মঙ্গলবার, ২৭ নভেম্বর, ২০১২

দশ ইঞ্চি পিৎজার মত চাঁদ

আজকের আকাশটা দেখেছেন? দশ ইঞ্চি পিৎজার মত দেখতে একটা চাঁদ উঠেছে। সেই চাঁদের মাঝে টুকরো টুকরো গোশত দেখা যায়, আর একটু মেয়োনেজ, দুটো সালাদও বোঝা যায় খেয়াল করে দেখলে। দারুন চেস্টি চাঁদ। উলস্ ;)

শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর, ২০১২

সুভাষ দত্ত-ও চলে গেলেন!

আমার বাসায় টেলিভিশন নেই, খবরের জন্য ফেসবুক-ব্লগ এবং পত্রিকার ওয়েবই ভরসা। কিন্তু খবরটা এলো মোবাইলে - গাজী টেলিভিশনের এক প্রোডিউসার বড় ভাই ফোন করে খবরটা দিলেন - সুভাষ দত্ত মারা গেছেন। আজ সকালে। ১৬ নভেম্বর ২০১২ তারিখে। সকাল সাতটায়।

সুভাষ দত্ত স্যারকে নিয়ে আমার একটাই স্মৃতি। ২০০৮ সালে। বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভে কোর্সের সূচীতে দুজন পরিচালকের সাথে কথোপকথন ছিল। তাদের একজন সুভাষ দত্ত। দশটা থেকে ক্লাস শুরু হয়। আমরা সাড়ে ন'টার মধ্যে চলে আসি। চা খাই, আড্ডাবাজি করি। যিনি ক্লাস নেন তিনিও চলে আসেন, তার সাথেও কথাবার্তা হয়।

সোমবার, ১২ নভেম্বর, ২০১২

খুলে যাওয়া প্যান্ট সংস্কৃতি

তার জিন্স প্যান্ট নিচে নামতে নামতে পাছা বের হয়ে গেছে, দুই পায়ের নিচে ঢুকে গেছে প্যান্ট। আমি অন্তত: তিনবার ডেকে বললাম - 'তোমার প্যান্ট তো খুলে যাচ্ছে! আসো প্যান্ট উপরে তুলে দিই।' সে তিনবারই বলল - "লাবিব করে!" তার মায়ের কাছ থেকে জানা গেল মামাতো ভাই লাবিবও এই কায়দায় প্যান্ট পড়ে। লাবিব টিনএজের শেষপ্রান্তে আর এর বয়স মাত্র দুই !

রবিবার, ১১ নভেম্বর, ২০১২

১০-১১-১২

আল্লাহর ওয়াস্তে আজকের তারিখ সহ স্ট্যাটাস ফটু আপলোড করা বন্ধ করেন। আমার নিউজ ফিডে অন্তত বিশটা পোস্ট আছে এবং আমি আজকে কোনভাবেই ভুলবো না যে আজকের তারিখ এইটা।
পিলিজ লাগে ... বন্ধুগন - পিলিজ লাগে ....

শুক্রবার, ৯ নভেম্বর, ২০১২

Exam: একটি রুমে একটি সিনেমা

এক্সাম নামের ব্রিটিশ থ্রিলার সিনেমাটা আমি দেখেছি কারণ এটা দেখলে সাজিদ নামের এক পিচ্চি (সাইজে নয়, বয়সেও নয় - আমার সাথে বয়সের পার্থক্যে) আমাকে একশ' টাকা দিবে। গত তিন সপ্তাহ ধরে সে আমাকে উত্যক্ত করছে প্রচন্ড রকম। দুটো সিনেমা দেখতেই হবে - একটা এক্সাম, অন্যটা আইডেনটিটি। আমি চার্লি চ্যাপলিন নিয়ে ব্যস্ত, কিন্তু সে সিনেমার ডাউনলোড লিঙ্ক টিঙ্ক দিয়ে আমার ইনবক্স ভর্তি করে ফেলল। ঘ্যান ঘ্যান বন্ধ করতেই ডাউনলোড করে ফেললাম এক্সাম, অন্যটা ডাউনলোড চলছে। দুটো সিনেমা দেখলে দু'শো টাকা। একটা দেখে ফেলেছি, এখন ভালোয় ভালোয় টাকা পেলে সব চুকে বুকে যায়।

শনিবার, ৩ নভেম্বর, ২০১২

মেটাল সাইনের অর্থ

\m/ টা হৈলো মেটাল সাইন। আসল নাম ডেভিল'স হর্ণ। দুইপাশের লাঠি শিং রিপ্রেজেন্ট করে।
মূল আঙ্গুল আঁকা হৈসে। m মানে মাঝের বন্ধ দুই আঙ্গুল।

এই সাইনটার প্রচলক হিসেবে মেটাল ফ্যানদের কাছে পরিচিত রনি জেমস ডিও। তবে অরিজিন্যালি এইটা আসছে ইতালি থেকে। ইতালিয়ানরা এইটা কারও কুদৃষ্টি বা এভিল আই থেকে বাঁচতে বা কারও দিকে দিতে ব্যবহার করত। ডিও এইটা শিখছে ওর গ্র্যান্ডমাদারের কাছে। ওরা ইতালিয়ান ছিলো।

ডিও এই সাইনটা কনসার্টে খুব ইউজ করত। সেই থেকে এইটা মেটাল সাইন হয়ে গেসে। জিনিসটা শয়তানের শিং সিম্বলাইজ করে। মেটাল শুরুর দিকে অনেকখানি ডেথ এন্ড সুইসাইড বেজড কথাবার্তা ইন্সপায়ার করত। আর ধর্মবিরোধী। সেইটা স্যাটানিক। সো ডেভিল'স হর্ণ। আর মেটাল তো সবসময়ই রুড ছিল প্রচলিত ধারা থেকে। তাই শয়তান কে বানিয়ে ফেলা হলো রক আর মেটালের সিম্বল। (কার্টেসি: যায়েদুল হাসান)

২৭ এপ্রিল ২০১৮ তারিখে আপডেট করতে গিয়ে রাইজিংবিডি-তে আরও বিস্তারিত একটা পোস্ট পাওয়া গেল। ছবিটা সেখান থেকেই নেয়া।

মোরগের ডাক

চুপচাপ নিস্তব্ধ পরিবেশ। শেষ রাতের হাওয়া ঠান্ডা এনে দিচ্ছে। গাছের পাতায় জমে থাকা রাতের শিশির বিন্দু টুপটাপ করে টিনের চালে পড়ছে। আশপাশ ফর্সা হয়ে গেছে, সূর্য উঠি উঠি করছে। ফজরের নামাজ শেষে আবার ঘুমানোর জন্য শুয়ে এপাশ ওপাশ করছে ছেলেটা।

একটা পাখি ডাকছে থেমে থেমে। অদ্ভুত তার ডাক - টিউউবব ... টিউউব। শহরে বড় হওয়া ছেলেটা নাম জানে না এই পাখিটার, হয়তো কখনো দেখেও নি। সে ঘুমানোর চষ্টা করতে লাগল।
কুককুরু কুউউউ...

মাথার মধ্যে নানারকম চিন্তাভাবনা ঘুরে ফিরে যাচ্ছে। বিচ্ছিন্ন। এলোমেলো। এই ঢাকার কথা মনে পড়ছে তো এই আম্মার কথা, এই অফিস কলিগের কথা মনে পড়ে যাচ্ছে তো সেই স্কুল বন্ধু। বাসার বেড়ালটার কথাও মনে পড়ে গেল, সাথে সাথে মনে পড়ল কোয়েল পাখিগুলোর কথা, আর খরগোস।
কুককুরু কুউউউ...

পাশের বাড়ির জামাল সাহেবের মোরগটা ডাকছে। মোরগটা বিশাল। গলায় পশম নাই, লাল টকটকে ঝুটি - টার্কির কথা মনে করিয়ে দেয়। প্রচন্ড রকম পুরুষ হাটা চলায় আচার আচরনে। সূর্য উঠার আগেই তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
কুককুরু কুউউউ...

মোরগের ডাকের সাথে বাচ্চাবেলার কথা মনে পড়ে গেল তার। একটা ছবির বই ছিল তার - চীন না রুশ দেশের
রূপকথা। মোরগের সাথে বেড়ালের শত্রুতা কিভাবে তৈরী হল তার গল্প। মোরগ বলত তার মাথার লাল আগুন-রঙা ঝুটিতে আগুন আছে। বেড়ালরা তার কথামত না চললে সেই আগুনে পুড়িয়ে দেবে সব কিছু। একদিন বেড়ালের বাসার আগুন গেল নিভে। বেড়াল ছানা তাই গেল মোরগের কাছ থেকে আগুন চাইতে। ঘুমন্ত মোরগের ঝুটি থেকে চুপি চুপি আগুন ধরিয়ে নিতে চেয়েছিল বেড়াল ছানা। কিন্তু আগুন ধরল না। বেড়াল মা এসে ধরে দেখল আগুনের ঝুটি। ঠান্ডা! মিথ্যে কথা! প্রতারণা! মোরগ হয়ে গেল বেড়ালের শত্রু।
কুককুরু কুউউউ...

কতবার পড়া হয়েছিল এই বইটা? কতবার? একশবার? দুইশবার? পাচশবার? একহাজার? হতে পারে। জামাল সাহেবের মোরগটা ছবির বইয়ের সেই মোরগটার মত কি? সে কি বাড়ির বাউন্ডারি দেয়ালের উঠে তারপর ডাকছে? মোরগের ডাকে একটা ছন্দ টের পাওয়া যাচ্ছে না? ছেলেটা গুনতে শুরু করল - এক ... দুই ... তিন ... চার... পাঁচ ...
কুককুরু কুউউউ...

আবার - এক ... দুই... তিন... চার...পাঁচ...ছয়...সাত...আট...নয়...দশ...এগারো...বারো...তেরো...চোদ্দ...পনেরো
কুককুরু কুউউউ...

পনেরো সেকেন্ড। চার...পাঁচ...ছয়...সাত...আট...নয়...দশ...এগারো...বারো...তেরো...চোদ্দ...পনেরো
কুককুরু কুউউউ...

অদ্ভুত! পনেরো সেকেন্ড পর পর ডাকছে মোরগটা। সকালে মোরগের ডাকে ঘুম ভাঙ্গার কথা অনেক পুরানো। তবে কি মোরগের কাছে আছে কোন ঘড়ি? কোনদেশী ঘড়ি সেটা? চায়না? বাংলাদেশ? নাকি সুইস ওয়াচ?
কুককুরু কুউউউ...

এবার একটু দেরী করে ডাকলো? গুনলে আঠারো পর্যন্ত হয়ে যেত না? ডাকটাও একটু আস্তে মনে হল। মোরগটা কি তবে দেয়াল থেকে নেমে গেল?
কুককুরু কুউউউ...

হুম। অনেক আস্তে শোনা গেল এবারের ডাক। এবার বিশ সেকেন্ড পরে। তারমানে মোরগটা আর এদিকে নেই। চলে যাচ্ছে অন্য কোথাও। অন্য কারও বাড়ির সামনে গিয়ে ডাকবে বোধহয়। ওখানে দাড়িয়ে কি সে পনেরো সেকেন্ড বিরতিতে ডাকবে? কুককুরু কুউউউ... কুককুরু কুউউউ...

ছেলেটার চোখ বন্ধ হয়ে এল।

শুক্রবার, ২ নভেম্বর, ২০১২

হেমলক সোসাইটি

হেমলক-সোসাইটি-পোস্টার

সৃজিত মুখার্জীর প্রথম সিনেমা 'অটোগ্রাফ' নিয়ে লিখেছিলাম, 'রাজনৈতিক' নামে বর্তমানে বিলুপ্ত এক অনলাইন পত্রিকায় সেটা প্রকাশিত হয়েছিল, তার শেষ কথায় বলেছিলাম - সে যা-হোক, এই সামথিং ইজ মিসিং কাহিনীর মধ্যেই অটোগ্রাফ মাধ্যমে কলকাতার সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে সফল পরিচালক হিসেবে শ্রীজিতের যাত্রা শুরু হয়ে গেল। এই যাত্রা অব্যাহত থাকুক এই শুভকামনা। আমার শুভকামনাকে সত্যি করে সৃজিত তার তৃতীয় সিনেমা 'হেমলক সোসাইটি' মুক্তি দিয়েছে এবং তার বাকী দুটো সিনেমার মতই এই সিনেমাটিও বেশ আলোড়ন তুলে ইন্ডাস্ট্রিতে তার শেকড় আরও একটু গভীরে প্রোথিত করেছে।