সোমবার, ২৫ আগস্ট, ২০০৮

ইত্তেফাকের শিরোনাম এবং আমার জাদুঘর ভ্রমন ভাবনা

আজকের নিউজপেপার হাতে নিয়েই হতভম্ব হয়ে  গেলাম।
অবিশ্বাস্য! এও কি সম্ভব?
হতেই পারে না, নিশ্চয়ই কোন ভুল হয়ে গেসে। দেশের প্রথম সারির জাতীয় দৈনিক ইত্তেফাক। প্রথম পৃষ্ঠায় এরকম একটি খবর ছাপানোর জন্য তাদের জরিমানা হওয়া উচিত, কিংবা ফাঁসি!
উহু, নিশ্চয়ই এখানে কোন কিন্তু আছে, হয়তো রিপোর্টার মেজর কোন ভুল করেছেন, কিংবা হয়তো এটা কোন পক্ষপাতমূলক খবর!
যাই হোক না কেন, এ ধরনের মিথ্যা, ভুয়া, বানোয়াট খবর প্রথম পৃষ্ঠায় দেয়ার কোন যৌক্তিকতা নেই। তাছাড়া দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকাতো অবশ্যই কোন সম্পাদক আছে, তিনি কি রিপোর্টটি পরে দেখেননি! জানি না বাবা, আমার মাথা গুলিয়ে যাচ্ছে, হতাশ লাগছে,..... তবে কি আমার ভাগ্নিটাকে নিয়ে কোনদিন জাদুঘরে যাওয়া হবে না ?

আমার ছ' বছরের ভাগ্নিটা গত কয়েকমাস ধরে আমার পেছনে পেছনে ঘুরছে, সে একবার জাদুঘরে যেতে চায়, তার বান্ধবী কিছুদিন আগে গিয়ে ঘুরে এসেছে, গল্প শুনে তারও ইচ্ছে হয়েছে। আমি বারবার কাটিয়ে যাই, বলি, আর কয়েকটা দিন সবুর কর, তোকে ঠিক নিয়ে যাবো ! তবে এখন না, আর ক'টা দিন পরে! কেন? ক'টা দিন পরেই জাদুঘরে নতুন একটা জিনিস আনা হবে, পৃথিবীর কোন জাদুঘরে নেই, বাংলাদেশেরই এক কৃতি সন্তান তা জাদুঘরে পাঠিয়ে দেবেন, তখন গিয়ে দেখা যাবেখন। এখন গেলে তখন আরেকবার যাওয়া লাগবে, দুবার গিয়ে লাভ আচে বল? আমার ভাগ্নি আমার উপর পূর্ণ বিশ্বাস স্হাপন করে, হু মামা ঠিক বলেছে, ক'দিন পরেই যাওয়া যাক!

কিন্তু এখন কি হবে? ইত্তেফাকের রিপোর্টটা যদি সত্যি হয়, তবে সেই বস্তুটি কখনো জাদুঘরে যাবে না ! তবে কি হবে!! আমি জানিনা, আমার ক্ষুদ্র মাথায় এত বিশাল চিন্তা আসে না। আমার হতাশ লাগে - নচিকেতার একটা গান মনে পড়ে যায়,
বাদরের মত নাচি আমরাও এই কলিকালে
অজানা মাদারীর অদৃশ্য ডুগির তালে...
যে খবরটা বলার জন্য এত আতঁলামি সেটা না বলে লেখাটা শেষ করতে পারছি না, প্রথম পৃষ্ঠার প্রথম কলামে বড় বড় অক্ষরে ছাপা হয়েছে--------বাংলাদেশে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে!

শুক্রবার, ২২ আগস্ট, ২০০৮

ট্রান্স সিলভার মজবুত টিকিট!

গতকালের ঘটনা।

অফিস থেকে বেরোলাম যখন তখন সন্ধ্যা হয়ে গেসে। সাড়ে সাতটা বাজে। যাবো কলাবাগান, সো পল্টন থেকে হাটতে হাটতে প্রেস ক্লাব পর্যন্ত এলাম। ট্রান্স সিলভার একটি বাস দাড়িয়ে ছিল।আমি পৌছাতেই চলতে শুরু করল। তাড়াহুড়ো করে একটি টিকিট কিনলাম।

১০ টাকার নোট, ৮ টাকা রেখে ২টাকার একটি চকচকে নোট ফেরত দিলেন কাউন্টার ম্যান। একহাতে টিকিট অন্যহাতে টাকা নিয়ে দৌড়োলাম, বাসের হ্যান্ডেল ধরে উঠে অন্য হাত বাড়িয়ে দিলাম টিকিট চেকারের হাতে। সেও দক্ষতার সাথে টিকিট ছিড়ে নিতে চাইল।

কিন্তু একি! টিকিট ছিড়ছে না ! আমিও শক্ত করে ধরে রাখলাম, কন্ডাকটর ও টেনে ধরল। উহু ছিড়ল না ! বাস চলছে, আমি আর চেকার টিকিট নিয়ে টানাটানি করছি! এরা টিকিট এত শক্ত করে বানিয়েছে কবে থেকে?

অবশেষে ছিড়ল!! আমি টিকিটের অবশিষ্ট টুকরো চোখের সামনে এনে দেখি --- দুই টাকার নোটটির বাকী অংশ আমার হাতে! অন্য হাতে অক্ষত টিকিট !!!

আমি হতভম্ব, শোকাহত!!

বৃহস্পতিবার, ২১ আগস্ট, ২০০৮

পানি খরচ!

ছোটবেলার ঘটনা।
আমাদের মধ্যে শাওন একটু বেকুব গোছের, সহজে কোন কথা ধরতে পারে না। তাকে নিয়েই মজার ঘটনা।

আমরা সবাই মিলে আড্ডা দিচ্ছলাম, আমাদের এক বন্ধু টয়লেটে ঢুকে পড়েছিল ভিতরে কেউ আছে কিনা সেটা পরীক্ষা না করেই। তার ভায়ায়, 'ঢুইকা দেখি ব্যাটা খারাইয়া খারাইয়া ঢিলা করতাছে, টের পায়নায়, আমিও আস্তে দরজা বন্ধ কইরা দূরে আইসা কাশি দিলাম।' বর্ণনা ভঙ্গি খুব ইন্টারেস্টিং ছিল, তাই আমরা সবাই খুব হাসছিলাম, একমাত্র শাওন ছাড়া।
ঢিলা মানে জানা না থাকায় সে ঘটনাটা বুঝতে পারে নাই! তার কাছে ঢিলা মানে লুজ মানে ঢোলা মানে বুদ্ধি কম, কিন্তু সেটা কিভাবে করা হয়, তাও আবার টয়লেটে সেটা মাথায় ঢুকছিল না। তাই সে প্রশ্ন করে ফেলল, ঢিলা মানে কি?

আমরা তাকে বোঝাতে শুরু করলাম, তুই প্রশ্রাব করার পর পানি নেস?
হু নেই।
কিভাবে নেস?
কেন বদনায় নেই!
আরে গাধা তুই পানি খরচ করসনা?
করি তো, তাতে কি হইছে?
এইটাই ঢিলা করা।
বুঝিনাই...
তুই পানি খরচ কিভাবে করস?
কেন, বদনায় পানি নিয়া ঢাইলা দিই.....

আমরা বোঝানো বাদ দিয়ে হাসিতে গড়াগড়ি খাই! হা হা হা