মঙ্গলবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০১২

প্রসঙ্গ: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে 'আমার ভাষার চলচ্চিত্র' প্রদর্শনী

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চলচ্চিত্র সংসদ এক দশক ধরে প্রতি বছর ফেব্রুয়ারী মাসে এপার-ওপার বাংলার চলচ্চিত্র নিয়ে 'আমার ভাষার চলচ্চিত্র' প্রদর্শনীর আয়োজন করে আসছে। বইমেলায় আগত দর্শকদের সামনে ঢাকা এবং কোলকাতার ভালো সিনেমাগুলো প্রদর্শনের এই প্রচেষ্টা তাদের স্লোগান 'সুস্থ চলচ্চিত্র, সুস্থ দর্শক'-কেই তুলে ধরে। এ বছরের ২৩ থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত মোট পাচদিনে মোট ২০টি চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হবে। প্রতিটি মাত্র ২০ টাকা দামের টিকিটে এতগুলো সুস্থ চলচ্চিত্র দর্শকদের বড় পর্দায় দেখার সুযোগ করে দেয়ার জন্য ডিইউএফএস কে আন্তরিক ধন্যবাদ। 

রবিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০১২

'জাগো': অবিস্মরনীয় অভিজ্ঞতা



১.

বিশ টাকা দামের টিকিটে সিনেমা দেখার জন্য আমি পনেরো টাকা রিকশা ভাড়া দিয়ে যখন টিএসসি পৌছুলাম তখন মোবাইলের ঘড়িতে ১.৩০পিএম। দেড়টায় সিনেমা শুরু হয়ে যাওয়ার কথা ছিল, সে জন্যই রিকশা নিয়ে তাড়াহুড়ো করে আগমন, কিন্তু দেখা গেল, দেড়টায় অপেক্ষামান দর্শককে সারি করে দাড়ানোর নির্দেশ পাওয়া গেল। সারির শেষ মাথায় গিয়ে দাড়ালাম। আমার মানিব্যাগের কোনায় ভাজ করে রাখা আমার ভাষার চলচ্চিত্রের তৃতীয় দিনের দ্বিতীয় অধিবেশনের একটি টিকিট, সিনেমার নাম 'জাগো'।

গতকালকে এসেছিলাম আবু সাইয়ীদ পরিচালিত 'কীত্তনখোলা' দেখার জন্য। সিনেমা শুরু হবার আগে পরবর্তীতে দেখানো হবে এমন সিনেমাগুলোর ট্রেলার দেখানো হচ্ছিল। 'জাগো' সিনেমার ট্রেলার দেখতে দেখতে চোখে পানি চলে এল - দেখবো সেরকম একটা ইচ্ছা আগেই ছিল, এবার পাকাপোক্ত হল। 'কীত্তনখোলা' দেখার পরেই 'জাগো'র অগ্রিম টিকিট কিনে ঘরে ফিরেছিলাম। আজ সেই টিকিট নিয়ে আমি দর্শক সারিতে।

শনিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০১২

Chinatown: কেন একটি সিনেমা সর্বকালের সেরা হয়?

১৯৭৪ সালে রোমান পোলানস্কির মুিভ 'চায়নাটাউন' মুিক্ত পাওয়ার পরে সবদিকে সাড়া পড়ে গেল। দেখতে দেখতে এই সিনেমা সেরা সিনেমার তালিকায় মোটামুটি পাকা অবস্থান করে নিল। গবেষনার বিষয়বস্তুতে পরিণত হল। এই সাড়া পড়ার কারণ অনেকে অনেক ভাবে বিশ্লেষন করার চেষ্টা করেছেন পরিচালক রোমান পোলানস্কির জীবনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাকে এই সিনেমার সাথে মেলানো যায়, আবার সিনেমা হিসেবে ইতিহাসে একটি মাইল ফলক হিসেবে এই সিনেমাটি স্থান দখল করে আছে। বিশেষ করে, যারা চিত্রনাট্য নির্মাতা হিসেবে নিজেেদরকে তৈরী করতে চায় তাদেরকে এই সিনেমা পড়াশোনা করে তারপর এগোেনার পরামর্শ দেয়া হয়ে থাকে।

শুক্রবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০১২

লেখকের উপলব্ধি

পলব্ধি:
যে সকল লেখক অনলাইনে লেখালিখি করেন তাদের মেধার একটা বড় অংশ ব্যয় হয় পাঠকের মন্তব্যের উত্তর দিতে। 'কাগুজে লেখক'রা অন্তত এই একটি দিক থেকে কিছু সময় বাচিয়ে লেখালিখির কাজে বা চিন্তায় ব্যয় করতে পেরেছিলেন বটে কিন্তু পাঠকের সাথে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ থেকেও বঞ্চিত ছিলেন। পাঠকের সাথে যোগাযোগ আর এর জন্য ব্যয়িত সময় - কোনটা বেশী ভারী বোঝা দায় :(

রবিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী, ২০১২

The Tree of Life: অনুভবের চলচ্চিত্র

'ট্রি অব লাইফ' নিয়ে লিখবো বলে গত দেড় সপ্তাহ ধরে আমি কোন সিনেমা দেখিনি। কিছুক্ষন আগে উপলব্ধি করতে পারলাম, এই সিনেমা নিয়ে লেখার যোগ্যতা আমার এখনো হয়নি। গত দেড় সপ্তাহ ধরে আমি বেশ কয়েকবার লিখতে বসেছি, লিখতে পারিনি। এই সিনেমাকে ভাষায় ব্যাখ্যা করা আমার পক্ষে সম্ভব না। শেষে মরিয়া হয়ে শুরু করলাম - আমাকে কেউ দিব্যি দেয়নি যে ভালোই লিখতে হবে। যা হোক তাই লিখবো।  ২০১১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এই সিনেমাটির পরিচালক টেরেন্স মালিক, তার আরেকটি সিনেমা বেশ পরিচিত - থিন রেড লাইন। উনসত্তর বছর বয়সী এই ভদ্রলোক তার সাম্প্রতিক সিনেমাটি বানিয়েছেন তা সিনেমার ইতিহাসে আরেকটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।

শুক্রবার, ৩ ফেব্রুয়ারী, ২০১২

মানিকগঞ্জের বালিয়াটি প্রাসাদে


উপক্রমনিকা





ভোলার চর কুকড়ি মুকড়ি থেকে ট্রলারে করে ফিরছি, মাথার উপর চড়া রোদ, গায়ের চাদরে ঘোমটা দিয়েছি। হাতে বাজারের সবচে সস্তা ডিজিটাল ক্যামেরা, ছবি তুলবো এমন কোন বিষয় নেই - চারদিকেই পানি আর পানি, সুতরাং ছবি তোলাও বন্ধ। চড় কুকড়ি মুকড়ির কথা ভাবছি। অনেক বছর বাদে হয়তো আবার আসবো এই জায়গায়, তখন অনেক পাল্টে যাবে। অনেক বছর আগে আসতে পারলে কেশরওয়ালা কুকুর দেখতে পেতাম।





কুকড়ি মুকড়ি নিয়া লিখবো কিনা ভাবতে শুরু করলাম। ভ্রমণব্লগ লেখার জন্য চতুরমার্ত্রিক বেস্ট। বান্দরবন ভ্রমণ নিয়ে ভালো সারা পেয়েছি। চর কুকড়ি মুকড়ি বা ভোলা নিয়ে লিখব। পটুয়াখালী, কুয়াকাটা নিয়ে লিখব। কুষ্টিয়া, জয়পুরহাট নিয়ে লিখব। যে সকল জায়গায় গিয়েছি, সব নিয়ে লিখবো। ছবি দেয়া যাবে না অবশ্য। আগে বেশী গরীব ছিলাম, ক্যামেরা ছিল না, ছবি তুলতে পারি নাই। তাতে কি - লিখবো, পাঠক আমার চোখে দেখবে। একটা একটা করে বেশ অনেকগুলো জেলা ঘুরলাম - সব মিলিয়ে ২৮টা। বাকীগুলোও হয়ে যাবে কারণ আমি সুেযােগ বেড়াই না, সুযোগ তৈরী করে বেড়াই। সবাই দেশ ভ্রমণ করে, আমি করবো বঙ্গভ্রমন - কারন আমার সামর্থ্য সীমিত।





তারপর, কড়া রোদের মধ্যে ই বিশাল নদীর মাঝে ভটভট শব্দ তুলে একদল মানুষের সাথে ভেসে যাবার সময় আমি সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললাম - আমি একটা ইবুক লিখবো - নাম হবে দারাশিকোর বঙ্গভ্রমণ