বৃহস্পতিবার, ৩১ মে, ২০১২

সদ্যঘোষিত চলচ্চিত্র 'শিল্পে'র উন্নতিকল্পে পরামর্শ

খুব সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চলচ্চিত্রকে 'শিল্প' হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০১০ প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ বিষয়ে ঘোষনা দেন এবং ৩রা মে তারিখে প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই মৌখিক স্বীকৃতি স্থায়ী রূপ পেল। এ ঘোষনায় চলচ্চিত্র নির্মান সংক্রান্ত কাজে জড়িত ব্যক্তিরা আনন্দিত হয়েছেন - এফডিসিতে নিজেদের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করা হয়েছে এমন সংবাদও পত্রিকার পাতায় প্রকাশিত হয়েছে। এফডিসি-র সীমানার বাহিরে রাস্তার পাশে বিশাল ডিজিটাল ব্যানার লাগানো হয়েছে, সেখানে লেখা - চলচ্চিত্রকে 'শিল্প' ঘোষনা করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন। দীর্ঘদিন ধরে স্থবির এবং ক্রমশই নিস্তেজ হতে যাওয়া চলচ্চিত্র ক্ষেত্রকে বাচানোর জন্য সরকারকে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে দেখেছি। ভারতীয় সিনেমা আমদানীর মাধ্যমে দেশীয় শিল্প উন্নতি করার চেষ্টা থেকে সরে এসে 'শিল্প' হিসেবে ঘোষনা করার মত সময়োপযোগী এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আমাদের পক্ষ থেকেও আন্তরিক অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা। কিন্তু চলচ্চিত্রের উন্নয়নে 'শিল্প' হিসেবে এই স্বীকৃতিই যথেষ্ট নয়।

বুধবার, ৩০ মে, ২০১২

শিশুদের পর্ণগ্রাফিতে আসক্তি, কিশোরদের প্রেমে আর পরিণতের সমাধান প্রচেষ্টা

১.
গত কয়েকদিন ধরে ফেসবুকে একটা ভিডিও শেয়ার হতে দেখছি। ভিডিওর বিষয় শিশুদের পর্নগ্রাফিতে আসক্তি। রাজধানীতে অষ্টম শ্রেনীতে পড়ুয়া ১০০ জন শিক্ষার্থীর (এদেরকে শিশু বলতে ইচ্ছে করছে না) উপর একটা জড়িপ চালিয়েছে সময় টেলিভিশন, তার রেজাল্টের ভিত্তিতে এই রিপোর্ট। রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, ৮৮ শতাংশ স্কুল পড়ুয়া মোবাইলে পর্ণ ছবি/ভিডিও দেখে, শেয়ার করে। অনেক ক্ষেত্রে এটা স্মার্টনেসের লক্ষন। রিপোর্টারের ভাষ্যমতে, এক শিক্ষার্থী তাকে জানিয়েছে - বাবা মায়ের সামনেই সে এইসব দেখে, কোন সমস্যা হয় না।

২.
 আমার এ্ইচএসসি পড়ুয়া এক বোন তার ফেসবুক ওয়ালে তার বান্ধবী এবং তার বয়ফ্রেন্ডের ছবি শেয়ার করেছে। ছবিতে সেই কাপল কোন এক ফাস্ট ফুড/রেস্টুরেন্টে বসে নাকে নাক ঘষছে। জানা গেল, এটা তাদের প্রি-কিস পর্বের ছবি। তুলেছে আমার সেই বোন।

৩.
সাবিয়া সুলতানা নামের কিশোরী একটা মেয়ে আত্মহত্যা করেছে। কেন? তার প্রেমিক তাদের ঘনিষ্ট সময়ের ছবি তুলে ছড়িয়ে দিয়েছে, কোন এক সাংবাদিক সেই সূত্র ধরে তার সাক্ষাতকার নিতে গিয়ে ছবি পত্রিকায় প্রকাশের হুমকী দিয়েছে, কিশোরী মেয়েটি এই অপমান সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করেছে। এখন কে দোষী এই নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

৪.
এই তিনটি ঘটনার মধ্যে নিশ্চয়ই একটা সম্পর্ক আছে, তবে একটির কারণে আরেকটি ঘটেছে - এমনটি নয়। ঘটনাগুলো বিচ্ছিন্ন, কিন্তু সামগ্রিকভাবে একটি চিত্র তুলে ধরছে - আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মের মধ্যে অনেক পরিবর্তন ঘটে গেছে। এরা যৌনতাকে হাতের মুঠোয় নিয়ে গেছে মোবাইলের কল্যানে, প্রেম তাদের অন্যতম চাহিদা, শারীরিক সম্পর্ক নিয়ে তাদের ছ্যুৎমার্গ নেই এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন, গোপনীয়তাকে তারা বিদায় করে দিচ্ছে। সুশীল এবং প্রগতিশীল-দের কাছে হয়তো এই সকল ঘটনাবলীর মধ্যে মোবাইলে ছবি তুলে ছড়িয়ে দেয়ার মত গুরুতর অপরাধ আর কোনটিই নয়, কোন কোন ক্ষেত্রে অপরাধও নয়। কিন্তু ধর্ম বা বাঙ্গালী সমাজ ব্যবস্থাকে আকড়ে ধরে রাখার মত পশ্চাৎপদ মানুষের কাছে এই প্রত্যেকটি ঘটনাই গুরুত্বপূর্ণ, অপরাধ এবং এর কোনটিই কাম্য নয়। প্রত্যেকটি ঘটনারই সমাধান প্রয়োজন, এবং পশ্চাতপদ মানুষের বৈশিষ্ট্যানুসারে এরা ঘুরে ফিরে তাদের ধর্ম এবং পুরানো সংস্কৃতির কাছে পৌছে যায়, সেখানেই সমাধান খুজে পায়। এই বিশ্বাস বলে, শিক্ষার্থীদের হাত থেকে প্রযুক্তি তুলে নেয়া বা বাবা-মাকে সর্বদা সচেতন হওয়াই এই সমস্যার সমাধান নয়। বরং শিক্ষার্থী সহ সকল বয়সের মানুষের মনের মধ্যে একটা পরিশোধন যন্ত্র বসাতে পারাই সাফল্য, যার মাধ্যমে কোনটা ভালো কোনটা খারাপ তা সঠিকভাবে চিহ্নিত করা সম্ভব এবং যা মানসিক প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রন করবে। এই বিশ্বাস আরও বলে, সমস্যার পেটে বা আগায় আঘাত করলে সমাধান আসে না, বরং গোড়া থেকে উৎপাটন প্রয়োজন। এ কারণেই, মোবাইল ডিভাইস কেড়ে না নিয়ে অথবা সর্বক্ষন চোখে চোখে না রেখে অন্যের মধ্যে সেই শিক্ষা প্রবেশ করাতে সচেষ্ট হয় যা মোবাইলে পর্ণগ্রাফিতে আসক্ত হওয়াকেই শুধু পাপ হিসেবে চিহ্নিত করে না, বরং অপরিণত বয়সে নারী-পুরুষের প্রেমময় সম্পর্ককেও  পরিত্যাজ্য বলে ঘোষনা করে। প্রবৃত্তির অনুসারী না হয়ে প্রবৃত্তিকে তার অনুসারী করে নেয়ার চেষ্টাও এর মধ্যে অন্তর্ভূক্ত।

সুতরাং সমস্যাটা শুধু অল্পবয়স্ক শিক্ষার্থীদেরই নয়, সমস্যা সর্বস্তরে। শিক্ষার্থীরা যখাযখ শিক্ষার অভাবেই সমস্যাগ্রস্থ হয়, আর তাদের অভিভাবকরাও শিক্ষার অভাবেই তাদের সন্তানদের সমাধানের রাস্তা খোজেন ভিন্ন কোন রাস্তায়। পশ্চিমা সংস্কৃতির বিভিন্ন উপাদানকে সমর্থন জানিয়ে তারই উপজাত সমস্যাকে বিতারনের চেষ্টা করে লাভ নেই। সচেতনতার এই-ই সময়। অন্যথায়, আমেরিকান পাই বাংলাদেশে বাস্তবায়িত হওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র।

 ৫.
"আর তোমরা ব্যভিচারের কাছেও যেও না। নিশ্চয় এটা অশ্লীল ও মন্দ পথ।" সূরা বণী ইসরাঈল (মক্কায় অবতীর্ণ): (১৭ : ৩২)

শুক্রবার, ২৫ মে, ২০১২

বন্দনা এবং নিন্দা

আজকে যারা সাকিব আল হাসানের বন্দনায় এবং শাহাদাতের নিন্দায় মুখর তাদের উদ্দেশ্যে অনুরোধ - এই মুখ যেন কোনদিন সাকিব আল হাসানের নিন্দা এবং শাহাদাতের বন্দনায় মুখর না হয়। আমাদের 'বাদুর' এর কথা মনে রাখা উচিত যার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল - সে যে মুখ দিয়ে খায় সে মুখ দিয়েই হাগে।
সাকিব আল হাসান একাকী খেলে যেমন বাংলাদেশকে জেতাতে পারতো না, শাহাদাতও একাকী দলকে হারায় নি। বন্দনা এবং নিন্দা দলের প্রতি হতে পারে, ব্যক্তি বিশেষের প্রতি হলে সেটা অন্যান্যদের প্রতি অবিচার।

শনিবার, ১২ মে, ২০১২

দ্য স্পিড: গন্ডির ভেতরে গতিময়

নিজেকে অ্যাকশন হিরো হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টারত এম এ জলিল অনন্তর তৃতীয় সিনেমা দ্য স্পিড আজই সারা দেশে মুক্তি পেল। অনন্তর প্রথম সিনেমা 'খোজ -দ্য সার্চ' মুক্তির সময় থেকেই এই সিনেমার কথা শোনা যাচ্ছিল। খোঁজ-দ্য সার্চ সিনেমায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও অ্যাকশন দৃশ্যে নতুনত্ব বেশ ভালো লেগেছিল। প্রথম সিনেমার ভিলেন নিনো দ্য স্পিড সিনেমায়ও ভিলেন হিসেবে অভিনয় করবেন বলে ধারনা হয়েছিল - দ্য স্পিড বোধহয় সিক্যুয়েল। তা নয়। সিনেমার ট্রেলার ও গানগুলো শুনতে ও দেখতে ভালো। প্রথিতযশা অভিনেতা আলমগীর এই সিনেমায় ভিলেন চরিত্রে অভিনয় করেছেন। কাহিনী ও সংলাপের রচয়িতা অনন্য মামুন যার পরিচালিত সিনেমা 'মোস্ট ওয়েলকাম' আগামী মাসেই মুক্তি পাবার কথা রয়েছে। এবং সিনেমাটি চিত্রনাট্য ও পরিচালনায় আছে 'কেয়ামত থেকে কেয়ামত' খ্যাত পরিচালক সোহানুর রহমান সোহান। এই সবগুলো কারণ 'দ্য স্পিড-ডু অর ডাই' সিনেমাটি দেখার জন্য আমাকে উৎসাহ জুিগয়েছে, আজ তার সমাপ্তি হল। পরিচালক-কাহিনীকার-নায়িকা-ভিলেন-লোকেশন ইত্যাদির পরিবর্তনে দ্য স্পিড অনন্তর প্রথম সিনেমা 'খোজ-দ্য সার্চ'কে ছাড়িয়ে গেলেও বেশীদূর যেতে পারে নি। আরও ভালো করার অসীম সম্ভাবনাকে নষ্ট করেছে গতানুগতিক বাংলা সিনেমার চিন্তাধারার গন্ডি পেরোতে ব্যর্থ হয়েছে দ্য স্পিড।

মঙ্গলবার, ১ মে, ২০১২

মার্টিন স্করসেইজির সাক্ষাৎকার : "ট্যাক্সি ড্রাইভার নারীবাদী চলচ্চিত্র"

martin-scorsese-prominent-filmmaker-interview
মার্টিন চার্লস স্করসেইজি, আমেরিকান চলচিত্রের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব। বিশ্ব চলচ্চিত্রের অন্যতম উল্লেখযোগ্য মুভি "ট্যা
ক্সি ড্রাইভার" মুক্তির আগে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন পুলিৎজার বিজয়ী একমাত্র চলচ্চিত্র সমালোচক রজার এবার্টকে। আমার খুব পছন্দের সেই সাক্ষাৎকারের কিছু চুম্বক অংশ আজ অনুবাদ করলাম।

সাক্ষাৎকারের সময়কাল: মার্চ ৭, ১৯৭৬।