শনিবার, ২১ এপ্রিল, ২০১২

২২শে শ্রাবন: সিনেমায় হাংরি আন্দোলন

২২শে শ্রাবন পোস্টারগত শতকে ষাটের দশকে বেশ কিছু তরুন কবি মিলে ভিন্ন ধরনের কবিতা লেখা শুরু করেন। তাদের কবিতাগুলো প্রচলিত ধারার যেকোন কবিতার থেকে ভিন্ন ছিল। তাদের কবিতায় শব্দ চয়ন আপাতদৃষ্টিতে অসঙলগ্ন ছিল। সাধারণ দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে এই কবিতায় কোন ছন্দ ছিল না, এক শব্দের সাথে অন্য শব্দের স্থাপনে কোন মিল ছিল না, যৌনতার ব্যাপক প্রয়োগ ছিল ছন্দে-শব্দে-ভাবে। সাধারণত শিল্প-সাহিত্যে কোন আন্দোলন সংজ্ঞায়িত করেন সমালোচকরা, কখনো কখনো শিল্পী-সাহিত্যিকরাও এ ব্যাপারে ভূমিকা রাখেন। হাংরি আন্দোলনে জড়িত কবিরা নিজেরাই এই আন্দোলনকে 'হাংরি আন্দোলন' হিসেবে পরিচিতি দেন। এই আন্দোলনই বাংলা সাহিত্যে একমাত্র আন্দোলন যা ইশতেহার প্রকাশের মাধ্যমে হয়েছে। ইংরেজি ভাষার কবি জিওফ্রে চসারের 'ইন দি সাওয়ার হাংরি টাইম' বাক্যটি থেকে হাংরি শব্দটি চয়নের মাধ্যমে তারা নিজেদেরকে হাংরিয়ালিস্ট হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তারা পাটনা থেকে বাংলা প্রেসের অভাবে ইংরেজিতে একটি বুলেটিন প্রকাশ করতো - যেখানে তাদের কবিতা, গল্প, চিত্র ইত্যাদি প্রকাশ করা হত। হাংরি আন্দোলন যারা শুরু করেছিলেন তাদের মধ্যে সমীর রায়চৌধুরী, মলয় রায়চৌধুরী, শক্তি চট্টোপাধ্যায় ইত্যাদি অন্যতম। ১৯৬১ সালের নভেম্বর থেকে শুরু হয়ে ১৯৬৫ সালেই শেষ হয়ে যায়।

বুধবার, ১৮ এপ্রিল, ২০১২

বাংলাদেশী সিনেমা: জ্বী হুজুর

 

[caption id="attachment_3177" align="aligncenter" width="336"]ji-hujur-fim-by-zakir-hossain-raju-with-saimon-sadik জাকির হোসেন রাজু পরিচালিত জ্বী হুজুর সিনেমার পোস্টারে সাইমন সাদিক (ছবি: বিএমডিবি)[/caption]

জ্বী হুজুর সিনেমা দেখার আগ্রহ তৈরী হয়েছে এর পোস্টার দেখে। ধবধবে সাদা পাঞ্জাবী-পাজামা, মাথায় টুপি আর মুখে সুন্দর শশ্রুমন্ডিত এক সুদর্শন যুবকের অ্যাকশন দৃশ্য দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল সপ্তাহ দুয়েক আগে। একই সিনেমার আরেকটি পোস্টারেও এই যুবকের ছবি প্রাধান্য পেয়েছে যেখানে কালো রং এর কাবলী, মাথায় কালো পাগড়ী পরিহিত তরুনের হাতে একটি একে-৪৭ বন্দুক। একে অপরিচিত, তার উপর শাকিব খানের আধিপত্যের সময়ে এরকম সুশ্রী নায়ক সিনেমার পোস্টারে দেখে আগ্রহ তৈরী হওয়াটাই স্বাভাবিক। প্রথম আলোর বিনোদন পাতায় সম্প্রতি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়া কাহিনীকার-চলচ্চিত্রকার জাকির হোসেন রাজুর সাক্ষাতকার থেকে জানা গেল 'জ্বী হুজুর' তারই পরিচালিত সিনেমা এবং এ সিনেমায় তিনি বেশ পরিকল্পনা করে নতুন ধরনের গল্পে নতুন এক ঝাক মুখ হাজির করার চেষ্টা করেছেন।

শুক্রবার, ১৩ এপ্রিল, ২০১২

সিনেমার গান - এখানে দুজনে নিরজনে



১৯৯৩ সালের ২৫শে মার্চ সালমান শাহ - মৌসুূমী অভিনীত এবং সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত সিনেমা 'কেয়ামত থেকে কেয়ামত' মুক্তি পাওয়ার এক বছরে কোন সিনেমা মুক্তি পায় নি। কিন্তু তার পরের বছর ১৯৯৪ সালে সালমান শাহ অভিনীত ছয়টা সিনেমার মুক্তি 'কেয়ামত থেকে কেয়ামত' সিনেমার সাফল্যকেই ইঙ্গিত করে। শিবলী সাদিক পরিচালিত 'অন্তরে অন্তরে' সালমান শাহ-মৌসুমী অভিনীত দ্বিতীয় সিনেমা*। এই জুটির কাছে দর্শকের চাহিদা ছিল অনেক এবং বেশ সাফল্যের সাথেই এই জুটি দর্শকের চাহিদা পূরন করতে সক্ষম হয়েছিল। অন্তরে অন্তরে সিনেমার একটি গান 'এখানে দুজনে নিরজনে সাজাবো প্রেমের পৃথিবী'। রুনা লায়লা এবং এন্ড্রু কিশোরের কন্ঠে গাওয়া এই গানটি এখনো প্রেমের গান হিসেবে নবীন। একই সাথে, এই গানের সাথে সালমান শাহ এবং মৌসুমীর অভিনয়কে নবীন বললে অত্যুক্তি হবে না। গান এবং তার চিত্রায়নের কারণেই হয়তো 'কালজয়ী' গানের তালিকায় এই গানটি যুক্ত হবে। বলা বাহুল্য, একটি গান হুট করে কালজয়ী হয় না।

মঙ্গলবার, ১০ এপ্রিল, ২০১২

দ্য লাস্ট ঠাকুর

২০০৮ সালের ২৬ অক্টোবর সামহোয়্যারইনব্লগে একটি সিনেব্লগ লিখেছিলাম। ব্লগের বিষয়বস্তু কিছুই না - একটা সিনেমার প্রিমিয়ার সংবাদ এবং তার ট্রেলার শেয়ার করা। সিনেমাটার চিত্রায়ন হয়েছে বাংলাদেশে, পরিচালক বাংলাদেশী কিন্তু সিনেমার নির্মান হয়েছে ব্রিটেনে। সিনেমার নাম - দ্যা লাস্ট ঠাকুর, পরিচালকের নাম সাদিক আহমেদ। সিনেমার নাম প্রথমে শুনেছিলাম সিনেমাপ্রেমী বন্ধুর মুখে - পাত্তা দিই নি। কারণ, ইংরেজি নামের সিনেমাগুলোর কোনটাই সুস্থ্য নয়। বলাবাহুল্য, তখন সিনেমার নাম বাদে অন্য তথ্য জানা ছিল না। হুশ ফিরলো, পত্রিকায় নিউজ এবং ইউটিউবে ট্রেলার দেখে। তারপর তক্কে তক্কে থেকেছি, কখন মুক্তি পাবে সিনেমা এই দেশে। মুক্তি আর পেলো না, তার আগেই পাইরেটেড হয়ে ইউটিউব, টরেন্ট আর মিডিয়াফায়ারে চলে আসল। লোভ সামলানো সম্ভব হয়নি। নামিয়ে দেখে ফেললাম।

আর্ট ফিল্ম বনাম কমার্শিয়াল ফিল্ম

ইন্টারেস্টিঙ একটা কাহিনী শেয়ার করি।

নীলক্ষেতে প্রিন্ট করাচ্ছি। দোকানদার ছেলেটা আমার পেনড্রাইভের দুটো ভিডিও ফাইল চালিয়ে দেখছিলেন। তাই আগ্রহ করেই বললাম - "সিনেমা নিবেন? ওই যে 'দ্য সিক্রেট ইন দেয়ার আইজ' ফোল্ডারে আছে, গতবছরের আগের বছর অস্কার পাইছিল।" তিনি বেশ আগ্রহ নিয়া জিজ্ঞেস করলেন - ইংরেজি সিনেমা? আমি বললাম, না আর্জেন্টাইন, তবে ইংরেজি সাবটাইটেল আছে। তিনি 'ওই সিনেমা বাপের জন্মেও বুঝতাম না' বলেই ফোল্ডার ক্লোজ করে দিলেন। তারপর তার নিজের পিসি থেকে একটা হিন্দী সিনেমা বের করে দেখতে লাগলেন।

আমি যখন মনে মনে হাসছি আর বলছি - ব্যাটা বুঝলি না কত ভালো সিনেমা, তখন চিন্তায়ও আসেনি - হয়তো সেও মনে মনে হাসছে - ব্যাটা বেকুব! যেই ভাষা বুঝে না সেই ভাষার সিনেমা দেখে!

অট: কমার্শিয়াল বাংলা সিনেমা দেখে বলে কারও দিকে বিদ্রুুপাত্মক হাসি হাসার আগে নিজের দিকে একবার তাকানোর চেষ্টা করছি।

সোমবার, ৯ এপ্রিল, ২০১২

বঙ্গসীমান্তে শিহরিত সন্ধ্যা


বাচ্চাকালের কথা - স্কুলে যাই কি যাই না এমন সময়।





চট্টগ্রাম থেকে ট্রেনে চড়েছি। আব্বা-আম্মা-ভাইয়েরা। ট্রেন ছেড়েছে বিকেলে। কোথায় যাচ্ছি এখন সেটা মনে নেই - চাদপুর বা ঢাকা হবে। বাচ্চাকালের ট্রেন ভ্রমণ মানেই দুটো বিষয় অবধারিত। আম্মা ডিম সিদ্ধ করে বাসা থেকে নিয়ে যেতেন, ট্রেনে বসে সেই ডিমের খোসা ছিড়ে ডিমটা পেটে চালান করে দেয়া - এক। দুই, গন্তব্যে পৌছে ট্রেন থেকে নামার পর কোন এক অজানা কারণে আমার প্রচন্ড ঠান্ডা লাগত। এমন সে ঠান্ডা যে দাতে দাতে ঠকঠক-কিড়মিড়। প্লাটফর্ম থেকে বের হয়ে বাইরে বেবীটেক্সীতে উঠে রওয়ানা হওয়া পর্যন্ত এই অবস্থা। এখন বড় বেলায় ট্রেন ভ্রমনই প্রায় বন্ধ, দাত কিড়মিড় বন্ধ হয়েছে অনেক আগে। হুটহাট করে যাই হেথায়-সেথায়, সেজন্য বাস লঞ্চই ভরসা।





সোমবার, ২ এপ্রিল, ২০১২

তুমি চলে গেলে

তুমি চলে গেলে; আজ তাই
সারাটা দিন বিষন্নতায় কাটল
অস্থিরতা ঘিরে রেখেছিল সর্বক্ষন।

তুমি চলে গেলে, তাই
জনাকীর্ণ পৃৃথিবীতে থেকেও
নি:সঙ্গতার হাহাকার কানে বড় বেশী বাজছে।

তুমি চলে গেলে কিন্তু এখন
আমি এখন কি নিয়ে দিন কাটাবো?
সুমধুর স্মৃিত আর সুখস্বপ্ন নিয়ে
খেলা করবো আপন মনে,
মাঝে মাঝে তীব্র চিৎকারে
তুমি কোথায় তুমি কোথায় বলে
প্রতিধ্বনিত করে পৃথিবীতে ছড়িয়ে দেয়ার
ইচ্ছেটাকে হত্যা করার চেষ্টায়
বাথরুমে শাওয়ারের নিচে দাড়িয়ে কাদব
কিংবা বালিশে মুখ গুজে, অত:পর

অত:পর আবার এক বুক আশা নিয়ে
শুরু করবো জীবনের পথ চলা
আর অপেক্ষায় থাবো
আবার কবে আসবে তুমি হে মোর প্রিয়?