শুক্রবার, ৩১ আগস্ট, ২০১২

মুভি রিভিউ: সে আমার মন কেড়েছে

ধনীর দুলালী আলিশা (তিন্নি) একদিন বাড়ি থেকে পালালো, তারপর বাবাকে ফোনে জানালো - কিং কোবরা নামে এক সন্ত্রাসী তাকে কিডন্যাপ করেছে, মুক্তিপণ চাই এক কোটি টাকা। তারপর নিজেই নিজের হাতে হাতকড়া পড়ালো, মুখে টেপ লাগালো, পা বাধল। তারপর নিজের গাড়ির পেছনের বাক্সে বন্দী করল। আলিশা যখন ডিকি-তে বন্দী, তখন ব্রিফকেস হাতে হাজির হল আরিয়ান (শাকিব খান)। তারপর ব্রিফকেস খুলে বের করলো - নগদ টাকা নয়, স্ক্রু ড্রাইভার। আলিশার বাবা আশফাক চৌধুরী (আলমগীর) দাবী অনুযায়ী টাকা নিয়ে হাজির হওয়ার আগেই আরিয়ান গাড়ির লক ভেঙ্গে ভেতরে ঢুকে গাড়ি নিয়ে পালাল। গাড়ি চোর আরিয়ানের সাথে গডফাদার আতিক খানের (মিশা সওদাগর) চুক্তি ছোট - একবারে পাচটি চোরাই গাড়ি হস্তান্তর করা হবে চল্লিশ লাখ টাকার বিনিময়ে। পাচটি চোরাই গাড়ি গ্যারেজে আর গাড়ির মূল্য চল্লিশ লক্ষ টাকা গ্যারেজের আলমারিতে রেখে ডিকি থেকে উদ্ধারকৃত আলিশাকে নিরাপদে কোথাও নামিয়ে দিতে গেল আরিয়ান। এদিকে গ্যারেজে আগুন লেগে পুড়ে গেল নগদ ৪০ লক্ষ টাকা, সেই সাথে পাচটি চোরাই গাড়ি।

বৃহস্পতিবার, ৩০ আগস্ট, ২০১২

মিথ্যুক!

: সবাই চলে গেছে, তুই এখনো বসে আছিস ক্যান? যা।
: যাই।

: তোর না বলে হাসপাতাল ভালো লাগে না, গন্ধ সহ্য করতে পারিস না, এত এত কাজ - তাহলে প্রতিদিন আসিস ক্যান?

: শম্পা আসে তাই।

: আর আসবি না।

: আচ্ছা।

: যা, আমার জন্য বসে থাকা লাগবে না।

: তোর জন্য বসে নাই।

: তাইলে ক্যান বসে আসিছ?

: তোর নার্সটাকে ভালো লাগছে। কিউট।

: মিথ্যুক!

মঙ্গলবার, ২৮ আগস্ট, ২০১২

দুই ধারে এবং মাঝখানে

দুই ধারে সবুজ ধানক্ষেত, আর তার মাঝে রাস্তা দিয়ে ছুটে চলতে হলে - বরিশাল থেকে ফরিদপুর।
দুই ধারে পাটকাঠি আর সোনালী আঁশ, তার মাঝের রাস্তা দিয়ে ছুটে চলতে হলে - ফরিদপুরের ভাঙ্গা মোড় থেকে মাওয়া ঘাট।
দুই ধারে পানি আর পানি, আর তার মাঝে রাস্তা দিয়ে ছুটে চলতে হলে - সিলেট থেকে তামাবিল।
দুই ধারে সবুজ গুল্ম (আলুর ক্ষেত), আর তার মাঝে রাস্তা দিয়ে ছুটে চলতে হলে - সিরাজগঞ্জ থেকে বগুড়া।
দুই ধারে বিশাল রুক্ষ ফাকা জায়গা, সাথে প্রচন্ড বাতাস, আর তার মাঝে রাস্তা দিয়ে ছুটে চলতে হলে - খুলনা থেকে মংলা।
দুই ধারে শুকোতে দেয়া নানান রঙ এর সুতা আর রঙিন কাপড়, তার মাঝে রাস্তা দিয়ে ছুটে চলতে হলে - ভুলতা থেকে নরসিংদী।
দুই ধারে ঘন জঙ্গল, রাস্তা অন্ধকার, আর তার মাঝে রাস্তা দিয়ে ছুটে চলতে হলে - শ্রীমঙ্গল থেকে মাধবকুন্ড।
দুই ধারে চা বাগান আর তার মাঝে রাস্তা দিয়ে ছুটে চলতে হলে - শ্রীমঙ্গল থেকে লাউয়াছড়া।

নিজ অভিজ্ঞতা থেকে এগুলো চিহ্নিত করেছি। আপনি কিছু যোগ করবেন?

বুধবার, ২২ আগস্ট, ২০১২

পিসড অফ!

টিনের চালে প্রচন্ড বৃষ্টি হচ্ছে। শব্দে কান ঝালাপালা। হালকা পুতুপুতু বৃষ্টি না, রীতিমত ক্যাটস অ্যান্ড ডগস।

ঈদের  ছুটিতে বোরিং ভাবটা কেটে যাচ্ছে। খুবই ভালো লাগছে। এই আনন্দে একটা স্ট্যাটাস দিয়া ফেললাম -

কুত্তা বিলাই শ্যাষ। টিনের চালে হাতি ডাইনোসর বৃষ্টি হচ্ছে :) :)

মনে করার চেষ্টা করছি এই টিনের চালে বৃষ্টি নিয়ে কে কি বলছে। মনে পড়ছে না। টিনের চালের ব্যাপারটা সত্যিই ইন্টারেস্টিং। যখন গরম পড়ে তখনও ঝালাপালা অবস্থা, তবে শব্দে না, তাপে। তবে সেইটা নিয়ে কারও মধ্যে কাব্যি আসে না। আসে বৃষ্টিতে।

স্ট্যাটাসে লাইক পড়া শুরু করছে। একটা কমেন্টও পড়ে গেছে - "লোকেশনটা বলেন, তাইলে আরও ফিল আসবে :P "
আমি লাইক দিলাম কমেন্টে, রিপ্লাই দিলাম না। লোকেশন বলা যাবে না।

বৃষ্টির গতি কমার কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। এই বৃষ্টিতে ঢাকায় এক হাটু পানি জমে যেত। রিমঝিম বৃষ্টি যে ভাবের উদ্রেকে সাহায্য করে সেটা বুঝতে পারছি। আমার মনে আরও একটা স্ট্যাটাস তৈরী হয়ে যাচ্ছে।

আরেকটা স্ট্যাটাস দিলাম -

টিনের চালে ঝমাঝম বৃষ্টি। দারুন রোমান্টিক মুহূর্ত। মিসিং ইউ

এইটা পার্সোনাল স্ট্যাটাস। সমস্যা নাই, যার উদ্দেশ্যে দেয়া সে তো লাইক দিবেই, আরও লাইক পাওয়া যাবে। কিছু রসাল মন্তব্যও পাওয়া যেতে পারে। এমনকি ডেকচির চে ঢাকনা গরম-এর মত স্ট্যাটাসের চেয়ে কমেন্টে বেশী লাইক পড়তে পারে। পড়ুক। কমেন্টের অবস্থান সবসময়ই স্ট্যাটাসের নিচে।

বৃষ্টি থামছে না। জানালা দিয়ে দেখছি পাশের প্লটে পানি জমে যাচ্ছে। পাশের রুমে চলে গেলাম। ওদিকে বিশাল এক পুকুর, পানিতে টইটম্বুর অবস্থা। সহস্র বৃষ্টির সশব্দ ফোটায় তরঙ্গমুখরিত।

ফিরে এলাম নিজের রুমে। ঘরে পা দিয়েই বুঝলাম পায়ের নিচে পানি। কোত্থেকে এল?

টিনের ফুটা দিয়ে পড়ছে। একটা পাতিল এনে দিলাম ফুটার নিচে।

আরও একটা ফুটা নজরে পড়ল। পানি পড়ছে বিছানার উপর। তোশকটা ভাজ করে ফেললাম। একটা বাটি বসালাম।

আরও একটা ফুটা দিয়ে পানি পড়ছে। দেয়াল চুয়ে। ক্যালেন্ডার আর দেয়াল ঘড়িটা সরানো গেল।
কিন্তু ইলেক্ট্রিক সুইচ বোর্ডটা সরানো গেল না। একটা পলিথিন দিয়ে মুড়ে দেয়ার চেষ্টা করলাম। কিছুটা রক্ষা।

আর্ও দুটো ছিদ্র দিয়ে পানি পড়ছে। দুটো বালতি দিয়ে দিলাম।

অন্য ঘরেও ফুটো আছে, সেই ঘরে কিছু দেয়া হয় নাই। পানি পড়ে ফ্লোর বেয়ে আমার রুমে চলে আসছে।
একটা ন্যাকড়া ফেললাম পানির স্রোতের মুখে। পানিটা মুছে দিলাম।

হচ্ছে না। পাত্র লাগবে আরও দুইটা। বৃষ্টি থামার লক্ষন দেখা যাচ্ছে না। মেজাজটা খারাপ লাগছে। এই সময়ে সবার দাওয়াতে যাওয়ার কি দরকার ছিল। আমিই বা থেকে গেলাম কেন? দ্য গার্ল উইথ দ্য ড্রাগন ট্যাটু- তো পরেও দেখা যেত, তাই না? ডিসগাস্টিং।

আমি রুমে ফিরে এলাম। ৮ টা নোটিফিকেশন ৫ মিনিটে। লাইক আর কমেন্ট নিশ্চয়ই। আপডেট স্ট্যাটাসে লিখলাম -

পিসড অফ  :(

শুক্রবার, ১৭ আগস্ট, ২০১২

বলিউডের ‘মাসালা’ সিনেমা

বলিউডে এখন রেকর্ডের রমরমা অবস্থা। কুকুর মাথার ছবি সম্বলিত সেই গোল কালো রং এর চাকতি বা রেকর্ড তার দিন হারিয়েছে আগেই, এখন রেকর্ড হয় সব কিছুকে ছাপিয়ে ওঠায়। বলিউড সিনেমার বাজারে এখন প্রতিদিনই রেকর্ড হচ্ছে এবং এই রেকর্ড তৈরীর পেছনে বিশেষ ভূমিকা পালন করছে অ্যাকশন সিনেমাগুলো।

গত একমাস ধরে প্রায় প্রতিদিনই শাহরুখ খান অভিনীত 'রা ওয়ান' সিনেমার খবর প্রকাশিত হচ্ছে দৈনিক-সাপ্তাহিক-মাসিক পত্রিকায়, লক্ষ লক্ষবার শেয়ার হচ্ছে ফেসবুকে, টুইটারে। সবার মুখে এক কথা রা ওয়ান। মুক্তিপাবার পর থেকেই রেকর্ডের ছড়াছড়ি - বডিগার্ডের রেকর্ড ভেঙ্গে সবচে বেশী সিনেমাহলে মুক্তি পেয়েছে রা ওয়ান, সবচে বেশী অর্থ তুলে নিয়েছে প্রথম সপ্তাহেই ইত্যাদি ইত্যাদি। রা ওয়ান একটি সুপারহিরো অ্যাকশন সিনেমা এবং ২০১১ সালটি যেন অ্যাকশন সিনেমারই বছর। ডিপার্টমেন্ট, পাওয়ার, এজেন্ট বিনোদ, বডিগার্ড, কিক, সিংহাম, প্লেয়ারস, টেজ ইত্যাদির তালিকায় সর্বশেষ সংযুক্তি রা ওয়ান।

পথচলার গল্প

স্ট্যাটাস:
কেবল মুঠোয় বন্দী কফির একলা কাপ,
ডিপ্রেসনের বাংলা জানি 'অনেক মন খারাপ'!
 
: ডিপ্রেসন?
: হুম। :(
: ক্যান?
: জানি না।
: ঘুমান না কেন?
: ঘুম আসে না যে।
: কারণ কি?
: জানি না।
: সুখের অসুখ?
: একদম না। মাঝে মাঝে এরকম হয়।
: ইদানিং বেশী হচ্ছে ...
: তা ঠিক।

: একটা টোটকা দিই ।
: দিন।
: হেটে আসুন
: হা হা হা হা। অ্যাসিডিটির সমস্যা না কিন্তু।
: পিচঢালা রাস্তায়।
: রাত কত হয়েছে খেয়াল আছে?
: খালি পায়ে।
: হিমু?
: না।
: অবশ্যই।
: আপনি আপনিই, আপনি হিমু হবেন কেন?
: :/

: শেষ কবে হেটেছেন পিচঢালা রাস্তায়?
: মনে নাই?
: খালি পায়ে বাসার বাইরে?
: অনেক আগে। গ্রামের বাড়িতে।
: গুড।
: ছাই। কাদা পাড়িয়ে যেতে হয়েছিল।
: হা হা হা হা
: :(

: পিচ ঢালা রাস্তায় হাটার অভিজ্ঞতা অন্যরকম।
: আপনি হেটেছেন কবে লাস্ট?
: গত মাসে। শ্রীমঙ্গলের রাস্তায়।
: হিংসা।
: চলে আসেন, আপনাকে খালি পায়ে পিচ রাস্তায় হাটা শিখিয়ে দিই।
: মাথা খারাপ। দেড়টা বাজে।
: জেগেই তো আছেন।
: সম্ভব না। এই স্ক্রিনে বসে থাকা ছাড়া হাটাহাটির সুযোগ নেই।
: ওকে। সেভাবেই না হয় শুরু করলাম।
: ভার্চুয়াল হাটাহাটি?
: হুম। রুমের বাতিটা নিভিয়ে দিন।
: পাগলামি।
: কোথায় হাটবেন?
: ভার্চুয়াল হাটাহাটি আবার কি?
: লালমাটিয়ায় না বাসা?
: হ্যা।
: আড়ং এর সামনে চলে আসুন। কতক্ষন লাগবে?
: হা হা হা।
: রেডি হয়ে নিন।
: কিরকম?
: হাটতে বেরোচ্ছেন, রেডি হবেন না?
: স্যান্ডেল কি রেখে আসবো? নাকি হাতে নিয়ে হাটবো?
: রেখে আসুন।
: কি পড়বো?
: শাড়ি।
: আয়রন করা নেই।
: আপনার যা ইচ্ছা।
: লাল কামিজ, সাদা হিজাব?
: এই রাতে লাল কেন?
: তবে?
: যা ইচ্ছে।
: সাদা কামিস, নীল ওড়না।
: হিজাব বাদ?
: ওড়নাই হিজাব।
: গুড। ৫ মিনিটের মধ্যে আসছি। থাকবেন।
: আচ্ছা :)

: আছেন?
: ...
: হ্যালো?
: ...
: আপনি সত্যি সত্যি চলে আসছেন নাকি? চ্যাটিং চলছে কিন্তু, ভার্চূয়ালি হাটার কথা আমাদের, রিয়েল ওয়ার্ল্ডে না... আছেন?
: ভুলে যান ও কথা।
: কি ব্যাপার রিপ্লাই দিচ্ছেন না কেন? কি ভুলে যাবো?
: ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ড। আপনি এখন আড়ঙ এর সামনে।
: হা হা হা

: স্যান্ডেল পড়ে এসেছেন কেন? আশ্চর্য।
: বাসা থেকে খালি পায়ে বের হবো নাকি? পানি জমে আছে, গোটা দশেক ইটের উপর পা দিয়ে আসতে হয়।
: তো?
: শুরুতেই যদি পায়ে হাটার ব্যাপারে বিতৃষ্ণা চলে আসে তো কেমনে হবে? কিন্তু আপনার হাতে এটা কি?
: কই?
: ফুল মনে হল!
: ওহ ফুলই তো। আপনার জন্য।
: থ্যাঙ্কু। কেমনে হল?ম্যাজিক?
: উহু। আপনার আর আমার সম্মিলিত ইচ্ছেশক্তির ফল।
: ভাব্। আসুন হাটি।
: স্যান্ডেল?
: এখানে রেখে যাচ্ছি, ফেরার সময় লাগবে।

: পিচ রাস্তায় খালি পায়ে হাটার সবচে বড় সমস্যা জানেন?
: কি?
: পায়ের নিচে ছ্যাপ পড়বে।
: ইয়াক।
: এটা আমার বন্ধু ডাক্তার ইমরানের থিওরী। মসজিদ থেকে স্যান্ডেল চুরি হওয়ার পরে এই থিওরী দিয়েছে সে।
: হা হা হা
: তার মতে, এমনিতে স্যান্ডেল ছ্যাপে পরে না, কিন্তু খালি পায়ে হাটলে একটু পর পরই ছ্যাপ-এ পা পড়বে।
: খালি পায়ে হাটার উৎসাহে এখন বাধা দিচ্ছেন- এইটা কিন্তু ঠিক না।

: সংসদ ভবনে ঢুকেছেন কখনো?
: না।
: বসেছেন ফুটপাতে?
: না।
: চলুন বসি।
: আজ নয়, আজ শুধু হাটবো। আরেকদিন।

: কেমন লাগছে?
: শৈশব শৈশব অনুভূতি।
: আকাশে চাদ নেই আজ, যেদিন চাদ থাকবে, বাতাস হবে সেদিন আরেকটা টোটকা দেব।
: আজ নয় কেন?
: আজ চাদ নেই তাই।
: তাই বলে জানবো না? আরেকদিন যদি আমার হাটতে ইচ্ছে হয়?
: সেদিন বলে দেবো।
: সেদিন তো আপনার সাথে নাও হাটতে পারি।
: হাটবেন।
: কেন?
: আমি সাথে না থাকলে তো আপনি হাটার আনন্দ পাবেন না।
: বোগাস।
: একদম নয়। পিচ রাস্তার সাথে মিশে আছি আমি।
: ইমপ্রেস করার চেষ্টা করছেন?
: হু।
: কেন করছেন?
: পিচ রাস্তায় হাটার জন্য আপনি আমাকে চান, তাই।
: মিথ্যে কথা।
: সত্যিটা কি?
: জানি না।
: আমি জানি।
: কি?
: আমি আপনার সাথে হাটতে চাই।
: আমরা কি হাটছি না?
: আরও হাটতে চাই - এখানে, ওখানে, আজ কাল পরশু।
: ... ...
:কিছু বলবেন না?
: আমার মন খারাপ হয়ে গেছে। আমি এখন যাই।


===============================
পাগড়ি শেরওয়ানী পড়া ছেলেটা স্যান্ডেল খুলে স্টেজে বসা মাত্রই কতগুলো কিশোর কিশোরী স্যান্ডেল নিয়ে কোথায় ছুটে পালাল।
: স্যান্ডেল হাওয়া :(
: পয়সা ফেলো, পেয়ে যাবে।
: পুরান কথা। নতুন কিছু বল।
: আমারগুলোও লুকিয়ে ফেলেছি। খালি পায়ে যাবো আজ। ;)



যে সকল মানবী ফেসবুকে চ্যাটিং-এর মাধ্যমে এই ধরনের গল্পগুলো লেখার উপকরণ সরবরাহ করছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা।

সোমবার, ১৩ আগস্ট, ২০১২

যখন প্রতি ১৫ সেকেন্ডে একজন মুসলমান তার ধর্ম ত্যাগ করে

তথ্যটা স্তব্ধ করে দেয়ার মতই বিস্ময়কর।
বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম দেশ ইন্দোনেশিয়া যার মোট জনসংখ্যা প্রায় ২৩৭ মিলিয়ন, সেখানে প্রতিবছর প্রায় ২ মিলিয়ন বা ২০ লক্ষ মুসলমান তাদের ধর্ম ত্যাগ করে খ্রীষ্টান ধর্ম গ্রহন করছে। সে হিসেবে প্রতি ১৫ সেকেন্ডে একজন মুসলিম খ্রীষ্টান ধর্মে রূপান্তরিত হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটগুলোর মাধ্যমে সচেতনতা তৈরীর উদ্দেশ্যে এমন তথ্যই প্রচার করছে একটি আন্তর্জাতিক ইসলামিক দাওয়াহ সংগঠন - মার্সি মিশন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশগুলোতে মুসলমানদের মধ্যে ইসলাম সম্পর্কে সচেতনতা তৈরী ও ইসলাম পালনের জন্য বিভিন্ন রকম প্রশিক্ষণ ও প্রনোদনামূলক কর্মসূচীর সাথে জড়িত এই প্রতিষ্ঠানটি। বাংলাদেশে মার্সি মিশনের একটি অঙ্গসংগঠন আল কাউসার ইন্সটিটিউট বিভিন্ন কর্মসূচীর মাধ্যমে দা'য়ী ভূমিকা পালন করছে। 

মার্সি মিশন সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়ার এই ধর্মান্তর প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করার উদ্দেশ্যে একটি কর্মসূচী গ্রহন করেছে যার নাম 'সেভ মরিয়াম'। মরিয়াম নামের মাধ্যমে কোন নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা নারীসমাজ নয়, বরং সমগ্র মুসলিম বিশ্বকে নির্দিষ্ট করা হয় যারা ধর্মান্তর ঝুকির মধ্যে আছে। 'সেভ মরিয়াম' ক্যাম্পেইনটি প্রচারের উদ্দেশ্যে তারা একটি ভিডিও তৈরী করে ইউটিউব সহ বিভিন্ন সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটগুলোতে সরবরাহ করে। ভিডিওটি থেকে জানা যায়, বর্তমানে যে হারে ধর্মান্তর প্রক্রিয়া চলছে তা বজায় থাকলে ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বের সবচে বড় মুসলিম দেশ বিশ্বের সবচে বড় খ্রীষ্টান দেশে পরিণত হবে। পাশাপাশি কিভাবে একজন মুসলিম বিভিন্ন উপায়ে অসচেতনভাবে খ্রীষ্টধর্মের দিকে আকৃষ্ট হচ্ছে তাও তুলে ধরা হয়েছে ভিডিও-তে। 
http://www.youtube.com/watch?v=3DrskbDaw3A

প্রায় সাড়ে সতেরো হাজার ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দ্বীপের সমন্বয়ে গঠিত দেশ ইন্দোনেশিয়ায় একটা বড় অংশ জনগন দারিদ্র্যসীমায় বসবাস করছে এবং মূলত তারাই খ্রীষ্টান মিশনারীদের প্রচেষ্টায় ধর্মান্তরিত হচ্ছে। প্রকৃতপক্ষেই বছরে ২ মিলিয়ন বা প্রতি ১৫ সেকেন্ডে একজন মুসলিমের ধর্মান্তরের ঘটনা ঘটছে কিনা সে নিয়ে প্রশ্ন তোলায় সেভ মরিয়াম ক্যাম্পেইনের পক্ষ থেকে একটি জবাব দেয়া হয়েছে। এই সংখ্যাটি যত কম হবে ততই সুখকর কিন্তু বছরে যদি ১০ জন মুসলমানও ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করে তবে সেটা অন্যান্য মুসলমানদের জন্য উদ্বেগজনক হওয়া উচিত কারণ এই ১০ জনই বেড়ে গিয়ে কোন একসময় ২ মিলিয়নে দাড়াতে পারে। 
http://www.youtube.com/watch?v=XoG9RLfAJEw

ইন্দোনেশিয়ার সাথে বাংলাদেশের তুলনা করলে এই চিত্রের ভয়াবহতা খুবই কম, তবে একদমই আশংকামুক্ত নয়। ইসলাম ধর্ম ত্যাগের পেছনে যে কারণগুলো ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিকা পালন করছে সেই একই কারণগুলো এখানেও বর্তমান। ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে অজ্ঞতা ও ভুল ধারনা, ইসলাম ধর্ম পালনে উদাসীনতা, বিভিন্ন অনৈতিক ও অসৎ পন্থা যেমন মদ, সুদ, জুয়া, ব্যাভিচার, নগ্নতা ইত্যাদির বিপক্ষে ইসলামের শক্ত অবস্থান প্রভৃতি এর অন্যতম কারণ। ধর্ম পালন সম্পর্কে উদাসীনতা একসময়ে ধর্ম সম্পর্কে অজ্ঞানতা ও ভুল ধারনার জন্ম দেয়, ফলে নতুনভাবে উপস্থাপিত যে কোন ধর্মই তখন সঠিক বলে ভ্রান্ত ধারণা তৈরী হয়। ধর্মান্তর ও ধর্মীয় বিকৃতির ঘটনাগুলো বিশ্লেষন করলে এই একটি কারণই পাওয়া যায়। ধর্মীয় বিধিনিষেধ পালন থেকে শুরু করে ধর্মহীনতা এবং ভ্রান্ত ধর্মে বিশ্বাসের পর্যায়গুলো খুব অল্প সময়ে ঘটে না এবং জেনারেশন থেকে জেনারশনে পরিবর্তিত হয়। ফলে বর্তমান জেনারেশন যদি নিজেরা ধর্ম পালনে ব্যস্ত থেকে পরবর্তী জেনারেশনকে ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত করতে না পারে, তবে পরবর্তী জেনারেশন ধর্ম সম্পর্কে উদাসীন হয় এবং তারও পরের জেনারেশন নতুন করে কোন ধর্মের প্রতি (সে ধর্ম ইসলামও হতে পারে) আকৃষ্ট হয়। 

বাংলাদেশের বর্তমান চিত্র অনেক ক্ষেত্রেই দ্বিতীয় প্রজন্মের অন্তর্ভূক্ত যেখানে ইসলাম ধর্মের প্রতি উদাসীনতা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে এবং ইসলাম ধর্ম নিছক আচারসর্বস্ব ধর্ম হিসেবে পালিত হচ্ছে। নি:সন্দেহে এই চিত্র উদ্বেগজনক এবং সময় থাকতে প্রয়োজনীয় সচেতনতা তৈরী করতে না পারলে ইন্দোনেশিয়ার চিত্র বাংলাদেশেও ঘটবে সে নি:সন্দেহ। 

আপনি যদি একজন মুসলমান হন এবং উপরে বর্নিত চিত্র আপনার মধ্যে বিন্দুমাত্র উদ্বেগ তৈরী করে তবে আপনার জন্য করণীয় কাজগুলো নিম্নরূপ:
# ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে পড়ুন, শুনুন এবং জানুন। কোন ভুল ধারনা যেন আপনার মধ্যে স্থান না পায় এবং আপনার মাধ্যমে প্রচার না হয়।
# নিজে যতটুকু জেনেছেন, তার সবটাই মানার চেষ্টা করুন এবং অন্তত আরেকজনকে এই জানা এবং মানার ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ করুন। আজ থেকে আপনি একজন দা'য়ী হয়ে যান।
# ইসলাম ধর্ম ব্যক্তিগত পর্যায়ে পালন করার জন্য নয়, এর সামষ্টিক ভূমিকা অনেক বেশী। সুতরাং, ইসলামের বিধানগুলো পালনের ক্ষেত্রে একাকী নয়, সামষ্টিকভাবে পালনের চেষ্টা করুন।
# আপনার আশেপাশের তরুন প্রজন্মের দিকে লক্ষ্য রাখুন, যত্ন নিন। এই প্রজন্মটি ইসলামের প্রতি বিশ্বস্ত হলে তার পরের প্রজন্মের দায়িত্ব তারাই গ্রহণ করবে। 

মুসলমান পরিচিত হোক কাজের মাধ্যমে, নামের মাধ্যমে নয়।

শনিবার, ১১ আগস্ট, ২০১২

Bodyguards and Assassins: চীন গড়ার গল্প

লোহার রেলিং ঘেরা সিড়ি দিয়ে নামতে নামতে প্রফেসর ইয়াং কু-উন তার চারপাশের শিক্ষার্থীদেরকে ‘ডেমোক্রেসি’ শব্দের উৎপত্তি সম্পর্কে বলছিলেন। ডেমোক্রেসি নিয়ে আবাহাম লিংকনের সংজ্ঞাটি উচ্চারণ করার পরে তিনি জানালেন এমন একটি চায়নার স্বপ্নই তিনি দেখছেন যেটা হবে পিপল’স রিপাবলিক। শিক্ষার্থীদের পোষাক, মাথায় লম্বা টিকি, আশেপাশের রাস্তাঘাট-ঘর আর প্রফেসরের এই বক্তব্য একদম শুরুতেই জানিয়ে দিল, এই সিনেমা বর্তমানের নয়, অতীতের এবং এই সিনেমা পিপলস রিপাবলিক অব চায়নার ইতিহাসের সাথে সংশ্লিষ্ট। প্রফেসরের বক্তব্যের ঠিক পরমুহূর্তেই অজ্ঞাতস্থান থেকে একটি বুলেট এসে কপালে বিদ্ধ হল, তিনি মারা গেলেন এবং আমরা জানতে পারলাম ১৯০১ সালের ১লা অক্টোবর তারিখে ঘটে যাওয়া প্রফেসর ইয়াং কু-উন এর এই হত্যাকান্ডই হংকং এর ইতিহাসের প্রথম রাজনৈতিক হত্যাকান্ড। গুপ্তঘাতকের চোখ আর মুখের পার্শ্বদেশ দেখা গেল ধোয়া উঠা বন্দুকের নলের পাশে। বডিগার্ডস অ্যান্ড অ্যাসাসিন্স সিনেমার নামকরনের হেতু উন্মোচিত হয়ে গেল প্রথম ৫ মিনিটেই।

ধ্বক্!

'কেমন আছেন?'

ইয়াসমিনের মেসেজে আমার বুকটা ধ্বক্ করে উঠল না। সম্ভবত আর কোনদিনও চ্যাটিং বক্সে তার কোন মেসেজ আমাকে হঠাৎ করে জাগিয়ে দেবে না, বুকের ভেতর ধক্ করে একটি পালস বিট মিস করাবে না। সাধারণ আর দশটা মানুষের ক্ষেত্রে যা হয়, তার মেসেজগুলো স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করবো আমি।

'ইয়াসমিন নাকি? কেমন আছেন? আমি ভালো, আলহামদুলিল্লাহ'

ইয়াসমিনের সাথে আমার পরিচয় বছর দেড়েক আগে, ব্লগিং সূত্রে। সামহোয়্যারইনব্লগে কিংবা আমার পার্সোনাল ওয়েব দারাশিকো ডট কমে লেখা পড়ে অনেক পাঠকই ফেসবুকে আমাকে খুজে বের করে নেয়, ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠায়। ইয়াসমিনও পাঠিয়েছিল। তারপর বিভিন্ন সময়ে অনলাইনে কথাবার্তা-আড্ডাবাজি, আরও অনেকের সাথে যেমন হয়।

'অনেকদিন পর --- অনলাইনে পাওয়াই যায় না আপনাকে'
'আমি ইরেগুলার, বসা হয় না তেমন একটা। কিন্তু আপনাকেও তো পাওয়া যায় না।'
'অফলাইনে থাকা হয় বেশীরভাগ।'
'তাই? কতদিন ধরে অফলাইন?'
'তিন মাস হচ্ছে।  মাঝে মধ্যে অনলাইন হই। আজও তাই আর আপনিও নক করলেন।'

ইয়াসমিনের সাথে আমার শুরুর দিকের কথাবার্তাগুলো এরকমই ছিল - হালকা পাতলা, কথার পিঠে কথা, অগভীর। সপ্তাহে হয়তো একবার কিংবা দুবার। তারপর সপ্তাহখানেক হয়তো বন্ধ অথচ দুজনেই অনলাইন। তারপর আস্তে আস্তে ফ্রিকোয়েন্সি বাড়ল, কথাবার্তা ভারী হলো, কঠার পিঠে কথা নয় বরং বিষয়ভিত্তিক আলোচনা, সেখানে ফিল্ম ও ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল, এপার বাংলা ওপার বাংলার সাহিত্য, ধর্ম, সাম্প্রতিক রাজনীতি, নানারকম স্ক্যান্ডাল নিয়ে কথা বার্তা তো হতই, আরও হত জীবন নিয়ে কথা - ফিউচার প্ল্যান, প্রেম-বিয়ে-সংসার, নৈতিকতা অনৈতিকতা ইত্যাদি ইত্যাদি। এই গভীর আলোচনাই ধীরে ধীরে বুকের ভিতর কলজেটাকে দুর্বল করে দিল।  অনলাইনে না থাকলে মনমরা থাকে, নক করলেই ধ্বক্ করে উঠে। কোন এক সাহিত্যিক বলেছিলেন - যাকে তুমি ভালোবাসো তাকে দেখলেই তোমার ভেতর ধ্বক্ করে উঠবে। অদ্ভুত! মোহনীয় সে!

'কেমন চলছে আপনার চাকরী?'
'চলছে। রমজান মাস, প্রেশার যাচ্ছে। আপনার পরীক্ষা শেষ?'
'হুম।'
'গ্রাজুয়েট হয়ে গেলেন?'
'উহু। থিসিস সাবমিট করলাম গত পরশু। ঈদের পর ভাইভা। তারপর।'
'মাস্টার্স করবেন তো?'
'হুম।'

আমি টুক করে ইয়াসমিনের প্রোফাইলে ঘুরে এলাম। সিঙ্গল। অবশ্য এই রিলেশনশীপ স্ট্যাটাস খুব বিশ্বাসযোগ্য নয়। আমার এই ফ্রেন্ডলিস্টে অন্তত এক ডজন বন্ধু আছে যারা বিয়ে করেছে বছর খানেক হয়ে গেল, কিন্তু স্ট্যাটাস এখনো সিঙ্গল। আমার স্ট্যাটাস শুরু থেকেই সিঙ্গল, কখনোই পরিবর্তন করিনি। ইয়াসমিনকে দেখলেই বুকের ভেতরে যখন থেকে ধ্বক্ করে উঠতে লাগল, তখন স্ট্যাটাস পরিবর্তন করে 'ইটস কম্প্লিকেটেড' লেখা যেত কিন্তু আমার আগ্রহ হয় নি। বরং তখন থেকেই আমি অপেক্ষা করে আছি - চাকরীটা পেয়ে গেলেই তাকে প্রস্তাবটা দেবো - প্রেম নয়, বিয়ে। যোগ্যতা থাকলে প্রেম করে সময় ক্ষেপন কেন?

'ঈদ বরিশালেই করবেন?'
'হুম। আপনি বাড়ি যাচ্ছেন কবে?'
'১৪ তারিখ নাইটে। মেজো ভাই গাড়ি নিয়ে যাচ্ছে, আমাকে পিক করে নেবে এখান থেকে।'
'কতদিনের ছুটি?'
'লম্বা ছুটি। দশ দিন।'
'বাহ। ঘোরাঘুরি হবে?'
'প্ল্যান আছে। আশে পাশের তিনটা জেলা ঘুরে দেখার প্রস্তুতি নিচ্ছি - দেখা যাক কতটুকু পারি।'
'সিনেমা নিয়ে লিখবেন না?'
'অবশ্যই। 'সে আমার মন কেড়েছে' নিয়ে লিখবো ভাবছি।'
'তিন্নির সিনেমা?'
'হুম।'

আমি জানি না কিভাবে যেন হঠাৎ আমাদের এই কথাবার্তা বন্ধ হয়ে গেল। ইয়াসমিন দুম করে অফলাইনে চলে গেল। আমি যে চাকরী পেয়েছি সেটা তাকে জানাতেই পনেরোদিন পার।  ইয়াসমিনের ফোন নাম্বার আমার কাছে নেই, প্রয়োজন হয় নি কখনো। আমি সারাদিনই অনলাইনে থাকি। ২৪ ঘন্টা। কিন্তু ইয়াসমিন অনলাইনে এল না। আমার অফলাইন মেসেজের রিপ্লাই ও দিল না। একদিন এল। সামান্য কথাবার্তার পরেই চলে গেল। চাকরীর খবর শুনে কনগ্রাচুলেশন্স দিল, অন্যরা যেভাবে দেয়। আবার দেখা হল অনলাইনে, অনেকদিন বাদে, তেমন জমলো না। কিন্তু আমার বুকের ভেতর ধ্বক্ বন্ধ হল না। ইয়াসমিনের সাথে এত অল্প সময় কথা হতো যে তাকে কিছু বলার পরিবেশটুকুও তৈরী হত না। অদ্ভুত! খুবই অদ্ভুত!!

'কাজ শেষ হলো? শোবে না?'
'এই আরেকটু।'

সমকালে প্রকাশের জন্য বলিউডের অ্যাকশন সিনেমাগুলো নিয়ে একটা লেখা তৈরী করেছিলাম বেশ কিছুদিন আগে। সেটাই এবার ঈদের সময় ব্লগে দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি। ঈদে লিখালিখির জন্য খুব বেশী সময় পাওয়া যাবে না, পরিবারের সবার সাথে দিনের বেশীরভাগ চলে যায়। পাঠকের জন্য ঈদ গিফটের আগাম প্রস্তুতি। সাজানো শেষ, এখন পাবলিশ বাটনে ক্লিক করলেই হবে।

'ইয়াসমিন এবার যাই, ঘুম পাচ্ছে।'
'ওকে।'
'ভালো থাকবেন। আল্লাহ হাফেজ।'
'বাই।'
আমি 'গো অফলাইন' এ ক্লিক করলাম।

আমার ঘুম পাচ্ছিল না, তবে ঘুম দরকার। সকালে উঠতে হবে। রাতে ঘুমিয়েছি দেরী করে। আড়াই ঘন্টা ঘুমিয়ে সেহরীতে উঠে খেয়ে নামাজ পড়ে ব্লগটা সাজিয়ে নিচ্ছিলাম। লাবনী সব গুছিয়ে এই মাত্র শুয়ে পড়েছে।  শার্লক টিভি সিরিজ ডাউনলোড চলছে, তাই শুধু মনিটরটা বন্ধ করলাম।

লাবনী গুটিশুটি মেরে চোখ বন্ধ করে শুয়ে ছিল। আমি ওকে জড়িয়ে ধরে শুয়ে পড়লাম।  লাবনী হাতটা জড়িয়ে ধরে একটু সরে আমার গভীরে ঢুকে পড়ল।

=========
আমি বাদে বাকি চরিত্র কাল্পনিক/নাম পরিবর্তিত। ইয়াসমিনের খোজে ফ্রেন্ডলিস্ট ঘুটা দেয়ার দরকার নাই। ধন্যবাদ। - দারাশিকো

রবিবার, ৫ আগস্ট, ২০১২

The Good, The Bad, The Weird: ওরিয়েন্টাল ওয়েস্টার্ন সিনেমা

কালজয়ী সব ওয়েস্টার্ন সিনেমার নির্মাতা সার্জিও লিওনি পরিচালিত 'দ্য গুড, দ্য ব্যাড অ্যান্ড দ্য আগলি' সিনেমাটি শুধু ওয়েস্টার্ন ঘরানার ক্ষেত্রেই নয়, বিভিন্ন ক্যাটাগরীতে বিশ্বের সেরা সিনেমাগুলোর তালিকায় সামনের দিকে অবস্থান করে। সার্জিও লিওনির সবগুলা সিনেমা দেখলে তার নির্মান স্টাইল বোঝা সম্ভব হয়, গুড-ব্যাড-আগলি তার নির্মানপদ্ধতি থেকে ব্যতিক্রম কিছু নয়। তিনটি চরিত্র - একজন গুড, একজন ব্যাড এবং আরেকজন আগলি - তারা লুকায়িত সম্পদের দখল নেয়ার জন্য চেষ্টা চালায়। 'দ্য গুড' চরিত্রে অভিনয়ের জন্য ওয়েস্টার্ন সিনেমার হিরো হিসেবে ক্লিন্ট ইস্টউড সিনেমার ইতিহাসের পাতায় স্থান করে নিয়েছে। সার্জিও লিওনীর গুড-ব্যাড-আগলি থেকেই অনুপ্রাণিত হয়ে কোরিয়ান নির্মাতা কিম জি-উন ২০০৮ সালে নির্মান করেছেন 'দ্য গুড দ্য ব্যড দ্য উইয়ার্ড'। প্রায় একই নাম ও বিষয়বস্তু নিয়ে নির্মিত এই দুই সিনেমার মধ্যে বিস্তর ফারাক কিন্তু দুটোই সমান উপভোগ্য।

বুধবার, ১ আগস্ট, ২০১২

জঙ্গলে, চা-বাগানে, চিড়িয়াখানায়, সিনেমাহলে


ভারতের একটি রাজ্য সিকিম এক সময় স্বাধীন রাষ্ট্র ছিল। স্বাধীন রাষ্ট্র থাকা অবস্থায় সত্যাজিত রায় সিকিমের উপর একটি ডকুমেন্টারী তৈরী করেছিলেন, উদ্দেশ্য ছিল সিকিমের সৌন্দর্য্য বিশ্বের কাছে তুলে ধরা, এতে করে সিকিমের পর্যটন শিল্প কিছুটা বিকশিত হবে। কিন্তু নানা জটিলতায় এই ডকুমেন্টারীটি প্রকাশিত হয় নি, একে নিষিদ্ধ ঘোষনা করা হয় এবং ১৯৭৫ সালে, সিকিম সরকারে আবেদনের প্রেক্ষিতে, সিকিম ভারতের বাইশতম অঙ্গরাজ্য হিসেবে ভারতে অন্তর্ভূক্ত হয়।
বাংলাদেশ যদি ভারতের অংশ হয়ে যায় তবে কেমন হবে? লাভ না ক্ষতি?


জ্যাকের সাথে এই নিয়ে কথাবার্তা শুরু হয়েছিল সিলেট থেকে জাফলং এ যাওয়ার পথে। প্রশ্নটা আমিই করেছিলাম - যখন দূরে ভারতের পাহাড়গুলো দেখা যাচ্ছিল, আর বিশাল বিশাল তিনটি ঝর্ণা। বাংলাদেশ যদি ভারতের অংশ হতো তবে ওই ঝর্ণাগুলো দেখার জন্য ঢাকার ইন্ডিয়ান দূতাবাসের সামনে ঘন্টার পর ঘন্টা দাড়িয়ে ভিসা সংগ্রহ করে, তামাবিল হয়ে আসাম রাজ্যে যেতে হত না। জাফলং থেকে ফেরার পথেই তামাবিল হয়ে আমরা চলে যেতে পারতাম ওই ঝর্ণাগুলোর পাদদেশে। ঠিক এই মুহূর্তে সীমান্তটা তুলে দেয়া সম্ভব কিনা, তুলে দিলে আমাদের লাভ না ক্ষতি, হলে কতটা - সে নিয়ে জ্যাকের মতামতটা জানার আগ্রহ থেকে এই প্রশ্ন। আলোচনা যদিও সিলেটে শুরু হয়েছিল এবং আমরা এখন মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে, তারপরও চিন্তাটা আমার মাথায় ঘুরপাক খেয়ে যাচ্ছে বারবার। দারাশিকো'র বঙ্গভ্রমনে দারাশিকো'র সাথে আপনারা এখন আছেন মৌলভীবাজারে।
পরিকল্পনা ছিল, সকাল ছটায় ঘুম থেকে উঠে তারপর মাধবকুন্ড ঝর্ণা দেখতে চলে যাবো, ফেরার পথে লাউয়াছড়ার জঙ্গলে। ফজরে ঘুম থেকে উঠে দেখেছি সবাই গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। ছটায় অ্যালার্মে জেগে উঠে দেখলাম ঘুম এখনো ভাঙ্গে নি, আমি আবার ঘুমোলাম। মাঝে আরও দুবার বিরতি দেয়ার পরে বিছানা যখন ছাড়লাম তখন ঘড়িতে নটা, বাইরে ভীষন বৃষ্টি। এক বর্গগজের পাতলা পলিথিন এই বৃষ্টিতে চলবে না। সুতরাং, ভীষন বৃষ্টি থেকে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টিতে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হল। তারপর সবাই মিলে গায়ে নীল পলিথিন জড়িয়ে হোটেলের দিকে এগোলাম। সবার পায়ে স্যান্ডেল, আমার পা খালি। গতকালকের বৃষ্টিতে কাপড়ের জুতা ভিজে চুপসে গেছে, কড়া রোদ ছাড়া এই জুতা শুকাবে না, তাই খালিপায়েই বেরোতে হল। কোন এক দোকান থেকে একজোড়া স্যান্ডেল কেনা যাবে।
বাংলাদেশ নামের একটি দেশ দুম করে ভারতের অংশ হয়ে যাবে - এমনটি ভেবে নেয়া খুব সহজ ব্যাপার না। মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারত বাংলাদেশকে সহযোগিতা করেছে বলে আমাদের প্রতি ভারতের এক ধরনের অধিকার আছে এবং এ কারণেই তাদের অনেক অনায্য আচরণ আমাদের মেনে নেয়া উচিত - এমন চিন্তাভাবনা করতে দেখেছি পরিচিত কিছু মানুষকে। ভারতবিদ্বেষী মনোভাবাপন্ন লোক কম দেখা হয় নি। ভারতকে টুকরো টুকরো করে আসাম, ত্রিপুরা, পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে নতুন এক বাংলাদেশ তৈরীর ব্যাপারে আগ্রহী কিছু মানুষও দেখার সুযোগ হয়েছে - এই তিনপক্ষের কারও পক্ষেই বাংলাদেশ ভারতের অংশ হয়ে যাবে - এমনটি ভাবা সম্ভব নয়। অথচ, কোনভাবে যদি বাংলাদেশ ভারতের সাথে যোগ দেয়, তবে কত কত সুবিধা পাওয়া যাবে এই নিয়ে আমাদের আলোচনা চলল। পৃথিবীর ভবিষ্যত সুপারপাওয়ার রাষ্ট্রগুলোর একটি হওয়া যাবে, পৃথিবীকে প্রভাবিত করছে এমন একটা সংস্কৃতির অংশ হওয়া যাবে, ভারতের দালাল বলে কাউকে গালি দিতে হবে না, টিপাই নদীর মুখে বাধ দিয়ে ভারতের আরেকটা রাজ্যকে ধ্বংস করার কার্যক্রম চালাতে হবে না ভারতকে, বর্ডারে কোন রক্ষী থাকবে না- ফলে পাখি শিকারের মত করে মানুষ মারতে হবে না, সীমান্ত পারাপার করতে গিয়ে দেশের সম্পদের অপচয় হবে না, ভারতীয় পন্যে দেশ সয়লাব হওয়ার কোন আশংকাও থাকবে না ইত্যাদি ইত্যাদি। সুতরাং ভারতের সাথে যুক্ত হয়ে যাওয়াই কি ভালো নয়?
একশ টাকা দিয়ে একটি সিএনজি ভাড়া করে আমরা পাচজন চলে এলাম লাউয়াছড়ার জঙ্গলে। ছাত্রদের জন্য টিকিটমূল্য অর্ধেক হওয়ায় ৫০ টাকায় পাচজন ঢুকে পড়া গেল। জঙ্গলে প্রবেশের জন্য গাইড নেয়া যেতে পারে, কিন্তু আমরা কাউকে নিলাম না। তাদের মূল্য ব্ড্ড বেশী। জঙ্গলের একদম শুরুতেই গেটেরও বাহিরে একটা ম্যাপ আছে। সেই ম্যাপে বিশালাকৃতির জঙ্গলের পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে, আছে রাস্তার পরিচয়। লাউয়াছড়ার জঙ্গলে ঘোরার জন্য আছে তিনটি পথ। এদেরকে ট্রেইল হয়। তিনটি ট্রেইল তিনটি দুরত্বের। প্রথম ট্রেইল আধাঘন্টার রাস্তা অর্থ্যাৎ এই ট্রেইলের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ঘুরে আসতে স্বাভাবিক ভাবে আধাঘন্টা সময় লাগবে। দ্বিতীয় ট্রেইলটি এক ঘন্টা দূরত্বের, তৃতীয় ট্রেইলটি তিন ঘন্টার। প্রতিটি ট্রেইলের বিভিন্ন অংশে বিভিন্ন রকম অভিজ্ঞতা হবে। যেমন কোন অংশে গেলে পাখিদের কলকাকলী, কোন অংশে পাহাড়ি ছড়া, কোথাও বাশবাগান, কোথাও দেখা যাবে বনের উল্লেখযোগ্য প্রাণী উল্লুক। আপনি কোন ট্রেইলটা ঘুরে আসবেন সেটা আপনার ইচ্ছা, তবে ম্যাপ দেখে বুঝলাম তিন ঘন্টার ট্রেইলটি লাউয়াছড়া জঙ্গলের সীমানা দিয়ে চলেছে, আধাঘন্টার ট্রেইলটি খুবই ছোট এবং মহিলা/শিশুদের নিয়ে ঘুরে আসার উপযোগী এবং সম্ভবত এক ঘন্টার ট্রেইলটিও যদিও আমাদের অভিজ্ঞতা খুব সুখকর নয়।
মূল গেটের বাহিরে তিনটি ট্রেইলই চিহ্নিত করা আছে এই ম্যাপে। অবশ্য তিনটি ম্যাপ মাথায় নিয়ে চলা কষ্টকর



এক ঘন্টার ট্রেইলে আমরা যাবো এমন সিদ্ধান্ত আমরা হোটেল থেকে বের হবার সময়ই নিয়েছিলাম। সুতরাং ম্যাপকে মাথায় নিয়ে আমরা ভেতরে ঢুকলাম। বৃষ্টি বলে ভ্রমণপিয়াসীদের সংখ্যা খুবই কম। সব মিলিয়ে জনা পনেরোর বেশী মানুষের সাথে দেখা হল না। মানুষ কম হবার কারণেই বোধহয় এক ঘন্টার ট্রেইলের প্রবেশমুখ আমরা খুজে পেলাম না। ম্যাপের সাথে জঙ্গলের রাস্তার কোনই মিল যখন করতে পারছি না তখন একজন গাইডকে ডেকে জিজ্ঞেস করলাম এক নাম্বার ট্রেইলের অবস্থান। সে ছুটি গল্পের ফটিকের মতই জানিয়ে দিল - ওই হোথা। তারপর আরেকটু যোগ করে দিল - 'না যাওয়াই ভালো।' 'ক্যান ক্যান ক্যান?' 'রক্ত দান করতে হবে'। আমরা হাসি মনে মনে - হুহ, ব্যাটা আমাদের জোকের ভয় দেখায়। কদিন আগেই কিনা আমরা বান্দরবান ঘুরে এসেছি, আর এখন জোকের ভয়ে জঙ্গলে ঢুকবো না - হাস্যকর।
জোকের ভয়ে আমরা জঙ্গলো ঢোকা বন্ধ করিনি বটে কিন্তু গাইডের 'ওই হোথা' খুজে বের করতে আমরা আরও দুইবার পথ ভুল করে তারপর ট্রেইলে ঢুকে পড়লাম। বিশ্বাস করুন আর নাই করুন, ট্রেইলে ঢুকতে হয় ঘাড় বাকিয়ে, নিচু করে। পায়ে চলা রাস্তাটা দেখে আমরা বুঝতে পারছি এই রাস্তায় আগেও অনেক মানুষ এসে গিয়েছে, কিন্তু চারিদিকের গাছপালা পথটাকে কোথাও কোথাও এমনভাবে ঢেকে রেখেছে যে ঘাড় বাকিয়ে, মাথা নিচু করে, হাত দিয়ে সতর্কতার সাথে ডালপালা-কাটাগাছ সরিয়ে এগোতে হল। ভরা বর্ষায় জঙ্গলের যৌবন এখন উপচে পড়া, ভরভরন্ত। অযত্ন আর অবহেলায় গাছপালা-লতাপাতা তাদের শরীর বাকিয়ে দিয়েছে, উপুর করে দিয়েছে, পায়ে চলা মেঠোপথকে ঢেকে দিয়েছে। পায়ের নিচে অল্প কাদাটে মাটি, কোথাও কোথাও পানি জমে গিয়েছে। সাবধানে বাচিয়ে চলতে হচ্ছে কারণ বেত গাছের কাটা কোথাও কোথাও আমাদের শরীরের পলিথিন টেনে ধরতে চায়, শরীরের উন্মুক্ত অংশে খোচা দেয়। বৃষ্টির কারণে জঙ্গলের সৌন্দর্য পুরোপুরি উপেক্ষিত, কোন পাখি ডাকছে না, বনের উল্লেখযোগ্য প্রাণী উল্লুকের দেখাও পাওয়া যায় না, তারপরও এই দুর্গম জঙ্গলে প্রবেশ এক বিন্দুও হতাশার জন্ম দিচ্ছে না।
একটু পরেই আমরা খোলা জায়গায় বেরিয়ে এলাম। সামনে একটা ছড়া। বেশ চওড়া। তার উপর কাঠের তৈরী একটি সেতু। নিচে সাদা বালির মাঝ দিয়ে ঝির ঝির করে পানি বয়ে যাচ্ছে। সেতুর উপরে নীল পলিথিনে ঢাকা চার বালকের ছবি তুললাম। মনে হল, নিচে গিয়ে সেতুতে দাড়ানো অবস্থায় চার বালকের ছবি নিলে ভালো হবে। নেমে পড়লাম। ছবিও তুললাম। তারপর টের পেলাম আমার বাম পা বালিতে স্থির থাকলেও ডান পা ডেবে যাচ্ছে। অথচ, দুজায়গার বালিতে কোনই পার্থক্য নেই। চোরাবালি! ডান পা'টা তুলে আরেক জায়গায় রাখলাম, শক্ত ভিত্তি পাওয়া যাচ্ছে। বাম পা'টা তুলে এক ধাপ এগিয়ে রাখতেই ডেবে গেল। পানি নেই, অথচ পা বালিতে ডেবে যাচ্ছে - এ বিষয়টা আমার কাছে বেশ বিস্ময়কর। আমি বালকদের বলে যাচ্ছি - এই পা'টা চোরাবালিতে আছে, এই পা'টা নাই - কিন্তু বুঝতে পারছি আমার কন্ঠের উদ্বেগটা তাদের স্পর্শ করছে না। এক পা চোরাবালিতে দিয়ে দাড়িয়ে আছি - এই বিষয়টা যতটা না টেনশনের তারচে বেশী রোমাঞ্চকর। আর বাহাদুরির সাহস হল না, উঠে আসলাম। কক্সবাজারে চোরাবালিতে কিভাবে মানুষ ডুবে যায় তার অভিজ্ঞতা অর্জন হয়ে গেল। হয়তো চোরাবালিটা খুব বেশী গভীর ছিল না, কিন্তু চোরাবালির কার্যপদ্ধতিটা জানা হয়ে গেল।

জঙ্গলের ভেতর ছড়া


কাঠের তৈরী সেতুর উপর চার বালক। আমি দাড়িয়ে আছি চোরাবালিতে এক পা রেখে !

উপর থেকে চোরাবালির ছবি


বাংলাদেশ যদি ভারতে অংশ হয়ে যায় তবে কি হবে সেই্ কথাটা শেষ করি, তারপর ভ্রমণ বর্ণনা। অনেক অনেক সুবিধা পাওয়া যাবে হয়তো, কিন্তু সমস্যাও হবে। বর্তমান জেনারেশনকে অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। তাদেরকে বাচতে হবে ভারতীয়দের করুনার পাত্র হয়ে। অধিকারটুকু আদায় করতে হবে এক প্রকার লড়াই করে। দেশভাগের পরে এপাড়ের হিন্দুরা ওপাড়ে গিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করেছিল সেরকম। এই কষ্টকর জীবন চলবে বড়জোর পঞ্চাশ বছর। এই পঞ্চাশ বছর শেষে সম্পূর্ন নতুন একটা জেনারেশন আসবে ভারতে, তাদের জন্ম হবে ভারতে। একটা স্বাধীন দেশ থেকে এসে তাদের পূর্ববর্তী জেনারেশন অনেক বঞ্চনা সয়ে তাদের জন্য পরিবেশ তৈরী করে গিয়েছে - এই বিষয়টা তাদের পক্ষে উপলব্ধি করা সম্ভব হবে কিনা জানি না, তবে তারা তখন যে কোন ভারতীয়র মত সমান সুবিধা সুযোগ আদায় করে নিতে পারবে এমনটি নিশ্চিত। জ্যাক এই বিষয়ে সন্দেহ পোষন করে, সে মনে করে এমনটি হবে না। দ্বিতীয় জেনারেশনও শান্তি পাবে না। আমি বলি পাবে। উদাহরণ? আমেরিকা-কানাডা-ব্রিটেনের দিকে তাকালেই পাওয়া যাবে। ওখানে দ্বিতীয় জেনারেশন যতটা না বাংলাদেশী তারচে বেশী আমেরিকান, কানাডিয়ান, ব্রিটিশ। সুতরাং, ভারতীয় হতেও খুব একটা কষ্ট হবে না। এই যুক্তিতে জ্যাক সম্মত হয় না কিন্তু খুব প্রতিবাদও করে না - এ বিষয়ে প্রতিবাদ করতে হলে তাকে আরও ভাবতে হবে।
লাউয়াছড়া বন নিয়ে আসুন একটু পড়াশোনা করে নিই। উইকিপিডিয়া থেকে তুলে দিলাম।
বাংলাদেশের বিখ্যাত বনগুলোর মধ্যে লাউয়াছড়ার বন অন্যতম। পরিচিতির দিক থেকে সুন্দরবনের পরেই লাউয়াছড়ার বনের অবস্থান। সিলেট বিভাগে মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায় এ বন অবস্থিত। ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দে তদানিন্তন ব্রিটিশ সরকার এখানে বৃক্ষায়ন করলে তা-ই বেড়ে আজকের এই বনে পরিণত হয়। শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলার মৌলভীবাজার ফরেস্ট রেঞ্জের আওতাধীন ২,৭৪০ হেক্টর আয়তনের পশ্চিম ভানুগাছ সংরক্ষিত বন ছিলো এলাকাটি, সেই সুবাদে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের পূর্ববতী নাম পশ্চিম ভানুগাছ সংরক্ষিত বন। বনের অস্তিত্ব ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার পাশাপাশি প্রকৃতি ভ্রমণ ও জনসচেতনতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে পশ্চিম ভানুগাছ বনের ১,২৫০ হেক্টর এলাকাকে ১৯৭৪ খ্রিষ্টাব্দের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ) (সংশোধন) আইন অনুযায়ী ১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দে 'জাতীয় উদ্যান' হিসাবে ঘোষণা করা হয়।
চিরহরিৎ এ বনে নিরক্ষীয় অঞ্চলের বর্ষাবন বা রেইনফরেষ্টের বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হয়। একসময় বৃহত্তর সিলেটের সর্বত্রই এ ধরণের বন ছিলো। তবে বানিজ্যিক চা বাগান সৃষ্টি, ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপ এবং নির্বিচারে গাছ কাটার ফলে ক্রমে সংকুচিত হতে হতে মাত্র কয়েকটি স্থানে চিরহরিৎ এ বর্ষাবনের অস্তিত্ব টিকে রয়েছে।

কাঠের তৈরী সেতু পেরিয়ে আমরা আরও গভীরে ঢুকে পড়লাম। গভীর মানে লেখালিখির গভীর নয়, সত্যিকারের গভীর। এক জায়গায় গিয়ে আমাদের আক্ষরিক অর্থেই বসে বসে এগোতে হল। গাছের ডালপালা আর বেতগাছের কাটা এমনভাবে রাস্তা ঢেকে রেখেছে যে বসে এগোলেও মাথায় ডাল লেগে যায়। পায়ে দুটো জোক ধরেছে, দুবারে ছাড়িয়েছি। জ্যাকের পায়ে ধরেছিল একটা, তাকে দেখিয়ে দিয়েছি। জোক কোন সমস্যা না। সমস্যা হল আমরা পথটা চিনতে পারছি না। পায়ে চলা পথ যেদিকে গেছে আমরাও সেদিকে গেছি। হাতের কাছে ম্যাপটা নেই, ম্যাপের মধ্যে শুধূ ট্রেইলের রাস্তাটাই দেয়া আছে, অন্য কিছু দেয়া নেই। সুতরাং ট্রেইল যদি কোন দিকে বাক নেয় তবে আমরা সেটা বুঝতে পারবো না। এবং ঠিক এই ঘটনাটাই ঘটল। এক জায়গায় এসে ট্রেইল দুভাগ হয়ে দুদিকে গেছে দেখে আমাদের দাড়াতে হল। ডানপন্থীরাই ভালো, সুতরাং ডানের রাস্তা বেছে নিলাম। বহুদূর যাবার পরে হঠাৎ-ই রাস্তা গায়েব হয়ে গেল। সত্যি সত্যিই গায়েব, কোনই চিহ্ন নেই। আবার পিছু ফিরতে হল। এবার বামপন্থী। কিন্তু এই রাস্তা একটু গিয়েই শেষ। এখন উপায়? মধ্যমপন্থী হবার চেষ্টা করলাম, কোন রাস্তাই পাওয়া গেল না। আমাদের বর্তমান অবস্থাকে আঞ্চলিক ভাষায় 'ব্যাক্কেল' অবস্থা বলে। এতদূর এসে এখন আর এগোতে পারছি না, অথচ জানি সামনে কোথাও এই রাস্তাটা পিচঢালা হাইওয়ের সাথে মিশবে। কিন্তু কোথায় সেই রাস্তা? ঝোপঝাড় ঠেলে এগোব, সেটাও সম্ভব নয়, কারণ হাতে কোন কিছুই নেই। ডানদিকে যাবো না বামদিকে সেটাও জানি না। বালকদের একজনের কাছে স্যামসাঙের গ্যালাক্সিট্যাব টাইপের কি জানি এক মোবাইল। সেখানে জিপিএস দিয়ে গুগল ম্যাপে অবস্থান চিহ্নিত করা যায়। বিশাল সুবিধা এর। ডানে বামে কি আছে তা ম্যাপেই দেখে ফেলা সম্ভব। অথচ এই জঙ্গলে সেই ম্যাপ কাজ করছে না। নেটওয়ার্ক নেই।
১৯৫৬ সালের অ্যারাউন্ড দ্য ওয়ার্ল্ড ইন এইটি ডেজ সিনেমার শ্যুটিং হয়েছিল এই রেল লাইনে। দেখে নিন।

শেষ পর্যন্ত আধাঘন্টার ট্রেইলেই ঘুরে আসতে হল


আফ্রিকান টিকওক গাছ
অত্যন্ত লজ্জাজনক ব্যাপার, কিন্তু অস্বীকার করাও ঠিক হবে না, আমরা এক ঘন্টার ট্রেইল শেষ না করেই পিছু ফিরে এলাম। তারপর রেললাইনের ধারে গিয়ে ছবি তুললাম। তারপর আধাঘন্টার ট্রেইলে ঢুকে ঘুরে বের হয়ে এলাম। ব্যর্থতার কারণে মন বেশ হতাশ। কিন্তু আমি মনে মনে প্রতীজ্ঞা করে ফেলেছি - নেক্সট যদি আবার লাউয়াছড়ায় আসতেই হয় তবে অবশ্যই বর্ষাকালে আসবো এবং অবশ্যই এক ঘন্টার ট্রেইলে আবারও ঢুকবো। জঙ্গলের এই উদ্ধত যৌবন আমার বেশ ভালো লেগে গেছে।

২.
ট্রাকে ভ্রমনের অভিজ্ঞতার সাথে অন্য কোন বাহনের অভিজ্ঞতা তুলনীয় নয়।
পড়াশোনার উদ্দেশ্যে ঢাকায় চলে আসার পর হুট হাট করে চট্টগ্রাম চলে যেতাম। ঢাকায় মন টিকছে না কিংবা হঠাৎ মনে হল, 'যাই চিটাগাং', ব্যস সায়েদাবাদ গিয়ে গাড়িতে উঠে পরলাম। একদিন বিকেলের দিকে এমনটি মনে হওয়ায় আমি আর নেজাম চলে গেলাম সায়েদাবাদ এবং দেখলাম নাইটকোচ ছাড়া এই মুহূর্তে চট্টগ্রামগামী কোন বাস নেই। রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করার কোন মানে হয় না, ফেনীর মহিপালগামী একটা লোকাল বাসে উঠে পড়লাম। মহীপালে যখন নামলাম তখন বাজে রাত দশটা এবং সরাসরি চট্টগ্রাম যাবে এমন কোন বাস নেই। লোকাল বাসের জন্য অপেক্ষা করছি এমন সময় একটি ট্রাক 'চট্টগ্রাম-চট্টগ্রাম' বলে হাক দিচ্ছে দেখে উঠে পড়লাম। সে এক অবিস্মরনীয় অভিজ্ঞতা। মজবুত গাড়ি, কোন ভয়ডর লাগে না ভেতরে বসলে। সবচে ইন্টারেস্টিং হল ড্রাইভারের সিট। মনে হচ্ছে সেটি একটি স্প্রিং এর উপর তৈরী। ড্রাইভার একবার সামনে একবার পেছনে, একবার ডানে একবার বামে - এভাবে দুলছে। আমরাও দুলছিলাম, কিন্তু ড্রাইভারের মত নয়। সাড়ে বারোটায় জিইসি'র মোড়ে নামিয়ে দিয়েছিল সেই ট্রাক।

লাউয়াছড়ার জঙ্গল থেকে ফেরার সময় আমাদের এই একই সমস্যায় পড়তে হল। গাড়ি নেই। বৃষ্টি, দুএকটা সিএনজি অটো দেখতে পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলো রিজার্ভ। দুএকটা গাড়িও দেখা যাচ্ছে, সেগুলোও। দাড়িয়ে আছি, মাধবকুন্ড যাবার পরিকল্পনা বাতিল করা ছাড়া উপায় নেই, কারণ শ্রীমঙ্গল থেকে ওদিকে কোন বাস বা অন্য গাড়ি যেতে দেখছি না। অপেক্ষা করছি। হঠাৎই একটা সাদা পিকআপ দেখা গেল। শ্রীমঙ্গলের দিকে যাচ্ছে। 'নিয়ে যাবেন?' 'কয়জন?' 'পাচ' - ড্রাই্ভার মাথা কাত করে হ্যা জানিয়ে দরজা খুলতে চাইল, কিন্তু আমরা পাচজনই পেছনে চড়ে বসলাম। জঙ্গলের মাঝ দিয়ে দুর্দান্ত গতিতে ছুটে যাচ্ছে গাড়ি, বৃষ্টি হচ্ছে ঝিরঝির, আমাদের গায়ের নীল পলিথিন উড়ে ছুটে পালিয়ে যেতে চাচ্ছে, বৃষ্টির ছাট প্রচন্ড গতিতে আমাদের মুখে আঘাত করছে বলে আমরা চোখ বন্ধ করে আছি কিন্তু দাতগুলো বের করে হাসতে হাসতে একহাতে গাড়ির বডি অন্য হাতে পলিথিন আকড়ে ধরে ছুটে চললাম শ্রীমঙ্গলের দিকে। বালকরা মোবাইলের ক্যামেরায় ছবি তুলতে লাগল - এই অভিজ্ঞতা মোবাইলে যদি বন্দি নাই করা যায় তবে এত দামী মোবাইল কেন?

বালকের তোলা ছবি
দুই কিলো আগে থাকতেই আমরা নেমে পড়লাম গাড়ি থেকে। চা বাগান। বাংলাদেশ চা গবেষনা ইন্সটিটিউট (বিটিআরআই)। যে সময়ে চা বাগানে এসেছি সেটা সঠিক সময় নয়। বাগানে কোন কুলি নেই, কামিন নেই। এখন চা পাতা গজাচ্ছে, পাতা তোলা হবে আরও কয়েকমাস পর থেকে। তাই বাগান একদম ফাকা। আমরা একদম ভেতরে চলে এলাম। বিটিআরআই এর অফিসের গেটে কয়েকজন ভদ্রলোক দাড়িয়ে ছিলেন। একজন এগিয়ে এসে জিজ্ঞেস করলেন, 'পাতা লাগবে? এক নাম্বারটা দেবো।' এই ধরনের আহবানে আমি সবসময়ই নির্লিপ্ত। একা থাকি, এই চা পাতা নিয়ে কাউকে দেবো সে সুযোগও নেই। বালকরা তাদের পরিবারের সাথে থাকে, চিন্তা ভাবনা করছে কিনবে কি কিনবে না - এমন সময়ই দেয়ালের গায়ে সাইনবোর্ডটা চোখে পড়ল - 'এখানে চা পাতা বিক্রয় করা হয় না। চা পাতা কিনে প্রতারিত হবেন না' (একটু এদিক সেদিক হতে পারে, ছবি নেই)। এই কথার পর আর দাড়ানো চলে না। আমরা আরও ভেতরে গেলাম।

তৈরী হচ্ছে সেতু। শীতকালে এর উপর দিয়ে গাড়ি যাবে, বর্ষাকালে নিচ দিয়ে যাবে খরস্রোতা কাদামাখা ঘোলাটে পানির ঢল

চা বাগানের ছবি না দেয়াটা ঠিক হবে কি?

চা বাগানের রাস্তায়
চা বাগানের এক দিকে থাকে বাংলোগুলো, সেখানে কর্মকর্তারা থাকেন তাদের পরিবার নিয়ে। এই বাংলোগুলোর ডিজাইন প্রায় সব জায়গায়ই একরকম। সম্ভবত বৃটিশ আমলে এইভাবে বাংলোগুলো তৈরী করা হত। এই চা বাগান আর বাংলোগুলো দেখলে মনে হয় অনেক চেনা। কারণ কি? সমরেশ মজুমদারের বই 'উত্তরাধিকার'। অনিমেষ/অনি ডুয়ার্সে এই ধরনের চা বাগানে বড় হয়েছিল, তার হিরো ছিল দাদু। কুলি কামিনদের বস্তি আর চা বাগানের বাবুদের বাংলো - ডুয়ার্স আর শ্রীমঙ্গলে বোধহয় কোন পার্থক্য নেই। কল্পনায় আকা ছবির সাথে এই ছবির বড্ড বেশী মিল। বাংলাদেশী কোন্ লেখক চা বাগান নিয়ে এত বিস্তারিত লিখেছেন?
জনপ্রতি দুই টাকা দিয়ে বাসে করে ফিরলাম শ্রীমঙ্গলে।
শ্রীমঙ্গলে হোটেলে খেতে বসে দেখা গেল গরু পাওয়া যায় না। দু:খজনক, খুবই দু:খজনক। কেন? এখানে নাকি প্রায় সিক্সটি পার্সেন্ট হিন্দু। তাই গরু তেমন চলে না। গরু পেতে হলে একটু নিম্নমানের হোটেলে যেতে হবে। বিশেষ করে সাতকড়া দিয়ে রান্না করা গরু সেইসব হোটেলের জনপ্রিয় খাবার। আমাদের খাওয়া হল না সেই সুস্বাদু (শোনা কথা) গরুর মাংস।

শ্রীমঙ্গলের বেশ পরিচিত চিড়িয়াখানার নাম হল শীতেষ বাবুর মিনি জু। তার পুরো নাম শীতেষ রঞ্জন দে। ভদ্রলোক সম্ভবত শিকারী ছিলেন। ভালুকের থাবায় তার এক চোখ নেই। চিড়িয়াখানায় ঢোকার অনুমতি ছিল না, বৃষ্টিতে কাদা হয়ে আছে। অনুরোধে খুলে দেয়া হল। নানা প্রজাতির প্রানী, প্রায় সবই ঢাকা চিড়িয়াখানায় পাওয়া যায়। যা পাওয়া যাবে না সেরকম একটা হল সোনালী বাঘ (ছবি তুলি নাই)। আরেকটার নাম ভুলে গেছি। ঢাকা চিড়িয়াখানার থেকে এখানে জানোয়ার দর্শনের অভিজ্ঞতা একটু ভিন্ন। ঢাকায় চিড়িয়াখানার খাচার বাইরে একটা বাউন্ডারি থাকে নিরাপত্তার জন্য। এখানে সেটা নেই। ফলে মনে হয় না খাচায় দেখছি। বেশ উৎফুল্ল ভঙ্গিতে ভাল্লুকটা ঘুরে বেড়াচ্ছিল বলে তার ছবি তুলতে গেলাম। হাত খাচার বাইরেই ছিল, কিন্তু ভাল্লুকটা থাবা বাড়িয়ে দিল হঠাৎ। ধক্ করে উঠেছিল কলিজা! ছবিটাও নড়ে গেল।

হাত কেপে যাওয়ায় ছবি ঝাপসা হয়ে গেল
সিলেট বলেন আর শ্রীমঙ্গল - দুই থেকে সাত রং চায়ের কথা শুনতে শুনতে মাথা নষ্ট হয়ে যাবে। কুমিল্লার সব মাতৃভান্ডারই যেমন অরিজিনাল, এখানেরও সব চা'ই অরিজিনাল। তবে শ্রীমঙ্গলে নীলকন্ঠ (ঠিক আছে তো??) বলে একটা দোকান আছে, যেটায় প্রথম এই চা বানানো হয়েছিল, সেটা রিকশাওয়ালারা বেশ ভালো চিনে। বিকেলে গেলাম সেখানে। নানান রং এর চা পাওয়া যাচ্ছে। এক রঙ এর চা আছে তিন ধরনের তার একটা আবার পানির রং এর। আমি দুধের মালাই চা'য়ের অর্ডার দিলাম। বাকীরা এক এক রকমের চা। এবং সবাই মিলে একটা সাত রং এর চা। রং হিসেবে দাম। প্রতি রং দশ টাকা। প্রায় বিশ মিনিট অপেক্ষা করার পর চা এসে গেল। খাবো কি - ছবি তুলতেই ব্যস্ত হয়ে পড়লাম সবাই।

সাত রং এর চা
আমার ছুটি ফুরোলো। বালকরা থাকবে আরও একদিন, মাধবকুন্ড যাবে, পরীকুন্ড যাবে। আমার বস ছুটি দিল না। গোলামের আবার ভ্রমণ! রাত সাড়ে বারোটার টিকিট কেটে ফেললাম। তারপর সবাই মিলে হাটতে হাটতে রাধানাথ সিনেমাহলে। সেখানে চলছে ' জীবনে তুমি মরনে তুমি '। বালকরা কখনো সিনেমাহলে এফডিসি-র বাংলা সিনেমা দেখে নি। ঢাকায় বসে দেখবে সে সাহসও নেই। সুতরাং শ্রীমঙ্গল অনেক ভালো জায়গা। আমরা রাত নয়টার শো'র দর্শক হয়ে গেলাম।
শ্রীমঙ্গল ভ্রমন শুরু করেছিলাম ভারতের সাথে বাংলাদেশ একত্রিত হয়ে গেলে কি হবে সেই কথা নিয়ে। এরকম চিন্তা সুস্থ্য মানুষের লক্ষণ নয়, হতাশাগ্রস্থ মানুষ এরকম চিন্তা করতে পারে। আমি হতাশাগ্রস্থ নই, আলোচনার স্বার্থে সকল যুক্তি প্রদর্শন করেছিলাম। ভারতের সাথে মিশে যাওয়ার চিন্তা আমাদের করতে হয় না, যদি আমরা আমাদের রিসোর্সগুলোর সঠিক ব্যবহার করতে পারতাম। রিসোর্স বলতে শুধু মাটিতে-পানিতে প্রাপ্ত প্রাকৃতিক জিনিসগুলোই শুধু নয়, এই চৌদ্দ কোটি মানুষের মাথায় যে রিসোর্স তার ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না কোনভাবেই। নিজেদেরকে উন্নত না করেই আমরা উন্নত দেশগুলোর আচরনকে লালন করা শুরু করেছি। ঘটনাপ্রবাহ স্বাভাবিক-ই। সরকারের কিছু ভূমিকাকেও অস্বীকার করা যাবে না, কিন্তু এই আমরা যদি পাল্টে ফেলতে পারি, তবে সরকার করবে কি? চাই না ভারতের অংশ হতে, আমার বাংলাদেশ নিয়েই আমি থাকবো, তবে তার আগে বাংলাদেশকে থাকার মত একটি দেশ হিসেবেও তৈরী করে নেব।

চা কেমন হয়েছিল সেটা বর্ণনা না করে এই পোস্ট শেষ করা ঠিক হবে না।
আমি: (মালাই চা) পুরানা পল্টনে ওভারব্রিজের নিচের চা এর থেকে একশগুন ভালো।
বালকেরা (সাত রং এর চা) : প্রথম কালারটা নোংরা পানি, দ্বিতীয় কালারটা ড্রেনের পানি ... (আমি আর শুনতে চাই নি)

বাস চলতে শুরু করলো। গুড বাই শ্রীমঙ্গল, গুড বাই মৌলভীবাজার। মাধবকুন্ড, পরীকুন্ড দেখার জন্য হলেও আরেকবার আসবো। সেবারও একাকী আসবো না ইনশাল্লাহ।