সোমবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০১২

বাংলা চলচ্চিত্রের সালতামামি ২০১২

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের আরও একটি বছর অতিক্রান্ত হয়ে গেল। অন্যান্য বছরের মত এ বছরেও বানিজ্যিক সিনেমার পাশাপাশি আর্ট ফিল্ম হিসেবে পরিচিত অফ ট্র্যাকের সিনেমা মুক্তি পেয়েছেন, নতুন নতুন মুখ যুক্ত হয়েছে নায়ক-নায়িকা, প্রযোজক-পরিচালকের তালিকায়, কারিগরী দিক থেকে নানারকম অগ্রগতি নজর কেড়েছে। সব মিলিয়ে ২০১২ সালেবাংলা চলচ্চিত্রের সামগ্রিক অবস্থা কি তা জানার জন্য পেছনে ফিরে দেখা যেতে পারে।

ঠাকুরগাঁও-এ বাচ্চাকাচ্চারা



কোন এক অজানা কারনে নতুন কোন এলাকায় গেলে বড় মানুষ নয় বরং বাচ্চা-কাচ্চার সাথে খাতির হয়ে যায়। শীতবস্ত্র বিররণ শেষে অফিসের কাজে এসেছি ঠাকুরগাওঁ এ। সবাই যখন ব্যস্ত তখন একটু একটু করে খাতির হয়ে গেল কাছেই মার্বেল খেলছিল কিছু বাচ্চার সাথে। তাদের তিনটি মেয়ে, দুটি ছেলে। এদের কল্যানেই প্রায় পনেরো বছর বাদে আজ প্রায় আধাঘন্টা মার্বেল খেলা হল।

ছবির মানুষগুলোর সাথে পরিচয় করিয়ে দিই। সবার বামে আছে রিক্তা। সবার ডানে আনারুল, রিক্তার বড় ভাই। আনারুল ক্লাস ফাইভে পড়ছে, রিক্তা ফোরে। রিক্তার পাশে পিচ্চি মেয়ের নাম জেসিয়া, পেছনে আছে আরশাদ। আরশাদ এক স্কুলে ক্লাস থ্রি পর্যন্ত পড়েছিল কিন্তু বর্ণমালা মুখস্ত পারে না বলে আবার ক্লাস ওয়ানে ভর্তি হতে হয়েছে। আগামী বছর কোন ক্লাসে পড়বে, আদৌ পড়বে কিনা সেটা আরশাদ জানে না। আরশাদের পাশে আছে সাগর, সে ক্লাস ফোরে পড়ে। দারুন ভদ্রলোক। তার মনও অনেক ভালো, এই সার্টিফায়েড বাই রিক্তা। কানটুপি পড়া পিচ্চির নাম যোবায়ের, এদের মধ্যে সম্ভবত তাদের পরিবারই একটু স্বচ্ছল, তার বাবার একটি ফটো স্টুডিও আছে। রিক্তার বাবা কৃষক আর আরশাদের বাবা রিকশাচালক। ছবিতে নেই পিয়া। এদের মধ্যে সবচে লম্বা, সবচে সুন্দর ক্লাস ফোর-এ পড়ুয়া এই পিয়া।

ছবি তোলার গল্পটা বলি। মার্বেল খেলায় আরশাদকে 'খাটতে' পাঠানো হয়েছে। প্রতি মুহূর্তে সে এর বাড়ির পাশ দিয়ে, ও বাড়ির পেছন দিয়ে দূরে যাচ্ছে 'খাটার জন্য'। তাকে খাটতে বাধ্য করছি আমি, রিক্তা ও সাগর। হঠাৎ-ই তাদের একটা ছবি তুলে দেবো কিনা সেটা জানতে চাইল সাগর। রামি রাজী হতেই রিক্তার আবদার - সরিষা খেতে তুলে দেবো? খেলা শেষ করে আমরা সাতজন পাচমিনিটের পথ হেটে সরিষা খেতে গেলাম এবং প্রায় পঁচিশটি ছবি তোলা হল। বেশীরভাগই সিঙ্গল।

এদের সাথে আলাপ পরিচয় সব মিলিয়ে চার-পাঁচ ঘন্টার। এদের কেউ আমাকে ডাকে আঙ্কেল, কেউ ভাইয়া। পনেরো টাকা দিয়ে চুলের কলপ কিনে মাথায় লাগানোর পরামর্শ দিয়েছে সাগর। মার্বেল খেলায় আমার গাইড হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে রিক্তা ও আরশাদ। ছবি তোলার পর হাতের ও মাথার ফুলগুলো আমাকে গিফট হিসেবে দিয়েছে রিক্তা ও জেসিয়া।

সন্ধ্যার সময় ফিরে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছি, অন্ধকারের মধ্যে কোত্থেকে যেন আরশাদ দৌড়ে এসে হাতের মুঠোয়ে একটা কাগজের ঠোঙায় কিছু গুজে দেয়ার চেষ্টা করল। 'কি এইটা?'
'পিয়াজি! নেন।'

শনিবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০১২

তিনবিঘা করিডোরে



ছিটমহল, তিনবিঘা করিডোর আর দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা শব্দতিনটির সাথে পরিচয় অনেকদিন হল। তাত্ত্বিক জ্ঞান ছাড়া আর কিছুই না সেগুলো। আজ স্বচক্ষে দেখা হল। ম্যাপটা খেয়াল করুন, তাহলেই বুঝতে পারবেন। ছবির ডান দিকে সরু বর্ডার রেখার ডানে বাংলাদেশ, এবং বামে ভারত। আবার ছবির বামদিকে সরু বর্ডার রেখার বামে বাংলাদেশ (দহগ্রাম ছিটমহল) এবং ডানে ভারত। মাঝের এই অংশটুকু ভারতের জমি। ছিটমহলের মানুষজন নানারকম সমস্যার মধ্যে বাস করতো, আপনাদের জানার কথা। বিশেষ করে, নির্দিষ্ট সময় ছাড়া বাংলাদেশের মূল ভূখন্ডে প্রবেশের অনুমতি ছিল না। এখন ২৪ ঘন্টাই যাতায়াত করা যায়।

দুই বর্ডার রেখার মাঝে আয়তাকার গ্রে অংশটুকু বাংলাদেশের লিজ নেয়া জমি। এই রাস্তা দিয়েই ভারতের জমির উপর দিয়ে বাংলাদেশে পৌছানো হয়। এই লিজকৃত জমির পরিমান সাড়ে সাত বিঘা। এই অংশটুকুকেই তিনবিঘা করিডোর বলা হয়। এই আয়তাকার অংশে বিজিবি এবং বিএসএফ দুই পক্ষেরই প্রহরা থাকে। 


দহগ্রাম আঙ্গরপোতা অংশের আয়তন ৩৫ বর্গ কিলোমিটার। প্রচন্ডরকম দরিদ্র সব মানুষ বাস করে ওই অংশে। তাদের নিজেদের জমি নাই, আয় উপার্জনের জন্য অন্যের জমিতে কামলা খাটা ছাড়া অন্য উপায় নাই, শিক্ষা নাই, চিকিৎসা নাই। এরশাদ সরকারের সময় দারুন একটা হাসপাতাল বানানো হয়েছিল, চমৎকার দেখতে সেই হাসপাতালে কোন ডাক্তার নাই, থাকে না। সম্ভবত কোন এনজিও-র স্বাস্থ্যসেবাও নেই। সম্ভবত এ কারণেই এখানে মৃত্যুহার বেশী। এক বৃদ্ধমহিলাকে পাওয়া গেল, তার আটটি ছেলে মেয়ে ছিল, কিন্তু এখন একজনও বেচে নেই, আরেকজনের ছয়টি ছিল, এখন দুটি আছে। অদ্ভুত জীবন!


অদ্ভুত একটা বিষয়। দারুন রোমাঞ্চিত :)

বৃহস্পতিবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০১২

গুড বাই দাদু বট!


রংপুর কাছারি এলাকায় (কোর্ট বিল্ডিং) এই গাছটির মৃত্যু ঘন্টা বেজে গেছে। বিশালাকৃতির এই গাছের বয়স কত আমার জানা নাই, তবে এরকম আরও বিশাল বিশাল গাছে ঢাকা ছিল চত্বরটা। সবগুলো গাছই কেটে ফেলা হচ্ছে, খুব শীঘ্রই সেখানে গড়ে উঠবে বিশাল কোন দালান। গুড বাই দাদু বট!

বুধবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০১২

ফেসবুক যখন সোনার ডিম পারা হাঁস


(ইহা একটি অলস মস্তিস্কের কল্পনাপ্রসূত স্ট্যাটাস)এক দরিদ্র লোক, তার নাম হাসু। তার ছিল এক হাঁস। সেই হাঁস দৈনিক একটা করে সোনার ডিম দিত। সেই ডিম বিক্রি করে লোকটা আস্তে আস্তে দারিদ্র্য অবস্থা থেকে উঠে আসতে লাগল। প্রথম প্রথম বাজারের মনু মিয়ার দোকানে হাঁসের ডিমটি বিক্রি করতো। মনু মিয়ার দোকানে কাস্টমাররা আগে থেকেই বুকিং দিয়ে রাখতো সেই একমাত্র ডিমটির জন্য। এই দেখে মনু মিয়ার প্রতিদ্বন্দ্বি সুরুজ মিয়া হাসু মিয়ার বাড়িতে বেড়াতে আসলো। তারপর ইনিয়ে বিনিয়ে বলল হাসু মিয়া যদি ডিমটা সুরুজ মিয়ারে দেয়, তাহলে সে এক পার্সেন্ট বেশী করে দাম দিতে পারে। হাসু মিয়া রাজী হল, মনু মিয়ার বদলে ডিম যেতে লাগল সুরুজ মিয়ার দোকানে।
তারপর একদিন সুরুজ মিয়া একজন লোককে নিয়ে এল হাসু মিয়ার বাড়ি। সে হাঁসটা দেখতে চায়। হাসু হাঁস দেখালো। পরের দিন দুটো লোক এল দেখতে। হাসু তাদেরও দেখালো। তৃতীয় দিন এল পাঁচটা লোক। হাসু তাদেরও দেখালো। চতুর্থদিন হাসু প্রতি দর্শনার্থীর জন্য দশ টাকার টিকেট তৈরী করলো। তারপর সেই টিকেট বেচা টাকা দিয়ে একটা সুন্দর হাঁসের ঘর তৈরী করল। কিন্তু তারপরও নানা সমস্যা হতে লাগল। এত লোককে জায়গা দেয়া যাচ্ছিল না। তাই হাসু একদিন তার ফার্মের মালিকানা পাবলিক করে দিল। শেয়ারহোল্ডারদের টাকায় বিশাল এলাকা জুড়ে তার হাসের বাড়ি বানালো, দর্শনার্থীদের প্রবেশের জন্য গেট তৈরী করল, টিকেট কাউন্টার বানালো। দলে দলে দর্শনার্থীদের সংখ্যা বাড়তে লাগল।
কিন্তু শেয়ারহোল্ডাররা সন্তুষ্ট হতে পারছিল না। তারা বললো, আরও টাকা চাই। ইনভেস্টমেন্টের তুলনায় রিটার্ন কম হয়ে যাচ্ছে। নানা রকম পরামর্শ আসতে লাগল। শেষ পর্যন্ত কৃত্রিম উপায়ে সোনার ডিম পারা হাঁসের ক্লোন তৈরী করার সিদ্ধান্ত নিল হাসু। কিন্তু আরও সোনার ডিম পারা হাঁস তৈরীর জন্য এই হাসের মধ্যে কিছু পরিবর্তন আনার দরকার ছিল। হাসু সাহস করে তার সোনার ডিম পারা হাঁসকে নিয়ে থিয়েটার টেবিলে গেল।
হাসুর গল্প এখানেই শেষ। কারণ পাশের গ্রামের মুক্তারের মুরগীর বাথরুমের সাথে ডায়মন্ড পাওয়া যাচ্ছিল। দর্শক দলে দলে সেদিকে চলে যাচ্ছিল। মুক্তারের ডায়মন্ড মুর্গীর গল্প আরেকদিন বলা যাবে।
খবর:
আয় বাড়াতে আর বিজ্ঞাপনের জন্য বেশি জায়গা বের করতে ফেসবুকের টাইমলাইন আবারও নতুন করে সাজাতে পারে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি টাইমলাইনে পরিবর্তন আনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ফেসবুক। জানা গেছে, ব্যবহারকারীর কভার ফটো, নেভিগেশন পদ্ধতিসহ বেশ কিছু ফিচারে পরিবর্তন আনছে ফেসবুক। এ প্রসঙ্গে ফেসবুকের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, নতুন টাইমলাইন ফিচারটি পরীক্ষা করে দেখছে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ। নতুন ফেসবুক টাইমলাইনে ভিন্নরূপে আবারও ফিরে আসছে ট্যাব। এ ছাড়া কভার ফটোর সঙ্গে থাকবে ব্যবহারকারীর পরিচয় ও প্রোফাইল ছবি। প্রোফাইলের ওপরে সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা দেখানো হবে।
ফেসবুক ব্যবহার না করলেও ফেসবুকের কোনো ক্ষতি নেই। কারণ, যাঁরা ফেসবুক ব্যবহার ছেড়ে দেবেন, তাঁদের কাছ থেকেও অর্থ আয় করার পথ বের করেছে ফেসবুক। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে থার্ড পার্টির অ্যাপ্লিকেশন প্ল্যাটফর্মে বিজ্ঞাপন কৌশল পরীক্ষা করেছে ফেসবুক। ব্যবহারকারীর তথ্যের বিনিময়ে অর্থ আয় করার কৌশল নিতে পারে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ।
২০১৩ সালের মার্চ থেকে ফেসবুকে ভিডিও বিজ্ঞাপন চালু হতে পারে। ফেসবুকের নিউজ ফিডে ব্যবহারকারী না চাইলেও দেখতেই হবে ১৫ সেকেন্ডের বাধ্যতামূলক বিজ্ঞাপন। (সূত্র: প্রথম আলো)

রবিবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০১২

শরীর দেখিয়েরা!

বছর চারেক আগের কথা। আমার কয়েকটা রুম পরে থাকেন এক বড় ভাই তার বন্ধুকে নিয়ে আমাদের রুমে এলেন। বন্ধুটি মাংসের বস্তা। টাইট টি-শার্ট ভেদ করে তার পেশীগুলি কিলবিল করতেসে। বড় ভাই গর্বের সাথে পরিচয় করিয়ে দিলেন - এ আমার বন্ধু, বসুন্ধরা গোল্ড জিমের ইন্সট্রাকটর, ন্যাশনাল বডি বিল্ডিং এ পরপর দুইবার সিলভার এবং পরপর তিনবার গোল্ড বিজয়ী, এখনো চ্যাম্পিয়ন! বডি বিল্ডার বলতে চিনি আর্নল্ড শোয়ার্জনেগার। আমি দুবলা মানুষ, বডি বিল্ডিং এ আগ্রহ নাই। তার মাংস দেখে কিছু বলার ছিল না

শুক্রবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০১২

'চোরাবালি' থেকে মুক্তি

184405_308139955962535_1939020046_n

১৯৭৩ সালে রাজ্জাক অভিনীত 'রংবাজ' সিনেমার মাধ্যমে বাংলাদেশী চলচ্চিত্রে সামাজিক অ্যাকশন সিনেমার যাত্রা শুরু হয় এবং ক্রমান্বয়ে দেশীয় চলচ্চিত্রে প্রধান ধারা হিসেবে জায়গা করে নেয়। গত এক থেকে দেড় দশকের সামাজিক অ্যাকশন সিনেমাগুলোর মধ্যে একটি নির্দিষ্ট ছক লক্ষ্য করা যায়। গতানুগতিক কাহিনি, গৎবাধা সংলাপ আর সামঞ্জস্যহীন দৃশ্যের সমন্বয়ে যে সামাজিক অ্যাকশন সিনেমা নির্মিত হয় তা একটি নির্দিষ্ট শ্রেণীর দর্শক ছাড়া অন্যদের চাহিদা মেটাতে অক্ষম এবং তা বাংলাদেশী চলচ্চিত্রের মধ্যেকার চোরাবালিকেই ইঙ্গিত করে। টিভি নাটকের জনপ্রিয় নির্মাতা রেদোয়ান রনি নির্মিত সিনেমা 'চোরাবালি' সামাজিক অ্যাকশন সিনেমার বিদ্যমান চোরাবালি থেকে বেরিয়ে আসবে এই প্রত্যাশা থেকে বঞ্চিত দর্শকশ্রেণীর আগ্রহভরে অপেক্ষা করেছে। 'চোরাবালি'র মুক্তি সেই অপেক্ষা থেকে মুক্তি দিল।

ক্রিকেটারদের নিলাম

বাচ্চাকালে একটা বই পড়ে মন কাঁদো কাঁদো হয়ে গিয়েছিল। বইয়ের নাম - আঙ্কেল টমস কেবিন। আমি পড়েছি অনুবাদ। 'টম কাকুর কুটির' নামে একই বইয়ের একটা অনুবাদও পাওয়া যেত অনেক আগে।

হ্যারিয়েট বিচার স্টো নামের এক ভদ্রমহিলা বইটি লিখেছিলেন। তিনি যে একজন ভদ্রমহিলা সেটা জানার পর আমি খুব অবাক হয়েছিলাম - একজন মহিলা এরকম দারুন একটা বই লিখেছেন! বলা বাহুল্য, মহিলারাও যে সাহিত্যচর্চা করে সেটা সেই বয়সে আমার ধারনায় ছিল না। বইয়ের মূল চরিত্র টম একজন নিগ্রো। ধর্মভীরু এই টম কিভাবে শুধু নিগ্রো হবার কারনে এক মালিক থেকে অন্য মালিকে হাত বদল হয়ে ঘুরল, তার আনন্দ, বেদনা ইত্যাদি দারুনভাবে ফুটে উঠেছিল বইয়ে। বলা যেতে পারে, সেই প্রথম জানা গেল - দাস প্রথা বলে নিষ্ঠুর একটা প্রথা ছিল পৃথিবীতে, একজন মানুষকে আরেকজন মানুষের গোলাম হয়ে থাকতে হত। পরবর্তীতে দাসপ্রথার উচ্ছেদকারী হিসেবে আব্রাহাম লিংকনের নাম মুখস্ত করতে হয়েছে।

আজকে দুপুরে খেতে বসে দেখলাম হাজার থেকে লাখ ডলারে বিক্রি হচ্ছেন ক্রিকেটাররা। কি অদ্ভুত ব্যাপার। চোখের সামনে 'আঙ্কেল টম'রা বিক্রি হতে লাগল - ফর্টি থাউজেন্ড ওয়ান, ফর্টি থাউজেন্ড টুআইস, ফর্টি থাউজেন্ড থ্রাইস। ইউ শিওর? ফর্টি থাউজেন্ড ডলার - সোল্ড। কর্পোরেট স্লেভারি কি একেই বলে?

অপ্রাসঙ্গিক খবর: পদ্মা সেতুর জন্য সরকারের তহবিলে জমা হয়েছে এক লক্ষ ষোল হাজার টাকা, যার মধ্যে বাংলাদেশীরা জমা দিয়েছেন চৌত্রিশ হাজার টাকা।

বুধবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০১২

ঢাকায় মেট্রোরেল!

উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ২০.১ কিলোমিটার দুরত্বে মেট্রোরেল চলবে। প্রতি ঘন্টায় ৬০ হাজার লোক যাতায়াত করতে পারবে মেট্রোরেলে, ভাড়া হবে সর্বনিম্ন ১০ টাকা, সর্বোচ্চ ৬০ টাকা।
দারুন অবিশ্বাস্য একটা খবর। যারা মতিঝিলে অফিস করেন, তারা উত্তরার দিকে জায়গা জমি কিনতে পারেন, অথবা ফ্ল্যাট। মেট্রো রেলে আপনার সময় লাগবে মিনিট বিশেক, সেই তুলনায় ৬০ টাকা খুব কম টাকা। যেখানে আপনার দৈনিক ৫ ঘন্টা সময় লাগতো, সেখানে বেচে যাওয়া ৪ ঘন্টা ২০ মিনিটে আপনি কামাতে পারবেন যাতায়াত ভাড়ার কমপক্ষে পাঁচগুন। স্কুল কলেজের বাচ্চারা পড়াশোনার বাহিরে আরও দুটো কো-কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিতে যোগ দিতে পারবে, সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ তৈরী গতিময় হবে নিশ্চিত।
তবে, এজন্য আপনাকে অপেক্ষা করতে হবে আরও ১২ বছর। বারো বছর পরে ঢাকা শহরের সীমানা উত্তরায় সীমাবদ্ধ থাকবে কিনা, মতিঝিল এলাকায় আরও অফিস দালানকোঠা বাড়ার সুযোগ-প্রয়োজন আছে কিনা, বারো বছর পরেও আজকের দশটাকার মূল্য দশ টাকা থাকবে কিনা, রাস্তায় গাড়ির সংখ্যা বর্তমান সংখ্যায় সীমাবদ্ধ থাকবে কিনা ইত্যাদি ইত্যাদি এই মেট্রো রেল প্রকল্প গ্রহনের সময় বিবেচনা করা হয়েছে কিনা সেটা প্রশ্নসাপেক্ষ।
২০২৪ সালে মতিঝিলের জন্য মেট্রোরেল না, ছাদে ছাদে হেলিপ্যাড দরকার। সকালবেলা আপনার উত্তরার বাড়ির ছাদে উঠে বলবেন, এই হেলিকপ্টার, মতিঝিল যাবা?

কম্যুনিস্টকে রিকশাওয়ালা

ছেলেটার হাতে একটা বাঁশ, তার মাথায় হাতুরি-কাস্তে আকা একটা লাল পতাকা। মোটরযানগুলোকে একাই আটকে ঘুরিয়ে দিচ্ছিল সে - 'আজ হরতাল, চলে যান'।

রিকশায় করে এক ভদ্রলোক যাচ্ছিলেন। বললেন, 'ইসলামি দল নিষিদ্ধ করার দরকার কি? রাজাকার দূর করার জন্য হরতাল দেন, থাকবো আপনাদের সাথে।'

রিকশাটা চলে যাচ্ছিল, ছেলেটা একটু জোরে বলল - 'আসেন, আসেন না আমাদের সাথে।'

রিকশাওয়ালা, তার মুখ ভর্তি দাড়ি, রিকশা চালাতে চালাতেই মুখ ঘুরিয়ে চিৎকার করে বলল, 'কম্যুনিস্টদের লগে আমু না, ওরা মুসলমান না!'

রিকশার আরোহী 'না না এইটা তুমি ঠিক বললা না...' বোঝাতে লাগল।

শৈত্য প্রবাহ থেকে বাঁচতে আমি চাদরটা জড়িয়ে তাড়াতাড়ি পা চালালাম। দশটা বেজে গেছে পাঁচ মিনিট আগেই, দেরী করা যাবে না, অফিস পৌছাতে হবে।

সোমবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০১২

বিজ্ঞাপনের প্রভাব

মেয়েটা একটা জামা পছন্দ করে তার বান্ধবীকে দেখালো - 'এটা?'
বান্ধবী: তুই তো সবসময় ফুলহাতা পড়িস, এবার নাহয় .....

ফেয়ার অ্যান্ড লাভলীর অ্যাড। লোশন বিক্রয়ের জন্য স্লীভলেস জামা, ভিট বিক্রয়ের জন্য স্কার্ট ইত্যাদির বিজ্ঞাপণ, বডিস্প্রে বিক্রয়ের জন্য কামুক নারী পুরুষ। কে বলে বিজ্ঞাপন আমাদের জীবনকে প্রভাবিত করে না?

রবিবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০১২

বিজয় দিবসে হিন্দী গান

বিজয় দিবসে যে হিন্দী গান বাজায়, বিজয় দিবস তার জন্য নয় - তার জন্য এটি 'সেলিব্রেশন ডে'।
নির্বোধ সেই লোকজন বাদে সকলকে বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা।

শুক্রবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০১২

বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র

সিনেমা নির্মানের শুরুর দিকেই যুদ্ধ নিয়ে সিনেমা নির্মান হলেও প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরে বিশ্ব সিনেমার তালিকায় 'যুদ্ধ ভিত্তিক সিনেমা' (War Films) আসন পাকা করে নিল। গত শতকে পৃথিবীতে যত যুদ্ধ সংগঠিত হয়েছে তার প্রায় সব নিয়েই সিনেমা নির্মিত হয়েছে, এমনকি আরও অতীতের বিভিন্ন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ধরনের কাহিনীতে সিনেমা নির্মিত হয়েছে, হচ্ছে এবং হবে। ১৯৭১ সালে সংগঠিত বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে সিনেমা নির্মান হওয়া তাই স্বাভাবিক এবং হয়েছে। বিজয়ের ৪১ বছরে এসে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে নির্মিত সিনেমাগুলোর দিকে ফিরে তাকানো, আশা প্রত্যাশার হিসেব কষা যেতে পারে।

বুধবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১২

বাংলাদেশে কমিউনিটি ফিল্ম: কি, কেন, কিভাবে

এ বছরের অক্টোবর মাসে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় বাংলাদেশের প্রথম কমিউনিটি ফিল্ম সম্পর্কে নিউজ প্রকাশিত হয়। বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত এই নিউজের সারমর্ম হল - রাজশাহীতে দেশের প্রথম কমিউনিটি ফিল্ম তৈরী হচ্ছে। সিনেমার নাম 'প্রত্যাবর্তন', পরিচালনা করেছেন আহসান কবির লিটন। ছবির মহরত অনুষ্ঠানে কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক উপস্থিত ছিলেন।

মঙ্গলবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১২

A Time to Kill

মেয়েটার নাম তানিয়া। বয়স দশ। দোকান থেকে সামান্য কেনাকাটা করে বাসায় ফিরছিল সে। একাকী। বিশোর্ধ উচ্ছৃঙ্খল দুটো লোক গাড়ি চালিয়ে যাওয়ার সময় দেখল মেয়েটাকে। বিয়ারের ক্যান ছুড়ে মারলো মেয়েটাকে। তারপর তার হাত বাধল, পা বাধল, তারপর নির্যাতন করল তাকে। তারপর রক্তাক্ত মেয়েটাকে গাছের ডালে ঝুলিয়ে দিল। কিন্তু তানিয়ার যন্ত্রনার সমাপ্তি হল না। ডালটা ভেঙ্গে পড়ল। তাই গাড়িতে করে নিয়ে গেল লোকগুলো। তারপর ত্রিশফুট নিচের নদীতে ছুড়ে ফেলল। এই পুরো সময়টায় তানিয়া শুধু তার বাবাকে ডাকল - বাবা! বাবা! বাবা! আপনি যদি হন এই তানিয়ার বাবা, তবে কি করবেন সেই লোকদুটোকে?

শনিবার, ১ ডিসেম্বর, ২০১২

এইডস দিবসের বাণী

১.
আজ বিশ্ব এইডস ডে।
২.
ছোট ভাই আজকে আমার ওয়ালে লিখে গেল -
"হে হে হে!! আজকে যে এইডস দিবস মনেই ছিল না। :D
নিরাপত্তা শুভেচ্ছা দোস্ত। ♥
৩.
২০১০ সালের এই দিনে সামহোয়্যারইনব্লগে একটা পোস্ট লিখেছিলাম। পোস্টটা মুছে দিয়ে আমাকে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছিল। আমি লিখেছিলাম -
এইডস রোধে চাই কন্ডমের ব্যবহার, কন্ডমের ব্যবহারে চাই অবাধ নারীগমন, পুরুষগমন, পায়ুগমন এবং পশুগমনের বৈধতা
বৈধতার প্রথম পর্যায় হলো ডিসেনসিটাইজেশন। সচেতন এবং অবচেতন ভাবে এই ডিসেনসিটাইজেশনের কাজ চলছে। এইডস রোধে যেখানে মূল প্রতিপাদ্য হওয়া উচিত ছিল - "অবৈধ যৌনসংসর্গ পরিহার করা", সেখানে প্রতিপাদ্য হয়েছে, "কন্ডমের ব্যবহারই পারে এইডস প্রতিরোধ করতে"। সাহিত্যিক-নাট্যকার-নির্মাতারা সমাজের বাস্তব চিত্র (!) তুলে ধরতে দেখিয়েছেন অবৈধ সম্পর্ক আর সচেতন এবং সুশীল সম্প্রদায় সকলের অধিকার আদায় করতে গিয়ে দেখিয়েছেন সমকামিতা, পায়ুগামিতার প্রয়োজনীয়তা। বিদ্রুপ করতে গিয়ে আমরা তুলে ধরছি পশুগামিতা। বিদেশী দাতারূপী ব্যবসায়ীরা কোটি টাকার ফান্ড নিয়ে আসছে এই সকল '-গামীতা' রোধে কন্ডম ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে। হুজুর সম্প্রদায়কে কন্ডম ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা বোঝানোর জন্য যে পুস্তিকা প্রকাশিত হচ্ছে তা বিতরন হচ্ছে না-হুজুর সম্প্রদায়ের মাঝে। আবার হুজুর সম্প্রদায়কে দোষী করার জন্য আমরা তুলে ধরছি হুজুর সম্প্রদায়ের নানা কুকীর্তির কথা। বাড়ছে ডিসেনসিটাইজেশন। কন্ডমের উপর নির্ভরশীলতা বাড়বে না তো কি?
এইডস ছড়ানোর সকল রাস্তা খুলে দিয়ে এক কন্ডম দিয়ে আর কতো রোধ করা যাবে?
৪.
অবৈধ যৌনসংসর্গ পরিহার করুন। শুধু এইডস নয়, নানাবিধ শারীরিক ব্যাধি ও মানসিক অশান্তি থেকে নিজে বাচুন, সমাজকে বাচিয়ে রাখুন।
নিরাপত্তা শুভেচ্ছা সবাইকে।

মঙ্গলবার, ২৭ নভেম্বর, ২০১২

দশ ইঞ্চি পিৎজার মত চাঁদ

আজকের আকাশটা দেখেছেন? দশ ইঞ্চি পিৎজার মত দেখতে একটা চাঁদ উঠেছে। সেই চাঁদের মাঝে টুকরো টুকরো গোশত দেখা যায়, আর একটু মেয়োনেজ, দুটো সালাদও বোঝা যায় খেয়াল করে দেখলে। দারুন চেস্টি চাঁদ। উলস্ ;)

শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর, ২০১২

সুভাষ দত্ত-ও চলে গেলেন!

আমার বাসায় টেলিভিশন নেই, খবরের জন্য ফেসবুক-ব্লগ এবং পত্রিকার ওয়েবই ভরসা। কিন্তু খবরটা এলো মোবাইলে - গাজী টেলিভিশনের এক প্রোডিউসার বড় ভাই ফোন করে খবরটা দিলেন - সুভাষ দত্ত মারা গেছেন। আজ সকালে। ১৬ নভেম্বর ২০১২ তারিখে। সকাল সাতটায়।

সুভাষ দত্ত স্যারকে নিয়ে আমার একটাই স্মৃতি। ২০০৮ সালে। বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভে কোর্সের সূচীতে দুজন পরিচালকের সাথে কথোপকথন ছিল। তাদের একজন সুভাষ দত্ত। দশটা থেকে ক্লাস শুরু হয়। আমরা সাড়ে ন'টার মধ্যে চলে আসি। চা খাই, আড্ডাবাজি করি। যিনি ক্লাস নেন তিনিও চলে আসেন, তার সাথেও কথাবার্তা হয়।

সোমবার, ১২ নভেম্বর, ২০১২

খুলে যাওয়া প্যান্ট সংস্কৃতি

তার জিন্স প্যান্ট নিচে নামতে নামতে পাছা বের হয়ে গেছে, দুই পায়ের নিচে ঢুকে গেছে প্যান্ট। আমি অন্তত: তিনবার ডেকে বললাম - 'তোমার প্যান্ট তো খুলে যাচ্ছে! আসো প্যান্ট উপরে তুলে দিই।' সে তিনবারই বলল - "লাবিব করে!" তার মায়ের কাছ থেকে জানা গেল মামাতো ভাই লাবিবও এই কায়দায় প্যান্ট পড়ে। লাবিব টিনএজের শেষপ্রান্তে আর এর বয়স মাত্র দুই !

রবিবার, ১১ নভেম্বর, ২০১২

১০-১১-১২

আল্লাহর ওয়াস্তে আজকের তারিখ সহ স্ট্যাটাস ফটু আপলোড করা বন্ধ করেন। আমার নিউজ ফিডে অন্তত বিশটা পোস্ট আছে এবং আমি আজকে কোনভাবেই ভুলবো না যে আজকের তারিখ এইটা।
পিলিজ লাগে ... বন্ধুগন - পিলিজ লাগে ....

শুক্রবার, ৯ নভেম্বর, ২০১২

Exam: একটি রুমে একটি সিনেমা

এক্সাম নামের ব্রিটিশ থ্রিলার সিনেমাটা আমি দেখেছি কারণ এটা দেখলে সাজিদ নামের এক পিচ্চি (সাইজে নয়, বয়সেও নয় - আমার সাথে বয়সের পার্থক্যে) আমাকে একশ' টাকা দিবে। গত তিন সপ্তাহ ধরে সে আমাকে উত্যক্ত করছে প্রচন্ড রকম। দুটো সিনেমা দেখতেই হবে - একটা এক্সাম, অন্যটা আইডেনটিটি। আমি চার্লি চ্যাপলিন নিয়ে ব্যস্ত, কিন্তু সে সিনেমার ডাউনলোড লিঙ্ক টিঙ্ক দিয়ে আমার ইনবক্স ভর্তি করে ফেলল। ঘ্যান ঘ্যান বন্ধ করতেই ডাউনলোড করে ফেললাম এক্সাম, অন্যটা ডাউনলোড চলছে। দুটো সিনেমা দেখলে দু'শো টাকা। একটা দেখে ফেলেছি, এখন ভালোয় ভালোয় টাকা পেলে সব চুকে বুকে যায়।

শনিবার, ৩ নভেম্বর, ২০১২

মেটাল সাইনের অর্থ

\m/ টা হৈলো মেটাল সাইন। আসল নাম ডেভিল'স হর্ণ। দুইপাশের লাঠি শিং রিপ্রেজেন্ট করে।
মূল আঙ্গুল আঁকা হৈসে। m মানে মাঝের বন্ধ দুই আঙ্গুল।

এই সাইনটার প্রচলক হিসেবে মেটাল ফ্যানদের কাছে পরিচিত রনি জেমস ডিও। তবে অরিজিন্যালি এইটা আসছে ইতালি থেকে। ইতালিয়ানরা এইটা কারও কুদৃষ্টি বা এভিল আই থেকে বাঁচতে বা কারও দিকে দিতে ব্যবহার করত। ডিও এইটা শিখছে ওর গ্র্যান্ডমাদারের কাছে। ওরা ইতালিয়ান ছিলো।

ডিও এই সাইনটা কনসার্টে খুব ইউজ করত। সেই থেকে এইটা মেটাল সাইন হয়ে গেসে। জিনিসটা শয়তানের শিং সিম্বলাইজ করে। মেটাল শুরুর দিকে অনেকখানি ডেথ এন্ড সুইসাইড বেজড কথাবার্তা ইন্সপায়ার করত। আর ধর্মবিরোধী। সেইটা স্যাটানিক। সো ডেভিল'স হর্ণ। আর মেটাল তো সবসময়ই রুড ছিল প্রচলিত ধারা থেকে। তাই শয়তান কে বানিয়ে ফেলা হলো রক আর মেটালের সিম্বল। (কার্টেসি: যায়েদুল হাসান)

২৭ এপ্রিল ২০১৮ তারিখে আপডেট করতে গিয়ে রাইজিংবিডি-তে আরও বিস্তারিত একটা পোস্ট পাওয়া গেল। ছবিটা সেখান থেকেই নেয়া।

মোরগের ডাক

চুপচাপ নিস্তব্ধ পরিবেশ। শেষ রাতের হাওয়া ঠান্ডা এনে দিচ্ছে। গাছের পাতায় জমে থাকা রাতের শিশির বিন্দু টুপটাপ করে টিনের চালে পড়ছে। আশপাশ ফর্সা হয়ে গেছে, সূর্য উঠি উঠি করছে। ফজরের নামাজ শেষে আবার ঘুমানোর জন্য শুয়ে এপাশ ওপাশ করছে ছেলেটা।

একটা পাখি ডাকছে থেমে থেমে। অদ্ভুত তার ডাক - টিউউবব ... টিউউব। শহরে বড় হওয়া ছেলেটা নাম জানে না এই পাখিটার, হয়তো কখনো দেখেও নি। সে ঘুমানোর চষ্টা করতে লাগল।
কুককুরু কুউউউ...

মাথার মধ্যে নানারকম চিন্তাভাবনা ঘুরে ফিরে যাচ্ছে। বিচ্ছিন্ন। এলোমেলো। এই ঢাকার কথা মনে পড়ছে তো এই আম্মার কথা, এই অফিস কলিগের কথা মনে পড়ে যাচ্ছে তো সেই স্কুল বন্ধু। বাসার বেড়ালটার কথাও মনে পড়ে গেল, সাথে সাথে মনে পড়ল কোয়েল পাখিগুলোর কথা, আর খরগোস।
কুককুরু কুউউউ...

পাশের বাড়ির জামাল সাহেবের মোরগটা ডাকছে। মোরগটা বিশাল। গলায় পশম নাই, লাল টকটকে ঝুটি - টার্কির কথা মনে করিয়ে দেয়। প্রচন্ড রকম পুরুষ হাটা চলায় আচার আচরনে। সূর্য উঠার আগেই তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
কুককুরু কুউউউ...

মোরগের ডাকের সাথে বাচ্চাবেলার কথা মনে পড়ে গেল তার। একটা ছবির বই ছিল তার - চীন না রুশ দেশের
রূপকথা। মোরগের সাথে বেড়ালের শত্রুতা কিভাবে তৈরী হল তার গল্প। মোরগ বলত তার মাথার লাল আগুন-রঙা ঝুটিতে আগুন আছে। বেড়ালরা তার কথামত না চললে সেই আগুনে পুড়িয়ে দেবে সব কিছু। একদিন বেড়ালের বাসার আগুন গেল নিভে। বেড়াল ছানা তাই গেল মোরগের কাছ থেকে আগুন চাইতে। ঘুমন্ত মোরগের ঝুটি থেকে চুপি চুপি আগুন ধরিয়ে নিতে চেয়েছিল বেড়াল ছানা। কিন্তু আগুন ধরল না। বেড়াল মা এসে ধরে দেখল আগুনের ঝুটি। ঠান্ডা! মিথ্যে কথা! প্রতারণা! মোরগ হয়ে গেল বেড়ালের শত্রু।
কুককুরু কুউউউ...

কতবার পড়া হয়েছিল এই বইটা? কতবার? একশবার? দুইশবার? পাচশবার? একহাজার? হতে পারে। জামাল সাহেবের মোরগটা ছবির বইয়ের সেই মোরগটার মত কি? সে কি বাড়ির বাউন্ডারি দেয়ালের উঠে তারপর ডাকছে? মোরগের ডাকে একটা ছন্দ টের পাওয়া যাচ্ছে না? ছেলেটা গুনতে শুরু করল - এক ... দুই ... তিন ... চার... পাঁচ ...
কুককুরু কুউউউ...

আবার - এক ... দুই... তিন... চার...পাঁচ...ছয়...সাত...আট...নয়...দশ...এগারো...বারো...তেরো...চোদ্দ...পনেরো
কুককুরু কুউউউ...

পনেরো সেকেন্ড। চার...পাঁচ...ছয়...সাত...আট...নয়...দশ...এগারো...বারো...তেরো...চোদ্দ...পনেরো
কুককুরু কুউউউ...

অদ্ভুত! পনেরো সেকেন্ড পর পর ডাকছে মোরগটা। সকালে মোরগের ডাকে ঘুম ভাঙ্গার কথা অনেক পুরানো। তবে কি মোরগের কাছে আছে কোন ঘড়ি? কোনদেশী ঘড়ি সেটা? চায়না? বাংলাদেশ? নাকি সুইস ওয়াচ?
কুককুরু কুউউউ...

এবার একটু দেরী করে ডাকলো? গুনলে আঠারো পর্যন্ত হয়ে যেত না? ডাকটাও একটু আস্তে মনে হল। মোরগটা কি তবে দেয়াল থেকে নেমে গেল?
কুককুরু কুউউউ...

হুম। অনেক আস্তে শোনা গেল এবারের ডাক। এবার বিশ সেকেন্ড পরে। তারমানে মোরগটা আর এদিকে নেই। চলে যাচ্ছে অন্য কোথাও। অন্য কারও বাড়ির সামনে গিয়ে ডাকবে বোধহয়। ওখানে দাড়িয়ে কি সে পনেরো সেকেন্ড বিরতিতে ডাকবে? কুককুরু কুউউউ... কুককুরু কুউউউ...

ছেলেটার চোখ বন্ধ হয়ে এল।

শুক্রবার, ২ নভেম্বর, ২০১২

হেমলক সোসাইটি

হেমলক-সোসাইটি-পোস্টার

সৃজিত মুখার্জীর প্রথম সিনেমা 'অটোগ্রাফ' নিয়ে লিখেছিলাম, 'রাজনৈতিক' নামে বর্তমানে বিলুপ্ত এক অনলাইন পত্রিকায় সেটা প্রকাশিত হয়েছিল, তার শেষ কথায় বলেছিলাম - সে যা-হোক, এই সামথিং ইজ মিসিং কাহিনীর মধ্যেই অটোগ্রাফ মাধ্যমে কলকাতার সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে সফল পরিচালক হিসেবে শ্রীজিতের যাত্রা শুরু হয়ে গেল। এই যাত্রা অব্যাহত থাকুক এই শুভকামনা। আমার শুভকামনাকে সত্যি করে সৃজিত তার তৃতীয় সিনেমা 'হেমলক সোসাইটি' মুক্তি দিয়েছে এবং তার বাকী দুটো সিনেমার মতই এই সিনেমাটিও বেশ আলোড়ন তুলে ইন্ডাস্ট্রিতে তার শেকড় আরও একটু গভীরে প্রোথিত করেছে।

রবিবার, ২৮ অক্টোবর, ২০১২

Fetih 1453: তুরস্কের গৌরবময় ইতিহাসের ছবি

ফাতিহ তুর্কি শব্দ, এর অর্থ ইংরেজিতে 'কনকোয়েস্ট'। তবে তুর্কির সুলতান মাহমুদের নামের সাথেই 'ফাতিহ' শব্দটি জড়িয়ে আছে, তার নাম উচ্চারন করা হয় - সুলতান মাহমুদ ফাতিহ। ১৪৫৩ সালে টানা ৫৭ দিন অবরোধের পর তুর্কি এই বীরের কনস্টানটিনোপোল (আজকের ইস্তাম্বুল) জয়ের কহিনী নিয়ে তুর্কিরা তৈরী করেছে তাদের সবচেয়ে ব্যয়বহুল এপিক সিনেমা - ফাতিহ ১৪৫৩।

শুক্রবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১২

বাংলাদেশের সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে ‘বাংলা নবজাগরণ’

গত ৫ই অক্টোবর শাহিন-সুমন পরিচালিত ডিজিটাল সিনেমা ‘ভালোবাসার রং’ দেশের প্রায় ৫৩টি হলে একত্রে মুক্তি পেয়েছে। পরের দিনই পত্রিকায় জানা গেল, মুক্তির প্রথম দিনেই ভালোবাসার রং প্রায় পঁচিশ লক্ষ টাকা আয় করেছে যা এখন পর্যন্ত সর্ব্বোচ্চ এবং এর মাধ্যমে সিনেমাটি বিশ বছর আগের ‘বেদের মেয়ে জোছনা’র তৈরীকৃত রেকর্ড ভাঙতে পেরেছে। সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির সাম্প্রতিক অবস্থা একে অস্তিত্বের হুমকী হিসেবে প্রতীয়মান করেছিল। সংকট কাটিয়ে উঠতে পারছি – এ ধরনের সংবাদ আমাদেরকে সেই আশা দেখায়। অবশ্য, এর প্রায় এক সপ্তাহ পরেই কালেরকন্ঠে প্রকাশিত দাউদ রনি-র সিনেমা সমালোচনা থেকে প্রায় কপি পেস্ট করে একই গ্রুপের ওয়েব পত্রিকা বাংলানিউজে এ একটি রিপোর্ট প্রকাশিত হয়, যেখানে প্রশ্ন করা হয় – দৈনিক যদি প্রতিটি সিনেমা হলে ২০০ থেকে ২৫০ জন দর্শক ছবিটি দেখেন তাহলে কিভাবে এত টাকা আয় হয়। এই প্রশ্নের জবাব পাওয়া যেতে পারে অপেক্ষাকৃত কম পরিচিতি নতুন দৈনিক মানবকন্ঠে

সোমবার, ১৫ অক্টোবর, ২০১২

কনফেশান

কনফেশান:

আমি ১৯৯৯/২০০০ সালে রমজান মাসে তারাবীহ নামাজের সময় ঢাকার কলাবাগানস্থ বশিরউদ্দীন রোড জামে মসজিদের দোতালা থেকে একজোড়া বাটার স্যান্ডাল চুরি করেছিলাম। দশ রাকাত শেষ থেকে শুরু করে আঠারো রাকাত পর্যন্ত অপেক্ষা করেছি, উনিশ রাকাতের সিজদায় গেলে টার্গেটকৃত স্যান্ডাল নিয়া বের হয়ে আসছিলাম। ওটাই প্রথম, ওটাই শেষ।

উল্লেখ্য, আমার স্যান্ডাল অন্য কেউ চুরি করেছিল, তাই, সেই মূহুর্তে, চুরি করা ছাড়া আমার অন্য কোন উপায় ছিল না।

শনিবার, ১৩ অক্টোবর, ২০১২

ফিল্ম সেন্সর বোর্ড থাকা না থাকা

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু দায়িত্ব নেয়ার এক মাসের মধ্যেই জানালেন, ফিল্ম সেন্সর বোর্ড থাকছে না। তার বদলে গঠিত হবে ফিল্ম সার্টিফিকেশন বোর্ড। এই সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য ফিল্ম মুক্তি প্রক্রিয়া আরো সহজ করা। ফিল্ম সংক্রান্ত বিভিন্ন সংগঠনের দীর্ঘদিনের দাবি এর মাধ্যমে পূর্ণ হতে যাচ্ছে বলে খবরে বলা হয়েছে।

শনিবার, ৬ অক্টোবর, ২০১২

ভালোবাসার রং

২০১২ সালটা বাংলাদেশী চলচ্চিত্রের জন্য বেশ উল্লেখযোগ্য একটি বছর। এ বছর চলচ্চিত্রকে শিল্প ঘোষনা করা হয়েছে, বাংলাদেশের সিনেমা প্রথমবারের একই সাথে কয়েকটি দেশে মুক্তি পেয়েছে, মধ্যবিত্ত শ্রেনীর দর্শকেরা হলে ফিরতে শুরু করেছে এবং অন্যান্যের মধ্যে, বেসরকারী উদ্যোগে অনেকগুলো সিনেমাহলকে ডিজিটালাইজ করে ডিজিটাল প্রযুক্তিতে নির্মিত সিনেমাকে হলে মুক্তি দেয়া সম্ভব হয়েছে। ২০১২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত যে সিনেমাগুলো বাংলাদেশী চলচ্চিত্রের ইতিহাসে উজ্জ্বল হয়ে থাকবে, তার মধ্যে 'ভালোবাসার রং' অন্যতম। এই সিনেমার মাধ্যমে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জাজ মাল্টিমিডিয়া এবং বাপ্পী ও মাহি নামের দুজন নায়ক নায়িকার অভিষেক ঘটল।

মঙ্গলবার, ২ অক্টোবর, ২০১২

শুভ জন্মদিন গুরু, শুভ জন্মদিন জেমস

 


ফারুক মাহফুজ আনামের জন্ম কবে হয়েছিল জানা নেই, তবে জেমসের জন্ম ১৯৮০ তে, চট্টগ্রামে। গিটারকে ভালো বেসেছিলেন, সেই ভালোবাসার তীব্রতায় পারিবারিক জীবন, শিক্ষাজীবন দুই থেকেই ছিটকে পড়তে হয়েছিল। চট্টগ্রামের পাঠানটুলি রোডের আজিজ বোর্ডিং এর বারো ফুট বাই বারো ফুট একটা ঘরে ক্যাসেট প্লেয়ার আর ক্যাসেটের মাঝে থেকেই তৈরী হত গান, চলতো প্র্যাকটিস। সন্ধ্যার পরে হোটেল আগ্রাবাদের নাইট ক্লাবে ইংরেজি গানের সাথে বাজানো। ব্যান্ডের নাম ফিলিংস।



ছিলো ব্যাচেলর সংসার আমার
আগাছালো জীবন
রাত করে ঘরে ফেরা
বাউন্ডুলে দিনভর



১৯৮৫-৮৬ সালের দিকে চলে আসেন ঢাকায়, গিটারের টানেই, আরও ভালো কিছু করার ইচ্ছা ছিল। ফিলিংস থেকেই ১৯৮৭ সালে বের হয় প্রথম অ্যালবাম, নাম স্টেশন রোড। ১৯৮৮ সালে সলো অ্যালবাম অনন্যা, ১৯৯০ সালে জেল থেকে বলছি, ১৯৯২ সালে সলো পালাবে কোথায়, ১৯৯৫ সালে নগর বাউল, ১৯৯৬ সালে সলো দু:খিনী দু:খ করো না। সাফল্য এসেছে অনন্যা অ্যালবামের মাধ্যমেই, পরিণত কন্ঠস্বর পাওয়া গেল নগর বাউল অ্যালবামের মাধ্যমে। ১৯৯৮ সালে লেইস ফিতা লেইস এর পর ফিলিংস পাল্টে হয়ে গেল নগর বাউল।



যান্ত্রিক শহরে, এখন মাঝরাত পেরিয়ে গেছে
কিছু জেগে থাকা প্রজাপতি আর প্রহরীর হুশিয়ারী
আমি এক নগর বাউল, জেগে আছি বড় একা



একের পর এক সলো বেরিয়েছে। ঠিক আছে বন্ধু, আমি তোমাদেরই লোক, জনতা এক্সপ্রেস, তুফান, কালযমুনা। আর আছে নগরবাউলের অ্যালবাম দুষ্টু ছেলের দল।



চায়ের কাপে ঝড় তুলি
তুড়ি দিয়ে কথা বলি
মোরা সুন্দরী মেয়ে দেখে
বাজাই সিটি
দুষ্টু ছেলের দল, ছন্ন ছাড়ার দল
দে দে তালি, দে তালি



২০০৬ সালে সবাইকে চমক লাগিয়ে এল গ্যাংস্টার সিনেমায় হিন্দী গান - ভিগি ভিগি। তারপর, ও লামহে সিনেমায় চল চলে, লাইফ ইন আ --- মেট্রো সিনেমায় আল বিদা আর রিশতে। এশিয়ান জিম মরিসন - নামে ডাকাও হল। খুব শীঘ্রই আবারও ঝড় তুলবেন ওয়ার্নিং সিনেমায় 'বেবাসী' ট্র্যাকের মাধ্যমে। অপেক্ষা করতে হবে আর অল্প কটা দিন। হিন্দী গান শুধু নয়, বাংলা রক গানেও বিভিন্ন এক্সপেরিমেন্ট চলেছে। রক গানের সাথে অপেরা শিল্পী, বাঁশী আর হারমোনিয়ামের ফিউশন ঘটিয়েছেন।


ভক্তরা যদি তার মত করে হাতা গুটানো পাঞ্জাবী পড়ে, লম্বা চুল রাখে - তবে তিনি অনুপ্রাণিত হন। এই ভক্তদেরকে বন্ধু আর ভাইয়ের মর্যাদা এর আগে বোধহয় কোন শিল্পী দেয় নি। শুধু তার গলাতেই মানায় -



আমি তোমাদেরই লোক, আমি তোমাদেরই ভাই
আমার আর কিছু নাই, কেহ নাই



আজ ২রা অক্টোবর গুরু জেমস এর জন্মদিন। লক্ষ ভক্তের পক্ষ থেকে তার জন্য শুভকামনা। শুভ জন্মদিন গুরু, শুভ জন্মদিন জেমস।




গুরু জেমসকে নিয়ে আরও পড়ুন:


‘গুরু’ জেমস নিয়ে কয়েক ছত্র …


জ্বলে ওঠার দরকার নেই গুরু





বৃহস্পতিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১২

মার্সেনারী সোলজার

: ভাইজান ভালো আছেন?
: নারে ভাই।
: কি হ্ইছে?
: আমি মনে হয় পুরা পাগল হয়ে যাবো, পাগলামীর কারনে চাকরি থেকে বাদ দিয়া দিতে পারে।
: সেই ভালো
: মানে?
: পাগল অবস্থায় ডিউটি পালন করা সমস্যা, পাগলামির স্বাদ পুরা নেয়া যায় না
: ফাইজলামি করেন?
: যদি চাকরীর জন্য পাগল হতে সমস্যা হয়, তাহলে আগেই ছাইড়া দেন, তারপর সময় নিয়ে ভেবে চিন্তে ধীরে সুস্থ্যে পাগল হন।
: আমি কিন্তু ফাইজলামি করিনা
: অ্যা?
: অ্যা না হ্যা। আমি জানি আমার মেন্টাল অবস্থা কই যাইতেসে
: বিশাল ব্যাপার
: কি?
: এই জিনিস খুব কম লোকেই পারে। ডেস্টিনেশন যেহেতু জানেন, তাহলে রিসেপশনের ব্যবস্থা করেন।
: কিসের?
: একটা গ্র্যান্ড রিসেপশন মাস্ট বি এনশিওরড। ডেস্টিনেশন কত দূরে আছে, কত সময় লাগবে ইত্যাদি বিবেচনা করে আয়োজন শুরু করে দেন।
: ফান করেন? আমি প্রচুর ফাইট করতেসি ইন্টারনালি। আমি বুঝতেসিনা কি করব, আমার কোন উন্নতি নাই অবস্থার, কিছুতেই কিছু হয়না, কিছু শিখি না
: অ্যামো ওয়েপন্স আছে যথেষ্ট?
: অ্যামো? ওয়েপন্স?
: সাপ্লাই দেয়া লাগবে?
: নাই, সাপ্লাই দিয়া কাজ হবেনা হয়ত, বিশাল অপনেন্ট, আমার কেউ নাই, এনিটাইম অ্যামবুশ করলেই আমি শেষ
: আজিব! তাহলে অ্যামবুশের জন্য বৈসা আছৈন ক্যান?
: কি করবো?
: স্যারেন্ডার করেন। শর্তসাপেক্ষে সারেন্ডার করবেন। জেনেভা কনভেনশন সম্পর্কে পড়াশোনা করে নিতে পারেন।
: এইসবে কি কন? সারেন্ডার করলে কি হবে, আমি ভাঙ্গি তবু মচকাইনা
: অ। তাহলে শহীদ হয়ে যান।
: হুম।
: মাঝখানে ঝুইলা থাকার কি দরকার
: ফাইটিং করতেছি, ঝুইলা নাই।
: লোকবল লাগবে? মার্সেনারী সোলজার পাঠাবো?
: সেইটা কি?
: ভাড়াটে সৈন্য।
: অ।
: একা একা লড়াই করতেসেন, আরেকজন পাঠায়া দিই।
: কারে পাঠাবেন?
: যারে দিয়া হবে। বুকে বুক মিলায়া ফাইট করবে।
: বুকে বুক না, পিঠে পিঠ লাগায়া।
: ঠিকই আছে, যে যুদ্ধের যে নিয়ম।
: কাউরে দিয়া হবে না।
: হবে। দুইজনে ফাইট করলে লাভ আছে। রিলোড টিলোড করে দিতে পারবে, চাই কি দুইটা গুলিও করলো যদি দরকার হয়।
: কি বলেন এ্ইসব?
: গুলি টুলি লাগলে সেবাও।
: আমি কাউরে চিনি না।
: সমস্যা না। ফাইট করতে করতে চিনবেন।
: তাও ঠিক।
: বিবিএ এম্বিয়ে হবে?
: এই যুদ্ধে তারা কেন? এই যুদ্ধ তো মানসিক বিকারগ্রস্থতার। মনোবিজ্ঞানী হইলে পারত। কাউন্সেলর টাইপ কিছু।
: তাহলে মনোবিজ্ঞানের স্টুডেন্ট লাগবে?
: হবে না। আমার বন্ধু যারা সাইকলজিতে তারা নিজেরাই এক একটা সাইকো। কথা বলতে সাহস হয় না।
: তার মানে সোলজারও হবে, নার্সও হবে তাই তো? সমস্যা নাই নার্স সোলজার পাওয়া যাবে।
: নার্স? নার্স কেন? নার্স হইলে পালায়া যাবো।
: যুদ্ধক্ষেত্রে আছেন, পালাবেন কই?
: তাও ঠিক। কিন্তু আপনার ব্যাপারটা কি?
: আমার আবার কি ব্যাপার?
: মার্সেনারী সোলজার দিয়া বেড়াচ্ছেন?
: কাউরে না কাউরে তো করতেই হবে তাই না? তার দরকার এমপ্লয়ার, আপনার মার্সেনারি, মাঝে আমি ম্যাচমেকার।
: হুম।
: ছবিসহ একটা বায়ো পাঠাবো ভাই?

মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১২

না ফুরানো কথা

: কথা ফুরিয়েছে। ভালো থাকবেন।
: ফুরায় নি। অনেকের সাথে একসাথে কথা বললে যা হয় আরকি
: চালিয়ে যান। পরে আরেকদিন নাহয় অন্যরা এসে পড়ার আগেই আমরা অনেক কথা বলে ফেলবো"

শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১২

চুমু সংক্রান্ত বাণী

আকাশে চুমু ছুড়লে তার অধিকার সবার, জানেন তো? প্রাইভেট জিনিস প্রাইভেটে দেয়াই ভালো।
বহুদিন পর একটা বাণী দিতে পেরে আহ্লাদিত বোধ করছি :)

বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১২

বাংলাদেশী সিনেমার অভিনেতাদেরকে 'ট্যাগ' করা প্রসঙ্গে

বাংলাদেশী সিনেমার অভিনেতারা তাদের নিজ নাম ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের নামে পরিচিত হন। এদের মধ্যে শাকিব খান সম্ভবত সবচে বেশী পরিচিত। মাত্র চারটে সিনেমায় অভিনয় করে অনন্তও বর্তমানে 'অনন্তা' হিসেবে ট্যাগড হচ্ছেন। হাবিবউল্যাহ নামে একজন বাংলা সিনেমাপ্রেমী ব্লগার যিনি বর্তমানে প্রবাসী তার এই ট্যাগিঙ সংস্কৃতি সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছেন - জনপ্রিয় অভিনেতা সালমান শাহ যদি এতদিন বেচে থাকতেন তবে তিনিও 'লেডিস শাহ' নামে পরিচিত হয়ে যেতেন তিনি তার এ মন্তব্যের ব্যাখ্যাও করেছেন যার সাথে দ্বিমত পোষন করে বিভিন্ন রকম মতামত অন্যান্য ব্লগাররা জানিয়েছেন, তারা বাংলাদেশী সিনেমা সংক্রান্ত নানাবিধ সমস্যা তুলে ধরেছেন। দর্শকের ট্যাগিং প্রবণতার কারণ চিহ্নিত করতে পারলে উত্তর পাওয়া সহজতর হবে - এমনটা বিশ্বাস করি। এক্ষেত্রে প্রধান প্রশ্ন হল, দর্শক কেন বাংলা সিনেমার নায়কদের বিভিন্ন ট্যাগে ভূষিত (!) করেন এবং কেন করেন না? মূলত, এই পোস্টে বাংলাদেশী সিনেমার অভিনেতাদের ট্যাগ করার কারণ খুজে বের করার চেষ্টা করা হয়েছে। উল্লেখ্য, সালমান শাহ সম্পর্কে প্রায় একই রকম মন্তব্য পূর্বের একটি পোস্টে করেছিলাম। প্রয়োজনে সেই পোস্টটিও পড়ে নেয়া যেতে পারে।

রবিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১২

ইনোসেন্স অব মুসলিমস - ছবির জবাব যে সিনেমা

Innocence of Muslim নামের চরম মিথ্যা, বিদ্বেষমূলক সিনেমার জবাব হতে পারে ১৯৭৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত সিরিয়ান পরিচালক Mostafa Al Akkad পরিচালিত সিনেমা 'দ্য মেসেজ'।

মুভিতে নবীজি হযরত মুহাম্মদ (স) এর ইসলাম প্রচারের খন্ড খন্ড চিত্র বর্নিত হয়েছে। নবুয়্যত লাভের পর মক্কার প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ইসলাম প্রচার, অত্যাচারিত হওয়া, পরবর্তীতে মদীনায় হিজরত এবং মক্কা বিজয় – এ সকল বিষয় ফুটে উঠেছে সিনেমাটিতে। এ ছাড়াও ইসলামের ইতিহাসে বিখ্যাত বদরের যুদ্ধ এবং ওহুদের যুদ্ধ দেখানো হয়েছে মুভিতে। সিনেমার কাহিনী এগিয়েছে ঐতিহাসিক চরিত্র হযরত হামযা (রা) যিনি নবীজি (স) এর চাচা ছিলেন, মক্কার কুরাইশদের নেতা আবু সুফিয়ান এবং হামযার কলিজা ভক্ষনকারী হিন্দার বর্ননা অনুসারে। হামজা চরিত্রে Anthony Quinn যিনি এর পূর্বে সেরা পার্শ্বচরিত্রে অভিনয়ের জন্য দুবার অস্কার পুরস্কার জিতে নিয়েছেন। এই তিন চরিত্র ছাড়াও ইসলামের প্রথম মুয়াজ্জিন হযরত বিলাল (রা), হযরত জায়েদ (রা), খালিদ বিন ওয়ালিদ, চাচা আবু তালিব এবং আবু লাহাবের চরিত্র উঠে এসেছে।

পুরো সিনেমায় হযরত মুহাম্মদ (স) কিংবা খিলাফাতে রাশেদার চার খলিফাকে জনগনের সামনে প্রকাশ করা হয় নি। তাদের চরিত্র অন্য কোন মানুষ উপস্থাপন করতে পারেন না, তাদের গুনাবলী অন্যান্য সাধারন মানুষদের পক্ষে তুলে ধরা সম্ভব নয়। তবে তাদেরকে উপেক্ষা করে তো আর কাহিনী এগিয়ে নেয়া সম্ভব নয়, তাই বুদ্ধিমত্তার সাথে তুলে ধরা হয়েছে তাদের কার্যাবলী। নবীজি (স) এর বাকানো লাঠি আর কোথাও কোথাও উটনীর মাধ্যমে তাঁকে প্রকাশ করা হয়েছে, কখনোও ক্যামেরাকেই নবীজি (স) হিসেবে প্রকাশ করা হয়েছে তবে তার কন্ঠ কিংবা শরীরের কোন অংশ প্রকাশ করা হয় নি। বদর কিংবা ওহুদ যুদ্ধে মূল নেতৃত্ব নবীজি (স) দিলেও সিনেমায় তার পালিত পুত্র হযরত যায়েদ (আ) কে নেতৃত্বের আসনে দেখানো হয়েছে, যিনি নবীজি (স) এর নির্দেশানুসারে নেতৃত্ব দিয়েছেন। আবার হযরত আলী (রা) কে প্রকাশ করার জন্য তার দুমাথার তরবারী যুলফিকারকে দেখানো হয়েছে।

কি পরিমান সংগ্রাম,ত্যাগ তিতিক্ষা, অত্যাচার-নির্যাতনের মধ্য দিয়ে প্রিয় রাসূল (স) তার দাওয়াহ মিশন বাস্তবায়ন করেছিলেন তা আর কোন সিনেমায় এত বাস্তবভাবে উঠে আসে নি। রাসূল (স) এর জীবন সম্পর্কে জেনে নেয়ার জন্য এই সিনেমাটি ছোট্ট ভূমিকা পালন করতে পারে। সিনেমাটির ডাউনলোড লিংক নিচে দেয়া হল, শেয়ার করার মাধ্যমে সকলকে এই সিনেমাটি দেখতে সাহায্য করুন।

<<<ডিরেক্ট ডাউনলোড>>>
স্টেজভ্যু: http://stagevu.com/video/yomuhvvkprkg
মিডিয়াফায়ার: http://www.mediafire.com/?0gzgjlymmmy
http://www.mediafire.com/?mhzyznzy2mi
http://www.mediafire.com/?m0ly0mmidlq
http://www.mediafire.com/?m0ly0mmidlq

টরেন্ট:
http://kat.ph/the-message-1977-brrip-xvid-etrg-t6618522.html

তথ্যসূত্র: http://www.darashiko.com/2010/03/prophet-on-movies/
কৃতজ্ঞতা: https://www.facebook.com/bdidol

শুক্রবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১২

মিলেনিয়াম ট্রিলজি: সুইডিশ জেসন বর্ণ

ভদ্রলোক উপন্যাস লিখেছেন মোটে তিনটা - ২০০৫, ২০০৬ এবং ২০০৭ সালে প্রকাশিত। ২০১১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এই তিনটি উপন্যাস বিক্রি হয়েছে মোট ৬৫ মিলিয়ন কপি। ২০০৮ সালে তিনি ছিলেন বিশ্বের দ্বিতীয় বেস্ট সেলার লেখক। এই তিনটি বই নিয়েই সুইডেনে তিনটি সিনেমা নির্মিত হয়ে মুক্তি পেয়েছে ফেব্রুয়ারী, সেপ্টেম্বর এবং নভেম্বর মাসে - একই বছরে, ২০০৯ সালে। কিন্তু এই সাফল্যের কোনটিই দেখার জন্য তিনি বেঁচে ছিলেন না। ২০০৪ সালে পঞ্চাশ বছর বয়সে হঠাৎ মৃত্যুবরন করার পরের বছর থেকে বইগুলো প্রকাশিত হয়। সুইডেনে নির্মিত সিনেমাগুলো এতটাই জনপ্রিয় হয় যে, হলিউড রিমেক করার জন্য এগিয়ে আসে। জনপ্রিয় ও গুনী পরিচালক ডেভিড ফিঞ্চার পরিচালিত রিমেক সিনেমাটি মুক্তি পায় ২০১১ সালে এবং বেশ ভালো ব্যবসা করে। যে লেখকের সৃষ্টি নিয়ে এত কিছু তার নাম স্টিগ লারসন (Stieg Larsson) আর তার লেখা উপন্যাস তিনটিকে বলা হয় 'মিলেনিয়াম ট্রিলজি'। ট্রিলজির তিন পর্বের নাম: দ্য গার্ল উইথ দ্য ড্রাগন ট্যাট্যু, দ্য গার্ল হু প্লেইড উইথ ফায়ার এবং দ্য গার্ল হু কিকড দ্য হর্নেট'স নেস্ট

বৃহস্পতিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১২

মন খারাপের স্ট্যাটাস


বিকেলে না ঘুমালেও কখনো কখনো মন খারাপ হয়। মন কেন জানি অনেকদিন আগে ফেরত চলে যায়। মন খারাপ টারাপ এইসব না- কেমন জানি বিষন্ন!!! সটাৎ সটাৎ এইরকম হয় - এমনিই মনটা খারাপ। তখন বারান্দায় বসে থাকতে ভালো লাগে। ভীড় বাসের জানালায় হাতের উপর মাথা কাত করে রেখে বাইরের বাঁকানো পৃথিবী। মাথায় কোন চিন্তা নেই। কিন্তু মনটাও ভালো নেই। এই মন খারাপ নিয়ে অনেক পথ হাটতেও ভালো লাগে। হাটা তখন কষ্টকর না, দুরত্ব তখন সমস্যা না।





আইইএলটিএস প্রস্তুতি গাইড এবং প্রয়োজনীয় লিংক





আরও পড়ুন: ভ্রমণ বিষয়ক সকল পোস্ট


রবিবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১২

মুভি রিভিউ: ঘেটুপুত্র কমলা

জনপ্রিয় সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ পরিচালিত সর্বশেষ চলচ্চিত্র 'ঘেটুপুত্র কমলা' মুক্তি পেয়েছে দেশের মাত্র দুটি প্রেক্ষাগৃহে। জীবিত অবস্থায় হুমায়ূন আহমেদ 'ঘেটুপুত্র কমলা' সম্পর্কে দর্শকদের অনুরোধ করেছিলেন তারা যেন বাচ্চাকাচ্চা নিয়ে সিনেমাটা দেখতে না যায়। ছবি মুক্তির আগে থেকেই তাই 'ঘেটুপুত্র কমলা' নিয়ে কিছু গুঞ্জন তৈরী হয়। যে সিনেমা বাচ্চাকাচ্চা নিয়ে না দেখার অনুরোধ স্বয়ং পরিচালক করেন সে সিনেমা বর্তমান সমাজে কতটুকু প্রয়োজন এবং এর প্রভাব কি হতে পারে সে নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সকল প্রশ্নের জবাব আর দারুন মানবিকতার এক গল্প নিয়ে উপস্থিত হয়েছে 'ঘেটুপুত্র কমলা'।

বুধবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১২

করমজলে-জঙ্গলে

মাথার উপর চড়া রোদ। হলুদ-লাল সুতি গামছাকে ঘোমটা বানিয়েছি। একটা হকার 'অ্যায় সিঙ্গারা, ছয়টা দশ টাকা, ছয়টা দশ টাকা' বলে চেঁচাচ্ছে এবং ক্রেতাদের পত্রিকার পাতায় মুড়ে সিঙ্গারা বিক্রি করছে। আমি বসে আছি লঞ্চের পেছন দিকে কোনায়, নিচু রেলিং এর উপর। লঞ্চে প্রচন্ড ভিড়। ইঞ্জিনের আওয়াজ, হকারদের চিৎকার আর যাত্রীদের গুঞ্জন মিলে একধরনের নতুন শব্দ তৈরী হচ্ছে। আমি একাকী বসে যাত্রীদের কার্যকলাপ দেখছি। ঠিক এক বছর আগের কথা মনে পড়ে গেল হঠাৎ করে। দারাশিকো'র বঙ্গভ্রমণে আমি তখন খুলনায়, যাবো সুন্দরবন।
সুন্দরবন যাওয়ার আগ্রহ অ-নে-ক দিনের। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে ক্লাসের বন্ধুরা গিয়েছিল পাচ দিনের ট্যুরে। জনপ্রতি বোধহয় হাজার পাচেক টাকা বাজেট। আমার যাওয়া হয় নি - ব্যস্ততা, অর্থাভাব এবং তৃতীয় আরেকটি কারণে। পরবর্তীতে পরিচিত আরও অনেকে সুন্দরবন ঘুরে এসেছে। আমি টিম তৈরী করার চেষ্টা করেছিলাম, হয় নি। গত বছর এরকম সময়ে ঈদের পরে ঢাকায় ফিরেছি, ইচ্ছা সিলেট ঘুরতে যাবো, কিন্তু এবারো সঙ্গী পাওয়া গেল না। আমি হতাশ। রুমমেট জুনিয়র ভাইকে ফোন দিলাম, সে জানালো ফিরতে তার একটু দেরী হবে, কারণ অ্যাসাইনমেন্টের কাজে যে সুন্দরবন যাবে। ঘন্টা দুয়েকের মধ্যে আমি খুলনার গাড়িতে উঠে পড়লাম, ভোরে নামলাম যশোরে। সেখান থেকে মুকিতের সাথে যাবো খুলনায়।
যশোর থেকে খুলনা যাওয়ার রাস্তাটা ভালো ছিল না, অন্তত প্রথম অর্ধেক। তবে পরের অর্ধেক জায়গা ভালো এবং সুন্দর। রাস্তার পাশে ইন্ডাস্ট্রিয়াল এলাকা। কারখানাগুলা সুন্দর, শান্ত ভাব। রাস্তাও ভালো, মন জুড়ায়।
খুলনায় বাস থেকে নামলাম সোনাডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে। এখান থেকে যাবো মংলা। মংলা যেতে হলে লোকাল বাসে যেতে হবে। আধাঘন্টা পর পর বাস ছাড়ে সোনাডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড থেকে। টিকেট কেটে সিট দখল করতে হয়। বাসগুলো ঢাকা শহরের তিন নাম্বার বাসের মত ছোট এবং সংকীর্ণ। বাংলাদেশের সব লোকাল বাসের মতই এই বাসও সময়ের চেয়ে দেরীতে ছাড়ে, শহর ছেড়ে বের হওয়ার আগ পর্যন্ত প্রত্যেক মোড় থেকে যাত্রী তোলে, যাত্রীরা কন্ডাক্টরের চোদ্দগুষ্ঠি উদ্ধার করার উদ্দেশ্যে নানাবিধ বাণী বর্ষন করে। যেহেতু আমরা পর্যটক, এ ব্যাপারে আগ্রহ একদমই নেই, বরং প্রতিটি মুহুর্ত উপভোগ্য।
সোনাডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডটাই শহরের প্রান্তে, তাই একটু পরেই শহর থেকে বেরিয়ে পড়া হয়। এরপর মফস্বল বা গ্রাম এলাকা। সব মিলিয়ে আড়াই ঘন্টার মত লাগে মংলা বন্দরে পৌছাতে। মংলার কাছাকাছি পৌছে গেলেই অসাধারণ এক অনুভূতি তৈরী হয়। রাস্তার দুপাশে বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ফাকা, কোথাও লবনের ঘের, কোথাও সব্জি ক্ষেত। সাথে চমৎকার আকাশ এবং বাতাস। বোঝা যায় আমরা নদী বা সমুদ্রের ধারে চলে এসেছি।
কোন খোজ না নিয়েই মংলা এসেছি। ভেবেছি, কোন না কোন বোট সুন্দরবনের দিকে যাবে, আমরা সেখানে উঠে পড়বো। আজ না হোক, কাল সকালে তো যাবে, রাতে থাকার ব্যবস্থা হয়ে যাবে। দেখা গেল ধারনা ঠিক নয়। মংলা থেকে সুন্দরবনে বোট যায় ঠিকই, কিন্তু সেটা শুধু করমজল পর্যন্ত। ঘন্টাখানেক ব্যয় করলেই ঘুরে আসা সম্ভব। এর বেশী ভিতরে যেতে হলে বনরক্ষীদের পারমিশন নিতে হবে, মিনিমাম একজন বন্দুকধারী রক্ষী নিতে হবে, টাকা পয়সা খরচ করতে হবে ইত্যাদি ইত্যাদি। প্রথমে বিশ্বাস হয় নি। ঘুরে ঘুরে কয়েকজন বোটম্যানের সাথে কথা বলে তারপর বুঝলাম, কেউ-ই মিথ্যে বলছে না। অর্থ্যাৎ গেলে করমজলেই যেতে হবে।
মংলা বন্দর থেকে ছোট ইঞ্জিন নৌকা চলে করমজল পর্যন্ত। দুই তিনটা পাবলিক নৌকাও আছে, সেখানে ভাড়া পড়ে ত্রিশটাকা জন প্রতি। আর প্রাইভেট নৌকায় যার কাছ থেকে যত নিয়ে পারে। আমরা প্রাইভেটেও গেলাম না, পাবলিকেও না। সোয়া চার সদস্যের এক পরিবার নৌকা বুক করেছে, বোটম্যান আরও দুএকজনকে তুলে নিতে চায়। অনেক দোনামোনা শেষে উঠে পড়লাম। জনপ্রতি একশ টাকা।
আহা! সে এক অসাধারণ মুহূর্ত। নৌকায় চড়েছি অনেক, সেই বাচ্চাবেলা থেকে। ফলে পার্থক্য করা কষ্ট। কিন্তু এই ভ্রমন খুব মনে থাকবে। ফুরফুরে বাতাস, আমার হাফ টাকলু মাথার চুল উড়ছে! আর আকাশ! উফ! অসহ্য রকম সুন্দর।
মংলা বন্দর ছেড়ে এসেছি

ট্রলার। এসব ট্রলারেই করমজলে যায়। এটা একটু বড় ট্রলার।

কাদায় মাখামাখি হয়ে ছেলেগুলো যখন ঘোলা পানিতে ডুবাডুবি করছে, তাদের মাঝে এই মেয়েটিকে খুব ব্যতিক্রম লাগছিল

করমজল কি? সুন্দরবনের শুরু। বেশ কিছু এলাকা নির্দিষ্ট করে নিয়ে বনবিভাগ ও পর্যটন কতৃপক্ষ পর্যটকদের উপযোগী হিসেবে গড়ে তুলেছে। নিরাপদে সুন্দরবন ভ্রমণ বিশেষত নারী ও শিশুদের নিয়ে আসলে করমজল বেস্ট। বনের ভেতরে কাঠের তৈরী পাটাতন, দুই ধারে গাছে রেলিং। এর মাঝে হেটে হেটে বনের ভেতরে ঢোকা যায়। কাঠের পাটাতনের নিচে কাদা। জোয়ারের সময় পানিতে ঢেকে যায়। পানি নেমে গেলে অনেক অনেক লাল কাকড়া বের হয়ে আসে। ছোটাছুটি করে, গর্তে ঢোকে, বের হয়। আর দেখা যায় নানান রকম পোকা। পাশের গাছগুলোয় তাদের নামফলক লাগানো। পশুর, বাইন, সুন্দরী। গোলপাতা - সে মোটেও গোল নয়, লম্বাটে নারকেল পাতার মতো। পাখির ডাক শোনা যায় কম বেশী। পশু বলতে বানর। আর আছে চিপসের প্যাকেট, ড্রিংক্স-জুসের বোতল এবং বাদামের খোসা। পাখির ডাক শোনার চেয়ে বেশী শোনা যায় কাঠের পাটাতনে জুতার আওয়াজ। কোলাহল। ক্লিক ক্লিক। কিছু নব্য জানোয়ার চিৎকার আর হৈ হুল্লা করে বনের নিস্তব্ধতাকে বারবার ভেঙ্গে দেবে। করমজলের চেয়ে বোটানিক্যাল গার্ডেন অনেক বেশী নিস্তব্ধ।
জোয়ারের সময় পানি এতটুকু পৌছায়, কিছু থেকে যায় ভাটার সময়

একটা মৌচাক দেখা যাচ্ছে। ছোট ক্যামেরায় জুম করে তোলায় ঝাপসা হয়ে গেছে।

শ্বাসমূল দেখতে খুব একটা শ্লীল নয়!

নাল কাকড়া

করমজলের বাঘ!

কাঠের পাটাতনের শেষে আছে ইট বিছানো রাস্তা - অল্প কিছুদূর পর্যন্ত

করমজলে একটি হরিনখাঁচা আছে। খোলা জায়গায় বেশ কিছু হরিণ ঘুরে বেড়ায়, পর্যটকের হাত থেকে খায়। আর আছে কুমির প্রজনন কেন্দ্র। বড় এক পুকুরে পূর্নবয়স্ক কুমিররা থাকে। তাদের দেখাশোনা করে যে কর্মচারী সে ডাকলে লাফ দিয়ে পুকুরে পরে, সাঁতরে কাছে আসে। আর কিছু আছে মরার মত পরে থাকে, এমন কি হা করা মুখেও। পাশে আছে বাচ্চা কুমিরদের আস্তানা। সেখানে বিভিন্ন ছোট ছোট জলাধারে বিভিন্ন সাইজের বাচ্চা কুমির জড় পদার্থের মত নট নড়ন চড়ন অবস্থায় ধ্যানরত। আছে একটি ওয়াচ টাওয়ার। গাছের জন্য জঙ্গল দেখা যায় না।
করমজলে পৌছার পর থেকেই হতাশা শুরু। এই সুন্দরবন দেখার জন্য আমি এতদূর আসি নাই। মুকিত এসেছে তার অ্যাসাইনমেন্টের কাজে। কয়েকজন লোকাল লোককে যখন জিজ্ঞেস করলো - বনের গাছ চুরি হয় না? সবাই একই কথা বলল - না। লবডঙ্কা। বন থেকে বের হবার আগে এক কোনায় চলে গেলাম পাটাতনের উপর দিয়ে হেটে। এই দিকটায় সবাই আসছে না - প্রচন্ড নীরবতা। আমরা দুজন বসে আছি। পানির আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছে। জোয়ার আসছে। কাদার উপরে পানির স্রোত ভেসে আসছে। অল্প অল্প করে। চুপচাপ তাকিয়ে দেখছি। চোখের সামনে একটা একটা করে শ্বাসমূলগুলো ডুবে যাচ্ছে। পানি ভেতরের দিকে ঢুকছে। সাদা ফেনা দেখা যাচ্ছে। পানি বাড়ছে, আরও-আরও। অসাধারণ দৃশ্য। মন ভালো করে দিল।
ফিরতে হবে। খুলনায় বিনা খরচায় রাত কাটানোর ব্যবস্থা হয়ে গেছে।

সোমবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০১২

অনন্তের 'পম গানা'র প্রতিবাদে

এই দেশের লোকজন বড়ই অদ্ভুত!
পাবলিক বাসে করে কোথাও যাবেন। দেখবেন, যাত্রীরা কিছুক্ষন পর পর চিৎকার করে বাস ড্রাইভারকে ডানে কিংবা বামে, আস্তে কিংবা ধীরে গাড়ি চালানোর পরামর্শ দিচ্ছে। অথচ এদের খুব কম লোকই বাস চালাতে জানে।
অনন্ত-র ইংরেজী শুনে লোকজন সীমাহীন বিনোদন পাচ্ছে। ফেসবুকে স্ট্যাটাস আর ছবি শেয়ারের ধুম লেগে যাচ্ছে। পাচ মিনিট ইংরেজিতে কথা বলার সুযোগ দিন। বেশীরভাগেরই অনন্তের সাগরেদ হওয়া ছাড়া উপায় থাকবে না।
আচ্ছা বোঝা গেল, আপনি পাচ মিনিট না, পুরো পাচ ঘন্টা কোন ভুল ছাড়া ইংরেজিতে কথা বলতে পারেন। কনগ্রাচুলেশন্স। কিন্তু ভেবে দেখুন আর কোন কোন জায়গায় আপনি এক্সপার্ট না।
প্রকৃত জ্ঞানীরাই বিনয়ী হয়। বিনয়ী হোন। ভালো থাকুন।

শুক্রবার, ৩১ আগস্ট, ২০১২

মুভি রিভিউ: সে আমার মন কেড়েছে

ধনীর দুলালী আলিশা (তিন্নি) একদিন বাড়ি থেকে পালালো, তারপর বাবাকে ফোনে জানালো - কিং কোবরা নামে এক সন্ত্রাসী তাকে কিডন্যাপ করেছে, মুক্তিপণ চাই এক কোটি টাকা। তারপর নিজেই নিজের হাতে হাতকড়া পড়ালো, মুখে টেপ লাগালো, পা বাধল। তারপর নিজের গাড়ির পেছনের বাক্সে বন্দী করল। আলিশা যখন ডিকি-তে বন্দী, তখন ব্রিফকেস হাতে হাজির হল আরিয়ান (শাকিব খান)। তারপর ব্রিফকেস খুলে বের করলো - নগদ টাকা নয়, স্ক্রু ড্রাইভার। আলিশার বাবা আশফাক চৌধুরী (আলমগীর) দাবী অনুযায়ী টাকা নিয়ে হাজির হওয়ার আগেই আরিয়ান গাড়ির লক ভেঙ্গে ভেতরে ঢুকে গাড়ি নিয়ে পালাল। গাড়ি চোর আরিয়ানের সাথে গডফাদার আতিক খানের (মিশা সওদাগর) চুক্তি ছোট - একবারে পাচটি চোরাই গাড়ি হস্তান্তর করা হবে চল্লিশ লাখ টাকার বিনিময়ে। পাচটি চোরাই গাড়ি গ্যারেজে আর গাড়ির মূল্য চল্লিশ লক্ষ টাকা গ্যারেজের আলমারিতে রেখে ডিকি থেকে উদ্ধারকৃত আলিশাকে নিরাপদে কোথাও নামিয়ে দিতে গেল আরিয়ান। এদিকে গ্যারেজে আগুন লেগে পুড়ে গেল নগদ ৪০ লক্ষ টাকা, সেই সাথে পাচটি চোরাই গাড়ি।

বৃহস্পতিবার, ৩০ আগস্ট, ২০১২

মিথ্যুক!

: সবাই চলে গেছে, তুই এখনো বসে আছিস ক্যান? যা।
: যাই।

: তোর না বলে হাসপাতাল ভালো লাগে না, গন্ধ সহ্য করতে পারিস না, এত এত কাজ - তাহলে প্রতিদিন আসিস ক্যান?

: শম্পা আসে তাই।

: আর আসবি না।

: আচ্ছা।

: যা, আমার জন্য বসে থাকা লাগবে না।

: তোর জন্য বসে নাই।

: তাইলে ক্যান বসে আসিছ?

: তোর নার্সটাকে ভালো লাগছে। কিউট।

: মিথ্যুক!

মঙ্গলবার, ২৮ আগস্ট, ২০১২

দুই ধারে এবং মাঝখানে

দুই ধারে সবুজ ধানক্ষেত, আর তার মাঝে রাস্তা দিয়ে ছুটে চলতে হলে - বরিশাল থেকে ফরিদপুর।
দুই ধারে পাটকাঠি আর সোনালী আঁশ, তার মাঝের রাস্তা দিয়ে ছুটে চলতে হলে - ফরিদপুরের ভাঙ্গা মোড় থেকে মাওয়া ঘাট।
দুই ধারে পানি আর পানি, আর তার মাঝে রাস্তা দিয়ে ছুটে চলতে হলে - সিলেট থেকে তামাবিল।
দুই ধারে সবুজ গুল্ম (আলুর ক্ষেত), আর তার মাঝে রাস্তা দিয়ে ছুটে চলতে হলে - সিরাজগঞ্জ থেকে বগুড়া।
দুই ধারে বিশাল রুক্ষ ফাকা জায়গা, সাথে প্রচন্ড বাতাস, আর তার মাঝে রাস্তা দিয়ে ছুটে চলতে হলে - খুলনা থেকে মংলা।
দুই ধারে শুকোতে দেয়া নানান রঙ এর সুতা আর রঙিন কাপড়, তার মাঝে রাস্তা দিয়ে ছুটে চলতে হলে - ভুলতা থেকে নরসিংদী।
দুই ধারে ঘন জঙ্গল, রাস্তা অন্ধকার, আর তার মাঝে রাস্তা দিয়ে ছুটে চলতে হলে - শ্রীমঙ্গল থেকে মাধবকুন্ড।
দুই ধারে চা বাগান আর তার মাঝে রাস্তা দিয়ে ছুটে চলতে হলে - শ্রীমঙ্গল থেকে লাউয়াছড়া।

নিজ অভিজ্ঞতা থেকে এগুলো চিহ্নিত করেছি। আপনি কিছু যোগ করবেন?

বুধবার, ২২ আগস্ট, ২০১২

পিসড অফ!

টিনের চালে প্রচন্ড বৃষ্টি হচ্ছে। শব্দে কান ঝালাপালা। হালকা পুতুপুতু বৃষ্টি না, রীতিমত ক্যাটস অ্যান্ড ডগস।

ঈদের  ছুটিতে বোরিং ভাবটা কেটে যাচ্ছে। খুবই ভালো লাগছে। এই আনন্দে একটা স্ট্যাটাস দিয়া ফেললাম -

কুত্তা বিলাই শ্যাষ। টিনের চালে হাতি ডাইনোসর বৃষ্টি হচ্ছে :) :)

মনে করার চেষ্টা করছি এই টিনের চালে বৃষ্টি নিয়ে কে কি বলছে। মনে পড়ছে না। টিনের চালের ব্যাপারটা সত্যিই ইন্টারেস্টিং। যখন গরম পড়ে তখনও ঝালাপালা অবস্থা, তবে শব্দে না, তাপে। তবে সেইটা নিয়ে কারও মধ্যে কাব্যি আসে না। আসে বৃষ্টিতে।

স্ট্যাটাসে লাইক পড়া শুরু করছে। একটা কমেন্টও পড়ে গেছে - "লোকেশনটা বলেন, তাইলে আরও ফিল আসবে :P "
আমি লাইক দিলাম কমেন্টে, রিপ্লাই দিলাম না। লোকেশন বলা যাবে না।

বৃষ্টির গতি কমার কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। এই বৃষ্টিতে ঢাকায় এক হাটু পানি জমে যেত। রিমঝিম বৃষ্টি যে ভাবের উদ্রেকে সাহায্য করে সেটা বুঝতে পারছি। আমার মনে আরও একটা স্ট্যাটাস তৈরী হয়ে যাচ্ছে।

আরেকটা স্ট্যাটাস দিলাম -

টিনের চালে ঝমাঝম বৃষ্টি। দারুন রোমান্টিক মুহূর্ত। মিসিং ইউ

এইটা পার্সোনাল স্ট্যাটাস। সমস্যা নাই, যার উদ্দেশ্যে দেয়া সে তো লাইক দিবেই, আরও লাইক পাওয়া যাবে। কিছু রসাল মন্তব্যও পাওয়া যেতে পারে। এমনকি ডেকচির চে ঢাকনা গরম-এর মত স্ট্যাটাসের চেয়ে কমেন্টে বেশী লাইক পড়তে পারে। পড়ুক। কমেন্টের অবস্থান সবসময়ই স্ট্যাটাসের নিচে।

বৃষ্টি থামছে না। জানালা দিয়ে দেখছি পাশের প্লটে পানি জমে যাচ্ছে। পাশের রুমে চলে গেলাম। ওদিকে বিশাল এক পুকুর, পানিতে টইটম্বুর অবস্থা। সহস্র বৃষ্টির সশব্দ ফোটায় তরঙ্গমুখরিত।

ফিরে এলাম নিজের রুমে। ঘরে পা দিয়েই বুঝলাম পায়ের নিচে পানি। কোত্থেকে এল?

টিনের ফুটা দিয়ে পড়ছে। একটা পাতিল এনে দিলাম ফুটার নিচে।

আরও একটা ফুটা নজরে পড়ল। পানি পড়ছে বিছানার উপর। তোশকটা ভাজ করে ফেললাম। একটা বাটি বসালাম।

আরও একটা ফুটা দিয়ে পানি পড়ছে। দেয়াল চুয়ে। ক্যালেন্ডার আর দেয়াল ঘড়িটা সরানো গেল।
কিন্তু ইলেক্ট্রিক সুইচ বোর্ডটা সরানো গেল না। একটা পলিথিন দিয়ে মুড়ে দেয়ার চেষ্টা করলাম। কিছুটা রক্ষা।

আর্ও দুটো ছিদ্র দিয়ে পানি পড়ছে। দুটো বালতি দিয়ে দিলাম।

অন্য ঘরেও ফুটো আছে, সেই ঘরে কিছু দেয়া হয় নাই। পানি পড়ে ফ্লোর বেয়ে আমার রুমে চলে আসছে।
একটা ন্যাকড়া ফেললাম পানির স্রোতের মুখে। পানিটা মুছে দিলাম।

হচ্ছে না। পাত্র লাগবে আরও দুইটা। বৃষ্টি থামার লক্ষন দেখা যাচ্ছে না। মেজাজটা খারাপ লাগছে। এই সময়ে সবার দাওয়াতে যাওয়ার কি দরকার ছিল। আমিই বা থেকে গেলাম কেন? দ্য গার্ল উইথ দ্য ড্রাগন ট্যাটু- তো পরেও দেখা যেত, তাই না? ডিসগাস্টিং।

আমি রুমে ফিরে এলাম। ৮ টা নোটিফিকেশন ৫ মিনিটে। লাইক আর কমেন্ট নিশ্চয়ই। আপডেট স্ট্যাটাসে লিখলাম -

পিসড অফ  :(

শুক্রবার, ১৭ আগস্ট, ২০১২

বলিউডের ‘মাসালা’ সিনেমা

বলিউডে এখন রেকর্ডের রমরমা অবস্থা। কুকুর মাথার ছবি সম্বলিত সেই গোল কালো রং এর চাকতি বা রেকর্ড তার দিন হারিয়েছে আগেই, এখন রেকর্ড হয় সব কিছুকে ছাপিয়ে ওঠায়। বলিউড সিনেমার বাজারে এখন প্রতিদিনই রেকর্ড হচ্ছে এবং এই রেকর্ড তৈরীর পেছনে বিশেষ ভূমিকা পালন করছে অ্যাকশন সিনেমাগুলো।

গত একমাস ধরে প্রায় প্রতিদিনই শাহরুখ খান অভিনীত 'রা ওয়ান' সিনেমার খবর প্রকাশিত হচ্ছে দৈনিক-সাপ্তাহিক-মাসিক পত্রিকায়, লক্ষ লক্ষবার শেয়ার হচ্ছে ফেসবুকে, টুইটারে। সবার মুখে এক কথা রা ওয়ান। মুক্তিপাবার পর থেকেই রেকর্ডের ছড়াছড়ি - বডিগার্ডের রেকর্ড ভেঙ্গে সবচে বেশী সিনেমাহলে মুক্তি পেয়েছে রা ওয়ান, সবচে বেশী অর্থ তুলে নিয়েছে প্রথম সপ্তাহেই ইত্যাদি ইত্যাদি। রা ওয়ান একটি সুপারহিরো অ্যাকশন সিনেমা এবং ২০১১ সালটি যেন অ্যাকশন সিনেমারই বছর। ডিপার্টমেন্ট, পাওয়ার, এজেন্ট বিনোদ, বডিগার্ড, কিক, সিংহাম, প্লেয়ারস, টেজ ইত্যাদির তালিকায় সর্বশেষ সংযুক্তি রা ওয়ান।

পথচলার গল্প

স্ট্যাটাস:
কেবল মুঠোয় বন্দী কফির একলা কাপ,
ডিপ্রেসনের বাংলা জানি 'অনেক মন খারাপ'!
 
: ডিপ্রেসন?
: হুম। :(
: ক্যান?
: জানি না।
: ঘুমান না কেন?
: ঘুম আসে না যে।
: কারণ কি?
: জানি না।
: সুখের অসুখ?
: একদম না। মাঝে মাঝে এরকম হয়।
: ইদানিং বেশী হচ্ছে ...
: তা ঠিক।

: একটা টোটকা দিই ।
: দিন।
: হেটে আসুন
: হা হা হা হা। অ্যাসিডিটির সমস্যা না কিন্তু।
: পিচঢালা রাস্তায়।
: রাত কত হয়েছে খেয়াল আছে?
: খালি পায়ে।
: হিমু?
: না।
: অবশ্যই।
: আপনি আপনিই, আপনি হিমু হবেন কেন?
: :/

: শেষ কবে হেটেছেন পিচঢালা রাস্তায়?
: মনে নাই?
: খালি পায়ে বাসার বাইরে?
: অনেক আগে। গ্রামের বাড়িতে।
: গুড।
: ছাই। কাদা পাড়িয়ে যেতে হয়েছিল।
: হা হা হা হা
: :(

: পিচ ঢালা রাস্তায় হাটার অভিজ্ঞতা অন্যরকম।
: আপনি হেটেছেন কবে লাস্ট?
: গত মাসে। শ্রীমঙ্গলের রাস্তায়।
: হিংসা।
: চলে আসেন, আপনাকে খালি পায়ে পিচ রাস্তায় হাটা শিখিয়ে দিই।
: মাথা খারাপ। দেড়টা বাজে।
: জেগেই তো আছেন।
: সম্ভব না। এই স্ক্রিনে বসে থাকা ছাড়া হাটাহাটির সুযোগ নেই।
: ওকে। সেভাবেই না হয় শুরু করলাম।
: ভার্চুয়াল হাটাহাটি?
: হুম। রুমের বাতিটা নিভিয়ে দিন।
: পাগলামি।
: কোথায় হাটবেন?
: ভার্চুয়াল হাটাহাটি আবার কি?
: লালমাটিয়ায় না বাসা?
: হ্যা।
: আড়ং এর সামনে চলে আসুন। কতক্ষন লাগবে?
: হা হা হা।
: রেডি হয়ে নিন।
: কিরকম?
: হাটতে বেরোচ্ছেন, রেডি হবেন না?
: স্যান্ডেল কি রেখে আসবো? নাকি হাতে নিয়ে হাটবো?
: রেখে আসুন।
: কি পড়বো?
: শাড়ি।
: আয়রন করা নেই।
: আপনার যা ইচ্ছা।
: লাল কামিজ, সাদা হিজাব?
: এই রাতে লাল কেন?
: তবে?
: যা ইচ্ছে।
: সাদা কামিস, নীল ওড়না।
: হিজাব বাদ?
: ওড়নাই হিজাব।
: গুড। ৫ মিনিটের মধ্যে আসছি। থাকবেন।
: আচ্ছা :)

: আছেন?
: ...
: হ্যালো?
: ...
: আপনি সত্যি সত্যি চলে আসছেন নাকি? চ্যাটিং চলছে কিন্তু, ভার্চূয়ালি হাটার কথা আমাদের, রিয়েল ওয়ার্ল্ডে না... আছেন?
: ভুলে যান ও কথা।
: কি ব্যাপার রিপ্লাই দিচ্ছেন না কেন? কি ভুলে যাবো?
: ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ড। আপনি এখন আড়ঙ এর সামনে।
: হা হা হা

: স্যান্ডেল পড়ে এসেছেন কেন? আশ্চর্য।
: বাসা থেকে খালি পায়ে বের হবো নাকি? পানি জমে আছে, গোটা দশেক ইটের উপর পা দিয়ে আসতে হয়।
: তো?
: শুরুতেই যদি পায়ে হাটার ব্যাপারে বিতৃষ্ণা চলে আসে তো কেমনে হবে? কিন্তু আপনার হাতে এটা কি?
: কই?
: ফুল মনে হল!
: ওহ ফুলই তো। আপনার জন্য।
: থ্যাঙ্কু। কেমনে হল?ম্যাজিক?
: উহু। আপনার আর আমার সম্মিলিত ইচ্ছেশক্তির ফল।
: ভাব্। আসুন হাটি।
: স্যান্ডেল?
: এখানে রেখে যাচ্ছি, ফেরার সময় লাগবে।

: পিচ রাস্তায় খালি পায়ে হাটার সবচে বড় সমস্যা জানেন?
: কি?
: পায়ের নিচে ছ্যাপ পড়বে।
: ইয়াক।
: এটা আমার বন্ধু ডাক্তার ইমরানের থিওরী। মসজিদ থেকে স্যান্ডেল চুরি হওয়ার পরে এই থিওরী দিয়েছে সে।
: হা হা হা
: তার মতে, এমনিতে স্যান্ডেল ছ্যাপে পরে না, কিন্তু খালি পায়ে হাটলে একটু পর পরই ছ্যাপ-এ পা পড়বে।
: খালি পায়ে হাটার উৎসাহে এখন বাধা দিচ্ছেন- এইটা কিন্তু ঠিক না।

: সংসদ ভবনে ঢুকেছেন কখনো?
: না।
: বসেছেন ফুটপাতে?
: না।
: চলুন বসি।
: আজ নয়, আজ শুধু হাটবো। আরেকদিন।

: কেমন লাগছে?
: শৈশব শৈশব অনুভূতি।
: আকাশে চাদ নেই আজ, যেদিন চাদ থাকবে, বাতাস হবে সেদিন আরেকটা টোটকা দেব।
: আজ নয় কেন?
: আজ চাদ নেই তাই।
: তাই বলে জানবো না? আরেকদিন যদি আমার হাটতে ইচ্ছে হয়?
: সেদিন বলে দেবো।
: সেদিন তো আপনার সাথে নাও হাটতে পারি।
: হাটবেন।
: কেন?
: আমি সাথে না থাকলে তো আপনি হাটার আনন্দ পাবেন না।
: বোগাস।
: একদম নয়। পিচ রাস্তার সাথে মিশে আছি আমি।
: ইমপ্রেস করার চেষ্টা করছেন?
: হু।
: কেন করছেন?
: পিচ রাস্তায় হাটার জন্য আপনি আমাকে চান, তাই।
: মিথ্যে কথা।
: সত্যিটা কি?
: জানি না।
: আমি জানি।
: কি?
: আমি আপনার সাথে হাটতে চাই।
: আমরা কি হাটছি না?
: আরও হাটতে চাই - এখানে, ওখানে, আজ কাল পরশু।
: ... ...
:কিছু বলবেন না?
: আমার মন খারাপ হয়ে গেছে। আমি এখন যাই।


===============================
পাগড়ি শেরওয়ানী পড়া ছেলেটা স্যান্ডেল খুলে স্টেজে বসা মাত্রই কতগুলো কিশোর কিশোরী স্যান্ডেল নিয়ে কোথায় ছুটে পালাল।
: স্যান্ডেল হাওয়া :(
: পয়সা ফেলো, পেয়ে যাবে।
: পুরান কথা। নতুন কিছু বল।
: আমারগুলোও লুকিয়ে ফেলেছি। খালি পায়ে যাবো আজ। ;)



যে সকল মানবী ফেসবুকে চ্যাটিং-এর মাধ্যমে এই ধরনের গল্পগুলো লেখার উপকরণ সরবরাহ করছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা।

সোমবার, ১৩ আগস্ট, ২০১২

যখন প্রতি ১৫ সেকেন্ডে একজন মুসলমান তার ধর্ম ত্যাগ করে

তথ্যটা স্তব্ধ করে দেয়ার মতই বিস্ময়কর।
বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম দেশ ইন্দোনেশিয়া যার মোট জনসংখ্যা প্রায় ২৩৭ মিলিয়ন, সেখানে প্রতিবছর প্রায় ২ মিলিয়ন বা ২০ লক্ষ মুসলমান তাদের ধর্ম ত্যাগ করে খ্রীষ্টান ধর্ম গ্রহন করছে। সে হিসেবে প্রতি ১৫ সেকেন্ডে একজন মুসলিম খ্রীষ্টান ধর্মে রূপান্তরিত হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটগুলোর মাধ্যমে সচেতনতা তৈরীর উদ্দেশ্যে এমন তথ্যই প্রচার করছে একটি আন্তর্জাতিক ইসলামিক দাওয়াহ সংগঠন - মার্সি মিশন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশগুলোতে মুসলমানদের মধ্যে ইসলাম সম্পর্কে সচেতনতা তৈরী ও ইসলাম পালনের জন্য বিভিন্ন রকম প্রশিক্ষণ ও প্রনোদনামূলক কর্মসূচীর সাথে জড়িত এই প্রতিষ্ঠানটি। বাংলাদেশে মার্সি মিশনের একটি অঙ্গসংগঠন আল কাউসার ইন্সটিটিউট বিভিন্ন কর্মসূচীর মাধ্যমে দা'য়ী ভূমিকা পালন করছে। 

মার্সি মিশন সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়ার এই ধর্মান্তর প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করার উদ্দেশ্যে একটি কর্মসূচী গ্রহন করেছে যার নাম 'সেভ মরিয়াম'। মরিয়াম নামের মাধ্যমে কোন নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা নারীসমাজ নয়, বরং সমগ্র মুসলিম বিশ্বকে নির্দিষ্ট করা হয় যারা ধর্মান্তর ঝুকির মধ্যে আছে। 'সেভ মরিয়াম' ক্যাম্পেইনটি প্রচারের উদ্দেশ্যে তারা একটি ভিডিও তৈরী করে ইউটিউব সহ বিভিন্ন সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটগুলোতে সরবরাহ করে। ভিডিওটি থেকে জানা যায়, বর্তমানে যে হারে ধর্মান্তর প্রক্রিয়া চলছে তা বজায় থাকলে ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বের সবচে বড় মুসলিম দেশ বিশ্বের সবচে বড় খ্রীষ্টান দেশে পরিণত হবে। পাশাপাশি কিভাবে একজন মুসলিম বিভিন্ন উপায়ে অসচেতনভাবে খ্রীষ্টধর্মের দিকে আকৃষ্ট হচ্ছে তাও তুলে ধরা হয়েছে ভিডিও-তে। 
http://www.youtube.com/watch?v=3DrskbDaw3A

প্রায় সাড়ে সতেরো হাজার ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দ্বীপের সমন্বয়ে গঠিত দেশ ইন্দোনেশিয়ায় একটা বড় অংশ জনগন দারিদ্র্যসীমায় বসবাস করছে এবং মূলত তারাই খ্রীষ্টান মিশনারীদের প্রচেষ্টায় ধর্মান্তরিত হচ্ছে। প্রকৃতপক্ষেই বছরে ২ মিলিয়ন বা প্রতি ১৫ সেকেন্ডে একজন মুসলিমের ধর্মান্তরের ঘটনা ঘটছে কিনা সে নিয়ে প্রশ্ন তোলায় সেভ মরিয়াম ক্যাম্পেইনের পক্ষ থেকে একটি জবাব দেয়া হয়েছে। এই সংখ্যাটি যত কম হবে ততই সুখকর কিন্তু বছরে যদি ১০ জন মুসলমানও ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করে তবে সেটা অন্যান্য মুসলমানদের জন্য উদ্বেগজনক হওয়া উচিত কারণ এই ১০ জনই বেড়ে গিয়ে কোন একসময় ২ মিলিয়নে দাড়াতে পারে। 
http://www.youtube.com/watch?v=XoG9RLfAJEw

ইন্দোনেশিয়ার সাথে বাংলাদেশের তুলনা করলে এই চিত্রের ভয়াবহতা খুবই কম, তবে একদমই আশংকামুক্ত নয়। ইসলাম ধর্ম ত্যাগের পেছনে যে কারণগুলো ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিকা পালন করছে সেই একই কারণগুলো এখানেও বর্তমান। ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে অজ্ঞতা ও ভুল ধারনা, ইসলাম ধর্ম পালনে উদাসীনতা, বিভিন্ন অনৈতিক ও অসৎ পন্থা যেমন মদ, সুদ, জুয়া, ব্যাভিচার, নগ্নতা ইত্যাদির বিপক্ষে ইসলামের শক্ত অবস্থান প্রভৃতি এর অন্যতম কারণ। ধর্ম পালন সম্পর্কে উদাসীনতা একসময়ে ধর্ম সম্পর্কে অজ্ঞানতা ও ভুল ধারনার জন্ম দেয়, ফলে নতুনভাবে উপস্থাপিত যে কোন ধর্মই তখন সঠিক বলে ভ্রান্ত ধারণা তৈরী হয়। ধর্মান্তর ও ধর্মীয় বিকৃতির ঘটনাগুলো বিশ্লেষন করলে এই একটি কারণই পাওয়া যায়। ধর্মীয় বিধিনিষেধ পালন থেকে শুরু করে ধর্মহীনতা এবং ভ্রান্ত ধর্মে বিশ্বাসের পর্যায়গুলো খুব অল্প সময়ে ঘটে না এবং জেনারেশন থেকে জেনারশনে পরিবর্তিত হয়। ফলে বর্তমান জেনারেশন যদি নিজেরা ধর্ম পালনে ব্যস্ত থেকে পরবর্তী জেনারেশনকে ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত করতে না পারে, তবে পরবর্তী জেনারেশন ধর্ম সম্পর্কে উদাসীন হয় এবং তারও পরের জেনারেশন নতুন করে কোন ধর্মের প্রতি (সে ধর্ম ইসলামও হতে পারে) আকৃষ্ট হয়। 

বাংলাদেশের বর্তমান চিত্র অনেক ক্ষেত্রেই দ্বিতীয় প্রজন্মের অন্তর্ভূক্ত যেখানে ইসলাম ধর্মের প্রতি উদাসীনতা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে এবং ইসলাম ধর্ম নিছক আচারসর্বস্ব ধর্ম হিসেবে পালিত হচ্ছে। নি:সন্দেহে এই চিত্র উদ্বেগজনক এবং সময় থাকতে প্রয়োজনীয় সচেতনতা তৈরী করতে না পারলে ইন্দোনেশিয়ার চিত্র বাংলাদেশেও ঘটবে সে নি:সন্দেহ। 

আপনি যদি একজন মুসলমান হন এবং উপরে বর্নিত চিত্র আপনার মধ্যে বিন্দুমাত্র উদ্বেগ তৈরী করে তবে আপনার জন্য করণীয় কাজগুলো নিম্নরূপ:
# ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে পড়ুন, শুনুন এবং জানুন। কোন ভুল ধারনা যেন আপনার মধ্যে স্থান না পায় এবং আপনার মাধ্যমে প্রচার না হয়।
# নিজে যতটুকু জেনেছেন, তার সবটাই মানার চেষ্টা করুন এবং অন্তত আরেকজনকে এই জানা এবং মানার ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ করুন। আজ থেকে আপনি একজন দা'য়ী হয়ে যান।
# ইসলাম ধর্ম ব্যক্তিগত পর্যায়ে পালন করার জন্য নয়, এর সামষ্টিক ভূমিকা অনেক বেশী। সুতরাং, ইসলামের বিধানগুলো পালনের ক্ষেত্রে একাকী নয়, সামষ্টিকভাবে পালনের চেষ্টা করুন।
# আপনার আশেপাশের তরুন প্রজন্মের দিকে লক্ষ্য রাখুন, যত্ন নিন। এই প্রজন্মটি ইসলামের প্রতি বিশ্বস্ত হলে তার পরের প্রজন্মের দায়িত্ব তারাই গ্রহণ করবে। 

মুসলমান পরিচিত হোক কাজের মাধ্যমে, নামের মাধ্যমে নয়।

শনিবার, ১১ আগস্ট, ২০১২

Bodyguards and Assassins: চীন গড়ার গল্প

লোহার রেলিং ঘেরা সিড়ি দিয়ে নামতে নামতে প্রফেসর ইয়াং কু-উন তার চারপাশের শিক্ষার্থীদেরকে ‘ডেমোক্রেসি’ শব্দের উৎপত্তি সম্পর্কে বলছিলেন। ডেমোক্রেসি নিয়ে আবাহাম লিংকনের সংজ্ঞাটি উচ্চারণ করার পরে তিনি জানালেন এমন একটি চায়নার স্বপ্নই তিনি দেখছেন যেটা হবে পিপল’স রিপাবলিক। শিক্ষার্থীদের পোষাক, মাথায় লম্বা টিকি, আশেপাশের রাস্তাঘাট-ঘর আর প্রফেসরের এই বক্তব্য একদম শুরুতেই জানিয়ে দিল, এই সিনেমা বর্তমানের নয়, অতীতের এবং এই সিনেমা পিপলস রিপাবলিক অব চায়নার ইতিহাসের সাথে সংশ্লিষ্ট। প্রফেসরের বক্তব্যের ঠিক পরমুহূর্তেই অজ্ঞাতস্থান থেকে একটি বুলেট এসে কপালে বিদ্ধ হল, তিনি মারা গেলেন এবং আমরা জানতে পারলাম ১৯০১ সালের ১লা অক্টোবর তারিখে ঘটে যাওয়া প্রফেসর ইয়াং কু-উন এর এই হত্যাকান্ডই হংকং এর ইতিহাসের প্রথম রাজনৈতিক হত্যাকান্ড। গুপ্তঘাতকের চোখ আর মুখের পার্শ্বদেশ দেখা গেল ধোয়া উঠা বন্দুকের নলের পাশে। বডিগার্ডস অ্যান্ড অ্যাসাসিন্স সিনেমার নামকরনের হেতু উন্মোচিত হয়ে গেল প্রথম ৫ মিনিটেই।

ধ্বক্!

'কেমন আছেন?'

ইয়াসমিনের মেসেজে আমার বুকটা ধ্বক্ করে উঠল না। সম্ভবত আর কোনদিনও চ্যাটিং বক্সে তার কোন মেসেজ আমাকে হঠাৎ করে জাগিয়ে দেবে না, বুকের ভেতর ধক্ করে একটি পালস বিট মিস করাবে না। সাধারণ আর দশটা মানুষের ক্ষেত্রে যা হয়, তার মেসেজগুলো স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করবো আমি।

'ইয়াসমিন নাকি? কেমন আছেন? আমি ভালো, আলহামদুলিল্লাহ'

ইয়াসমিনের সাথে আমার পরিচয় বছর দেড়েক আগে, ব্লগিং সূত্রে। সামহোয়্যারইনব্লগে কিংবা আমার পার্সোনাল ওয়েব দারাশিকো ডট কমে লেখা পড়ে অনেক পাঠকই ফেসবুকে আমাকে খুজে বের করে নেয়, ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠায়। ইয়াসমিনও পাঠিয়েছিল। তারপর বিভিন্ন সময়ে অনলাইনে কথাবার্তা-আড্ডাবাজি, আরও অনেকের সাথে যেমন হয়।

'অনেকদিন পর --- অনলাইনে পাওয়াই যায় না আপনাকে'
'আমি ইরেগুলার, বসা হয় না তেমন একটা। কিন্তু আপনাকেও তো পাওয়া যায় না।'
'অফলাইনে থাকা হয় বেশীরভাগ।'
'তাই? কতদিন ধরে অফলাইন?'
'তিন মাস হচ্ছে।  মাঝে মধ্যে অনলাইন হই। আজও তাই আর আপনিও নক করলেন।'

ইয়াসমিনের সাথে আমার শুরুর দিকের কথাবার্তাগুলো এরকমই ছিল - হালকা পাতলা, কথার পিঠে কথা, অগভীর। সপ্তাহে হয়তো একবার কিংবা দুবার। তারপর সপ্তাহখানেক হয়তো বন্ধ অথচ দুজনেই অনলাইন। তারপর আস্তে আস্তে ফ্রিকোয়েন্সি বাড়ল, কথাবার্তা ভারী হলো, কঠার পিঠে কথা নয় বরং বিষয়ভিত্তিক আলোচনা, সেখানে ফিল্ম ও ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল, এপার বাংলা ওপার বাংলার সাহিত্য, ধর্ম, সাম্প্রতিক রাজনীতি, নানারকম স্ক্যান্ডাল নিয়ে কথা বার্তা তো হতই, আরও হত জীবন নিয়ে কথা - ফিউচার প্ল্যান, প্রেম-বিয়ে-সংসার, নৈতিকতা অনৈতিকতা ইত্যাদি ইত্যাদি। এই গভীর আলোচনাই ধীরে ধীরে বুকের ভিতর কলজেটাকে দুর্বল করে দিল।  অনলাইনে না থাকলে মনমরা থাকে, নক করলেই ধ্বক্ করে উঠে। কোন এক সাহিত্যিক বলেছিলেন - যাকে তুমি ভালোবাসো তাকে দেখলেই তোমার ভেতর ধ্বক্ করে উঠবে। অদ্ভুত! মোহনীয় সে!

'কেমন চলছে আপনার চাকরী?'
'চলছে। রমজান মাস, প্রেশার যাচ্ছে। আপনার পরীক্ষা শেষ?'
'হুম।'
'গ্রাজুয়েট হয়ে গেলেন?'
'উহু। থিসিস সাবমিট করলাম গত পরশু। ঈদের পর ভাইভা। তারপর।'
'মাস্টার্স করবেন তো?'
'হুম।'

আমি টুক করে ইয়াসমিনের প্রোফাইলে ঘুরে এলাম। সিঙ্গল। অবশ্য এই রিলেশনশীপ স্ট্যাটাস খুব বিশ্বাসযোগ্য নয়। আমার এই ফ্রেন্ডলিস্টে অন্তত এক ডজন বন্ধু আছে যারা বিয়ে করেছে বছর খানেক হয়ে গেল, কিন্তু স্ট্যাটাস এখনো সিঙ্গল। আমার স্ট্যাটাস শুরু থেকেই সিঙ্গল, কখনোই পরিবর্তন করিনি। ইয়াসমিনকে দেখলেই বুকের ভেতরে যখন থেকে ধ্বক্ করে উঠতে লাগল, তখন স্ট্যাটাস পরিবর্তন করে 'ইটস কম্প্লিকেটেড' লেখা যেত কিন্তু আমার আগ্রহ হয় নি। বরং তখন থেকেই আমি অপেক্ষা করে আছি - চাকরীটা পেয়ে গেলেই তাকে প্রস্তাবটা দেবো - প্রেম নয়, বিয়ে। যোগ্যতা থাকলে প্রেম করে সময় ক্ষেপন কেন?

'ঈদ বরিশালেই করবেন?'
'হুম। আপনি বাড়ি যাচ্ছেন কবে?'
'১৪ তারিখ নাইটে। মেজো ভাই গাড়ি নিয়ে যাচ্ছে, আমাকে পিক করে নেবে এখান থেকে।'
'কতদিনের ছুটি?'
'লম্বা ছুটি। দশ দিন।'
'বাহ। ঘোরাঘুরি হবে?'
'প্ল্যান আছে। আশে পাশের তিনটা জেলা ঘুরে দেখার প্রস্তুতি নিচ্ছি - দেখা যাক কতটুকু পারি।'
'সিনেমা নিয়ে লিখবেন না?'
'অবশ্যই। 'সে আমার মন কেড়েছে' নিয়ে লিখবো ভাবছি।'
'তিন্নির সিনেমা?'
'হুম।'

আমি জানি না কিভাবে যেন হঠাৎ আমাদের এই কথাবার্তা বন্ধ হয়ে গেল। ইয়াসমিন দুম করে অফলাইনে চলে গেল। আমি যে চাকরী পেয়েছি সেটা তাকে জানাতেই পনেরোদিন পার।  ইয়াসমিনের ফোন নাম্বার আমার কাছে নেই, প্রয়োজন হয় নি কখনো। আমি সারাদিনই অনলাইনে থাকি। ২৪ ঘন্টা। কিন্তু ইয়াসমিন অনলাইনে এল না। আমার অফলাইন মেসেজের রিপ্লাই ও দিল না। একদিন এল। সামান্য কথাবার্তার পরেই চলে গেল। চাকরীর খবর শুনে কনগ্রাচুলেশন্স দিল, অন্যরা যেভাবে দেয়। আবার দেখা হল অনলাইনে, অনেকদিন বাদে, তেমন জমলো না। কিন্তু আমার বুকের ভেতর ধ্বক্ বন্ধ হল না। ইয়াসমিনের সাথে এত অল্প সময় কথা হতো যে তাকে কিছু বলার পরিবেশটুকুও তৈরী হত না। অদ্ভুত! খুবই অদ্ভুত!!

'কাজ শেষ হলো? শোবে না?'
'এই আরেকটু।'

সমকালে প্রকাশের জন্য বলিউডের অ্যাকশন সিনেমাগুলো নিয়ে একটা লেখা তৈরী করেছিলাম বেশ কিছুদিন আগে। সেটাই এবার ঈদের সময় ব্লগে দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি। ঈদে লিখালিখির জন্য খুব বেশী সময় পাওয়া যাবে না, পরিবারের সবার সাথে দিনের বেশীরভাগ চলে যায়। পাঠকের জন্য ঈদ গিফটের আগাম প্রস্তুতি। সাজানো শেষ, এখন পাবলিশ বাটনে ক্লিক করলেই হবে।

'ইয়াসমিন এবার যাই, ঘুম পাচ্ছে।'
'ওকে।'
'ভালো থাকবেন। আল্লাহ হাফেজ।'
'বাই।'
আমি 'গো অফলাইন' এ ক্লিক করলাম।

আমার ঘুম পাচ্ছিল না, তবে ঘুম দরকার। সকালে উঠতে হবে। রাতে ঘুমিয়েছি দেরী করে। আড়াই ঘন্টা ঘুমিয়ে সেহরীতে উঠে খেয়ে নামাজ পড়ে ব্লগটা সাজিয়ে নিচ্ছিলাম। লাবনী সব গুছিয়ে এই মাত্র শুয়ে পড়েছে।  শার্লক টিভি সিরিজ ডাউনলোড চলছে, তাই শুধু মনিটরটা বন্ধ করলাম।

লাবনী গুটিশুটি মেরে চোখ বন্ধ করে শুয়ে ছিল। আমি ওকে জড়িয়ে ধরে শুয়ে পড়লাম।  লাবনী হাতটা জড়িয়ে ধরে একটু সরে আমার গভীরে ঢুকে পড়ল।

=========
আমি বাদে বাকি চরিত্র কাল্পনিক/নাম পরিবর্তিত। ইয়াসমিনের খোজে ফ্রেন্ডলিস্ট ঘুটা দেয়ার দরকার নাই। ধন্যবাদ। - দারাশিকো

রবিবার, ৫ আগস্ট, ২০১২

The Good, The Bad, The Weird: ওরিয়েন্টাল ওয়েস্টার্ন সিনেমা

কালজয়ী সব ওয়েস্টার্ন সিনেমার নির্মাতা সার্জিও লিওনি পরিচালিত 'দ্য গুড, দ্য ব্যাড অ্যান্ড দ্য আগলি' সিনেমাটি শুধু ওয়েস্টার্ন ঘরানার ক্ষেত্রেই নয়, বিভিন্ন ক্যাটাগরীতে বিশ্বের সেরা সিনেমাগুলোর তালিকায় সামনের দিকে অবস্থান করে। সার্জিও লিওনির সবগুলা সিনেমা দেখলে তার নির্মান স্টাইল বোঝা সম্ভব হয়, গুড-ব্যাড-আগলি তার নির্মানপদ্ধতি থেকে ব্যতিক্রম কিছু নয়। তিনটি চরিত্র - একজন গুড, একজন ব্যাড এবং আরেকজন আগলি - তারা লুকায়িত সম্পদের দখল নেয়ার জন্য চেষ্টা চালায়। 'দ্য গুড' চরিত্রে অভিনয়ের জন্য ওয়েস্টার্ন সিনেমার হিরো হিসেবে ক্লিন্ট ইস্টউড সিনেমার ইতিহাসের পাতায় স্থান করে নিয়েছে। সার্জিও লিওনীর গুড-ব্যাড-আগলি থেকেই অনুপ্রাণিত হয়ে কোরিয়ান নির্মাতা কিম জি-উন ২০০৮ সালে নির্মান করেছেন 'দ্য গুড দ্য ব্যড দ্য উইয়ার্ড'। প্রায় একই নাম ও বিষয়বস্তু নিয়ে নির্মিত এই দুই সিনেমার মধ্যে বিস্তর ফারাক কিন্তু দুটোই সমান উপভোগ্য।

বুধবার, ১ আগস্ট, ২০১২

জঙ্গলে, চা-বাগানে, চিড়িয়াখানায়, সিনেমাহলে


ভারতের একটি রাজ্য সিকিম এক সময় স্বাধীন রাষ্ট্র ছিল। স্বাধীন রাষ্ট্র থাকা অবস্থায় সত্যাজিত রায় সিকিমের উপর একটি ডকুমেন্টারী তৈরী করেছিলেন, উদ্দেশ্য ছিল সিকিমের সৌন্দর্য্য বিশ্বের কাছে তুলে ধরা, এতে করে সিকিমের পর্যটন শিল্প কিছুটা বিকশিত হবে। কিন্তু নানা জটিলতায় এই ডকুমেন্টারীটি প্রকাশিত হয় নি, একে নিষিদ্ধ ঘোষনা করা হয় এবং ১৯৭৫ সালে, সিকিম সরকারে আবেদনের প্রেক্ষিতে, সিকিম ভারতের বাইশতম অঙ্গরাজ্য হিসেবে ভারতে অন্তর্ভূক্ত হয়।
বাংলাদেশ যদি ভারতের অংশ হয়ে যায় তবে কেমন হবে? লাভ না ক্ষতি?


জ্যাকের সাথে এই নিয়ে কথাবার্তা শুরু হয়েছিল সিলেট থেকে জাফলং এ যাওয়ার পথে। প্রশ্নটা আমিই করেছিলাম - যখন দূরে ভারতের পাহাড়গুলো দেখা যাচ্ছিল, আর বিশাল বিশাল তিনটি ঝর্ণা। বাংলাদেশ যদি ভারতের অংশ হতো তবে ওই ঝর্ণাগুলো দেখার জন্য ঢাকার ইন্ডিয়ান দূতাবাসের সামনে ঘন্টার পর ঘন্টা দাড়িয়ে ভিসা সংগ্রহ করে, তামাবিল হয়ে আসাম রাজ্যে যেতে হত না। জাফলং থেকে ফেরার পথেই তামাবিল হয়ে আমরা চলে যেতে পারতাম ওই ঝর্ণাগুলোর পাদদেশে। ঠিক এই মুহূর্তে সীমান্তটা তুলে দেয়া সম্ভব কিনা, তুলে দিলে আমাদের লাভ না ক্ষতি, হলে কতটা - সে নিয়ে জ্যাকের মতামতটা জানার আগ্রহ থেকে এই প্রশ্ন। আলোচনা যদিও সিলেটে শুরু হয়েছিল এবং আমরা এখন মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে, তারপরও চিন্তাটা আমার মাথায় ঘুরপাক খেয়ে যাচ্ছে বারবার। দারাশিকো'র বঙ্গভ্রমনে দারাশিকো'র সাথে আপনারা এখন আছেন মৌলভীবাজারে।
পরিকল্পনা ছিল, সকাল ছটায় ঘুম থেকে উঠে তারপর মাধবকুন্ড ঝর্ণা দেখতে চলে যাবো, ফেরার পথে লাউয়াছড়ার জঙ্গলে। ফজরে ঘুম থেকে উঠে দেখেছি সবাই গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। ছটায় অ্যালার্মে জেগে উঠে দেখলাম ঘুম এখনো ভাঙ্গে নি, আমি আবার ঘুমোলাম। মাঝে আরও দুবার বিরতি দেয়ার পরে বিছানা যখন ছাড়লাম তখন ঘড়িতে নটা, বাইরে ভীষন বৃষ্টি। এক বর্গগজের পাতলা পলিথিন এই বৃষ্টিতে চলবে না। সুতরাং, ভীষন বৃষ্টি থেকে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টিতে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হল। তারপর সবাই মিলে গায়ে নীল পলিথিন জড়িয়ে হোটেলের দিকে এগোলাম। সবার পায়ে স্যান্ডেল, আমার পা খালি। গতকালকের বৃষ্টিতে কাপড়ের জুতা ভিজে চুপসে গেছে, কড়া রোদ ছাড়া এই জুতা শুকাবে না, তাই খালিপায়েই বেরোতে হল। কোন এক দোকান থেকে একজোড়া স্যান্ডেল কেনা যাবে।
বাংলাদেশ নামের একটি দেশ দুম করে ভারতের অংশ হয়ে যাবে - এমনটি ভেবে নেয়া খুব সহজ ব্যাপার না। মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারত বাংলাদেশকে সহযোগিতা করেছে বলে আমাদের প্রতি ভারতের এক ধরনের অধিকার আছে এবং এ কারণেই তাদের অনেক অনায্য আচরণ আমাদের মেনে নেয়া উচিত - এমন চিন্তাভাবনা করতে দেখেছি পরিচিত কিছু মানুষকে। ভারতবিদ্বেষী মনোভাবাপন্ন লোক কম দেখা হয় নি। ভারতকে টুকরো টুকরো করে আসাম, ত্রিপুরা, পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে নতুন এক বাংলাদেশ তৈরীর ব্যাপারে আগ্রহী কিছু মানুষও দেখার সুযোগ হয়েছে - এই তিনপক্ষের কারও পক্ষেই বাংলাদেশ ভারতের অংশ হয়ে যাবে - এমনটি ভাবা সম্ভব নয়। অথচ, কোনভাবে যদি বাংলাদেশ ভারতের সাথে যোগ দেয়, তবে কত কত সুবিধা পাওয়া যাবে এই নিয়ে আমাদের আলোচনা চলল। পৃথিবীর ভবিষ্যত সুপারপাওয়ার রাষ্ট্রগুলোর একটি হওয়া যাবে, পৃথিবীকে প্রভাবিত করছে এমন একটা সংস্কৃতির অংশ হওয়া যাবে, ভারতের দালাল বলে কাউকে গালি দিতে হবে না, টিপাই নদীর মুখে বাধ দিয়ে ভারতের আরেকটা রাজ্যকে ধ্বংস করার কার্যক্রম চালাতে হবে না ভারতকে, বর্ডারে কোন রক্ষী থাকবে না- ফলে পাখি শিকারের মত করে মানুষ মারতে হবে না, সীমান্ত পারাপার করতে গিয়ে দেশের সম্পদের অপচয় হবে না, ভারতীয় পন্যে দেশ সয়লাব হওয়ার কোন আশংকাও থাকবে না ইত্যাদি ইত্যাদি। সুতরাং ভারতের সাথে যুক্ত হয়ে যাওয়াই কি ভালো নয়?
একশ টাকা দিয়ে একটি সিএনজি ভাড়া করে আমরা পাচজন চলে এলাম লাউয়াছড়ার জঙ্গলে। ছাত্রদের জন্য টিকিটমূল্য অর্ধেক হওয়ায় ৫০ টাকায় পাচজন ঢুকে পড়া গেল। জঙ্গলে প্রবেশের জন্য গাইড নেয়া যেতে পারে, কিন্তু আমরা কাউকে নিলাম না। তাদের মূল্য ব্ড্ড বেশী। জঙ্গলের একদম শুরুতেই গেটেরও বাহিরে একটা ম্যাপ আছে। সেই ম্যাপে বিশালাকৃতির জঙ্গলের পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে, আছে রাস্তার পরিচয়। লাউয়াছড়ার জঙ্গলে ঘোরার জন্য আছে তিনটি পথ। এদেরকে ট্রেইল হয়। তিনটি ট্রেইল তিনটি দুরত্বের। প্রথম ট্রেইল আধাঘন্টার রাস্তা অর্থ্যাৎ এই ট্রেইলের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ঘুরে আসতে স্বাভাবিক ভাবে আধাঘন্টা সময় লাগবে। দ্বিতীয় ট্রেইলটি এক ঘন্টা দূরত্বের, তৃতীয় ট্রেইলটি তিন ঘন্টার। প্রতিটি ট্রেইলের বিভিন্ন অংশে বিভিন্ন রকম অভিজ্ঞতা হবে। যেমন কোন অংশে গেলে পাখিদের কলকাকলী, কোন অংশে পাহাড়ি ছড়া, কোথাও বাশবাগান, কোথাও দেখা যাবে বনের উল্লেখযোগ্য প্রাণী উল্লুক। আপনি কোন ট্রেইলটা ঘুরে আসবেন সেটা আপনার ইচ্ছা, তবে ম্যাপ দেখে বুঝলাম তিন ঘন্টার ট্রেইলটি লাউয়াছড়া জঙ্গলের সীমানা দিয়ে চলেছে, আধাঘন্টার ট্রেইলটি খুবই ছোট এবং মহিলা/শিশুদের নিয়ে ঘুরে আসার উপযোগী এবং সম্ভবত এক ঘন্টার ট্রেইলটিও যদিও আমাদের অভিজ্ঞতা খুব সুখকর নয়।
মূল গেটের বাহিরে তিনটি ট্রেইলই চিহ্নিত করা আছে এই ম্যাপে। অবশ্য তিনটি ম্যাপ মাথায় নিয়ে চলা কষ্টকর



এক ঘন্টার ট্রেইলে আমরা যাবো এমন সিদ্ধান্ত আমরা হোটেল থেকে বের হবার সময়ই নিয়েছিলাম। সুতরাং ম্যাপকে মাথায় নিয়ে আমরা ভেতরে ঢুকলাম। বৃষ্টি বলে ভ্রমণপিয়াসীদের সংখ্যা খুবই কম। সব মিলিয়ে জনা পনেরোর বেশী মানুষের সাথে দেখা হল না। মানুষ কম হবার কারণেই বোধহয় এক ঘন্টার ট্রেইলের প্রবেশমুখ আমরা খুজে পেলাম না। ম্যাপের সাথে জঙ্গলের রাস্তার কোনই মিল যখন করতে পারছি না তখন একজন গাইডকে ডেকে জিজ্ঞেস করলাম এক নাম্বার ট্রেইলের অবস্থান। সে ছুটি গল্পের ফটিকের মতই জানিয়ে দিল - ওই হোথা। তারপর আরেকটু যোগ করে দিল - 'না যাওয়াই ভালো।' 'ক্যান ক্যান ক্যান?' 'রক্ত দান করতে হবে'। আমরা হাসি মনে মনে - হুহ, ব্যাটা আমাদের জোকের ভয় দেখায়। কদিন আগেই কিনা আমরা বান্দরবান ঘুরে এসেছি, আর এখন জোকের ভয়ে জঙ্গলে ঢুকবো না - হাস্যকর।
জোকের ভয়ে আমরা জঙ্গলো ঢোকা বন্ধ করিনি বটে কিন্তু গাইডের 'ওই হোথা' খুজে বের করতে আমরা আরও দুইবার পথ ভুল করে তারপর ট্রেইলে ঢুকে পড়লাম। বিশ্বাস করুন আর নাই করুন, ট্রেইলে ঢুকতে হয় ঘাড় বাকিয়ে, নিচু করে। পায়ে চলা রাস্তাটা দেখে আমরা বুঝতে পারছি এই রাস্তায় আগেও অনেক মানুষ এসে গিয়েছে, কিন্তু চারিদিকের গাছপালা পথটাকে কোথাও কোথাও এমনভাবে ঢেকে রেখেছে যে ঘাড় বাকিয়ে, মাথা নিচু করে, হাত দিয়ে সতর্কতার সাথে ডালপালা-কাটাগাছ সরিয়ে এগোতে হল। ভরা বর্ষায় জঙ্গলের যৌবন এখন উপচে পড়া, ভরভরন্ত। অযত্ন আর অবহেলায় গাছপালা-লতাপাতা তাদের শরীর বাকিয়ে দিয়েছে, উপুর করে দিয়েছে, পায়ে চলা মেঠোপথকে ঢেকে দিয়েছে। পায়ের নিচে অল্প কাদাটে মাটি, কোথাও কোথাও পানি জমে গিয়েছে। সাবধানে বাচিয়ে চলতে হচ্ছে কারণ বেত গাছের কাটা কোথাও কোথাও আমাদের শরীরের পলিথিন টেনে ধরতে চায়, শরীরের উন্মুক্ত অংশে খোচা দেয়। বৃষ্টির কারণে জঙ্গলের সৌন্দর্য পুরোপুরি উপেক্ষিত, কোন পাখি ডাকছে না, বনের উল্লেখযোগ্য প্রাণী উল্লুকের দেখাও পাওয়া যায় না, তারপরও এই দুর্গম জঙ্গলে প্রবেশ এক বিন্দুও হতাশার জন্ম দিচ্ছে না।
একটু পরেই আমরা খোলা জায়গায় বেরিয়ে এলাম। সামনে একটা ছড়া। বেশ চওড়া। তার উপর কাঠের তৈরী একটি সেতু। নিচে সাদা বালির মাঝ দিয়ে ঝির ঝির করে পানি বয়ে যাচ্ছে। সেতুর উপরে নীল পলিথিনে ঢাকা চার বালকের ছবি তুললাম। মনে হল, নিচে গিয়ে সেতুতে দাড়ানো অবস্থায় চার বালকের ছবি নিলে ভালো হবে। নেমে পড়লাম। ছবিও তুললাম। তারপর টের পেলাম আমার বাম পা বালিতে স্থির থাকলেও ডান পা ডেবে যাচ্ছে। অথচ, দুজায়গার বালিতে কোনই পার্থক্য নেই। চোরাবালি! ডান পা'টা তুলে আরেক জায়গায় রাখলাম, শক্ত ভিত্তি পাওয়া যাচ্ছে। বাম পা'টা তুলে এক ধাপ এগিয়ে রাখতেই ডেবে গেল। পানি নেই, অথচ পা বালিতে ডেবে যাচ্ছে - এ বিষয়টা আমার কাছে বেশ বিস্ময়কর। আমি বালকদের বলে যাচ্ছি - এই পা'টা চোরাবালিতে আছে, এই পা'টা নাই - কিন্তু বুঝতে পারছি আমার কন্ঠের উদ্বেগটা তাদের স্পর্শ করছে না। এক পা চোরাবালিতে দিয়ে দাড়িয়ে আছি - এই বিষয়টা যতটা না টেনশনের তারচে বেশী রোমাঞ্চকর। আর বাহাদুরির সাহস হল না, উঠে আসলাম। কক্সবাজারে চোরাবালিতে কিভাবে মানুষ ডুবে যায় তার অভিজ্ঞতা অর্জন হয়ে গেল। হয়তো চোরাবালিটা খুব বেশী গভীর ছিল না, কিন্তু চোরাবালির কার্যপদ্ধতিটা জানা হয়ে গেল।

জঙ্গলের ভেতর ছড়া


কাঠের তৈরী সেতুর উপর চার বালক। আমি দাড়িয়ে আছি চোরাবালিতে এক পা রেখে !

উপর থেকে চোরাবালির ছবি


বাংলাদেশ যদি ভারতে অংশ হয়ে যায় তবে কি হবে সেই্ কথাটা শেষ করি, তারপর ভ্রমণ বর্ণনা। অনেক অনেক সুবিধা পাওয়া যাবে হয়তো, কিন্তু সমস্যাও হবে। বর্তমান জেনারেশনকে অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। তাদেরকে বাচতে হবে ভারতীয়দের করুনার পাত্র হয়ে। অধিকারটুকু আদায় করতে হবে এক প্রকার লড়াই করে। দেশভাগের পরে এপাড়ের হিন্দুরা ওপাড়ে গিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করেছিল সেরকম। এই কষ্টকর জীবন চলবে বড়জোর পঞ্চাশ বছর। এই পঞ্চাশ বছর শেষে সম্পূর্ন নতুন একটা জেনারেশন আসবে ভারতে, তাদের জন্ম হবে ভারতে। একটা স্বাধীন দেশ থেকে এসে তাদের পূর্ববর্তী জেনারেশন অনেক বঞ্চনা সয়ে তাদের জন্য পরিবেশ তৈরী করে গিয়েছে - এই বিষয়টা তাদের পক্ষে উপলব্ধি করা সম্ভব হবে কিনা জানি না, তবে তারা তখন যে কোন ভারতীয়র মত সমান সুবিধা সুযোগ আদায় করে নিতে পারবে এমনটি নিশ্চিত। জ্যাক এই বিষয়ে সন্দেহ পোষন করে, সে মনে করে এমনটি হবে না। দ্বিতীয় জেনারেশনও শান্তি পাবে না। আমি বলি পাবে। উদাহরণ? আমেরিকা-কানাডা-ব্রিটেনের দিকে তাকালেই পাওয়া যাবে। ওখানে দ্বিতীয় জেনারেশন যতটা না বাংলাদেশী তারচে বেশী আমেরিকান, কানাডিয়ান, ব্রিটিশ। সুতরাং, ভারতীয় হতেও খুব একটা কষ্ট হবে না। এই যুক্তিতে জ্যাক সম্মত হয় না কিন্তু খুব প্রতিবাদও করে না - এ বিষয়ে প্রতিবাদ করতে হলে তাকে আরও ভাবতে হবে।
লাউয়াছড়া বন নিয়ে আসুন একটু পড়াশোনা করে নিই। উইকিপিডিয়া থেকে তুলে দিলাম।
বাংলাদেশের বিখ্যাত বনগুলোর মধ্যে লাউয়াছড়ার বন অন্যতম। পরিচিতির দিক থেকে সুন্দরবনের পরেই লাউয়াছড়ার বনের অবস্থান। সিলেট বিভাগে মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায় এ বন অবস্থিত। ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দে তদানিন্তন ব্রিটিশ সরকার এখানে বৃক্ষায়ন করলে তা-ই বেড়ে আজকের এই বনে পরিণত হয়। শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলার মৌলভীবাজার ফরেস্ট রেঞ্জের আওতাধীন ২,৭৪০ হেক্টর আয়তনের পশ্চিম ভানুগাছ সংরক্ষিত বন ছিলো এলাকাটি, সেই সুবাদে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের পূর্ববতী নাম পশ্চিম ভানুগাছ সংরক্ষিত বন। বনের অস্তিত্ব ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার পাশাপাশি প্রকৃতি ভ্রমণ ও জনসচেতনতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে পশ্চিম ভানুগাছ বনের ১,২৫০ হেক্টর এলাকাকে ১৯৭৪ খ্রিষ্টাব্দের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ) (সংশোধন) আইন অনুযায়ী ১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দে 'জাতীয় উদ্যান' হিসাবে ঘোষণা করা হয়।
চিরহরিৎ এ বনে নিরক্ষীয় অঞ্চলের বর্ষাবন বা রেইনফরেষ্টের বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হয়। একসময় বৃহত্তর সিলেটের সর্বত্রই এ ধরণের বন ছিলো। তবে বানিজ্যিক চা বাগান সৃষ্টি, ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপ এবং নির্বিচারে গাছ কাটার ফলে ক্রমে সংকুচিত হতে হতে মাত্র কয়েকটি স্থানে চিরহরিৎ এ বর্ষাবনের অস্তিত্ব টিকে রয়েছে।

কাঠের তৈরী সেতু পেরিয়ে আমরা আরও গভীরে ঢুকে পড়লাম। গভীর মানে লেখালিখির গভীর নয়, সত্যিকারের গভীর। এক জায়গায় গিয়ে আমাদের আক্ষরিক অর্থেই বসে বসে এগোতে হল। গাছের ডালপালা আর বেতগাছের কাটা এমনভাবে রাস্তা ঢেকে রেখেছে যে বসে এগোলেও মাথায় ডাল লেগে যায়। পায়ে দুটো জোক ধরেছে, দুবারে ছাড়িয়েছি। জ্যাকের পায়ে ধরেছিল একটা, তাকে দেখিয়ে দিয়েছি। জোক কোন সমস্যা না। সমস্যা হল আমরা পথটা চিনতে পারছি না। পায়ে চলা পথ যেদিকে গেছে আমরাও সেদিকে গেছি। হাতের কাছে ম্যাপটা নেই, ম্যাপের মধ্যে শুধূ ট্রেইলের রাস্তাটাই দেয়া আছে, অন্য কিছু দেয়া নেই। সুতরাং ট্রেইল যদি কোন দিকে বাক নেয় তবে আমরা সেটা বুঝতে পারবো না। এবং ঠিক এই ঘটনাটাই ঘটল। এক জায়গায় এসে ট্রেইল দুভাগ হয়ে দুদিকে গেছে দেখে আমাদের দাড়াতে হল। ডানপন্থীরাই ভালো, সুতরাং ডানের রাস্তা বেছে নিলাম। বহুদূর যাবার পরে হঠাৎ-ই রাস্তা গায়েব হয়ে গেল। সত্যি সত্যিই গায়েব, কোনই চিহ্ন নেই। আবার পিছু ফিরতে হল। এবার বামপন্থী। কিন্তু এই রাস্তা একটু গিয়েই শেষ। এখন উপায়? মধ্যমপন্থী হবার চেষ্টা করলাম, কোন রাস্তাই পাওয়া গেল না। আমাদের বর্তমান অবস্থাকে আঞ্চলিক ভাষায় 'ব্যাক্কেল' অবস্থা বলে। এতদূর এসে এখন আর এগোতে পারছি না, অথচ জানি সামনে কোথাও এই রাস্তাটা পিচঢালা হাইওয়ের সাথে মিশবে। কিন্তু কোথায় সেই রাস্তা? ঝোপঝাড় ঠেলে এগোব, সেটাও সম্ভব নয়, কারণ হাতে কোন কিছুই নেই। ডানদিকে যাবো না বামদিকে সেটাও জানি না। বালকদের একজনের কাছে স্যামসাঙের গ্যালাক্সিট্যাব টাইপের কি জানি এক মোবাইল। সেখানে জিপিএস দিয়ে গুগল ম্যাপে অবস্থান চিহ্নিত করা যায়। বিশাল সুবিধা এর। ডানে বামে কি আছে তা ম্যাপেই দেখে ফেলা সম্ভব। অথচ এই জঙ্গলে সেই ম্যাপ কাজ করছে না। নেটওয়ার্ক নেই।
১৯৫৬ সালের অ্যারাউন্ড দ্য ওয়ার্ল্ড ইন এইটি ডেজ সিনেমার শ্যুটিং হয়েছিল এই রেল লাইনে। দেখে নিন।

শেষ পর্যন্ত আধাঘন্টার ট্রেইলেই ঘুরে আসতে হল


আফ্রিকান টিকওক গাছ
অত্যন্ত লজ্জাজনক ব্যাপার, কিন্তু অস্বীকার করাও ঠিক হবে না, আমরা এক ঘন্টার ট্রেইল শেষ না করেই পিছু ফিরে এলাম। তারপর রেললাইনের ধারে গিয়ে ছবি তুললাম। তারপর আধাঘন্টার ট্রেইলে ঢুকে ঘুরে বের হয়ে এলাম। ব্যর্থতার কারণে মন বেশ হতাশ। কিন্তু আমি মনে মনে প্রতীজ্ঞা করে ফেলেছি - নেক্সট যদি আবার লাউয়াছড়ায় আসতেই হয় তবে অবশ্যই বর্ষাকালে আসবো এবং অবশ্যই এক ঘন্টার ট্রেইলে আবারও ঢুকবো। জঙ্গলের এই উদ্ধত যৌবন আমার বেশ ভালো লেগে গেছে।

২.
ট্রাকে ভ্রমনের অভিজ্ঞতার সাথে অন্য কোন বাহনের অভিজ্ঞতা তুলনীয় নয়।
পড়াশোনার উদ্দেশ্যে ঢাকায় চলে আসার পর হুট হাট করে চট্টগ্রাম চলে যেতাম। ঢাকায় মন টিকছে না কিংবা হঠাৎ মনে হল, 'যাই চিটাগাং', ব্যস সায়েদাবাদ গিয়ে গাড়িতে উঠে পরলাম। একদিন বিকেলের দিকে এমনটি মনে হওয়ায় আমি আর নেজাম চলে গেলাম সায়েদাবাদ এবং দেখলাম নাইটকোচ ছাড়া এই মুহূর্তে চট্টগ্রামগামী কোন বাস নেই। রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করার কোন মানে হয় না, ফেনীর মহিপালগামী একটা লোকাল বাসে উঠে পড়লাম। মহীপালে যখন নামলাম তখন বাজে রাত দশটা এবং সরাসরি চট্টগ্রাম যাবে এমন কোন বাস নেই। লোকাল বাসের জন্য অপেক্ষা করছি এমন সময় একটি ট্রাক 'চট্টগ্রাম-চট্টগ্রাম' বলে হাক দিচ্ছে দেখে উঠে পড়লাম। সে এক অবিস্মরনীয় অভিজ্ঞতা। মজবুত গাড়ি, কোন ভয়ডর লাগে না ভেতরে বসলে। সবচে ইন্টারেস্টিং হল ড্রাইভারের সিট। মনে হচ্ছে সেটি একটি স্প্রিং এর উপর তৈরী। ড্রাইভার একবার সামনে একবার পেছনে, একবার ডানে একবার বামে - এভাবে দুলছে। আমরাও দুলছিলাম, কিন্তু ড্রাইভারের মত নয়। সাড়ে বারোটায় জিইসি'র মোড়ে নামিয়ে দিয়েছিল সেই ট্রাক।

লাউয়াছড়ার জঙ্গল থেকে ফেরার সময় আমাদের এই একই সমস্যায় পড়তে হল। গাড়ি নেই। বৃষ্টি, দুএকটা সিএনজি অটো দেখতে পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলো রিজার্ভ। দুএকটা গাড়িও দেখা যাচ্ছে, সেগুলোও। দাড়িয়ে আছি, মাধবকুন্ড যাবার পরিকল্পনা বাতিল করা ছাড়া উপায় নেই, কারণ শ্রীমঙ্গল থেকে ওদিকে কোন বাস বা অন্য গাড়ি যেতে দেখছি না। অপেক্ষা করছি। হঠাৎই একটা সাদা পিকআপ দেখা গেল। শ্রীমঙ্গলের দিকে যাচ্ছে। 'নিয়ে যাবেন?' 'কয়জন?' 'পাচ' - ড্রাই্ভার মাথা কাত করে হ্যা জানিয়ে দরজা খুলতে চাইল, কিন্তু আমরা পাচজনই পেছনে চড়ে বসলাম। জঙ্গলের মাঝ দিয়ে দুর্দান্ত গতিতে ছুটে যাচ্ছে গাড়ি, বৃষ্টি হচ্ছে ঝিরঝির, আমাদের গায়ের নীল পলিথিন উড়ে ছুটে পালিয়ে যেতে চাচ্ছে, বৃষ্টির ছাট প্রচন্ড গতিতে আমাদের মুখে আঘাত করছে বলে আমরা চোখ বন্ধ করে আছি কিন্তু দাতগুলো বের করে হাসতে হাসতে একহাতে গাড়ির বডি অন্য হাতে পলিথিন আকড়ে ধরে ছুটে চললাম শ্রীমঙ্গলের দিকে। বালকরা মোবাইলের ক্যামেরায় ছবি তুলতে লাগল - এই অভিজ্ঞতা মোবাইলে যদি বন্দি নাই করা যায় তবে এত দামী মোবাইল কেন?

বালকের তোলা ছবি
দুই কিলো আগে থাকতেই আমরা নেমে পড়লাম গাড়ি থেকে। চা বাগান। বাংলাদেশ চা গবেষনা ইন্সটিটিউট (বিটিআরআই)। যে সময়ে চা বাগানে এসেছি সেটা সঠিক সময় নয়। বাগানে কোন কুলি নেই, কামিন নেই। এখন চা পাতা গজাচ্ছে, পাতা তোলা হবে আরও কয়েকমাস পর থেকে। তাই বাগান একদম ফাকা। আমরা একদম ভেতরে চলে এলাম। বিটিআরআই এর অফিসের গেটে কয়েকজন ভদ্রলোক দাড়িয়ে ছিলেন। একজন এগিয়ে এসে জিজ্ঞেস করলেন, 'পাতা লাগবে? এক নাম্বারটা দেবো।' এই ধরনের আহবানে আমি সবসময়ই নির্লিপ্ত। একা থাকি, এই চা পাতা নিয়ে কাউকে দেবো সে সুযোগও নেই। বালকরা তাদের পরিবারের সাথে থাকে, চিন্তা ভাবনা করছে কিনবে কি কিনবে না - এমন সময়ই দেয়ালের গায়ে সাইনবোর্ডটা চোখে পড়ল - 'এখানে চা পাতা বিক্রয় করা হয় না। চা পাতা কিনে প্রতারিত হবেন না' (একটু এদিক সেদিক হতে পারে, ছবি নেই)। এই কথার পর আর দাড়ানো চলে না। আমরা আরও ভেতরে গেলাম।

তৈরী হচ্ছে সেতু। শীতকালে এর উপর দিয়ে গাড়ি যাবে, বর্ষাকালে নিচ দিয়ে যাবে খরস্রোতা কাদামাখা ঘোলাটে পানির ঢল

চা বাগানের ছবি না দেয়াটা ঠিক হবে কি?

চা বাগানের রাস্তায়
চা বাগানের এক দিকে থাকে বাংলোগুলো, সেখানে কর্মকর্তারা থাকেন তাদের পরিবার নিয়ে। এই বাংলোগুলোর ডিজাইন প্রায় সব জায়গায়ই একরকম। সম্ভবত বৃটিশ আমলে এইভাবে বাংলোগুলো তৈরী করা হত। এই চা বাগান আর বাংলোগুলো দেখলে মনে হয় অনেক চেনা। কারণ কি? সমরেশ মজুমদারের বই 'উত্তরাধিকার'। অনিমেষ/অনি ডুয়ার্সে এই ধরনের চা বাগানে বড় হয়েছিল, তার হিরো ছিল দাদু। কুলি কামিনদের বস্তি আর চা বাগানের বাবুদের বাংলো - ডুয়ার্স আর শ্রীমঙ্গলে বোধহয় কোন পার্থক্য নেই। কল্পনায় আকা ছবির সাথে এই ছবির বড্ড বেশী মিল। বাংলাদেশী কোন্ লেখক চা বাগান নিয়ে এত বিস্তারিত লিখেছেন?
জনপ্রতি দুই টাকা দিয়ে বাসে করে ফিরলাম শ্রীমঙ্গলে।
শ্রীমঙ্গলে হোটেলে খেতে বসে দেখা গেল গরু পাওয়া যায় না। দু:খজনক, খুবই দু:খজনক। কেন? এখানে নাকি প্রায় সিক্সটি পার্সেন্ট হিন্দু। তাই গরু তেমন চলে না। গরু পেতে হলে একটু নিম্নমানের হোটেলে যেতে হবে। বিশেষ করে সাতকড়া দিয়ে রান্না করা গরু সেইসব হোটেলের জনপ্রিয় খাবার। আমাদের খাওয়া হল না সেই সুস্বাদু (শোনা কথা) গরুর মাংস।

শ্রীমঙ্গলের বেশ পরিচিত চিড়িয়াখানার নাম হল শীতেষ বাবুর মিনি জু। তার পুরো নাম শীতেষ রঞ্জন দে। ভদ্রলোক সম্ভবত শিকারী ছিলেন। ভালুকের থাবায় তার এক চোখ নেই। চিড়িয়াখানায় ঢোকার অনুমতি ছিল না, বৃষ্টিতে কাদা হয়ে আছে। অনুরোধে খুলে দেয়া হল। নানা প্রজাতির প্রানী, প্রায় সবই ঢাকা চিড়িয়াখানায় পাওয়া যায়। যা পাওয়া যাবে না সেরকম একটা হল সোনালী বাঘ (ছবি তুলি নাই)। আরেকটার নাম ভুলে গেছি। ঢাকা চিড়িয়াখানার থেকে এখানে জানোয়ার দর্শনের অভিজ্ঞতা একটু ভিন্ন। ঢাকায় চিড়িয়াখানার খাচার বাইরে একটা বাউন্ডারি থাকে নিরাপত্তার জন্য। এখানে সেটা নেই। ফলে মনে হয় না খাচায় দেখছি। বেশ উৎফুল্ল ভঙ্গিতে ভাল্লুকটা ঘুরে বেড়াচ্ছিল বলে তার ছবি তুলতে গেলাম। হাত খাচার বাইরেই ছিল, কিন্তু ভাল্লুকটা থাবা বাড়িয়ে দিল হঠাৎ। ধক্ করে উঠেছিল কলিজা! ছবিটাও নড়ে গেল।

হাত কেপে যাওয়ায় ছবি ঝাপসা হয়ে গেল
সিলেট বলেন আর শ্রীমঙ্গল - দুই থেকে সাত রং চায়ের কথা শুনতে শুনতে মাথা নষ্ট হয়ে যাবে। কুমিল্লার সব মাতৃভান্ডারই যেমন অরিজিনাল, এখানেরও সব চা'ই অরিজিনাল। তবে শ্রীমঙ্গলে নীলকন্ঠ (ঠিক আছে তো??) বলে একটা দোকান আছে, যেটায় প্রথম এই চা বানানো হয়েছিল, সেটা রিকশাওয়ালারা বেশ ভালো চিনে। বিকেলে গেলাম সেখানে। নানান রং এর চা পাওয়া যাচ্ছে। এক রঙ এর চা আছে তিন ধরনের তার একটা আবার পানির রং এর। আমি দুধের মালাই চা'য়ের অর্ডার দিলাম। বাকীরা এক এক রকমের চা। এবং সবাই মিলে একটা সাত রং এর চা। রং হিসেবে দাম। প্রতি রং দশ টাকা। প্রায় বিশ মিনিট অপেক্ষা করার পর চা এসে গেল। খাবো কি - ছবি তুলতেই ব্যস্ত হয়ে পড়লাম সবাই।

সাত রং এর চা
আমার ছুটি ফুরোলো। বালকরা থাকবে আরও একদিন, মাধবকুন্ড যাবে, পরীকুন্ড যাবে। আমার বস ছুটি দিল না। গোলামের আবার ভ্রমণ! রাত সাড়ে বারোটার টিকিট কেটে ফেললাম। তারপর সবাই মিলে হাটতে হাটতে রাধানাথ সিনেমাহলে। সেখানে চলছে ' জীবনে তুমি মরনে তুমি '। বালকরা কখনো সিনেমাহলে এফডিসি-র বাংলা সিনেমা দেখে নি। ঢাকায় বসে দেখবে সে সাহসও নেই। সুতরাং শ্রীমঙ্গল অনেক ভালো জায়গা। আমরা রাত নয়টার শো'র দর্শক হয়ে গেলাম।
শ্রীমঙ্গল ভ্রমন শুরু করেছিলাম ভারতের সাথে বাংলাদেশ একত্রিত হয়ে গেলে কি হবে সেই কথা নিয়ে। এরকম চিন্তা সুস্থ্য মানুষের লক্ষণ নয়, হতাশাগ্রস্থ মানুষ এরকম চিন্তা করতে পারে। আমি হতাশাগ্রস্থ নই, আলোচনার স্বার্থে সকল যুক্তি প্রদর্শন করেছিলাম। ভারতের সাথে মিশে যাওয়ার চিন্তা আমাদের করতে হয় না, যদি আমরা আমাদের রিসোর্সগুলোর সঠিক ব্যবহার করতে পারতাম। রিসোর্স বলতে শুধু মাটিতে-পানিতে প্রাপ্ত প্রাকৃতিক জিনিসগুলোই শুধু নয়, এই চৌদ্দ কোটি মানুষের মাথায় যে রিসোর্স তার ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না কোনভাবেই। নিজেদেরকে উন্নত না করেই আমরা উন্নত দেশগুলোর আচরনকে লালন করা শুরু করেছি। ঘটনাপ্রবাহ স্বাভাবিক-ই। সরকারের কিছু ভূমিকাকেও অস্বীকার করা যাবে না, কিন্তু এই আমরা যদি পাল্টে ফেলতে পারি, তবে সরকার করবে কি? চাই না ভারতের অংশ হতে, আমার বাংলাদেশ নিয়েই আমি থাকবো, তবে তার আগে বাংলাদেশকে থাকার মত একটি দেশ হিসেবেও তৈরী করে নেব।

চা কেমন হয়েছিল সেটা বর্ণনা না করে এই পোস্ট শেষ করা ঠিক হবে না।
আমি: (মালাই চা) পুরানা পল্টনে ওভারব্রিজের নিচের চা এর থেকে একশগুন ভালো।
বালকেরা (সাত রং এর চা) : প্রথম কালারটা নোংরা পানি, দ্বিতীয় কালারটা ড্রেনের পানি ... (আমি আর শুনতে চাই নি)

বাস চলতে শুরু করলো। গুড বাই শ্রীমঙ্গল, গুড বাই মৌলভীবাজার। মাধবকুন্ড, পরীকুন্ড দেখার জন্য হলেও আরেকবার আসবো। সেবারও একাকী আসবো না ইনশাল্লাহ।