সরকার ভারতীয় সিনেমা আমদানীর অনুমতি দিয়ে এদেশে ভারতীয় সিনেমা প্রবেশের দরজা খুলে দিয়েছে, এদেশের সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিকে দুস্থ অবস্থা থেকে মৃত্যুশয্যায় নিয়ে গিয়েছে। যেখানে সরকারই সকল সিদ্ধান্তের মূল চালিকাশক্তি এবং দেশের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নানা আপত্তি-বিপত্তি-আন্দোলন-সংগ্রামকে উপেক্ষা করে প্রভু ভারতের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করে গেছে - বিশেষত: ট্রানজিট, টিপাইমুখ, বিদ্যুৎ ইত্যাদির ক্ষেত্রে, তাতে ভারতীয় সিনেমা আমদানীর বিপক্ষের সকল মতামত প্রস্তাব উপেক্ষা করা হবে সেটাই স্বাভাবিক। তাই বলে বসে থাকা চলবে না - ভারতীয় সিনেমা প্রদর্শিত হওয়া মাত্রই 'আমরা হেরে গেলাম' মনোভাব নিয়ে আন্দোলন থেকে সরে আসা যাবে না - একাট্টা থাকতে হবে দাবীসমূহে।

১. 'জোর' সিনেমাই হবে আমদানীকৃত একমাত্র ভারতীয় সিনেমা। বাংলাদেশের সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির উন্নয়নে দাবীসমূহ মেনে না নিয়ে আর কোন ভারতীয় সিনেমা আমদানী করা যাবে না।

২. ভারতীয় সিনেমা আমদানী সংক্রান্ত কোন সুস্পষ্ট নীতিমালা নির্ধারন করা হয়নি এখনো। বছরে কটা ভারতীয় সিনেমা আমদানী করা হবে, সেই সিনেমা প্রদর্শনের ব্যাপারে কি কি নিয়মনীতি মেনে চলতে হবে, একটি সিনেমা একাধারে কতদিন সিনেমাহলে প্রদর্শন করা যাবে, একটি ভারতীয় সিনেমার পরিবর্তে কতগুলো বাংলাদেশী সিনেমা প্রদর্শন করতে হবে ইত্যাদি সংক্রান্ত সুস্পষ্ট নীতিমালা নির্ধারণ করতে হবে এবং তা অবশ্যই স্বল্প সময়ের মধ্যে। এই নীতিমালা প্রনয়নের আগে একটি ভারতীয় সিনেমাও এদেশে মুক্তি দেয়া যাবে না এবং নীতিমালা প্রণয়ন সাপেক্ষে পরবর্তী সিনেমা আমদানী করতে হবে।

৩. শুধু ভারতীয় সিনেমা আমদানীই নয়, বাংলাদেশী সিনেমা ভারতে রপ্তানী সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহন এবং বাস্তবায়ন করতে হবে। ভারতীয় সিনেমা এবং বাংলাদেশী সিনেমা আমদানী রপ্তানীর অনুপাত সমান হতে হবে। প্রত্যেকটি ভারতীয় সিনেমার বিপক্ষে একটি করে বাংলাদেশী সিনেমা ভারতে প্রদর্শনের উদ্যোগ নিতে হবে ।

৪. ভারতীয় সিনেমা এদেশে প্রদর্শনের জন্য কোনরূপ প্রচার-প্রচারণার অনুমতি দেয়া যাবে না। এমনকি দেশের ইলেকট্রনিক এবং প্রিন্ট মিডিয়াতে নিউজ আকারে কোথায় কোন ভারতীয় সিনেমা প্রদর্শন হচ্ছে সে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা জারী করতে হবে।

৫. সরকারকে আগামী ছয়মাসের মধ্যে বাংলাদেশী সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির প্রযুক্তিগত এবং গুনগত উন্নয়নের জন্য কমপক্ষে পাচ বছর মেয়াদী পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে, সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ অনুমোদন করতে হবে। সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি উন্নয়ন পরিকল্পনায় উন্নতমানের আধুনিক যন্ত্রপাতি আমদানী এবং সহজলভ্য করা, কলাকুশলীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করা, দেশের সিনেমাহলগুলোর মানোন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা, সিনেমা নির্মানে নতুন পরিচালক এবং কলাকুশলীদের উদ্বুদ্ধকরনে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা, সিনেমার গ্রেডিং এবং সিনেমা নির্মান নীতিমালা প্রণয়ন করা, সেন্সরবোর্ড নীতিমালাকে যুগোপযোগী এবং স্বাধীন করা, পাইরেসি বন্ধের জন্য কঠোরতর আইন প্রয়োগ এবং বাস্তবায়ন ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে।

৬. সময়োপযোগী সিনেমা নির্মানের জন্য নিয়মিতভাবে পর্যাপ্ত পরিমান অনুদান বরাদ্দ করতে হবে, বরাদ্দকৃত অনুদানের পরিমান বাড়াতে হবে, অনুদানের জন্য নতুন পরিচালকদেরকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

৭.অবিলম্বে দেশে একটি পূর্নাঙ্গ চলচ্চিত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালু করতে হবে। আন্তর্জাতিক মানের কারিকুলাম প্রনয়ন, যোগ্য এবং দক্ষ শিক্ষকমন্ডলী নিয়োগ এবং প্রয়োজনীয় কারিগরী সহযোগিতা নিশ্চিত করতে হবে।

৮. বাংলাদেশে ভারতীয় চ্যানেল সম্প্রচার নিয়ন্ত্রন করতে হবে, ভারতে বাংলাদেশী চ্যানেলসমূহ সম্প্রচারের উদ্যোগ গ্রহন করতে হবে। ভারতে বাংলাদেশী চ্যানেল সম্প্রচারের অনুমতি না পাওয়া পর্যন্ত এদেশে ভারতীয় চ্যানেল সম্প্রচার বন্ধ রাখতে হবে।

 

নিবেদক,

বাংলাদেশী সিনেমার উন্নয়ন প্রত্যাশী একজন দর্শক

ফেসবুক নোটে প্রকাশ: নির্দ্বিধায় শেয়ারযোগ্য