মঙ্গলবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৩

মৃত্যুপথযাত্রী সুচিত্রা সেন

"আকাশ থেকে নেমে এল ছোট্ট একটি প্লেন
সেই প্লেনে বসা ছিল ছোট্ট একটি মেম
সেই মেমকে জিজ্ঞেস করলাম হোয়াট ইজ ইওর নেম?
মেম আমাকে উত্তর দিলো, মাই নেম ইজ সুচিত্রা সেন।"

এই ছড়াটি আমি বা আমাদের জেনারেশন তৈরী করেনি, তৈরী করেছিল তারা যারা সুচিত্রা সেনকে তাদের নিজেদের নায়িকা বানিয়ে নিয়েছিল। ছোট্ট মেম সুচিত্রা সেন এখন মৃত্যুশয্যায়। অবশ্য চিত্রনায়িকা সুচিত্রা সেনের মৃত্যু হয়েছে অনেক আগেই, যখন থেকে তিনি লোকচক্ষুর অন্তরালে চলে গিয়েছিলেন। এখনো আছেন অন্তরালে - যে হাসপাতালে চিকিৎসা হচ্ছে তার রেজিস্ট্রারে নাম পর্যন্ত নেই, ভালো মন্দের খবর পাওয়া যাচ্ছে অনিয়মিতভাবে। কিন্তু বেঁচে আছেন ব্যক্তি সুচিত্রা সেন, চিত্রনায়িকা সুচিত্রার চেহারা নিয়ে যিনি বারবার সংবাদপত্রের শিরোনাম হন। ব্যক্তি সুচিত্রা সেনের জন্য শুভকামনা - সুস্থ্য হয়ে উঠুন কিংবা শান্তিতে ফিরে যান। ছোট্ট মেম চিত্রনায়িকা সুচিত্রা সেন হয়ে বেঁচে থাকুন আমাদের প্রত্যেকের মৃত্যু পর্যন্ত।

রবিবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০১৩

বিয়ে প্রসঙ্গে আব্বার সাথে

আব্বার সাথে আমার ফোনে কথোপকথন।
আমি: বাসায় আম্মা একদম একা। কেউ একজন আম্মার সাথে থাকলে ভালো হত। আপনি কাউকে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন না!
আব্বা: হ্যা.. ঢাকা থেকে একটা বউ আনতে পারলে তো কিছুদিন তোমার আম্মার সাথে থাকতে পারতো।
আমি: কিন্তু এই বয়সে আপনার বিয়া করা কি ঠিক হবে

টিভি সিরিয়াল

টিভি সিরিয়াল দেখা আমার কাছে 'সিরিয়াস-পেইন' হিসেবে গন্য।

মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর টিভি সিরিয়াল '৪২০' এর সবগুলো পর্ব, সম্ভবত ৩৫টি' তিনদিনে দেখেছিলাম। অবস্থা এতটাই খারাপ হয়েছিল যে রাতে ঘুমের মধ্যেও কয়েকটা এপিসোড দেখেছি - উল্টা পাল্টা অবস্থায়। চিন্তা-ভাবনা সব কিছু গ্রাস করে ফেলেছিল ওই টিভি সিরিজ।

প্রিজন ব্রেক দেখিনি শুনে আমার জীবন যে কতবার 'ষোলআনাই বৃথা' হয়েছে - গুনতে চেষ্টা করিনি। ঘ্যানঘ্যানানি বন্ধ করতে প্রিজন ব্রেকের প্রথম সিজন দেখে ফেললাম - টানটানে উত্তেজনার ছবি কিন্তু রবারের মত ইলাস্টিক - অনর্থক ৬/৭টা পর্ব বাড়িয়ে লম্বা করা হয়েছে। বিরক্ত হয়ে সিজন ওয়ান শেষ করার পরপরই উইকিপিডিয়ায় গিয়ে সিজন টু আর থ্রি-র স্টোরি পড়ে ফেললাম - ব্যাস, প্রিজন ব্রেক দেখার পেইন আর নিতে হবে না।

ব্রেকিং ব্যাড নিয়ে হোমপেজ আর কান ভর্তি হয়ে থাকলেও মগজ পর্যন্ত পৌছাতে দেই নি সেদিন পর্যন্ত যেদিন নাফিস ভাই রিকমেন্ড করলেন। সেই রাতেই ডাউনলোড করে দেখা শুরু করলাম। বিরাট ভুল ডিসিশান! সব টিভি সিরিজ এক সিজনে একটা গল্প বলে - আর ব্রেকিং ব্যাড পাঁচ সিজন মিলিয়ে একটা গল্প!! গত দেড়মাস ধরে যেখানেই সময় পেয়েছি - অফিসে, গাড়িতে, ফুটপাথে, টয়লেটে, ঘুমাতে যাওয়ার আগে, ঘুম থেকে উঠার পরে - মোবাইলে এই সিরিজ দেখেছি। শেষ করতে না পারলে অন্য কিছু করাও যাচ্ছিল না।

এই সিরিজের মুন্সিয়ানা হল এর গল্পে। এত দারুনভাবে গিট্টু লাগিয়ে আবার খুলেছেন লেখকরা - স্যালুট! পুরো গল্পে একটা মাত্র ত্রুটি চোখে পড়ল - জেন চরিত্রের সমাপ্তি। লেখকরা ওই একটি জায়গায় গিট্টু খুলতে ব্যার্থ হয়েছিলেন - ফলে জোর করে তাকে ওই সমাপ্তিতে পৌছে দিয়েছেন। আর প্রধান দুই নারী চরিত্র - স্কাইলার এবং মেরি - এই দুই চরিত্র না থাকলে কি লেখকরা এত জটিল গল্প তৈরী করতে পারতেন? কিউরিয়াস মাইন্ড ওয়ান্টস টু নো - এ দুইজন নারীচরিত্রের চিত্রায়ন দেখে নারীবাদীরা কিছু বলেন নি?

গতকাল সকালে ব্রেকিং ব্যাড এর পূর্ণ সমাপ্তি ঘটল। আই অ্যাম আ ফ্রি বার্ড নাউ - উড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছি! নতুন কোন টিভি সিরিয়াল দেখার সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে একশবার চিন্তা করতে হবে - পেইনমুক্ত জীবন নিশ্চিত করার দায়িত্ব আমারই। কানে গুঁজলাম তুলো - ছোট্ট ফাঁকা থাকবে, সেখান দিয়ে সামান্য শব্দ প্রবেশ করতে পারবে। কারণ 'শার্লক' এর পরের সিজন নাকি খুব শীঘ্রই মুক্তি পাচ্ছে।

এই একটা টিভি সিরিজের জন্য বছরখানেক অপেক্ষা করা কোন ব্যাপারই না। ওয়েল্কাম্ব্যাক শার্লক!

শনিবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০১৩

নির্বুদ্ধিতার উদাহরণ

প্রশ্ন: নির্বুদ্ধিতার উদাহরণ দাও।
উত্তর: যার সাথে কথা বলার জন্য মোবাইলে একশ টাকা রিচার্জ করার কথা তার মোবাইলেই একশ টাকা রিচার্জ করে দেয়া এবং তারপর শূন্য ব্যালান্স নিয়ে টেলিপ্যাথির উপর পূর্ণ ঈমান সহযোগে অপেক্ষা করা 

পুলিশ রেড পরবর্তী স্ট্যাটাস

এইমাত্র পুলিশ রেড হয়ে গেল বাসায়। গত দুই বছরে এই নিয়ে মোট চারবার।


ভদ্রলোককে সব প্রশ্নের উত্তর দুবার করে দেয়া লাগল। টেবিলের উপর খোলা বই দেখেই বোধহয় বিশ্বাস করতে চাননি - আমি সত্যিই সার্ভিস হোল্ডার। বই উল্টে পাল্টে দেখেছেন - সূর্য দীঘল বাড়ি সিনেমার সমালোচনা পাতা খোলা ছিল - দুই লাইন শুনিয়েও দিয়েছি।

ফ্রেন্ডলিস্টের বন্ধুরা যারা মেস বা বন্ধুবান্ধবের সাথে ফ্ল্যাটে থাকেন, তারা আইডি কার্ড সাথে রাখুন, স্পষ্ট ভাষায় কথা বলুন। বাসায় কোন ধরনের গেস্ট থাকলে পরিচয় স্পষ্ট করে শুরুতেই স্বীকার করুন। সম্ভব হলে অন্য কোথাও রাত কাটাবার ব্যবস্থা করুন।

এই সময়ে পুলিশ ধরলে কমে এক লাখ টাকা, সাথে দুই একটা মামলা - খিয়াল কৈরা কিন্তু

 

সোমবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০১৩

ধনীর বাড়ির ধোয়াপাল্লা

আমার ডেস্ক থেকে মাত্র কয়েক হাত দূরে যে বিল্ডিংটা সেটার মালিক এবং অধিবাসীরা যে বাড়াবাড়ি রকমের বড়লোক সেটা আমি ডেস্কে বসেই টের পাই। সাড়ে তিনতলা বিল্ডিং এর দুটো ছাদ - সেই ছাদ ভর্তি গাছ - আম, পেয়ারা, লেবু, জাম্বুরা, ডালিম, বকুল, হাসনাহেনা, গোলাপ, গাঁদাসহ নানা প্রজাতির পাতাবাহার গাছ। এই বাগান দেখাশোনা করার জন্য দুজন মালি, মাঝে মাঝে তাদের সাথে আরও একজন যোগ দেয় - সম্ভবত সে ড্রাইভার বা অন্য কিছু। মালিকপক্ষের পরিবারে কতজন সদস্য নিশ্চিত জানি না, আমি সব মিলিয়ে দুইজনকে দেখেছি - কিন্তু তাদের কাপড় ধোয়ার জন্য দুইজন মহিলা আছে, সম্ভবত ঘরের অন্যান্য কাজের জন্য আরও তিনজন। প্রতিদিনের কাপড় ধোয়ার জন্য ছাদেই আলাদা ব্যবস্থা করা আছে - জেট গুড়া পাউডার ব্যবহার করে সেখানে সারাদিন ধোয়াপাল্লার কাজ চলে।

আজকে বোধহয় ধোয়ার জন্য কাপড় কম পড়ে গিয়েছে - এই মাত্র প্রায় বারো-পনেরো জোড়া স্যান্ডেল নিয়ে আসা হয়েছে ধোয়ার জন্য।

শনিবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০১৩

মৃত্যুর পরে

'আপনি যেখানেই থাকুন না কেন, ভালো থাকুন' - সেলিব্রেটিরা মারা যাওয়ার পরে অনেক স্ট্যাটাসে এই কথা লেখা হয়। এই বাক্যের মধ্যে এক ধরনের কাব্য আছে, অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত আছে, শুনতে ভালো লাগে। কিন্তু এই বাক্যের মধ্যে কি সততা আছে?

মৃত্যুর পরে গন্তব্য কোথায়, কি হবে - ধর্মমাত্রেই এর ব্যাখ্যা আছে (ব্যতিক্রম ধর্ম থাকতে পারে, আমার জানা নেই)। কোন ধর্ম পুনর্জন্মে বিশ্বাস করে, কোন ধর্ম করে না। কোন ব্যক্তি ধর্মে বিশ্বাসী হলে তার ধর্মমত অনুযায়ী মৃত্যুর পরে কি হবে, গন্তব্য কোথায় সেটা জানা থাকা উচিত। যদি ধর্মে বিশ্বাসী না হয়, নাস্তিক হয়, তবে তারও একটা বিশ্বাস আছে - মৃত্যুর পর শরীর পঁচে গলে মাটির সাথে মিশে যাবে। যেখানে আমি জানি - মৃত্যুর পরে কি হবে সেখানে 'যেখানেই থাকুন' বলি কেন? আমি যা জানি তা কি বিশ্বাস করছি না?

মৃত্যুর পরে কি হবে যদি না জানি বা অল্প পরিমান জানি, তবে বিস্তারিত জেনে নেয়া উচিত। নচেৎ মৃত্যুর পরের এই অবস্থার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করি কিভাবে?

শুক্রবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০১৩

বাংলা চলচ্চিত্রের সালতামামি ২০১৩

বাংলাদেশে নির্বাচনের বছর সবসময়ই গোলযোগপূর্ণ, ২০১৩-ও তার ব্যতিক্রম নয়। তবে রাজনৈতিক গোলযোগের পাশাপাশি বাংলা চলচ্চিত্রের আকাশে ভারতীয় চলচ্চিত্রের আমদানী উদ্যোগ দুর্যোগের মেঘ হিসেবে সবসময় উপস্থিত থেকেছে। এই দুর্যোগপূর্ণ বছরের শেষ মাসে কোন চলচ্চিত্র মুক্তি পায় নি এবং মুক্তির নির্দিষ্ট তারিখ থেকে পিছিয়ে আগামী বছরে নির্বাচন পরবর্তী শান্ত সময়ে ছবি মুক্তির উদ্যোগ নিয়েছে নির্মাতাগোষ্ঠী। এ বছরে আর কোন ছবি মুক্তি পাবে না ধরে নিয়ে মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রসমূহের দিকে ফিরে তাকালে গোটা বছরের একটা চিত্র ফুটে উঠে, এবং, রাজনৈতিক গোলযোগের মাঝেও এই চিত্রের দিকে পূর্ণদৃষ্টিতে তাকানো উচিত। বলা বাহুল্য, এক দশক আগের অবহেলা আর দূর্ণীতির কারণে সৃষ্ট পতিত অবস্থা থেকে উন্নয়নের দিকে বাংলা চলচ্চিত্রের যাত্রাকে শিখর পর্যন্ত পৌছানো নিশ্চিত করতে হলে মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রসমূহের বিচার বিশ্লেষন আবশ্যক; বাংলা চলচ্চিত্রের সালতামামি ২০১৩ এক্ষেত্রে কিছুটা সহায়তা করতে পারে।

বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০১৩

মৃত্যুপথযাত্রী খালেদ খান

'ছি ছি ছি ছি ছি তুমি এত খারা-প' - আপনি যদি এই সংলাপটি মনে করতে পারেন তাহলে '৯০ এর দশকে আপনি বিটিভির নিয়মিত দর্শক ছিলেন এবং ইমদাদুল হক মিলনের রচনায় রূপনগর নাটকের চরিত্র 'হেলাল'কেও আপনি মনে করতে পারবেন। পাড়ার মাস্তান চরিত্রে অভিনয় করে এই সংলাপকে অমর করেছেন যে অভিনেতা তিনি খালেদ খান - এখন বারডেম হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে আছেন।

খালেদ খান অভিনীত আরেকটা টিভি নাটকের কথা মনে পড়ে - মোহাম্মদ হোসেন জেমীর পরিচালনায় ক্রাইম থ্রিলার - লোহার চুড়ি। ব্যাংক ডাকাত কোহিনূরকে গ্রেপ্তার করার জন্য গোয়েন্দা খালেদ খানের দুর্দান্ত অভিনয়। শেষ দৃশ্যে কোহিনূরকে হাতকড়া পড়িয়ে সদরঘাটের একটা লঞ্চের ক্রেনে ঝুলিয়ে দিয়েছিলেন তিনি - বিদেশী সিনেমা দেখে অভ্যস্ত হইনি তখনো - তৃপ্তি শিখরে পৌছেছিল সেই নাটক দেখে। কোহিনূর চরিত্রে একজন ব্যান্ড পারফর্মার অভিনয় করেছিলেন - নাম মনে করতে পারি না।

খালেদ খানের একটি সিনেমার কথাও মনে পড়ে। আখতারুজ্জামানের পরিচালনায় 'পোকা মাকড়ের ঘরবসতি' চলচ্চিত্রে চট্টগ্রাম অঞ্চলের সমুদ্রের জেলের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন তিনি। একটা হাঙর শিকার করে নৌকায় তুলেছেন আর হঠাৎ সেই হাঙর বিশাল হা-য়ে তার পা কামড়ে ধরে।

তিনি অসুস্থ্য বেশ কয়েক বছর ধরে - মোটর নিউরন ব্যাধিতে আক্রান্ত - চলাফেরা করছেন হুইলচেয়ারে। ইউল্যাবের টিচার।

সুস্থ্য হয়ে ফিরে আসুন প্রিয় খালেদ খান।

উধাও পরিচালকের উদ্দেশ্যে

ব্রাদার অমিত আশরাফ,

উধাও চলচ্চিত্রে কাহিনী, চিত্রনাট্য এবং পরিচালনার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ, আন্তরিক অভিনন্দন, দোয়া কিন্তু এট্টা রিকোয়েস্ট। সিনেমায় একটা দৃশ্য দেখিয়েছেন - আকবর দ্য গ্রেট ২টাকা মিনিটে ল্যান্ডফোন থেকে ফোন করে যখন তার বউয়ের সাথে কথা বলছিল তখন বাবু একটা গাছ দিয়া তার মাথায় বাড়ি দিছিল - মনে আছে? ওই গাছটা কি আপনার কাছে এখনো আছে? না থাকলে - গভীর রাতে যে বাঁশগুলা দিয়ে ভ্যানের ভেতরে বসে থাকা আকবর মিয়াকে খোঁচা দিছিল - সেই বাঁশগুলার একটাও কি আছে? কাইন্ডলি জোগাড় করার চেষ্টা করবেন। তারপর সেই গাছ/বাঁশ নিয়ে বলাকা সিনেমাহলের মালিকের মাথায় সেইরকম কৈরা একটা বাড়ি দিবেন, পারবেন না?

একশ টাকার টিকিটে আপনার সিনেমার ছবি দেখছি শুধু, ডায়লগ শুনতে পাই নাই, মিউজিক তো টেরই পাই নাই। সাবটাইটেল না থাকলে গল্পও বুঝতে পারতাম না - কসম বলতেছি - শেষের দিকে সেই সাবটাইটেলও ঝাপসা ঝাপসা দেখছি। আপনি অতিসত্বর - মালিকের মাথায় একটা বাড়ি দিবেন - এইটা এট্টা রিকোয়েস্ট।
ইতি, দারাশিকো।

বিঃদ্রঃ যদি গাছ/বাঁশ পাওয়া না যায়, তবে ৩৫ মিমি. ফিল্মভর্তি ক্যান দিয়া বাড়ি দিলেও চলবে। আফটার অল - সিনেমা ব্যবসায়ীর মাথায় সিনেমা রিলেটেড কিছু দিয়াই বাড়ি দেয়া উচিত - তাদেরও ইজ্জত আছে।

বৃহস্পতিবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০১৩

লিপু খন্দকারের গার্লফ্রেন্ড চাহিয়া পোস্ট

সাংবাদিক লিপু খন্দকার 'গার্লফ্রেন্ড চাহিয়া' একখানা পোস্ট দিয়াছেন।


গার্লফ্রেন্ডের যেই সকল যোগ্যতা থাকা আবশ্যক তাহাও উল্লেখ করিয়া দিয়াছেন লিপু খন্দকার। গার্লফ্রেন্ড হইতে আগ্রহী নারীকে প্রথমত খুবই সুন্দরী হইতে হইবে এবং দ্বিতীয়ত, তাহাকে অবশ্যই হৃদয়বান হইতে হইবে। হৃদয়বান হইবার কারণ দুইটি। প্রথমত: ভালোবাসিয়া লিপু খন্দকারকে হৃদয় দান করিতে হইবে, দ্বিতীয়ত, লিপু খন্দকারের চেহারা দেখিয়া তাহাকে পসন্দ করিয়া হৃদয় দান করিবার হৃদয়হীন সিদ্ধান্ত নিতে হইবে। অতি সুন্দরী এবং হৃদয়বান নারীর সিদ্ধান্তগ্রহণে সহায়তা করিবার উদ্দেশ্যে লিপু খন্দকার তাহার একখানা থ্রি-আর আকৃতির পোট্রেট ছবি যুক্ত করিয়াছেন।


আগ্রহী নারীগণের দৃষ্টি আকর্ষন করিতেছি। বিস্তারিত লিংকে


 

মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৩

লার্ণিং ফেসবুক - ১

পাবলিকে স্যরি, লাভিউ বা হেটিউ বলার একটা ইমপ্যাক্ট আছে - এটা ম্যক্সিমাইজ হয়ে যায়। ফেসবুকে জনগণের সামনে দেয়া এ ধরনের ব্যক্তিগত স্ট্যাটাসের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। বলা বাহুল্য, এ ধরনের স্ট্যাটাস নির্দিষ্ট এক বা একাধিক ব্যক্তির উদ্দেশ্যে দেয়া হয়, আমজনতার জন্য না। কিন্তু কখনো কখনো পাবলিকে দেয়া ব্যক্তিগত স্ট্যাটাসে পাবলিকের উড়াধুরা কমেন্ট সেই নির্দিষ্ট একজন মানুষটিকেও বিব্রতকর অবস্থায় ফেলতে পারে।

ফেসবুক ইয়ার এন্ডিং রিভিউ

ফেসবুক ২০১৩ এর শেষকে উদযাপন করার উদ্দেশ্যে নতুন এক ফিচার চালু করেছে - ইয়ার ইন রিভিউ। পুরো বছরের কার্যক্রমকে এক পাতায় নিয়ে এসেছে। ফলে এই বছরে ফেসবুকে ঠিক কি কি কাজ করা হয়েছে তার একটা চিত্র পাওয়া যাচ্ছে। আমার কাজের রিভিউ ফেসবুক কিভাবে করবে - কতটা সফলভাবে করবে সেটা যাচাই করার জন্য নিজের ইয়ার-রিভিউ করে দেখলাম। যা ভেবেছিলাম তাই, ফিফটি পার্সেন্ট সফল হয়েছে ফেসবুক।

১. ২০১৩ তে লেখা স্ট্যাটাসগুলোর মধ্যে অপেক্ষাকৃত জনপ্রিয় স্ট্যাটাসগুলোকে স্থান দেয়া হয়েছে - সম্ভবত লাইক এবং কমেন্টের ভিত্তিতে এদের নির্বাচন করা হয়েছে। অগুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্ট্যাটাসও নির্বাচিতের তালিকায় ঢুকে পড়েছে।

২. ফেসবুক নোট স্থান পেয়েছে। নোটস ফাকা থাকবে - এই বিবেচনায় বোধহয় যা লিখেছিলাম সবগুলাই ঢুকে পড়েছে। বলা বাহুল্য - ওগুলো নির্বাচন করার পরীক্ষায় ফেসবুক ফেল।

৩. ছবি - পুরোটাই হাস্যকর। এমন এমন সব ছবিকে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করেছে - আরো একবার ছবিতে ট্যাগ করার স্বাধীনতা কেড়ে নেয়ার সুযোগ না থাকার জন্য আফসোস করতে হচ্ছে।

৪. যারা ফেসবুককে আরও ডাইভার্সলি ব্যবহার করেন তাদের ইয়ার-রিভিউটা আরও চমৎকার হবে। স্ট্যাটাস-নোটস-ফটোস-রিলেশনশিপ স্ট্যাটাস-ইম্পরট্যান্ট ইভেন্টস - সব মিলিয়ে জমজমাট হবে আই গেস।

৫. আস্ক ডট এফএম এর যন্ত্রনা শুরু হয়েছিল কিছুদিন আগে, এখনো চলছে কিনা জানি না, কারণ নিউজফেড থেকে হাইড করে দিয়েছি। আগামী ক'দিন ইয়ার রিভিউ যন্ত্রনা সহ্য করতে হবে ঢের বুঝতে পারছি, আপনারা বুঝতে না পারলে এই স্ট্যাটাস পড়ে সতর্ক হোন।

৬. এই বছরে এটাই শেষ স্ট্যাটাস নয়, সুতরাং, নতুন স্ট্যাটাস প্রসবের আগ পর্যন্ত প্রসূত স্ট্যাটাসগুলোর প্রতি আদর যত্ন প্রদর্শন করতে পারেন

 

রবিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৩

গ্র্যান্ডমাস্টার ড. ম্যাক ইউরি

একটি স্ট্যান্ডার্ড বেসবল ব্যাট যার মোটা অংশের পুরুত্ব ৮ ইঞ্চি এবং হাতল অংশ ২.৭৫ ইঞ্চি ভাঙতে ৭৪০ পাউন্ডস শক্তি লাগে - গবেষনা করে এই তথ্য জানিয়েছেন ওয়েন ইউনিভার্সিটি আমেরিকা। এরকম তিনটি স্ট্যান্ডার্ড বেসবল ব্যাট এক লাথিতে ভেঙ্গে ফেলে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছেন যিনি তার নাম ড. ম্যাক ইউরি। ঘটনা ২০১১ সালের ৭ মে। 


রিপ্লি'র বিলিভ ইট অর নট-এর কমিক বিভাগে সুপার হিউম্যান হিসেবে তাকে পরিচিত করে দিয়ে বলা হয়েছে - মার্শাল আর্ট মাস্টার ম্যাক ইউরি ক্যান স্ন্যাপ থ্রি স্ট্যান্ডার্ড বেসবল ব্যাটস উইথ আ কিক ফ্রম হিজ বেয়ার শিন!


ম্যাক ইউরি-কে ডিসকভারি চ্যানেল সুপার হিউম্যান হিসেবে অ্যাখ্যায়িত করেছে। তারা ইউরির শরীরের নানা পরীক্ষা- নিরীক্ষার পর জানায়, তার পায়ের ৯৬ শতাংশ মাংশপেশী এক সাথে কাজ করতে সক্ষম। এর আগে কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে এমন ঘটনা ঘটেনি। পরে ম্যাক ইউরিকে নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র তৈরী করেছে ডিসকভারি। যা পর্যায়ক্রমে বিশ্বের ২১০টি দেশে ৬৪টি ভাষায় প্রদর্শিত হয়েছে ।

এই ম্যাক ইউরি একজন বাংলাদেশী। ঢাকার আজিমপুরে জন্মগ্রহণ করেন ইউরি। তার বাবা ছিলেন ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার। বাবার চাকরির সুবাদে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঘুরেছেন ইউরি। খুলনায় ইংলিশ মিশনারি স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনের পর মিলিটারি বোর্ডিং স্কুলের কঠোর অনুশাসন ও নিয়মানুবর্তিতার মধ্য দিয়ে ক্যাডেট জীবন পার করেন। পরে ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজে পড়েন তিনি।

এ ছাড়া মিলিটারি সাইন্স, ফিজিক্যাল ট্রেনিং, অবস্টাকল কোর্স, আন-আর্মড কমব্যাট, মিলিটারি ড্রিলস প্যারেডের মতো বিষয় সমূহে কৃতিত্ব অর্জন করেছেন তিনি। একই সাথে ইউরি ভারতের কাঞ্চিপুরম ও চীনের শাওলিন টেম্পল সম্পর্কিত অনুসন্ধানী গবেষণার মাধ্যমে ভারতীয় মার্শাল আর্টের লুপ্তপ্রায় ইতিহাস ও ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের মতো কাজও করেছেন। ম্যাক ইউরি 'ন্যাশনাল সিকিউরিটি একাডেমি' আমেরিকা থেকে কমিশন অফিসার্স কোর্স সমাপ্ত করেন। অর্জন করেন ব্রিটিশ হোম অফিসের অধীনস্থ সিকিউরিটি ইন্ডাস্ট্রিজ অথরিটি ভিআইপি প্রটেকশনের ওপর সর্বোচ্চ প্রফেশনাল ডিগ্রিও। এছাড়া ফায়ার ট্রেনিং একাডেমি ইংল্যান্ড থেকে ফায়ার মার্শাল কোর্সও সম্পন্ন করেন তিনি। (সূত্র: পরিবর্তন ডট কম)

এই ভদ্রলোক সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে তার ওয়েবসাইট (http://www.yureeonline.com/) থেকে। বেসবল ব্যাট ভাঙ্গার ভিডিও পাওয়া যাবে ইউটিউবে (http://www.youtube.com/watch?feature=player_embedded&v=YYJAXnlczGc)
Photo: একটি স্ট্যান্ডার্ড বেসবল ব্যাট যার মোটা অংশের পুরুত্ব ৮ ইঞ্চি এবং হাতল অংশ ২.৭৫ ইঞ্চি ভাঙতে ৭৪০ পাউন্ডস শক্তি লাগে - গবেষনা করে এই তথ্য জানিয়েছেন ওয়েন ইউনিভার্সিটি আমেরিকা। এরকম তিনটি স্ট্যান্ডার্ড বেসবল ব্যাট এক লাথিতে ভেঙ্গে ফেলে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছেন যিনি তার নাম ড. ম্যাক ইউরি। ঘটনা ২০১১ সালের ৭ মে।   রিপ্লি'র বিলিভ ইট অর নট-এর কমিক বিভাগে সুপার হিউম্যান হিসেবে তাকে পরিচিত করে দিয়ে বলা হয়েছে - মার্শাল আর্ট মাস্টার ম্যাক ইউরি ক্যান স্ন্যাপ থ্রি স্ট্যান্ডার্ড বেসবল ব্যাটস উইথ আ কিক ফ্রম হিজ বেয়ার শিন!  ম্যাক ইউরি-কে ডিসকভারি চ্যানেল সুপার হিউম্যান হিসেবে অ্যাখ্যায়িত করেছে। তারা ইউরির শরীরের নানা পরীক্ষা- নিরীক্ষার পর জানায়, তার পায়ের ৯৬ শতাংশ মাংশপেশী এক সাথে কাজ করতে সক্ষম। এর আগে কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে এমন ঘটনা ঘটেনি। পরে ম্যাক ইউরিকে নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র তৈরী করেছে ডিসকভারি। যা পর্যায়ক্রমে বিশ্বের ২১০টি দেশে ৬৪টি ভাষায় প্রদর্শিত হয়েছে ।  এই ম্যাক ইউরি একজন বাংলাদেশী। ঢাকার আজিমপুরে জন্মগ্রহণ করেন ইউরি। তার বাবা ছিলেন ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার। বাবার চাকরির সুবাদে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঘুরেছেন ইউরি। খুলনায় ইংলিশ মিশনারি স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনের পর মিলিটারি বোর্ডিং স্কুলের কঠোর অনুশাসন ও নিয়মানুবর্তিতার মধ্য দিয়ে ক্যাডেট জীবন পার করেন। পরে ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজে পড়েন তিনি।  এ ছাড়া  মিলিটারি সাইন্স, ফিজিক্যাল ট্রেনিং, অবস্টাকল কোর্স, আন-আর্মড কমব্যাট, মিলিটারি ড্রিলস প্যারেডের মতো বিষয় সমূহে কৃতিত্ব অর্জন করেছেন তিনি। একই সাথে ইউরি ভারতের কাঞ্চিপুরম ও চীনের শাওলিন টেম্পল সম্পর্কিত অনুসন্ধানী গবেষণার মাধ্যমে ভারতীয় মার্শাল আর্টের লুপ্তপ্রায় ইতিহাস ও ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের মতো কাজও করেছেন। ম্যাক ইউরি 'ন্যাশনাল সিকিউরিটি একাডেমি' আমেরিকা থেকে কমিশন অফিসার্স কোর্স সমাপ্ত করেন। অর্জন করেন ব্রিটিশ হোম অফিসের অধীনস্থ সিকিউরিটি ইন্ডাস্ট্রিজ অথরিটি ভিআইপি প্রটেকশনের ওপর সর্বোচ্চ প্রফেশনাল ডিগ্রিও। এছাড়া ফায়ার ট্রেনিং একাডেমি ইংল্যান্ড থেকে ফায়ার মার্শাল কোর্সও সম্পন্ন করেন তিনি। (সূত্র: পরিবর্তন ডট কম)  এই ভদ্রলোক সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে তার ওয়েবসাইট (http://www.yureeonline.com/) থেকে। বেসবল ব্যাট ভাঙ্গার ভিডিও পাওয়া যাবে ইউটিউবে (http://www.youtube.com/watch?feature=player_embedded&v=YYJAXnlczGc)

শুক্রবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৩

দোলনায় দারাশিকো

সিনেমায় 'সময়' অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন একটি বিষয়। দুই বা আড়াই ঘন্টায় কতসময়ের গল্প বলা হচ্ছে তার উপর নির্ভর করে সময়কে নিয়ে খেলে নির্মাতা। পাঁচ সেকেন্ডে পঞ্চাশ বছর এগিয়ে নেয়া যেতে পারে, আবার টাইম বোমা ডিঅ্যাকটিভেশন দৃশ্যে পঁচিশ সেকেন্ডকে পাঁচ মিনিট পর্যন্ত টেনে নেয়া হয়।

সময়কে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য পরিচালকরা কত অদ্ভুতরকমের ট্রিটমেন্ট যে করেন তার ইয়ত্তা নেই। দৌড়াতে দৌড়াতে ছোট থেকে বড় হয়ে যাওয়া, দড়ি লাফাতে লাফাতে কিংবা দোলনায় দুলতে দুলতে অথবা হাত ধরাধরি করে এক গান গাওয়া শেষ হওয়ার আগেই কৈশোর থেকে যৌবনে পদার্পন করার দৃশ্য বাংলাদেশের সিনেমায় মোটামুটি প্রচলিত।

এই ছবিতে ক্যারেক্টার দুলতে দুলতে বড় হয়ে গেছে, কিন্তু দোলনা সেই অনুপাতে বাড়ে নি - ফলে একটু বেখাপ্পা হয়ে গেছে। ক্যারেক্টারের দোষ না, পরিচালক অদূরদর্শী 
Photo: সিনেমায় 'সময়' অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন একটি বিষয়। দুই বা আড়াই ঘন্টায় কতসময়ের গল্প বলা হচ্ছে তার উপর নির্ভর করে সময়কে নিয়ে খেলে নির্মাতা। পাঁচ সেকেন্ডে পঞ্চাশ বছর এগিয়ে নেয়া যেতে পারে, আবার টাইম বোমা ডিঅ্যাকটিভেশন দৃশ্যে পঁচিশ সেকেন্ডকে পাঁচ মিনিট পর্যন্ত টেনে নেয়া হয়।  সময়কে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য পরিচালকরা কত অদ্ভুতরকমের ট্রিটমেন্ট যে করেন তার ইয়ত্তা নেই। দৌড়াতে দৌড়াতে ছোট থেকে বড় হয়ে যাওয়া, দড়ি লাফাতে লাফাতে কিংবা দোলনায় দুলতে দুলতে অথবা হাত ধরাধরি করে এক গান গাওয়া শেষ হওয়ার আগেই কৈশোর থেকে যৌবনে পদার্পন করার দৃশ্য বাংলাদেশের সিনেমায় মোটামুটি প্রচলিত।   এই ছবিতে ক্যারেক্টার দুলতে দুলতে বড় হয়ে গেছে, কিন্তু দোলনা সেই অনুপাতে বাড়ে নি - ফলে একটু বেখাপ্পা হয়ে গেছে। ক্যারেক্টারের দোষ না, পরিচালক অদূরদর্শী :P

সোমবার, ২ ডিসেম্বর, ২০১৩

I Love You

I Love You.

মাত্র এই তিনটা শব্দই লেখা ছিল এসএমএস-এ। অন্ততঃ কমপক্ষে এই তিনটা শব্দ যে লেখা ছিল সেটা নিশ্চিত। কিন্তু কপালের ফের, সেই কবে কবি নজরুল আমার এই অবস্থা দিব্যদৃষ্টিতে দেখতে পেয়ে লিখেছিলেন - 'পড়বি তো পর মালির ঘাড়েই', এসএমএস যখন এল মোবাইল তখন আমার হাতে নেই।

নো ওরিস! প্যারেন্টস এর হাতে পড়েনি। ক্লাস ফোরে পড়ুয়া ছোটবোন ফুল ভলিউমে বাংলা সিনেমার গান শুনতে শুনতে গভীর মনযোগের সাথে অ্যাংরি বার্ডস খেলছে, মেসেজের শব্দে তার গান এবং খেলায় বিশাল বাধার সৃষ্টি হয়েছিল। তাই মেসেজ ওপেন করে পড়ে ফেলেছে সে। গতরাতের ঘটনা।

এই খবর জেনেছি আজ দুপুরে, তাও বড়বোনের মুখে - ভাইয়া প্রেম করে বেড়াচ্ছে এবং মেসেজে লেখা আইলাভিউ - এই নিয়ে মুখ টিপে হাসাহাসি, তারপর তরল-কঠিন জেরা, তারপর বিভিন্নখাতে প্রবাহিত করার প্রচেষ্টা থেকে নিবৃত্ত করে, সবশেষে হাত থেকে মোবাইল কেড়ে নেয়ার পরেও সেই মেসেজ পড়া গেল না!

কে মেসেজ দিয়েছে. নাম লেখা ছিল? না।
নাম্বার সেভ করা আছে মোবাইলে? না।
কি লেখা ছিল? আই লাভ ইউ।
আর কিছু লেখা ছিল না? না।
নাম টাম কিছু না? না।
কি নাম্বার? বাংলালিংক।
বাংলালিংক, শিওর? হু।
বাংলালিংক কিভাবে বুঝলে? জিরো ওয়ান নাইন দিয়ে শুরু।
নাম ছিল না? না।
নাম্বার সেভ করা নাই? না।
ডিলিট করছো ক্যান? (চুপ)
মেসেজ ডিলিট করছো ক্যান? .... তোমারে আই লাভ ইউ বলছে ক্যান??? তাই ডিলিট করে দিছি।

 



গান:

প্রেম একবার এসেছিল সরবে
আমার মোবাইল প্রান্তে ... 
 

 

রবিবার, ১ ডিসেম্বর, ২০১৩

ম্যাড-কিলিং নিয়ে চলচ্চিত্র

ইউনিভার্সিটির ক্লাসরুমে তখন ক্লাস চলছে। দরজা খুলে ছেলেটি ঢুকে পড়ল, তার হাতে গুলিভর্তি অটোমেটিক রাইফেল। প্রথমে ছেলে এবং মেয়েদের আলাদা করল, তারপর ছেলেদেরকে ক্লাসরুম থেকে বের করে দিল এবং অটোমেটিক রাইফেল তাক করে গুলি চালিয়ে দিল দাড়িয়ে থাকা মেয়েদের উপর। ক্লাসরুম থেকে বেরিয়ে করিডোর, ক্যাফেটেরিয়া এবং অন্যান্য ক্লাসরুমে গুলি চালালো সে। সব মিলিয়ে বিশ মিনিট। এর মাঝে গুলিতে মারা গেল চৌদ্দজন, বেশীরভাগই মেয়ে, আহত হল আরও চৌদ্দজন। ঘটনার সমাপ্তি ঘটল যখন ছেলেটি নিজের কপালে বন্দুক ঠেকিয়ে গুলি করল। ঘটনাস্থল কানাডার কুইবেকে মন্ট্রিলে অবস্থিত ইকোল পলিটেকনিক, সময় ১৯৮৯ সালের ৬ ডিসেম্বর। মন্ট্রিল ম্যাসাকার নামে পরিচিত এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে চলচ্চিত্রটি নির্মিত হয়েছে ২০০৯ সালে তার নাম 'পলিটেকনিক'। 

শনিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০১৩

পুরানো প্রেমিকার সাথে কথোপকথন

একবছর পর। ক্রিস তার গাড়ির দরজা খুলতে যাচ্ছিল এমন সময় 'হাই' শুনে ফিরে তাকালো। অ্যান! এক বছর আগে এই অ্যানের প্রতি তার তীব্র ভালোবাসা ছিল, সেই ভালোবাসার দরুণ এই একবছরে কত ঘটনা ঘটে গেল!

ক্রিস: হ্যালো অ্যান।

অ্যান: অনেক দিন পর ..

ক্রিস: হুম।

অ্যান: আমার কাছে এখনো চাবিটা আছে, তোমাকে ফেরত দেয়া উচিত।

ক্রিস: ঐ চাবিতে তালা খুলবে না আর। 

অ্যান: তোমার ভাইয়ের কি খবর?

ক্রিস: পরের শুনানী আগামী মাসে।

অ্যান: আচ্ছা। আর তোমার? সব কিছু ঠিকঠাক?

ক্রিস: হুম। বেশীরভাগই ঠিকঠাক।

অ্যান: বেশীরভাগ ... তোমার জন্য কঠিন করে ফেলেছিলাম সব কিছু, আমি দুঃখিত ... আন্তরিকভাবে দুঃখিত।

ক্রিস: You can only be hurt by people you love - তোমার কাছ থেকেই শিখেছি।

অ্যান: ওটায় আমি এখনো বিশ্বাস করি কিনা সন্দেহ।

ক্রিস: You miss out on a lot if you do.

অ্যান: আমি অনেক পাল্টে গেছি।

ক্রিস: তুমি চাকরী পাল্টেছো সেটা জেনেছি।

অ্যান: তারমানে তুমি এখনো আমার ব্যাপারে খোঁজ রাখো, সামান্য হলেও।

ক্রিস: কিছুটা রাখি।

অ্যান: চল কোথাও বসে কফি খাই।

ক্রিস: আমিও পাল্টে গেছি অ্যান।

অ্যান ঘুরল। নিজের গাড়ির দিকে চলল সে। 

ক্রিস: কিন্তু ...

অ্যান থামলো, ফিরে তাকালো।

ক্রিস: আমি এখনো কফি পছন্দ করি।

 

সিনেমার নাম: Loft (2008)

রেটিং: ৫/৫




শুক্রবার, ২৯ নভেম্বর, ২০১৩

দুর্নীতিগ্রস্থ দেশের তালিকায়

খবর:
বিশ্বের সবচেয়ে দূর্নীতিগ্রস্থ দশ দেশের তালিকায় নেই বাংলাদেশ। 

মন্তব্য:
কত টাকা ঘুষ দেয়া হয়েছে তালিকা থেকে বাদ দেয়ার জন্য? 

বৃহস্পতিবার, ২৮ নভেম্বর, ২০১৩

নগ্নতা বিষয়ে হুমায়ূন আহমেদ এবং দারাশিকো বলেন

হুমায়ূন আহমেদ:
নগ্নতা তো কোনো লজ্জার বিষয় হতে পারে না। লজ্জার বিষয় হলে প্রকৃতি আমাদের কাপড় পরিয়ে পৃথিবীতে পাঠাত। আমরা নগ্ন হয়ে পৃথিবীতে এসেছি। নগ্নতার জন্যে লজ্জিত হবার বা অস্বস্তি বোধ করার আমি কোনো কারণ দেখি না। (বই: সে ও নর্তকী)

দারাশিকো:
নগ্নতা যদি লজ্জার বিষয় না হইত তাহলে প্রকৃতি পাঠানোর সময় বড় কৈরাই পাঠাইতো। এক দিনের বাচ্চারে ন্যাংটা দেইখা কেউ মজা নেয় না 

বাউনিয়াবাঁধ বস্তিতে

মিরপুরে বাউনিয়াবাঁধ বস্তির কথা অনেকবার শুনতে হয়েছে - বাংলাদেশের সবচে বড় বস্তি নাকি এটাই। গত মে মাসে প্রথমবার এই বস্তিতে যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল।

Center for Zakat Management (CZM) এর ডকিউমেন্টারি শ্যুট করার জন্য গিয়েছি। বস্তি এলাকায় প্রিয় ত্রিশটি সেন্টার আছে - গুলবাগিচা সেন্টার নামে পরিচিত। স্কুলে ভর্তি হওয়ার আগের এক বছর বস্তির বাচ্চাদের এই স্কুলের মাধ্যমে ভর্তির উপযোগি করে তোলা হয় যেন পরবর্তীতে ভালো কোন সরকারী স্কুলে ভর্তি হয়ে এইসব বাচ্চা পড়াশোনা শুরু করতে পারে। পড়াশোনার পাশাপাশি পুষ্টিকর খাবার - সব মিলিয়ে এক বছরে একটা বাচ্চার জন্য খরচ হয় ৬০০০ টাকা। 

ছোট্ট একটা ঘরে বাচ্চাদের পড়ার দৃশ্য ইত্যাদি শ্যুট করা মোটামুটি কষ্টের কাজ। ক্যামেরাম্যান একাই যা করার করলেন। শেষ দৃশ্যটি ছিল এরকম - ছুটি হয়ে গেছে, বাচ্চারা দলবেধে বের হয়ে ছুটে বের হয়ে যাচ্ছে। একবারেই যেন টেক করা যায় সেজন্য বারবার বাচ্চাদের বুঝিয়ে আমি বাইরের দিকে এক কোনায় এসে দাড়িয়েছি - বাচ্চারা দৌড়ে আমার কাছ পর্যন্ত এলেই ফ্রেম-আউট হবে, তারপরেই তাদের ছুটি। সব ঠিকঠাক করে ছুটি দিয়ে দেয়া হল - বাচ্চারাও হুড়মুড় করে বেরিয়ে দৌড়। প্রায় ২৫-৩০টা বাচ্চা। ছুটতে ছুটতে আমার কাছে হাজির। আমি ভাবলাম 'ওকে' হয়ে গেছে - ক্যামেরাম্যান দূর থেকে ইঙ্গিত করল বাচ্চাদের পায়ের দিকে - উত্তেজনায় সব বাচ্চাই স্যান্ডেল স্কুলে রেখেই চলে এসেছে!

বাচ্চাদের একত্রিত করে দ্বিতীয় টেকের জন্য উজ্জীবিত করছি - এই ছবিটা সেসময় তুলেছেন আহমেদ ভাই।
Photo: মিরপুরে বাউনিয়াবাঁধ বস্তির কথা অনেকবার শুনতে হয়েছে - বাংলাদেশের সবচে বড় বস্তি নাকি এটাই। গত মে মাসে প্রথমবার এই বস্তিতে যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল।  Center for Zakat Management (CZM) এর ডকিউমেন্টারি শ্যুট করার জন্য গিয়েছি। বস্তি এলাকায় প্রিয় ত্রিশটি সেন্টার আছে - গুলবাগিচা সেন্টার নামে পরিচিত। স্কুলে ভর্তি হওয়ার আগের এক বছর বস্তির বাচ্চাদের এই স্কুলের মাধ্যমে ভর্তির উপযোগি করে তোলা হয় যেন পরবর্তীতে ভালো কোন সরকারী স্কুলে ভর্তি হয়ে এইসব বাচ্চা পড়াশোনা শুরু করতে পারে। পড়াশোনার পাশাপাশি পুষ্টিকর খাবার - সব মিলিয়ে এক বছরে একটা বাচ্চার জন্য খরচ হয় ৬০০০ টাকা।   ছোট্ট একটা ঘরে বাচ্চাদের পড়ার দৃশ্য ইত্যাদি শ্যুট করা মোটামুটি কষ্টের কাজ। ক্যামেরাম্যান একাই যা করার করলেন। শেষ দৃশ্যটি ছিল এরকম - ছুটি হয়ে গেছে, বাচ্চারা দলবেধে বের হয়ে ছুটে বের হয়ে যাচ্ছে। একবারেই যেন টেক করা যায় সেজন্য বারবার বাচ্চাদের বুঝিয়ে আমি বাইরের দিকে এক কোনায় এসে দাড়িয়েছি - বাচ্চারা দৌড়ে আমার কাছ পর্যন্ত এলেই ফ্রেম-আউট হবে, তারপরেই তাদের ছুটি। সব ঠিকঠাক করে ছুটি দিয়ে দেয়া হল - বাচ্চারাও হুড়মুড় করে বেরিয়ে দৌড়। প্রায় ২৫-৩০টা বাচ্চা। ছুটতে ছুটতে আমার কাছে হাজির। আমি ভাবলাম 'ওকে' হয়ে গেছে - ক্যামেরাম্যান দূর থেকে ইঙ্গিত করল বাচ্চাদের পায়ের দিকে - উত্তেজনায় সব বাচ্চাই স্যান্ডেল স্কুলে রেখেই চলে এসেছে!  বাচ্চাদের একত্রিত করে দ্বিতীয় টেকের জন্য উজ্জীবিত করছি - এই ছবিটা সেসময় তুলেছেন আহমেদ ভাই।

রবিবার, ২৪ নভেম্বর, ২০১৩

পূর্ণদৈর্ঘ্য (পারিবারিক) প্রেম কাহিনী

বার্ধক্যে উপনীত হওয়া ধনী প্রভাবশালী ব্যক্তি সামাদ শিকদার তার ছেলের ঘরের নাতি জয় শিকদারের সাথে মেয়ের ঘরের নাতনী মিতুর বিবাহের আয়োজনমুহুর্তে স্ট্রোক করেন। জানা যায়, বিশ বছর আগে তার কন্যা শাহানা শিকদার তাদের লজিং মাস্টারকে ভালোবেসেছিলেন যা মেনে নেন নি সামাদ শিকদার, ফলে মেয়ে-মেয়ে জামাই দুজনেই ঘর ছেড়ে যান। গত বিশবছর ধরে তাদেরকে খোঁজ করলেও বের করতে পারেন নি সামাদ শিকদার, ফলে চাপা মানসিক কষ্ট বয়ে বেড়াচ্ছেন তখন থেকেই। দাদুর মানসিক সন্তুষ্টি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নাতি-নাতনী ফেসবুকে খুঁজে বের করে বর্তমানে মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত শাহানা শিকদারকে। অতঃপর, কোন ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট না পাঠিয়ে মালয়েশিয়ার রাস্তায়-হোটেলে-অফিসে ফুপু শাহানা শিকদারকে খুঁজে বের করার জন্য জয়ের যে চেষ্টা তা-ই একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রকে পূর্ণদৈর্ঘ্য পারিবারিক প্রেম কাহিনীতে রূপান্তর করে।

সোমবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৩

মসজিদে মহিলাদের নামাজের ব্যবস্থা

১.
'এই মসজিদে কি মেয়েদের নামাজের ব্যবস্থা আছে?' - বাম দিক থেকে নারীকন্ঠে এই প্রশ্ন শুনতে পেয়ে আমি চোখ খুলে পাশে তাকালাম, কিন্তু ভদ্রমহিলাকে দেখতে পেলাম না। কেউ উত্তর দেয় নি, তাই মহিলা আবারও প্রশ্ন করলেন - 'এই মসজিদে কি মেয়েদের নামাজের ব্যবস্থা আছে? আমার জোহরের নামাজ পড়া হয় নি'। এবারও কেউ উত্তর দিল না। আসলে মসজিদে তখন আমার মত অল্প কিছু মানুষ শুয়ে বসে ঝিমাচ্ছে বা আসরের নামাজের অপেক্ষা করছে। ছোটভাই পরীক্ষা দিচ্ছে, শেষ হওয়া পর্যন্ত আমার কাজ নেই - তাই আমি মসজিদে শুয়ে মোবাইল ঘাটছি। মসজিদের খাদেম আসরের নামাজের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, মেঝে পরিস্কার করছেন, কিন্তু মহিলার কন্ঠস্বর তার কাছে পৌছায় নি।

মিনিট খানেক পরেই মহিলার একই প্রশ্ন শুনতে পেলাম - এবার ডানদিকে, শব্দের উৎসমুখে ভদ্রমহিলাকে দেখেও ফেললাম - পয়তাল্লিশ পঞ্চাশ বা তার বেশী বয়সের এক মোটাসোটা বোরকা পড়া মহিলা - সম্ভবত তারও কেউ পরীক্ষা দিচ্ছেন। এইবার খাদেম প্রশ্ন শুনতে পেলেন - জানিয়ে দিলেন, মহিলাদের নামাজের কোন ব্যবস্থা নেই মসজিদে। ভদ্রমহিলা হতাশ হয়ে সামনের দিকে এগোলেন - ওদিকে কোন মসজিদ আছে কিনা কে জানে!

বছর দুয়েক আগের ঘটনা। জগন্নাথ ইউনিভার্সিটির সামনের মসজিদে।

২.
মহিলার বয়স বছর ত্রিশেক হবে সম্ভবত, কারণ তার সাথের মেয়েটির বয়স ৪/৫ এর বেশী নয়। চোখ ছাড়া পুরো শরীর কালো বোরকা, হাতমোজায় ঢাকা। মসজিদের কাছে একটি গাছের আড়ালে দাড়ালেন। তারপর নামাজের নিয়ত করলেন। রুকু, সিজদার জায়গায় ইশারায় নামাজ পড়লেন। মসজিদটা বিশাল - দোতালা। মাগরিবের সময় দোতালায় মানুষ হয় না। কিন্তু ভদ্রমহিলার নামাজের জায়গাও হল না।

আজকের ঘটনা। ধানমন্ডি লেকের পাশে যে মসজিদটা, সেখানে।

৩.
কেন হবে, কেন হবে না, কিভাবে হবে, কে করবে - আমি জানি না। এইটুকু বুঝি - বর্তমান সময়ে যেহেতু নারীরা দিনের একটা বড় অংশ বিভিন্ন প্রয়োজনে বাসার বাহিরে কাটান, তাই তার নামাজের জায়গাটুকুও নিশ্চিত করা দরকার, পড়বেন কি পড়বেন না - সেটা তার ব্যাপার!

এ বিষয়ে আরেকটি পোস্ট পড়ুন

শনিবার, ১৬ নভেম্বর, ২০১৩

রোমেনা আফাজের সমাধিতে

ঠনঠনিয়া বাসস্ট্যান্ডে পৌছে দেখি ঢাকায় ফেরার গাড়ি থাকলেও টিকিট নেই। সবশেষে ছাড়বে যে বাসটা সেটা সদ্য রং করা হয়েছে, বডি থেকে রং এর গন্ধ পাওয়া যায়, ছাড়ার আগে সেখানে একটা ছোট মিলাদ হবে, অর্থ্যাৎ সাতটার আগে ছাড়বে না। ফলে নাইটকোচ ধরা ছাড়া উপায় থাকলো না আমাদের। শহর ঘুরতে শুরু করতে না করতেই দেখি বিশাল গোরস্থান, সেখানে শুয়ে আছেন রোমেনা আফাজ - দস্যু বনহুরের স্রষ্টা। 

রোমেনা আফাজ ১৯২৬ সালের ২৭ ডিসেম্বর বগুড়ার শেরপুরে এক মুসলিম সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা কাজেম উদ্দিন ছিলেন পুলিশ ইন্সপেক্টর, মা আছিয়া খাতুন সাহিত্য অনুরাগী। শাজাহানপুর উপজেলার ফুলকোট গ্রামে ডা. আফাজ উল্লাহ সরকারের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। রোমেনা মাত্র ৯ বছর বয়স থেকে লেখালেখি শুরু করেন। তার প্রথম লেখা ছড়ার নাম ছিল বাংলার চাষী। তৎকালে এ ছড়াটি কলকাতার মোহাম্মদী পত্রিকায় প্রকাশ পেয়েছিল। এরপর তিনি ছোট গল্প, কবিতা, কিশোর উপন্যাস, সামাজিক উপন্যাস, গোয়েন্দা ও রহস্য সিরিজ লেখেন। তার লিখিত বইয়ের সংখ্যা ২৫০টি। 

সাহিত্যকর্মের তালিকা:
দেশের মেয়ে: সামাজিক ও পারিবারিক
জানি তুমি আসবে: প্রণয়মূলক উপন্যাস
বনহুর: রহস্য সিরিজ
রক্তে আঁকা মাপ: দুঃসাহসিক অভিযান
মান্দিগোর বাড়ি: কিশোর উপন্যাস

অসামান্য প্রতিভার অধিকারী এই সাহিত্যিক ১২ জুন, ২০০৩ সালে মৃত্যুবরণ করেন৷
Photo: ঠনঠনিয়া বাসস্ট্যান্ডে পৌছে দেখি ঢাকায় ফেরার গাড়ি থাকলেও টিকিট নেই। সবশেষে ছাড়বে যে বাসটা সেটা সদ্য রং করা হয়েছে, বডি থেকে রং এর গন্ধ পাওয়া যায়, ছাড়ার আগে সেখানে একটা ছোট মিলাদ হবে, অর্থ্যাৎ সাতটার আগে ছাড়বে না। ফলে নাইটকোচ ধরা ছাড়া উপায় থাকলো না আমাদের। শহর ঘুরতে শুরু করতে না করতেই দেখি বিশাল গোরস্থান, সেখানে শুয়ে আছেন রোমেনা আফাজ - দস্যু বনহুরের স্রষ্টা।   রোমেনা আফাজ ১৯২৬ সালের ২৭ ডিসেম্বর বগুড়ার শেরপুরে এক মুসলিম সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা কাজেম উদ্দিন ছিলেন পুলিশ ইন্সপেক্টর, মা আছিয়া খাতুন সাহিত্য অনুরাগী। শাজাহানপুর উপজেলার ফুলকোট গ্রামে ডা. আফাজ উল্লাহ সরকারের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। রোমেনা মাত্র ৯ বছর বয়স থেকে লেখালেখি শুরু করেন। তার প্রথম লেখা ছড়ার নাম ছিল বাংলার চাষী। তৎকালে এ ছড়াটি কলকাতার মোহাম্মদী পত্রিকায় প্রকাশ পেয়েছিল। এরপর তিনি ছোট গল্প, কবিতা, কিশোর উপন্যাস, সামাজিক উপন্যাস, গোয়েন্দা ও রহস্য সিরিজ লেখেন। তার লিখিত বইয়ের সংখ্যা ২৫০টি।   সাহিত্যকর্মের তালিকা: দেশের মেয়ে: সামাজিক ও পারিবারিক জানি তুমি আসবে: প্রণয়মূলক উপন্যাস বনহুর: রহস্য সিরিজ রক্তে আঁকা মাপ: দুঃসাহসিক অভিযান মান্দিগোর বাড়ি: কিশোর উপন্যাস  অসামান্য প্রতিভার অধিকারী এই সাহিত্যিক ১২ জুন, ২০০৩ সালে মৃত্যুবরণ করেন৷

শনিবার, ৯ নভেম্বর, ২০১৩

ছ্যাচড়া রোগ

ঠান্ডা সর্দি হল ছ্যাচড়া রোগ - জ্বর হইলেও লোকে জিজ্ঞেস করে - কবে হল, কেন হল। জ্বর আছে কিনা জানার জন্য কপালে হাত দেয়, সেটা কিন্তু দারুন লোভনীয় এবং উপভোগ্য, কিন্তু সর্দি হলে কেউ নাকে হাত দেয় না, কিভাবে হল সেটাও কেউ কেউ জিজ্ঞাসা করে না, সরাসরি পরামর্শ দেয় - হিসটাসিন খেয়ো।

অলস সাহিত্য

মাঝে মাঝে কিছু সময় আসে যখন আপনি অনেক মানুষের মাঝে থেকেও অনেক একা। 


সে সময় আপনি স্থির বসে থাকবেন হয়তো কোন কার্পেট বিছানো মেঝেতে, অথবা গাছপালা ভর্তি বারান্দার কোন এক কোনে, কিংবা হয়তো বিছানায় শুয়ে সিলিং এর দিকে শূন্য চেয়ে থাকবেন, আপনার আশে পাশে পৃথিবীর শত ব্যস্ততা - ছোট বোনটা তার ইচ্ছেমত কথা বলে যাচ্ছে, প্রশ্ন করে যাচ্ছে, অথবা আপনার হাত নিয়ে খেলছে, কিংবা মোবাইল, অথবা অন্য কিছু অথচ আপনি ঠিক এই দুনিয়াতে নেই। কারণ আপনার মোবাইলে, অথবা ল্যাপটপে, অথবা এ দুজায়গার কোনটিতেই নয়, আপনার মাথায় সেট করা বিশাল স্টেরিও সেটে বেজে যাচ্ছে এমন কোন এক অসাধারণ রোমান্টিক গান, যা আপনি মন দিয়ে না শুনলেও হারিয়ে যাচ্ছেন গানের সুরে। 

বুক ভরা ভালোবাসা
রেখেছি তোমারই জন্য
ও প্রিয় আমার, আমি যে তোমার
তুমি শুধু আমারই জন্য।

সে সময়গুলো অনেক অদ্ভুত, কারণ আপনি তখন পৃথিবীতে থেকেও পৃথিবীর বাইরের কেউ, সম্ভবত স্বর্গে যাত্রী, অথবা অন্য কিছু। ওই সময়টায় আপনার মনে জাগতিক কোন দুশ্চিন্তা থাকবে না, জীবনের ছোট-বড় টার্গেটগুলো অ্যাচিভ করার তাড়া থাকবে না। হয়তো সে সময় আপনি হাতড়ে হাতড়ে জীবনের অসংখ্য ঘটনার মধ্য থেকে কোন সুখের ঘটনা খুজে বের করবেন, অথবা তৃপ্তিদায়ক কোন মুহুর্ত, তারপর সেগুলো রোমন্থন করবেন, ঠান্ডা কোমল আইসক্রিম মুখের ভেতর নিয়ে গলে যাওয়া পর্যন্ত যে অনুভূতি, অপার্থিব আবেশ - সেটা পাবেন ওই সময়ে। অতীতের কোন ঘটনা বাদ দিয়ে অনাগত ভবিষ্যতের কোন দৃশ্যকাব্য রচনাও হতে পারে সেই সময়ে। যেহেতু গানের কথাগুলো রোমান্টিক, আশেপাশের পরিবেশটা শান্ত, এবং আপনি বসে আছেন কার্পেট বিছানো কোন মেঝেতে, তখন স্বাভাবিকভাবে ভবিষ্যত সেই দৃশ্যকল্পগুলোয় নানা ধরনের রং ভেসে বেড়াবে পেঁজা পেঁজা তুলোর মত, অল্প অল্প বাতাসে মেয়েদের চুল উড়বে, ছেলেদের হাফ শার্ট ফুলে ফুলে উঠবে, ভবিষ্যতের ঘটনা কিন্তু তৃপ্তির ছোঁয়া পাওয়া যাবে এমন সময়েই। 

এরকম কোন সময়ে অল্প কিছু মানুষ মেঝেতে বিছানো কার্পেটে বসে অলসভাবে স্মৃতি রোমন্থন করে না, করে না কোন ভবিষ্যত স্বপ্ন রচনা, তারা লিখে। লিখতে লিখতেই যদি লম্বা চুলের ছোট বোনটা গোসল করে আসার পর খোঁপা থেকে ভেজা টাওয়েল খুলে বলে - ভাইয়া, আমার চুল আচঁড়ে দিবা? আর ভাইয়াটাও যদি অনভ্যস্ত হাতে চুলে চিরুনী চালানোর সময মনে মনে হিসেব করে - পনেরো বছর, অথবা ষোল, কিংবা সতেরো বছর পরে, তার আম্মার চুলে চিরুনী চালানোর পরে আজ আবারও কোন লম্বা চুলে চিরুনী চালাচ্ছে - তখন কেমন অনুভূতি হয় বলেন তো?

খুব সুখ না, তবে খুব অসুখও নয়, বরং এলোমেলো হলেও কিছু যে লেখা হচ্ছে তার যে তৃপ্তি সেই তৃপ্তি নিয়ে লিখছি - কেমন আছেন আজ?

শুক্রবার, ৮ নভেম্বর, ২০১৩

মানসিক সমস্যা - ৩

ফাহমিদ-উর-রহমান সাহেব ভদ্রজন। সিডেটিভ দেন নাই। তবে বিস্তর আলোচনা করেছেন। তার পড়াশোনার দৌড় শুধু ডাক্তারি বিদ্যা বা গল্প উপন্যাসে সীমাবদ্ধ না, সেটাও জানা গেল। সাইকোলজিক্যাল সমস্যার খুব ভালো দুটো সমাধান তিনি দিয়েছেন।

১. বেশী চিন্তা করবেন না। চিন্তা না করলেই ভালো থাকবেন, চিন্তা করতে গেলেই বিপদ বাড়বে। সুতরাং - নো চিন্তা! চিন্তা থেকে বাঁচার জন্য ব্যস্ত থাকা যেতে পারে, তবে ব্যস্ততা আসলে খুব বেশী সাপোর্ট দিবে না আমার ক্ষেত্রে, কারণ এ কয়দিন সাপোর্ট দেয় নাই।

২. দ্বিতীয় এবং সবচে কার্যকরী সমাধান হল - একা থাকা যাবে না। একা থাকলেই এক নম্বর সমাধান কাজে লাগানো সম্ভব হবে না। কমপক্ষে দোকা থাকতে হবে এবং অ্যাকটিভ থাকতে হবে।

যে কোন ধরনেরই মানসিক চাপ/সমস্যা কাটিয়ে উঠার জন্য এ দুটো পদ্ধতিই বেশ কার্যকর। আপনারা যারা আছেন ফ্রেন্ডলিস্টে - একটু যাচাই করে জানায়েন তো - আসলেই কার্যকর কিনা।

আমি একটু আসি, কম্পিউটারের সামনে বসলে একাই থাকা হয়। বরং আজকে রাতের মত কোথাও পালাই।

বৃহস্পতিবার, ৭ নভেম্বর, ২০১৩

গুডবাই টু ইউ মাই ট্রাস্টেড ফ্রেন্ড

ওয়েস্টলাইফ ব্যান্ডের সাথে পরিচয় সম্ভবত ইমার মাধ্যমে, স্কুলে থাকতে। ইংরেজি গানের প্রতি আমার আগ্রহ কোনকালেই ছিল না, ইমা শুনতো। তার বাসায় কিছু টেপ ছিল, সেগুলোই শুনতে শুনতে মুখস্ত করে ফেলেছিল। সেই গানের লিরিক বলে আমার মাঝে আগ্রহও তৈরী করার চেষ্টা ছিল সম্ভবত। ফলে ওয়েস্টলাইফের গানের সাথে পরিচয় হয়। পরে অবশ্য, ভাইয়ের কল্যাণে ওয়েস্টলাইফের একটা পুরো অ্যালবামই কয়েকশত বার শোনা হয়েছিল।

বহুদিন পরে আজকে আবার ওয়েস্টলাইফ শুনলাম। কৈশোরে ওই গানের টাইটেল ছিল 'গুড বাই টু ইউ মাই ট্রাস্টেড ফ্রেন্ড', এখন সেটা হয়েছে 'সিজনস ইন দ্য সান'. লিরিক কিছুটা বুঝতাম, বাকীটা উ-উ-উ-উ করে পাস করতে হতো। গান শুনতে শুনতে আজ সেই গানের লিরিকও বের করে ফেললাম।


Goodbye my friend, it's hard to die,

when all the birds are singing in the sky,

Now that the spring is in the air.

We had joy, we had fun, we had seasons in the sun.

But the hills that we climbed

were just seasons out of time.

ইটস কম্প্লিকেটেড

'এ' যখন স্কুল পেরিয়ে কলেজে ঢুকল, তখনো সে সিঙ্গল এবং যখন তার আশে পাশের কম্প্লিকেটেড বা ইন আ রিলেশনশিপের বন্ধুরা তাকে তাচ্ছিল্য অথবা করুণা করতে শুরু করল, তখন সহ্য করতে না পেরে একদিন এ তারই ক্লাসমেট 'বি' কে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে ফেলল। সিঙ্গল থাকতে থাকতে 'বি'-ও অসহ্য হয়ে পড়েছিল, তাই 'এ' ঠিক রাইট চয়েস না হওয়া সত্ত্বেও 'বি' রাজী হয়ে গেল এবং দুজনেই সিঙ্গল থেকে ইন আ রিলেশনশিপে প্রমোটেড হল।



ভালোই চলছিল। 'এ' এর ফ্রেন্ড 'সি'র সাথে সম্পর্ক ছিল 'ডি' নামের একজনের, কিন্তু কি এক কারণে তাদের রিলেশনশীপ কম্প্লিকেটেড হয়ে গেল। কম্প্লিকেটেড রিলেশনশীপটা অসহ্য। এতদিনের অভ্যাসকে মানিয়ে নেয়া কষ্ট হচ্ছিল, তাই 'সি' সাহায্য চাইল 'এ'র। বেশী কিছু নয়, সামলে উঠা পর্যন্ত একটু পাশে থাকলেই চলবে। বন্ধু 'সি'র জন্য এতটুকু করতে 'এ'র আপত্তি ছিল না। কিন্তু 'ডি'কে ভুলে থাকতেই যেন 'সি' একসময় 'এ'তে ডুব দিল। 'বি'কে বাদ দিয়ে 'সি'র সাথে সম্পর্কে জড়ানোর কোন ইচ্ছা ছিল না কিন্তু একদিন 'বি'র সাথে তার ঝগড়া হল এবং ব্রেকআপ হয়ে গেল। 'বি'কে ভুলে যাওয়ার জন্য 'সি'র সাথে ইন আ রিলেশনশীপে গেল 'এ', অন্যদিকে 'এ'র সাথে ব্রেকআপ হয়ে যাওয়ায় সিঙ্গল 'বি' অল্প কদিনেই 'এফ' এর সাথে রিলেশনশিপে শিফট করল। এদিকে 'সি'র মনে হচ্ছিল 'এ'র তুলনায় 'ডি'ই হয়তো বেটার কিন্তু 'ডি' ততদিনে 'ই'র সাথে ইন আ রিলেশনশীপ। 'ই'র সাথে রিলেশনশিপ হয়ে গেলেও 'সি' 'ডি'র সাথে শুধু ফ্রেন্ড হয়ে থাকতে চাইল। 'ডি'র কোন আপত্তি ছিল না, কারণ সি'ও তো একজন 'এ'র সাথে ইন আ রিলেশনশিপ, কিন্তু 'ই'র জন্য ব্যাপারটা সহজ ছিল না। সে বুঝতে পারছিল এভাবে চললে শেষ পর্যন্ত 'ডি'র সাথে 'সি'র সম্পর্ক ইন আ রিলেশনশিপ হলেও হতে পারে কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার সাথে কম্প্লিকেটেডই থেকে যাবে। ফলে 'ই' চাচ্ছিল একজন 'জি'কে খুঁজে নিতে যে কিনা শেষ পর্যন্ত তারই মত হবে। একজন 'জি'কে সে পেয়েও গেল, কিন্তু 'জি' কিছুদিন 'ই'র সাথে ইন আ রিলেশনশিপ থাকার পর বুঝতে পারল 'ই' ইজ নট দ্য রাইট চয়েজ। ফলে সে 'এইচ' এর দিকে ঝুকতে শুরু করল। 'ই' ভেবেছিল, এই শেষ, সে সারাজীবন সিঙ্গলই থেকে যাবে, কিন্তু একদিন 'আই' তাকে প্রপোজ করে ফেলল। 'আই' এর আছে এমন এক ইতিহাস যেখানে বি, সি, এইচ কিংবা অন্যান্য আরও অনেকের নাম আছে। এমন একজন 'আই' এর প্রপোজাল গ্রহণ করার ব্যাপারে 'ই'র আপত্তি ছিল অনেক, কিন্তু একটু ভাবতে গিয়ে সে টের পেল 'আই' এর তুলনায় সে ভালো অবস্থানে থাকলেও তার ইতিহাসেও আছে 'ডি' কিংবা 'জি'র মত মানুষেরা।


'ই' বুঝতে পারছিল এই তালিকায় আরও নাম যুক্ত হবে, যুক্ত হবে 'আই'এর তালিকায়ও, কিন্তু সে বুঝতে পারছিল না এ, বি, সি, ডি, ই, এফ, জি, এইচ, আই এবং তারপরে জে, কে, এল, এম, এন, অথবা ও, পি, কিউ, আর, এস, টি বা ডব্লিউ, এক্স, ওয়াই, জেড মিলে জটিল যে জাল তৈরী হচ্ছে তার সমাপ্তি আসলে কোথায়?

বুধবার, ৬ নভেম্বর, ২০১৩

মানসিক সমস্যা - ২

ডঃ ফাহমিদ-উর-রহমান
এমবিবিএস, এমফিল, এফসিপিএস
প্রাক্তন রেজিষ্ট্রার, সানসাইন হসপিটাল মেলবোর্ন, অস্ট্রেলিয়া
সহকারী অধ্যাপক
মনোরোগ, অনিদ্রা, টেনশন, মাথাব্যাথা ও মাদকাসক্তি রোগ বিশেষজ্ঞ
জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট, শের-ই-বাংলা নগর, ঢাকা।

গতকাল থেকে ব্যাপক খোঁজাখুজির পর এই ভদ্রলোকের সন্ধান পাওয়া গেছে। বাকীরা প্রধান ক্রাইটেরিয়াই পূরণ করতে পারে নি, ইনি পেরেছেন। যার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে তিনি এও জানিয়েছেন - ভদ্রলোক হাফ পাগলা, তবে কামড় বা খামচি দেয় না। মোটামুটি নিশ্চিন্ত হয়ে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়েছি সকালে, সিরিয়াল নাম্বার সিক্স।

পুরোপুরি নিশ্চিন্ত হতে পারি নি, কারণ ছোট্ট একটা ভুল হয়ে গেছে। আমি খুঁজেছিলাম সাইকোলজিস্ট, কিন্তু এসে পড়েছি সাইক্রিয়াটিস্টের কাছে। সম্ভবত ইনি সিডেটিভ টাইপ কিছু দিয়ে দিবেন। বড় আপা অবশ্য বলে দিয়েছেন - ডাক্তারকে যেন আগেই বলে দেই সিডেটিভ না দেয়ার জন্য - ঘুমের সমস্যা নেই। 

অ্যাটেন্ডেন্সের কাছে ৫০০ টাকা ভিজিট দিয়ে অপেক্ষা করা শুরু করলাম। একমাসের মধ্যে আরেকবার আসলে হাফ ভিজিট, একমাসের পরে আসলে ফুল। ডাক্তার ভদ্রলোক গড়ে দৈনিক ছয়জন রোগী দেখেন, দেড় ঘন্টা সময়ে। তারমানে রোগী ঢুকলে গতানুগতিক সমস্যা মনে করে প্রেসক্রিপশন লিখে দেবেন -হয়তো তিনি খুব দ্রুতই বুঝে ফেলবেন সমস্যাটা, কিন্তু রোগীর সমস্যাটাই তো মনে - সে যদি কনভিন্সড না হয়? স্ট্রাইকিং কিছু একটা বলতে হবে - যা শুনলে রোগীতে আগ্রহ পাবেন ডাক্তার। কি বলা যায়? কি বলা উচিত?

রোগীদের সাথে বসে টিভিতে নিউজ দেখতে লাগলাম। জাপানে বিশ্বাস করা হয় বাচ্চারা কাঁদলে নাকি স্বাস্থ্য ভালো থাকে। তাই এক দেড় বছরের বাচ্চাদের নানা কসরতের মাধ্যমে কাঁদানো হচ্ছে। প্রায় ন্যাংটা দুজন সুমো কুস্তিগীর দুটো বাচ্চাকে আলগে ধরে মুখোমুখি করাচ্ছে আর অদ্ভুত দর্শন এক লোক, তার হাতে একটা হাতপাখা টাইপ কিছু, ইয়াআআআআ বলে চিৎকার করে বাচ্চাদের ভয় দেখাচ্ছে। বাচ্চারা কাঁদছে চিৎকার করে, বাচ্চার মা হাসিমুখে বলছে - আমার ছেলে কেঁদেছে, আমি খুশী। ওইরকম কুস্তিগীর আমাকে ধরলেই আমি আকাশ বাতাস কাপিয়ে কাঁদতে শুরু করতাম, এই বাচ্চাগুলো সে তুলনায় অনেক সাহসী!

কাছেই কোথায় যেন বোমা ফাটল একটা। পটকা বা গোলাগুলির আওয়াজও পাওয়া গেল। রুগীর দর্শনার্থীরা জানালায় ভিড় করেছে। আমি অপেক্ষা করছি ভেতর থেকে মেহরীন বের হয়ে আসার জন্য। মেহরীন গতকালকেও সিরিয়াল নিয়েছিল, মিস করেছে। আজ আবার নিয়েছে। 

দরজা খুলল। প্রথমে যিনি বের হলেন তিনি মেহরীন হতে পারেন না, বয়স্ক এক ভদ্রলোক। তারপর যিনি বের হলেন - তিনিও না, মধ্যবয়স্ক ভদ্রলোক। তারপরের জন হতেও পারেন, বয়স্ক মহিলা। কিন্তু তিনি নন। সবশেষে যিনি বের হলেন তিনিই মেহরীন - চমৎকার সুন্দরী তরুণী। এই আকর্ষণীয় মহিলা মনরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে কেন? মাদকাসক্তি? নাকি অনিদ্রা? অথবা মাথাব্যাথা?

চিন্তায় ছেদ পড়ল অ্যাটেন্ডেন্সের ডাকে - নাজমুল হাসান? 
ইয়াপ্প!
আসেন।

শনিবার, ২ নভেম্বর, ২০১৩

ঢাকা থেকে পালিয়ে

১.
'আপনি বাস থেকে নামবেন কিনা বলেন!' - বাস ছাড়ার আধাঘন্টার মাঝেই এই হুমকী শুনতে হল। ভয়েই ছিলাম - শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ঢাকা থেকে পালিয়েছি, শান্তির গুষ্ঠিতে মড়ক লাগলো না তো!

২.
আড়াইশ টাকার হোটেল রুমে অ্যাটাচড টয়লেটের দরজা আটকায় না। ঠেসে লাগালে কোনভাবে আটকে থাকে। সেভাবেই আটকে দিয়ে চিন্তা করতে বসলাম। হঠাৎ দেখি দরজা আস্তে আস্তে খুলে যাচ্ছে। কোন পেত্নীর অতৃপ্ত প্রেতাত্মা ঢুকে পড়বে কিনা সেই চিন্তা না, বরং খোলা দরজা দিয়ে ইজ্জত বের হয়ে যায় কিনা এই ভয়ে খাঁচা থেকে আত্মাটাই বের হয়ে যাচ্ছিল প্রায়!

৩.
সারা বাংলাদেশে এত এত মসজিদ না থাকলে শুধু টয়লেট ব্যবহারের জন্যই হোটেল ভাড়া দিয়ে ফকির হয়ে যেতাম - আমাদের মত ভ্রমণকারীদের জন্য মসজিদ একটা বড় ব্লেসিংস!

৪.
দুই দিনে চার জেলা - প্রায় ১০০০ কিলো - মাত্র ১৫৯১ টাকায়!

৫.


ম্যাপের সাদা অংশগুলো পূরণ করতে আরও তিন থেকে চারবার ঢাকা থেকে পালাতে হবে। বেস্ট অব লাক টু ইউ দারাশিকো!

বুধবার, ৩০ অক্টোবর, ২০১৩

চেতন ভগত - প্রেম বিষয়ক

চেতন ভগত ভাইয়ার দুইটা বই পড়ার সুযোগ হয়েছে, একখানা সিনেমাও। আজকে আবার তার দেয়া নিচের বাণীটুকুও পড়ার সুযোগ হল - মাথা কেমন ঝিমঝিম করতেছে। কোনটা ফেক অ্যাকাউন্ট? রাইটার? নাকি এই কোটেশন প্রোভাইডার?

I see guys spending weeks, months trying to make a girl happy. I see girls waiting endlessly for their guys to call. Is that all your life is about? For your lover to validate you? Or to make a relationship work? Instead, why not focus on yourself - working on your goals, learning something, being a more positive person and helping others. That will boost your self-esteem far more than any lover ever could. Next time that guy or girl treats you badly, say thank you.Say thank you for reminding me that I need to make myself the focus of my life, not you.

মঙ্গলবার, ২৯ অক্টোবর, ২০১৩

ওয়েস্টার্ণ স্ট্যাটাস!

সেভেন রোডস এলাকায় একটা মাইনিং কোম্পানি কাজ শুরু করেছে কিছুদিন আগে। বিশাল বিশাল যন্ত্রপাতি আর গাইতি-কোদাল হাতে শ্রমিক দিয়ে জায়গাটা পরিপূর্ণ। দিন নেই রাত নেই, বিরামহীনভাবে মহাকর্মযজ্ঞ চলছে। এই যজ্ঞকে পাশ কাটিয়ে আমার বিশাল কালো স্ট্যালিয়নটা দুলকি চালে ডানদিকে তেজগা ভ্যালির দিকে ঢুকে পড়ল।


গতকাল সন্ধ্যায় স্ট্যালিয়নটাকে আস্তবলে দিয়েছিলাম। ভালোমত দলাই মালাই করা হয়েছে, পেট ভর্তি করে দানাপানিও দেয়া হয়েছে। স্ট্যালিয়নটা এখন তরতাজা আর প্রাণবন্ত - পেটে গুতো দিলেই ছুটছে। আমি যাবো নিকেতন টাউনে। তাড়া নেই, এক সময় পৌছুলেই হবে। পথ চেনে স্ট্যালিয়নটা - সুতরাং আমি স্যাডলে বসে ঝিমাতে লাগলাম, স্ট্যালিয়ন চলল নিজের গতিতে।

বেগুনবাড়ি বেসিন থেকে হঠাৎ একটা ছোট্ট নেটিভ ইন্ডিয়ান ছোড়া তীরবেগে ছুটে বেরিয়ে এল। ছোড়াটার বয়স নয় কি দশ, উদোম গা, লুঙ্গি পেচিয়ে নেংটি বাধা কোমরে। একটা ছোট্ট হাড় জিরজিরে টাট্টু ঘোড়ার পিঠে সওয়ারী সে। স্যাডল নেই, কোনমতে রেকাবের মাঝে পা জড়িয়ে আছে। অবস্থা ইন্ডিয়ানটাকে চলে যাওয়ার সুযোগ করে দেয়ার জন্য লাগাম টেনে স্ট্যালিয়নটার গতি কমালাম। ছোড়াটাও একটু সামনে এগিয়ে থামল। আমি কাছাকাছি পৌছাতেই 'আপনার আগে যামু' বলে তার ঘোড়াটার পেটে সজোরে গুতা দিল সে - কিছু বুঝে উঠার আগেই সেটা ছুটতে শুরু করল। আমি স্ট্যালিয়নটার পেটে হালকা গুতা দিলাম - ইঙ্গিত বুঝল সে - ছুটলো। 

ধরে ফেলছি প্রায় এমন সময় হঠাৎ ইন্ডিয়ান ছোড়াটার ডান পায়ের রেকাব ছিড়ে গেল। তাল সামলাতে না পেরে ছেলেটা প্রায় ছিটকে পড়তে পড়তে বেঁচে গেল। ছেড়া রেকাবটা ফেলে রেখেই কিছুদূর গিয়ে থেমে গেল সে। আমি গতি কমালাম - তারপর টিং টিং করে বেল বাজাতে বাজাতে পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বললাম - 'এইবার আমি আগে যাই' ;)

লড়াইয়ে হেরে যাওয়ার পর

কোন লড়াইয়ে হেরে যাওয়ার পর পালিয়ে গিয়ে হারিয়ে যাওয়ার যে চেষ্টা সেটাও একটা লড়াই, সেই লড়াইয়েও যদি হেরে যেতে হয় তবে দ্বিতীয় আরেকটি উপায়ই থাকে - 'প্রে ফর মি' বলে জীবনবাজি রেখে পুনরায় লড়াইয়ে ফিরে আসা। 

জুন মাসে জন্ম বলে বাবা-মা উনার নাম রেখেছিলেন জুন। ২০১২ সালের জুন মাস আসার দুমাস আগে এপ্রিলেই লড়াইয়ে হেরে গিয়ে পালিয়ে গিয়ে হারিয়ে গেলেন জুনভাই। জ্যাক রিচার সম্পর্কে তার ধারনা ছিল না, এখনো নেই - কিন্তু হারিয়ে যাওয়ার জন্য ইন্সটিংক্টই যথেষ্ট। জুনভাই প্রথমে চাকরী ছেড়ে দিলেন, তারপর হারিয়ে গেলেন। দুটো সেল নাম্বারের একটিও খোলা পাওয়া গেল না, পাঠানো মেসেজগুলো দুই দিন বাতাসে ঘোরাফেরা করে ফেরত আসতে লাগল। ফেসবুক আইডি ডিঅ্যাকটিভেট হয়ে গেল, টুইটারে অ্যাকাউন্ট ছিলই না, জিমেইলে মেইলের রিপ্লাই আসা বন্ধ হয়ে গেল। জুনভাইয়ের পরিচিত সব জায়গায় নক করেও ৩০শে এপ্রিলের পরের কোন খোঁজ পাওয়া গেল না। 

সর্বশেষ প্রচেষ্টা হিসেবে একদিন সকাল নটায় আমি জুনভাইয়ের বাসা খুঁজে বের করে বন্ধ কলাপসিবল গেটের সামনে দাড়িয়ে থাকলাম। মিনিট বিশেক দাড়িয়ে থেকে ডাকাডাকি করেও দরজা খোলা গেল না, ফিরে আসবো এমন সময় বিল্ডিং এর অন্য কোন বাসিন্দার বদান্যতায় কলাপসিবল গেটের ভেতরে ঢোকার সুযোগ পেয়ে গেলাম। কিন্তু জুন ভাইয়ের বাসায় কোন লোক ছিল না, দরজায় বড় বড় দুটো তালা। ভিজিটিং কার্ডের পেছনে ছোট্ট চিঠি লিখে তালার মাঝে গুজে রেখে ফেরত এলাম, কিন্তু কেউ যোগাযোগ করল না।

মাসখানেক পর এক ছুটির দিনে আবারও গেলাম। এবারও ডাকাডাকির কোন ফল পাওয়া গেল না, তবে কোন এক বাসার কাজের বুয়ার কারণে ঢুকে পড়তে পারলাম। দরজা খুলল জুনভাইয়ের রুমমেট জন। জুনভাই সংক্রান্ত কোন খবরই তার কাছ থেকে পাওয়া গেল না, তবে জুনভাইয়ের ছোট ভাইকে পাওয়া গেল জুনভাইয়ে বিছানায় ঘুমন্ত অবস্থায়। আমার সকল ধরনের প্রশ্নের উত্তরে তিনি শুধু একটা কথাই বললেন - ভাইয়াকে বলবো আপনাকে ফোন করতে। জুনভাই আমাকে আর ফোন করেন নি।

২০১৩ সালের জুন পেরিয়ে অক্টোবরের এক সন্ধ্যায় নতুন এক নাম্বার থেকে ফোন এল - হ্যালো, আমি জুন! সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে দেশ থেকে পালিয়ে গিয়ে হারিয়ে যাওয়ার লড়াইয়ে হেরে গিয়েছেন জুনভাই। পুরাতন লড়াইয়ে ফিরে আসা ছাড়া তার কোন বিকল্প ছিল না - পুরানো প্রতিদ্বন্দ্বীরাও প্রস্তুতি নিয়ে বসে আছে - দেড় বছর বাদে জুনভাইকে ফিরতে দেখে জুনভাইয়ের সামনেই অন্যদের জানিয়ে দিয়েছে - জুন এসেছে অক্টোবরে, এবার ক্যু হবে!<

লড়াইয়ে প্রত্যাবর্তনে স্বাগতম জুনভাই। ফাইট জুনভাই! ফাইট টু উইন!! বেস্ট অব লাক!!!

সোমবার, ২১ অক্টোবর, ২০১৩

যদি লড়াইয়ে হেরে যাই

কোন লড়াইয়ে যদি হেরে যান আপনি, কি করবেন?


রবার্ট ব্রুস হার স্বীকার করেন নি। বার বার লড়াইয়ে ফিরে এসেছেন। ষষ্ঠতম বারে তিনি আর হারেন নি, জিতেছেন এবং লড়াইয়ের সমাপ্তি নিশ্চিত করেছেন।দারাশিকোর পূর্বপুরুষ মোঘল সম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা জহিরউদ্দিন মুহাম্মদ বাবরও হারতে রাজী ছিলেন না। তার জীবন কেটেছে লড়াইয়ের ময়দানে - হেরেছেন, ফিরে এসেছেন, জিতেছেন, আবার হেরেছেন, আবার ফিরেছেন, জিতেছেন - তার এই লড়াইয়ের আবর্তন শেষ পর্যন্ত তাকে বিজয়ী করেছে, মুঘল সম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠা করে তিনি লড়াই থেকে বিশ্রাম নিয়েছিলেন। কিন্তু তার বংশধর মুঘল সম্রাজ্যের সন্তান দারাশিকো লড়াইয়ে হেরে যাওয়ার পর ফিরতে পারেন নি। প্রতিপক্ষের তুলনায় তিনি জনপ্রিয় ছিলেন, কিন্তু যোগ্য ছিলেন না। লড়াইয়ে ফেরার স্বপ্ন নিয়ে তিনি পালিয়ে গিয়েছিলেন, কিন্তু লড়াইয়ে ফেরার আগেই তার মুন্ডু চলে গিয়েছিল প্রতিপক্ষের কাছে।


লড়াইয়ে হেরে গেলে সেই হার সহ্য করতে না পেরে দড়িতে ঝুলে পড়ে অনেকে। কেউ কেউ নিয়ম ভেঙ্গে প্রতিপক্ষকেই মেরে ফেলে - তাতে অবশ্য লড়াইয়ে জেতা হয় না, লড়াইয়ের মাত্রা পরিবর্তন হয় কেবল।


আমার যে লড়াই, তাতে হেরে গেলে আমি কি করবো?


প্রথমে পালিয়ে যাবো, তারপর হারিয়ে যাবো।


বর্তমানের ইন্টারকানেক্টেড এই দুনিয়ায় কিভাবে হারিয়ে যেতে হয় সেটা শেখা যাবে জ্যাক রিচারের কাছ থেকে - বই পড়ে অথবা সিনেমা দেখে। জ্যাক রিচার ইউএস এর বৈধ পাসপোর্ট নিয়ে দেশ থেকে বের হন, তারপর অবৈধ পাসপোর্ট নিয়ে আবার দেশে প্রবেশ করেন। জ্যাক রিচারের কোন ইমেইল নেই, কোন ফেসবুক বা টুইটার আইডি নেই। জ্যাক রিচারের কোন মোবাইল ফোন নেই, ট্যাক্স আইডেন্টিফাইং নাম্বার নেই, ইউটিলিটি বিল রেজিস্ট্রেশন নেই। তার কোন গাড়ি নেই - সে হিচহাইকিং বা পাবলিক বাসে ভ্রমণ করে। তার সাথে থাকে টাকা পয়সা, ভাঁজ করা যায় এমন টুথব্রাশ, এটিএম ডেবিট কার্ড এবং একটি এক্সপায়ার্ড পাসপোর্ট। জ্যাক রিচারকে কেউ খুঁজে পায় না, বরং প্রয়োজন হলে জ্যাক রিচারই খুঁজে নেয়। হারিয়ে যাওয়া খুব কঠিন কিছু না। দেশের মধ্যেই পালিয়ে যেতে হলে হিল ট্র্যাক্টস আদর্শ জায়গা। মুহাম্মদ জাফর ইকবালের 'আকাশ বাড়িয়ে দাও' উপন্যাস পড়ে আমি প্রথম ধারনা পেয়েছিলাম পালিয়ে থাকার এই জায়গা সম্পর্কে। হিল ট্র্যাক্টস ঘুরে এসে নিশ্চিত হয়েছি। দেশের বাইরে? কানাডা, আমেরিকা, জার্মানি, ফ্রান্স, শ্রীলংকা, নিদেনপক্ষে ভারতের কোলকাতা অথবা মহারাষ্ট্রের আওরঙ্গবাদ জেলায় অজন্তা গুহার আশে পাশে। আমেরিকায় গ্রান্ড ক্যানিয়নে ঘুরে বেড়ানোর সময় আবদুল্লাহ আবু সাইয়ীদের 'ওড়াউড়ির দিন'কে মনে করব। শ্রীলংকায় যাবো জেফরি বাওয়ার আর্কিটেকচারাল কাজকর্ম দেখতে, এবং আর্কিওলজিক্যাল সাইটস। হুমায়ূন আহমেদের 'রাবনের দেশে আমি ও আমরা' বইতে তার সাথে ছিল স্ত্রী শাওন - আমার সাথে কে থাকবে? কোলকাতায় বা মহারাষ্ট্রে ফেলুদা ছিল তোপসের সাথে, ফেলুদাকে বাদ দিয়ে অজন্তা গুহা, কিংবা কোলকাতার সেমিট্রি আমার ভালো লাগবে? বোধহয় এ কারণেই ফ্রান্সে আমার যাওয়া হবে না। কারণ সেখানে মিউজিয়াম আর 'শ্যাতো' দেখতে হলে আমার অবশ্যই চাই একজন মার্গারেট, সুনীলের যেমন ছিল 'ছবির দেশে কবিতার দেশে' বইতে। মার্গারেট হবার প্রতিশ্রুতি দিলে আমি হেরে যাওয়ার পর ঠিক ফ্রান্সে চলে যেতাম, তারপর জ্যাক রিচারের মত পরিচয় গোপন করে মার্গারেটের সাথে ঘুরে বেড়াতাম - মিউজিয়ামে, আর শ্যাতো-সাইটগুলোতে।


হেরে যাওয়ার পর পালিয়ে গিয়ে হারিয়ে যাওয়ার যে চেষ্টা সেটাও একটা লড়াই, সেই লড়াইয়েও যদি হেরে যাই, তখন কি হবে?

রবিবার, ২০ অক্টোবর, ২০১৩

আর্থিক ও মানসিক দারিদ্র্য

১. মরুপথ। দূরের রাস্তা। দুজন মানুষ। বাহন একটিমাত্র উট। পালা করে চলছিলেন দুজনে। গন্তব্যে যখন পৌছে গেলেন তখন ভৃত্য উপরে - উটের পিঠে আর মনিব নিচে - উটের দড়ি ধরে। লোকেরা উটের উপরে বসে থাকা ভৃত্যকেই বরণ করে নিতে চাইলে বাধা দেন ভৃত্য। ভুল শুধরে জানিয়ে দেন, উপরের নয়, নিচে দড়ি হাতে দাড়ানো লোকটিই আমেরুল মুমিনীন অর্ধেক পৃথিবীর খলিফা হযরত উমার ইবনুল খাত্তাব (রা)। 

২. বিআরটিসি-র এসি বাসে ফিরছি। আড়াই ঘন্টার যাত্রা। পাশের সিটে দম্পত্তির কোল দেড় দু-বছরের একটি বাচ্চা। বাচ্চার দেখাশোনায় সাহায্য করার জন্য বছর দশেকের ছেলে মামুন। আড়াই ঘন্টার রাস্তায় দেড় ঘন্টা সে করিডোরে দাড়িয়েই ছিল। দুজনের সিটে তিনজন - স্বস্তিদায়ক নয়। 

৩. হযরত উমার (রা) এর ঘটনার পরে মামুনের ঘটনার প্রকাশে দম্পত্তি দোষী হয়। কিন্তু আড়াই ঘন্টার যাত্রায় তিনশ টাকা দিয়ে আরও একটি টিকিট কাটা কি সবার পক্ষে সম্ভব - আর্থিক সঙ্গতি কিংবা মানসিকতায়? বোধহয় সম্ভব না। আমার খালা পেরেছেন। চাকুরীজীবি খালা-খালুর একমাত্র মেয়েকে সঙ্গ দেয়ার জন্য বিভিন্ন সময়ে যে সকল মেয়ে তাদের পরিবারে এসেছে তার পোশাক দেখে অন্তত কখনো মনে হয় নি সে কাজিনের বোন নয়।

৪. বাহন হিসেবে উট চলে না এখন, গাড়ি চলে - সেখানে কমে চারজন বসা যায়। রিকশাও চলে, সেখানে কমে দুইজন বসে। গাড়ির সামনের সিটে ড্রাইভারের পাশে কিংবা রিকশার পেছনে যাত্রীর পায়ের কাছে যদি কেউ বসে তবে সেটা অবশ্যই দারিদ্র্যের কারণে। যিনি সামনে অথবা নিচে বসেন, তিনি অর্থনৈতিক দারিদ্র্যের শিকার, পেছনের বা উপরের জন মানসিক। 

৫. রাব্বুল আলামীন সকলকে স্বচ্ছলতা দিক - অর্থনৈতিক এবং মানসিক। আমিন।

বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১৩

একটি সাদা শুভ্র স্ট্যাটাস!


ফাল্গুনের দুই তারিখ শীতের সকালে সাদা চাদর জড়িয়ে আমি ওদের বাসার সামনে উপস্থিত হলাম। আমার হাতে চৌদ্দটি সাদা গোলাপ। সাদা বাড়িটার একতলায় ওদের বাসা। দরজা বন্ধ ছিল, তাই নক না করে সামনের বারান্দায় বসে রইলাম। একসময় দরজা খুলে দাদু বেরিয়ে এলেন। তার ধবধবে সাদা দাড়ি ও পাঞ্জাবীতে পানের পিক ফিকে বর্ণ ধারণ করেছে। দাদু আমাএ দেখে আমার খুব প্রিয় বইয়ের নামে আমাকে ডাকলেন, 'এই শুভ্র! এই' আমি চমকে হাতের চৌদ্দটি সাদা গোলাপ আমার সাদা চাদরের নিচে লুকিয়ে ফেললাম। জ্ঞানী দাদুকে প্রশ্ন করলাম, 'ও সাদা বুড়ো, তুমি কি বলতে পারো শুভ্র সকাল কেন বলে?' সাদা দাঁতে হাসলেন দাদু। 'অবশ্যই। শুভ্র মানে সাদা, সাদা মানে যেখানে কোন রং নেই। আর সাদা মানে পবিত্র, সাদা মানে সুন্দর, সাদা মানেই শান্তির প্রতীক। তাই সুন্র সকাল মানেই শুভ্র সকাল।'





ভেতরে এসে বসলাম। কাঁচবাক্সে সাদা কিসিং গ্রুমি এই সক্কাল বেলাতেও ঘুরে ঘুরে কিস করে যাচ্ছে। ক্লাস টু-তে পড়ুয়া রুমি সাদা স্কুল ড্রেসে হাজির হল। আমি তাকে দেখেই বললাম, 'সাদা সাদা আরও সাদা'. রুমি তার যে দাঁতটি সেদিন ফেলে দেয়া হল সেটিকে চেপে হাসল।





ওকে ডেকে পাঠালাম। সে আসল না। আমি সাদা কাগজে কালো আর লাল কালিতে গুটি গুটি করে লেখা চিঠিটা আর চৌদ্দটা সাদা গোলাপ টেবিলে রেখে বেরিয়ে এলাম।





একদিন দুপুরে ছাদে দাড়িয়ে দেখেছিলাম - দূরে ধবল বক উড়ে যায়। গুলতিতে সাদা মার্বেল মেরে একটি ধরেছিলাম, ভালোও বেসেছিলাম। কিন্তু ধবল বক আমার হয় নি।সাদা বক হারিয়ে গেল একদিন। আমি জেনে গেলাম শুভ্র রং এর বক কখনো আমার নয়।





চাদরকে কাঁধে ফেলে আমি শূন্য রাস্তায় হেটে চললাম। আমার চোখে যে শুভ্র রং আর শুভ্র ছাড়া কিছুই নেই।


শনিবার, ১২ অক্টোবর, ২০১৩

ফু!

চাচ্চু! মশা কামড়াইছে। ফু দাও।
ফু!
ওকে দাও (সিলিং ফ্যান)
ফু!
ওকে দাও (জানালা)
ফু!
ওকে দাও (ল্যাপটপ)
ফু!
ওকে দাও (শো-কেস)
ফু!
ওকে দাও (ছোট চাচ্চু)
ফু!
ওকে দাও (... ...)
আমার ফু শেষ হয়ে গেছে চাচ্চু!

আড়াই বছরের ভাতিজির কল্যাণে বিজিয়েস্ট টাইম যাচ্ছে। কাজের ধরণ উপরে বলা আছে।

শুক্রবার, ১১ অক্টোবর, ২০১৩

The Hunt: শিশু নির্যাতন, ভিন্ন বাস্তবতা

images (1)

২০০৭ সালের একটা ঘটনা শেয়ার করি। ঘনিষ্ঠ বন্ধুর খালাতো বোনটা তখন নার্সারিতে পড়ে। বন্ধু বেড়াতে গেলেই প্রচুর দুষ্টামি হত। একদিন এই দুষ্টামির মাঝখানে হঠাৎ সে ‘এই তুমি আমার গায়ে হাত দিলা ক্যান?’ বলেই খেলা থামিয়ে সোজা তার মায়ের কাছে বিচার দিয়ে এল – ‘আম্মা, ভাইয়া আমার গায়ে হাত দিছে’। বিচার দেয়া শেষে ফিরে আবার দুষ্টামি শুরু করেছে বন্ধুর সাথে, কিন্তু বন্ধু বজ্রাহত হয়ে বসে ছিল, সারাদিনই তার এভাবেই কেটেছে। রাতে আমাকে বলেছিল – যদি তার খালা এই কথাটাকে গুরুত্ব দিত, তাহলে কি হত? ঘটনাটা যদি খালাতো বোনের সাথে না ঘটে অন্য কোন পিচ্চির সাথে ঘটতো – তাহলে কি হত?

শুক্রবার, ৪ অক্টোবর, ২০১৩

জিরাফ হোটেল

Nazmul Hasan Darashiko's photo.

Nazmul Hasan Darashiko's photo.

Nazmul Hasan Darashiko's photo.









সকাল বেলা ব্রেকফাস্ট করতে বসেছেন। পাউরুটিতে জেলি মাখিয়ে মুখে পুরতে যাবেন আর তখনই আপনার পেছন থেকে মাথা বাড়িয়ে দিল বিশালকায় এক জিরাফ - জেলি মাখা পাউরুটি খাওয়ার লোভে - কেমন লাগবে ভাবুনতো!
কেনিয়ার নাইরোবিতে অবস্থিত জিরাফ ম্যানর নামের হোটেলে ঠিক এই অভিজ্ঞতাই পাওয়া সম্ভব। ১২ একর জায়গায় অবস্থিত এই হোটেলটি আভিজাত্যপূর্ণ ডিজাইন আর আসবাপত্রে ভর্তি। হোটেলের সাথেই ১৪০ একর জায়গার রয়েছে জিরাফের অভয়ারণ্য। বিপন্নপ্রায় জিরাফকের প্রজননের জন্য এই অভয়ারণ্যটি ব্যবহৃত হয়। হোটেল হিসেবে ব্যবহৃত বাড়িটি ১৯৩২ সালে স্যার ডেভিড ডানকান তৈরী করেছিলেন। নানাভাবে হাত বদল হয়ে বর্তমানে এটি হোটেল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। যদি কেউ এই হোটেলে থাকার আগ্রহ বোধ করেন তাহলে তাদের ওয়েবসাইট (www.giraffemanor.com/) থেকে বিস্তারিত জেনে নিতে পারেন। বাকীরা এই ছবিগুলো দেখে আফসোস করতে পারেন। শুভকামনা

বৃহস্পতিবার, ৩ অক্টোবর, ২০১৩

খালার গল্প!

আমাদের ফ্ল্যাটে রান্না বান্না করে আমাদের খাওয়ান যে বুয়া তাকে আমরা খালা ডাকি। বয়স্ক মহিলা। রান্না কেমন করেন সেটা নিয়ে মতভেদ আছে, তবে প্রায় আড়াই বছর ধরে আমাদেরকে রান্না করে খাওয়াচ্ছেন তিনি।

আমি অফিসে আসার সময় বাসা থেকে খাবার নিয়ে আসি। তাই সকালবেলা এসে তিনি ভাত-তরকারী রান্না করে দেন। খাবার নিয়ে আসা শুরু করেছি বেশীদিন হয় নি, কিন্তু শুরু করার পরপরই আবিষ্কার করলাম - খালা দারুন রান্না করেন! দুপুরে অফিসে বসে খাওয়ার জন্য তিনি যে স্টাইলে রান্না করেন তা গত আড়াই বছরে বাসার সবার জন্য রেগুলার রান্নায় একটিদিনের জন্যও পাই নি। বিশেষ করে, আলু দিয়ে মুর্গির তরকারী রান্না এত চমৎকার হয় যে - ওই রান্না খাওয়ার জন্য অফিসে আসতেও আমার আপত্তি নেই।

গতকালকের ঘটনা। সকালে তৈরী হচ্ছি, খালা জানিয়ে গেলেন - খাবার তৈরী, না নিয়ে যেন অফিস চলে না যাই। একটু অবাক হওয়ার ঘটনা। কারণ গত পরশুদিন নানা কারণে বাসায় বাজার হয় নি, রান্নাবান্নাও হয় নি। সুতরাং, গতকাল সকালে খাবার নিয়ে আসতে পারবো না এমনটিই স্বাভাবিক, আমিও মানসিক ভাবে প্রস্তুত ছিলাম। খাবার তৈরী জেনে খালাকে ধরলাম - কোত্থেকে আসলো খাবার? জবাব শুনে আমি অবাক। অফিসে খাবো বলে খালা নিজের বাসা থেকে এক পিস ইলিশ মাছ এবং আনুষঙ্গিক তরকারী নিয়ে এসেছেন, সকালে সেগুলো রান্না করে লাঞ্চবক্স সাজিয়ে দিয়েছেন। লাঞ্চটাইমে মজা করে ইলিশ মাছ এবং ডাল-আলুর চচ্চড়ি দিয়ে ভাত খেলাম।

খালার এই যে খাতির, সেটা স্পেশালী আমার জন্যই। আরও কিছু উদাহরণ দেই। গেল সপ্তাহেই সকালে গোসল শেষ করে রুমে ঢুকে দেখি টেবিলের উপর একটি কলা রাখা। কে দিয়েছে সেটা সহজেই অনুমেয় - খেয়ে নিলাম। এর আগে পেয়েছি সে তালিকায় আছে আম, আমড়া, কলা, আনার, আনারস, মিষ্টি ইত্যাদি ইত্যাদি। এছাড়া অন্যান্য আরও কিছু সুবিধা তো পাওয়া যাচ্ছেই - সেগুলো আর না বলি (ফ্রেন্ডলিস্টে বাসার অন্যান্য সদস্যরা আছেন)।

আমার প্রতি খালার এই স্পেশাল খাতিরের কারণ কি সেটা আমি জানি, সেটা আরেকদিন বলা যাবে। ততদিন অপেক্ষা করতে না চাইলে খালার ফেসবুক প্রোফাইল ঘুরে আসতে পারেন।

রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

পুত্র সন্তানের পিতৃত্ব

বিয়ের দেড় বছরের মাথায় নাসিরের বউ যখন একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দিল তখন রাজুর ছেলের বয়স দুই সপ্তাহ। রাজু আর নাসির একই অফিসে চাকরী করে - নাসির পিওন আর রাজু ড্রাইভার। সন্তানের বাবা হওয়ার মাধ্যমে নাসির আর রাজুর মধ্যকার অদৃশ্য প্রতিযোগিতায় রাজু হঠাৎ এক ধাপ এগিয়ে গেল নাসিরের কল্যাণে। বিজয় উল্লাসে মত্ত রাজু নাসিরকে কৃত্রিম সহানুভূতি জানালো এভাবে - 'নাসির, প্রথম বাচ্চা ছেলে না মেয়ে তার উপর নির্ভর করে পরের বাচ্চা ছেলে হবে না মেয়ে হবে। তোমার তো প্রথমটা মেয়ে হয়েছে, এখন তোমার শুধু মেয়ে হবে - দুইটা, তিনটা, চারটা মেয়ে, তারপর ছেলে হবে। আমার তো প্রথম বাচ্চাটা ছেলে - এখন আমার শুধু ছেলে হবে, দুইটা, তিনটা, চারটা ছেলে। তারপর যদি মেয়ে হয় আরকি। তুমি দুশ্চিন্তা কইরো না, আল্লাহ ভরসা'

এই কথায় নাসিরের মুখে কালবৈশাখির মেঘ জমা হয়। অফিসের স্যাররা যখন হাসিমুখে জিজ্ঞেস করে - কি নাসির- ছেলে না মেয়ে?, নাসির তখন ঘন অন্ধকার মুখ মাটিতে লাগিয়ে গোমড়া মুখে বলে - মেয়ে স্যার! অফিসের স্যাররাও ধমক দেয় - মেয়ের বাপ হওয়া কত ভাগ্যের, জানো? জানো ইসলামে মেয়ের বাপ সম্পর্কে কি বলছে? দুয়েকটা হাদীসও শুনিয়ে দেয় তারা, কিন্তু নাসিরের মুখ থেকে অনাগত দুইটা, তিনটা, চারটা মেয়ের দুশ্চিন্তার অন্ধকার দূর হয় না।

আড়াই বছর বাদে নাসির আবার বিক্রমপুর মিষ্টান্ন ভান্ডার থেকে মিষ্টির প্যাকেট নিয়ে অফিসে হাজির হয়- এবার তার মুখে শরতের ঝকঝকে রোদ। প্রশ্ন করার আগেই সে হাসিমুখে জানিয়ে দেয়- ছেলে হয়েছে স্যার!

পুত্র সন্তানের পিতৃত্বে রাজুর সমকক্ষ হওয়ায় নাকি কন্যা সন্তানের বিপদ থেকে মুক্তির আনন্দে এই জ্বলজ্বলে হাস্যোজ্বল মুখ - সে কেবল নাসিরই জানে।

শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

ইভটিজিং: ইতিবাচক পৃথিবীর নেতিবাচক কর্ম

সিনেমাহলের একটি বিশেষ ক্ষমতা আছে। অনেকগুলো মানুষকে পেটের মধ্যে নিয়ে অন্ধকার একটি ঘরে ত্রিশ ফুট চওড়া সাদা পর্দায় যখন ছবি চালতে শুরু করে, তখন পেটের ভেতরে থাকা দর্শকরা এক অন্য জগতে স্থানান্তরিত হয়। সেই জগতে সরব থাকে শুধু পর্দার লোকজন, ঘটনা ঘটে শুধু তাদের জীবনে, এপাশে বসে থাকা মানুষগুলো নীরবে সেই ঘটনার সাক্ষী হয়, তাদের আনন্দে হাসে, দুঃখে কাঁদে। সিনেমাহলের এই ক্ষমতাকে ব্যবহার করার জন্য গল্প তৈরী করে ছবি নির্মান করে সাদা পর্দায় প্রক্ষেপন করতে পারাটাই পরিচালকের যোগ্যতা, সিনেমার স্বার্থকতা। ছবি বিচারের এই যদি হয় মাপকাঠি, তবে কাজী হায়াৎ পরিচালিত সিনেমা 'ইভটিজিং' একটি সার্থক চলচ্চিত্র। কিন্তু সিনেমাহলের বাহিরের চিন্তাভাবনা-বিশ্লেষণ যদি মাপকাঠির অন্তর্ভূক্ত হয়, তবে বিস্তারিত আলোচনার প্রয়োজনও বাড়ে।

বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

লিখালিখিতে দুর্ঘটনা

লিখালিখির শুরুটা কাগজে। অর্ধেক লিখেছি কিন্তু মাঝপথে নষ্ট হয়ে গেছে এমন ঘটনা ঘটে নাই কখনো। কাগজে লিখেছিলাম আমার জীবনের সবচে সেরা গল্পটা, পাঁচ বছর আগে পুরো গল্পটাই হারিয়ে গেল - এই ক্ষতি অপূরণীয়। ওই গল্প আরেকবার লেখা সম্ভব না। 

কাগজ থেকে কম্পিউটারে আসলাম। মাইক্রোসফট ওয়ার্ডে লিখতাম। সেভ করা হয় নাই, বিদ্যুত চলে গিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে এমন ঘটনা অসংখ্য। ইউপিএস আছে কিন্তু ভাইরাস ওয়ার্ড ফাইলকে এক কিলোবাইট সাইজে নিয়ে গেছে, অথবা, এমনভাবে হ্যাং হয়েছে যে বন্ধ করে দেয়া ছাড়া আর উপায় ছিল না - এমন ঘটনাও আছে। 

ব্লগিং শুরু করার পর সার্জিও লিওনি-র টাইম ট্রিলজি নিয়ে আমি তিনবার শুরু করেছি এবং তিনবারই নষ্ট হয়ে গিয়েছিল - দেড় বছর পরে আবার লিখেছি - নতুন করে। এই হঠাৎ নষ্ট হয়ে যাওয়ার সমস্যা থেকে বাঁচার জন্য চতুর্মাত্রিকে লিখা শুরু করি - ওখানে অটোসেভ হয়। সেখানেও একবার কি প্রবলেম হল - অটোসেভ বন্ধ হয়ে গেল। জিমেইলে লেখা শুরু করলাম। এখানে অটোসেভ হয়, কিন্তু লিখে শান্তি পাই না। 

এর মাঝে সামু অটোসেভ ফাংশন চালু করল। ব্লগার স্নিগ এর বুদ্ধিতে লাজারুস এক্সটেনশন যোগ করে নিলাম। ভালোই সার্ভিস। অটোসেভ কাজ না করলেও লাজারুস ঠিকই ফেরত নিয়ে আসে। 

এবার অটোসেভ, লাজারুসও ফেল। গতকাল ইভটিজিং নিয়ে লিখেছিলাম - এইমাত্র আবিষ্কার করলাম প্রথম প্যারাগ্রাফ ছাড়া বাকীটা হাওয়া - অটোসেভ হয় নাই, লাজারুসও সেভ করে নাই। 

ছিগন্যাল ছাড়া কান্তাসি

শুক্রবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

বিচ্ছুকাহিনী

১. 
দুলাভাইকে সি-অফ করতে গিয়ে এয়ারপোর্টে বসে আছি। আমার পেছন দিকে এক ভদ্রলোক বাহিরে যাচ্ছেন। তার স্ত্রী, মা কান্নাকাটি করছে আর ছোট বাচ্চাটি চুপচাপ দেখছে। একবার মুখ ঘুরিয়ে দেখলাম, তারপর আবার নিজেদের দিকে মনযোগ দিলাম। 
হঠাৎ 'থুঃ' শব্দে চমকে পেছনে তাকালাম। বাচ্চা ছেলেটি একদলা থুতু ফেলেছে - আর কোথাও নয় - একদম আমার পিঠে!

২. 
বড় বোন দুলাভাই-র সাথে মধুমিতা সিনেমাহলে সিনেআম দেখতে গেছি। সিনেমা দেখতে দেখতে আমার বোন ঘুমিয়ে পড়ল। হঠাৎ 'দ্রিম' শব্দে চমকে গেলাম, বোনও চিৎকার করে জেগে গেল। পেছনের সারির এক পিচ্চি ঘুমন্ত আপার মাথায় দিয়েছে এক কিল - সিনেমা দেখতে এসে ঘুম?

৩. 
কাজিনের বাসায় বেড়াতে গিয়েছি। কাজিনের ছোট ছেলেটা ফুলের ঝাড়ু নিয়ে ঘর ঝাড়ু দিচ্ছে দেখলাম। আমরা নিজেরা কথা বলছি হঠাৎ 'দুম!' ঝাড়ু দিয়ে আমার মাথায় দিয়েছে এক বাড়ি! 

৪. 
আমার নয়, সবগুলোই কলিগদের নিজস্ব অভিজ্ঞতা। বাচ্চা কাচ্চা মানেই গুটু গুটু নয় - সাবধান!

বৃহস্পতিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

Architecture 101: প্রেমের স্থাপত্য

Architect Posterপ্রথম প্রেম হয়েছিল যার সাথে তার সাথে যদি পুনরায় সম্পর্ক স্থাপনের সুযোগ দেয়া হয় তাহলে কি করবেন? প্রায় একহাজার অবিবাহিত ব্যক্তিকে দুটো অপশন থেকে বাছাইয়ের সুযোগ দিয়ে এই প্রশ্ন করা হয়েছিল। শতকরা সত্তর জন বলেছেন – প্রথম প্রেমকে তারা তাদের স্মৃতিতেই রাখতে চান, পুনরায় সম্পর্ক স্থাপনের সুযোগ পাওয়ার পরও। প্রথম প্রেম নিয়ে এই গবেষনা করার পেছনে অন্যতম কারণ হল আর্কিটেকচার ১০১ সিনেমাটি যা সবচে বেশীবার দেখা কোরিয়ান মেলোড্রামা সিনেমার তালিকায় এক নাম্বার। কতবার দেখা হয়েছিল সিনেমাটি? নয় সপ্তাহে একচল্লিশ লক্ষবার। ঘটনাস্থল দক্ষিন কোরিয়া।