বৃহস্পতিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১২

মার্সেনারী সোলজার

: ভাইজান ভালো আছেন?
: নারে ভাই।
: কি হ্ইছে?
: আমি মনে হয় পুরা পাগল হয়ে যাবো, পাগলামীর কারনে চাকরি থেকে বাদ দিয়া দিতে পারে।
: সেই ভালো
: মানে?
: পাগল অবস্থায় ডিউটি পালন করা সমস্যা, পাগলামির স্বাদ পুরা নেয়া যায় না
: ফাইজলামি করেন?
: যদি চাকরীর জন্য পাগল হতে সমস্যা হয়, তাহলে আগেই ছাইড়া দেন, তারপর সময় নিয়ে ভেবে চিন্তে ধীরে সুস্থ্যে পাগল হন।
: আমি কিন্তু ফাইজলামি করিনা
: অ্যা?
: অ্যা না হ্যা। আমি জানি আমার মেন্টাল অবস্থা কই যাইতেসে
: বিশাল ব্যাপার
: কি?
: এই জিনিস খুব কম লোকেই পারে। ডেস্টিনেশন যেহেতু জানেন, তাহলে রিসেপশনের ব্যবস্থা করেন।
: কিসের?
: একটা গ্র্যান্ড রিসেপশন মাস্ট বি এনশিওরড। ডেস্টিনেশন কত দূরে আছে, কত সময় লাগবে ইত্যাদি বিবেচনা করে আয়োজন শুরু করে দেন।
: ফান করেন? আমি প্রচুর ফাইট করতেসি ইন্টারনালি। আমি বুঝতেসিনা কি করব, আমার কোন উন্নতি নাই অবস্থার, কিছুতেই কিছু হয়না, কিছু শিখি না
: অ্যামো ওয়েপন্স আছে যথেষ্ট?
: অ্যামো? ওয়েপন্স?
: সাপ্লাই দেয়া লাগবে?
: নাই, সাপ্লাই দিয়া কাজ হবেনা হয়ত, বিশাল অপনেন্ট, আমার কেউ নাই, এনিটাইম অ্যামবুশ করলেই আমি শেষ
: আজিব! তাহলে অ্যামবুশের জন্য বৈসা আছৈন ক্যান?
: কি করবো?
: স্যারেন্ডার করেন। শর্তসাপেক্ষে সারেন্ডার করবেন। জেনেভা কনভেনশন সম্পর্কে পড়াশোনা করে নিতে পারেন।
: এইসবে কি কন? সারেন্ডার করলে কি হবে, আমি ভাঙ্গি তবু মচকাইনা
: অ। তাহলে শহীদ হয়ে যান।
: হুম।
: মাঝখানে ঝুইলা থাকার কি দরকার
: ফাইটিং করতেছি, ঝুইলা নাই।
: লোকবল লাগবে? মার্সেনারী সোলজার পাঠাবো?
: সেইটা কি?
: ভাড়াটে সৈন্য।
: অ।
: একা একা লড়াই করতেসেন, আরেকজন পাঠায়া দিই।
: কারে পাঠাবেন?
: যারে দিয়া হবে। বুকে বুক মিলায়া ফাইট করবে।
: বুকে বুক না, পিঠে পিঠ লাগায়া।
: ঠিকই আছে, যে যুদ্ধের যে নিয়ম।
: কাউরে দিয়া হবে না।
: হবে। দুইজনে ফাইট করলে লাভ আছে। রিলোড টিলোড করে দিতে পারবে, চাই কি দুইটা গুলিও করলো যদি দরকার হয়।
: কি বলেন এ্ইসব?
: গুলি টুলি লাগলে সেবাও।
: আমি কাউরে চিনি না।
: সমস্যা না। ফাইট করতে করতে চিনবেন।
: তাও ঠিক।
: বিবিএ এম্বিয়ে হবে?
: এই যুদ্ধে তারা কেন? এই যুদ্ধ তো মানসিক বিকারগ্রস্থতার। মনোবিজ্ঞানী হইলে পারত। কাউন্সেলর টাইপ কিছু।
: তাহলে মনোবিজ্ঞানের স্টুডেন্ট লাগবে?
: হবে না। আমার বন্ধু যারা সাইকলজিতে তারা নিজেরাই এক একটা সাইকো। কথা বলতে সাহস হয় না।
: তার মানে সোলজারও হবে, নার্সও হবে তাই তো? সমস্যা নাই নার্স সোলজার পাওয়া যাবে।
: নার্স? নার্স কেন? নার্স হইলে পালায়া যাবো।
: যুদ্ধক্ষেত্রে আছেন, পালাবেন কই?
: তাও ঠিক। কিন্তু আপনার ব্যাপারটা কি?
: আমার আবার কি ব্যাপার?
: মার্সেনারী সোলজার দিয়া বেড়াচ্ছেন?
: কাউরে না কাউরে তো করতেই হবে তাই না? তার দরকার এমপ্লয়ার, আপনার মার্সেনারি, মাঝে আমি ম্যাচমেকার।
: হুম।
: ছবিসহ একটা বায়ো পাঠাবো ভাই?

মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১২

না ফুরানো কথা

: কথা ফুরিয়েছে। ভালো থাকবেন।
: ফুরায় নি। অনেকের সাথে একসাথে কথা বললে যা হয় আরকি
: চালিয়ে যান। পরে আরেকদিন নাহয় অন্যরা এসে পড়ার আগেই আমরা অনেক কথা বলে ফেলবো"

শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১২

চুমু সংক্রান্ত বাণী

আকাশে চুমু ছুড়লে তার অধিকার সবার, জানেন তো? প্রাইভেট জিনিস প্রাইভেটে দেয়াই ভালো।
বহুদিন পর একটা বাণী দিতে পেরে আহ্লাদিত বোধ করছি :)

বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১২

বাংলাদেশী সিনেমার অভিনেতাদেরকে 'ট্যাগ' করা প্রসঙ্গে

বাংলাদেশী সিনেমার অভিনেতারা তাদের নিজ নাম ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের নামে পরিচিত হন। এদের মধ্যে শাকিব খান সম্ভবত সবচে বেশী পরিচিত। মাত্র চারটে সিনেমায় অভিনয় করে অনন্তও বর্তমানে 'অনন্তা' হিসেবে ট্যাগড হচ্ছেন। হাবিবউল্যাহ নামে একজন বাংলা সিনেমাপ্রেমী ব্লগার যিনি বর্তমানে প্রবাসী তার এই ট্যাগিঙ সংস্কৃতি সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছেন - জনপ্রিয় অভিনেতা সালমান শাহ যদি এতদিন বেচে থাকতেন তবে তিনিও 'লেডিস শাহ' নামে পরিচিত হয়ে যেতেন তিনি তার এ মন্তব্যের ব্যাখ্যাও করেছেন যার সাথে দ্বিমত পোষন করে বিভিন্ন রকম মতামত অন্যান্য ব্লগাররা জানিয়েছেন, তারা বাংলাদেশী সিনেমা সংক্রান্ত নানাবিধ সমস্যা তুলে ধরেছেন। দর্শকের ট্যাগিং প্রবণতার কারণ চিহ্নিত করতে পারলে উত্তর পাওয়া সহজতর হবে - এমনটা বিশ্বাস করি। এক্ষেত্রে প্রধান প্রশ্ন হল, দর্শক কেন বাংলা সিনেমার নায়কদের বিভিন্ন ট্যাগে ভূষিত (!) করেন এবং কেন করেন না? মূলত, এই পোস্টে বাংলাদেশী সিনেমার অভিনেতাদের ট্যাগ করার কারণ খুজে বের করার চেষ্টা করা হয়েছে। উল্লেখ্য, সালমান শাহ সম্পর্কে প্রায় একই রকম মন্তব্য পূর্বের একটি পোস্টে করেছিলাম। প্রয়োজনে সেই পোস্টটিও পড়ে নেয়া যেতে পারে।

রবিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১২

ইনোসেন্স অব মুসলিমস - ছবির জবাব যে সিনেমা

Innocence of Muslim নামের চরম মিথ্যা, বিদ্বেষমূলক সিনেমার জবাব হতে পারে ১৯৭৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত সিরিয়ান পরিচালক Mostafa Al Akkad পরিচালিত সিনেমা 'দ্য মেসেজ'।

মুভিতে নবীজি হযরত মুহাম্মদ (স) এর ইসলাম প্রচারের খন্ড খন্ড চিত্র বর্নিত হয়েছে। নবুয়্যত লাভের পর মক্কার প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ইসলাম প্রচার, অত্যাচারিত হওয়া, পরবর্তীতে মদীনায় হিজরত এবং মক্কা বিজয় – এ সকল বিষয় ফুটে উঠেছে সিনেমাটিতে। এ ছাড়াও ইসলামের ইতিহাসে বিখ্যাত বদরের যুদ্ধ এবং ওহুদের যুদ্ধ দেখানো হয়েছে মুভিতে। সিনেমার কাহিনী এগিয়েছে ঐতিহাসিক চরিত্র হযরত হামযা (রা) যিনি নবীজি (স) এর চাচা ছিলেন, মক্কার কুরাইশদের নেতা আবু সুফিয়ান এবং হামযার কলিজা ভক্ষনকারী হিন্দার বর্ননা অনুসারে। হামজা চরিত্রে Anthony Quinn যিনি এর পূর্বে সেরা পার্শ্বচরিত্রে অভিনয়ের জন্য দুবার অস্কার পুরস্কার জিতে নিয়েছেন। এই তিন চরিত্র ছাড়াও ইসলামের প্রথম মুয়াজ্জিন হযরত বিলাল (রা), হযরত জায়েদ (রা), খালিদ বিন ওয়ালিদ, চাচা আবু তালিব এবং আবু লাহাবের চরিত্র উঠে এসেছে।

পুরো সিনেমায় হযরত মুহাম্মদ (স) কিংবা খিলাফাতে রাশেদার চার খলিফাকে জনগনের সামনে প্রকাশ করা হয় নি। তাদের চরিত্র অন্য কোন মানুষ উপস্থাপন করতে পারেন না, তাদের গুনাবলী অন্যান্য সাধারন মানুষদের পক্ষে তুলে ধরা সম্ভব নয়। তবে তাদেরকে উপেক্ষা করে তো আর কাহিনী এগিয়ে নেয়া সম্ভব নয়, তাই বুদ্ধিমত্তার সাথে তুলে ধরা হয়েছে তাদের কার্যাবলী। নবীজি (স) এর বাকানো লাঠি আর কোথাও কোথাও উটনীর মাধ্যমে তাঁকে প্রকাশ করা হয়েছে, কখনোও ক্যামেরাকেই নবীজি (স) হিসেবে প্রকাশ করা হয়েছে তবে তার কন্ঠ কিংবা শরীরের কোন অংশ প্রকাশ করা হয় নি। বদর কিংবা ওহুদ যুদ্ধে মূল নেতৃত্ব নবীজি (স) দিলেও সিনেমায় তার পালিত পুত্র হযরত যায়েদ (আ) কে নেতৃত্বের আসনে দেখানো হয়েছে, যিনি নবীজি (স) এর নির্দেশানুসারে নেতৃত্ব দিয়েছেন। আবার হযরত আলী (রা) কে প্রকাশ করার জন্য তার দুমাথার তরবারী যুলফিকারকে দেখানো হয়েছে।

কি পরিমান সংগ্রাম,ত্যাগ তিতিক্ষা, অত্যাচার-নির্যাতনের মধ্য দিয়ে প্রিয় রাসূল (স) তার দাওয়াহ মিশন বাস্তবায়ন করেছিলেন তা আর কোন সিনেমায় এত বাস্তবভাবে উঠে আসে নি। রাসূল (স) এর জীবন সম্পর্কে জেনে নেয়ার জন্য এই সিনেমাটি ছোট্ট ভূমিকা পালন করতে পারে। সিনেমাটির ডাউনলোড লিংক নিচে দেয়া হল, শেয়ার করার মাধ্যমে সকলকে এই সিনেমাটি দেখতে সাহায্য করুন।

<<<ডিরেক্ট ডাউনলোড>>>
স্টেজভ্যু: http://stagevu.com/video/yomuhvvkprkg
মিডিয়াফায়ার: http://www.mediafire.com/?0gzgjlymmmy
http://www.mediafire.com/?mhzyznzy2mi
http://www.mediafire.com/?m0ly0mmidlq
http://www.mediafire.com/?m0ly0mmidlq

টরেন্ট:
http://kat.ph/the-message-1977-brrip-xvid-etrg-t6618522.html

তথ্যসূত্র: http://www.darashiko.com/2010/03/prophet-on-movies/
কৃতজ্ঞতা: https://www.facebook.com/bdidol

শুক্রবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১২

মিলেনিয়াম ট্রিলজি: সুইডিশ জেসন বর্ণ

ভদ্রলোক উপন্যাস লিখেছেন মোটে তিনটা - ২০০৫, ২০০৬ এবং ২০০৭ সালে প্রকাশিত। ২০১১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এই তিনটি উপন্যাস বিক্রি হয়েছে মোট ৬৫ মিলিয়ন কপি। ২০০৮ সালে তিনি ছিলেন বিশ্বের দ্বিতীয় বেস্ট সেলার লেখক। এই তিনটি বই নিয়েই সুইডেনে তিনটি সিনেমা নির্মিত হয়ে মুক্তি পেয়েছে ফেব্রুয়ারী, সেপ্টেম্বর এবং নভেম্বর মাসে - একই বছরে, ২০০৯ সালে। কিন্তু এই সাফল্যের কোনটিই দেখার জন্য তিনি বেঁচে ছিলেন না। ২০০৪ সালে পঞ্চাশ বছর বয়সে হঠাৎ মৃত্যুবরন করার পরের বছর থেকে বইগুলো প্রকাশিত হয়। সুইডেনে নির্মিত সিনেমাগুলো এতটাই জনপ্রিয় হয় যে, হলিউড রিমেক করার জন্য এগিয়ে আসে। জনপ্রিয় ও গুনী পরিচালক ডেভিড ফিঞ্চার পরিচালিত রিমেক সিনেমাটি মুক্তি পায় ২০১১ সালে এবং বেশ ভালো ব্যবসা করে। যে লেখকের সৃষ্টি নিয়ে এত কিছু তার নাম স্টিগ লারসন (Stieg Larsson) আর তার লেখা উপন্যাস তিনটিকে বলা হয় 'মিলেনিয়াম ট্রিলজি'। ট্রিলজির তিন পর্বের নাম: দ্য গার্ল উইথ দ্য ড্রাগন ট্যাট্যু, দ্য গার্ল হু প্লেইড উইথ ফায়ার এবং দ্য গার্ল হু কিকড দ্য হর্নেট'স নেস্ট

বৃহস্পতিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১২

মন খারাপের স্ট্যাটাস


বিকেলে না ঘুমালেও কখনো কখনো মন খারাপ হয়। মন কেন জানি অনেকদিন আগে ফেরত চলে যায়। মন খারাপ টারাপ এইসব না- কেমন জানি বিষন্ন!!! সটাৎ সটাৎ এইরকম হয় - এমনিই মনটা খারাপ। তখন বারান্দায় বসে থাকতে ভালো লাগে। ভীড় বাসের জানালায় হাতের উপর মাথা কাত করে রেখে বাইরের বাঁকানো পৃথিবী। মাথায় কোন চিন্তা নেই। কিন্তু মনটাও ভালো নেই। এই মন খারাপ নিয়ে অনেক পথ হাটতেও ভালো লাগে। হাটা তখন কষ্টকর না, দুরত্ব তখন সমস্যা না।





আইইএলটিএস প্রস্তুতি গাইড এবং প্রয়োজনীয় লিংক





আরও পড়ুন: ভ্রমণ বিষয়ক সকল পোস্ট


রবিবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১২

মুভি রিভিউ: ঘেটুপুত্র কমলা

জনপ্রিয় সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ পরিচালিত সর্বশেষ চলচ্চিত্র 'ঘেটুপুত্র কমলা' মুক্তি পেয়েছে দেশের মাত্র দুটি প্রেক্ষাগৃহে। জীবিত অবস্থায় হুমায়ূন আহমেদ 'ঘেটুপুত্র কমলা' সম্পর্কে দর্শকদের অনুরোধ করেছিলেন তারা যেন বাচ্চাকাচ্চা নিয়ে সিনেমাটা দেখতে না যায়। ছবি মুক্তির আগে থেকেই তাই 'ঘেটুপুত্র কমলা' নিয়ে কিছু গুঞ্জন তৈরী হয়। যে সিনেমা বাচ্চাকাচ্চা নিয়ে না দেখার অনুরোধ স্বয়ং পরিচালক করেন সে সিনেমা বর্তমান সমাজে কতটুকু প্রয়োজন এবং এর প্রভাব কি হতে পারে সে নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সকল প্রশ্নের জবাব আর দারুন মানবিকতার এক গল্প নিয়ে উপস্থিত হয়েছে 'ঘেটুপুত্র কমলা'।

বুধবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১২

করমজলে-জঙ্গলে

মাথার উপর চড়া রোদ। হলুদ-লাল সুতি গামছাকে ঘোমটা বানিয়েছি। একটা হকার 'অ্যায় সিঙ্গারা, ছয়টা দশ টাকা, ছয়টা দশ টাকা' বলে চেঁচাচ্ছে এবং ক্রেতাদের পত্রিকার পাতায় মুড়ে সিঙ্গারা বিক্রি করছে। আমি বসে আছি লঞ্চের পেছন দিকে কোনায়, নিচু রেলিং এর উপর। লঞ্চে প্রচন্ড ভিড়। ইঞ্জিনের আওয়াজ, হকারদের চিৎকার আর যাত্রীদের গুঞ্জন মিলে একধরনের নতুন শব্দ তৈরী হচ্ছে। আমি একাকী বসে যাত্রীদের কার্যকলাপ দেখছি। ঠিক এক বছর আগের কথা মনে পড়ে গেল হঠাৎ করে। দারাশিকো'র বঙ্গভ্রমণে আমি তখন খুলনায়, যাবো সুন্দরবন।
সুন্দরবন যাওয়ার আগ্রহ অ-নে-ক দিনের। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে ক্লাসের বন্ধুরা গিয়েছিল পাচ দিনের ট্যুরে। জনপ্রতি বোধহয় হাজার পাচেক টাকা বাজেট। আমার যাওয়া হয় নি - ব্যস্ততা, অর্থাভাব এবং তৃতীয় আরেকটি কারণে। পরবর্তীতে পরিচিত আরও অনেকে সুন্দরবন ঘুরে এসেছে। আমি টিম তৈরী করার চেষ্টা করেছিলাম, হয় নি। গত বছর এরকম সময়ে ঈদের পরে ঢাকায় ফিরেছি, ইচ্ছা সিলেট ঘুরতে যাবো, কিন্তু এবারো সঙ্গী পাওয়া গেল না। আমি হতাশ। রুমমেট জুনিয়র ভাইকে ফোন দিলাম, সে জানালো ফিরতে তার একটু দেরী হবে, কারণ অ্যাসাইনমেন্টের কাজে যে সুন্দরবন যাবে। ঘন্টা দুয়েকের মধ্যে আমি খুলনার গাড়িতে উঠে পড়লাম, ভোরে নামলাম যশোরে। সেখান থেকে মুকিতের সাথে যাবো খুলনায়।
যশোর থেকে খুলনা যাওয়ার রাস্তাটা ভালো ছিল না, অন্তত প্রথম অর্ধেক। তবে পরের অর্ধেক জায়গা ভালো এবং সুন্দর। রাস্তার পাশে ইন্ডাস্ট্রিয়াল এলাকা। কারখানাগুলা সুন্দর, শান্ত ভাব। রাস্তাও ভালো, মন জুড়ায়।
খুলনায় বাস থেকে নামলাম সোনাডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে। এখান থেকে যাবো মংলা। মংলা যেতে হলে লোকাল বাসে যেতে হবে। আধাঘন্টা পর পর বাস ছাড়ে সোনাডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড থেকে। টিকেট কেটে সিট দখল করতে হয়। বাসগুলো ঢাকা শহরের তিন নাম্বার বাসের মত ছোট এবং সংকীর্ণ। বাংলাদেশের সব লোকাল বাসের মতই এই বাসও সময়ের চেয়ে দেরীতে ছাড়ে, শহর ছেড়ে বের হওয়ার আগ পর্যন্ত প্রত্যেক মোড় থেকে যাত্রী তোলে, যাত্রীরা কন্ডাক্টরের চোদ্দগুষ্ঠি উদ্ধার করার উদ্দেশ্যে নানাবিধ বাণী বর্ষন করে। যেহেতু আমরা পর্যটক, এ ব্যাপারে আগ্রহ একদমই নেই, বরং প্রতিটি মুহুর্ত উপভোগ্য।
সোনাডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডটাই শহরের প্রান্তে, তাই একটু পরেই শহর থেকে বেরিয়ে পড়া হয়। এরপর মফস্বল বা গ্রাম এলাকা। সব মিলিয়ে আড়াই ঘন্টার মত লাগে মংলা বন্দরে পৌছাতে। মংলার কাছাকাছি পৌছে গেলেই অসাধারণ এক অনুভূতি তৈরী হয়। রাস্তার দুপাশে বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ফাকা, কোথাও লবনের ঘের, কোথাও সব্জি ক্ষেত। সাথে চমৎকার আকাশ এবং বাতাস। বোঝা যায় আমরা নদী বা সমুদ্রের ধারে চলে এসেছি।
কোন খোজ না নিয়েই মংলা এসেছি। ভেবেছি, কোন না কোন বোট সুন্দরবনের দিকে যাবে, আমরা সেখানে উঠে পড়বো। আজ না হোক, কাল সকালে তো যাবে, রাতে থাকার ব্যবস্থা হয়ে যাবে। দেখা গেল ধারনা ঠিক নয়। মংলা থেকে সুন্দরবনে বোট যায় ঠিকই, কিন্তু সেটা শুধু করমজল পর্যন্ত। ঘন্টাখানেক ব্যয় করলেই ঘুরে আসা সম্ভব। এর বেশী ভিতরে যেতে হলে বনরক্ষীদের পারমিশন নিতে হবে, মিনিমাম একজন বন্দুকধারী রক্ষী নিতে হবে, টাকা পয়সা খরচ করতে হবে ইত্যাদি ইত্যাদি। প্রথমে বিশ্বাস হয় নি। ঘুরে ঘুরে কয়েকজন বোটম্যানের সাথে কথা বলে তারপর বুঝলাম, কেউ-ই মিথ্যে বলছে না। অর্থ্যাৎ গেলে করমজলেই যেতে হবে।
মংলা বন্দর থেকে ছোট ইঞ্জিন নৌকা চলে করমজল পর্যন্ত। দুই তিনটা পাবলিক নৌকাও আছে, সেখানে ভাড়া পড়ে ত্রিশটাকা জন প্রতি। আর প্রাইভেট নৌকায় যার কাছ থেকে যত নিয়ে পারে। আমরা প্রাইভেটেও গেলাম না, পাবলিকেও না। সোয়া চার সদস্যের এক পরিবার নৌকা বুক করেছে, বোটম্যান আরও দুএকজনকে তুলে নিতে চায়। অনেক দোনামোনা শেষে উঠে পড়লাম। জনপ্রতি একশ টাকা।
আহা! সে এক অসাধারণ মুহূর্ত। নৌকায় চড়েছি অনেক, সেই বাচ্চাবেলা থেকে। ফলে পার্থক্য করা কষ্ট। কিন্তু এই ভ্রমন খুব মনে থাকবে। ফুরফুরে বাতাস, আমার হাফ টাকলু মাথার চুল উড়ছে! আর আকাশ! উফ! অসহ্য রকম সুন্দর।
মংলা বন্দর ছেড়ে এসেছি

ট্রলার। এসব ট্রলারেই করমজলে যায়। এটা একটু বড় ট্রলার।

কাদায় মাখামাখি হয়ে ছেলেগুলো যখন ঘোলা পানিতে ডুবাডুবি করছে, তাদের মাঝে এই মেয়েটিকে খুব ব্যতিক্রম লাগছিল

করমজল কি? সুন্দরবনের শুরু। বেশ কিছু এলাকা নির্দিষ্ট করে নিয়ে বনবিভাগ ও পর্যটন কতৃপক্ষ পর্যটকদের উপযোগী হিসেবে গড়ে তুলেছে। নিরাপদে সুন্দরবন ভ্রমণ বিশেষত নারী ও শিশুদের নিয়ে আসলে করমজল বেস্ট। বনের ভেতরে কাঠের তৈরী পাটাতন, দুই ধারে গাছে রেলিং। এর মাঝে হেটে হেটে বনের ভেতরে ঢোকা যায়। কাঠের পাটাতনের নিচে কাদা। জোয়ারের সময় পানিতে ঢেকে যায়। পানি নেমে গেলে অনেক অনেক লাল কাকড়া বের হয়ে আসে। ছোটাছুটি করে, গর্তে ঢোকে, বের হয়। আর দেখা যায় নানান রকম পোকা। পাশের গাছগুলোয় তাদের নামফলক লাগানো। পশুর, বাইন, সুন্দরী। গোলপাতা - সে মোটেও গোল নয়, লম্বাটে নারকেল পাতার মতো। পাখির ডাক শোনা যায় কম বেশী। পশু বলতে বানর। আর আছে চিপসের প্যাকেট, ড্রিংক্স-জুসের বোতল এবং বাদামের খোসা। পাখির ডাক শোনার চেয়ে বেশী শোনা যায় কাঠের পাটাতনে জুতার আওয়াজ। কোলাহল। ক্লিক ক্লিক। কিছু নব্য জানোয়ার চিৎকার আর হৈ হুল্লা করে বনের নিস্তব্ধতাকে বারবার ভেঙ্গে দেবে। করমজলের চেয়ে বোটানিক্যাল গার্ডেন অনেক বেশী নিস্তব্ধ।
জোয়ারের সময় পানি এতটুকু পৌছায়, কিছু থেকে যায় ভাটার সময়

একটা মৌচাক দেখা যাচ্ছে। ছোট ক্যামেরায় জুম করে তোলায় ঝাপসা হয়ে গেছে।

শ্বাসমূল দেখতে খুব একটা শ্লীল নয়!

নাল কাকড়া

করমজলের বাঘ!

কাঠের পাটাতনের শেষে আছে ইট বিছানো রাস্তা - অল্প কিছুদূর পর্যন্ত

করমজলে একটি হরিনখাঁচা আছে। খোলা জায়গায় বেশ কিছু হরিণ ঘুরে বেড়ায়, পর্যটকের হাত থেকে খায়। আর আছে কুমির প্রজনন কেন্দ্র। বড় এক পুকুরে পূর্নবয়স্ক কুমিররা থাকে। তাদের দেখাশোনা করে যে কর্মচারী সে ডাকলে লাফ দিয়ে পুকুরে পরে, সাঁতরে কাছে আসে। আর কিছু আছে মরার মত পরে থাকে, এমন কি হা করা মুখেও। পাশে আছে বাচ্চা কুমিরদের আস্তানা। সেখানে বিভিন্ন ছোট ছোট জলাধারে বিভিন্ন সাইজের বাচ্চা কুমির জড় পদার্থের মত নট নড়ন চড়ন অবস্থায় ধ্যানরত। আছে একটি ওয়াচ টাওয়ার। গাছের জন্য জঙ্গল দেখা যায় না।
করমজলে পৌছার পর থেকেই হতাশা শুরু। এই সুন্দরবন দেখার জন্য আমি এতদূর আসি নাই। মুকিত এসেছে তার অ্যাসাইনমেন্টের কাজে। কয়েকজন লোকাল লোককে যখন জিজ্ঞেস করলো - বনের গাছ চুরি হয় না? সবাই একই কথা বলল - না। লবডঙ্কা। বন থেকে বের হবার আগে এক কোনায় চলে গেলাম পাটাতনের উপর দিয়ে হেটে। এই দিকটায় সবাই আসছে না - প্রচন্ড নীরবতা। আমরা দুজন বসে আছি। পানির আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছে। জোয়ার আসছে। কাদার উপরে পানির স্রোত ভেসে আসছে। অল্প অল্প করে। চুপচাপ তাকিয়ে দেখছি। চোখের সামনে একটা একটা করে শ্বাসমূলগুলো ডুবে যাচ্ছে। পানি ভেতরের দিকে ঢুকছে। সাদা ফেনা দেখা যাচ্ছে। পানি বাড়ছে, আরও-আরও। অসাধারণ দৃশ্য। মন ভালো করে দিল।
ফিরতে হবে। খুলনায় বিনা খরচায় রাত কাটানোর ব্যবস্থা হয়ে গেছে।

সোমবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০১২

অনন্তের 'পম গানা'র প্রতিবাদে

এই দেশের লোকজন বড়ই অদ্ভুত!
পাবলিক বাসে করে কোথাও যাবেন। দেখবেন, যাত্রীরা কিছুক্ষন পর পর চিৎকার করে বাস ড্রাইভারকে ডানে কিংবা বামে, আস্তে কিংবা ধীরে গাড়ি চালানোর পরামর্শ দিচ্ছে। অথচ এদের খুব কম লোকই বাস চালাতে জানে।
অনন্ত-র ইংরেজী শুনে লোকজন সীমাহীন বিনোদন পাচ্ছে। ফেসবুকে স্ট্যাটাস আর ছবি শেয়ারের ধুম লেগে যাচ্ছে। পাচ মিনিট ইংরেজিতে কথা বলার সুযোগ দিন। বেশীরভাগেরই অনন্তের সাগরেদ হওয়া ছাড়া উপায় থাকবে না।
আচ্ছা বোঝা গেল, আপনি পাচ মিনিট না, পুরো পাচ ঘন্টা কোন ভুল ছাড়া ইংরেজিতে কথা বলতে পারেন। কনগ্রাচুলেশন্স। কিন্তু ভেবে দেখুন আর কোন কোন জায়গায় আপনি এক্সপার্ট না।
প্রকৃত জ্ঞানীরাই বিনয়ী হয়। বিনয়ী হোন। ভালো থাকুন।