সোমবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০১২

বাংলা চলচ্চিত্রের সালতামামি ২০১২

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের আরও একটি বছর অতিক্রান্ত হয়ে গেল। অন্যান্য বছরের মত এ বছরেও বানিজ্যিক সিনেমার পাশাপাশি আর্ট ফিল্ম হিসেবে পরিচিত অফ ট্র্যাকের সিনেমা মুক্তি পেয়েছেন, নতুন নতুন মুখ যুক্ত হয়েছে নায়ক-নায়িকা, প্রযোজক-পরিচালকের তালিকায়, কারিগরী দিক থেকে নানারকম অগ্রগতি নজর কেড়েছে। সব মিলিয়ে ২০১২ সালেবাংলা চলচ্চিত্রের সামগ্রিক অবস্থা কি তা জানার জন্য পেছনে ফিরে দেখা যেতে পারে।

ঠাকুরগাঁও-এ বাচ্চাকাচ্চারা



কোন এক অজানা কারনে নতুন কোন এলাকায় গেলে বড় মানুষ নয় বরং বাচ্চা-কাচ্চার সাথে খাতির হয়ে যায়। শীতবস্ত্র বিররণ শেষে অফিসের কাজে এসেছি ঠাকুরগাওঁ এ। সবাই যখন ব্যস্ত তখন একটু একটু করে খাতির হয়ে গেল কাছেই মার্বেল খেলছিল কিছু বাচ্চার সাথে। তাদের তিনটি মেয়ে, দুটি ছেলে। এদের কল্যানেই প্রায় পনেরো বছর বাদে আজ প্রায় আধাঘন্টা মার্বেল খেলা হল।

ছবির মানুষগুলোর সাথে পরিচয় করিয়ে দিই। সবার বামে আছে রিক্তা। সবার ডানে আনারুল, রিক্তার বড় ভাই। আনারুল ক্লাস ফাইভে পড়ছে, রিক্তা ফোরে। রিক্তার পাশে পিচ্চি মেয়ের নাম জেসিয়া, পেছনে আছে আরশাদ। আরশাদ এক স্কুলে ক্লাস থ্রি পর্যন্ত পড়েছিল কিন্তু বর্ণমালা মুখস্ত পারে না বলে আবার ক্লাস ওয়ানে ভর্তি হতে হয়েছে। আগামী বছর কোন ক্লাসে পড়বে, আদৌ পড়বে কিনা সেটা আরশাদ জানে না। আরশাদের পাশে আছে সাগর, সে ক্লাস ফোরে পড়ে। দারুন ভদ্রলোক। তার মনও অনেক ভালো, এই সার্টিফায়েড বাই রিক্তা। কানটুপি পড়া পিচ্চির নাম যোবায়ের, এদের মধ্যে সম্ভবত তাদের পরিবারই একটু স্বচ্ছল, তার বাবার একটি ফটো স্টুডিও আছে। রিক্তার বাবা কৃষক আর আরশাদের বাবা রিকশাচালক। ছবিতে নেই পিয়া। এদের মধ্যে সবচে লম্বা, সবচে সুন্দর ক্লাস ফোর-এ পড়ুয়া এই পিয়া।

ছবি তোলার গল্পটা বলি। মার্বেল খেলায় আরশাদকে 'খাটতে' পাঠানো হয়েছে। প্রতি মুহূর্তে সে এর বাড়ির পাশ দিয়ে, ও বাড়ির পেছন দিয়ে দূরে যাচ্ছে 'খাটার জন্য'। তাকে খাটতে বাধ্য করছি আমি, রিক্তা ও সাগর। হঠাৎ-ই তাদের একটা ছবি তুলে দেবো কিনা সেটা জানতে চাইল সাগর। রামি রাজী হতেই রিক্তার আবদার - সরিষা খেতে তুলে দেবো? খেলা শেষ করে আমরা সাতজন পাচমিনিটের পথ হেটে সরিষা খেতে গেলাম এবং প্রায় পঁচিশটি ছবি তোলা হল। বেশীরভাগই সিঙ্গল।

এদের সাথে আলাপ পরিচয় সব মিলিয়ে চার-পাঁচ ঘন্টার। এদের কেউ আমাকে ডাকে আঙ্কেল, কেউ ভাইয়া। পনেরো টাকা দিয়ে চুলের কলপ কিনে মাথায় লাগানোর পরামর্শ দিয়েছে সাগর। মার্বেল খেলায় আমার গাইড হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে রিক্তা ও আরশাদ। ছবি তোলার পর হাতের ও মাথার ফুলগুলো আমাকে গিফট হিসেবে দিয়েছে রিক্তা ও জেসিয়া।

সন্ধ্যার সময় ফিরে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছি, অন্ধকারের মধ্যে কোত্থেকে যেন আরশাদ দৌড়ে এসে হাতের মুঠোয়ে একটা কাগজের ঠোঙায় কিছু গুজে দেয়ার চেষ্টা করল। 'কি এইটা?'
'পিয়াজি! নেন।'

শনিবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০১২

তিনবিঘা করিডোরে



ছিটমহল, তিনবিঘা করিডোর আর দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা শব্দতিনটির সাথে পরিচয় অনেকদিন হল। তাত্ত্বিক জ্ঞান ছাড়া আর কিছুই না সেগুলো। আজ স্বচক্ষে দেখা হল। ম্যাপটা খেয়াল করুন, তাহলেই বুঝতে পারবেন। ছবির ডান দিকে সরু বর্ডার রেখার ডানে বাংলাদেশ, এবং বামে ভারত। আবার ছবির বামদিকে সরু বর্ডার রেখার বামে বাংলাদেশ (দহগ্রাম ছিটমহল) এবং ডানে ভারত। মাঝের এই অংশটুকু ভারতের জমি। ছিটমহলের মানুষজন নানারকম সমস্যার মধ্যে বাস করতো, আপনাদের জানার কথা। বিশেষ করে, নির্দিষ্ট সময় ছাড়া বাংলাদেশের মূল ভূখন্ডে প্রবেশের অনুমতি ছিল না। এখন ২৪ ঘন্টাই যাতায়াত করা যায়।

দুই বর্ডার রেখার মাঝে আয়তাকার গ্রে অংশটুকু বাংলাদেশের লিজ নেয়া জমি। এই রাস্তা দিয়েই ভারতের জমির উপর দিয়ে বাংলাদেশে পৌছানো হয়। এই লিজকৃত জমির পরিমান সাড়ে সাত বিঘা। এই অংশটুকুকেই তিনবিঘা করিডোর বলা হয়। এই আয়তাকার অংশে বিজিবি এবং বিএসএফ দুই পক্ষেরই প্রহরা থাকে। 


দহগ্রাম আঙ্গরপোতা অংশের আয়তন ৩৫ বর্গ কিলোমিটার। প্রচন্ডরকম দরিদ্র সব মানুষ বাস করে ওই অংশে। তাদের নিজেদের জমি নাই, আয় উপার্জনের জন্য অন্যের জমিতে কামলা খাটা ছাড়া অন্য উপায় নাই, শিক্ষা নাই, চিকিৎসা নাই। এরশাদ সরকারের সময় দারুন একটা হাসপাতাল বানানো হয়েছিল, চমৎকার দেখতে সেই হাসপাতালে কোন ডাক্তার নাই, থাকে না। সম্ভবত কোন এনজিও-র স্বাস্থ্যসেবাও নেই। সম্ভবত এ কারণেই এখানে মৃত্যুহার বেশী। এক বৃদ্ধমহিলাকে পাওয়া গেল, তার আটটি ছেলে মেয়ে ছিল, কিন্তু এখন একজনও বেচে নেই, আরেকজনের ছয়টি ছিল, এখন দুটি আছে। অদ্ভুত জীবন!


অদ্ভুত একটা বিষয়। দারুন রোমাঞ্চিত :)

বৃহস্পতিবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০১২

গুড বাই দাদু বট!


রংপুর কাছারি এলাকায় (কোর্ট বিল্ডিং) এই গাছটির মৃত্যু ঘন্টা বেজে গেছে। বিশালাকৃতির এই গাছের বয়স কত আমার জানা নাই, তবে এরকম আরও বিশাল বিশাল গাছে ঢাকা ছিল চত্বরটা। সবগুলো গাছই কেটে ফেলা হচ্ছে, খুব শীঘ্রই সেখানে গড়ে উঠবে বিশাল কোন দালান। গুড বাই দাদু বট!

বুধবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০১২

ফেসবুক যখন সোনার ডিম পারা হাঁস


(ইহা একটি অলস মস্তিস্কের কল্পনাপ্রসূত স্ট্যাটাস)এক দরিদ্র লোক, তার নাম হাসু। তার ছিল এক হাঁস। সেই হাঁস দৈনিক একটা করে সোনার ডিম দিত। সেই ডিম বিক্রি করে লোকটা আস্তে আস্তে দারিদ্র্য অবস্থা থেকে উঠে আসতে লাগল। প্রথম প্রথম বাজারের মনু মিয়ার দোকানে হাঁসের ডিমটি বিক্রি করতো। মনু মিয়ার দোকানে কাস্টমাররা আগে থেকেই বুকিং দিয়ে রাখতো সেই একমাত্র ডিমটির জন্য। এই দেখে মনু মিয়ার প্রতিদ্বন্দ্বি সুরুজ মিয়া হাসু মিয়ার বাড়িতে বেড়াতে আসলো। তারপর ইনিয়ে বিনিয়ে বলল হাসু মিয়া যদি ডিমটা সুরুজ মিয়ারে দেয়, তাহলে সে এক পার্সেন্ট বেশী করে দাম দিতে পারে। হাসু মিয়া রাজী হল, মনু মিয়ার বদলে ডিম যেতে লাগল সুরুজ মিয়ার দোকানে।
তারপর একদিন সুরুজ মিয়া একজন লোককে নিয়ে এল হাসু মিয়ার বাড়ি। সে হাঁসটা দেখতে চায়। হাসু হাঁস দেখালো। পরের দিন দুটো লোক এল দেখতে। হাসু তাদেরও দেখালো। তৃতীয় দিন এল পাঁচটা লোক। হাসু তাদেরও দেখালো। চতুর্থদিন হাসু প্রতি দর্শনার্থীর জন্য দশ টাকার টিকেট তৈরী করলো। তারপর সেই টিকেট বেচা টাকা দিয়ে একটা সুন্দর হাঁসের ঘর তৈরী করল। কিন্তু তারপরও নানা সমস্যা হতে লাগল। এত লোককে জায়গা দেয়া যাচ্ছিল না। তাই হাসু একদিন তার ফার্মের মালিকানা পাবলিক করে দিল। শেয়ারহোল্ডারদের টাকায় বিশাল এলাকা জুড়ে তার হাসের বাড়ি বানালো, দর্শনার্থীদের প্রবেশের জন্য গেট তৈরী করল, টিকেট কাউন্টার বানালো। দলে দলে দর্শনার্থীদের সংখ্যা বাড়তে লাগল।
কিন্তু শেয়ারহোল্ডাররা সন্তুষ্ট হতে পারছিল না। তারা বললো, আরও টাকা চাই। ইনভেস্টমেন্টের তুলনায় রিটার্ন কম হয়ে যাচ্ছে। নানা রকম পরামর্শ আসতে লাগল। শেষ পর্যন্ত কৃত্রিম উপায়ে সোনার ডিম পারা হাঁসের ক্লোন তৈরী করার সিদ্ধান্ত নিল হাসু। কিন্তু আরও সোনার ডিম পারা হাঁস তৈরীর জন্য এই হাসের মধ্যে কিছু পরিবর্তন আনার দরকার ছিল। হাসু সাহস করে তার সোনার ডিম পারা হাঁসকে নিয়ে থিয়েটার টেবিলে গেল।
হাসুর গল্প এখানেই শেষ। কারণ পাশের গ্রামের মুক্তারের মুরগীর বাথরুমের সাথে ডায়মন্ড পাওয়া যাচ্ছিল। দর্শক দলে দলে সেদিকে চলে যাচ্ছিল। মুক্তারের ডায়মন্ড মুর্গীর গল্প আরেকদিন বলা যাবে।
খবর:
আয় বাড়াতে আর বিজ্ঞাপনের জন্য বেশি জায়গা বের করতে ফেসবুকের টাইমলাইন আবারও নতুন করে সাজাতে পারে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি টাইমলাইনে পরিবর্তন আনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ফেসবুক। জানা গেছে, ব্যবহারকারীর কভার ফটো, নেভিগেশন পদ্ধতিসহ বেশ কিছু ফিচারে পরিবর্তন আনছে ফেসবুক। এ প্রসঙ্গে ফেসবুকের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, নতুন টাইমলাইন ফিচারটি পরীক্ষা করে দেখছে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ। নতুন ফেসবুক টাইমলাইনে ভিন্নরূপে আবারও ফিরে আসছে ট্যাব। এ ছাড়া কভার ফটোর সঙ্গে থাকবে ব্যবহারকারীর পরিচয় ও প্রোফাইল ছবি। প্রোফাইলের ওপরে সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা দেখানো হবে।
ফেসবুক ব্যবহার না করলেও ফেসবুকের কোনো ক্ষতি নেই। কারণ, যাঁরা ফেসবুক ব্যবহার ছেড়ে দেবেন, তাঁদের কাছ থেকেও অর্থ আয় করার পথ বের করেছে ফেসবুক। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে থার্ড পার্টির অ্যাপ্লিকেশন প্ল্যাটফর্মে বিজ্ঞাপন কৌশল পরীক্ষা করেছে ফেসবুক। ব্যবহারকারীর তথ্যের বিনিময়ে অর্থ আয় করার কৌশল নিতে পারে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ।
২০১৩ সালের মার্চ থেকে ফেসবুকে ভিডিও বিজ্ঞাপন চালু হতে পারে। ফেসবুকের নিউজ ফিডে ব্যবহারকারী না চাইলেও দেখতেই হবে ১৫ সেকেন্ডের বাধ্যতামূলক বিজ্ঞাপন। (সূত্র: প্রথম আলো)

রবিবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০১২

শরীর দেখিয়েরা!

বছর চারেক আগের কথা। আমার কয়েকটা রুম পরে থাকেন এক বড় ভাই তার বন্ধুকে নিয়ে আমাদের রুমে এলেন। বন্ধুটি মাংসের বস্তা। টাইট টি-শার্ট ভেদ করে তার পেশীগুলি কিলবিল করতেসে। বড় ভাই গর্বের সাথে পরিচয় করিয়ে দিলেন - এ আমার বন্ধু, বসুন্ধরা গোল্ড জিমের ইন্সট্রাকটর, ন্যাশনাল বডি বিল্ডিং এ পরপর দুইবার সিলভার এবং পরপর তিনবার গোল্ড বিজয়ী, এখনো চ্যাম্পিয়ন! বডি বিল্ডার বলতে চিনি আর্নল্ড শোয়ার্জনেগার। আমি দুবলা মানুষ, বডি বিল্ডিং এ আগ্রহ নাই। তার মাংস দেখে কিছু বলার ছিল না

শুক্রবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০১২

'চোরাবালি' থেকে মুক্তি

184405_308139955962535_1939020046_n

১৯৭৩ সালে রাজ্জাক অভিনীত 'রংবাজ' সিনেমার মাধ্যমে বাংলাদেশী চলচ্চিত্রে সামাজিক অ্যাকশন সিনেমার যাত্রা শুরু হয় এবং ক্রমান্বয়ে দেশীয় চলচ্চিত্রে প্রধান ধারা হিসেবে জায়গা করে নেয়। গত এক থেকে দেড় দশকের সামাজিক অ্যাকশন সিনেমাগুলোর মধ্যে একটি নির্দিষ্ট ছক লক্ষ্য করা যায়। গতানুগতিক কাহিনি, গৎবাধা সংলাপ আর সামঞ্জস্যহীন দৃশ্যের সমন্বয়ে যে সামাজিক অ্যাকশন সিনেমা নির্মিত হয় তা একটি নির্দিষ্ট শ্রেণীর দর্শক ছাড়া অন্যদের চাহিদা মেটাতে অক্ষম এবং তা বাংলাদেশী চলচ্চিত্রের মধ্যেকার চোরাবালিকেই ইঙ্গিত করে। টিভি নাটকের জনপ্রিয় নির্মাতা রেদোয়ান রনি নির্মিত সিনেমা 'চোরাবালি' সামাজিক অ্যাকশন সিনেমার বিদ্যমান চোরাবালি থেকে বেরিয়ে আসবে এই প্রত্যাশা থেকে বঞ্চিত দর্শকশ্রেণীর আগ্রহভরে অপেক্ষা করেছে। 'চোরাবালি'র মুক্তি সেই অপেক্ষা থেকে মুক্তি দিল।

ক্রিকেটারদের নিলাম

বাচ্চাকালে একটা বই পড়ে মন কাঁদো কাঁদো হয়ে গিয়েছিল। বইয়ের নাম - আঙ্কেল টমস কেবিন। আমি পড়েছি অনুবাদ। 'টম কাকুর কুটির' নামে একই বইয়ের একটা অনুবাদও পাওয়া যেত অনেক আগে।

হ্যারিয়েট বিচার স্টো নামের এক ভদ্রমহিলা বইটি লিখেছিলেন। তিনি যে একজন ভদ্রমহিলা সেটা জানার পর আমি খুব অবাক হয়েছিলাম - একজন মহিলা এরকম দারুন একটা বই লিখেছেন! বলা বাহুল্য, মহিলারাও যে সাহিত্যচর্চা করে সেটা সেই বয়সে আমার ধারনায় ছিল না। বইয়ের মূল চরিত্র টম একজন নিগ্রো। ধর্মভীরু এই টম কিভাবে শুধু নিগ্রো হবার কারনে এক মালিক থেকে অন্য মালিকে হাত বদল হয়ে ঘুরল, তার আনন্দ, বেদনা ইত্যাদি দারুনভাবে ফুটে উঠেছিল বইয়ে। বলা যেতে পারে, সেই প্রথম জানা গেল - দাস প্রথা বলে নিষ্ঠুর একটা প্রথা ছিল পৃথিবীতে, একজন মানুষকে আরেকজন মানুষের গোলাম হয়ে থাকতে হত। পরবর্তীতে দাসপ্রথার উচ্ছেদকারী হিসেবে আব্রাহাম লিংকনের নাম মুখস্ত করতে হয়েছে।

আজকে দুপুরে খেতে বসে দেখলাম হাজার থেকে লাখ ডলারে বিক্রি হচ্ছেন ক্রিকেটাররা। কি অদ্ভুত ব্যাপার। চোখের সামনে 'আঙ্কেল টম'রা বিক্রি হতে লাগল - ফর্টি থাউজেন্ড ওয়ান, ফর্টি থাউজেন্ড টুআইস, ফর্টি থাউজেন্ড থ্রাইস। ইউ শিওর? ফর্টি থাউজেন্ড ডলার - সোল্ড। কর্পোরেট স্লেভারি কি একেই বলে?

অপ্রাসঙ্গিক খবর: পদ্মা সেতুর জন্য সরকারের তহবিলে জমা হয়েছে এক লক্ষ ষোল হাজার টাকা, যার মধ্যে বাংলাদেশীরা জমা দিয়েছেন চৌত্রিশ হাজার টাকা।

বুধবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০১২

ঢাকায় মেট্রোরেল!

উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ২০.১ কিলোমিটার দুরত্বে মেট্রোরেল চলবে। প্রতি ঘন্টায় ৬০ হাজার লোক যাতায়াত করতে পারবে মেট্রোরেলে, ভাড়া হবে সর্বনিম্ন ১০ টাকা, সর্বোচ্চ ৬০ টাকা।
দারুন অবিশ্বাস্য একটা খবর। যারা মতিঝিলে অফিস করেন, তারা উত্তরার দিকে জায়গা জমি কিনতে পারেন, অথবা ফ্ল্যাট। মেট্রো রেলে আপনার সময় লাগবে মিনিট বিশেক, সেই তুলনায় ৬০ টাকা খুব কম টাকা। যেখানে আপনার দৈনিক ৫ ঘন্টা সময় লাগতো, সেখানে বেচে যাওয়া ৪ ঘন্টা ২০ মিনিটে আপনি কামাতে পারবেন যাতায়াত ভাড়ার কমপক্ষে পাঁচগুন। স্কুল কলেজের বাচ্চারা পড়াশোনার বাহিরে আরও দুটো কো-কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিতে যোগ দিতে পারবে, সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ তৈরী গতিময় হবে নিশ্চিত।
তবে, এজন্য আপনাকে অপেক্ষা করতে হবে আরও ১২ বছর। বারো বছর পরে ঢাকা শহরের সীমানা উত্তরায় সীমাবদ্ধ থাকবে কিনা, মতিঝিল এলাকায় আরও অফিস দালানকোঠা বাড়ার সুযোগ-প্রয়োজন আছে কিনা, বারো বছর পরেও আজকের দশটাকার মূল্য দশ টাকা থাকবে কিনা, রাস্তায় গাড়ির সংখ্যা বর্তমান সংখ্যায় সীমাবদ্ধ থাকবে কিনা ইত্যাদি ইত্যাদি এই মেট্রো রেল প্রকল্প গ্রহনের সময় বিবেচনা করা হয়েছে কিনা সেটা প্রশ্নসাপেক্ষ।
২০২৪ সালে মতিঝিলের জন্য মেট্রোরেল না, ছাদে ছাদে হেলিপ্যাড দরকার। সকালবেলা আপনার উত্তরার বাড়ির ছাদে উঠে বলবেন, এই হেলিকপ্টার, মতিঝিল যাবা?

কম্যুনিস্টকে রিকশাওয়ালা

ছেলেটার হাতে একটা বাঁশ, তার মাথায় হাতুরি-কাস্তে আকা একটা লাল পতাকা। মোটরযানগুলোকে একাই আটকে ঘুরিয়ে দিচ্ছিল সে - 'আজ হরতাল, চলে যান'।

রিকশায় করে এক ভদ্রলোক যাচ্ছিলেন। বললেন, 'ইসলামি দল নিষিদ্ধ করার দরকার কি? রাজাকার দূর করার জন্য হরতাল দেন, থাকবো আপনাদের সাথে।'

রিকশাটা চলে যাচ্ছিল, ছেলেটা একটু জোরে বলল - 'আসেন, আসেন না আমাদের সাথে।'

রিকশাওয়ালা, তার মুখ ভর্তি দাড়ি, রিকশা চালাতে চালাতেই মুখ ঘুরিয়ে চিৎকার করে বলল, 'কম্যুনিস্টদের লগে আমু না, ওরা মুসলমান না!'

রিকশার আরোহী 'না না এইটা তুমি ঠিক বললা না...' বোঝাতে লাগল।

শৈত্য প্রবাহ থেকে বাঁচতে আমি চাদরটা জড়িয়ে তাড়াতাড়ি পা চালালাম। দশটা বেজে গেছে পাঁচ মিনিট আগেই, দেরী করা যাবে না, অফিস পৌছাতে হবে।

সোমবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০১২

বিজ্ঞাপনের প্রভাব

মেয়েটা একটা জামা পছন্দ করে তার বান্ধবীকে দেখালো - 'এটা?'
বান্ধবী: তুই তো সবসময় ফুলহাতা পড়িস, এবার নাহয় .....

ফেয়ার অ্যান্ড লাভলীর অ্যাড। লোশন বিক্রয়ের জন্য স্লীভলেস জামা, ভিট বিক্রয়ের জন্য স্কার্ট ইত্যাদির বিজ্ঞাপণ, বডিস্প্রে বিক্রয়ের জন্য কামুক নারী পুরুষ। কে বলে বিজ্ঞাপন আমাদের জীবনকে প্রভাবিত করে না?

রবিবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০১২

বিজয় দিবসে হিন্দী গান

বিজয় দিবসে যে হিন্দী গান বাজায়, বিজয় দিবস তার জন্য নয় - তার জন্য এটি 'সেলিব্রেশন ডে'।
নির্বোধ সেই লোকজন বাদে সকলকে বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা।

শুক্রবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০১২

বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র

সিনেমা নির্মানের শুরুর দিকেই যুদ্ধ নিয়ে সিনেমা নির্মান হলেও প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরে বিশ্ব সিনেমার তালিকায় 'যুদ্ধ ভিত্তিক সিনেমা' (War Films) আসন পাকা করে নিল। গত শতকে পৃথিবীতে যত যুদ্ধ সংগঠিত হয়েছে তার প্রায় সব নিয়েই সিনেমা নির্মিত হয়েছে, এমনকি আরও অতীতের বিভিন্ন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ধরনের কাহিনীতে সিনেমা নির্মিত হয়েছে, হচ্ছে এবং হবে। ১৯৭১ সালে সংগঠিত বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে সিনেমা নির্মান হওয়া তাই স্বাভাবিক এবং হয়েছে। বিজয়ের ৪১ বছরে এসে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে নির্মিত সিনেমাগুলোর দিকে ফিরে তাকানো, আশা প্রত্যাশার হিসেব কষা যেতে পারে।

বুধবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১২

বাংলাদেশে কমিউনিটি ফিল্ম: কি, কেন, কিভাবে

এ বছরের অক্টোবর মাসে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় বাংলাদেশের প্রথম কমিউনিটি ফিল্ম সম্পর্কে নিউজ প্রকাশিত হয়। বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত এই নিউজের সারমর্ম হল - রাজশাহীতে দেশের প্রথম কমিউনিটি ফিল্ম তৈরী হচ্ছে। সিনেমার নাম 'প্রত্যাবর্তন', পরিচালনা করেছেন আহসান কবির লিটন। ছবির মহরত অনুষ্ঠানে কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক উপস্থিত ছিলেন।

মঙ্গলবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১২

A Time to Kill

মেয়েটার নাম তানিয়া। বয়স দশ। দোকান থেকে সামান্য কেনাকাটা করে বাসায় ফিরছিল সে। একাকী। বিশোর্ধ উচ্ছৃঙ্খল দুটো লোক গাড়ি চালিয়ে যাওয়ার সময় দেখল মেয়েটাকে। বিয়ারের ক্যান ছুড়ে মারলো মেয়েটাকে। তারপর তার হাত বাধল, পা বাধল, তারপর নির্যাতন করল তাকে। তারপর রক্তাক্ত মেয়েটাকে গাছের ডালে ঝুলিয়ে দিল। কিন্তু তানিয়ার যন্ত্রনার সমাপ্তি হল না। ডালটা ভেঙ্গে পড়ল। তাই গাড়িতে করে নিয়ে গেল লোকগুলো। তারপর ত্রিশফুট নিচের নদীতে ছুড়ে ফেলল। এই পুরো সময়টায় তানিয়া শুধু তার বাবাকে ডাকল - বাবা! বাবা! বাবা! আপনি যদি হন এই তানিয়ার বাবা, তবে কি করবেন সেই লোকদুটোকে?

শনিবার, ১ ডিসেম্বর, ২০১২

এইডস দিবসের বাণী

১.
আজ বিশ্ব এইডস ডে।
২.
ছোট ভাই আজকে আমার ওয়ালে লিখে গেল -
"হে হে হে!! আজকে যে এইডস দিবস মনেই ছিল না। :D
নিরাপত্তা শুভেচ্ছা দোস্ত। ♥
৩.
২০১০ সালের এই দিনে সামহোয়্যারইনব্লগে একটা পোস্ট লিখেছিলাম। পোস্টটা মুছে দিয়ে আমাকে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছিল। আমি লিখেছিলাম -
এইডস রোধে চাই কন্ডমের ব্যবহার, কন্ডমের ব্যবহারে চাই অবাধ নারীগমন, পুরুষগমন, পায়ুগমন এবং পশুগমনের বৈধতা
বৈধতার প্রথম পর্যায় হলো ডিসেনসিটাইজেশন। সচেতন এবং অবচেতন ভাবে এই ডিসেনসিটাইজেশনের কাজ চলছে। এইডস রোধে যেখানে মূল প্রতিপাদ্য হওয়া উচিত ছিল - "অবৈধ যৌনসংসর্গ পরিহার করা", সেখানে প্রতিপাদ্য হয়েছে, "কন্ডমের ব্যবহারই পারে এইডস প্রতিরোধ করতে"। সাহিত্যিক-নাট্যকার-নির্মাতারা সমাজের বাস্তব চিত্র (!) তুলে ধরতে দেখিয়েছেন অবৈধ সম্পর্ক আর সচেতন এবং সুশীল সম্প্রদায় সকলের অধিকার আদায় করতে গিয়ে দেখিয়েছেন সমকামিতা, পায়ুগামিতার প্রয়োজনীয়তা। বিদ্রুপ করতে গিয়ে আমরা তুলে ধরছি পশুগামিতা। বিদেশী দাতারূপী ব্যবসায়ীরা কোটি টাকার ফান্ড নিয়ে আসছে এই সকল '-গামীতা' রোধে কন্ডম ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে। হুজুর সম্প্রদায়কে কন্ডম ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা বোঝানোর জন্য যে পুস্তিকা প্রকাশিত হচ্ছে তা বিতরন হচ্ছে না-হুজুর সম্প্রদায়ের মাঝে। আবার হুজুর সম্প্রদায়কে দোষী করার জন্য আমরা তুলে ধরছি হুজুর সম্প্রদায়ের নানা কুকীর্তির কথা। বাড়ছে ডিসেনসিটাইজেশন। কন্ডমের উপর নির্ভরশীলতা বাড়বে না তো কি?
এইডস ছড়ানোর সকল রাস্তা খুলে দিয়ে এক কন্ডম দিয়ে আর কতো রোধ করা যাবে?
৪.
অবৈধ যৌনসংসর্গ পরিহার করুন। শুধু এইডস নয়, নানাবিধ শারীরিক ব্যাধি ও মানসিক অশান্তি থেকে নিজে বাচুন, সমাজকে বাচিয়ে রাখুন।
নিরাপত্তা শুভেচ্ছা সবাইকে।