বুধবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০০৯

Top Ten Movies of 2009

আজকের যায়যায়দিন পত্রিকায় আমার এই লেখাটা ছাপা হয়েছে, সম্পাদিত রূপে। আমি দশটি মুভির রিভিউ দিলেও সম্পাদিত অংশে সাতটি স্থান পেয়েছে। প্রকাশিত লেখার জন্য এখানে ক্লিক করুন । নিচে রইলে মূল লেখাটি


গত ২০০০ সাল থেকে আমেরিকান ফিল্ম ইন্সটিটিউট, সংক্ষেপে এএফআই, সাফেল্যের সঙ্গে বছরের সেরা দশটি মুভিকে নির্বাচন করে সম্মাননা প্রদান করে আসছে। অবশ্য এই নির্বাচনে সবচে' জনপ্রিয় ও সর্বোত্তম দশটি মুভি স্থান পায়, ঠিক তেমনটি নয়। বরং পর্দার সামনে এবং পেছনের সব কিছু মিলিয়েই এই নির্বাচনের কাজটি করে ১৩ সদস্যের জুরি বোর্ড যাদের মধ্যে মুভি সমালোচক, অভিনেতা, মুভি বিশারদ এবং এএফআই ট্রাস্টির সদস্যরা অন্তর্ভূক্ত।
গত ১৩ই ডিসেম্বর এএফআই ২০০৯ সালের নির্বাচিত সেরা দশটি মুভির তালিকা প্রকাশ করেছে। আগামী ১৫ই জানুয়ারী লস অ্যাঞ্জেলসের ফোর সিজনস হোটেলে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নির্বাচিত মুভির পুরস্কার প্রদান করা হবে। হিউলেট প্যাকার্ড (HP) অনুষ্ঠানটি স্পন্সর করবে বলে জানিয়েছে। নির্বাচিত তালিকায় ড্রামা, এনিমেশন, কমেডি ইত্যাদি সব ধরনের মুভিই স্থান পেয়েছে। চলুন এক নজরে দেখে নেয়া যাক তালিকাটি।

Seven Years in Tibet

উঠতি মুলো নাকি পত্তনেই বোঝা যায়। সেভেন ইয়ারস ইন টিবেতের প্রথম পাচঁ মিনিট দেখলেই বোঝা যায়, সামনে যা অপেক্ষা করছে তা হতাশ করবার নয়। হাইনরেখ হারার নামের এক জেদী অস্ট্রিয়ান মাউন্টেইনার ঘটনাচক্রে তিব্বতে সাত বছর কাটান। এই সাত বছরের উল্লেখযোগ্য ঘটনাবলী নিয়েই সেভেন ইয়ারস ইন টিবেট তৈরী। মূল কাহিনী একই নামের বায়োগ্রাফি।


সিনেমার পরিচালক জ্য জ্যাক আনুদ (Jean-Jacques Annaud), জাতিতে ফ্রেঞ্চ। এই গুণী পরিচালক সাধারণত ফ্রেঞ্চ ভাষায় মুভি নির্মান করলেও দুএকটি মুভি ইংরেজি ভাষায় নির্মান করেছেন এবং সুনাম কুড়িয়েছেন। সেভেন ইয়ারস ইন টিবেট নির্মানের পূর্বে শন কররি অভিনিত "দ্য নেম অফ দ্যা রোজ" এবং পরবর্তীতে "এনিমি অ্যাট দ্য গেটস" মুভির মাধ্যমে তার গুণপনার প্রকাশ দেখিয়েছেন।

Kate Winslate আর DiCaprio-র মুভি “Revolutionary Road”

কেট উইন্সলেট আর ডিক্যাপ্রিও কে চিনেন না এমন লোক খুজে পাওয়া দুস্কর। টাইটানিক মুভির কল্যাণে সারা বিশ্বের মুভিপ্রেমি থেকে শুরু করে সকলের পরিচিত হয়েছে এই দুই তারকা। ১৯৯৭ সালে টাইটানিক মুভির পর অনেকেই আশা করেছিল এই দুজনকে নিয়ে নতুন কোন মুভি নির্মিত হবে, কিন্তু সে আশা শীঘ্রই পূরন হয় নি। ২০০৮ সালে রিভুল্যুশনারী রোড ছবির মধ্য দিয়ে এই দুই তারকা আবার পর্দায় উপস্থিত হলেন আর তাদের এই মিলনের কৃতিত্ব স্যাম ম্যান্ডেস এর।

Transformers: বর্তমানে ভবিষ্যত প্রযুক্তির মুভি


টেকনলজির সাহায্যে কি করা সম্ভব তা বোঝার জন্য এই মুহুর্তে ট্রান্সফর্মারস একবার মনযোগ দিয়ে দেখাই যথেষ্ট। পরিচালক মাইকেল বে বেশ দক্ষতার সাথে কম্পিউটার প্রযুক্তির যথোপযুক্ত এবং সর্বোচ্চ ব্যবহার করেছেন তার ট্রান্সফর্মারস মুভিতে। শৈশবের অবাস্তব কল্পনাগুলোকে বাস্তব রূপে দেখার সুযোগটা মিলে গেল ট্রান্সফর্মারস মুভির মাধ্যমে।

মঙ্গলবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০০৯

হলিউডে আগামী দিনের ফিল্ম ডিস্ট্রিবিউশন

ভাবুন তো, আগামীদিনের ফিল্ম ডিস্ট্রিবিউশন কেমন হবে? জানতে হলে লগ অন করুন zml.com -এ। এখানে পাবেন কম্পিউটার, আইপড কিংবা হাতে বহনযোগ্য যন্ত্র উপযোগী কিংবা ডিভিডিতে বার্ণ করা যায় এমন ১৭০০ মুভির এক বিশাল কালেকশন। এ সাইটে আরও পাবেন মুভি সম্পর্কে পূর্ণবিবরণ, এডিটরদের মন্তব্য, কাস্টমার রিভিউ এবং অসংখ্য স্টিল পিকচার। খরচও হাতের নাগালে - তিন ডলার প্রতি মুভি। নিঃসন্দেহে লোভনীয় অফার।


একটি ছোট সমস্যা - zml.com একটি পাইরেট সাইট। Pirate Bay আরেকটি অবৈধ সুইডিশ ওয়েবসাইট। হলিউডের মুভি স্টুডিওগুলো এ ধরনের ছোটখাটো সাইটের মোকাবেলা করেই অভ্যস্ত। কিন্ত zml.com এর মত ওয়েবসাইটের উত্থানে তারা আতঙ্কিত। একজন স্টুডিও এক্সিকিউটিভের মতে, “এই সাইট এতটাই প্রফেশনাল যে, দেখে বৈধ ওয়েবসাইট মনে হয়।”

সোমবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০০৯

পশ্চিমের চোখে বছরের সেরা সাত

এই লেখাটি যায়যায়দিনে ছাপা হয়েছিল ডিসেম্বরে ২০০৯ এর শেষ সপ্তাহে


আমেরিকান ফিল্ম ইন্সটিটিউট (এএফআই) ২০০০ সাল থেকে সাফল্যের সঙ্গে বছরের সেরা দশটি চলচ্চিত্রকে নির্বাচন করে সম্মাননা দিয়ে আসছে। পর্দার সামনে এবং পেছনের সবকিছু মিলিয়েই এ নির্বাচনের কাজটি করে ১৩ সদস্যের জুরি বোর্ড যাদের মধ্যে চলচ্চিত্র সমালোচক, অভিনেতা, চলচ্চিত্র বিশারদ এবং এএফআই ট্রাস্টির সদস্যরা অন্তর্ভুক্ত। এএফআই ১৩ ডিসেম্বর ২০০৯ সালের নির্বাচিত সেরা দশটি চলচ্চিত্রের তালিকা প্রকাশ করেছে।

মঙ্গলবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০০৯

'গুরু' জেমস নিয়ে কয়েক ছত্র ...

67b2e52aee41cb69458e367483f9441b_xlarge



হাইস্কুলের আগে...


বাসায় গান শোনার ভালো কোন যন্ত্র ছিল না। আব্বার একটা টুইন ওয়ান ছিল, পুরানো। কিন্তু সেখানে চালানোর জন্য ক্যাসেট কেনা হতো না। ফলে গান শোনার কোন আগ্রহ তৈরী হয়নি, এই আগ্রহ তৈরী করলো আমার মেজ ভাই। সে আব্বার টুইন ওয়ানকে নিজস্ব সম্পত্তি হিসেবে বাজেয়াপ্ত করে গান শোনা আরম্ভ করলো - বাংলা-হিন্দী গান, মাঝে মাঝে ইংরেজি ... one way ticket to the blueeeee। একই রুমে থাকতাম বলে আমিও শুনতাম, শুনতে হতো (!) । হঠাৎ শুনলাম, জেমস নামের এক গায়ক, তার ব্যান্ডের নাম ফিলিংস, একটা গান গেয়েছে, খুব হিট...



পথের বাপই বাপরে মনা,
পথের মা'ই মা,
এই পথের বুকেই খূজে পাবি
আপন ঠিকানা

গানটা ভালো লাগে নাই, এইটা একটা গান হল, কেমন আজিব কথাবার্তা, আজিব গান গাওয়ার ঢং। ক্ষ্যাত!
ফেবারিট ছিল এল আর বি। সুতরাং নতুন কাউকে পছন্দ না হওয়াটা স্বাভাবিক ছিল। পাত্তাই দিলাম না। এলাকায় আমাদের পিচ্চিদের যে গ্রুপটা ছিল সেখানে একটা অ্যালবামও পেলাম একদিন .. মান্নান মিয়ার তিতাস মলম ... আরেক আজিব নাম। এইরকম গানের অ্যালবাম যে বের করে সে কি আর ভালো গায়... জেমস ঠাট্টার বস্তুতে পরিনত হলো।



হাইস্কুলে উঠার পর...


টিভিতে একদিন একটা গান দেখলাম, কোন এক ব্যান্ড শোতে, ঝাকড়া চুল মাথায় নিয়ে শুকনা এক লোক, সে পাগলা টাইপের, দেখলে মাতাল মনে হয়, গান গাচ্ছে, দলবল নিয়ে ...




দিন রাত এখানে থমকে গেছে
কনডেম্ড সেলের পাথর দেয়ালে
প্রতি নি:শ্বাসে মৃত্যুর দিন আমি গুনছি
শোন, জেল থেকে আমি বলছি



এই গানটাও ভালো লাগলো না। পথের বাপের সাথে এই গানের সুরে এক সাদৃশ্য খুজে পেলাম আমি, পেলাম গান গাওয়ার ঢং য়েও। একই সুর দিয়া গান গাইলে আর ব্যান্ড কি - এই বক্তব্য আমাকে আমার অবস্থানে দৃঢ় করলো।


এদিকে দেখি ভিন্ন ঘটনা। প্রাইমারী স্কুল থেকে আমরা যে কজন হাইস্কুলে নতুন স্কুলে ভর্তি হলাম, তাদের একজন রুহান (আমরা রুবেল ডাকতাম, পরে রুহান নামেই ডাকা শুরু করেছি)। স্কুল শেষ হবার পরে আমরা উচু গলায় নিজেদের পরিচয় আর জ্ঞান গম্যি জাহির করতে করতে বাসায় ফিরতাম। এরকম একদিনে সে জানালো ... ফিলিংস এখন তার ফেবারিট ব্যান্ড। শুনে আমার মাথায় বজ্রপাত। এত ক্ষ্যাত একটা ব্যান্ড, সেটাও আবার ফেবারিট... মনের দু:খে বন্ধুকেই ত্যাগ করতে ইচ্ছে হলো। কিন্তু কি করা, বন্ধুত্বের বয়স ততদিনে ছবছর পেরিয়েছে, তাই বাধ্য হলেও মেনে নিলাম। কিন্তু তাই বলে পছন্দের তালিকায় যুক্ত করা ... সে সম্ভব না। সুতরাং তর্ক বিতর্ক, না পারলে জোর গলায় আমার পছন্দের গায়কের গান নিয়ে আলোচনা।



হঠাৎ প্রেম ...


ঈদ করতে বড় খালার বাসায় গেলাম। ঈদ আনন্দমেলা নামক অনুষ্ঠান চলছে, রাত তখন সাড়ে এগারো। একটু গ্রাম এলাকা বলে রাত তখন অনেক গভীর, প্রায় অনেকেই শুয়ে পড়েছে, আমি শোবার প্রস্তুতি নিচ্ছি, ঈদ অনুষ্ঠানকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে। এই অনুষ্ঠানগুলোর শেষ উপাদান থাকতো "ব্যান্ড সংগীত", কে আসবে তা দেখার জন্যই জেগে ছিলাম। আসল জেমস। আমি ঘুমাতে গেলাম, এর গান দেখা যায় না... কিন্তু খালাতো বোন চিৎকার করে বললেন, "এই সবাই চুপ। জেমস তো ওর ফেবারিট গায়ক" - আমি আর কি বলবো, রীতিমতো অপমানজনক কথা। তাই, চুপচাপ দাড়িয়ে দাড়িয়ে গানটা দেখলাম। বিটিভির ইনডোরে একটা গিটার হাতে নিয়ে জেমস ঘুরে ঘুরে গাইল তার জীবনের সেরা গান (আমার মতে!), মারজুক রাসেল আর জেমসের লেখা গান ...




যেদিন বন্ধু চলে যাবো
চলে যাবো বহুদূরে
ক্ষমা করে দিও আমায়,
ক্ষমা করে দিও
আর মনে রেখো কেবল একজন ছিল
ভালোবাসতো শুধুই তোমাদের



এর পরের কয়েকদিনে এই গান প্রায় একশ বার শুনেছি। পাশের বাড়িতে এক পাগল ভক্ত সারাদিন রিওয়াইন্ড করে এই গানটা বাজাতে থাকলো। আমিও শুনতে থাকলাম। বাসায় ফিরে শুনলাম আরও কিছু গান। সেই শোনা এখনো বন্ধ হয় নি, চলবে কতদিন জানি না। পাঠকের মতো হয়তো শ্রোতারও মৃত্যু হয় একদিন, সেই মৃত্যুর আগ পর্যন্ত শুনবো।



ভালোবাসা, ভালোবাসা, ভালোবাসা


জেমসের গান শুনতে শুনতে একটা ব্যাপার খেয়াল করলাম যা জেমসের জন্য ভালোবাসা ব্যাপক মাত্রায় নিয়ে গেল। কি সেটা? জেমসের গানগুলো তুলনামূলকভাবে অনেক সার্বজনীন। মানে কি? মানে হলো, শুধু প্রেম নিয়ে কচলা কচলি করে নাই। সেই বয়সে, প্রেম করাটা চিন্তনীয় ছিল না, বরং অমার্জিতই ছিল। সুতরাং প্রেমের গানের বদলে সেই গানই বেশী ভালো যা একই সাথে প্রেম এবং বন্ধুত্বের গান। জেমসের গান এই দিক দিয়ে অসাধারন। গান শুনতাম ক্যাসেট কিনে, তারপর মেজ ভাই সিডি প্লেয়ার কিনল, এবার এম্পিথ্রি কিনে শোনা আরম্ভ হলো। জেমসের গানের কথা, গান গাবার ঢং - দুটোই ভালো লাগে বেশ। এই ভালো লাগা ফুটে উঠল অন্যভাবে। বাথরুমে আইয়্যূব বাচ্চুকে সরিয়ে জায়গা করে নিল জেমস্, কলম নিয়ে প্রথম যে শব্দটা লিখতাম সেটা নিজের নাম না হয়ে হলো জেমসের নাম। নতুন খাতার প্রথম পৃষ্ঠায় শুধু মাত্র একটি নাম - ফারুক মাহফুজ আনাম জেমস্ ...



রুহানস


জেমসের কথা বলতে গেলে রুহানের কথা না বলা সম্ভব নয়। রুহান আমার বন্ধুদের মধ্যে প্রথম জেমসের ভক্ত হয়েছিল। শুধু ভক্ত বললে বোধহয় ভুল হয়, সে হয়েছে পাগল। জেমস ছাড়া আর কোন গানই শুনে না, শোনার ইচ্ছাও প্রকাশ করে না। রাজ্যের পত্রিকা, আর ম্যাগাজিন ঘেটে ঘেটে জেমসের ছবি কালেকশন করা, আর সেই ছবি তার বাসায় গেলে আমাদের দেখানো ... আমাকে প্রভাবিত করেছে, করেছে আমার আরেক বন্ধু ইমাকেও। জেমসের নানা তথ্য সে জানালো, আমরা জানলাম। জেমস যত কনসার্ট করে, ওয়াল্ড ট্যুরে বের হয় - সব খবর আমরা জানি। জানি জেমসের বউয়ের নাম রথী, কুত্তার নাম বুনো, ছেলের নাম (ভুইলা গেসি)। জানি আরও অনেক কিছু। কিন্তু এত জানার পরেও রুহানের মতো পাগল হতে পারি নাই। তখন আমাদের সবে গোফ গজাচ্ছে। আমরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করি কবে গোফে ব্লেড চালানোর সময় হবে। রুহানের সেই চিন্তা নাই। অথচ তার গোফ হয়ে গেছে! সে কাচি চালায়, গালে চালায় না। রেজর চালানো শুরু করলো, এবারও শুধু থুতনি, গালে না - কারণ কি? কারণ জেমস নাকি কখনো ওই জায়গায় ব্লেড লাগায় না। আমরা পারি নাই ওর মতো হতে। পারি নাই, চট্টগ্রামে কনসার্ট করতে এলে হোটেলে গিয়ে একদিন পাঁচ ঘন্টা এবং পরদিন সকাল থেকে চার ঘন্টা অপেক্ষা করে একটি ছবি তুলে নিয়ে আসতে। তাই বলে আমাদের আনন্দ তো একটও কম হয়নি, কারন রুহান জেমসের সাথে তোলা তার ছবি এক কপি করে আমাদের দিয়েছিল মানিব্যাগে রাখতে ..... ব্রাভো রুহানস্, ব্রাভো!



মন্দলাগা ...


এই জেমস একদিন ঠিক ছ্যাকা দিল। খবরের কাগজে জানলাম, রথীর ঘর ভাংছে, সংবাদ সম্মেলন করে এই খবরই জানিয়েছেন তিনি। সাথে নানান খবর। কয়েকদিন পরেই জানা গেল, আঠারো বছরের কম বয়সী মেয়েকে নিয়ে বিদেশে উড়াল দেবার জন্য জেমস কিডন্যাপের দায়ে অভিযুক্ত। ফিরে এসে ধরা পড়লো পুলিশের হাতে। সে বিশাল কাহিনী। খুব কষ্ট পেলাম। এত বছরের সংসার-বাচ্চাকে ফেলে ভক্ত তরুনী বেনজিরকে বিয়ে করতে পারলেন কি করে ??? এ ধরনের ফালতু প্রশ্ন মাথায় ঘুরপাক খায়। গান শোনা বন্ধ করলাম, শুনবো না। ভালোও বাসবো না। টার্গেট নিলাম - বেনজিরকে ভাগায়া নিয়া আসবো একদিন......!



কিন্তু...


জেমস নতুন অ্যালবাম বের করলো ... দিওয়ানা মাস্তানা, এই গান আগের থেকেও ভালো। আরেকটা বের করল হাসানের সাথে, আরও জোশ... মাথা খারাপ অবস্থা। নতুন বিয়া করলে কি প্রতিভা নতুন করে বের হয় নাকি? জানি না, কিন্তু মজতে বাধ্য হলাম। দিওয়ানা দিওয়ানা আমি তোমার দিওয়ানা হেই ... বুঝলানা বুঝলানা আমার প্রেমের বেদনা হেই ...


জেমস কি জানতো এইটাই হবে একদিন ...




যদি কখনো ভুল হয়ে যায়
তুমি অপরাধ নিও না



অনেক ভক্ত এই অপরাধ নেয় নাই, ভুলে গেছে। আমি নৈর্বক্তিক আছি, ব্যক্তি জেমসকে গায়ক জেমস থেকে আলাদা রাখছি..



অ্যালবাম কথা ...


জেমসের যে অ্যালবামগুলো রিলিজ হয়েছে তার প্রায় সবই শোনা হয়েছে .. খুব আগ্রহ নিয়া অপেক্ষা করি , দুষ্টু ছেলের দল বের হবে বলে। বের হলো তার কলের গান থেকে, কলের গান তার নিজের স্টুডিও। কিন্তু গান শুইনা হতাশ। এইগুলা কি ধরনের গান... শুনতে শুনতে ভালো লাগা শুরু হলো, কিন্তু ততটা না। এত অশ্লীল গলায় গান গায় কেন? তারপরেও গানের কথা অসাধারন ...




অবশেষে জেনেছি মানুষ একা
নিজের কাঝে নিজেই একা
এই সংসারে সবাই একা
কেউ বোঝেনা কারও ব্যাথা
তোমার কাছে তুমি একা
আমার কাছে আমি একা
অবশেষে জেনেছি মানুষ একা
নিজের কাছে নিজেই একা



কিছুদিন আগে আসল কালযমুনা, অনেক আশা ছিল, হতাশ হইছিও তেমনটা । পুরা অ্যালবামটা খুব বেশী শুনি নাই। বাজারের গান গাইছে জেমস, তাইলে আর তফাত থাকলো কই?



স্বপ্নে.. আকাঙ্খায়


বহু পুরানো একটা স্বপ্ন ছিল, কিন্তু ... তার আগে অন্য কথা।


একদিন শুনলাম জেমস নাকি ইন্ডিয়ায় যাবে, হিন্দী মুভিতে গান গাবে, বললো রুহানস। খুব আনন্দ পাইলাম, গান শুনে পাগল হলাম, আর ভিডিও দেখে নতুন করে জেমসকে আবিস্কার করলাম। বুঝলাম, সাধারণভাবে জেমসকে পর্দায় ভালো না লাগার কারনটা জেমস না, কারণ হলো আমাদের মিউজিক ডিরেক্টর। বুঝলাম, এলোচুলের নেশারু চোখের জেমসও খুব আকর্ষনীয় মিউজিক ভিডিওর তারকা হতে পারে। প্রয়োজন দরকার শুধু ভালো মিউজিক ভিডিও ডিরেক্টর।




কিছু ভূল ছিল তোমার
কিছু আমার ...



ভিডিও দেখে স্বপ্ন রিচার্জড হলো। আমার বিচারে জেমসের সেরা গানটার একটা ভালো ভিডিও হয় নাই। আমি স্বপ্ন দেখলাম, কিভাবে ভিডিও বানাতে হবে... জেমসকে পুরা কন্ট্রোলে রাখলে হবে সুন্দর ভিডিও, নাইলে না। ভালো মিউজিক ডিরেক্টর দরকার। খুব ভালো ...



গুরু...ফেস টু ফেস


জেমসকে সামনে থেকে দেখা হয় নাই, কখনো দেখতে চাই নাই। ব্যক্তি জেমসকে আমার ভালো লাগে না। তার মাতাল চোখ, তুই তোকারি সম্বোধন ... বড্ড ভয় হয় ... যদি অপছন্দ করা শুরু করি... তাই দেখা করার কোন চেষ্টাই করি নাই, কখনো করবোও না..
কনসার্টেও যাইনি কখনো, যাবোও না, কারণ একটাই, কনসার্টে জেমসের গান ভালো লাগে না, ভালো সাউন্ড না, আসল মিউজিক নাই, আবজাব সব কথা বলে গানের মাঝে...ধুর!



ভালোবাসার বর্তমানকাল ...


ভালোবাসা আছে, আবেগ নাই। আড়াই বছর আগে ফেসবুকে অ্যাকাউন্ট খুলছিলাম, তখন কিছু বুঝি নাই। বুঝার পরে, সার্চ দিয়া দেখলাম জেমসকে নিয়া কোন ফ্যান পেজ নাই...বিশাল সুযোগ। খুললাম একটা ফ্যান পেজ, নাম জেমস এন্ড নগর বাউল , দিনে দিনে বাড়তে লাগলো ভক্তের সংখ্যা। তখন খুব ইচ্ছা হৈছিল জেমস কে একবার কল করি, রুহানসের কাছে ফোন নম্বর দিয়া, বলি - দেইখা যান, পাব্লিক আপ্নারে কেমন ভালোবাসে ... সুন্দর গান চায় আপ্নার কাছে, শস্তা গান না ..." এখন সদস্য সংখ্যা সাড়ে তেরো হাজার পার হৈসে ... ভক্তরা অবুঝ, না বুঝে আমাকেই জেমস মনে করে প্রশংসা করে, ভালো গান গাওয়ার আবেদন জানায়, জানতে চায় করে নতুন অ্যালবাম বাইর করবো। আমি হাসি, কয়দিন জবাবও দিলাম। তারপর হঠাত মনে হৈলো ... এইটা ঠিক না, ঠকাইতাছি ... সুতরাং গ্রুপের মডারেটর আরেকজনকে দিয়া একদিন ... ... পলাইলাম।




সুরের মাঝেই আমার নেশা
সুরের মাঝেই আমার দিশা
একটা গিটার সঙ্গী সাথী
সুরের ভুবনে
ইচ্ছে করে মাঝে মাঝে
হারিয়ে যাই লালন বেশে
ছিনিয়ে নিয়ে একতারাটা
বাজাই সুরে
সুরের সাগর দিচ্ছি পাড়ি
সুরের নায়ে ঘর আর বাড়ি
ইচ্ছে হলেই কাঁদি হাসি
সুরেরই মায়ায়
আমি মুঠোয় ধরে স্বপ্ন কিনি
মুঠোয় ধরে প্রেম
আমি সুরের মাঝেই বাঁধাই করি
তোমার ছবির ফ্রেম।



সেইরকম গানগুলা আবার গাওয়া যায় না? নাকি গাওয়া হচ্ছে, কিন্তু ধরতে পারতেছি না... বনফুলের 'পাঠকের মৃত্যু'র মতো শ্রোতাও মৃত্যুর দিকে এগোচ্ছে? জানি না, জানতে চাইও না.. শুধু জানি ... সেরা গানটা তুমিই গেয়ো সবসময়, সবসময়।

রবিবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০০৯

September Dawn: গণহত্যার ইতিহাস

১৮৫৭।

ছবির শুরুতে উপরোক্ত সালই বলে দেয় ঐতিহাসিক কাহিনী নির্ভর মুভি। সিপাহি বিদ্রোহের কথা মনে হওয়া অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু ১৮৫৭ সালে আরও কিছু ঘটেছিল, অন্য কোথাও, পৃথিবীর অন্য কোন প্রান্তে। সেপ্টেম্বর ডন সেই কাহিনীর দৃশ্যপট।
ইতিহাস নির্ভর মুভি অনেক হয়েছে। ইতিহাসকে তুলে ধরার দায়িত্ব থেকে মুভি নির্মাণ করা হলেও সেখানে নিজস্ব দর্শনই জোরালো হয়ে ফুটে উঠে। কিংবা, ইতিহাসের তুলনায় অন্য কোন কাহিনী - বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই প্রেম - গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে। ইতিহাসকে তুলে ধরার এটি একটি চালাকিও বটে। ক্রিস্টোফার কেইন এই জালিয়াতির আশ্রয় নেননি। আর তাই প্রেম থাকলেও তা মূল সত্যকে - ১৮৫৭ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ভোরের ইতিহাস - ছাপিয়ে উঠতে পারেনি।

Tare Zameen Par

[ এই লেখাটা যখন লিখেছিলাম তখনও ব্লগ লেখা শুরু করিনি, লেখাটা কিছুটা সম্পাদিত হয়ে যায়যায়দিন পত্রিকায় ছাপা হয়েছিল, মূল লিংক দিতে পারলে ভালো লাগতো, কিন্তু ওদের ওয়েবসাইটে বেশ সমস্যা, আর্কাইভ হাওয়া হয়ে গেছে... ]

হিন্দী মুভির প্রতি আমার কিছুটা বিতৃষ্ণা আছে। কারণটা বেশ স্বাভাবিক। ইন্ডিয়ার মুভিগুলোকে ‘ফরম্যাট ফিল্ম’ বলা চলে । কতগুলো নির্দিষ্ট ফরম্যাট অনুসরন করে সব ধরনের দর্শকের চাহিদা পূরণ করে তাদের কমার্শিয়াল ফিল্ম গুলো ভালোই ব্যবসা করছে। তবে আমির খান একটু ব্যতিক্রম। লগন, দিল চাহতা হ্যায়, ফানা, রঙ দে বাসন্তি’র মত মুভিগুলো এই বিশ্বাস সৃষ্টি করে পাকাপোক্ত করেছে। সুতরাং ‘তারে জমিন পার’ও যে একটি ভালো মুভি হবে, দেখার আগেই সে সম্পর্কে নিশ্চিৎ হয়েছিলাম - কিছূটা ট্রেলার দেখে, কিছূটা নিউজপেপার পড়ে।

The untapped prospects of digital cinema

This article was published in the Daily Financial Express



red_digital_cinema_videoDigital filmmaking is the future of Bangladesh - it is no more a digital joke. It is ‘future’ not in the sense that Bangladeshi filmmakers, both traditional and alternative, will depend on digital technologies for filmmaking as it is natural, rather digital technology will be the medium for the revolution in film industry that we are waiting like the starving poor for decades.

Digital film is what is made using digital technology especially in production and post-production stages and displayed, using the digital projection system. Decades ago, it was a very expensive media used by the Hollywood studios only. However, with the improvement of technology and production, digital filmmaking technology is widely available now and, thus, the cost of filmmaking is so reduced that a digital film-making needs only half of the average budget for a film-format cinema.

শনিবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০০৯

ঈদ অনুষ্ঠানমালায় ভিন্নতার আমেজ

এই মন্তব্য প্রতিবেদনটি সোনারবাংলাদেশ এ ছাপা হয়েছিল


'ঈদের দিন’ যে মাত্র তিনদিন নয় বরং পাঁচ থেকে সাত দিন কিংবা আরও বেশী, সেটা বুঝতে আমাদের বাঙ্গালীর একটু সময় লেগেছিল বটে। দেরীতে হলেও এই ’বুঝতে’ পারার জন্য যারা সাহায্য করেছে সেই প্রাইভেট টিভি চ্যানেলগুলোকে ধন্যবাদ না জানানো অকৃতজ্ঞতার নামান্তর। বর্তমানে ঈদের চতুর্থ, পঞ্চম, ষষ্ঠ কিংবা সপ্তম দিন পর্যন্ত দেখতে পাওয়া যায়, যা অনেকটা নির্ভর করে চ্যানেলগুলোর সামর্থেøর উপর। গত ঈদ উল আযহাতে এই ঈদের দিন পাঁচ থেকে সাতদিন পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল এবং অবশ্যই এই বিস্তৃতি বোঝা যায় ঈদ বিশেষ অনুষ্ঠানমালার মাধ্যমে।

সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০০৯

সিনেমা “হীরক রাজার দেশে”র রিভিউ-কবিতা সিনেমা

hirak_rajar_deshe
১৯৮০ সালে সত্যাজিত রায় এর হীরক রাজার দেশে মুক্তি পায়। গুপী গাইন আর বাঘা বাইন কে নিয়ে নির্মিত এই চলচ্চিত্রটি পছন্দ নয় এমন লোক খুজে পাওয়া ভার। এই সিনেমাটি মুক্তি পাওয়ার পরে আনন্দবাজার পত্রিকায় একটি রিভিউ লেখা হয়েছিল। তবে মজার ব্যাপার হলো, এই রিভিউটি লেখা হয়েছিল কবিতার মতো ছন্দে ছন্দে, 'হীরক রাজার দেশে' সিনেমার ডায়লগের মতো মিলিয়ে মিলিয়ে ... কে লিখেছিল তা কিন্তু জানি না।

হীরক রাজার দেশে ফিল্ম দেখে আদ্যোপান্ত,
সত্যি কথা খুলেই বলি লেগেছে দুরন্ত।
মিল মিলিয়ে কথাবার্তা, ছড়ার ছড়াছড়ি,
গানের উপর গান জমেছে, উসুল গাটঁ এর কড়ি।

বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০০৯

November Rain: Guns ‘N Roses এর দুর্দান্ত সৃষ্টি

Darashiko_47_1254923795_1-Novemberrain১৯৯২ সালে বিশ্ব মিউজিকে যুক্ত হলো আরেকটি কালজয়ী গান, গানের নাম নভেম্বর রেইন, ব্যান্ডের নাম গানস 'ন রোজেস। হার্ড রক ধাঁচের এই গানটি ওই বছরের মধ্যেই সারা বিশ্বব্যাপী ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। অবশ্য এই জনপ্রিয়তার মূল কারন একক ভাবে লিরিক, কিংবা গায়কী সুরকে নির্দিষ্ট করা যায় না, বরং গান রিলিজের কিছু পরেই এর মিউজিক ভিডিওটি মুক্তি পায় এবং বিশ্ব মিউজিকের তালিকাসমূহের শীর্ষে অবস্থান করে নেয় এবং এখনও স্থান দখল করে আছে।১৯৯২ সালের জুন মাসে মুক্তিপ্রাপ্ত ইউজ ইয়োর ইল্যুশন-১ (Use Your Illusion I) এর ১০ নম্বর ট্র্যাক নভেম্বর রেইন। গানটি লিখেছিল ব্যান্ডেরই সদস্য এক্সেল রস (Axl Rose)। পরবর্তীতে গানটির মিউজিক ভিডিওতে এক্সেল রস এবং ব্যান্ডের অন্যান্য সদস্যরা অভিনয় করে। প্রায় ১.৫ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই মিউজিক ভিডিওটি বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল মিউজিক ভিডিও গুলোর মধ্যে নবম অবস্থানে রয়েছে। নান্দনিক চিত্রগহন এবং গল্প বলার ঢং ভিডিওটিকে ইতিহাসের অংশ করে রেখেছে।

মুভি: The Machinist

Darashiko_47_1254751829_2-el-maquinista300x350

সামু ব্লগে কোন এক ব্লগারের পরামর্শে "দ্যা মেশিনিস্ট" মুভিটি সম্পর্কে জেনেছিলাম।

ক্রিশ্চিয়ান বেইল অভিনীত দারুণ এক সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার 'দ্যা মেশিনিস্ট', স্প্যানিশে 'এল ম্যাকুইনিস্টা' । মেশিন অপারেটর ট্রেভর রেজনিক একাকী মানুষ, দিনকে দিন শুকিয়ে যাচ্ছে। If you were any thinner, you wouldn't exist.... এই ডায়লগটা অন্তত: দুবার শুনতে হয়েছে ট্রেভরকে। শুকিয়ে যাবার কারনটাও অদ্ভুত - গত একবছর ধরে ঘুমুতে পারছে না সে, তবে দুশ্চিন্তার কিছু নেই কারন ইনসমনিয়ার কারনে কেউ মরে নি এখন পর্যন্ত!

মুভি: The Motorcycle Diaries

কিংবদন্তী বিপ্লবী চে গুয়েভারাকে নিয়ে কম বেশী মোট ২৪ টি সিনেমা হয়েছে, টিভি আর সিনেমার পর্দায়। আর মোটরসাইকেল ডাইরিজ নিয়ে সামু ব্লগে কম বেশী দুচারটে পোস্ট পড়েছে, তার সাথে যোগ হলো আমার একটা।


তেইশ বছর বয়সে দুই বন্ধু বের হলো মোটর সাইকেল নিয়ে দেশ ভ্রমনে। চার মাসে ৮০০০ কিলোমিটার ভ্রমন করার উদ্দেশ্য থাকলেও একটি গৌন উদ্দেশ্য ছিল পেরুর কোন এক কুষ্ঠ আক্রান্ত এলাকায় কাজ করা। দুজনের একজন 'ফুসার' (চে) অন্যজন বয়সে কিছুটা বড় বন্ধু গ্রানাডো, পেশায় একজন বয়োকেমিস্ট। মোটরসাইকেল টা বিশাল, সেই সময় হিসেবে অনেক বড় বটে। বাবা মার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে রওয়ানা হলো ভেনেজুয়েলার উদ্দেশ্যে, বাসনা গ্রানাডোর ত্রিশতম জন্মদিন ভেনেজুয়েলায় কাটানো, রুটটা খুবই ব্যতিক্রম। আন্দেজ পর্বতমালার পাশ দিয়ে চিলি, তারপর মরুভূমি পার হওয়া এবঙ পেরু হয়ে তারপর ভেনেজুয়েলা।

শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০০৯

কুয়াকাটা: স্বপ্নপূরণ এবং স্বপ্নভঙ্গের গল্প


স্বপ্নসাধ





কুয়াকাটা যেতে চাই অনেকদিন ধরেই। যাওয়া হচ্ছিল না বিভিন্ন কারণে - বিশেষত: সময় আর সামর্থ্যের অভাবে। ঈদের পরে গেলাম পটুয়াখালীতে বন্ধু জহিরুল মুসাদের বাড়িতে। প্ল্যান করেই যাওয়া - পটুয়াখালী হয়ে কুয়াকাটা যাবো। কুয়াকাটার এত নাম শুনেছি কিন্তু ওখানে দেখার কি আছে তা-ই ভালো করে জানা নাই। আগে থেকে খোঁজ খবর করে গেলে সেই অনুযায়ী প্ল্যান ঠিক করা যায়। তাই একে ওকে জিজ্ঞেস করতে লাগলাম, কিন্তু কেউ-ই বিশেষ কিছু বলতে পারলো না, সি বিচের কথা ছাড়া। তারপরও যাই হোক .. যাবো বলে বেরিয়েছি, যাবোই।





বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০০৯

রমজানের শিক্ষা কি?

রোজা শেষ হলো, ঈদের দিন শুরু হলো।
স্বাভাবিক ভাবেই ইদের দিন খুব বেশী খাওয়া দাওয়া হয়। প্রায় সবল বন্ধু বান্ধব আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে যাওয়া হয় এবঙ প্রত্যেক বাড়ির সম্মান রাখতে গিয়ে এবং নিজের প্রবৃত্তির চাহিদা মিটাতে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের খাদ্য দ্বারা পেট পুর্ণ করা হয়।

এই নিয়ে আমরা প্রায়ই আফসোস করি .. সারা মাস রোজা রেখে ঈদের দিনই যে পরিমান খাওয়া দাওয়া করি তাতে কি সারা মাসের সংযমের শিক্ষা প্রথম দিনেই ভুলে বসেছি হয়তো...

এ ধরনের চিন্তা আসাটা পজেটিভ, তাই বলে দু:খিত হবার কিছু আছে কি? যেমন তর্কের খাতিরে বলা যায়, "ঈদের দিন যে পরিমান খাওয়া দাওয়া করা হয়, ঈদের পরের দিনগুলোতে আগামী রোজা আসা পর্যন্ত কি তবে রোজার শিক্ষা সঠিক ভাবে মেনে চলা হয়? "
ঈদের দিন সবার বাড়িতে যাওয়া একটা ভালো প্র্যাকটিস ... সম্পর্কের উন্নতি হয়। এই সম্পর্ক দৃঢ় হয়, সকল বাসায় কিছু না কিছু খাওয়া দাওয়ার মাধ্যমে ... সুতরাং এতে কোন সমস্যা থাকার কথা নয়।

তবে আমার মনে হয়, রমজানের শিক্ষাটা আমাদের আরো ভালো ভাবে উপলব্ধি করা দরকার। রোজার প্রধান শিক্ষা এই নয় যে, খাওয়া দাওয়া সংযমের মধ্যে রাখতে হবে কিংবা গরীব দু:খীর কষ্ট অনুভব করা। এটি অন্যান্য উদ্দেশ্যসমূহের মধ্যে একটি... মূল উদ্দেশ্য তাকওয়া অর্জন।মূল উদ্দেশ্য অর্জন যদি বাদ থেকে যায় তবে বাকী উদ্দেশ্য অর্জনে খুব লাভ হবার কথা নয় ... সুতরাং ইসলাম আরো ভালো ভাবে পালন করার নিয়ত রেখে যদি সবার বাসায় গিয়ে পেট পুরে খাওয়া যায় তাতে মন্দ কি?

শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০০৯

Harry Potter and the Half Blood Prince


Yeah, you are right, this time we are presenting ‘Harry Potter and the Half Blood Prince’, the sixth film of Harry Potter series, for you. Like the previous ones, this movie also wins the teenage viewer’s heart as well as the fantasy lovers. It broke the record for biggest midnight showings, making $22.2 million in 3,000 theatres and beat one of the previous record-holders ‘The Dark Knight’ which made $18.5 million only one year earlier. The eye-dazzling data proves the popularity of Harry Potter once again.

Movie Review: Ratatouille


What if a rat starts cooking? And the foods are not for other rats rather for human? The work is impossible in reality but not in anime films and it’s been done only for your recreation.


Animation or anime movies are the pure source of entertainment containing some messages for the viewers. The history of animation filmmaking is old and every year newer and funnier animations are being made around the world, even in our neighboring country India and they achieve lots of recognition and popularity among the viewers.

Movie Review: Nim’s Island


What is the difference between reading a book and watching a film with the same story? You may detect many points but I bet, you can’t deny at all if I say, you make the film when you read a book while a one filmmaker makes the film when you watch it. We use our limitless imagination power while reading a story full of thrills, suspense, adventures and actions. Just think of your early ages when you read the adventures of Robin Hood, Three Musketeers or even our Tin Goenda, I am sure, all the adventures took place around your study place!

Movie Review: Pursuit of Happyness

will_smith_in_the_pursuit_of_happyness_wallpaper_1_1024This month we are offering you a biographical film, "The pursuit of Happyness". Don't worry, it’s not a spelling mistake rather intentionally decided by the renowned Italian director Gabriele Muccino, taken from the misspelling at the kid’s day care center. It’s a true story starred by Will Smith along with his son Jaden Smith who plays as son in the movie also. Actually it is tear jerking movie depicting the struggling activities of Chris Gardner, a homeless and freelance salesman who turns stockbroker in the later life. At the same time, it expressed the real scenario of self-centered American lifestyle.

Movie Review: Blood Diamond


Children, the nation builders, are strongly prohibited to join any types of the army, according to the International human rights law and other national and international laws, whether government or rebel. Instead, more than 200000 children have been involved in military campaigns, even in the armed conflicts around the world. The movie Blood Diamond depicts the story of child soldiers of Africa, although the main focus is illegal diamond business.

Movie Review: Slumdog Millionaire



Perhaps when you are reading this review, the director, actors, technicians and others are flying in the heaven of happiness winning the Academy Award for 2009. It would not be a very surprising because the film has already won 60 awards on various categories from different corners of the world and still nominated for more than 30 awards. Yes, I am talking about the film 'Slumdog Millionaire', a great direction of Danny Boyle.

Who wins the Oscar of 2008?




The most desirable award for the film professionals around the world is Academy Award, commonly known as Oscar. Oscar is given to the film professionals including directors, actors, actresses, writers as well as the best picture of the year for their excellence in film industry. Usually, the Academy of Motion Picture Arts and Sciences (AMPAS) awards the most successful film professionals with a gold plated Knight holding a crusader’s sword.



This most prominent film award, Academy Awards, for 2008 will be given on the next 22nd February, 2009. The movie critics around the world have already caste their valuable votes to select the best picture and film professionals. Although it is not known yet, there are some predictions about the best picture. Slumdog Millionaire, Wall-E, The Dark Knight, Milk, The curious case of Benjamin Button and Frost/Nixon are the most predicted ones.

বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০০৯

সোয়াইন ফ্লু-র মত 'হিপো ফ্লু'!

অতি প্রিয় ভদ্রমহিলা এবং ভদ্রমহোদয়গন, আপনারা যাহারা এতদিন নিজেদের এবং অপরের অতি সুন্দর বদনখানি ঢাকিয়া পথ চলার প্রয়োজনীয়তাকে অস্বীকার এবং উপেক্ষা করিয়াছেন, তাহাদের জন্য একটি সতর্কবাণী ...যদি পেট-পিঠ-বাহু উন্মুক্ত রাখিয়া এবং প্যান্টুল অত্যাধিক নিম্নে পড়িয়া পথ চলিতে আগ্রহ এবং আকর্ষন প্রকাশ করিয়া থাকেন, তবে সাবধান, কারণ হয়তো ভগবান শীঘ্রই "হিপো ফ্লু" টাইপের জঘন্য কোন ব্যাধি দিয়া তাহা ঢাকিবার ব্যবস্থা করিবেন।

সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০০৯

মুভি - The Sixth Sense

দ্যা সিক্সথ সেন্স । ডিরেক্টর এম. নাইট শ্যামালান ভালোই দেখিয়েছেন তার এই মুভিতে। ব্রুস উইলিসের কুল অভিনয়টা বস্ ।

কাহিনীটা কিন্তু আধাভৌতিক। কোল নামের এক ছেলে ভয়াবহ এক সমস্যায় আক্রান্ত। সমস্যাটা মানসিক নাকি সত্যি- তার দ্বন্দ্ব মুভির আদ্দেকটা জুড়ে। ৯ বছর বয়সি এক ছেলে কেন এত চুপচাপ, কারও সাথে মিশে না, কেন একা একা খেলে, কি তার সেই সিক্রেট - সব প্রশ্নের উত্তর দেয়া হয়েছে এ মুভিতে।

যে শহর চোরাবালি: পথ শিশুদের নিয়ে ডিজিটাল ফিল্ম


বাংলাদেশে এখন ডিজিটাল সিনেমার প্রচলন হচ্ছে। কম বাজেটে ভালো গল্প আর উন্নত ইমেজ - ডিজিটাল সিনেমার কোন বিকল্প নাই। তাই ডিজিটাল সিনেমার সংখ্যাও বাড়ছে। যে শহর চোরাবালি একটি ডিজিটাল সিনেমা।


কয়েকদিন আগেই টিএসসি মিলনায়তনে তিনদিন ব্যাপী এর শো হয়ে গেল। তার পর আবার দুদিন ব্যাপী শো হল এ মাসেই। ব্যপক উৎসাহ নিয়ে দেখতে গেলাম। ভালোই লাগল।

বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০০৯

রাগ করিয়াছো অবোধ বালিকা?

সবশেষের আসনটি দখল করে বসে আছি। পাশের সিটটি ফাকা। সুন্দরী নিতু এসে বসল। হাতে মানিক বন্দোপাধ্যায়ের 'পুতুল নাচের ইতিকথা'। টুকটাক দুএকটা বাক্য বিনিময় হয়েছে কি হয়নি, রিয়াজ এসে কড়া করে এক ধমক দিল নিতুকে! কারন, আমিনের কাছ থেকে ধার করে নেয়া এসাইনমেন্টের মূল কপিটা ফটোকপি করতে গিয়ে নিতু নষ্ট করে ফেলেছে আর সেজন্য বকা খেতে হচ্ছে রিয়াজকে, কারন সেই তো জোগাড় করে দিয়েছিল।

দুমিনিট কাটল, আষাঢ়ের মেঘ জমল, বিন্দু বিন্দু করে জল জমা হলো, তারপর বৃষ্টি, অঝোড় ধারায় নয়, টুপ টাপ। হাতেই ঢাকা যাচ্ছিল সেসব, কিন্তু বেগ বাড়ল সহসাই! এইবার মানিক এর আড়ালে গেল মেঘমুখ! বৃষ্টির পানিতে ভিজল মানিক, ভিজল পুতুল নাচের ইতিকথা'র শশী আর ...। এদিকে প্রচেষ্টা চলছে বৃষ্টি থামানোর, শূকনো কথায় চিড়ে ভিজছে না।

অবশেষে মেঘ কাটল, আপনাতেই। পুতুল নাচের কথা ঘেটে বের করলাম কবিতাটা। মানিক লিখেছে, নীতুর জন্য, নীতুকে উদ্দেশ্য করে। হয়তো বৃষ্টির ছাটে ভিজে যাওয়ায় কবিতে পরিনত হয়েছিল উপন্যাসিক থেকে!

রাগ করিয়াছো?
কেন রাগ করিয়াছো অবোধ বালিকা?
কেন এত অভিমান। দুটি চোখে
কেন এত ভৎর্সনা? মুখে মেঘ
নামিয়াছে, দুলে দুলে ফুলে ফুলে
উঠিতেছে বুক, দেখে মনে হয়
আমি যেন বকিয়াছি তোরে
মন্দ বলিয়াছি।
এ গাম্ভীর্য, হাসিহীন এত কঠোরতা
ফুলে কি মানায় সখী,
মানায় কুসুমে? আমি তোরে ভালোবাসি
সত্য কহিয়াছি, প্রাণ দিয়ে ভালোবাসি তোরে
সাক্ষী নারায়ণ, সাক্ষী মোর হৃদয়ের ...

২০০৯ সালের ২২শে জুলাই এই পোস্টা লিখেছিলাম, আজকে ঘাটতে গিয়ে বের হলো। কেন লিখেছিলাম জানি না কিন্তু আমিই লিখেছি এইটা এখন আমারই বিশ্বাস হয় না। আবার যদি লিখতে পারতাম এমন করে :(

বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০০৯

প্রতিদিন একটি মুভি - ৪: The Namesake


আপনাকে যদি ১২২ মিনিটের একটি ফিল্ম বানাতে হয় যার মধ্যে ২৫ বছরের গুরুত্বপূর্ন ঘটনাগুলোকে উপস্থাপন করতে বলা হয়, তখন কি করবেন? "২৫ বছর পর" - টাইটেল দিয়ে পচিশ বছর পরের ঘটনা দেখানো খুব কঠিন কিছু নয়, কিন্তু সেতো ২৫ বছর পরের কিছু ঘটনা। মীরা নায়ারকে নিশ্চয়ই বেশ কিছুটা পরিশ্রম করতে হয়েছিল এই সমস্যা সমাধান করার জন্য। তিনি যে সফল হয়েছিলেন তার জ্বলজ্যান্ত প্রমাণ "দি নেমসেক"।

প্রতিদিন একটি মুভি - ৩: Water


কোন ট্রিলজির তৃতীয় পর্ব নিয়ে লেখা অবশ্যই অন্যায়, বিশেষতঃ তার প্রথম পর্ব দুটি সম্পর্কে যদি কোন ধারনা পূর্বে দেয়া না হয়। সুতরাং ক্ষমাপ্রার্থী, তবে নিশ্চয়তা দিতে পারি, একক মুভি হিসেবেও Water স্বতন্ত্র। আবার ট্রিলজি হিসেবে এর মহাত্বও অনেক। ট্রিলজি নিয়ে পরে পোস্ট দেবার ইচ্ছে রাখি। আজ শুধু ওয়াটার।

দীপা মেহতা মুভি বানিয়েছেন ক'টি? উইকিপিডিয়া বলে, সাতটি। আলোচনায় এসেছেন কবার? সবাই জানি, সে অনেক বার। বোধহয় বারবার আলোচনায় আসার কারনেই তার তৈরী মুভিগুলো খুব হিট হয়, অথবা, সম্পুর্ন উল্টোটা এবং বোধহয় এটাই সবচে' গ্রহনযোগ্য, খুব ভালো ভালো মুভি বানাবার জন্যই তিনি বারবার আলোচনায় চলে আসেন। "ওয়াটার" আলোচিত ফিল্মমেকার দীপা মেহতার আলোচিত ফিল্ম। তার 'Elements Trilogy' র শেষ পর্ব ওয়াটার, বাকী দুটোর প্রথমটি "ফায়ার" আর পরেরটি "আর্থ"

প্রতিদিন একটি মুভি - ২: L.A. Confidential


যেসব ব্লগার সিনেমা দেখেন এবং কিছু কিছু মুভিকে পছন্দের তালিকায় স্থান দেন, তাদের কাছ থেকে পছন্দের মুভির লিস্টটা ধার চেয়ে নিলে L.A. Confidential এর নাম পাওয়া যাবে, সে ব্যাপারে মোটামুটি নিশ্চিত থাকা যায়। শুধু মাত্র এই একটি কারনে সকল ব্লগারকে (যাদের তালিকায় নামটি রয়েছে) রুচিশীল সিনেমা দর্শক হিসেবে আখ্যায়িত করা যায়, কারন সিনেমাটি IMDB রেটিংএ অবস্থান ৮.৪, মোট ভোটারের সংখ্যা ১৪৫,০৮০ । শুধু তাই নয়, সিনেমা সমালোচনার জন্য বিখ্যাত Rotten Tomatoes এর হিসেবে ৯৯% অর্থ্যাৎ ৭৪ টি রিভিউর মধ্যে ৭৩ টিই পজিটিভ হিসেবে বর্ননা করেছে L.A. Confidential কে।

সোমবার, ১৫ জুন, ২০০৯

প্রতিদিন একটি মুভি - ১: City Lights


"সিটি লাইটস" চার্লস চ্যাপলিন এর পরিচালনায় অত্যন্ত বিখ্যাত একটি সাইলেন্ট মুভি। ১৯৩১ সালে নির্মিত এই মুভিটি নিয়ে চ্যাপলিন যথেষ্ট চিন্তায় ছিলেন, কারন ১৯২৯ সালেই মুভিতে শব্দ চলে এসেছে এবং যথেষ্ট দাপট নিয়ে হলিউড তার 'সাউন্ড ফিল্ম' তৈরী করে যাচ্ছে। এরকম সময় আবার সেই পুরানো সাইলেন্ট যুগে ফিরে যাওয়াকে দর্শকরা মেনে নেবে কিনা তা বোঝা যাচ্ছিল না। মজার ব্যাপার হলো, দর্শকরা মুভটিকে ব্যাপক ভাবে গ্রহন করেছিল, এখনও করে যাচ্ছে। প্রায় সকল ফিল্ম শিক্ষার্থীকেই এই মুভিটি দেখার জন্য উদ্বুদ্ধ করা হয়।

Cool Hand Luke: সিস্টেমের বিরুদ্ধে হাসিমুখের প্রতিবাদ


"হোয়াট উই হ্যাভ গট হেয়ার ইজ আ ফেইলিউর টু কমুনিকেট" (What we've got here is a failure to communicate) - সিস্টেম এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ নিয়ে এ পর্যন্ত যতগুলি মুভি তৈরী হয়েছে তার মধ্যে অন্যতম একটি "কুল হ্যান্ড লিউক" (Cool Hand Luke) এবং আমেরিকান ফিল্ম ইন্সটিউটের তৈরী সেরা ১০০ স্মরনীয় মুভি লাইনের মধ্যে এই কোটেশনের অবস্থান ১১ নম্বরে!

"ওয়ান ফ্লিউ ওভার দ্য কুক্কুস নেস্ট " - মুভিটার কথা না বললেই নয়, কারন দুটো মুভিই প্রচলিত সিস্টেমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ স্বরূপ তৈরী হয়েছিল, দুটো মুভিই ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করতে পেরেছে এবং দুটো মুভিই আমার দেখার সৌভাগ্য হয়েছে ;)

সত্যাজিতের অপরাজিত


অপু ট্রিলজির সেকেন্ড পর্ব অপরাজিত, যার ইংরেজি দ্যা আনভ্যাংকুইশড, ট্রিলজির গুরুত্বপূর্ন পর্ব হওয়া সত্বেও ততটা দর্শকপ্রিয় হতে পেরেছে বলে জানা যায় না। পথের পাচালি নিয়ে যত মাতামাতি হয়, অপরাজিত সেভাবে আলোচনায় স্থান পায় না। অথচ, পথের পাচালি এবং অপুর সংসার - এ দুয়ের মাঝে সংযোগ তৈরীর কাজটি করেছে অপরাজিত । আরও পরিস্কার করে বললে, অপরাজিতের মাধ্যমেই সত্যাজিত এই ট্রিলজি তৈরী করতে পেরেছিলেন। অন্যথায়, পথের পাচালি এবং অপুর সংসার দুটোই দুটি স্বাধীন এবং একক মুভি হতে পারতো। এবং একক মুভি হিসেবে অপরাজিত খুব অতৃপ্তি নিয়ে শেষ হয়, অবশ্য এ দর্শকদের নিজ নিজ বিবেচনার মধ্যে পড়ে। হয়তো এ কারনেই পথের পাচালি দেখেছে এমন দর্শকদের মধ্যে একটা বিশাল অংশই অপরাজিত দেখেনি।

রবিবার, ৩১ মে, ২০০৯

ভারত-বিদ্বেষ!

See Bangladesh, Like Bangladesh, Love Bangladesh, Marry Bangladesh ... ... ..., Fuck INDIA !

Angels and Demons: সিনেমার বাইরে


গত ১৫ ই মে সারা বিশ্বে আলোচিত মুভি অ্যাঞ্জেলস এন্ড ডেমনস যার জন্য বহুদিন ধরে দর্শকরা অপেক্ষা করে রয়েছে, মুক্তি পেয়েছে এবং যথারীতি আগের মুভি দ্যা দা ভিঞ্চি কোড এর মত আলোচনা এবং সমালোচনার ঝড় তুলেছে। এর মাঝেই ইন্টারনেটের কল্যানে বাংলাদেশে চলে এসেছে মুভিটি, অনেকেই দেখে ফেলেছেন কেউ কেউ দেখার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পল্টনে মনি সিংহ ভবনের সামনে ফুটপাতে দশটাকায় বিক্রি হচ্ছে সেটাও দেখে এলাম। ভালো উদ্যোগ।

বুধবার, ১৩ মে, ২০০৯

সামহোয়্যারইনব্লগে শততম পোস্টের তিনটি সিনেমা রিভিউ! (Ronin, Body of Lies, Atonement)

এটা আমার শততম পোস্ট!
সামহোয়্যারইনব্লগে লিখছি দশ মাস পাচ দিন। দশ মাস দশ দিন থেকে পাচ দিন কম - তাতে সমস্যা নেই, সিজারের এই যুগে বোধহয় খুব কম মাই দশ মাস দশ দিন সন্তানকে পেটে পুষে রাখেন, বেশির ভাগই সাড়ে আট মাসের পর নিয়ে আসেন সন্তানকে এই পৃথিবীতে। সে নিয়মের সবচেয়ে বড় ব্যাঘাত ঘটিয়ে আমি সামোয়ারে ফাস্ট পাতায় এক্সেস পাই মাত্র তিন দিনে। এই দশ মাস পাচ দিনে পোস্ট লিখলাম মাত্র ১০০ টা, মন্তব্য করেছি ৭৮৯ টি (আমি বোধহয় বেশ কৃপণ, এক্ষেত্রে), পেয়েছি ১২৫৬ টি আর ব্লগ দেখা হয়েছে মোট ১৮৫০৪ বার। আমি সন্তুষ্ট। আমার জগত একান্তই আমার।


শততম পোস্ট উপলক্ষে তাই তিনটি মুভির রিভিউ!

বুধবার, ৬ মে, ২০০৯

One flew over the Cuckoo's Nest


সিনেমাটা ১৯৭৫ সালের। নাম শুনতে শুনতে কান ঝালাপালা।
ওয়ান ফ্লিউ ওভার দ্য কুক্কুস নেস্ট- জ্যাক নিকলসনের অভিনীত মুভি। মাইলোস ফোরম্যানের পরিচালনা।
সিনেমার কাহিনী এক মানসিক হাসপাতালকে ঘিরে। ম্যাকমারফি ওরফে নিকলসন একজন মানসিক রোগী হিসেবে চিকিৎসার জন্য আসে অথচ তার কথাবার্তা কিংবা আচরনে কোন অসুস্থতার ছাপ নেই। অথচ সে অসুস্থ। এখান থেকে যদি প্রমাণ করা যায় সে অসুস্থ তবে পাওনা শাস্তি ভোগ করতে হবে তাকে। হাসপাতালের মানসিক রোগীদের নিয়ে তার কান্ডকারখানা- সে এক অসাধারন মুভি।

Scent of Woman: আল পাচিনোর মুভি


আল পাচিনোর অভিনয় নিয়ে নতুন কিছু বলার নেই, তবে তার অন্যতম বেস্ট অভিনয় দেখার জন্য 'সেন্ট অব ওমেন;' দেখা যেতে পারে।


কাহিনীটা যদিও আল পাচিনো অভিনিত কর্নেল স্লেড সম্পর্কিত, এর সাথে জড়িয়ে আছে প্রিপেরটরী স্কুলের ছাত্র চার্লি সিমস (ক্রিস ও'ডোনেল অভিনিত)। স্কলারশিপের টাকায় পড়াশোনা করা ছাত্র চার্লি কর্নেল স্লেডের দেখাশোনা করার দায়িত্ব পায় উইকএন্ডে, উদ্দেশ্য উপার্জিত টাকা দিয়ে সে ক্রিসমাসের ছুটিতে বাসায় যেতে পারবে। কর্নেল স্লেড একজন রিটায়ার্ড অন্ধ আর্মি অফিসার, আপাত দৃষ্টিতে রগচটা, খেয়ালী । অথচ উইকএন্ডের আগেই স্কুলের প্রিন্সিপালের নতুন জাগুয়ারের উপর রং ঢেলে অপমানিত করার জন্য দায়ী ছেলেদের নাম প্রকাশ না করার অভিযোগে শাস্তি পাওনা হয় চার্লির।

তিনটি ওয়েষ্টার্ন মুভি (Dead Man, Unforgiven, 3.10 to Yuma)


একটু ওয়েস্টার্ন জ্বরে আছি। কৈশোরে সেবা প্রকাশনীর ওয়েস্টার্ন পড়েছি এক বসায়, কল্পনায় ঘুরে বেরিয়েছি নায়কের সাথে যে কিনা কোমরে গান ঝুলায়, আর গুলি করে হাতে ধরা পয়সা ফুটো করে দিতে পারে। এই ভালোবাসা এখনো শেষ হয়নি, বই থেকে মুভিতে টার্ন করেছে। সবসময়ই ওয়েস্টার্ন দেখার চেষ্টা করি, গত কয়েকদিন ও টানা তিনটা মুভি দেখলাম।


Dead Man (১৯৯৫)


জিম জারমুশের পরিচালনায় এই মুভিতে জনি ডেপ অভিনয় করেছে। ওয়েস্টার্ন মুভিগুলোর তুলনায় একটু ভিন্ন রকমের, কেমন যেন পাগলাটে। সমালোচকরা একে পোস্ট ওয়েস্টার্ন মুভি বলে আখ্যায়িত করেছেন।

সত্যজিত এবং পথের পাঁচালি



আজ ২৩শে এপ্রিল, বিশ্বখ্যাত চলচ্চিত্রকার সত্যাজিত রায়ের ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী।

জীবদ্দশায় সত্যাজিত মোট ৩৬ টি মুভি বানিয়েছিলেন, ছোট বড় মিলিয়ে। এর মাঝে তার ছ'টি ডকুমেন্টারীও আছে যার একটি তার বাবা সুকুমার রায় এবং অন্যটি রবি ঠাকুরকে নিয়ে। এই ৩৬টি মুভির সাথে কোন খবরাখবর না রাখলেও বাঙ্গালী মাত্র তার 'পথের পাচালি' সিনেমার নামটি জানেন। যারা অনেক নাম এবং খ্যাতি শুনে মুভিটি দেখতে বসেন, তাদের অনেকেই হতাশ হন, বিশেষ করে আমাদের মতো মানুষরা যারা হলিউড এবং বলিউডের সিনেমার মারামারি আর গতিতে ভীষণভাবে আসক্ত। কি কারনে এই সিনেমার এতো নাম ডাক, সে নিয়ে বিশাল এক প্রশ্নবোধক চিহ্ন নিজেকে ঘিরে রাখে।

সোমবার, ২ মার্চ, ২০০৯

টেনিসের জন্য রেশমের রাজশাহীতে


১১ই ফেব্রুয়ারী, ২০০৯





সকাল দশটায় হাজির হওয়ার কথা ছিল। সময় নিয়ে আমি অনেক সচেতন, সুতরাং দশটার একটু আগেই পৌছে গেলাম। আসলাম শিকদার ভাই আসলেন তখনই। গত রাতেই তাকে নিশ্চিত করেছিলাম যে আমি যাচ্ছি, এর আগে রহমান ভাইকে জানিয়েছি যে আমি কক্সবাজার যাচ্ছি না। পাপ্পুর দেয়া ব্যাগটাতে দুটো কাপড় আর দুটো বই নিয়ে হাজির হলাম।





রাজশাহী যাচ্ছি আসলাম শিকদার ভাইয়ের নেতৃত্বে। তিনি একটি বেসরকারী টেলিভিশন চ্যানেলের প্রডিউসার। নিয়মিতভাবে গোটা কয়েক প্রোগ্রাম পরিচালনা করেন, তার মধ্যে একটি লাইভ শো, প্রতিদিন সকালে প্রচারিত হয়। অন্যান্য প্রোগ্রামের মধ্যে পাক্ষিক এবং মাসিক প্রোগ্রাম রয়েছে। খেলাধূলার প্রোগ্রামই বেশি, রাজশাহী যাবো আন্তর্জাতিক টেনিস টুর্নামেন্ট কাভার করতে। একই সময়ে কক্সবাজার ট্যুরের প্রস্তাব ছিল, সেটাও বিনাখরচায়। কিন্তু রাজশাহী আগে কখনও যাওয়া হয়নি, তাই কক্সবাজারের পরিবর্তে রাজশাহীকেই বেছে নিয়েছি।





বুধবার, ২৮ জানুয়ারী, ২০০৯

Body of Lies: চলচ্চিত্রে সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ


গত বছরের রাজনৈতিক ছবিগুলো, যা সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে উদারপন্থী হলিউডের অবস্থান চিহ্নিত করে, দর্শকদের উদাসীনতায় মুখ থুবড়ে পড়ে। অস্কার বিজয়ী অভিনেতারাও সিনেমা দর্শকদের 'লায়ন্স ফর ল্যাম্বস', 'ইন দ্য ভ্যালি অফ এলাহ', অথবা 'রেন্ডিশন'-এর মতো সিনেমা দেখার জন্য আকৃষ্ট করতে পারেনি। দর্শকদের মতে, এ ধরনের ছবিগুলো অনেকটা বক্তৃতা করে জনগণকে শান্ত রাখার চেষ্টা করে। প্রডিউসররা প্রচলিত ধারার সঙ্গে সাম্প্রতিক হট ইস্যুকে মিশিয়ে নতুন কিছু তৈরি করার চেষ্টা করেছেন বটে, কিন্তু খুব বেশি লোক এক্ষেত্রে সহযোগিতা করতে এগিয়ে আসেনি। সৌদি আরবের কাহিনী নিয়ে জেমি ফক্সের অ্যাকশন ফিল্ম 'দ্য কিংডম' কিংবা টম হ্যাঙ্কসের আফগানিস্তাননির্ভর কমেডি ছবি 'চার্লি উইলসন'স ওয়ার' এসব তারকা-অভিনেতার বছরের সবচেয়ে কম বক্স অফিস হিট ছাড়া আর কিছু দেয়নি। আমেরিকানরা বোধহয় তাদের ক্রয় লিস্টে সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের সিনেমার টিকেটের জন্য কোনো জায়গা রাখে না।

মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী, ২০০৯

টাইম ম্যাগাজিনের টপ টেন মুভিস অব ২০০৮

বিশ্ববিখ্যাত টাইম ম্যাগাজিন প্রতিবছরের মতো এবারও বিভিন্ন বিষয়ে 'টপ টেন' নির্বাচিত করেছে। এর মধ্যে আছে টপ টেন ক্যাম্পেইন ভিডিও, প্রবলেমস, ইলেকশন ফটোস, এডিটোরিয়াল কার্টুনস, নিউজ স্টোরিস, ক্রাইম স্টোরিস, মাইক মোমেন্টস, পলিটিক্যাল লাইনস। বিনোদনের খাতায় আছে মুভিস, সংস, অডিও, ভিডিও ইত্যাদি ইত্যাদি। টপ টেন মুভি গুলো নিয়ে এই পোস্ট।

Se7en: একটি ভালো মুভি


Se7en মুভিটির নাম শুনেছি অনেক আগে। বোধহয় নাম শোনার কারনেই যতবার নাম শুনেছি মনে হয়েছে দেখে ফেলেছি কিন্তু নাফিস ইফতেখার ভাইয়ের কমেন্ট পরার পর মনে হল বোধহয় দেখা হয় নাই। তাই তাড়াতাড়ি ডাউনলোড দিলাম। আজকে দেখেও ফেললাম।

Se7en একটা ক্রাইম মুভি। কাহিনিটাকে গতানুগতিক বলা যায়, আবার বলা যায় না। কেন সেটা বলি। মুভিটা দেখার সময় পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে ধারনা পেয়ে যাবেন সুতরাং গতানুগতিক কাহিনী (শর্ত হচ্ছে আপনাকে অবশ্যই প্রচুর হলিউডি মুভি দেখতে হবে) কিন্তু পরবর্তীতে যখন দেখবেন যে অপনার ধারনার কিছুটা মিলে গেলেও বাকীটা মিলেনি বরং নতুন দিকে মোড় নিয়েছে তখনই বুঝবেন যে কাহিনীটা গতানুগতিক না। তবে ইন্টারেস্টিং!

সোমবার, ২৬ জানুয়ারী, ২০০৯

Perfume: The Story of a Murderer


পৃথিবীর প্রায় সব মানুষ একই রকম - দুটো হাত, পা, চোখ, কান, নাক, মুখ - অথচ ভিন্ন তার ভাষা, কার্যাবলী। এ কারনেই কেউ হয় প্রেমিক, কেউ বা প্রেমের নিষ্ঠুরতার শিকার, কেউ যোদ্ধা, কেউ চাপিয়ে দেয়া যুদ্ধের শিকার। বাহিরের পার্থক্য দৃশ্যমান হলেও ভেতরের পার্থক্যটা শুধুই অনুভবের। সে পার্থক্য ইন্দ্রিয়গত হলে তো কথাই নেই।

'পারফিউম: দ্যা স্টোরী অব আ মার্ডারার' একটি অস্বাভাবিক প্রখর ইন্দ্রিয়ের গল্প। জার্মান লেখক প্যাট্রিক সাসকাইন্ডের বিশ্ববিখ্যাত উপন্যাস 'পারফিউম' যা কিনা পৃথিবীর ৪৫টি ভাষায় অনুদিত হয়েছে, অবলম্বনে পারফিউম মুভিটি তৈরী করেছেন পরিচালক টম টাইকার। এ গল্প জ্যা ব্যাপ্টিস্ট গ্রানুইলির যে একজন ভাগ্যাহত মানুষ ছাড়া আর কিছুই নয়। প্যারিসের এক মাছ বাজারের মধ্যে জন্ম নেয়া গ্রানুইলিকে তার মা অনাদরে ফেলে রেখেছিল পূর্বের চার সন্তানের মতই, জন্মের পরই মারা যাবার জন্য। কিন্তু গ্রানুইলি তো অন্যদের মত নয়, তাই মরে নি বরং বেচে উঠে এক অনন্য সাধারন ঘ্রানশক্তি নিয়ে।

মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী, ২০০৯

একটা করুণ জোকস

রাজধানীর গুলশানের বাসিন্দা সিরাজ সাহেব একজন বিখ্যাত উকিল, যাকে কিনা বলে এক্কেবারে জাদঁরেল। শহর জুড়ে তার বিশাল প্রতিপত্তি, নাম ডাক। সাম্প্রতিক সময়ে তার বিশেষ কয়েকটি খবর হলো - তার বড় মেয়েটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ল পাস করার পর বিলেতে পড়তে গিয়েছিল এবং একখানা ডিগ্রিসহ পরশু দিন ফেরত এসেছে, তিনি এতদিন গরীব মানূষের সেবা করেছেন অকাতরে এবং এই সেবাকে দীর্ঘায়িত করার জন্য তিনি এখন সরকারী দলের নেতৃ পর্যায়ের লোকজনের সাথে ওঠাবসা করছেন এবং সবশেষে গত মাসে তিনি বহুদিনের শখ পূরন করে একটি লিমোজিন কিনেছেন।
ঢাকার রাস্তায় যত্তসব ভাঙ্গা গাড়ি আর অসভ্য লোকের পদচারনা, এত লম্বা গাড়ি দেখে সবাই সামনে এগিয়ে আসে, না জানি কখন কোথায় স্ক্র্যাচ ফেলে দেয় কিংবা মিছিলের মুখে পড়ে গাড়ি ভাঙ্গার শিকার হয় - এই ভয়ে উকিল সাহেব তার গাড়িটিকে বের করেন না। অবশ্য গাড়িটিকে চালু রাখার জন্য প্রতিদিন তিনি একবার করে গাড়িটিতে ভ্রমন করে নেন, সেটা একদম ভোর থেকে সূর্য উঠার কিছুপর পর্যন্ত। এ সময় তার সাথে একমাত্র ড্রাইভার ছাড়া কেউ থাকে না। গাড়িতে বসেই তিনি সকালের হাওয়া খান আর আশে পাশের লোকজনকে দেখে যান।
প্রতিদিনের মত আজ সকালেও তিনি তার লিমোজিনে ঘুরতে বেরোলেন, শুধু গুলশানের রাস্তাঘাটের মধ্যেই। পরনে তার সাদা পাজামা পান্জাবী, শুভ্র পোষাক। ঘন্টাখানেক বেরিয়ে আসার পর তিনি যখন ফিরছেন তখন অদ্ভুত এক দৃশ্য দেখলেন, বিশ্বাস করা যায় না। তিনি দেখলেন দুটো লোক রাস্তার পাশে ছোট্ট মাঠে উপুর হয়ে কিছু করছে, ভালো করে লক্ষ্য করতেই দেখলেন দুজনেই মাঠ থেকে ঘাস ছিড়ে মুখে পুড়ছে।
দেখে উকিল সাহেবের মন উচাটন করতে লাগল। পরম কৌতুহল ভরে তিনি গাড়ি থেকে নেমে তাদের দিকে এগিয়ে গেলেন।
'কি করছেন আপনারা?'
'দেখেন না? ঘাস খাইতেছি!" লোক দুটো পাত্তা না দিয়ে মনযোগের সাথে ঘাস ছিড়েতে লাগল। ঘাস খেতে যে তাদের খুব ভালো লাগছিল না তা দেখেই বোঝা যাচ্ছিল।
'কেন ঘাস খাচ্ছেন?'
'পেটে ক্ষুধা, খাইতে পারিনা তাই!' নির্বিকার উত্তর একজনের!
"আপনি আমার সাথে আসেন!"
'কই?' অবাক হল লোকটি।
'গাড়িতে, আমার সাথে যাবেন আপনি।'
'কিন্তু আমার সাথে যে আমার বৌ আর চারটে ছেলেমেয়ে রয়েছে!'
'তাদেরকেও সাথে নিয়ে আসুন'
এই দেখে দ্বিতীয় লোকটি চুপ থাকতে পারল না, 'আমি?'
'আপনিও আসুন।'
'কিন্তু আমার সাথে আমার বৌ আর দশটা ছেলেমেয়ে আছে!'
'সমস্যা নেই তাদেরকেও নিয়ে আসুন!'
বুঝতেই পারছেন এতগুলো মানুষের জন্য লিমোজিনটা ছোটই হল, তারপরও সবাই কষ্ট করে উঠে পড়ল, না জানি কপালে কি আছে!
এদিকে উকিল সাহেব কিছুটা আনন্দিত বোধ করছেন, সকাল বেলাতেই তিনি আঠারো জনের জন্য খাবার ব্যাবস্থা করতে পেরেছেন বলে নিজেকে ভাগ্যবান মনে হচ্ছিল।
গাড়ি চলতে শুরু করেছিল, এবার লোকদুটোর একজন মুখ খুলল, " স্যার আপনাকে অনেক ধন্যবাদ, অনেক কষ্ট করছেন। আপনার নতুন গাড়িটা আমরা গাদাগাদি করে বসেছি, যদি নষ্ট হয়ে যায়, তার পরও স্যার আপনার অশেষ দয়া। কিন্তু স্যার এতগুলা মানুষ নিয়া শেষে আপনার সমস্যা হবে নাতো স্যার?
না - না - কি যে বলেন, কোন সমস্যা নয়। সত্যি কথা হল, আমার বাগানের ঘাসগুলো যথেষ্ট বড় হয়েছে, তা প্রায় লম্বায় একফুট হবে নিশ্চয়ই, বিশ্বাস করুন - আপনাদের কোন কষ্ট হবে না!