের কাছে আবারও তুলে ধরেছে। এছাড়াও মোস্তফা সরোয়ার ফারুকীর নাটক ও বিজ্ঞাপনে অভ্যস্ত দর্শকবৃন্দ এই মুভিটির জন্য প্রতীক্ষা করেছে দীর্ঘদিন। সকল প্রতিক্ষার অবসান ঘটিয়ে মুক্তি পেল চলচ্চিত্রটি - এখন থেকে সিনেমাহলে চলবে 'টেলিভিশন'।

বুধবার, ২৩ জানুয়ারী, ২০১৩

Yol: কুর্দি সিনেমা


yol_poster




একটি খুব ভালো সিনেমা দেখে উঠার পর সিনেমাটা সম্পর্কে জানার আগ্রহে আপনি যদি উইকিপিডিয়ায় ঢুঁ মারেন এবং জানতে পারেন, সিনেমাটির নির্মানের তিনভাগের দুভাগ সময়ই পরিচালক জেলে বন্দী ছিলেন, শ্যুটিং এর পুরো দৃশ্যটা তাকে দেখতে হয়েছে অন্যের চোখে, তখন আপনার কেমন লাগবে? বিস্মিত আমি হতভম্ব হলাম যখন জানলাম সিনেমাটা এমন এক দেশে নির্মিত যে দেশের সিনেমা নিয়ে সাধারণত কেউ কথা বলে না। সিনেমার নাম Yol, ইংরেজিতে বলে 'দ্য রোড'। দেশের নাম তুরস্ক, পরিচালক ইলমাজ গুনে (Yılmaz Güney)।





মুর্গীর হাগ অ্যাটাক

কাক-চড়ুইয়ের হাগ-অ্যাটাক নতুন কোন ঘটনা নয়। আজ জনৈক মুরগী নিখুঁত টার্গেটে পেটভর্তি হাগস আমার গায়ের চাদরে সফল উৎক্ষেপন চালিয়েছে। বিরল এই দৃশ্য চাক্ষুষ করার জন্য আমি মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না।

অনুসিদ্ধান্ত:
হাতির আশে পাশে যাওয়া যাবে না :/

রবিবার, ২০ জানুয়ারী, ২০১৩

কামরুজ্জামান ভাই






খুবই কম বাজেটে যদি একটি সিনেমা বানাতে হয়, তবে একজন নিজস্ব ক্যামেরাম্যান থাকা চাই - এটা আমার মনে গেঁথে যাওয়ার পর থেকেই আমি একজনকে খুজে বেড়াচ্ছি যে হবে একজন ভালো সিনেমাটোগ্রাফার এবং আমার ও বন্ধুদের চিন্তাভাবনা পড়ার যোগ্য - কামরুজ্জামান ভাই সেই লোক।





গ্রীন ইউনিভার্সিটিতে ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজের ছাত্র তিনি, বাড়ি সাতক্ষীরা। দুর্ভাগ্যক্রমে উনি যখন আমাদের নিয়মিত আড্ডায় যোগ দিলেন, তখন আমি বের হয়ে এসেছি - মাঝে মধ্যে যাই। কামরুজ্জামান ভাই লাইট-ক্যামেরা ইত্যাদি সম্পর্কে আমার তুলনায় অবশ্যই ভালো জানেন কিন্তু আমাকে সেটা বুঝতে দেন নি কখনো। সিনেমাটোগ্রাফার রাশেদ জামান এর সাথে সহকারী হিসেবে কাজ করা শুরু করেছেন - এই খবর আমাদের জন্য অনেক বেশী প্রেরণাদায়ক। বলা যায় এসব কারণেই ক্যামেরা সংক্রান্ত কিছু হলেই কামরুজ্জামান ভাইয়ের খোঁজ পড়ত। মেজ ভাইয়ের জন্য ডিএসএলআর কেনা হবে - কামরুজ্জামান ভাই তখন অসুস্থ্য, সাতক্ষীরায় - পরামর্শ দিয়ে দিলেন। গত অক্টোবরে একটা শর্ট ফিল্ম শ্যূট করা হবে বলে ওয়াইড লেন্স দরকার - কামরুজ্জামান ভাইকে ফোন - তিনি ইন্ডিয়া থেকে ফিরে এসেছেন - ফোনেই নির্দেশনা দিয়ে দিলেন।





কামরুজ্জামান ভাইকে সাথে নিয়ে আমি মাত্র একটা কাজ করেছি। একটা কর্পোরেট ডকিউমেন্টারী - গত বছর রমজানে। তারপর আরও কয়েকবার পরিকল্পনা হয়েছে - কাজ হয় নি। ছবিটা গত ২৫ ডিসেম্বর তারিখে তোলা, পেছনে ডিএমসি-র বিল্ডিং দেখা যায়। স্মার্ট লোক।





আমাদের সিনেমাটোগ্রাফার কামরুজ্জামান ভাইয়ের সাথে আর কখনো কাজ করা হবে না। গতকাল রাত সাড়ে ন'টায় তিনি জান্নাতের পথে রওয়ানা হয়ে গেছেন। বলে গেছেন, দেখা হবে।


শনিবার, ১৯ জানুয়ারী, ২০১৩

প্রচার করো, যদি একটিমাত্র আয়াতও হয়!

১.
সপ্তাহ দুয়েক আগে আমার খালাতো বোন ফোন দিল। 'ভাইয়া?'
'হু?'
'আমাকে একটা বই কিনে দিবা? হযরত আয়েশা (রা)? ... ... ১৮ তারিখ আমার জন্মদিন। তুমি কিন্তু অবশ্যই আসবা।'
হযরত আয়েশা (রা) এর বই পাওয়া গেল না। যেটা পেলাম সেটা প্রায় ৪০০ পৃষ্ঠার। ভেতরে তাঁর বর্ণিত হাদীসের আরবীটাও আছে। আমি ইকবাল কবির মোহনের দুটো বই কিনে ফেললাম। 'গল্পে হযরত মোহাম্মদ (স)' এবং 'গল্পে হযরত উমর (রা)'। সেই বই ছোটদের জন্য লেখা - প্রথম পৃষ্ঠায় অন্যান্য শব্দের মধ্যে রয়েছে -'রত্নগর্ভা মা'। দশ পূর্ণ করা আমার বোন সেই শব্দের মানে বোঝে না।

২.
'... বললেন না?'
রাজারবাগ দিয়ে মালিবাগের দিকে যাচ্ছি। শব্দদুটো শুনে তাকালাম। একজন রিকশাওয়ালা - যাত্রীর সাথে গল্প করছেন।
'মরবেন না? মরার পর আল্লাহ জিগাবে না যে তোমারে যে এত ধন-সম্পত্তি দিলাম, তুমি কি করলা? জিগাবে না? জিগাবে না?'
যাত্রী দুজন। মহিলা। তারা সম্ভবত 'হু' শব্দে উত্তর দিল। 'যাগো জন্য বাড়ি-ঘর করলেন। মরার পর কেউ থাকবে না।'
একজন রিকশাওয়ালা ইসলামের দাওয়াত পৌছে দিচ্ছেন যাত্রীদের কাছে - চমৎকার দৃশ্য।

৩.
বুয়েটে সিনেমাটোগ্রাফির উপর একটা ওয়ার্কশপে অ্যাটেন্ড করেছিলাম বছর দুয়েক আগে। সিনেমাটোগ্রাফার রাশেদ জামান কোর্স পরিচালনা করবেন। ওয়ার্কশপের শুরুতেই 'কেন এই কোর্স' ব্যাখ্যা করার জন্য তিনি পকেট হাতরে একটুকরা কাগজ বের করলেন। 'এখানে আসার আগে আমার বন্ধুকে ফোন দিয়ে জেনে নিয়েছি এটা।' তারপর কাগজে লেখাটি তিনি ভেঙ্গে ভেঙ্গে পড়ে শোনালেন - 'বাল্লিগু আন্নি ওয়ালাও আয়াতান'।

৪.
"প্রচার করো , যদি একটিমাত্র আয়াতও হয় ” [ সহীহ বুখারি ৩৪৬১]

বৃহস্পতিবার, ১৭ জানুয়ারী, ২০১৩

জ্বর হবার আগে জ্বরের গল্প

২০১০ এর আগস্ট মাসের কথা। 
একটা বিল্ডিং এর ছাদে এক ছোট রুমে আমরা তিনজন থাকি। ক্লাস শেষ, র‌্যাগ ডে হয়ে যাওয়ার পরই পরীক্ষা শুরু হবে - এমন সময় আমার জ্বর এল। 

জ্বরের ঘটনাটা খুলে বলি। হাবিজাবি ভাজাপোড়া কিছু খাওয়ার ফলে পেটে গ্যাস ফর্ম করেছে (অ্যাসিডিটি)। কেমন দম আটকে থাকা অবস্থা। মাঝে মাঝে এরকম হয় - অ্যাসিডিটির ট্যাবলেটে কাজ হয় না। তখন অপেক্ষা করতে হয়। দুভাবে এ অবস্থা থেকে মুক্তি ঘটে। এক, অ্যাসিডিটি ডিসেন্ট্রির দিকে টার্ন করে দিন দুই-তিন ঘর-টয়লেট-ঘর করার মাধ্যমে ঠিক হয়ে যায়। দুই, বমি হয়ে জ্বর এসে দিন তিনেক ভুগিয়ে তারপর সুস্থ্য। দ্বিতীয়টা পছন্দনীয়, কিন্তু সামনে পরীক্ষা থাকার কারণে প্রথম পদ্ধতিতে মুক্তির জন্য দোয়া করছিলাম। পাপীর দোয়া! উল্টো ফল হল। বমি হয়ে জ্বর চলে আসল। কিন্তু তিনদিন পর বিদায় নিল না।

সে এক অদ্ভুত অবস্থা। জ্বর বাড়লে একশ চার, কমলে একশ দেড়-দুই। এর নিচে আর নামে না। রুমমেটরা সকালে বের হয়ে যায়, আমি সারাদিন একা রুমে শুয়ে থাকি। মাঝে মাঝে বাথরুমে গিয়ে গা মুছে আসি, মাথায় পানি দিই, ফোনে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী অষুধ খাই - কিন্তু কোন লাভ হয় না। সাতদিন যাওয়ার পর অবস্থার উন্নতি হল। জ্বর একশ চারে গিয়ে স্থির হল - নামা নামি নাই। অষুধ খাই, ঘাম দেয়, শরীরের খাতা কম্বল ফেলে দিতে হয়। অনেক আগ্রহ নিয়ে জ্বর মাপি - ১০৪। যখন খুব কাপুনি হয়, তখন ভাবি এবার নিশ্চয়ই ১০৫ পার হয়ে যাচ্ছে - উহু। সেই ১০৪।

জ্বর যদিও একশ চার, তাতে আমার শরীরের খুব প্রভাব পড়ে নি। আমি জ্বরের ঘোরে অচেতন হই না, প্রলাপ বকি না - লোকজন দেখতে আসে প্রতিদিন, তাদের সাথে হাসিমুখে কথা বলি, শুয়ে শুয়ে কানে হেডফোন দিয়ে সিনেমা দেখি অল্প অল্প করে। যখন এসবও বিরক্ত লাগে, তখন হাতের কাছে থাকা একটা আবৃত্তি কবিতার সংকলন তুলে নেই - তারপর কবিতা পড়ি শব্দ করে। নির্মলেন্দু গুন,সুনীল গাঙ্গুলী, তসলিমা নাসরীন, রুদ্র শহীদুল্লাহ, হুমায়ূন আজাদ। 'তোমার চোখ এত লাল কেন' - এই কবিতাটা তখন আমার মাথায় ঢুকে গেল। একা একা জ্বরে ভুগছি - আর নির্মলেন্দু গুন সেটা জানতে পেরে আমার জন্য একটা কবিতা লিখে দিয়েছে - ব্যাপারটাই অন্যরকম। যারা দেখতে আসে তাদেরকে বসিয়ে আমি আমার জন্য লেখা গুণ সাহেবের কবিতাটা পড়ে শোনাই। 

এর মাঝে খবর পেলাম ব্লগার ইশতিয়াক জিকো'র শর্ট ফিল্ম '৭২০ ডিগ্রি' বার্লিন উৎসবে দেখানোর জন্য মনোনীত হয়েছে। খুবই আনন্দের সংবাদ। আমি উঠে বসে একটা সংক্ষেপে পোস্ট লিখে ফেললাম - কনগ্রাচুলেশন পোস্ট: ইশতিয়াক জিকো এবং তার ৭২০ ডিগ্রি।

সপ্তাহ দেড়েক যাবার পর হাসপাতালে গেলাম স্পেশালিস্ট দেখাবার জন্য। ভদ্রলোক আমাকে দু ধরনের টেস্ট দিলেন - ব্লাড এবং ইউরিন। দ্বিতীয়টায় আমার কোন আপত্তি নেই, কিন্তু প্রথমটার কারনে আমার হৃদপিন্ড আলজিহ্বার কাছাকাছি চলে এল। সিস্টার ভদ্রমহিলা আমার হাতে শুই ঢোকাবেন, আর আমি মনযোগ সরিয়ে রাখার জন্য এক পিচ্চির সাথে দুষ্টামি করছি। কিন্তু কোথায় কি! ভদ্রমহিলা দুই সিরিঞ্জ ব্লাড নিয়ে নিলেন - সর্বোনাশ, এখন যদি আমাকেই ব্লাড দেয়া লাগে? ডোনার পাওয়া যাবে তো?

ডাক্তার ধারনা করছিলেন জন্ডিস। উহু, তা নয়। বাঁচা গেল। তাহলে কি টাইফয়েড? এইবার আমার সত্যিই ভয় লেগে গেল। আমার মেজ ভাইয়ের এসএসসি পরীক্ষার পর তিনমাস টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়ে বিতিকিচ্ছিরি অবস্থা। মুহতারাম আজরাইল আসেন আর যান। আমার বেলায় আসলে প্রথমবারেই নিয়ে যাবেন - এই টেনশনে আমার অবস্থা খারাপ। কিন্তু টাইফয়েডও ধরা পড়ল না - সাধারণ জ্বর।

আমার অসুস্থ্যতার খবর শুনে আব্বা চলে এলেন ঢাকায়। আমি চোখ বন্ধ করে শুয়ে আছি, আব্বা কপালে হাত রাখলেন। আমি চোখ খুলে বললাম - 'আব্বা আসসালামুয়ালাইকুম। কেমন আছেন?' আব্বা মাত্র একদিন ছিলেন, কিন্তু তিনি দুটো কাজ করেছিলেন। এক, আমাকে একরুমের ঘর থেকে আমার খালার বাসায় যেতে বাধ্য করলেন এবং, দুই, কপালে হাত দিয়ে আমাকে সুস্থ্যতার দিকে ফিরিয়ে নিলেন। আমার জ্বর ১০৪ থেকে ১০১-এ নামল।

মোট বাইশ দিন বিছানায় শুয়ে ছিলাম। এর মাঝে পরীক্ষা শুরু হয়ে গেছে, আমি অ্যাটেন্ড করে ফেল ঠেকিয়েছি। খালার বাসায় মোটামুটি পিকনিক পরিবেশে জ্বরের শেষ কটা দিন কাটালাম। খালু প্রতিদিনই নানা রকম ফলমূল নিয়ে আসেন, পিচ্চি খালাতো বোনটা নানা স্টাইলে আমার সাথে খেলে। আমার উপর দিয়ে ডিগবাজি খেয়ে একবার বিছানায় ওঠা আরেকবার বিছানা থেকে নামা তার মধ্যে একটি। 

আড়াই বছর বাদে আবারও জ্বর সাহেব ফিরে এসেছেন। দশ মিনিটের ব্যবধানে ১০০ থেকে ১০১-এ পৌছেছে তাপমাত্রা। আমি যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহন করার চেষ্টা করেছি - থার্মোমিটার জোগাড় হয়েছে, ট্যাবলেট বের করে হাতের নাগালে রাখা হয়েছে, বালিশের পাশে বই মজুদ করা হয়েছে, রুমমেটকে প্রাথমিক নির্দেশনা দেয়া হয়েছে - বাকী ছিল এই স্ট্যাটাস। ফেসবুকে যারা লিখেন তারাও লেখক এবং লেখকদের একটা সমস্যা হল - মাথায় কিছু ঢুকে পড়লে সেটা না নামানো পর্যন্ত কষ্টে থাকেন। আমি স্ট্যাটাসটা নামালাম, আশা করছি জ্বরটাও আগামীকাল সকালে নেমে যাবে।

আলবিদা!

সোমবার, ১৪ জানুয়ারী, ২০১৩

স্বচ্ছ পোষাকের নারী

মেয়েটা টপটেন টেইলারিং শপের সামনে চেয়ারে বসে অপেক্ষা করছিল। তার বয়ফ্রেন্ড স্যুট বানাবার জন্য মাপ দেয়ার লাইনে দাড়িয়েছে। তিনজন টেইলার মাপ নিচ্ছে, লিখছে একজন। শুক্রবার বিকেল বলেই বোধহয় ভিড় একটু বেশী। লোকে যাচ্ছে-আসছে। আড়চোখে, সরাসরি, পিছু ফিরে তাকাচ্ছে মেয়েটার দিকে। সে উপেক্ষা করে যাচ্ছে। মাঝে মাঝে হাতের টাচস্ক্রিন মোবাইল ফোনটি আঙ্গুলের কোমল স্পর্শে জীবন্ত করে তুলছিল।

যে ছেলেটা টেবিলের পেছনে বসে শার্ট-প্যান্টের মাপ নিচ্ছে সেও কিছুক্ষন পর পর মেয়েটার দিকে তাকাচ্ছে। চোখাচোখি হচ্ছে না বটে, কিন্তু সে টের পাচ্ছে তার দৃষ্টি। বামদিকে যে ছেলেটার মাপ নেয়া হচ্ছে সে যে একটু পর পর তার দিকে তাকাচ্ছে সেটাও বুঝতে পারছে সে। এই ছেলেটাও তার চোখে তাকাচ্ছে না। মেয়েটা ছেলেটার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকল। ছেলেটার চোখে চোখ রাখতে পারলেই বুঝিয়ে দেয়া যাবে - তার দৃষ্টি কোথায় তা সে টের পাচ্ছে। কিন্তু চোখে চোখ মিলছিল না। ছেলেটার মাপ নেয়া শেষ পর্যায়ে, তার পকেটের ডিজাইন, হাতার কাট কি হবে তা নিয়ে কথা বলছে। মেয়েটা তাকিয়েই আছে, সে জানে ছেলেটা আবারও তাকাবে তার দিকে। এবং তাকালো। এইবার চোখে চোখ। মেয়েটা তীব্র দৃষ্টি হানল ছেলেটার চোখে। ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে ছেলেটা নির্বোধের মত দাঁত দেখিয়ে অশ্লীল হাসল - হে হে হে। তারপর হাসিমুখেই বলল - স-ব দেখা যায়!

এতগুলো চোখের সামনে হঠাৎ-ই স্বচ্ছ কাপড়ে উলঙ্গতা প্রকাশ পেয়ে যাওয়ায় তার মাটিতে মিশে যেতে ইচ্ছে করতে লাগল।

শুক্রবার, ১১ জানুয়ারী, ২০১৩

২০১৩: আশার বছর, আশঙ্কার বছর

575371_310015529067395_609275428_n

২০১৩ সাল চলে এসেছে দশ দিন হয়ে গেল। ২০১২ সাল নানা ঘটনার মাধ্যমে দেশের বঞ্চিত দর্শকশ্রেণীকে কিছু আশার আলো দেখিয়েছে। বিশেষ করে, ডিসেম্বর মাসের তৃতীয় সপ্তাহে চোরাবালি-র মুক্তি অনেক দর্শককে আবারও হলে নিয়ে গিয়েছে, এদের বিশাল একটা অংশ হল তরুন সমাজ, যারা ছোট স্ক্রিনে ভিনদেশী সিনেমা দেখে অভ্যস্ত। বছরে একবার সিনেমা হলে গেলেই সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি পাল্টে যাবে না, এই দর্শককে বারবার সিনেমা হলে নিয়ে যেতে তো হবেই, পাশাপাশি আরও দর্শক যারা দীর্ঘদিন যাচ্ছেন না, বা কখনোই যান নি তাদেরও নিয়ে যেতে পারলেই দেশের চলচ্চিত্র শিল্প ঘুরে দাড়াতে পারে, লোকসানি একটি প্রতিষ্ঠান এফডিসি হয়তো লাভের মুখ দেখাবে তখন। দর্শককে হলে নিয়ে যাওয়ার একটাই উপায়- সেটা হল সিনেমা। বছরের একদম শুরুতেই তাই দেখা যাক - কি কি সিনেমা আসার সম্ভাবনা আছে এ বছরে এবং তা দর্শককে সত্যিই হলে নিয়ে যেতে পারবে কিনা।

বৃহস্পতিবার, ১০ জানুয়ারী, ২০১৩

যে দেশের মানুষ আশায় বসতি গড়ে


রিলিফ দেয়া হবে এই খবর শুনে আঙ্গরপোতা ছিটমহলে বিডিআর ক্যাম্পে এসেছেন তিনি। ভালো আছেন? শুনতে কষ্ট হয় বোধহয়, উত্তর দেয় না, এদিক ওদিক তাকায়। একটা লাঠি আছে তার, কিন্তু শরীরে সেই শক্তি নেই যা লাঠিকে শক্ত করে ধরতে পারে। কত পৌষ-মাঘ পার করেছেন তিনি, এই শীত কি পার করতে পারবেন? এই কম্বলটি কি তার বয়সের ভারে নুয়ে পড়া দুর্বল কড়মড়ে হাড়কে ঠান্ডা থেকে রক্ষা করতে পারবে।

পারবে। এইটাই বাংলাদেশ। এর মাঝেই এই দেশের মানুষ আশায় বসতি গড়ে।

বুধবার, ৯ জানুয়ারী, ২০১৩

নাচতে নেমে ঘোমটা টানা

আইটেম গানে অংশ নিতে নানাবিধ শর্ত জুড়ে দিয়েছেন প্রিয়াংকা চোপড়া। ঘনিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আইটেম গানটি যাতে কোনোভাবেই অশ্লীল হতে না পারে, সেজন্যই এমন কঠোর অবস্থান নিয়েছেন প্রিয়াংকা। কারণ সম্প্রতি দিল্লিতে শিক্ষার্থী ধর্ষণের ঘটনার পর অনেকে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন বলিউডের ছবির এসব আইটেম গানের দিকে। (সূত্র: প্রথমআলো)
নাচতে নেমে ঘোমটা টানা বলতে কি বুঝায় এদ্দিনে বুঝলাম :/

শনিবার, ৫ জানুয়ারী, ২০১৩

ইমন জুবায়ের স্মরণে

নীরবে-নিভৃতে যে লোকটি লিখতেন, যিনি 'নারীরা পুরুষকে পাল্টে দিতে চায়' বলে বিয়েই করলেন না - পড়লেন, পড়লেন আর লিখলেন - সেই মানুষটি আজ চলে গেলেন। যাওয়ার মাধ্যমে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে গেলেন -

একদিন ব্লগার দারাশিকো হুট করে মারা যাবেন।
সেদিন দারাশিকো'র পাঠক-বন্ধুরা প্রোফাইলে কালো ছবি লাগাবেন, স্মৃতি স্মরণ করে শোক সন্তপ্ত স্ট্যাটাস দিবেন, পুরানো লেখা শেয়ার করবেন, সামু ব্লগে 'শোক বার্তা' জানানো হবে।
অল্প কিছু মানুষ দারাশিকো'র মৃত্যু সংবাদে স্ট্যাটাসে 'ইন্না লিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজিউন' লিখবেন, অল্প কিছু মানুষ তার জানাযায় যোগ দিবেন, আর হাতে গোনা কিছু মানুষ তার কবর জিয়ারত করে মৃত দারাশিকো'র হয়ে মহান রাব্বুল আলামীনের কাছে ক্ষমা চাইবেন।

সময় গেলে সাধন হবে না, দারাশিকো! সময় গেলে সাধন হবে না ব্লগার-পাঠক বন্ধুরা!!
"

বৃহস্পতিবার, ৩ জানুয়ারী, ২০১৩

মেয়েদের সাইক্লিং


 
বাচ্চাকালে যেখানে থাকতাম সেখানে যে মেয়েটা সাইকেল চালাতো তার বাবা বেশ বড় অফিসার এবং পয়সাওয়ালা। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে গিয়ে আরও বেশ কিছু সাইকেল চালানো মেয়ে দেখেছি। এদের বেশীরভাগই বিভিন্ন এনজিও-র কর্মী, এ জায়গা থেকে সে জায়গায় টাকা কালেকশনের জন্য ছুটে বেড়ায় তারা। রংপুর শহর থেকে লালমনিরহাট ঘুরে ঠাকুরগাঁও এর দিকে যেতেই সাইকেল চালানো মেয়েদের সংখ্যা বাড়তে লাগল। প্রথমে ভাবলাম এরাও বিভিন্ন এনজিও-র কর্মী। কিন্তু না, ঠাকুরগাঁও শহরে পৌছার পর ভুল ভাংল। সব রাস্তায় সাইকেল চালিয়ে যাচ্ছে প্রচুর মেয়ে। এদের বয়স বারো তেরো থেকে শুরু করে পয়ত্রিশ-সাইত্রিশ পর্যন্ত। তাদের সাইকেল আধুনিক কিছু না, বরং বেশ পুরানো এবং বাঁকা হাতলের। এই মেয়েদের কেউ-ই স্বচ্ছল না, ওই অঞ্চলে সাইকেল বেশ গুরুত্বপূর্ন বাহন। সাইকেলে চড়ে মেয়েরা স্কুলে যায়, স্কুল থেকে ফিরে আবার প্রাইভেট পড়তে যায়, অফিস বা কর্মস্থলে যায়। এই সাইকেল চালকিনীদের যে বিষয়টা সবচে ভালো লাগল, সাইকেল চালাতে গিয়ে তাদের কেউই জিন্সপ্যান্ট পড়ে নি, শর্ট কামিজ বা টি-শার্ট পড়ে নি, সালোয়ার কামিজের সাথে চাদরের হিজাব, কেউ কেউ নিকাবে।


রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলায় মেয়েদের সাইকেল চালানোর এই দৃশ্য ঢাকা শহর সহ সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে - এই স্বপ্ন দেখি।