দি (হেলেনা) ডুয়েল

আইএমডিবি-তে রেটিং মাত্র ৫.৭/১০। রোটেন টম্যাটোস বলছে মাত্র ২৪% ফ্রেশ। রজার এবার্টের রিভিউতে চার এর মধ্যে মাত্র দুই। এই দুর্বল রেটিং এর সিনেমা দেখা মানে সময় নষ্ট করা। কিন্তু তারপরও দেখলাম দুটো কারণে। এক, একটা ওয়েস্টার্ন সিনেমা দেখার প্রচন্ড ক্ষুধা বোধ হচ্ছিল এবং দুই, পোস্টারে উডি হ্যারেলসনের উপস্থিতি। উহু, উডি হ্যারেলসন মোটেও আমার প্রিয় অভিনেতা নন। নাউ ইউ সি মি সিনেমার এই অভিনেতাকে পোস্টারে দেখে মনে হয়েছিল – বহুদিন এর সিনেমা দেখিনি, ওয়েস্টার্ন সিনেমায় যখন পেয়েছি – দেখে নিই। সিনেমার নাম দ্য ডুয়েল।

ওয়েস্টার্ণ সিনেমার প্রধান যে বৈশিষ্ট্য – রুক্ষ পশ্চিম, তাই অনুপস্থিত এই সিনেমায়। রুক্ষতার ছিটেফোটাও নেই। সবুজ ঘন গাছপালা, জঙ্গল। যে শহরটি রয়েছে তার রাস্তাঘাটও ধূলোয় ভর্তি নয়। গরুর পাল দেখা যায় না, তবে ঘোড়ায় চড়া মানুষ আছে। তাদের কোমড়ে পিস্তল ঝোলে, উইনচেস্টার রাইফেলও থাকে তাদের কাছে। নদী আছে একটি – সেটায় ভালোই স্রোত – সেই নদীতে ইদানিং মেক্সিকানদের লাশ ভাসতে দেখা যায়। তাই ডেভিডকে পাঠানো হল গোপনে তদন্ত করে রিপোর্ট পাঠাতে। ডেভিডেরও যাওয়ার আগ্রহ ছিল, কারণ যার দিকে অভিযোগের তীর, ছোটবেলায় তার হাতেই নিহত হয়েছিল ডেভিডের বাবা, তাও ডেভিডের চোখের সামনে।

ডেভিডের বাবার এই মৃত্যুদৃশ্য দিয়েই সিনেমার শুরু। ডেভিডের বাবা এবং আব্রাহামের মধ্যে ডুয়েল হতে যাচ্ছে – হেলেনা ডুয়েল। দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর ডান হাতে ছোট দুটি ছুরি। ফলার দৈর্ঘ্য মাত্র তিন ইঞ্চি। ফলে বুকে বসিয়ে হৃদপিন্ড পৌছানো সম্ভব হবে না। তাদের বাম হাত পরস্পরের সাথে লড়াইয়ের আগেই বেঁধে দেয়া হয়েছে। আমৃত্যু লড়াই। একে অপরকে মেরে যাচ্ছে, আঘাত থেকে বাঁচার চেষ্টা করছে। শিউরে উঠার মত দৃশ্য। এই ধরনের লড়াই-ই হেলেনা ডুয়েল নামে পরিচিত। (দৃশ্যটা কি পরিচিত মনে হচ্ছে? মাইকেল জ্যাকসনের বিট ইট গানে এই দৃশ্যটি পাওয়া যাবে)

পরবর্তীতে আব্রাহাম বহু খুন-খারাপি করে কিভাবে যেন ধর্মগুরু হয়ে যায়। তার এক ধরনের ঐশ্বরিক ক্ষমতাও দেখতে পাওয়া যায় এই ছবিতে। কিন্তু তার কোন স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায় না। ফলে, আমার ধারনা, দর্শক হিসেবে আরও অনেকেই হতাশ হয়েছেন। আশা করেছিলাম – তার এই আধ্যাত্মিক ক্ষমতা যে ভন্ডামি সেটা স্পষ্ট হবে। হয় নি। আরও হতাশার জায়গা হল ডেভিডের সাথে আসা বউ শেষ পর্যন্ত আব্রাহামের দিকেই থাকেন, তার প্রত্যাবর্তনও আকাঙ্খিত ছিল। ক্লাইমেক্সের পরের অংশে ছবি মোটামুটি আকর্ষনীয় হয়ে উঠেছিল। ফলে দুর্দান্ত কিছু গানফাইট দেখার জন্য নড়েচড়ে বসেছিলাম, কিন্তু যা পাওয়া গেল তা হালকার উপর ঝাপসা। প্রত্যাশা পূরণ না হলে দর্শক সে ছবি কিভাবে পছন্দ করবে?

নষ্ট করার মত যথেষ্ট সময় থাকলে দেখা যেতে পারে। সে সময়টুকু না থাকলে শুরুর হেলেনা ডুয়েলটুকু দেখে নিতে পারেন। ইউটিউবে শুরুর ডুয়েলটি পাওয়া গেল না, তবে একই ছবির আরেকটি হেলেনা ডুয়েলের ক্লিপ পাওয়া যায়।

রেটিং: ৩/৫


দারাশিকো

নাজমুল হাসান দারাশিকো।
চলচ্চিত্র বিষয়ক লেখক ও ব্লগার।
কোঅর্ডিনেটর, বাংলা মুভি ডেটাবেজ (বিএমডিবি)
যোগাযোগ – [email protected]

You may also like...

ফেসবুক মন্তব্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shares