শুক্রবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০১০

হোটেল রূপসী বাংলার জন্য প্রার্থনা

দীর্ঘ ১০ মাস হোটেল রূপসী বাংলার হাই স্পিড ইন্টারনেট ব্যবহার করেছি, আড়াই ঘন্টায় একটা করে সিনেমা নামিয়েছি, ব্লগিং করেছি, সারাদিন ফেসবুক পাহাড়া দিয়েছি - সম্পূর্ন বিনা পয়সায়। আজ বাধ্য হয়ে এই অমূল্য সেবা পরিত্যাগ করতে হচ্ছে। আমি দু:খ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে হোটেল রূপসী বাংলা কতৃপক্ষকে ধন্যবাদ দিতে চাই, এবং অনুরোধ করতে চাই, তাদের নেটওয়ার্ক যেন আরেকটু শক্তিশালী করে - তাহলে নতুন বাসায় গিয়েও আমি ফ্রি-তে হাই স্পীড ইন্টারনেট করতে পারবো ইনশাল্লাহ ;)

বৃহস্পতিবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০১০

লো বাজেট ফিল্মমেকারদের জন্য আদর্শ হতে পারে Christopher Nolan এর সিনেমা "Following"


সিনেমা দেখেন কিন্তু ক্রিস্টোফার নোলানের নাম শুনেন নাই দ্য ডার্ক নাইট আর ইনসেপশনের মতো সিনেমা মুক্তি পাবার পরে এমন একটা মুভি দর্শক খুজতে গোরস্থানে যেতে হবে নির্ঘাত। 'ফলোয়িং' নোলানের ‌‌‌পরিচালিত প্রথম ফিচার ফিল্ম। ৪০ বছর বয়সী এই পরিচালক এখন বিশাল বাজেটের সিনেমা নির্মান করছেন, অথচ এই ফলোয়িং একটি খুবই লো-বাজেট ফিল্ম।

একজন লেখক হতে আগ্রহী যুবক তার প্রথম উপন্যাসেই চমক দেখিয়ে দিতে চায়‍‌‌‌ আর তাই তার গল্পের চরিত্রের খোজে মানুষের পিছু নে‌‌য়‍। একটাই শর্ত মেনে চলে‌‌ সে‌‌‌‌‌‌‌, এক ব্যক্তিকে দ্বিতীয়বার পিছু নেন না। কিন্তু এই শর্ত ভাঙ্গে‌ নিজেই, কালো স্যুট পড়া এক ভদ্রলোকের পেছনে ছোটে‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌, একবার, দুইবার, বারবার। একদিন, সেই ভদ্রলোকই তাকে পাকড়াও করে এবং জানা যায়, সে একজন চোর। মানুষের ঘরে অবৈধ উপায়ে প্রবেশ করে, কিছু জিনিসপত্র নিয়ে যায় যেগুলো খুব গুরুত্বপূর্ন কিছু নয়। লিখতে সহায়ক হবে এই আশায় দুজনে দল বেধে লেগে ‌‌গেলো‌ চুরি‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌ করতে। কিন্তু দেখতে দেখতে ঝামেলায় জড়িয়ে গেলো‌‌‌ লেখক হতে চাওয়া যুবকটি। সে কি অভিজ্ঞতা অর্জন করছে, নাকি কারও খেলার গুটিতে পরি‌ণত হয়েছে?

বৃহস্পতিবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০১০

The Ghost Writer: আন্তর্জাতিক রাজনীতির অন্তরালের গল্প (স্পয়লার অ্যালার্ট)

রোমান পোলানস্কির ২০১০ সালের সাফল্যমন্ডিত পলিটিক্যাল ড্রামা "দ্য ঘোস্ট রাইটার"। রোমান পোলানস্কি বিভিন্ন কারনে আলোচিত, সমালোচিত।১৯৬২ সালে নাইফ ইন দ্যা ওয়াটার সিনেমার মাধ্যমে পূর্নদৈঘ্য সিনেমার জগতে যাত্রা শুরু করেছিলেন এবং প্রথম সিনেমাতেই মুণ্সিয়ানা দেখিয়েছেন। তবে দর্শক বোধহয় তার "দ্য পিয়ানিস্ট" সিনেমার কারণেই বেশী চিনেন। আবার নানাবিধ কারনে বিশেষত: সেক্সুয়াল স্ক্যান্ডাল তাকে বেশ সমালোচিত করেছে বিভিন্ন সময়। "দ্য ঘোস্ট রাইটার" এর প্রিমিয়ারের সময়ও তিনি কারাগারে বন্দী অবস্থায় ছিলেন।

বুধবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১০

The Butterfly Effect: অতীতের সংশোধন

২০০৪ সালে দ্য বাটারফ্লাই ইফেক্ট সিনেমাটা মুক্তি পায়। সাইকোলজিক্যাল ড্রামা, থ্রিলার। পরিচালক এরিক ব্রেস এবং জে ম্যাকি গ্রাবার। বাটারফ্লাই ইফেক্ট একটা বিশেষ টার্ম। বলা হয়ে থাকে একটা প্রজাপতির ছোট্ট দুটি পাখার দ্রুত নড়াচড়ার ফলে যে বাতাস সৃষ্টি হয় তা দূরে কোথাও একটা ঝড় তৈরী করে। সায়েন্টিফিক ব্যাখ্যা আছে এর পেছনে, সে দিকে যাচ্ছি না। সোজা কথায়, কোন ঘটনার সামান্য একটি দিক পরিবর্তন করে দিলে পুরো ফলাফলই পাল্টে যেতে পারে - এই থিম নিয়েই সিনেমাটা।

Life In a Metro: শহুরে কাব্য

সিনেমা না দেখেও সিনেমা মনে রাখা যায় - লাইফ ইন আ মেট্রো আমার জীবনে সবচে' বড় উদাহরণ। এই সিনেমাটা না দেখলেও মনে রাখতাম, একটাই কারণ, প্রিয় গায়ক জেমস এই সিনেমায় হিন্দীতে গান গেয়েছেন, তার সেই চিরাচরিত স্টাইলে ঝাকড়া চুল ঝুলিয়ে মাতাল ভঙ্গিতে মাথা দুলিয়েছেন, সর্বোপরি এই সিনেমার একটি অংশ হয়েছেন। সিনেমাটা ভুলে যাওয়া আরও কষ্টকর হয়ে গেল দেখার পর। ঢাকা শহরের এত যন্ত্রনা, যানযট, দুর্বিষহ জীবন, নোংড়া জীবন পদ্ধতি ইত্যাদি ইত্যাদি সত্ত্বেও আপনি ঢাকা শহরে কেন বাস করছেন - এই প্রশ্নের জবাবটা বোধহয় পাওয়া যাবে লাইফ ইন আ মেট্রো তে।

সোমবার, ২৯ নভেম্বর, ২০১০

Madly Bangali: প্রথম বাংলা রক মিউজিক্যাল মুভি

অঞ্জন দত্ত যে সিনেমার লোক সে ব্যাপারটা জানতে সময় লেগেছিল। তাকে চিনি তার জীবনমুখী গানের মাধ্যমে। ববি রায়, সিনেমা ইত্যাদি কয়েকটা গানে অঞ্জন দত্ত সিনেমার কথা বলেছিলেন বটে, কিন্তু তা যে সত্যি সেটা উপলব্ধি করতে পারি নি। পরে অবশ্য জেনেছি যে তিনি সিনেমায় অভিনয় করেন এবং গান গাওয়াটা পরে শুরু হয়। মিস্টার অ্যান্ড মিসেস আয়ার সিনেমায় প্রথম অঞ্জনের অভিনয় দেখলাম। পরিচালক হিসেবে ক্যারিয়ারের নতুন দিকে যাত্রা শুরু করেছেন সেটাও জেনেছি ওয়েবসাইটের সূত্রে।কিন্তু কোন সিনেমা দেখা হয়নি। ম্যাডলি বাঙ্গালি সম্পর্কে বেশ কিছুদিন ধরে হালকা-ভারী প্রশংসা শুনছিলাম, কিন্তু মেজো ভাই যেভাবে রেফার করলেন, তাতে না দেখে উপায় ছিল না। ম্যাডলি বাঙ্গালি আমার দেখা অঞ্জন দত্ত পরিচালিত সিনেমার প্রথমটি।

শনিবার, ১৩ নভেম্বর, ২০১০

Kim Ki-duk: সিনেমার পর্দায় যিনি কবিতা লিখেন

ভালো আছি ভালো থেকো, আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখো - আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখার কথা বলে রুদ্র মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ কি বোঝাতে চেয়েছিলেন সেটা ঠিক না বুঝলেও এটা বুঝি যে কবিতা সবসময় বোঝার মতো নয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার সোনার তরী কবিতাটি কি ভেবে লিখেছিলেন সেটা তিনিই জানেন অথচ পরীক্ষায় পাস করার জন্য আমাদের মুখস্ত করতে হয়, তিনি এই জীবনের সময় স্বল্পতার কথা তুলে ধরেছেন! আমি ব্যর্থ মানুষ, কবিকেও চিনি না, কবিতাও বুঝি না। আমার এই ব্যর্থতার পাল্লা আরেকটু ভারী হচ্ছে কিম কি দুকের সিনেমা দেখে। কিম কি দুকের সিনেমার সাথে আমার প্রথম পরিচয় ঘটে স্প্রিং সামার ফল উইন্টার অ্যান্ড স্প্রিং সিনেমার মাধ্যমে। একটা সিনেমা দিয়ে একজন পরিচালককে বোঝা সম্ভব নয় এটা সত্যি, কিন্তু এটা ধারণা করতে পেরেছিলাম যে তিনি একজন গুনী পরিচালক। কারণ মনের ভাব শব্দে প্রকাশ না করে ইমেজের মাধ্যমে প্রকাশ করা নি:সন্দেহে এক মুন্সিয়ানা।

শুক্রবার, ৫ নভেম্বর, ২০১০

সম্প্রতি কী সিনেমা দেখলাম



'সম্প্রতি কী সিনেমা দেখলাম' শীর্ষক পোস্টে আপনাকে স্বাগতম। এই পোস্ট প্রথম প্রকাশ করেছিলাম ২০১০ সালে। তখন কমিউনিটি ব্লগগুলোতে স্টিকি পোস্টের চল ছিল। সাইটে প্রবেশ করলেই স্টিকি পোস্ট দেখা যেতো, ফলে সেই পোস্টগুলো প্রচুর পাঠক পড়তো। তাই আমিও সাম্প্রতিক দেখা সিনেমাগুলো সম্পর্কে ভাবনা শেয়ার করা এবং পাঠকের সাথে আড্ডাবাজির উদ্দেশ্যে এই পোস্টটি লিখে স্টিকি করে রাখি। বেশ অনেকদিন জনপ্রিয় ছিল পোস্টটি।






বুধবার, ৩ নভেম্বর, ২০১০

The Isle: অদম্য ভালোবাসার অসহ্য রূপ

কিম কি দুকের প্রেমে পড়ে গেছি। ঠিক তার প্রেমে নয়, তার সিনেমা ডিরেকশনের প্রেম। এ পর্যন্ত চারটে সিনেমা দেখা হলো। সেই কবে সিনেমার কোর্স করার সময় মানজারেহাসিন মু্রাদ ভাই দেখিয়েছিল স্প্রিং, সামার, ফল, উইন্টার অ্যান্ড স্প্রিং। তখন গুরুত্ব বুঝি নাই, কারণ প্রতিদিনই ভিন্ন ভিন্ন সিনেমা দেখতে দেখতে মাথা গুলিয়েছিল। প্রতিদিনের এক একটি সিনেমা ছিল এক একটি এক্সপেরিমেন্ট, আমার তো অবশ্যই, পরিচালকেরও বটে। তাছাড়া সিনেমা সম্পর্কে তখন কতটুকুই আর বুঝি। (এর মানে অবশ্যই এটা নয় যে এখন অনেক ভালো বুঝি, তবে আগের চে অবস্থার সামান্য উন্নতি হয়েছে, এতে কোন সন্দেহ নেই)

শনিবার, ১৬ অক্টোবর, ২০১০

Salt: এমন কোন মুভি নয় যা মনে রাখতে হবে

অ্যাঞ্জেলিনা জোলিকে আমার ভালো লাগে, তার বেশ কিছু ছবি সবসময় মনে রাখার মতো। কিন্তু ইদানিং কালের অ্যাকশনধর্মী সিনেমাগুলো চরম বিরক্তিকর লাগছে। বিশেষ করে 'ওয়ান্টেড' সিনেমা দেখার পরে একটা ফোরামে কমেন্ট করেছিলাম - "আমারই দোষ, গাঁজা না খাইয়া সিনেমা দেখতে বসছিলাম। যেখানে গাজা খাইয়া চিত্রনাট্যকার গল্প লেখে, পরিচালক পরিচালনা করে আর জোলি অভিনয় করে সেইটা গাজা না খাইয়া দেখা নিতান্তই অপরাধ বটে"। অবশ্য এই কমেন্টের পরে উক্ত ফোরামে আমাকে কাপড় কাচার মতো করে ধোয়া হয়, অবশ্য তাতে ময়লা দূর হয় নাই।

রবিবার, ১০ অক্টোবর, ২০১০

Trilogy of Death: Babel

স্থান মরক্কোর এক দুর্গম অঞ্চল, মরুভূমি। চরিত্র দুটো কিশোর ছেলে, ইউসুফ ও আহমেদ। ছাগল পাল চড়ায়। শেয়ালের আক্রমন প্রতিরোধ করতে তার বাবা তাদের একটি বন্দুক কিনে দেন। বন্দুক বিক্রেতা বলেছিল, প্রায় তিন কিলোমিটার পর্যন্ত দুরত্বে গুলি করা সম্ভব এই বন্দুক দিয়ে। সত্যি বলেছিল তো? একটা পরীক্ষা করলেই প্রমাণ হয়ে যাবে। দূরে রাস্তায় যে বাসটি দেখা যাচ্ছে সেখানে গুলি করে লাগানো যায় কিনা ট্রাই করা যেতে পারে। বয়সে ছোট হলেও অপেক্ষাকৃত বুদ্ধিমান আহমেদ বন্দুক কাধে ঠেকায়, তারপর নিশানা করে গুলিটা ছোড়ে। ধুস! লাগে নাই, তারমানে বিক্রেতা ঠকিয়েছে। সিদ্ধান্তে উপনীত হতে দেরী হয় না কিশোরদ্বয়ের। কিন্তু একি, বাসটা গতি কমিয়ে দাড়িয়ে যাচ্ছে কেন?

শনিবার, ৯ অক্টোবর, ২০১০

Trilogy of Death: 21 Gramos

How many lives do we live? How many times do we die? They say we all lose 21 grams at the exact moment of our death. And how much fits into 21 grams? How much is lost? How much is gained?সত্যিই তো, একটা মানুষ যখন মারা যায় তখন তার শরীরের ওজন কতটুকু কমে? মারা যাওয়া মানে তো শরীর থেকে আত্মাটির বের হয়ে যাওয়া। সেক্ষেত্রে আত্মাটির ওজন কত? আত্মার ওজন ২১ গ্রাম। অবশ্য আত্মার ওজন ২১গ্রাম হবার পূর্ব শর্ত হলো আত্মা একটি বস্তু, অন্যথায় এর ওজন থাকার কথা না। ২১ গ্রামোস সিনেমাটি ডেথ ট্রিলজির দ্বিতীয় পর্ব।

শুক্রবার, ৮ অক্টোবর, ২০১০

Trilogy of Death: Amores Perros

মুভি ট্রিলজির কথাটির সাথে আমরা প্রায় সবাই পরিচিত। বিশেষ করে গডফাদার ট্রিলজি, ব্যাক টু দ্য ফিউচার ট্রিলজি, লর্ড অব দ্য রিঙস ট্রিলজি, জ্যাসন বোর্ন ট্রিলজি, কিংবা আমাদের উপমহাদেশের বিখ্যাত সত্যাজিত রায়ের অপু ট্রিলজি ইত্যাদি সিনেমাগুলো মুভি ট্রিলজি সম্পর্কে মুভি দর্শকদের মধ্যে পর্যাপ্ত ধারনা প্রদান করতে সক্ষম হয়েছে। সাধারণত একই বিষয়কে কেন্দ্র করে যখন তিনটি সিনেমা নির্মিত হলে সেগুলো ট্রিলজি হিসেবে পরিচিত হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই ট্রিলজিগুলো একই পরিচালকের সৃষ্টি, প্রায় একই অভিনেতারা অভিনয় করেন তবে ব্যতিক্রমও লক্ষ্যনীয়। যেমন গডফাদার ট্রিলজি, কিংবা জ্যাসন বোর্ন ট্রিলজির পরিচালক পাল্টে গেছেন কোন এক পর্বে।

ঋতুপর্ণ ঘোষের ‘আবহমান’ কি সত্যজিৎ রায়কে নিয়ে ?

কোলকাতার সিনেমা 'আবহমান' এ বছর মুক্তি পেয়ে বাংলা ভাষায় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছে। পরিচালক ঋতুপর্ণ ঘোষ। গুনী এ পরিচালকের কাছ থেকে ভালো সিনেমা পাওয়া যাবে, এ বিশ্বাসটি তিনিই তৈরী করেছেন, তার পূর্বনির্মিত সিনেমাগুলোর মাধ্যমে। 'আবহমান' ভালো হবে সেটা জানা কথা কিন্তু কতটা? সেটা জানার জন্যই সিনেমাটা দেখতে হবে।


শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১০

Agora: ধর্মান্ধতা, বিজ্ঞানচর্চা আর অসম প্রেমের গল্প

ধর্ম আর বিজ্ঞানের সম্পর্ক সম্ভবত সবসময়ই সাংঘর্ষিক। যারা বিজ্ঞানকে বেছে নিয়েছেন তারা ধর্মকে পরিত্যাগ করেছেন, যারা ধর্মকে বেছে নিয়েছেন তারা পরিত্যাগ করেছেন বিজ্ঞানকে। ধর্ম ও বিজ্ঞানের এই দ্বন্দ্বে কে টিকে থাকবে তা নির্ভর করেছে ক্ষমতা কাদের হাতে তার উপর। একসময় ধর্ম পালনকারী অংশের কাছে ছিল এই ক্ষমতা, তারা অপব্যবহার করেছে তাদের ক্ষমতার, অন্যায় ভাবে দমন করেছে বিজ্ঞানচর্চাকারীদের। আবার বর্তমানে বিজ্ঞানচর্চাকারীদের হাতে ক্ষমতা আর তাই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটছে বর্তমানেও। ধর্ম আর বিজ্ঞানের এই চিরন্তন দ্বন্দ্বের চিত্র ফুটে উঠেছে 'আগোরা' সিনেমায়।

শনিবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১০

আসছে ফেসবুক নিয়ে সিনেমা The Social Network

[caption id="" align="alignleft" width="102" caption="David Fincher"][/caption]

বর্তমানে ফেসবুকের ব্যবহারকারীর সংখ্যা কত? ৫০০ মিলিয়ন ছাড়িয়েছে অনেক আগেই এবং প্রতি মুহুর্তেই বাড়ছে এর সংখ্যা। ২০০৪ সালে শুরু হয়ে এই ছয় বছরে এর সাফল্য বিশাল, সুতরাং একে নিয়ে সিনেমা নির্মান হবে এটা হয়তো খুব স্বাভাবিক একটি ঘটনা।


আগামী ১লা অক্টোবর, ২০১০ তারিখে দ্য সোশ্যাল নেটওয়ার্ক সিনেমার মুক্তির তারিখ নির্বাচন করা হয়েছে। জাতে ড্রামা এ ছবির কাছ থেকে আশা করা যায় অনেক কিছূ। কারণ ছবির পরিচালক ডেভিড ফিঞ্চার।

শনিবার, ২১ আগস্ট, ২০১০

ইশতিয়াক জিকো এবং তার শট‍র্‍‍ফিল্ম ‘৭২০ ডিগ্রি’

ইশতিয়াক জিকো র সাথে আমার কোন পরিচয় নাই, শুধু জানি তিনি সিনেমার নির্মান শ্রমিক। আর জানি, ভুল জানতে পারি, তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, তাদের একটা টিম আছে - রূপান্তর সিনেমা টিম । তাদের উদ্যম ব্যাপক। জিব আর্মের বিকল্প হিসেবে তারা নিজেরাই কিছু একটা বানায় ফেলছে। দুই একটা শর্ট ফিল্ম ও বানিয়েছে, সামু ব্লগে পেয়েছিলাম, অবশ্য এখন পাচ্ছি না। খুব ভালো লাগে তাদের কাজ কর্ম, পাল্টে দেবার জন্য তারা কি দারুণ কাজ করে চলছে...

বৃহস্পতিবার, ৫ আগস্ট, ২০১০

Mathematics নিয়ে সিনেমা: A beautiful Mind & Good Will Hunting

আপনার কি জানা আছে, কেউ নোবেল পেয়ে গেলে অন্যরা তাকে কিভাবে সম্মান দেখায়? নিজের কলমটি উপহার দিয়ে। জানতে হলে আপনাকে দেখতে হবে বিউটিফুল মাইন্ড ছবিটি। ম্যাথমেটিকস নিয়ে অনেকের ভীতি থাকলেও এই গণিতে জিনিয়াস লোকের সংখ্যাও কিন্তু কম নয়। এ কারণেই সিনেমার বিষয়বস্তুতে স্থান পেয়েছে গণিতও। এ ধরনের দু’টি বিখ্যাত সিনেমা হলো আ বিউটিফুল মাইন্ড এবং গুডউইল হান্টিং।

বুধবার, ২ জুন, ২০১০

Super Hero Film: Iron man

সাম্প্রতিক সময়ে আয়রন ম্যান ছবির দ্বিতীয় পর্ব আয়রন ম্যান ২ বেশ আলোড়ন তৈরী করেছে। প্রথম পর্বের সাফল্যের পরে দ্বিতীয় পর্বটিও যথেষ্ট সাড়া পেয়েছে। আয়রন ম্যান আরেকটি সুপার হিরো মুভি এবং এর পরিচালনায় আছেন জন ফ্যাভ্রু। পরিচালক হিসেবে ফ্যাভ্রু খুব একটা পরিচিত নন, এর আগে তার কোন ছবি এতটা আলোড়ন তুলতে পারে নি। আয়রন ম্যান নামের মার্ভেল কমিকসের চরিত্রকে সিনেমায় রূপ দিয়েছেন এই পরিচালক। আয়রন ম্যান একজন সাধারণ মানুষ মাত্র, কিন্তু নিজের উদ্ভাবনী শক্তি এবং প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে তিনি নিজেকে আয়রন ম্যানে রূপান্তর করেন। প্রকৃতপক্ষে, আয়রন ম্যান লোহার তৈরী বর্ম পরিধান করে যা তাকে উড়তে সাহায্য করে। আয়রন ম্যান চরিত্র টনি স্টার্ক একজন ধনকুবের। উত্তরাধিকার সূত্রে তিনি একটি কোম্পানীর মালিক হন যেখানে বিভিন্ন রকমের সামরিক অস্ত্রপাতি তৈরী করা হয়।

Super Hero Film: The Dark Knight

বর্তমান বিশ্বে সুপারহিরো ফিল্ম দর্শকদের নিকট একটি বিশেষ আকর্ষন, সিনেমা নির্মাতা ও ব্যবসায়ীদের নিকট তো বটেই। সুপারহিরো সিনেমার মূল বৈশিষ্ট্য হলো, এখানে মূল চরিত্র বা নায়ক বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন হয় এবং তার প্রধান লড়াই অধিকতর ক্ষমতাসম্পন্ন ভিলেনের বিরুদ্ধে। সাধারণত মানব সমাজের প্রতি হুমকী সৃষ্টিকারী ভিলেনকে প্রতিরোধ করার মাধ্যমে নায়ক পুরো মানবজাতিকেই রক্ষা করে। অধিকাংশ সুপারহিরো সিনেমা কমিক চরিত্রের উপর নির্ভর করে নির্মিত হলেও মৌলিক চরিত্রের দেখাও পাওয়া যায়। '৪০ এর দশকে টিভির জন্য সুপারহিরো সিনেমা নির্মিত হয়, তবে প্রথম পূর্নদৈর্ঘ্য সুপারহিরো ফিল্ম হলো ১৯৭৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত রিচার্ড ডোনার পরিচালিত মুভি সুপারম্যান।

মঙ্গলবার, ২৫ মে, ২০১০

Paradise Now: একমাত্র সিনেমা যা দেখতে গিয়ে আমি মনিটরে লাথি কষিয়েছিলাম !

কারণ মনিটরের বাম কোনায় সুহা ছিল। এবং তার উপর মেজাজ এতটাই খারাপ হয়েছিল যে লাথি কষাতে ইচ্ছে হয়েছিল। ক্ষোভটা পুষে রাখতে পারি নাই, মনিটরেই মেরে দিসিলাম।


প্রিয় ব্লগার সৌম্য একবার একটা পোস্ট দিয়েছিলেন - অগুনিত মেহেরের গল্প যা স্টিকি করা হয়েছিল বেশ কিছুদিন। এছাড়াও রয়েছে সেতুর পোস্ট প্যালাসটাইনের গাজা উপতকার অর্থনীতির চাকা হলো মাটির নিচের মাইলের পর মাইল সুড়ঙ্গ পথ। বোধহয় এই দুটো পোস্ট দেখে তারপর সামনে এগোনো ঠিক হবে।

সেশনজ্যামের প্রতিবাদে

ঘটনাটা মর্মান্তিক!

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস ফ্যাকাল্টিতে অবস্থিত এমবিএ ভবনের নয় তলা থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যা করেছেন তানভীর রহমান নামে একজন ইএমবিএ শিক্ষার্থী। আত্মহত্যার বিষয়টি সুস্পষ্ট নয়, এটি হত্যাকান্ডও হতে পারে, তানভীরের আত্মীয়-স্বজন বলছেন এটি আত্মহত্যাই, কারণ তানভীর বেশ হতাশাগ্রস্থ ছিল এবং বিভিন্ন সময়ে আত্মহত্যার কথা সে বলেছিল। তানভীরের হতাশার কারণ হিসেবে তারা উল্লেখ করেছেন সরকারী কোন চাকরী না পাওয়াকে। একটু গভীরে ঢুকলেই জানা যাবে, সেশনজটের কবলে পড়ে সরকারী চাকুরীর উপযুক্ত হতেই বয়সের শেষ সীমায় চলে এসেছিলেন তানভীর, বয়স শেষ হয়ে যাবার পরেই আত্মহননের পথ বেছে নেন তিনি।

বুধবার, ১৯ মে, ২০১০

Patch Adams, Munna Bhai MBBS এবং একটি কপি পেস্টের সাইট


মুন্না ভাই এমবিবিএস দেখেছিলাম অনেক আগে, দু থেকে তিন বার। গল্পের অভিনবত্বটা খুব ভালো লেগেছিল, যে বিষয় গুলো তুলে ধরা হয়েছিল সেগুলো অসাধারণ এবং যুক্তিসঙ্গত। কিছুদিন পরে শুনতে পেয়েছিলাম যে এই গল্পটা নাকি হলিউড থেকে কিনে নেবার প্রস্তাব করা হয়েছে, ইংরেজীতেও এমন একটি মুভি তৈরী হবে। কেন জানি না, ভালো লেগেছিল একটু একটু।

মঙ্গলবার, ১১ মে, ২০১০

The Hurt Locker: The bomb to crush the invader’s mind-shells

The Hurt Locker won 82nd Academy Awards for best picture held on 7th March and through this achievement, Kathryn Begelow wrote her name as the first woman film director winning the Oscar. This is her eighth film after K19: The widow maker released in 2002 that also brought her critic's recognition for her brilliance in selecting the theme, the characters and the way of direction. This year with the film the Hurt Locker she expressed her strong presence in the film arena again.

শনিবার, ৮ মে, ২০১০

How to Train Your Dragon

সাম্প্রতিক সময়ের সবচে' সাড়া জাগানো অ্যানিমেশন মুভির নাম হাউ টু ট্রেইন ইয়োর ড্রাগন। ড্রিমওয়ার্কস অ্যানিমেশন কতৃক নির্মিত এই মুভিটিরও একটি ত্রিমাত্রিক ভার্সন মুক্তি দেয়া হয়েছে। প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে টপচার্টে অবস্থান করা এই মুভিটির পরিচালক ডিন ডিব্লয় এবং ক্রিস স্যান্ডার্স। দুজনে এর আগেও একসাথে অ্যানিমেশন মুভি পরিচালনা করেছেন।


হাউ টু ট্রেইন ইয়োর ড্রাগন মুভিটি বর্তমান সময়ের নয়। অনেকটা রূপকথার কোন সময়ের কাহিনী এটি যার মূল চরিত্র হিকাপ। সে বার্ক দ্বীপের ভাইকিং দের রাজার ছেলে। ভাইকিংদের নিয়ম অনুযায়ী তাকে একটি ড্রাগন হত্যা করতে হবে। তাদের গ্রামের পাশেই বসবাস ড্রাগনদের, যারা মাঝে মধ্যে তাদের পশু খেয়ে যায়। একদিন হিকাপ একটি ড্রাগনকে গুলি করে কিন্তু কেউ তার কথা বিশ্বাস করে না। তাই সে একাই বনে যায় এবং আহত ড্রাগনকে খুজে পায়। কিন্তু হত্যা করার বদলে তাকে মুক্তি দেয়।

Animation Film: UP

বর্তমান সময়ে অ্যানিমেশন সিনেমা দর্শক তালিকা এবং সিনেমা শিল্পের এক বিশাল জায়গা দখল করে আছে। সিনেমায় সাফল্যের সব্বোর্চ্চ স্বীকৃতি অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডস বা অস্কার প্রতিযোগিতায় অন্যান্য ক্যাটাগরীর পাশাপাশি অ্যানিমেশন শর্ট এবং ফিচার ক্যাটাগরীতেও পুরস্কার প্রদান করা হয়। অ্যানিমেশন সিনেমার ইতিহাস কিন্তু মোটেও নতুন নয়। সেই ১৯৩০ সাল কিংবা তার আগে থেকেই শর্ট ফিল্ম নির্মান হচ্ছে, এবং সেরা শর্ট তালিকায় অস্কার পুরস্কারের জন্য প্রতিযোগিতা করছে।

এখন পর্যন্ত দুটো অ্যানিমেশন মুভি মাত্র অস্কার প্রতিযোগিতায় শ্রেষ্ঠ মুভির তালিকায় অন্যান্য সিনেমার সাথে লড়াই করেছে। এদের একটি হলো ১৯৯১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত বিউটি অ্যান্ড দ্য বিস্ট আর অন্যটি হলো গত বছর মুক্তি পাওয়া আপ।

রবিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০১০

শনিবার, ২৪ এপ্রিল, ২০১০

ভগবান, বাংলাদেশী সিনেমাকে তুমি বাঁচিয়ে রেখো!

মুখ ও মুখোশ সিনেমার নির্মান কাহিনী জানেন? ১৯৫৬ সালে মুক্তি পেয়েছিল সিনেমাটা, কিন্তু নির্মান ইতিহাস কয়েক বছরের পুরানো। ১৯৫৩ সাল থেকে সিনেমা নির্মানের প্রস্তুতি চলছিল। কেন একটি সিনেমা বানানো? কেন বাংলাদেশেই একটি সিনেমা বানানো? কারণ পাকিস্তানী সরকার নানান উছিলা দেখিয়ে বাংলাদেশে একটি সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি তৈরীর স্বপ্ন গুড়িয়ে দিচ্ছিল - অজুহাতগুলো খুবই অদ্ভুদ। বাংলাভাষায় সিনেমা নির্মিত হলে দর্শক দেখবে না, বাংলাদেশীরা সিনেমা নির্মান করতে জানে না, পূর্ব পাকিস্তানের আবহাওয়া সিনেমা নির্মান শিল্পের উপযোগী নয় ইত্যাদি ইত্যাদি। মুখ ও মুখোশ ছিল একটি প্রতিবাদ মাত্র। আব্দুল জব্বার খান দেশীয় লোকজনকে নিয়ে নির্মান করে দেখিয়ে দিলেন বাংলাদেশেও বাংলাদেশীদের জন্য সিনেমা নির্মান করা সম্ভব। যদিও সিনেমার কারিগরী বেশ কিছু অংশই পশ্চিম পাকিস্তানে করা হয়েছিল কিন্তু এ কথা অস্বীকার করা যায় না যে, মুখ ও মুখোশ একটি আন্দোলনের যাত্রা করেছিল।

শনিবার, ১০ এপ্রিল, ২০১০

Oscar 2010: The Hurt Locker & The Secret in Their Eyes

গত ৭ মার্চ তারিখে হলিউডের কোডাক থিয়েটারে হয়ে গেল সিনেমায় সর্বোচ্চ স্বীকৃতি একাডেমি অ্যাওয়ার্ডস বা অস্কারের ৮২তম আসর। সাধারণত প্রত্যেক বছর ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহে এই পুরস্কার প্রদান করা হলেও এ বছরই শীতকালীন অলিম্পিকের কারণে ব্যতিক্রম ঘটিয়ে মার্চের প্রথম সপ্তাহে এ আয়োজন করা হলো। এই আসরের আরেকটি নতুনত্ব হলো এ বছরই প্রথমবারের মতো শ্রেষ্ঠ সিনেমার জন্য পাঁচটির পরিবর্তে দশটি সিনেমাকে মনোনয়ন দেয়া হয়। জেমস ক্যামেরনের অ্যাভাটার সিনেমার দিকে সবাই তাকিয়ে থাকলেও তাকে পাশ কাটিয়ে শ্রেষ্ঠ সিনেমার পুরস্কার জিতে নিয়েছে ক্যাথেরিন বিগলো পরিচালিত দ্য হার্ট লকার। এ ছাড়াও সেরা বিদেশী সিনেমার ক্যাটাগরিতে পুরস্কার জিতে নিয়েছে আর্জেন্টিনার ছবি দ্য সিক্রেট ইন দেয়ার আইজ।

সোমবার, ৫ এপ্রিল, ২০১০

Kingdom of Heaven: ক্রুসেডারদের নিয়ে রিডলি স্কট


এপিক সিনেমা দেখার সময় একটা ভয় কাজ করে , মনে হয় এই মুভিটা হয়তো সত্যিকে লুকানোর জন্য এত আয়োজন করে তৈরী করা হয়েছে। অনেক গুলো ক্ষেত্রেই দেখেছি একটা মিথ্যা প্রচারনার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম এই সিনেমাকে। সাধারণত এ ধরনের সিনেমা দেখার পরেই আমি উইকি এবং অন্যান্য সাইট ঘেটে পড়ে নিই বিভিন্ন সমালোচনাগুলো। একই ভয় কাজ করছিল 'কিংডম অব হ্যাভেন' দেখার সময়। কিন্তু সিনেমার শেষে যখন পরিচালকের নাম উঠল, রিডলি স্কট , বুঝলাম এতে কারিগরী কম থাকবে।

শনিবার, ৩ এপ্রিল, ২০১০

The Hurt Locker: সম্রাজ্যবাদীদের বিরুদ্ধে বোমা?

গত সাত ফেব্রুয়ারী অ্যাকাডেমী অ্যাওয়ার্ডস অনুষ্ঠানে অস্কার জিতে নিয়ে ক্যাথরিন বিগেলো ইতিহাসের পাতায় নাম লেখালেন প্রথম অস্কারজয়ী নারী চলচ্চিত্রকার হিসেবে। ক্যাথরিন নতুন চলচ্চিত্রনির্মাতা নন, ২০০২ সালে তিনি রাশিয়ান সাবমেরিন কে১৯ নিয়ে একটি চলচ্চিত্র নির্মান করেছিলেন, নাম - কে১৯: দ্য উইডোমেকার। পরিচালনার যোগ্যতা বোঝা যায় তখনই। সাত বছর পরে তার দ্য হার্ট লকার অস্কার জিতে নিল। বিশাল অর্জন - অন্যতম একটি কারন হলো এটি গতানুগতিক সিনেমার মতো হলিউড নির্ভর ছবি নয়, এটি একটি 'ইন্ডি' বা ইন্ডিপেন্ডেন্ট মুভি। ক্যাথরিন নিজেই ছিলেন এর প্রযোজক, পরবর্তীতে সামিট এন্টারটেইনমেন্ট এর পরিবেশনার ভার নেয়। মজার ব্যাপার হলো, দ্য হার্ট লকার হলো এপর্যন্ত সবচে' কম উপার্জনকারী অস্কারজয়ী চলচ্চিত্র।

রবিবার, ২৮ মার্চ, ২০১০

ফটোগ্রাফারদের ক্যামেরা থাকে না, ছবিও উঠে না


'৯০ সালের কথা।





মামাতো-খালাতো ভাইবোনরা মিলে বেড়াতে গিয়েছি, ময়মনসিংহে ব্রহ্মপুত্র নদীর তীরে, ছোট মামার সাথে। একটু পর পরই মামা সবাইকে একত্র করে ছবি তুলছেন। একটা গ্রুপ ছবি তোলার সময় ফ্লাশটা বোধহয় একটু বেশীই চমকালো, ছবি তোলা শেষ হলে তাই হাসিমুখে মামাকে বললাম, 'সূর্যের মতো লাগে'! মামা ভাইবোন সবাইকে সরিয়ে দিয়ে নদীর তীরে একটা সিমেন্টের তৈরী বেঞ্চিতে আমাকে বসিয়ে বললেন, 'আবার বলতো মামা..' আমি বললাম, 'সূর্যের মতো…' মামা ক্লিক শব্দে ছবি তুললেন। গোল করা ঠোটের সেই ছবিটা একটা ইতিহাস হয়ে গেল, অন্তত: আমার কাছে… কারণ বয়সটা আমার সবে পাঁচ আর এই প্রথম আমার ছবি তোলা হল।





মঙ্গলবার, ২৩ মার্চ, ২০১০

অন্তহীন: অন্তর্জালিক ভালোবাসায় অন্তহীন অপেক্ষা



ভালোবাসা  তার প্রকাশভঙ্গী পাল্টেছে, পাল্টেছে তার নির্মান পদ্ধতি কিন্তু প্রাচীনতম অনুভূতি এই ভালোবাসার ফলাফল কতটুকু অপরিবর্তনীয় আছে? অতীতের প্রেম-ভালোবাসা কতটুকু সুখ এনে দিত আর এখনকার প্রেমই বা কতটুকু দিতে পারে- কিংবা যাকে ভালোবাসা হলো তাকে কতটুকুই বা জানা হলো, কবে তাকে পুরোপুরি পাওয়া গেল, কতদিনই বা অপেক্ষা করতে হবে পুরোটা জানার জন্য, পাবার জন্য – এ সবই অন্তহীন প্রশ্ন। বোধহয় এই অপেক্ষা অন্তহীন, শেষ হবার নয়। অনিরুদ্ধ রায় চৌধুরী তার অন্তহীন ছবিতে এর জবাব দেবার সামান্য চেষ্টা করেছেন।

সোমবার, ১ মার্চ, ২০১০

Avater & 2012

সায়েন্স ফিকশন মুভির যাত্রা শুরু হয়েছিল সিনেমার ইতিহাসের একদম গোড়াতেই। ১৯০২ সালে নির্মিত একটি শর্ট ফিল্মকে প্রথম সায়েন্স ফিকশন মুভি হিসেবে গন্য করা হয়। একশ বছরের ব্যবধানে সায়েন্স ফিকশন মুভি তার অবস্থান শক্ত করে নিয়েছে সিনেমার বিভিন্ন বিভাগগুলোর মধ্যে, গড়ে তুলেছে সায়েন্স ফিকশন প্রেমী একদল ভক্ত দর্শক যারা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে থাকে নতুন নতুন সায়েন্স ফিকশন মুভির জন্য। আর তাদের প্রত্যাশা পূরন করার জন্যই প্রযোজক-পরিচালকরা তাদের সর্বশক্তি নিয়োগ করে প্রত্যাশাতীত কিছু উপহার দেয়ার জন্য। ২০০৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত সায়েন্স ফিকশন মুভিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশী আলোচিত মুভি হল অ্যাভাটার। আরেকটি আলোচিত মুভির নাম ২০১২।

নবীজি (স) কে নিয়ে চলচ্চিত্র

বিশ্ববিখ্যাত ফিল্মমেকার স্ট্যানলি কুব্রিক  যখন তার ২০০১: এ স্পেস ওডিসি নামক মুভিটির মুক্তি দিলেন, তখনই সিনেমাবোদ্ধারা বুঝতে পেরেছিলেন, অবশ্যই এই সিনেমা ইতিহাসের পাতায় স্থান করে নিবে। ৪০ বছর পরে আজকের এই সময়ে তাদের ধারনার সত্যতা প্রমান পাওয়া যায়, সিনেমার পাতায় স্থান করে নিয়েছে ২০০১: এ স্পেস ওডিসি। কি ছিল এই সিনেমায়? পুরো মুভিটিকে চারটি ভাগে ভাগ করে দেখিয়েছিলেন কুব্রিক – এর প্রথম ভাগে ছিল বিবর্তনপূর্ব মানুষের বানর রূপ এবঙ পরবর্তী অংশগুলোতে দেখিয়েছেন ভবিষ্যত পৃথিবীর সকল ঘটনা, যেখানে রয়েছে স্পেসশিপ, ভিন্নগ্রহে যাতায়াত ইত্যাদি। ২০০৬ সালে জনপ্রিয় অভিনেতা মেল গিবসনের পরিচালনায় অ্যাপোকেলিপ্টো সিনেমা মুক্তির পরেও এ ধরনের গুঞ্জন শুরু হয়েছিল, কারণ সভ্যতা বিবর্জিত এক মানবসমাজের কাহিনী তুলে ধরেছিলেন তিনি। একই বছর ৩০০ নামে একটি মুভি মুক্তি পায় যেখানে খ্রীষ্টপূর্ব ৪৮০ সালের এক যুদ্ধের ঘটনা বিবৃত হয়েছে। এ সকল সিনেমা ছাড়াও আরও যে সকল ইতিহাস নির্ভর সিনেমা মুক্তি পেয়েছে তার প্রায় সব কটিই ব্যবসা সফল এবং জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।

শনিবার, ৩০ জানুয়ারী, ২০১০

Butch Cassady and the Sundance Kid

[caption id="attachment_3414" align="aligncenter" width="960"] ইতিহাসে স্থান পাওয়া শেষ দৃশ্য[/caption]

পল নিউম্যান এর আরেকটা হাস্যমুখের সিনেমা দেখেছিলাম, কুল হ্যান্ড লিউক, অসাধারণ সিনেমা আর চমৎকার সেই হাসি। সেই একই হাসি আবারও দেখলাম বুচ ক্যাসাডি এন্ড দ্য সান্ডেন্স কিড সিনেমাতে। আমেরিকান ফিল্ম ইন্সটিটিউটের করা সেরা দশটি ওয়েস্টার্ন মুভির মধ্যে অন্যতম এই সিনেমা, আসলে ঠিক এ কারনেই দেখা।

বৃহস্পতিবার, ৭ জানুয়ারী, ২০১০

তিব্বতে সাত বছর : ইতিহাস সংস্কৃতির পরিচায়ক

প্রকাশিত লেখার মূল লিংক


উঠতি মুলো নাকি পত্তনেই বোঝা যায়। সেভেন ইয়ারস ইন টিবেতের প্রথম পাচঁ মিনিট যেন এই প্রবাদের সার্থকতাকেই তুলে ধরে।


সাতটি বছর তিব্বতে থেকেও তিব্বতী হতে না পারার গল্প 'তিব্বতে সাত বছর'। মূল চরিত্র হাইনরেখ হারার, এক জেদী এবং একগুঁয়ে অস্ট্রিয়ান মাউন্টেইনার। নিতান্ত ঘটনাচক্রেই তাকে তিব্বতে কাটাতে হয় মূল্যবান সাতটি বছর। আর এই সাত বছরের উল্লেখযোগ্য ঘটনাবলী নিয়েই সেভেন ইয়ারস ইন টিবেট তৈরী। মূল কাহিনী একই নামের আত্মজীবনী।