কোন এক অজানা কারনে নতুন কোন এলাকায় গেলে বড় মানুষ নয় বরং বাচ্চা-কাচ্চার সাথে খাতির হয়ে যায়। শীতবস্ত্র বিররণ শেষে অফিসের কাজে এসেছি ঠাকুরগাওঁ এ। সবাই যখন ব্যস্ত তখন একটু একটু করে খাতির হয়ে গেল কাছেই মার্বেল খেলছিল কিছু বাচ্চার সাথে। তাদের তিনটি মেয়ে, দুটি ছেলে। এদের কল্যানেই প্রায় পনেরো বছর বাদে আজ প্রায় আধাঘন্টা মার্বেল খেলা হল।

ছবির মানুষগুলোর সাথে পরিচয় করিয়ে দিই। সবার বামে আছে রিক্তা। সবার ডানে আনারুল, রিক্তার বড় ভাই। আনারুল ক্লাস ফাইভে পড়ছে, রিক্তা ফোরে। রিক্তার পাশে পিচ্চি মেয়ের নাম জেসিয়া, পেছনে আছে আরশাদ। আরশাদ এক স্কুলে ক্লাস থ্রি পর্যন্ত পড়েছিল কিন্তু বর্ণমালা মুখস্ত পারে না বলে আবার ক্লাস ওয়ানে ভর্তি হতে হয়েছে। আগামী বছর কোন ক্লাসে পড়বে, আদৌ পড়বে কিনা সেটা আরশাদ জানে না। আরশাদের পাশে আছে সাগর, সে ক্লাস ফোরে পড়ে। দারুন ভদ্রলোক। তার মনও অনেক ভালো, এই সার্টিফায়েড বাই রিক্তা। কানটুপি পড়া পিচ্চির নাম যোবায়ের, এদের মধ্যে সম্ভবত তাদের পরিবারই একটু স্বচ্ছল, তার বাবার একটি ফটো স্টুডিও আছে। রিক্তার বাবা কৃষক আর আরশাদের বাবা রিকশাচালক। ছবিতে নেই পিয়া। এদের মধ্যে সবচে লম্বা, সবচে সুন্দর ক্লাস ফোর-এ পড়ুয়া এই পিয়া।

ছবি তোলার গল্পটা বলি। মার্বেল খেলায় আরশাদকে 'খাটতে' পাঠানো হয়েছে। প্রতি মুহূর্তে সে এর বাড়ির পাশ দিয়ে, ও বাড়ির পেছন দিয়ে দূরে যাচ্ছে 'খাটার জন্য'। তাকে খাটতে বাধ্য করছি আমি, রিক্তা ও সাগর। হঠাৎ-ই তাদের একটা ছবি তুলে দেবো কিনা সেটা জানতে চাইল সাগর। রামি রাজী হতেই রিক্তার আবদার - সরিষা খেতে তুলে দেবো? খেলা শেষ করে আমরা সাতজন পাচমিনিটের পথ হেটে সরিষা খেতে গেলাম এবং প্রায় পঁচিশটি ছবি তোলা হল। বেশীরভাগই সিঙ্গল।

এদের সাথে আলাপ পরিচয় সব মিলিয়ে চার-পাঁচ ঘন্টার। এদের কেউ আমাকে ডাকে আঙ্কেল, কেউ ভাইয়া। পনেরো টাকা দিয়ে চুলের কলপ কিনে মাথায় লাগানোর পরামর্শ দিয়েছে সাগর। মার্বেল খেলায় আমার গাইড হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে রিক্তা ও আরশাদ। ছবি তোলার পর হাতের ও মাথার ফুলগুলো আমাকে গিফট হিসেবে দিয়েছে রিক্তা ও জেসিয়া।

সন্ধ্যার সময় ফিরে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছি, অন্ধকারের মধ্যে কোত্থেকে যেন আরশাদ দৌড়ে এসে হাতের মুঠোয়ে একটা কাগজের ঠোঙায় কিছু গুজে দেয়ার চেষ্টা করল। 'কি এইটা?'
'পিয়াজি! নেন।'