বৃহস্পতিবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০১১

প্রামান্যচিত্র অপরাজেয় বাংলা: অপরাজেয় তারুণ্যের ইতিহাস

[caption id="" align="alignleft" width="337" caption="নির্মানাধীন অপরাজেয় বাংলা (ছবি: মিশুক মুনীর)"][/caption]

স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতীক ভাস্কর্যের কথা বললেইসবার প্রথমে যে দৃশ্যটি ভে্সে উঠে চোখের সামনে তা হলো তিনটি নিশ্চল মূর্তি নিশ্চুপ দাড়িয়ে – ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থিত এই ভাস্কর্যটির নাম অপরাজেয় বাংলা। এই তিনজন তরুণের দুজন পুরুষ, একজন নারী। পুরুষের একজনের কাধে রাইফেল, লম্বা এই তরুনের পরনে কাছা দেয়া লুঙ্গি, ডান হাতের মুঠোয় একটি গ্রেনেড। তার বামদিকে অপেক্ষাকৃত খর্বকায় আরেক তরুন, তার পরনের জিন্সপ্যান্ট বুঝিয়ে দেয় সে একজন শহুরে, এর রাইফেলটি হাতে ধরা। লম্বা তরুনের ডানপাশে কুচি দিয়ে শাড়িপরিহিতা এক তরুনী, এর কাধে একটি ফার্স্ট এইড বক্স। একাত্তরের স্বাধীনতা যুদ্ধের প্র্রতিরোধ, মুক্তি ও সাফল্যের প্রতিকৃতি এই অপরাজেয় বাংলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়েছিল ১৯৭৯ সালের ১৬ই ডিসেম্বর। ৩২ বছর পরে বাংলাদেশীদের যে সংস্কৃতি চেতনার প্রতীক হয়ে উঠা অপরাজেয় বাংলার নির্মান ইতিহাস তুলে ধরেছেন প্রামাণ্যচিত্র নির্মাতা সাইফুল ওয়াদুদ হেলাল তার ‘অপরাজেয় বাংলা’ তথ্যচিত্রে, অপরাজেয় বাংলার নির্মানের সাথে জড়িতদের জবানীতে।

মঙ্গলবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০১১

আমি বাংলা চলচ্চিত্রের জীবন ভিক্ষা চাইছি

কয়েকদিন আগের ঘটনা, কাটাবন থেকে নিজের পায়ে হেটে হাতিরপুলের দিকে যাচ্ছিলাম। কিছুদূর যেতেই রাস্তার পাশে দেয়ালে লাগানো একটি সিনেমার পোস্টার দেখে দৃষ্টি আটকে গেলো। বাংলা সিনেমার পোস্টার এর সাথে কোনও পার্থক্য নেই। বরাবরের মত নায়ক হুংকার ছেড়ে তেড়ে আসছে, ভিলেন এর হাতে সদ্য ধার দেয়া চকচকে একটা চা-পাতি, আর পাশে মূল আকর্ষণ নায়িকার অর্ধনগ্ন ছবি। সব মিলিয়ে যা লাউ তাই কদু। এখন প্রশ্ন করতে পারেন, তাহলে দৃষ্টি আটকালো কেন? উত্তর একদম সোজা, কারণ সেখানে নায়ক সাকিব খান (কিং খান) ছিলেন না, ছিলেন কোলকাতার নায়ক জিত। আমি কোলকাতার সিনেমা 'জোর' এর কথা বলছি।

শুক্রবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০১১

ইতি মৃণালিনী

ইতি-মৃণালিনী-পোস্টার


রাজনৈতিক.কম সম্পাদিত-প্রকাশিত


এককালের নামি অভিনেত্রি, আর একালের নামি পরিচালক অপর্না সেনের সর্বশেষ সিনেমা সিনেমা ‘ইতি মৃণালিনী’। বড় পর্দায় আলোড়নের পর গত ৮ ডিসেম্বর কলকাতায় ডিভিডি মুক্তি পেয়েছে সিনেমাটির।


সিনেমার তারকাদের অন্দরমহলের কাহিনি। এমন কাহিনি নিয়ে সিনেমা তো কম হলো না। তারকাদের বেসামাল আবেগের ছড়াছড়ি নিয়ে কথাও কম নয়। পত্র-পত্রিকার কেচ্ছা আর সিনেমা জগতের মানুষকে নিয়ে বানানো এইসব সিনেমা দেখে এই জগত সম্পর্কে সমাজে একটা গড়পরতা ধারনাও গড়ে উঠেছে।

রবিবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০১১

সরকার সমীপে: ভারতীয় সিনেমা আমদানী এবং প্রাসঙ্গিক দাবীসমূহ

সরকার ভারতীয় সিনেমা আমদানীর অনুমতি দিয়ে এদেশে ভারতীয় সিনেমা প্রবেশের দরজা খুলে দিয়েছে, এদেশের সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিকে দুস্থ অবস্থা থেকে মৃত্যুশয্যায় নিয়ে গিয়েছে। যেখানে সরকারই সকল সিদ্ধান্তের মূল চালিকাশক্তি এবং দেশের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নানা আপত্তি-বিপত্তি-আন্দোলন-সংগ্রামকে উপেক্ষা করে প্রভু ভারতের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করে গেছে - বিশেষত: ট্রানজিট, টিপাইমুখ, বিদ্যুৎ ইত্যাদির ক্ষেত্রে, তাতে ভারতীয় সিনেমা আমদানীর বিপক্ষের সকল মতামত প্রস্তাব উপেক্ষা করা হবে সেটাই স্বাভাবিক। তাই বলে বসে থাকা চলবে না - ভারতীয় সিনেমা প্রদর্শিত হওয়া মাত্রই 'আমরা হেরে গেলাম' মনোভাব নিয়ে আন্দোলন থেকে সরে আসা যাবে না - একাট্টা থাকতে হবে দাবীসমূহে।

শনিবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০১১

কোলাভেরি ক্রেজের রহস্য

বার্ত ২৪.নেট এ প্রকাশিত

কালজয়ী গানের পাশাপাশি সাময়িক সুপার-ডুপার হিট গানের সংখ্যা কম নয়। হিন্দি শীলা কি জওয়ানী, মুন্নী বদনাম হুয়ী, ছাম্মোক ছালো ধরনের অনেক গান এসেছে, কিছুদিন শীর্ষে অবস্থান করেছে এবং একসময় হারিয়েছে অন্যান্য সুপারহিট গানের নিচে কিন্তু ‘হোয়াই দিস কলাভেরি ডি’ গানের ব্যাপারটা বোধহয় কিছুটা ভিন্ন। এই গানটি হিন্দি ভাষা বা সিনেমার গান নয়, এটি ‘কলিউড’ (তামিল ভাষায় নির্মিত সিনেমার ইন্ডাস্ট্রি) এর সিনেমা ‘থ্রি’ এর একটি গান যদিও এর অধিকাংশ শব্দই ইংরেজি এবং উচ্চারণ বৈশিষ্ট্যের কারণে একে ট্যাংলিশ (তামিল+ইংলিশ) গান হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১১

সুদী ব্যাংকের পরীক্ষায় প্রশ্নের উত্তর

ট্রাস্ট ব্যাংকের পরীক্ষায় প্রশ্ন আসছে - সেলিম সাহেব যদি মোট ১ লক্ষ বিশ হাজার টাকা ৮ এবং ১০ পার্সেন্ট সুদে দুটো ব্যাংকে টাকা জমা রাখেন এবং এক বছর বাদে ১০০০০ টাকা সুদ পান, তবে ৮% সুদে কত টাকা জমা রাখসিলেন?
আমি লিখসি: সুদ হারাম ;)

শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১১

মুক্তিযুদ্ধের গল্প: একজন বিদেশীর পাগলাটে ভালোবাসা

করাচি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট
১৫ঘ১৫মি পাকিস্তান টাইম
করাচি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টের চিফ কন্ট্রোলার জামসেদ পায়চারী শুরু করেছেন। তার ভ্রু কোচকানো, নাকের নিচে চওড়া গোফ ঘামছে হালকা। তিনি চিন্তিত।
জামসেদ এই মুহুর্তে আছেন কন্ট্রোল টাওয়ারের চূড়ায়। তার সামনে একগাদা যন্ত্রপাতি নিয়ে বসে থাকা একদল লোক তাদের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে - পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা পাকিস্তানের বিমান এবং অন্যান্য দেশের বিমান এবং বিমানবন্দরের সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত আপডেট তৈরী করছে এইসকল লোক। জামসেদ অবশ্য তাদের কারও দিকে মনযোগ দিচ্ছেন না, তিনি লক্ষ্য করছেন তার সামনে বসে থাকা হালকা স্বাস্থ্যের ছেলেটাকে। সে ফ্রান্সের অর্লি বিমানবন্দরে পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্সের ৭২০ বোয়িঙ বিমানের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। বিমানটি প্যারিস টাইম এগারোটা পাচে ছেড়ে আসার কথা। পাকিস্তানে এখন বাজছে দুপুর সোয়া তিনটা, সে হিসেবে প্যারিসে এখন সোয়া এগারোটা। গত বিশ মিনিট হলো যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। রেডিওতে ঘ্যার ঘ্যার শব্দ ছাড়া আর কিছু শোনা যাচ্ছে না।
'পারা গেল?' - জামসেদ প্রশ্ন করলেন।
‘না স্যার। রেডিও সিগন্যাল রিসিভ করছে না, অচল হয়ে গেছে হয়তো কোন কারণে।‘
‘অচল হবে কেন? নিশ্চয় বন্ধ করে রাখা হয়েছে। কতক্ষন ধরে যোগাযোগ নেই?’
‘স্যার, ২টা ৫০ পর্যন্ত যোগাযোগ হয়েছে। যাত্রীরা উঠেছেন, টাওয়ার থেকে অনুমতি চা্ওয়া হয়েছে, অনুমতি পা্ওয়া গিয়েছিল - কিন্তু স্যার তারপরই হঠাৎ সব বন্ধ। আমি স্যার তখন থেকেই চেষ্টা করে যাচ্ছি।‘
‘অর্লি এয়ারপোর্ট কি বলে?’
‘স্যারা তারা্ও কনফার্ম করতে পারছে না। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। ‘
‘তুমি চিফ কন্ট্রোলারের সাথে যোগাযোগ করিয়ে দা্ও, বলো আমি কথা বলবো’ - জামসেদ আবার পায়চারী করা শুরু করলেন। এমনিতেই দেশের অবস্থা ভালো না, এই সময় বিমান নিয়ে আবার কি ঝামেলা হলো। লক্ষন দেখে বিমান হাইজ্যাক ছাড়া তো আর কিছুই মনে হচ্ছে না। যদিও পরিস্কার করে বলা সম্ভব হচ্ছে না এখনো - প্যারিস কি বলছে তার উপর অনেক কিছু নির্ভর করে। এর পেছনে যে ভারতের হাত নেই, সে ব্যাপারে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। প্যারিসে যোগাযোগ করতে পারলে হয়তো কিছু বোঝা যাবে।
'স্যার, অর্লি এয়ারপোর্ট চিফ কন্ট্রোলার অনলাইন' - ছেলেটির আহবানে জামসেদ এগিয়ে গেল।



অর্লি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট, প্যারিস
১১ঘ৩০মি প্যারিস টাইম
মশিয়ে আলফনসো বেশ অবাক হয়েছেন হাইজ্যাকারের দাবী শুনে। দাবী শুনেই বোঝা যাচ্ছে এর পেছনে ভারতের হাত আছে। এমন একটি দিনে ঘটনাটা ঘটল যখন যখন পশ্চিম জার্মানি থেকে ভাইস চ্যান্সেলর উইলি ব্র্যান্ডট ফ্রান্স সফরে এসে পৌছেছেন। উদ্দেশ্য ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের সাথে বৈঠক করবেন। ভাইস চ্যান্সেলর এর আগমন উপলেক্ষ্যে বিশেষ নজরদারি ছিল, জরূরী অবস্থায় যেনো কোন বিমান উঠা-নামা করতে পারে সে বিষয়ে প্রস্তুত অর্লি বিমানবন্দর। কিন্তু তাই বলে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোন ত্রুটি ছিল না। ত্রুটি ছিল না সেটাও বলা ঠিক হচ্ছে না, কারণ সবার নজর এড়িয়ে একজন সন্ত্রাসী কিভাবে বিমানে উঠে পড়ল সেটাই প্রশ্নবোধক। সন্ত্রাসী একজন না একাধিক সে বিষয়েও কোন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। মোট যাত্রী ২৮ জন, তাদের মধ্যে শিশু, নারী এবং বৃদ্ধও আছেন।
মশিয়ে আলফনসো অবশ্য সাথে সাথেই ব্যবস্থা নিয়েছেন। যেমাত্র বিমানের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল, সে মাত্রই তিনি বুঝেছেন গুরুতর কিছু ঘটেছে। তিনি বিমানবন্দরের দায়িত্বে পুলিশ কন্ট্রোলরুমে যোগাযোগ করেছেন। তাদেরই একটা ফোর্স পিআইএ'র ৭২০বি বিমানের আশে পাশে অবস্থান নিয়েছে। হাইজ্যাকার চিঠি পাঠিয়েছে তাদেরই মাধ্যমে। মশিয়ে আলফনসো আবার পড়লেন চিঠিটা।
ছোট্ট চিঠি। হাতে লেখা এই চিঠিতে হাইজ্যাকার জানিয়েছে সে বিমানটা পাকিস্তানের একটা অংশের রিফিউজিদের জন্য ব্যবহার করতে চায়। তার কিছু দাবী দাওয়া আছে, সেগুলো মেনে নিতে হবে, অন্যথায় তার কাছে যে বোমাটি আছে সেটি সে উড়িয়ে দেবে। বিমানের নিরীহ যাত্রীসাধারণের মৃত্যুর জন্য সরকার দায়ী হবে।
আলফনসো অবশ্য নোট পেয়েই অর্লি পুলিশে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ কমিশনার তার দুজন ডেপুটি এবং ফোর্স নিয়ে এসে যাবেন আর কিছু সময়ের মধ্যেই। অবশ্য হাইজ্যাকারের দাবী কি সেটা জানা দরকার। কিন্তু যোগাযোগ সম্ভব হচ্ছে না - কারণ রেডিও বন্ধ।
ঘর ঘর শব্দে রেডিও জীবন্ত হয়ে উঠল। পাইলট যোগাযোগ করছে। পাইলট ইংরেজিতে কথা বলছে।
'স্যার, উনি জিজ্ঞেস করছেন তার দাবী মানা হবে কিনা?'
'তাকে বলো, দাবী কি সেটা আগে জানা দরকার। তাছাড়া দাবী মেনে নেয়া না নেয়ার সিদ্ধান্ত আমাদের নয়, সরকার এবং যথাযথ কতৃপক্ষ সেটা জানে।'
কিছুক্ষন চুপচাপ। পাইলট আবার কথা বলল - 'তার দাবী ২০ টন মেডিকেল সামগ্রী এবং রিলিফ। এই বিমানে তুলে দিতে হবে, বিমান যাবে ভারতে। সেখানে কিছু পাকিস্তানি রিফিউজি আছে তাদের জন্য।'
'তাকে বলো আমাদের সময় দরকার। এই মুহুর্তেই ২০টন সামগ্রী জোগাড় করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।'
চুপচাপ। তারপর আবার - 'উনি বলছেন এখনই উদ্যোগ নিতে। তিনি বা যাত্রীরা কেউ বিমান থেকে নামবে না। সামগ্রী পৌছাবে তারপর তিনি কিছু জিম্মিকে মুক্তি দিবেন।'
মশিয়ে আলফসনো নিশ্চিত হলেন, ভারতীয়দের হাত রয়েছে। পাকিস্তানের একটি অংশে কিছু বিদ্রোহ চলছে এবং সরকার তার দমন নিশ্চিত করছে, ফলে সেখানে কিছু রিফিউজি তৈরী হয়েছে। ভারত সরকার অবশ্য ভিন্ন প্রচারণা চালাচ্ছে। আলফসনো যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করলেন - পুলিশ কমিশনার আসলে বাকী সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে।




অর্লি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট, প্যারিস
১৩ঘ০০মি প্যারিস টাইম
আন্দ্রে প্যারেস্যুব খুব যে ভয় পাচ্ছিলেন তা নয়। তিনি একটি বিমানে উঠে বসেছেন এবং করাচি যাবার পরিবর্তে বিমানবন্দরেই আটকে আছেন এমন একটি বিমানে যেটি হাইজ্যাক করা হয়েছে - এত কিছু সত্ত্বেও তিনি খুব বেশী ভয় পাচ্ছিলেন না, তার মধ্যে একটা উত্তেজনা বোধ কাজ করছিল।
দুম করে উঠে হাইজ্যাকারকে কুপোকাত করে ফেলার ইচ্ছে যে তার একদমই হয়নি তা নয়, কিন্তু সেটা একদম প্রথম দিকে। হাইজ্যাকার ছেলেটা ফরাসী, একা। তার হাতে একটা নাইন মিলিমিটারে পিস্তল, কাধে একটা ব্যাগ। সেখান থেকে ইলেকট্রিকের তার বের হয়ে আছে। ভয়াবহ পরিস্থিতি। কিন্তু মোটেও ভয় হচ্ছে না। কারণ হাইজ্যাকার ছেলেটা মোটেও ভয় দেখাচ্ছে না। তার বক্তব্য খুবই সাধারণ। পাকিস্তানের কিছু রিফিউজির জন্য তার রিলিফ দরকার, প্রায় ২০ টন। রিলিফ আসলেই সে জিম্মীদের মুক্ত করে দেবে। তার থেকে ভয়ের কিছু নেই। বিমানে একটা বাচ্চা মেয়ে আছে, বৃদ্ধ আছে একজন। হাইজ্যাকার ছেলেটা তাদেরকে সবার আগে মুক্তি দিবে বলে কথা দিয়েছে। রিলিফের প্রথম চালান আসলেই সে কিছু মানুষকে মুক্তি দিবে। সেই গ্রুপে আন্দ্রে থাকবে কিনা সেটা নিশ্চিত নয়।
ছেলেটা অবশ্য বারবার বলছে - এই রিলিফ অবশ্যই পাকিস্তানের বিদ্রোহীদের জন্য নয়। রিফিউজিদের জন্য। যদিও ছেলেটা মিথ্যে বলতেই পারে কিন্তু আন্দ্রে তাকে বিশ্বাস করছে, তাকে বিশ্বাস করতে ইচ্ছে হচ্ছে। একাই যে ছেলেটা একটা বোয়িং বিমান হাইজ্যাক করতে পারে, তার মধ্যে কেমন যেন একটা সততা দেখতে পাওয়া যাচ্ছে।




অর্লি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট, প্যারিস
১৪ঘ২০মি প্যারিস টাইম
সরকার আপাতত দাবী মেনে নিয়েছে বলেই মনে হচ্ছে। মেডিকেল সামগ্রী আর রিলিফ নিয়ে একটা ট্রাক আধাঘন্টা আগে বিমানের কাছে পৌছেছে। বিমানে সেগুলো তুলে দেয়ার পরে আটজন জিম্মীকে মুক্তি দেয়া হয়েছে, এদের মধ্যে একটি শিশু এবং একজন বৃদ্ধ রয়েছেন। হাইজ্যাকার ছেলেটা দ্রুত তার দাবী পূরণ করার চাপ দিচ্ছে। বাকী জিম্মিদেরকে সে অন্য একটা বিমানবন্দরে নামিয়ে দেবে। তাদের নিরাপত্তার জন্য হলেও বাকী সামগ্রী সরবরাহ করতে হবে। অবশ্য ২০ টন সামগ্রী সরবরাহ করা মোটেই সহজ কাজ নয়। এখন পর্যন্ত যা দেয়া হয়েছে তার পরিমান প্রায় আধা টন। আরও আধাটন সামগ্রী এবং রিলিফ যাচ্ছে পরের ট্রাকে। ট্রাক বোঝাই হচ্ছে, আর কিছুক্ষনের মধ্যেই ট্রাক রওয়ানা হয়ে যাবে।
পুলিশ কমিশনার হাজির হয়েছেন দেড় ঘন্টা আগে। তার সেরা অফিসাররা রয়েছে তার সাথে। কিন্তু বোমাসহ একটি ছেলেকে কুপোকাত করার কোন বুদ্ধি তার মাথায় আসছে না। ছদ্মবেশে অফিসারদেরকে পাঠানো যায়, কিন্তু যদি ছেলেটা ভুল করে বসে তবে তার অফিসারদেরসহ সব যাত্রীকে হারাতে হবে। বিনা যুদ্ধে এভাবে ছেড়ে দেবেন তাতেও মন সায় দিচ্ছে না। একটা ঝুকি নিয়ে ফেললে কেমন হয়?




অর্লি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট, প্যারিস
১৭ঘ০০মি প্যারিস টাইম
মেডিকেল সামগ্রী এবং রিলিফ নিয়ে দ্বিতীয় ট্রাকটি হাইজ্যাক হওয়া বিমানের দিকে রওয়ানা হলো। ট্রাকের সাথে আটজন মানুষ। পোশাকে এরা সবাই রেডক্রসের কর্মী মনে হলেও তাদের সবার সাথে লুকানো অস্ত্র রয়েছে। এরা সবাই পুলিশের চৌকষ অফিসার। হাইজ্যাকার ছেলেটা ককপিটে অবস্থান করছে। এই টিমের দায়িত্ব হলো ছেলেটা কতটা ভয়ংকর সেটা বুঝে নেয়া। তারপর সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
কিন্তু বাস্তবে পরিকল্পনা অনুযায়ী সব ঘটলো না। একজন অফিসার ককপিটে ঢোকার সময় একটু বাড়াবাড়িই করে ফেলেছিল বোধহয়। হাইজ্যাকার ছেলেটা দুম করে গুলি করে দিল। সেই গুলি অফিসারের ইউনিফর্ম ছিড়ে চামড়াকে রক্তাক্ত করে বেড়িয়ে গিয়ে দেয়ালে বিদ্ধ হলো। একটাই গুলি, দ্বিতীয়টা চালাবার সময় বা সুযোগ ছেলেটা পায় নি। হয়তো আরো গুলি ছুড়তে হতে পারে সেই ধারণাও তার ছিল না।
ঠিক সেই সুযোগটাই নিল অফিসার, ঝাপিয়ে পড়ল সে হাইজ্যাকার ছেলেটার উপর, তারপর খালি হাতই চালিয়ে দিলো ছেলেটার ঘাড়ে। এক মুহুর্ত মাত্র। কাধে বোমার ব্যাগ নিয়ে হাইজ্যাকার ছেলেটা ধরা পড়ে গেল।
হ্যান্ডকাফ পড়া অবস্থায় বিমান থেকে নামার সময় হাইজ্যাকার ছেলেটার ভাব ভংগী পাল্টে গেল। যেই মুখে বিশাল দাপট নিয়ে কিছুক্ষন আগেই সে ২৮ জন যাত্রী সহ একটি বিমান উড়িয়ে দেয়ার হুমকী দিচ্ছিল, সেই মুখেই সে অনুনয় বিনয় করতে লাগলো - তার দাবীকৃত মেডিকেল সামগ্রী আর রিলিফ যেনো জায়গামত পৌছে দেয়া হয়। রিলিফটা সত্যিই দরকার। আটমাস হয়ে গেছে তারা দুর্ভোগ পোহাচ্ছে - মেডিকেল এবং রিলিফ তাদের সত্যিই খুব দরকার।



অনেক বছর পরে
জ্যা ক্যূয়ে নামের একটি মধ্যবয়স্ক লোক কোলকাতা শহর থেকে কিছু দূরে একটি নির্দিষ্ট গন্তব্যস্থলের দিকে যাচ্ছিলেন। এখন তার বয়স হয়েছে। চুলে পাক ধরেছে। আজ থেকে প্রায় ২৫ বছর আগে তিনি একটা দু:সাহসী কাজ করেছিলেন। জ্যা ক্যূয়ে একটা বিমান হাইজ্যাক করেছিলেন - একাকী। তার কাছে একটি পিস্তল ছিল, আর ছিল একটি মিথ্যে বোমা। ব্যাগের মধ্যে তার ভর্তি করে তিনি প্রায় ধোকাই দিয়ে ফেলছিলেন সবাইকে। রেডক্রস কর্মীদের আড়ালে যে পুলিশ আসতে পারে সে ধারনাই তার ছিল না, নাহলে ঠিকই সেদিন ২০ টন মেডিকেল সামগ্রী এবং রিলিফ নিয়ে তিনি চলে আসতেন এই অঞ্চলে। তার দেশ ফ্রান্স থেকে এত দূরের কিছু দুর্গত মানুষের জন্য তার মধ্যে এত ভালোবাসার সঞ্চার কিভাবে হয়েছিল তা তিনি জানেন না। জানেন, এই পাগলাটে ভালোবাসাই তাকে একটি বিমান হাইজ্যাক করার সিদ্ধান্ত দিয়েছিল।
তার বয়স হয়েছে, তিনি তারিখটি মনে করার চেষ্টা করতে লাগলেন। তারিখ মনে পড়ল না, কিন্তু ঘটনাপ্রবাহগুলো মনে পড়ে গেল। পাকিস্তান তাদের পূর্বাংশের প্রদেশে বিদ্রোহ দমনের নামে নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল, এদেশের মানুষ নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছিল পাশ্ববর্তী দেশ ভারতে, আর কিছু সাহসী মানুষ সামান্য প্রশিক্ষন নিয়ে সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল। ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী নামের মহিলা এই দেশের জন্য জনমত গড়তে তখন ঘুরে বেড়াচ্ছেন। ইন্দিরার কথাই তাকে সেই দু:সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে উৎসাহিত করেছিল। তার পরিকল্পনা ছিল বিমানভর্তি রিলিফ নিয়ে আসবেন তিনি রিফিউজিদের জন্য, কিন্তু ব্যর্থ হন তিনি। অবশ্য তিনি ব্যর্থ হলেও তার আর্জি ব্যর্থ হয়নি। একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সাহায্যে রিলিফ পৌছে গিয়েছিল। তার বিমান হাইজ্যাক প্রচেষ্টা ব্যার্থ হবার মাত্র ১৩ দিন পরেই পাকিস্তান থেকে আলাদা হয়ে একটি স্বাধীন দেশের জন্ম হয় - দেশটির নাম বাংলাদেশ।
হঠাৎ-ই তারিখটি মনে পড়ে গেল জ্যা ক্যূয়ের। সেদিন ছিল - ৩রা ডিসেম্বর, ১৯৭১
================================================================================
আজ ৩রা ডিসেম্বর ২০১১ তারিখ। ঠিক ৪০ বছর আগে বাংলাদেশের অচেনা-অজানা দুর্দশাগ্রস্থ মানুষের জন্য এক বিদেশী বিশাল এক ঝুকি নিয়েছিল। এই দিনে সেই মানুষটির প্রতি অসীম কৃতজ্ঞতা।
এই গল্পটি একটি বাস্তব ঘটনার উপর ভিত্তি করে রচিত। গল্পে ব্যবহৃত তথ্যাবলীর কিছুটা বাস্তব, কিছুটা কল্পিত। তথ্যের জন্য অমি রহমান পিয়ালের এই পোস্টের প্রতি কৃতজ্ঞতা।
http://www.amarblog.com/omipial/posts/140162

সোমবার, ২৮ নভেম্বর, ২০১১

এত ভালোবাসা ছিল আমাদের মাঝে !

আজকে শেষ ক্লাস এজন্য যতটা মন খারাপ তার চেয়ে আফসোসটা বেশী ছিল।


মুবিনা ম্যাডামের ক্লাস দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যাত্রা শুরু, আজকে রাফি স্যারের ক্লাস দিয়ে শেষ। শেষ সবসময়ই একটু অন্যরকম। শেষ তো শেষ নয়, অন্য কোন কিছুর শুরু। কিন্তু তারপরও নতুন কিছু শুরুর তুলনায় শেষটাই বড় হয়ে দাড়ায়। ছয়বছরের একত্রে ক্লাস-অ্যাসাইনমেন্টস-প্রেজেন্টেশনস-এক্সামস-রেজাল্টস - যবনিকা পড়লো বলে। ছ-য়-ব-ছ-র - মোটেও কম সময় নয়।

ভার্চূয়াল ভালোবাসা-বন্ধুত্বের এই যুগে দুরত্ব হাতের মুঠোয়। ফেসবুকে লগিন করেই 'হাই' বললেই দুরুত্ব নিমেষেই ফুরিয়ে যায়। কিন্তু তারপরও তো কথা থাকে - চোখেরো আড়াল হলে মনেরো আড়াল। ক্লাসের কল্যানে তিনঘন্টা একটা ফ্লোরে দাড়িয়ে প্রয়োজনীয় অপ্রয়োজনীয় আ্ড্ডাবাজি-খুনসুটি-হাসাহাসি-ছোটাছুটি হয়েছে, ফেসবুকে কিংবা মোবাইলে হাই-হ্যালো হবে, কিন্তু তোমাদেরকে ছুয়ে দেয়া কি হবে? হঠাৎ কোন রাস্তায়, কোন অফিস কিবা ফাংশনে হারিয়ে যাওয়া মুখ ডেকে তো বলবেই - বন্ধু কি খবর বল? কতদিন দেখা হয় নি ... কিন্তু তারপরেই কি বলতে হবে না - দোস্ত এখন যাইরে - মিটিং আছে, এক্ষুনি ধরতে হবে।

তুষ্ণীম একটা ডাইরী আর কলম বাড়িয়ে দিয়ে বললো - উইশবুক, কিছু লিখে দাও। আফরিন আজহারের খাতায় হয় না, কলমেও বিশ্বাস নেই - সে নিয়ে এসেছে একটা টি-শার্ট আর একটা মার্কার; কথা হয়নি কোনদিন, কিন্তু নোটবুকটা বাড়িয়ে দিলে নিঘাত বর্ষাকে কি ফিরিয়ে দেয়া যায়? উইশবুকে উইশ করে দেয়াটা কত নির্বুদ্ধিতা, তাই না? আমার জন্য তুমি বরাদ্দ করেছো একটা মাত্র সাদা পৃষ্ঠা, সময় দিয়েছো লেখার জন্য বড়জোর পাচ মিনিট - তোমার জন্য আমি দুম করে একটা উইশ লিখে দিয়েছি সত্য - কিন্তু সেটাই কি শেষ কথা, সেটাই কি সব কথা? সেই ছ'বছর আগে থেকে শুরু করে মৃত্যু পর্যন্ত এবং বিশ্বাসীদের জন্য মৃত্যুর পরের জীবনের জন্যও তোমার জন্য আমার যে শুভকামনাগুলো ছিল, আছে এবং থাকবে তার জন্য ডায়রীর একটা পৃষ্ঠা তো নিতান্তই সামান্য, ক্ষুদ্র এবং নশ্বর। তোমার জন্য হৃদয়ের উইশবুকে যা লেখা আছে তার প্রতিনিধি হলো যা লিখে দিয়েছি তোমার কাগজের উইশবুকে, আমি যা লিখেছি তার চে' ঢের বেশী উইশ আমি লিখিনি বন্ধু।

শেষ একটু বিষাদময় হবে এটাই তো জানতাম। সব্বাই দলবেধে ছবি তুলবে, আমরা উইশবুকে একটু আধটু ভারিক্কি কথাবার্তা লিখে দেবো, মেয়েরা কাদবে - এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু ডাবল বিবিএ-ডিগ্রিধারী আসিফ যখন ভ্যা করে কাদতে কাদতে বলে - 'মাফ কইরো' - তখন তো আমি বলবোই যে  'তোকে শালা মাফ করবোই না।' মাফ করলেই ভুলে যাবি, মাফ না করলে কেয়ামত পর্যন্ত মনে রাখবি। হাশরের ময়দানে মাফ চাওয়ার জন্য হলেও তুই আমাকে খুজে বেড়াবি - তথন তোকে জড়িয়ে ধরে আমি বলবো, মাফ তো কবেই করছি, কিন্তু বললে কি তুই আমাকে এইখানে খুজে বের করতিস?

ক্লাস শেষ হয়ে যাচ্ছে - এই নিয়ে আমাদের যত দু:খ, শুভ ফাহিম চৌধুরী (CFC)র দু:খ আরও বেশী। কোন এক পরীক্ষায় পাচতলার বাথরুমে বিড়ি টানতে টানতে সে বলেছিল - ইউনিভার্সিটি শেষ করলেই বিড়ি খাওয়াও শেষ। সেই বাচ্চাকালের সংগী, পলমল টেনে গলায় সমস্যা হলেও যাকে ছাড়েনি - তার সাথেও বিদায়ের সময় হয়ে এলো। শুভর দু:খ তো লাগবেই। লাগুক, কিন্তু শুভ যেনো বিড়ি খাওয়া বন্ধ করে, দৈনিক ১৪ থেকে নেমে ৪টে বিড়িতে অভ্যস্ত হওয়া তুষার যেনো ২এর বেশীতে কখনোই না যায় - এই উইশ কি আমরা শুধূ উইশবুকে লিখি, এটা আমাদের অন্তরে আছে আরও লাখো উইশের সাথেই।

বাংলাদেশে ভারতীয় সিনেমা আমদানী হবে কি হবে না - এই নিয়ে রায়হান মাহমুদের সাথে আমার ঝগড়া হবেই, আমি বিপক্ষে কথা বলবোই, কিন্তু তাই বলে এত বিশাল বপু নিয়ে সে হাউমাউ করে কাদবে? আমাদের ক্লাসের গুডবয় রিফাত সাগর, রাব্বি, আজাদ ইকবাল যদি কাদে তবে মেহেদী কেন চুপচাপ বসে কাদবে না? আর শহীদুজ্জামান ফয়েজ তো অবশ্যই তার চেয়ার থেকে উঠে দাড়াবে না, কারণ ওটাই তো তার অবলম্বন, চেয়ারটাই তো তাকে সবার সামনে হাউমাউ করে কাদতে বাধা দিচ্ছে - ফয়েজ উঠে দাড়ালে কি তার সাথে কান্নাও ভেংগে পড়বে না? তারচে' সে ওখানেই থাকুক।

এই যে উইশবুক, এই যে কান্নাভেজা চোখে হাসিমুখে ছবি তোলা, এই যে জড়িয়ে ধরে সান্তনা দেয়া, হোয়াইট বোর্ডে লিখে সাবিদের নির্লজ্জের মতো সবার বিয়ের দাওয়াত চাওয়া - অনেক বীণে তো একটাই সুর তোলে। ভালোবাসা ভালোবাসা ভালোবাসা। এত ভালোবাসা ছিল আমাদের মধ্যে? এত?


যেখানেই থাকিস যেভাবেই থাকিস ভালো থাকিস বন্ধু।

বুধবার, ১৬ নভেম্বর, ২০১১

সাময়িক পোস্ট: ভ্রমনব্লগ নিয়ে ই-বুক 'হাতের মুঠোয় মেঘদল'

সিনেমার সাথে অপ্রাসংগিক, তাই এই পোস্টের স্থায়িত্ব মাত্র এক সপ্তাহ।

গেল অক্টোবরে বান্দরবানে ঘুরতে বেরিয়েছিলাম। বান্দরবান শহরে স্বর্ণমন্দির, মেঘলা, নীলাচল, শৈলপ্রপাত, চিম্বুক এবং নীলগিরি, বান্দরবানের বাহিরে রুমা, ঝিরির রাস্তায় বগালেক এবং কেওক্রাডং। পাচদিনের এই ট্যুর নিয়ে ব্লগ লিখেছিলাম চতুর্মাত্রিকে। লিখতে ভালো লাগছিল, তাই আকৃতি বড় হতে হতে আট পর্বে চলে গেল। এই আটটি পর্ব নিয়েই বানিয়ে ফেললাম একটি ই-বুক - হাতের মুঠোয় মেঘদল।

পাঠকদের জন্য ইবুকটি আপলোড করা হলো মিডিয়াফায়ারে।

ই-বুক: হাতের মুঠোয় মেঘদল (বান্দরবান ভ্রমনব্লগ)

সাইজ: ৩ মেগাবাইট

ধন্যবাদ।

 

শনিবার, ৫ নভেম্বর, ২০১১

A Separation : ভালোবাসা আর ত্যাগের দ্বান্দিক যুদ্ধ

কল্পনা করুন, আপনি একজন বিবাহিত পুরুষ। দীর্ঘ ১৪ বছরের সংসার আপনার। সংসারে রয়েছে আপনার স্ত্রী, পবিত্র ও নিষ্পাপ একটি কন্যা আর দূরারোগ্য ব্যধিতে আক্রান্ত আপনার বৃদ্ধ বাবা। অর্থের প্রাচুর্য না থাকলেও, সংসারে প্রেম ভালোবাসার কমতি নেই। কিন্তু আপনার স্ত্রী এই সংসারে থাকতে রাজি নই। একমাত্র মেয়ের সুন্দর ভবিষ্যতের চিন্তায় বিভোর আপনার স্ত্রী চায়, স্বামী আর মেয়েকে নিয়ে প্রবাসে পাড়ি জমাতে। আপনার স্ত্রী তার সিদ্ধান্তে অটল। কিন্তু আপনি বৃদ্ধ বাবাকে রেখে এক মুহূর্তের জন্যও বিদেশে যেতে প্রস্তুত নন। ফলে আপনার সবচেয়ে কাছের মানুষটি আপনাকে ডিভোর্স দেবার সিদ্ধান্ত নিল। একবার ভেবে বলুনতো, কি করবেন আপনি?

মঙ্গলবার, ১ নভেম্বর, ২০১১

স্টেডিক্যাম: নান্দনিক শটের হাতিয়ার

গুডফেলাস সিনেমাটি দেখেছেন? স্ট্যানলি কুব্রিকের দ্য শাইনিং? এ দুটো সিনেমায়ই স্টেডি ক্যামের অপূর্ব ব্যবহার দেখানো হয়েছে - মনে করতে পারছেন? হয়তো কষ্ট হচ্ছে। তাহলে ভারতীয় সিনেমা থেকে উদাহরণ দিই - এবার আপনি পারবেনই। ফারাহ খানের পরিচালনায় শাহরুখ খান অভিনীত উদ্ভট সিনেমা 'ম্যায় হু না' দেখেছেন নিশ্চয়ই? সেখানে একটি গান ছিল - চলে য্যয়সে হাওয়া । এবার নিশ্চয়ই মনে করতে পেরেছেন তাই না? গানটি অন্যরকম লেগেছিল না? শুনেছিলাম এই গানটা শ্যূট করতে টানা ২৯ দিন রিহার্সেল চলেছিল। কেন? কারণ এই গানটার একটা বড় অংশ স্টেডিক্যামে শ্যুট করা।

শনিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০১১

মনিকা বেলুচির ধর্ষন অথবা একটি অদৃশ্য ছোরা বা বন্দুকের গল্প


মনিকা বেলুচির কথা শুনলেই যে কারও চোখে একটি অনিন্দ্য সুন্দরী অভিনয়ে পারঙ্গম ইতালিয়ান এক অভিনেত্রীর মুখ ভেসে উঠবে এটা স্বাভাবিক। ২০০০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত মেলেনা সিনেমার দু একটা দৃশ্যও ভেসে উঠতে পারে চোখের সামনে বিশেষ করে কোমড় দুলিয়ে স্কার্ফ পরা মেয়েটি যখন একাকী হেটে যাচ্ছিল আর পুরো এলাকার নানা বয়সী যতসব পুরুষ তাদের চোখ দিয়ে গিলে খাচ্ছিল, মহিলারা ঈর্ষা বোধ করছিল এবং সদ্য কৈশোর পেরোনো ছেলেটি বুঝতে পারছিল অন্য অনেকের মতোই এই তরুনীর প্রতি তার একটা অন্যরকম ভালোলাগা তৈরী হচ্ছে। দুবছর বাদে ২০০২ সালে এই অভিনেত্রী 'ইরিভার্সিবল' নামের একটি সিনেমায় অভিনয় করে ব্যাপক আলোচিত এবং অবশ্যই সমালোচিত হন। আলোচনার বিষয়বস্তু সিনেমার প্রায় দশ মিনিট স্থায়িত্বের একটি দৃশ্য - একটি ধর্ষন দৃশ্য। প্রায় অন্ধকার আন্ডারপাস দিয়ে যাওয়ার সময় ছোরা হাতে এক দুবৃত্ত তার পথরোধ করে এবং এই ছোট কিন্তু ধারালো ছোরা গলায় চেপে অ্যালেক্স চরিত্রে রূপদানকারী মনিকা বেলুচিকে ধর্ষন করে। জনমানুষহীন অন্ধকার আন্ডারপাসে গলায় ঠেকানো ছোরাটির কারণে তার ধর্ষিত হওয়া ছাড়া অন্য কোন পথ খোলা ছিল না সেই সময়। একটি নিষ্পাপমুখো ধারালো ছোরার কাছে হারাতে হয়েছিল তার সম্ভ্রম, হারাতে হয়েছিল তার জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ন সময়।





এদেশে ফেসবুকের প্রচলন ঘটার আগে মোবাইলে হাস্যরসে ভরপুর নানা এসএমএস এর প্রচলন ছিল। সেই সময়ে পাওয়া একটি এসএমএস মনে পড়ে যায়, যেখানে বলা হয়েছিল : "Nobody dies a virgin, cause in the End, life fucks us all"। রম্য হলেও এই কথাটার মানে কিন্তু গভীর, যমদূতের হাতে আছে একটি অদৃশ্য বন্দুক কিংবা ছোরা।





লেখকদের কাছে বারবণিতারা বেশ গুরুত্ব পেয়ে থাকেন। রূপক অর্থে ব্যবহার করার জন্য বারবণিতাদের ভূমিকা মোটেও কম নয়। এই জনসংখ্যাবহুল, যানজটে ভরপুর, বিষাক্ত-কালিমাপূর্ণ দু:সহ ঢাকা নগরীকে বিন্দুমাত্র ভালো না বেসেও সারা জীবন কাটিয়ে দিচ্ছেন এমন মানুষের সংখ্যা নেহায়েত কম নয়। মনপ্রাণ খুলে আলাপ করুন তাদের সাথে, শেষ পর্যন্ত আপনাকে সিদ্ধান্তে আসতেই হবে - এই মানুষটির কাছে এই ঢাকা শহর একটি বারবণিতা ভিন্ন কিছু নয়। যতদিন দেয়ার সুযোগ আছে ততদিনই এর গুরুত্ব - এই মানুষটির কাছেও আছে একটি অদৃশ্য বন্দুক।





অফিস ছুটির সময় দৈনিক বাংলার মোড় থেকে খিলগাও ফ্লাইওভার পর্যন্ত একটি রিকশা ভাড়া করার চেষ্টা করুন। দু একজন যদি রাজী হয়েই যায়, দ্বিগুনের বেশী ভাড়া হাকবে সে আপনার কাছে, কারণ ঠিক সেই মুহূর্তে তার কাছে রয়েছে একটি অদৃশ্য বন্দুক। গাবতলী বাসস্ট্যান্ডে মিনারেল ওয়াটার কিনে দেখুন। বোতলের গায়ে ছাপার অক্ষরে ১৭ টাকা দাম লেখা থাকা সত্বেও ২০ টাকা দিতে আপনি বাধ্য, কারণ তার হাতে রয়েছে একটি অদৃশ্য বন্দুক।





বাংলাদেশের সীমান্তে নির্মমভাবে একের পর এক হত্যাযজ্ঞ চালানোর পরে 'এসব হত্যা নয়, মৃত্যু' বক্তব্য প্রদান, অত:পর এদেশে এসে তিস্তা চুক্তির প্রাসঙ্গিক দাবীকে উপেক্ষা করে প্রায় বিনা শুল্কেই এদেশের শারীরীক ও মানসিকভাবে অপরিপক্ক কিশোরীর ন্যায় দুর্বল খোড়া শরীরের উপর দিয়ে বিশাল বিশাল মালবাহী ট্রাকের ততোধিক ভারী চাকা গড়িয়ে দেয়ার ঘটনা ঘটতেই পারে, কারণ ঠিক সেই মুহূর্তে ভারতের হাতে রয়েছে একটি বন্দুক এবং বাংলাদেশ পরিনত হয়েছে প্রায় অন্ধকারাচ্ছন্ন একটি আন্ডারপাসে একাকী অসহায় একটি তরুনী।





এই অদৃশ্য বন্দুক আর ধর্ষনের ঘটনা আমাদের গা সওয়া, কারণ জন্মমুহূর্ত থেকেই ক্রমাগত ধর্ষনের মধ্য দিয়েই আমরা বড় হয়েছি, আরও বড় হব এবং ক্রমাগত ধর্ষন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েই একসময় জীবনের কাছে শেষবার ধর্ষিত হয়ে বিদায় নেবো।





হতাশ হবেন না, কারণ আমার আপনার হাতেও রয়েছে একটি অদৃশ্য বন্দুক। মনে করে দেখুন, নিজ নিজ জায়গায় দাড়িয়ে কখন কোথায় আপনি আপনার অদৃশ্য বন্দুকটি ব্যবহার করেন স্বার্থসিদ্ধি করার জন্য? বন্দুক আমার আপনার সবার হাতেই আছে, যা নেই সেটা হলো জনমানবশূন্য প্রায় অন্ধকার একটি আন্ডারপাসে একাকী অসহায় একটি তরুনী যার গলায় আপনার অদৃশ্য ছোরাটি ঠেকিয়ে অথবা বন্দুকের ঘোড়ায় আঙ্গুল চেপে রেখে আমি আপনি একে একে খুলে নেবো তার সব কটি বস্ত্র, তারপর তার ইজ্জত সম্ভ্রম নিয়ে খেলব চমৎকার একটি লোফালুফি খেলা।





অফ টপিক: (কেন এই গল্প)
বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শেষ প্রান্তে এসে আমাদের মা-বাবা-বড় ভাই-বোনরূপী শিক্ষকদের অদৃশ্য বন্দুকের নল থেকে শেষবারের মতো নিজেদেরকে বাচিয়ে রাখার জন্য আমরা মেনে নিয়েছি বিনা কারণে পরীক্ষা পিছিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত। আমরা বোকা নই, আমরা ভীরু নই, বন্দুকের নলের মুখে দাড়িয়ে আমরা সঠিক সিদ্ধান্তটিই নিয়েছি কারণ আমরা জানি - সতীত্ব-সম্ভ্রম যায় যাক, যৌনাঙ্গ বেচে থাকলেই হয়।





লেখকের নামসহ এই লেখাটি নির্দ্ধিধায় শেয়ারযোগ্য
© Nazmul Hasan Darashiko (www.darashiko.com)


সোমবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১১

খোজ-দ্য সার্চ: একটি পজেটিভ রিভিউ

খোজ দ্য সার্চ সিনেমার কথা উঠলেই সিনেমার দর্শকরা হাসেন। হা হা হা হি হি হি হো হো হো ...। খোজ দ্য সার্চ কমেডি সিনেমা নয়, পুরোদস্তুর অ্যাকশন সিনেমা। তাই হাসির পেছনে সিনেমার হাস্যরস নয় বরং এর প্রতি তুচ্ছ তাচ্ছিল্যভাবই প্রকট হয়ে উঠে। কেউ কেউ এধরনের সিনেমা যেনো নির্মান না হয় সে বিষয়ে আশাবাদও ব্যক্ত করেন। যারা হাসেন তাদের সবাই যে সিনেমাটা দেখেছেন তা নয়, অনেকে হাসেন কারণ না হাসলে অন্যরা তাকে নিয়ে হাসতে পারে। আমি হাসি না - খোজ দ্য সার্চ সিনেমাটা আমাকে হাসায় নি, অবিভূত করেছে।

শনিবার, ৮ অক্টোবর, ২০১১

বলিউডের দুষ্টু গান

এই লেখাটার সামান্য পরিশোধিত রূপে 'বলিউডে অন্য গান 'শিরোনামে দৈনিক সমকাল ঈদ বিশেষ আয়োজন 'ঈদ আনন্দ'তে ছাপা হয়েছে গত ২৬ আগস্ট, ২০১১ তারিখে।

"একটা দুষ্ট গান ঢোকান না দাদা একটা দুষ্ট গান ঢোকান
একটা দুষ্ট গান ঢোকালে দেখিয়ে দেবো সব্বাইকে ভালো ছবিটাও চলে"

বলিউডে এখন দুষ্টু গানের জয়জয়কার। বিশেষ করে গত কিছু দিনে মুন্নি বা শীলার নাম এত বেশীবার উচ্চারিত হয়েছে যে দুষ্টু গান সম্পর্কে যার ধারণা ছিল না সেও এখন দুষ্টুগানের মাস্টার্স ডিগ্রি নিতে পারে। দুষ্টু গান কথাটার মধ্যে এক প্রকার আহ্লাদ আছে, বাদ দেয়াই ভালো। দুষ্টু গানের প্রচলিত নাম 'আইটেম সঙ', সঠিক ভাষায় 'আইটেম নাম্বার'।

রবিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১১

The Fall: একতাল কাদা

রাজনৈতিক সম্পাদিত-প্রকাশিত: http://goo.gl/3yAgw

গভর্নর ওডিয়াস, যিনি নানা কারণে কুখ্যাত।  যেমন তিনি পাঁচজন তরুনের জীবনে দুর্ঘটনার কারণ। এই দুর্ভাগা পাঁচ কারা?

ওটা বেংগা, জন্ম থেকেই গভর্নর ওডিয়াসের দাস। আখ ক্ষেতে প্রাণপন পরিশ্রম করে ভাইয়ের সাথে মিলে। কিন্তু অত্যাধিক পরিশ্রমে ভাই মারা গেলে ওটা বেংগা ক্ষিপ্ত হয়ে সবাইকে মুক্ত করে দেয় এবং প্রতিজ্ঞা করে –  গর্ভনর ওডিয়াসকে হত্যা করবে।

ইন্ডিয়ান এক যোদ্ধা –  একজন সিং, দুশ্চিন্তাগ্রস্থ হলে তার ভ্রু ঘামে, বিয়ে করেছিল সবচে’ সুন্দরী এক মেয়েকে। কিন্তু গভর্নর ওডিয়াস কুষ্ঠ রোগীর বেশে দেখতে এলো তার স্ত্রীকে।  যোদ্ধা সিং তার ঘরের পাহারায় থাকলো, জানলো না তার স্ত্রীকে চুরি করে গভর্নর ওডিয়াস নিয়ে গেছে আগেই।  মুক্তির একটাই রাস্তা ছিল এক’র স্ত্রীর সামনে – অনেক উচুঁ দেয়াল থেকে লাফিয়ে মরলো সে।  রক্তপণ করলো যোদ্ধা – ওডিয়াসকে মারবে সে।

শনিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১১

বেড়িয়ে পড়ুন টিনটিনের সাথে

এই লেখাটা কিছুটা সম্পাদিত হয়ে দৈনিক সমকালের বিনোদন সাপ্তাহিক নন্দনে প্রকাশিত হয়েছিল

টিনটিনকে চিনেন তো? সেই যে গোলগাল মুখের লালচুলো অনুসন্ধিৎসু তরুন যে নানা রকম রোমাঞ্চকর দু:সাহসিক সব অ্যাডভেঞ্চারে ছুটে বেড়ায় আমেরিকা-কঙ্গো-তিব্বত, এমনকি সুদূর চন্দ্র পর্যন্ত; অপরাধীদের পেছনে ধাওয়া করে বেড়ায় পাহাড় পর্বত থেকে শুরু করে গভীর সাগরের তলদেশে নির্দ্বিধায় আর তীক্ষ্ণ বুদ্ধির জোরে সকল সমস্যার সমাধান করে এক নিমিষেই - সেই টিনটিনের কথাই বলছি। যুগ যুগ ধরে গোটা পৃথিবীর নানা দেশের অগুনতি পাঠকের অসীম ভালোবাসায় সিক্ত টিনটিন আবার হাজির হচ্ছে তার ভক্তদের সামনে - নতুন রূপে, আরও জীবন্ত হয়ে, রূপালী পর্দায়, আর তাকে এ রূপে নিয়ে আসছেন জুরাসিক পার্ক খ্যাত স্টিভেন স্পিলবার্গ, সাথে আছে কিংকং খ্যাত পরিচালক পিটার জ্যাকসন।

বুধবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০১১

বারান : বর্ষার রঙে আঁকা ভালোবাসার ছবি



হলিউড-বলিউডের "গরম" মুভিগুলোর মাঝে ইরানী মুভি যেন এক পশলা বৃষ্টির মতো। প্রায় একই সময়ে ইরান জন্ম দিয়েছে কলজয়ী সব পরিচালকদের। জাফর পানাহি, মাখমালবাফ পরিবার। এবং অতি অবশ্যই আব্বাস কিয়েরোস্তামি - যাকে শুধু ইরানী চলচিত্র নয়, সমগ্র বিশ্ব চলচিত্রের অন্যতম সেরা পরিচালক বলে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু আমার ব্যক্তিগত পছন্দের শীর্ষে রয়েছেন অন্য এক পরিচালক- মাজিদ মাজিদি।

তার পরিচালিত আরেকটি অসাধারণ মুভি হলো Baran (2001)। প্রথমেই একটি কথা স্বীকার করে নেই, মুভিটা শুরু হবার আগেই আমি এটাকে পছন্দ করেছিলাম। ইরানী শব্দ "বারান (باران )" এর অর্থ বৃষ্টি। যে মুভির নামের সাথেই বৃষ্টি শব্দটি জুড়ে আছে, তাকে ভালো না বেসে উপায় কি!

সালমান শাহের পরে চলচ্চিত্র শিল্প

[caption id="" align="alignleft" width="245"] সালমান শাহ (১৯ সেপ্টেম্বর ১৯৭০ - ৬ সেপ্টেম্বর, ১৯৯৬)[/caption]

রাজনৈতিক সম্পাদিত-প্রকাশিত: http://goo.gl/uneSd

আজ সালমান শাহের ১৫তম মৃত্যুবার্ষিকী। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে ‘এলাম-দেখলাম-জয় করলাম’- এর সবচে ভালো উদাহরন বোধহয় সালমান শাহ। ২৮ টি চলচ্চিত্রে সাড়ে তিন বছরের অভিনয় জীবন তার।

১৯৯৩ সালের ২৫শে মার্চ তারিখে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ দিয়ে শুরু করে ১৯৯৭ সালের ৫ সেপ্টেম্বরের ‘বুকের ভেতর আগুন’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে শেষ করা ক্যারিয়ারে মোট সিনেমার সংখ্যা ২৮টি। সময় সাড়ে চার বছর। চলচ্চিত্র মুক্তি পাবার সময় হিসাব করলে চার বছর হলেও ক্যারিয়ার জীবন সাড়ে তিন বছর, কারণ ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তারিখে সালমান শাহ দেহ রাখেন। ১৯৯৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত প্রায় সব চলচ্চিত্রের কাজই অসমাপ্ত ছিল তার, নতুন নায়ক দিয়ে, গল্পে সামান্য পরিবর্তন করে পরিচালকরা তার অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করেন এবং মুক্তি দেন।

সোমবার, ২৯ আগস্ট, ২০১১

দারাশিকো ব্লগের পক্ষ থেকে সবাইকে - ঈদ মোবারক

চলে এলো ঈদ উল ফিতর।
দারাশিকো ব্লগের পাঠকদেরকে জানাই ঈদ মোবারক। প্রায় ৯ দিনের ছুটির ফাদে আটকে পড়া আপনার ছুটি কাটুক অনেক আনন্দে, প্রিয়জনের সাহচর্যে। হয়ে উঠুক সিনেমাময় ।

এই ঈদে দারাশিকো ব্লগের পক্ষ থেকে যে কটি সিনেমা দেখার অনুরোধ থাকবে -
১. জেএফকে - অলিভার স্টোন
২. কিঙডম অব হ্যাভেন - রিডলি স্কট
৩. রান্ওয়ে - তারেক মাসুদ
৪. মনের মানুষ - গৌতম ঘোষ
৫. ইটি -দ্য এক্সট্রা টেরিস্টিরিয়াল - স্টিভেন স্পিলবার্গ
৬. দ্য শাইনিঙ - স্ট্যানলি কুব্রিক (অবশ্যই রাতের বেলা হেডফোন লাগিয়ে দেখবেন)
৭. দ্য ফল - তারসেম সিঙ
এবঙ আপনার পছন্দের সিনেমাটি

ঈদ মোবারক :)

বুধবার, ২৪ আগস্ট, ২০১১

সদ্যপ্রয়াত সিনেমাব্যক্তিত্ব আখতারুজ্জামান স্যার: টুকরো স্মৃতি

১.

শুক্রবার।
দুপুরবেলা। আম্মার পাশে শুয়ে আছি। সোয়া তিনটার একটু পরে সিনেমা শুরু হলো। নাম - পোকামাকড়ের ঘরবসতি। অদ্ভুত নাম। কোন প্রেম পিরিতির নাম গন্ধ নেই। আম্মা পাশ ফিরে ঘুমুতে চাইলেন। আমি তাকে সামান্য তথ্য জুগিয়ে উৎসাহ দেয়ার চেষ্টা করলাম - এই সিনেমাটা পুরস্কার পাইছিল, ববিতা আছে। আম্মা পাত্তা না দিয়ে ঘুমুলেন। আমি দেখতে লাগলাম - ববিতার জন্য নয়, ছি ছি ছি তুমি এত খারাপ - খ্যাত খালেদ খান আর চট্টগ্রামের স্থানীয় ভাষার জন্য। কিচ্ছু হচ্ছে না ভাষার ব্যবহার। তাও দেখি।

সোমবার, ২২ আগস্ট, ২০১১

সিনেমায় যখন ক্রেনশট

শোনা গল্প।

বাংলাদেশে সিনেমার শ্যুটিং এ প্রথম নাকি ক্রেন ব্যবহার করা হয়েছিল 'পদ্মা নদীর মাঝি' সিনেমাতে। ভারত থেকে একটা ক্রেন নিয়ে আসা হয়েছে। কিন্তু সেই ক্রেন কিভাবে ব্যবহার করা হবে কেউ জানে না। নানা জনে নানা মতামত দিলো। কোনভাবেই সেই ক্রেনের ব্যবহার ঠিক করা যাচ্ছে না। পরিচালক তখন উপস্থিত ছিলেন না, দায়িত্ব কলাকুশলীদের হাতে। বেশ চিন্তাভাবনা করে সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া গেল এবং সেই সিদ্ধান্ত মোতাবেক সিনেমার হিরো এবং হিরোইনকে ক্রেনের উপরে তুলে দেয়া হলো !

বৃহস্পতিবার, ১১ আগস্ট, ২০১১

সিনেমায় গুপ্তহত্যা

নিশ্চল মূর্তি।
রাশিয়ায় তৈরী ড্রাগোনভ রাইফেলের টেলিস্কোপে চোখ রেখে অপেক্ষা করছে সে। আরেকটু বাদেই এদিক দিয়ে যাবে টার্গেট। ম্যাগাজিনে দশটা লম্বা চোখা বুলেট। রিলোড করতে সময় লাগবে দুই সেকেন্ডের কম সময়। কিন্তু সুযোগ মাত্র একটাই। জায়গামত পৌছে দিতে হবে বুলেটটিকে। স্নায়ুর চাপ প্রচন্ড। কিন্তু সব কিছুকে উপেক্ষা করে সে অপেক্ষা করতে লাগল। সে একজন গুপ্তঘাতক।

শুক্রবার, ৫ আগস্ট, ২০১১

The Day of the Jackal : সত্যিকারের গুপ্তঘাতক !

আলজেরিয়াকে স্বাধীন ঘোষনা করায় ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট চার্লস দ্য গল কিছু সামরিক এবং সরকারী অফিসারের চক্ষুশূলে পরিনত হন। একদি বিদ্রোহী দল গড়ে উঠে, যার নাম 'ওএএস'। প্রেসিডেন্টকে হত্যার একটা চেষ্টা হয় বটে কিন্তু ব্যর্থ হ্ওয়ায় হামলাকারীরা এবং তাদের নেতৃবৃন্দ ফাসিকাষ্ঠে ঝুলেন। নতুন নেতৃবৃন্দের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আধ মিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে একজন হিটম্যানকে নিয়োগ দেয়া হয় - কাজ একটিই - চার্লস দ্য গলকে পৃথিবী থেকে সরাতে হবে। তার আসল নাম কেউ জানে না, শুধু জানে তার নাম 'দ্য জ্যাকল'।

বৃহস্পতিবার, ২৮ জুলাই, ২০১১

সিনেমায় ডিরেক্টরস কাট কি?

আমরা যারা ইন্টারনেট ঘেটেঘুটে সিনেমা ডাউনলোড করি, তাদের অনেকের কাছেই 'ডিরেক্টরস কাট' শব্দটা পরিচিত। শব্দটা গ্যাঞ্জাম তৈরী করে যদি 'কাট' এর মানে জানা থাকে এবং সিনেমায় এর প্রয়োগ সম্পর্কেও। ডিরেক্টর শ্যুটিং এর সময় 'কাট' বলে চিৱকার করেন, আবার এডিটিং প্যানেলে বসেও কাটা কুটি চলে। যেহেতু ডিরেক্টরই একটি সিনেমার সব কিছু, তাই ডিরেক্টরস কাটের পর কিছু থাকতে পারে সে বিষয়ে সন্দেহ জাগে বৈকি।

রবিবার, ২৪ জুলাই, ২০১১

মহামন্দায় সিনেমা, মহামন্দার সিনেমা

অর্থনৈতিক মহামন্দা - বিষয়টার সাথে পরিচয় হতে বেশী সময় লাগে না। বিশেষ করে গত একদশকে অন্তত: দুবার এই কথাটা শুনতে হয়েছে সবাইকে, দেশ এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে।  গত শতাব্দীর অন্যতম উল্লেখযোগ্য ঘটনা হলো এই অর্থনৈতিক মহামন্দা। প্রধাণত আমেরিকায় শুরু হয়ে সারা বিশ্বের প্রায় সব দেশকেই কম বেশী প্রভাবিত করেছিল। মূলত মহামন্দাই বিশ্ব অর্থনীতির দিক পরিবর্তন করে দেয়। মহামন্দার কোন নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই, দেশ ভেদে একেক সময় প্রভাব বিস্তার করেছে। অবশ্য বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই ১৯২৯ এ শুরু হয়ে ৩০ দশকের শেষ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। স্টকের মূল্য হঠাৎই পড়ে যায় এবং সারা বিশ্বে কি ধনী কি গরীব সব দেশেই প্রভাব ফেলে। মানুষের আয়, মুনাফা কমে যায়, প্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাটাই চলে বেপরোয়া গতিতে। খাদ্য সংকটা এড়াতে মানুষ তার সম্পদ বিক্রি করতে শুরু করে, দিনমজুরের সংখ্যা বেড়ে যায় – কিন্তু কাজের প্রচন্ড অভাব দারিদ্রকে আরো বিপর্যস্ত করে।

বুধবার, ২০ জুলাই, ২০১১

নতুন রূপে দারাশিকো'র ব্লগ

প্রায় দুইবছর পরে দারাশিকো'র ব্লগের  থিম পাল্টালাম।

যা কিছু পরিবর্তন হলো:
১. আগে কিছু ড্রপডাউন কিছু সাইড মেনু ছিল। এখন সবই ড্রপডাউন মেনু।
২. বাংলা-ইংরেজির মিশেল ছিল, এখন আর সেটা থাকছে না। পুরোটাই বাংলা করার চেষ্টা করেছি।
৩. ব্যানারটা আগে স্ট্যাটিক ছিল, এখন রেন্ডম ব্যানার। অবশ্য থিমে যে ব্যানার দেয়া ছিল সেগুলোই ব্যবহার করছি এখনো। নতুন ব্যানার তৈরী হয়নি। আসলে আমি পারি্ও না, বন্ধু বান্ধবদের সাথে যোগাযোগ করছি যদি তারা ফ্রি-তে দুই একটা ব্যানার বানিয়ে দেয়। আপনারা কেউ সাহায্য করবেন নাকি? :P
৪. আগে ফিল্মমেকিং পাতায় পোস্ট দিতে পারতাম না, এখন সেখানেও ব্যবস্থা করা হয়েছে। আশা করছি সিনেমা নির্মান নিয়ে যা শিখছি-পড়ছি তা নিয়ে এখানে কিছু কিছু পোস্ট দেয়া যাবে।
৫. আগে পাঠকের পোস্টে রিপ্লাই দেয়ার সুযোগ ছিল না, এখন থেকে থাকছে। আশা করছি, এতে আরও ইন্টারঅ্যাকটিভ হবে সাইটটা।

আপনার মন্তব্য জানান, পরামর্শ তো অবশ্যই। টেকি ভাইদের থেকে কিছু টিপসও আশা করছি।

দারাশিকো'র ব্লগ ফ্যানপেজে লাইক দিন, আপডেটিত থাকুন।


কৃতজ্ঞতা - সাইট ডেভলপার: থিঙ্কপুল. নেট

শনিবার, ১৬ জুলাই, ২০১১

It's a Wonderful Life: চাই ভালো মানুষ

খুবই গুরুত্বপূর্ন এক মিটিং বসেছে উপরে। জর্জ বেইলি নামে এক ভদ্রলোক বিপদে আছেন, এমনই সে বিপদ যে মুক্তির জন্য আত্মহত্যা ছাড়া আর কোন উপায় নেই, তাকে বাচাতে হবে। সময় আছে মাত্র এক ঘন্টা। দায়িত্ব পরলো ক্লারেন্স অডবডি নামের দ্বিতীয় শ্রেনীর এক ফেরেস্তার উপর, দুইশ বছর পার করার পরেও যার একজোড়া পাখা হয়নি, তার অবসর কাটে মার্ক টোয়েনের 'দ্যা অ্যাডভেঞ্চার অব টম সয়্যার' পড়ে। সফলতার পুরস্কার হলো একজোড়া পাখাপ্রাপ্তি, কিন্তু জর্জ সম্পর্কে জানতে তো হবে, তা নাহলে চিনবে কি করে? সুতরাং, জর্জের ডোশিয়্যারটা দেখানো হলো, সেটা আবার সিনেমার পর্দার মতোই, ইচ্ছেমতো স্টপ করে দেয়া যায়। প্রশ্ন হলো, কত মানুষ মরে কতখানে, সবাইকে বাদ দিয়ে এই লোকটিকে, এই জর্জ বেইলিকে বাচাতে হবে কেন? 

বৃহস্পতিবার, ৭ জুলাই, ২০১১

কেন আমি ভারতীয় সিনেমা আমদানীর বিরোধিতা করি?

বাংলাদেশে ভারতীয় সিনেমা আমদানীর বিরোধিতা করে আমি এ পর্যন্ত দুটো পোস্ট দিয়েছি। ভগবান বাংলাদেশী সিনেমাকে তুমি বাচিয়ে রেখো এবং রাজনৈতিক.কমসম্পাদিত-প্রকাশিত দেশের সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি ডাকাতি হয়ে যাচ্ছে
পরবর্তীতে সামুতে এবং চতুর্মাত্রিকে এই ব্লগদুটো প্রকাশিত হবার পরে নানা মন্তব্য পেয়েছি। কোন এক মন্তব্যের জবাবটাই এখন একটা পোস্ট হয়ে গেল

দুয়ার বন্ধ করে আসলেই শিল্প চর্চা হয় না যদি সেই শিল্পের ইংরেজী হয় 'আর্ট', কিন্তু শিল্পের ইংরেজি যদি হয় 'ইন্ডাস্ট্রি' তবে অবশ্যই দরজা বন্ধ করে হতে পারে - যে ভারতীয় সিনেমা আমরা আমদানী করতে যাচ্ছি সেই ভারতেই এই এক্জাম্পল ভুড়ি ভুড়ি।
অনেকেই বলছেন, বস্তাপচা সিরিয়ালগুলোকে যেখানে বন্ধ করতে পারি নি অথচ সেটাই সর্বপ্রথম উচিত কাজ, তখন সিনেমা আমদানী বন্ধ করে কি হবে? ভারতীয় বস্তাপচা সিরিয়ালগুলো আমরা বন্ধ করতে পারি নাই সত্যি, কিন্তু এটা অস্বীকার করার সুযোগ নেই যে এই টিভি চ্যানেলগুলোই এক/দেড় দশক পরে বাংলাদেশে ভারতীয় সিনেমা ঢোকার পথ করে দিল। তাছাড়া, টিভি চ্যানেল বন্ধ করতে পারিনি বলে সিনেমাকে সুযোগ করে দেয়াটা যৌক্তিক নয়, অন্তত: ঠিক এই যুক্তিতে।

রবিবার, ৩ জুলাই, ২০১১

দেশের সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি ডাকাতি হয়ে যাচ্ছে

রাজনৈতিক সম্পাদিত-প্রকাশিত


ঠিক এই মুহুর্তে দেশের সবচে’ গুরুত্বপূর্ন ইস্যু বোধহয় তেল-গ্যাস রপ্তানি- কনকো ফিলিপস চুক্তির মাধ্যমে দেশের সম্পদ বিদেশে রপ্তানি করে দেয়ার মাধ্যমে কিছু কাঁচা টাকা এবং অবশ্যই ভবিষ্যত দেউলিয়াত্ব-অকল্যানের অর্জন। এই তেল-গ্যাস চুরি ঠেকাতে সচেতন যুবসমাজের এক অংশ নিজ দায়িত্বে উদ্যোগী হয়ে নিজ নিজ ক্ষমতাবলে প্রতিবাদী হয়ে উঠেছে, এবং ই-মিডিয়া বিশেষত: ব্লগ এবং ফেসবুক এই আন্দোলন ছড়িয়ে দিতে বিশেষ ভূমিকা রাখছে। এই প্রতিবাদী শক্তি নিজেদের ‘টোকাই’ নামে ডাকছে।

শুক্রবার, ১ জুলাই, ২০১১

Let’s join to TinTin

Published in The New Nation


Know TinTin? Yes, I am talking about Tintin, that very investigative young man with a round face and red hair who roams about America-Kongo-Tibet with dangerous and impossible missions, even to the moon; runs after the criminals from the hills to the deserts to the deep ocean and who solves hardest to solve mysteries in a second with his witty knowledge. Over decades, TinTin has earned the love and affection of billions of readers around the globe and it’s re-appearing once again to the fans and this time, this time in the silver screen of cinema and the men behind Tintin’s appearance are Steven Spilbergh and Peter Jackson who are very familiar for their movies Jurasik Park and King Kong respectively.

শনিবার, ২৫ জুন, ২০১১

রেস্টুরেন্টে খেলে ভ্যাট এর রশিদ আদায় করেন তো?

ঢাকা সিটি কলেজের সাথের স্টার কাবাব এবং বিরিয়ানি হাউজ।

গত পরশু বুধবার রাতে আমাদের একটা অফিসিয়াল গেট টুগেদার ছিল। সব মিলিয়ে আমরা প্রায় ৩২ জন। জনপ্রতি কাচ্চি, বোরহানি আর একটা করে লাচ্ছি - খাবারের আইটেম এই।
প্রায় দুঘন্টার আড্ডাবাজি চললো। শেষ পর্যায়ে যখন ওয়েটারকে বিল নিয়ে আসার জন্য বললাম সে আমার কানে কানে বললো - বিল কি ভ্যাট সহ হবে নাকি ভ্যাট ছাড়া। আমি উ্ত্তর দেয়ার আগেই সে জানালো - ভ্যাটসহ প্রায় সাত/আটশ টাকা বেশী পড়বে।
টাকা দেবে অফিস, সুতরাং আমার আপত্তি কোথায়? তাই বললাম, ভ্যাটসহ বিল নিয়ে আসতে।

বেশ কিছু সময় পরে সে স্টার কাবাব ্ এবং বিরিয়ানীর প্যাডে হাতে লেখা একটা বিল নিয়ে আসলো - পাচ হাজার টাকার কিছু বেশী বিল। হাতে দিয়ে কানে কানে বললো - ভ্যাট ছাড়া করে এনেছি। প্রায় সাতশ টাকা ভ্যাট এসেছে। আমি একটু বিরক্ত হলাম- ভ্যাট ছাড়া বিল করছেন কেন?

ওয়েটার আমাকে বোঝানো শুরু করলো - এখানে কোন সমস্যা নেই তো। স্টার এর প্যাডে লেখা হয়েছে, সিগনেচার দেয়া আছে, ম্যানেজার নিজেই সেটা করেছেন এবং পেইড লেখা একটা সিল ও আছে সেখানে - সুতরাং কোন সমস্যা হবে না।

আমি নাছোড়বান্দা। টাকা গেলে আমার যাবে, আপনার সমস্যা কোথায়? অগত্যা তাকে একটি নতুন বিল নিয়ে আসতে হলো। মোট ৫, ৮৭০ টাকা।


প্রশ্ন হলো - আমরা নাহয়  অফিসিয়াল গেট টুগেদারের কারণে একটি বিল করে নিয়েছি এবং স্টার কতৃপক্ষ ভ্যাট ফাকি দেয়ার চেষ্টা করেও সমর্থ হন নাই, কিন্তু দৈনিক কত হাজার লোক সেখানে খাচ্ছে যারা বিলের ধারে কাছেও যান না? ৩০ জনে যদি প্রায় ৫০০ টাকা ভ্যাট ফাকি দেয়া যায়, তবে দৈনিক প্রায় আরও ৫,০০০ কাস্টমার থেকে প্রায় ৮,৫০০ টাকা ভ্যাট ফাকি দিচ্ছে প্রতিদিন। এটা আমার একটা আন্দাজ মাত্র। কিন্তু প্রকৃত্পক্ষে এর পরিমানটা আরও অনেক বেশী হবে নিশ্চিত। 

মিষ্টির দোকানে আমরা প্রায় সবাই ভ্যাটের রশিদ সংগ্রহের ব্যাপারে সচেতন থাকি (আসলেই কি?), রেস্টুরেন্টে খাবার বেলায় কি এই সচেতনতা বৃদ্ধি করা যায় না?

বৃহস্পতিবার, ২৩ জুন, ২০১১

ন্যাশনাল আইডি কার্ড হারিয়েছে? জেনে নিন কি করতে হবে

যদি ন্যাশনাল আইডি কার্ড হারানো যায় তবে কি করবেন - জেনে নিন এবং লাইক দিন :)

প্রথমে থানায় একটা জিডি করবেন - আপনার নাম, বাবার নাম, স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা এবং সম্ভব হলে ভোটার/আইডি নম্বর উল্লেখ করে। যদি বর্তমান ঠিকানা এবং কার্ড তৈরীর সময়কার ঠিকানা ভিন্ন হয় তবে অবশ্যই পূর্বের ঠিকানার কথা উল্লেখ করবেন।

জিডির কার্বন কপি নিয়ে চলে যাবেন আগারগাও নির্বাচন কমিশনের অফিসে - ৬৭ নম্বর বাড়ি। তালতলায় নেমে রিকশা ভাড়া ১৫ টাকা। সেখানে আপনার থানার জন্য নির্ধারিত রুম আছে, সহকারীকে আপনার সমস্যার কথা জানাবেন। যদি এমনটি হয় যে আপনি আপনার ভোটার আইডি জানেন না, তবে তারা একটা বই থেকে আপনার ছবি, তথ্য এবং ভোটার আইডি বের করতে দিবে, সেইটা ভীষন ভেজালের কাজ। কারণ এলাকায় যত মানুষ আছে তাগো সবার বদন দেখতে দেখতে নিজের বদন কিরকম সেইটা ভুইলা যাইতারেন :( যাকগে, নিজেরটা বের করে ভোটার নম্বরটি আপনার সংগ্রহে লিপিবদ্ধ করতে হবে। জিডির কপি এখানে লাগবে না।

এবার দশমিনিট হাটা দুরত্বে যেতে হবে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সাত তলায়। সেখানে আইডি কার্ড হারানো এবং সংশোধন কার্যাবলী নিয়া বিশাল যজ্ঞ চলতেসে। একটা ফরম পূরন করে জিডির কপি সহ জমা দিতে হবে, তারা একটা নেক্সট ডেট জানাবে, সেই ডেটে গিয়া কার্ড নিয়া আসতে হবে।

খুবই সিম্পল কারবার। প্র্যাকটিস করার জন্য নিজের কার্ডটা একবার হারায়া দেখতারেন :)

বুধবার, ২২ জুন, ২০১১

Juno এবং চাইল্ড প্রেগন্যান্সি

প্রথমে সিনেমা দিয়েই শুরু করি।

জুনো নামের মেয়েটি, তার বয়স মাত্র ১৬, কিছুটা আগ্রহী হয়েছিল সহবাস অভিজ্ঞতা কিরূপ সেটা জানার জন্য। তার আগ্রহের সফল সমাপ্তি ঘটে তারই ক্লাসমেট-বন্ধু-প্রতিবেশী পলি ব্লিকারের মাধ্যমে। কিছুদিন পরে জুনো কিছু শারীরিক সমস্যা অনুভব করে এবং নিজেই টেস্ট করে জানতে পারে - সে পজিটিভ। স্কুলপড়ুয়া একটি মেয়ে প্রেগন্যান্ট হয়ে গেলে সেটা কতটা অস্বাভাবিক লাগবে সেটা ভিন্ন কথা কিন্তু জুনো তার ভ্রুনটিকে নষ্ট করতে হাজির হলো এমন একটি নারীবাদী প্রতিষ্ঠানে যারা ্অ্যাবরশনে সাহায্য করে। যে কোন কারণেই হোক, জুনো সেবা গ্রহন না করেই ফিরে এলো এবং সিদ্ধান্ত নিল - সে বাচ্চাটি জন্ম দিবে, তবে মা হবে না - বরং মা হতে পারছে না এমন কোন একটি পরিবারে বাচ্চাটি দান করে কিছু সহযোগিতা করবে। সুতরাং তার গর্ভে বড় হতে লাগলো বাচ্চাটি।

মঙ্গলবার, ৭ জুন, ২০১১

থানা থেকে আসছি: আধুনিক বাঙালি পরিবারে ভূতের কিম্বা বিবেকের আছর

রাজনৈতিক -সম্পাদিত ও প্রকাশিত:


গল্পটা হয়তো বেশ পরিচিত। ধনী ব্যবসায়ী অমরনাথ মল্লিকের একমাত্র মেয়ের এনগেজমেন্ট। অনুষ্ঠানের কলরব শেষে সবাই যখন বিদায় নিল, তখন হাজির হলেন দাপুটে এক পুলিশ ইন্সপেক্টর। নাম তিনকড়ি হালদার। বাড়িতে আছেন মিসেস সুতপা মল্লিক, তাদের পুত্র অরিন মল্লিক, কন্যা রিনিতা মল্লিক এবং হবু মেয়ে জামাই রজত দত্ত। তিনকড়ি জানালেন, কোন এক বস্তিতে আজ রাতেই একটি মেয়ে আত্মহত্যা করেছেন এবং তার কাছে পাওয়া ডায়রীতে এদের সবার কথাই উল্লেখ আছে, তাই তিনি এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন।

সোমবার, ৩০ মে, ২০১১

প্রতিহিংসার শিকার 'জিয়া উদ্যান'

শিরোনাম নিয়া আমি শংকিত।
জিয়া উদ্যান বলার কারনে সরকার শাবল-বেলচা দিয়া আমার খোমা উপড়ায়া দিতে পারে, যেমনি উপড়ে ফেলা হয়েছিল জিয়া উদ্যানের ফলক। জিয়া উদ্যান হোক আর চন্দ্রিমা উদ্যান - আমি বলবো জিয়া উদ্যান, কারণ আমি প্রথমে জিয়া উদ্যানে গিয়েছিলাম, উদ্যানকে ভালোবেসেছিলাম, বিনা পয়সায় এর বিজ্ঞাপন করেছিলাম। হতে পারে একসময় এর নাম ছিল চন্দ্রিমা, জিয়াকে ফেলে দিয়ে নাম আবারও চন্দ্রিমাই হয়েছে - তাতে আমার কিছু যায় আসে না।

জিয়া উদ্যানে প্রথম গিয়েছিলাম বছর পাচেক আগে, ২০০৬ সালে। বিকেলে গিয়ে সন্ধ্যা পার করে ঘুরলাম। চমৎকার জায়গা। দারুন বাতাস, বেশ গোছানো। সন্ধ্যার পরে রূপ আরও খুললো যেন। ঝকঝকে আলোময় উদ্যান। জিয়ার কবরের চারদিকে সুন্দর লাইটিং। ভালো লাগে। ফেরার সময় লেকের উপরে সেতুটা দেখে মাথা খারাপ অবস্থা। ব্রিজটা আলো ঝলমল। পায়ের নিচে কাচের ভেতরে আলো। দুপাশে ফোয়ারা। একটু পর পর সশব্দে বিশেষ ছন্দে পানি ছুড়ে দিচ্ছে উপরে, নিচ থেকে রঙ্গীন আলো সেই পানির ঝর্ণাকে দৃষ্টিনন্দন করে তুলছে। এই চোখ যা দেখেছিল এই দুই হাত তা লিখতে পারছে না, দুর্ভাগ্য।


নাম ফলক পরিবর্তন কাহিনী (গুগল থেকে নেয়া )


দুবছর আগের দেখা জিয়া উদ্যান (গুগল থেকে নেয়া)


রাতের আলোময় জিয়া উদ্যান (গুগল থেকে নেয়া)

আজ পৌছুতে একটু দেরী হয়েছিল, সন্ধ্যা। ভয়াবহ অবস্থা। উদ্যানের ভেতরে গাছপালার অংশে একটা বাতিও জ্বলছে না। ঘুটঘুটে অন্ধকার। আমার বন্ধু মোবাইল বের করে টর্চ জ্বালালো। এক প্রকার হাতড়েই মূল বেদীতে পৌছানো হলো। আরও হতাশ হলাম। অযত্নে ঘাসের বাগান আর সেই রকম নেই। ঝোপগুলো ছাটা হয় নাই বেশ কিছু দিন। আগে মাঝের কবরের উপরে পিরামিড অংশে কাউকে উঠতে দেয়া হতো না, এখন দলবলে আড্ডাবাজি হচ্ছে সেখানে। মূল কবর অংশে একটাও বাতি জ্বলছে না, ঘুটঘুটে অন্ধকার। আলোর ছিটেফোটা যা পাওয়া যাচ্ছে তার সবটাই মোবাইল টর্চ হতে। আমরাও মোবাইল আলোতে একটু একটু ঘুরে দেখলাম।

বাহিরে দূরে দূরে কিছু কিছু স্ট্রিট লাইট জ্বলছে, তা প্রয়োজনের তুলনায় বেশ অপ্রতুল। জায়গাটা মূলত আলোকিত হয়ে আছে চটপটি আর ফুচকাওয়ালাদের হ্যাজাকের আলোতে। জানা গেল মাস চারেক হলো এই অবস্থা। রাতে কোন বাতি জ্বালানো হয় না, নিরাপত্তারক্ষীদেরকে পাওয়া গেলনা কাউকেই। সেতুর কাছে এসে মনটা চূড়ান্ত খারাপ হলো। অন্ধকার সেতু। ফোয়ার বন্ধ। হয়তো আগত দর্শকরা সব্বাই আমার মতোই স্মৃতির জাবর কেটে চলছে, এ সময়টুকুতে তো উপভোগ করতে হবে !!


জিয়ার কবর


দেয়াল ভর্তি পোস্টারে !!

দোষ শুধু সরকারকে দিলেই হয় না। বিএনপির দোষও আছে। কবরের চারদিকের দেয়াল জুড়ে পোস্টার, জিয়ার ছবি যুক্ত। মাঝে মাঝে বেগম জিয়া কবর জিয়ারত করতে আসেন, তখন হয়তো পোস্টার বিতরনকারীর নাম লক্ষ্য করবেন এবং পরবর্তীবার ক্ষমতায় আসলে তাকে একটি ভালো পদ দান করবেন। আমাদের রাজনীতিকরা কতটা বেকুব আর পদলেহনকারী - এটা বোধহয় তার উপযুক্ত প্রমাণ।

দুবছর বাদে এসেছিলাম, আবার আসবো অন্তত: তিন বছর বাদে, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এলে। প্রতিহিংসার এই কদর্য রূপ দেখতে ভালো লাগে না। হয়তো তিন বছর বাদে আজকের এই দৃশ্য আমি ভুলেই যাবো। ভুলবোই, কারণ আমি আর দশটা মানুষের মতোই সাধারণ বাংলাদেশী, যাদের মাথায় রাজনীতিকরা কাঠাল ভেংগে খায় আর খাওয়া শেয়ে বিচিটা ... ঢুকায়া দেয়, আমরা সন্তুষ্টির হাসি বিতরণ করি।

বৃহস্পতিবার, ২৬ মে, ২০১১

মে'য়ে মাসে সাকিব শাহরিয়ার ;)

নিম্নোক্ত তথ্যের উপর ভিত্তি করে যে ফলাফলে উন্নীত হওয়া যায়:
১. সাকিব শাহরিয়ারের জীবন এখন ডট ডট ডট এ পরিপূর্ন। প্রায় সব স্ট্যাটাসেই ডট ডট ডট রয়েছে।
২. বিরহে বেদনা বিধুর জীবন যাপন চলসে। অবশ্য সাকিব শাহরিয়ারকে সন্দেহ করার কোন কারণ নেই, কারণ তিনি সিঙ্গল।
৩. লাভ লোকসান নিয়া ইদানিঙ বেশী কচলা কচলি চলসে, বোধহয় লাইব্রেরীতে প্রেমাশুনার প্রভাব !!
৪. সাকিব শাহরিয়ারের সাথে আমার কাইজ্জ্যা চলতাসে :)

মে ১:
Sakib Shahriar
I can't express my feelings in word because my writing on Guerrilla is published on financial express.....

মে ৫:
Sakib Shahriar
Keep you AIRTEL phone switched off on 1st June to protest the SMS-flood.

মে ৬:
Sakib Shahriar
chokher jole felbo muche sopno joto dekhechi......

মে ৭:
Sakib Shahriar

শরীরী মানুষ আমি
আশরীরী মন,
শরীরে আর অশরীরে (নাকি শরীরে আর শরীরে ??? আস্তাগাফিরুল্লাহ )
দ্বন্দ সারাক্ষণ।

মে ৮:
Sakib Shahriar
ভোরের তারা রাতের তারা মাকে (মেয়েকে !!!)  জানিয়ে দিস......।

মে৯:
Sakib Shahriar
ami birsthti dekhechi....... ( বৃষ্টির জলে কেদেছি? )

মে ১০:
Sakib Shahriar
can't concentrate.....

মে ১০:
Sakib Shahriar
brishtir chobi akechi........ (কার? বৃষ্টির? বৃষ্টির বাপ কে?, বৃষ্টি কৈ পড়ে? )

মে ১১:
Sakib Shahriar
prokiti kadche sathe porir nupur bajche..... (নুপুরের শব্দে ভেতরে কে নাচে?)

মে ১২:
Sakib Shahriar
ak sukher brishti asechilo khone khone tai mone hoy......... (সুখ শেষে কি হলো? স্ট্যাটাস দিলো .. )

মে ১২: 
Sakib Shahriar
a story of tearssss...... কার স্টোরি? চ্যারেকটার কারা কারা?

মে ১৩:
Sakib Shahriar
Miles to go to materialize my dream.... (কাজী অফিস তো গলির মুখে, দুরত্ব মাত্র ১৫০ গজ)

মে ১৪:
Sakib Shahriar
tomar tulona ami khujina kokhono..... (জানি খুজলেও তোমাকে পাবো না !)

মে ১৪:
Sakib Shahriar is single. (বিজ্ঞাপনের প্রথম ধাপ)

মে ১৫:
Sakib Shahriar
Valobasa onno name bedona, onno name se biroher e aradhonaaaaaa.....

মে ১৮:
Sakib Shahriar
chire geche guiter er tar, bajbe na sur tate ar.....

মে ১৯:
Sakib Shahriar
Dagh theke jay........ (শুধু বান্ধবী থাকে না)

মে ১৯:
Sakib Shahriar
হাল ছেড় না্‌, হাল ছেড় না বন্ধু.........

মে ১৯:
Sakib Shahriar
sesh kotha, ken amon kotha hoy????? (কারণ শেষ কথার সাথে অর্থনৈতিক  সম্পর্ক খুব গভীর)

মে ২১:
Sakib Shahriar
kemon jeno anondo anondo lagche..... (বিয়া না কৈরা বাচছি, আহা কি আনন্দ আকাশে বাতাসে)

মে ২২:
Sakib Shahriar
jodi mon kade tumi chole aso, chole aso.... ak boroshay.....

মে ২৪:
Sakib Shahriar
character is lost everything is lost.......... (অন্যের চ্যারেকটার, নিজের টা কসকো সাবান)

মে ২৫: 
Sakib Shahriar
what a love!!!!!!! (হোয়াট আ গেম !!!!)

মে ২৫:
Sakib Shahriar
Roilo na roilo na sei je amar nana ronger dinguli.......

শুক্রবার, ২০ মে, ২০১১

অটোগ্রাফ: বাজারে, গোপন কথাটি রবে না গোপনে

অটোগ্রাফ পোস্টার

রাজনৈতিক-সম্পাদিত এবং প্রকাশিত:


মাঝে কিছুদিন বেশ পরিমানে রেডিও শোনা হয়েছিল। বাংলাদেশ বেতারের রমরমা যুগ শেষ হয়েছে সেই কবে। এখন রেডিও শোনা মানে হলো এফএম শোনা। এফএম রেডিও মানে গান শোনা। ডিজুস কিংবা গ্রামীনফোনের বিজ্ঞাপন কিংবা আরজেদের বকবক শুরু হওয়া মাত্রই এক ক্লিকে পরের চ্যানেলে, যদি সেখানেও একই অবস্থা হয় তো পরের চ্যানেলে – কোন না কোনটাতে গান চলতে থাকেই, আমিও মন না দিয়ে শুনি।

সোমবার, ২৫ এপ্রিল, ২০১১

Cinderella Man: দারিদ্রের বিরুদ্ধে মুষ্টিযুদ্ধ

সিনড্রেলা ম্যান সিনেমার মূল বিষয়বস্তু কি? আপনি হয়তো বলবেন, বক্সিং। কিন্তু আমি বলবো, মহামন্দার বিরুদ্ধে মুষ্টিযু্দ্ধ।
বিশ্ব অর্থনীতির ইতিহাসে গ্রেট ডিপ্রেশন বা মহামন্দা বেশ উল্লেখযোগ্য ঘটনা। মূলত মহামন্দাই বিশ্ব অর্থনীতিকে দিক পরিবর্তন করে দেয়। মহামন্দার কোন নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই, দেশ ভেদে একেক সময় প্রভাব বিস্তার করেছে। অবশ্য বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই ১৯২৯ এ শুরু হয়ে ৩০ দশকের শেষ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। স্টকের মূল্য হঠাৎই পড়ে যায় এবং সারা বিশ্বে কি ধনী কি গরীব সব দেশেই প্রভাব ফেলে। মানুষের আয়, মুনাফা কমে যায়, প্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাটাই চলে বেপরোয়া গতিতে। খাদ্য সংকটা এড়াতে মানুষ তার সম্পদ বিক্রি করতে শুরু করে, দিনমজুরের সংখ্যা বেড়ে যায় - কিন্তু কাজের প্রচন্ড অভাব দারিদ্রকে আরো বিপর্যস্ত করে।

শুক্রবার, ১৫ এপ্রিল, ২০১১

বৈশাখ উৎসব ফেরত এক (রাগী) যুবকের সাক্ষাতকার

পয়লা বৈশাখ মিছিল
: এক্সকিউজ মি ... হ্যালো... এক্সকিউজ মি...
:: আমাকে বলছেন?
: জ্বী জ্বী। শুভ নববর্ষ।
:: (াল) শুভ নববর্ষ। জ্বি  বলুন?
: আপনার একটা সাক্ষাতকার নিতে চাই হি হি হি
:: সাক্ষাতকার? আমার? (আর লোক পান নাই) জ্বি বলুন কি বলতে হবে?
: নববর্ষ কেমন কাটল আপনার?
:: এই তো, বেশ মজা হলো, ওয়াও ...
: কি করলেন আজ মানে এই নতুন বছরের  নতুন দিনে, বৈশাখের প্রথম দিনে?
:: কি করলাম? হাটলাম।
: হাটলেন?
:: না তো কি? শাহবাগ থেকে  চারুকলা, চারুকলা থেকে টিএসসি, টিএসসি থেকে বাংলা একাডেমি, সেখান থেকে আবার শাহবাগ, শাহবাগ থেকে রমনা, রমনা থেকে শিল্পকলা, শিল্পকলা থেকে দোয়েল চত্বর হয়ে আবার টিএসসি, সেখান থেকে মলচত্বর, সেখান থেকে লাইব্রেরী, আবার টিএসসি, টিএসসি থেকে চারুকলা ... উফ্
: হা হা হা আপনি তো বেশ রসিক মানুষ।
:: রসিক না াল
: কি খেলেন আজকে? পান্তা খেয়েছেন?
:: পান্তা কৈ? এতো পানি ঢালা গরম ভাত, একদিন পান্তা খেলে শেষে পেট না নেমে যায়। তবে খেয়েছি বেশ।
: কি? পান্তা ইলিশ?
:: ধূর ছাই, পান্তা ইলিশ খাবো কোত্থেকে? ধূলা বালি, বিড়ি সিগারেটের ধোয়া, সস্তা পাউডারের উৎকট গন্ধ, একটা হাওয়াই মিঠাই, আরও হাবিজাবি... এত কিছু কি মনে থাকে নাকি?
: আপনি একাই এলেন? আর কাউকে নিয়ে এলেন না?
:: আপনার মাথা খারাপ? আনবো আর কাকে? এই মানুষের ভীড়ে চিড়া চ্যাপ্টা হয়ে যাওয়ার পর কি আর কেউ কাউকে আনার ইচ্ছে থাকে? গতবছরই কানে ধরেছিলাম, কিন্তু উপায় নেই - এ বছরও আসতে হলো, হয়তো আগামী বছরও আসতে হবে। কলুর বলদের কি আর আপত্তি করার কিছু থাকে?
: আপনার বোধহয় মেজাজ ভালো নেই ..
:: আরে াল মেজাজ ভালো থাকবে কিভাবে? গার্লফ্রেন্ড জোর কইরা নিয়া আসছে, মাঝখানে কৈ হাওয়া হয়া গেছে এখন মেসেজ পাঠাইসে ধানমন্ডি লেকে যাইতে।
: আরেকটু দাড়ান, কি দেখলেন সেটাও শেয়ার করুন।
:: কি দেখি নাই বলেন তো? (সেন্সরড ... সেন্সরড.... সেন্সরড) বাংগালী সংস্কৃতির পাঞ্জাবী-শাড়ির নিচে বিদেশী সংস্কৃতির বিকিনি পড়া নগ্ন শরীর। একদিনে ঢেকে রেখে কি হবে? যত্তসব।
: এই কাট কাট ...
:: কাট কাট মানে? মানে কি কাট কাট? কেটে পড়তে বলছেন?
: না মানে ইয়ে ক্যামেরা বন্ধ করতে বললাম আরকি?
:: ক্যামেরা? ক্যামেরা এলো কোত্থেকে? ও আপনারা টিভি চ্যানেল থেকে নাকি? কি সর্বোনাশ! ... ইয়ে মানে .. ইয়ে... ইন্টারভিউটা কি আরেকবার নেয়া যায়?
: থাক, আমরা ফেলে দেবো ওটা।
:: আরে না, কি যে  বলেন! এতক্ষন শুনলেন আরেকটু শুনবেন না? বছরে একদিনই তো বাংগালী হই, সাক্ষাতকারও ওই একদিনই ... আরেকটা চান্স দেয়া যায় না? ইন্টারভিউটা দিলে পিউর বাঙ্গালী হইতে পারতাম  .. হে হে হে ... আরেকটা চান্স ... হে হে হে... বুঝেনই তো .. হে হে হে

*এই যুবকের সাথে লেখকের কোন সম্পর্ক নেই, পুরোটাই লেখকের অনুর্বব মস্তিষ্কের কল্পনাপ্রসুত

শুক্রবার, ৮ এপ্রিল, ২০১১

The Notebook: সাদামাটা গল্পের অসাধারণ চিত্রায়ন

প্রত্যেকটা 'গ্রেট' ভালোবাসার পেছনে থাকে একটি করে 'গ্রেট' গল্প - এমন একটা ট্যাগলাইন নিয়ে যে সিনেমা সেটাকে খুব একটা গ্রেট বলতে পারছি না যদিও সিনেমাটা অনেকের কাছেই 'গ্রেট' রোমান্টিক মুভি। অনেকের কাছে 'দেখার মতো ভালো মুভি' এমনটি শোনার পরে আর আইএমডিবি'র রেটিঙ দেখে 'গ্রেট' মুভি দেখতে বসেছিলাম। সিনেমাটা সত্যিই অসাধারণ তবে সেটা তার গল্পের জন্য নয় বরঙ তার চিত্রায়নের জন্য।

সোমবার, ২১ মার্চ, ২০১১

Spellbound: আলফ্রেড হিচকক মুভি

আলফ্রেড হিচককের খুব বেশী মুভি দেখার সৌভাগ্য হয়নি। কিছুদিন আগে দুটো মুভি পেলাম, তার একটি ভার্টিগো অন্যাটি স্পেলবাউন্ড। গ্রেগরি পেক এর কোন মুভি এর আগে দেখা হয়নি, স্পেলবাউন্ড সেই দিক থেকে বন্ধ্যাত্ব মোচন করেছে।


একই সাথে প্রেম এবং ডিটেকটিভ কাহিনীর এক অপূর্ব সমাবেশ স্পেলবাউন্ড মুভিতে। এই ঘটনা বোধহয় হিচককের প্রায় মুভিতেই আছে, ভার্টিগোতেও দেখলাম। কিন্তু এই মুভির বৈশিষ্ট হল এখানে সমস্যাগুলো সাইকোলজিক্যাল। কিছু সাইক্রিয়াটিস্টকে নিয়েই এই মুভি যেখানে আছে প্রেম, হত্যা, পলায়ন, পুলিশ, সমাধান এবং শাস্তি।

বৃহস্পতিবার, ১৭ মার্চ, ২০১১

তিনটি Exorcism Movie

এক্সরসিজম মুভিকে হরর মুভি বলতে আমার একটু আপত্তি আছে। এক্সরসিজম সিনেমাগুলো মানুষের বিশ্বাস নিয়ে খেলা করে। মানুষের উপর খারাপ কিছু প্রভাব বিস্তার করে বা করতে পারে এবং তা অন্য কিছু মানুষ তাদের আধ্যাত্মিক ক্ষমতা দ্বারা দূর করতে পারেন - এটা মানুষের চিরন্তন বিশ্বাস। একে টলানো সম্ভব কিন্তু উপড়ে ফেলা সম্ভব না। তাছাড়া, এর ব্যাখ্যায় বিজ্ঞান সবসময় সফলতা অর্জন করতে পারে নি, ফলে বিজ্ঞানকেই একমাত্র গ্রহণযোগ্য হিসেবে গ্রহন করা হয়ে উঠে না। সবচে' বড় কথা হলো, বিশ্বাস কোন বিজ্ঞানের উপর ভিত্তি করে তৈরী হয় না, বিশ্বাস বিশ্বাসই, বিজ্ঞানের ব্যাখ্যা নয়।

মঙ্গলবার, ১৫ মার্চ, ২০১১

The Exorcist: সেরা এক্সরসিজম মুভি


১২ বছরের ছোট্ট বালিকা রিগান এর বাসায়, বিশেষত তার রুমে কিছু একটা উপদ্রব শুরু করেছে।তার বিছানাকে কাপিয়ে দেয়, রিগানের আচরনেও কিছুটা পরিবর্তন দেখা যেতে থাকে, মাঝে মাঝে পুরুষের কণ্ঠস্বর, গোঙ্গানী শোনা যায়। ডাক্তাররা বয়:সন্ধি এবং ব্রেইনের সমস্যা মনে করে নানান পরীক্ষা করে কিন্তু ফলাফল শূন্য। এক্সরসিজমের জন্য আসেন ফাদার ডেমিয়েন কারাস, যিনি নিজেই কিছুটা বিশ্বাস অবিশ্বাসের দোলায় আছেন।

মঙ্গলবার, ২৫ জানুয়ারী, ২০১১

কিম কি দুক: সেলুলয়েডের কবি



কবিতা বোঝার নয়, কবিতা অনুভব করার। সিনেমা যে শুধু দেখার নয়, বোঝার নয় বরং অনুভব করার সেটা বোঝা যায় কিম কি দুকের সিনেমা দেখলে। সাউথ কোরিয়ান এই সিনেমা পরিচালক তার মনের ভাব শব্দে প্রকাশ না করে ইমেজের মাধ্যমে প্রকাশ করার যে মুণ্সিয়ানা দেখিয়েছেন, তা বিস্ময়কর, অসাধারন এবং নি:সন্দেহে প্রশংসনীয়।