গুলশানের রাস্তায় মাঝে মধ্যে এক লোকের সাথে দেখা হয়ে যায়। লোকটার হাতে কাপড়ের বেল্টের এক প্রান্ত প্যাচানো, অন্য প্রান্তের মাথায় একটা চামড়ার বেল্ট, সেই বেল্ট একটা কুৎসিত দর্শন কুকুরের গলায় বাঁধা। নাক মুখ বোঁচা, উচ্চতায় বেশ খাটো শখের পোষা কুকুর। একই উচ্চতার বিলাতি কুকুর পোষে অনেকে, সেটা দেখতে সুন্দর, দেখলে পুষতে বা আদর করতে আগ্রহ হয়, কিন্তু এই কুকুর পোষে কেন লোকে?

কুকুর নিয়ে বেড়াতে বের হয় লোকটা, কিন্তু কুকুরটা যায় আগে আগে, লোকটা পেছনে পেছনে। দেখে মনে হয়, লোকটি নয়, কুকুরটিই লোকটিকে নিয়ে বেড়াতে বের হয়েছে। মনে হয়, লোকটার হাতে দড়ি থাকলেও নিয়ন্ত্রণ কুকুরের হাতে। দড়ি হাতে বলে লোকটি বারবার কুৎসিতদর্শন কুকুরটিকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়, কিন্তু শেষ পর্যন্ত কুকুরটির ইচ্ছানুযায়ীই ছুটতে হচ্ছে। বেড়ানো শেষে হয়তো লোকটিই জিতবে, কুকুরটিকে নিয়ে ঘরে ফিরবে কিন্তু এই ফেরার মধ্যে ডিগনিটির অভাব প্রচন্ড বলে মনে হয়। কুকুর নিয়ে বেড়াতে যাওয়া বেশিরভাগ লোকই বোধহয় খেয়ালই করে না বা খেয়াল করলেও উপেক্ষা করে-সে নয়, কুকুরটিই তাকে ঘুড়িয়ে এনেছে।

এই যে কুকুরকে নিয়ে বেড়াতে যাওয়া, এটাই সংসার যেখানে ব্যক্তি নয় সংসারই ব্যক্তিকে নাচিয়ে বেড়ায়।