শনিবার, ২৫ জুন, ২০১১

রেস্টুরেন্টে খেলে ভ্যাট এর রশিদ আদায় করেন তো?

ঢাকা সিটি কলেজের সাথের স্টার কাবাব এবং বিরিয়ানি হাউজ।

গত পরশু বুধবার রাতে আমাদের একটা অফিসিয়াল গেট টুগেদার ছিল। সব মিলিয়ে আমরা প্রায় ৩২ জন। জনপ্রতি কাচ্চি, বোরহানি আর একটা করে লাচ্ছি - খাবারের আইটেম এই।
প্রায় দুঘন্টার আড্ডাবাজি চললো। শেষ পর্যায়ে যখন ওয়েটারকে বিল নিয়ে আসার জন্য বললাম সে আমার কানে কানে বললো - বিল কি ভ্যাট সহ হবে নাকি ভ্যাট ছাড়া। আমি উ্ত্তর দেয়ার আগেই সে জানালো - ভ্যাটসহ প্রায় সাত/আটশ টাকা বেশী পড়বে।
টাকা দেবে অফিস, সুতরাং আমার আপত্তি কোথায়? তাই বললাম, ভ্যাটসহ বিল নিয়ে আসতে।

বেশ কিছু সময় পরে সে স্টার কাবাব ্ এবং বিরিয়ানীর প্যাডে হাতে লেখা একটা বিল নিয়ে আসলো - পাচ হাজার টাকার কিছু বেশী বিল। হাতে দিয়ে কানে কানে বললো - ভ্যাট ছাড়া করে এনেছি। প্রায় সাতশ টাকা ভ্যাট এসেছে। আমি একটু বিরক্ত হলাম- ভ্যাট ছাড়া বিল করছেন কেন?

ওয়েটার আমাকে বোঝানো শুরু করলো - এখানে কোন সমস্যা নেই তো। স্টার এর প্যাডে লেখা হয়েছে, সিগনেচার দেয়া আছে, ম্যানেজার নিজেই সেটা করেছেন এবং পেইড লেখা একটা সিল ও আছে সেখানে - সুতরাং কোন সমস্যা হবে না।

আমি নাছোড়বান্দা। টাকা গেলে আমার যাবে, আপনার সমস্যা কোথায়? অগত্যা তাকে একটি নতুন বিল নিয়ে আসতে হলো। মোট ৫, ৮৭০ টাকা।


প্রশ্ন হলো - আমরা নাহয়  অফিসিয়াল গেট টুগেদারের কারণে একটি বিল করে নিয়েছি এবং স্টার কতৃপক্ষ ভ্যাট ফাকি দেয়ার চেষ্টা করেও সমর্থ হন নাই, কিন্তু দৈনিক কত হাজার লোক সেখানে খাচ্ছে যারা বিলের ধারে কাছেও যান না? ৩০ জনে যদি প্রায় ৫০০ টাকা ভ্যাট ফাকি দেয়া যায়, তবে দৈনিক প্রায় আরও ৫,০০০ কাস্টমার থেকে প্রায় ৮,৫০০ টাকা ভ্যাট ফাকি দিচ্ছে প্রতিদিন। এটা আমার একটা আন্দাজ মাত্র। কিন্তু প্রকৃত্পক্ষে এর পরিমানটা আরও অনেক বেশী হবে নিশ্চিত। 

মিষ্টির দোকানে আমরা প্রায় সবাই ভ্যাটের রশিদ সংগ্রহের ব্যাপারে সচেতন থাকি (আসলেই কি?), রেস্টুরেন্টে খাবার বেলায় কি এই সচেতনতা বৃদ্ধি করা যায় না?

বৃহস্পতিবার, ২৩ জুন, ২০১১

ন্যাশনাল আইডি কার্ড হারিয়েছে? জেনে নিন কি করতে হবে

যদি ন্যাশনাল আইডি কার্ড হারানো যায় তবে কি করবেন - জেনে নিন এবং লাইক দিন :)

প্রথমে থানায় একটা জিডি করবেন - আপনার নাম, বাবার নাম, স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা এবং সম্ভব হলে ভোটার/আইডি নম্বর উল্লেখ করে। যদি বর্তমান ঠিকানা এবং কার্ড তৈরীর সময়কার ঠিকানা ভিন্ন হয় তবে অবশ্যই পূর্বের ঠিকানার কথা উল্লেখ করবেন।

জিডির কার্বন কপি নিয়ে চলে যাবেন আগারগাও নির্বাচন কমিশনের অফিসে - ৬৭ নম্বর বাড়ি। তালতলায় নেমে রিকশা ভাড়া ১৫ টাকা। সেখানে আপনার থানার জন্য নির্ধারিত রুম আছে, সহকারীকে আপনার সমস্যার কথা জানাবেন। যদি এমনটি হয় যে আপনি আপনার ভোটার আইডি জানেন না, তবে তারা একটা বই থেকে আপনার ছবি, তথ্য এবং ভোটার আইডি বের করতে দিবে, সেইটা ভীষন ভেজালের কাজ। কারণ এলাকায় যত মানুষ আছে তাগো সবার বদন দেখতে দেখতে নিজের বদন কিরকম সেইটা ভুইলা যাইতারেন :( যাকগে, নিজেরটা বের করে ভোটার নম্বরটি আপনার সংগ্রহে লিপিবদ্ধ করতে হবে। জিডির কপি এখানে লাগবে না।

এবার দশমিনিট হাটা দুরত্বে যেতে হবে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সাত তলায়। সেখানে আইডি কার্ড হারানো এবং সংশোধন কার্যাবলী নিয়া বিশাল যজ্ঞ চলতেসে। একটা ফরম পূরন করে জিডির কপি সহ জমা দিতে হবে, তারা একটা নেক্সট ডেট জানাবে, সেই ডেটে গিয়া কার্ড নিয়া আসতে হবে।

খুবই সিম্পল কারবার। প্র্যাকটিস করার জন্য নিজের কার্ডটা একবার হারায়া দেখতারেন :)

বুধবার, ২২ জুন, ২০১১

Juno এবং চাইল্ড প্রেগন্যান্সি

প্রথমে সিনেমা দিয়েই শুরু করি।

জুনো নামের মেয়েটি, তার বয়স মাত্র ১৬, কিছুটা আগ্রহী হয়েছিল সহবাস অভিজ্ঞতা কিরূপ সেটা জানার জন্য। তার আগ্রহের সফল সমাপ্তি ঘটে তারই ক্লাসমেট-বন্ধু-প্রতিবেশী পলি ব্লিকারের মাধ্যমে। কিছুদিন পরে জুনো কিছু শারীরিক সমস্যা অনুভব করে এবং নিজেই টেস্ট করে জানতে পারে - সে পজিটিভ। স্কুলপড়ুয়া একটি মেয়ে প্রেগন্যান্ট হয়ে গেলে সেটা কতটা অস্বাভাবিক লাগবে সেটা ভিন্ন কথা কিন্তু জুনো তার ভ্রুনটিকে নষ্ট করতে হাজির হলো এমন একটি নারীবাদী প্রতিষ্ঠানে যারা ্অ্যাবরশনে সাহায্য করে। যে কোন কারণেই হোক, জুনো সেবা গ্রহন না করেই ফিরে এলো এবং সিদ্ধান্ত নিল - সে বাচ্চাটি জন্ম দিবে, তবে মা হবে না - বরং মা হতে পারছে না এমন কোন একটি পরিবারে বাচ্চাটি দান করে কিছু সহযোগিতা করবে। সুতরাং তার গর্ভে বড় হতে লাগলো বাচ্চাটি।

মঙ্গলবার, ৭ জুন, ২০১১

থানা থেকে আসছি: আধুনিক বাঙালি পরিবারে ভূতের কিম্বা বিবেকের আছর

রাজনৈতিক -সম্পাদিত ও প্রকাশিত:


গল্পটা হয়তো বেশ পরিচিত। ধনী ব্যবসায়ী অমরনাথ মল্লিকের একমাত্র মেয়ের এনগেজমেন্ট। অনুষ্ঠানের কলরব শেষে সবাই যখন বিদায় নিল, তখন হাজির হলেন দাপুটে এক পুলিশ ইন্সপেক্টর। নাম তিনকড়ি হালদার। বাড়িতে আছেন মিসেস সুতপা মল্লিক, তাদের পুত্র অরিন মল্লিক, কন্যা রিনিতা মল্লিক এবং হবু মেয়ে জামাই রজত দত্ত। তিনকড়ি জানালেন, কোন এক বস্তিতে আজ রাতেই একটি মেয়ে আত্মহত্যা করেছেন এবং তার কাছে পাওয়া ডায়রীতে এদের সবার কথাই উল্লেখ আছে, তাই তিনি এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন।