বুধবার, ২৮ জানুয়ারী, ২০০৯

Body of Lies: চলচ্চিত্রে সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ


গত বছরের রাজনৈতিক ছবিগুলো, যা সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে উদারপন্থী হলিউডের অবস্থান চিহ্নিত করে, দর্শকদের উদাসীনতায় মুখ থুবড়ে পড়ে। অস্কার বিজয়ী অভিনেতারাও সিনেমা দর্শকদের 'লায়ন্স ফর ল্যাম্বস', 'ইন দ্য ভ্যালি অফ এলাহ', অথবা 'রেন্ডিশন'-এর মতো সিনেমা দেখার জন্য আকৃষ্ট করতে পারেনি। দর্শকদের মতে, এ ধরনের ছবিগুলো অনেকটা বক্তৃতা করে জনগণকে শান্ত রাখার চেষ্টা করে। প্রডিউসররা প্রচলিত ধারার সঙ্গে সাম্প্রতিক হট ইস্যুকে মিশিয়ে নতুন কিছু তৈরি করার চেষ্টা করেছেন বটে, কিন্তু খুব বেশি লোক এক্ষেত্রে সহযোগিতা করতে এগিয়ে আসেনি। সৌদি আরবের কাহিনী নিয়ে জেমি ফক্সের অ্যাকশন ফিল্ম 'দ্য কিংডম' কিংবা টম হ্যাঙ্কসের আফগানিস্তাননির্ভর কমেডি ছবি 'চার্লি উইলসন'স ওয়ার' এসব তারকা-অভিনেতার বছরের সবচেয়ে কম বক্স অফিস হিট ছাড়া আর কিছু দেয়নি। আমেরিকানরা বোধহয় তাদের ক্রয় লিস্টে সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের সিনেমার টিকেটের জন্য কোনো জায়গা রাখে না।

মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী, ২০০৯

টাইম ম্যাগাজিনের টপ টেন মুভিস অব ২০০৮

বিশ্ববিখ্যাত টাইম ম্যাগাজিন প্রতিবছরের মতো এবারও বিভিন্ন বিষয়ে 'টপ টেন' নির্বাচিত করেছে। এর মধ্যে আছে টপ টেন ক্যাম্পেইন ভিডিও, প্রবলেমস, ইলেকশন ফটোস, এডিটোরিয়াল কার্টুনস, নিউজ স্টোরিস, ক্রাইম স্টোরিস, মাইক মোমেন্টস, পলিটিক্যাল লাইনস। বিনোদনের খাতায় আছে মুভিস, সংস, অডিও, ভিডিও ইত্যাদি ইত্যাদি। টপ টেন মুভি গুলো নিয়ে এই পোস্ট।

Se7en: একটি ভালো মুভি


Se7en মুভিটির নাম শুনেছি অনেক আগে। বোধহয় নাম শোনার কারনেই যতবার নাম শুনেছি মনে হয়েছে দেখে ফেলেছি কিন্তু নাফিস ইফতেখার ভাইয়ের কমেন্ট পরার পর মনে হল বোধহয় দেখা হয় নাই। তাই তাড়াতাড়ি ডাউনলোড দিলাম। আজকে দেখেও ফেললাম।

Se7en একটা ক্রাইম মুভি। কাহিনিটাকে গতানুগতিক বলা যায়, আবার বলা যায় না। কেন সেটা বলি। মুভিটা দেখার সময় পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে ধারনা পেয়ে যাবেন সুতরাং গতানুগতিক কাহিনী (শর্ত হচ্ছে আপনাকে অবশ্যই প্রচুর হলিউডি মুভি দেখতে হবে) কিন্তু পরবর্তীতে যখন দেখবেন যে অপনার ধারনার কিছুটা মিলে গেলেও বাকীটা মিলেনি বরং নতুন দিকে মোড় নিয়েছে তখনই বুঝবেন যে কাহিনীটা গতানুগতিক না। তবে ইন্টারেস্টিং!

সোমবার, ২৬ জানুয়ারী, ২০০৯

Perfume: The Story of a Murderer


পৃথিবীর প্রায় সব মানুষ একই রকম - দুটো হাত, পা, চোখ, কান, নাক, মুখ - অথচ ভিন্ন তার ভাষা, কার্যাবলী। এ কারনেই কেউ হয় প্রেমিক, কেউ বা প্রেমের নিষ্ঠুরতার শিকার, কেউ যোদ্ধা, কেউ চাপিয়ে দেয়া যুদ্ধের শিকার। বাহিরের পার্থক্য দৃশ্যমান হলেও ভেতরের পার্থক্যটা শুধুই অনুভবের। সে পার্থক্য ইন্দ্রিয়গত হলে তো কথাই নেই।

'পারফিউম: দ্যা স্টোরী অব আ মার্ডারার' একটি অস্বাভাবিক প্রখর ইন্দ্রিয়ের গল্প। জার্মান লেখক প্যাট্রিক সাসকাইন্ডের বিশ্ববিখ্যাত উপন্যাস 'পারফিউম' যা কিনা পৃথিবীর ৪৫টি ভাষায় অনুদিত হয়েছে, অবলম্বনে পারফিউম মুভিটি তৈরী করেছেন পরিচালক টম টাইকার। এ গল্প জ্যা ব্যাপ্টিস্ট গ্রানুইলির যে একজন ভাগ্যাহত মানুষ ছাড়া আর কিছুই নয়। প্যারিসের এক মাছ বাজারের মধ্যে জন্ম নেয়া গ্রানুইলিকে তার মা অনাদরে ফেলে রেখেছিল পূর্বের চার সন্তানের মতই, জন্মের পরই মারা যাবার জন্য। কিন্তু গ্রানুইলি তো অন্যদের মত নয়, তাই মরে নি বরং বেচে উঠে এক অনন্য সাধারন ঘ্রানশক্তি নিয়ে।

মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী, ২০০৯

একটা করুণ জোকস

রাজধানীর গুলশানের বাসিন্দা সিরাজ সাহেব একজন বিখ্যাত উকিল, যাকে কিনা বলে এক্কেবারে জাদঁরেল। শহর জুড়ে তার বিশাল প্রতিপত্তি, নাম ডাক। সাম্প্রতিক সময়ে তার বিশেষ কয়েকটি খবর হলো - তার বড় মেয়েটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ল পাস করার পর বিলেতে পড়তে গিয়েছিল এবং একখানা ডিগ্রিসহ পরশু দিন ফেরত এসেছে, তিনি এতদিন গরীব মানূষের সেবা করেছেন অকাতরে এবং এই সেবাকে দীর্ঘায়িত করার জন্য তিনি এখন সরকারী দলের নেতৃ পর্যায়ের লোকজনের সাথে ওঠাবসা করছেন এবং সবশেষে গত মাসে তিনি বহুদিনের শখ পূরন করে একটি লিমোজিন কিনেছেন।
ঢাকার রাস্তায় যত্তসব ভাঙ্গা গাড়ি আর অসভ্য লোকের পদচারনা, এত লম্বা গাড়ি দেখে সবাই সামনে এগিয়ে আসে, না জানি কখন কোথায় স্ক্র্যাচ ফেলে দেয় কিংবা মিছিলের মুখে পড়ে গাড়ি ভাঙ্গার শিকার হয় - এই ভয়ে উকিল সাহেব তার গাড়িটিকে বের করেন না। অবশ্য গাড়িটিকে চালু রাখার জন্য প্রতিদিন তিনি একবার করে গাড়িটিতে ভ্রমন করে নেন, সেটা একদম ভোর থেকে সূর্য উঠার কিছুপর পর্যন্ত। এ সময় তার সাথে একমাত্র ড্রাইভার ছাড়া কেউ থাকে না। গাড়িতে বসেই তিনি সকালের হাওয়া খান আর আশে পাশের লোকজনকে দেখে যান।
প্রতিদিনের মত আজ সকালেও তিনি তার লিমোজিনে ঘুরতে বেরোলেন, শুধু গুলশানের রাস্তাঘাটের মধ্যেই। পরনে তার সাদা পাজামা পান্জাবী, শুভ্র পোষাক। ঘন্টাখানেক বেরিয়ে আসার পর তিনি যখন ফিরছেন তখন অদ্ভুত এক দৃশ্য দেখলেন, বিশ্বাস করা যায় না। তিনি দেখলেন দুটো লোক রাস্তার পাশে ছোট্ট মাঠে উপুর হয়ে কিছু করছে, ভালো করে লক্ষ্য করতেই দেখলেন দুজনেই মাঠ থেকে ঘাস ছিড়ে মুখে পুড়ছে।
দেখে উকিল সাহেবের মন উচাটন করতে লাগল। পরম কৌতুহল ভরে তিনি গাড়ি থেকে নেমে তাদের দিকে এগিয়ে গেলেন।
'কি করছেন আপনারা?'
'দেখেন না? ঘাস খাইতেছি!" লোক দুটো পাত্তা না দিয়ে মনযোগের সাথে ঘাস ছিড়েতে লাগল। ঘাস খেতে যে তাদের খুব ভালো লাগছিল না তা দেখেই বোঝা যাচ্ছিল।
'কেন ঘাস খাচ্ছেন?'
'পেটে ক্ষুধা, খাইতে পারিনা তাই!' নির্বিকার উত্তর একজনের!
"আপনি আমার সাথে আসেন!"
'কই?' অবাক হল লোকটি।
'গাড়িতে, আমার সাথে যাবেন আপনি।'
'কিন্তু আমার সাথে যে আমার বৌ আর চারটে ছেলেমেয়ে রয়েছে!'
'তাদেরকেও সাথে নিয়ে আসুন'
এই দেখে দ্বিতীয় লোকটি চুপ থাকতে পারল না, 'আমি?'
'আপনিও আসুন।'
'কিন্তু আমার সাথে আমার বৌ আর দশটা ছেলেমেয়ে আছে!'
'সমস্যা নেই তাদেরকেও নিয়ে আসুন!'
বুঝতেই পারছেন এতগুলো মানুষের জন্য লিমোজিনটা ছোটই হল, তারপরও সবাই কষ্ট করে উঠে পড়ল, না জানি কপালে কি আছে!
এদিকে উকিল সাহেব কিছুটা আনন্দিত বোধ করছেন, সকাল বেলাতেই তিনি আঠারো জনের জন্য খাবার ব্যাবস্থা করতে পেরেছেন বলে নিজেকে ভাগ্যবান মনে হচ্ছিল।
গাড়ি চলতে শুরু করেছিল, এবার লোকদুটোর একজন মুখ খুলল, " স্যার আপনাকে অনেক ধন্যবাদ, অনেক কষ্ট করছেন। আপনার নতুন গাড়িটা আমরা গাদাগাদি করে বসেছি, যদি নষ্ট হয়ে যায়, তার পরও স্যার আপনার অশেষ দয়া। কিন্তু স্যার এতগুলা মানুষ নিয়া শেষে আপনার সমস্যা হবে নাতো স্যার?
না - না - কি যে বলেন, কোন সমস্যা নয়। সত্যি কথা হল, আমার বাগানের ঘাসগুলো যথেষ্ট বড় হয়েছে, তা প্রায় লম্বায় একফুট হবে নিশ্চয়ই, বিশ্বাস করুন - আপনাদের কোন কষ্ট হবে না!