বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০০৯

প্রতিদিন একটি মুভি - ৪: The Namesake


আপনাকে যদি ১২২ মিনিটের একটি ফিল্ম বানাতে হয় যার মধ্যে ২৫ বছরের গুরুত্বপূর্ন ঘটনাগুলোকে উপস্থাপন করতে বলা হয়, তখন কি করবেন? "২৫ বছর পর" - টাইটেল দিয়ে পচিশ বছর পরের ঘটনা দেখানো খুব কঠিন কিছু নয়, কিন্তু সেতো ২৫ বছর পরের কিছু ঘটনা। মীরা নায়ারকে নিশ্চয়ই বেশ কিছুটা পরিশ্রম করতে হয়েছিল এই সমস্যা সমাধান করার জন্য। তিনি যে সফল হয়েছিলেন তার জ্বলজ্যান্ত প্রমাণ "দি নেমসেক"।

প্রতিদিন একটি মুভি - ৩: Water


কোন ট্রিলজির তৃতীয় পর্ব নিয়ে লেখা অবশ্যই অন্যায়, বিশেষতঃ তার প্রথম পর্ব দুটি সম্পর্কে যদি কোন ধারনা পূর্বে দেয়া না হয়। সুতরাং ক্ষমাপ্রার্থী, তবে নিশ্চয়তা দিতে পারি, একক মুভি হিসেবেও Water স্বতন্ত্র। আবার ট্রিলজি হিসেবে এর মহাত্বও অনেক। ট্রিলজি নিয়ে পরে পোস্ট দেবার ইচ্ছে রাখি। আজ শুধু ওয়াটার।

দীপা মেহতা মুভি বানিয়েছেন ক'টি? উইকিপিডিয়া বলে, সাতটি। আলোচনায় এসেছেন কবার? সবাই জানি, সে অনেক বার। বোধহয় বারবার আলোচনায় আসার কারনেই তার তৈরী মুভিগুলো খুব হিট হয়, অথবা, সম্পুর্ন উল্টোটা এবং বোধহয় এটাই সবচে' গ্রহনযোগ্য, খুব ভালো ভালো মুভি বানাবার জন্যই তিনি বারবার আলোচনায় চলে আসেন। "ওয়াটার" আলোচিত ফিল্মমেকার দীপা মেহতার আলোচিত ফিল্ম। তার 'Elements Trilogy' র শেষ পর্ব ওয়াটার, বাকী দুটোর প্রথমটি "ফায়ার" আর পরেরটি "আর্থ"

প্রতিদিন একটি মুভি - ২: L.A. Confidential


যেসব ব্লগার সিনেমা দেখেন এবং কিছু কিছু মুভিকে পছন্দের তালিকায় স্থান দেন, তাদের কাছ থেকে পছন্দের মুভির লিস্টটা ধার চেয়ে নিলে L.A. Confidential এর নাম পাওয়া যাবে, সে ব্যাপারে মোটামুটি নিশ্চিত থাকা যায়। শুধু মাত্র এই একটি কারনে সকল ব্লগারকে (যাদের তালিকায় নামটি রয়েছে) রুচিশীল সিনেমা দর্শক হিসেবে আখ্যায়িত করা যায়, কারন সিনেমাটি IMDB রেটিংএ অবস্থান ৮.৪, মোট ভোটারের সংখ্যা ১৪৫,০৮০ । শুধু তাই নয়, সিনেমা সমালোচনার জন্য বিখ্যাত Rotten Tomatoes এর হিসেবে ৯৯% অর্থ্যাৎ ৭৪ টি রিভিউর মধ্যে ৭৩ টিই পজিটিভ হিসেবে বর্ননা করেছে L.A. Confidential কে।

সোমবার, ১৫ জুন, ২০০৯

প্রতিদিন একটি মুভি - ১: City Lights


"সিটি লাইটস" চার্লস চ্যাপলিন এর পরিচালনায় অত্যন্ত বিখ্যাত একটি সাইলেন্ট মুভি। ১৯৩১ সালে নির্মিত এই মুভিটি নিয়ে চ্যাপলিন যথেষ্ট চিন্তায় ছিলেন, কারন ১৯২৯ সালেই মুভিতে শব্দ চলে এসেছে এবং যথেষ্ট দাপট নিয়ে হলিউড তার 'সাউন্ড ফিল্ম' তৈরী করে যাচ্ছে। এরকম সময় আবার সেই পুরানো সাইলেন্ট যুগে ফিরে যাওয়াকে দর্শকরা মেনে নেবে কিনা তা বোঝা যাচ্ছিল না। মজার ব্যাপার হলো, দর্শকরা মুভটিকে ব্যাপক ভাবে গ্রহন করেছিল, এখনও করে যাচ্ছে। প্রায় সকল ফিল্ম শিক্ষার্থীকেই এই মুভিটি দেখার জন্য উদ্বুদ্ধ করা হয়।

Cool Hand Luke: সিস্টেমের বিরুদ্ধে হাসিমুখের প্রতিবাদ


"হোয়াট উই হ্যাভ গট হেয়ার ইজ আ ফেইলিউর টু কমুনিকেট" (What we've got here is a failure to communicate) - সিস্টেম এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ নিয়ে এ পর্যন্ত যতগুলি মুভি তৈরী হয়েছে তার মধ্যে অন্যতম একটি "কুল হ্যান্ড লিউক" (Cool Hand Luke) এবং আমেরিকান ফিল্ম ইন্সটিউটের তৈরী সেরা ১০০ স্মরনীয় মুভি লাইনের মধ্যে এই কোটেশনের অবস্থান ১১ নম্বরে!

"ওয়ান ফ্লিউ ওভার দ্য কুক্কুস নেস্ট " - মুভিটার কথা না বললেই নয়, কারন দুটো মুভিই প্রচলিত সিস্টেমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ স্বরূপ তৈরী হয়েছিল, দুটো মুভিই ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করতে পেরেছে এবং দুটো মুভিই আমার দেখার সৌভাগ্য হয়েছে ;)

সত্যাজিতের অপরাজিত


অপু ট্রিলজির সেকেন্ড পর্ব অপরাজিত, যার ইংরেজি দ্যা আনভ্যাংকুইশড, ট্রিলজির গুরুত্বপূর্ন পর্ব হওয়া সত্বেও ততটা দর্শকপ্রিয় হতে পেরেছে বলে জানা যায় না। পথের পাচালি নিয়ে যত মাতামাতি হয়, অপরাজিত সেভাবে আলোচনায় স্থান পায় না। অথচ, পথের পাচালি এবং অপুর সংসার - এ দুয়ের মাঝে সংযোগ তৈরীর কাজটি করেছে অপরাজিত । আরও পরিস্কার করে বললে, অপরাজিতের মাধ্যমেই সত্যাজিত এই ট্রিলজি তৈরী করতে পেরেছিলেন। অন্যথায়, পথের পাচালি এবং অপুর সংসার দুটোই দুটি স্বাধীন এবং একক মুভি হতে পারতো। এবং একক মুভি হিসেবে অপরাজিত খুব অতৃপ্তি নিয়ে শেষ হয়, অবশ্য এ দর্শকদের নিজ নিজ বিবেচনার মধ্যে পড়ে। হয়তো এ কারনেই পথের পাচালি দেখেছে এমন দর্শকদের মধ্যে একটা বিশাল অংশই অপরাজিত দেখেনি।